ফন্ট সাইজ:
থিম:
কিশোরী কন্যা

১৫তম পর্ব

লেখক: হামিদা আক্তার ইভা Hayat

#কিশোরী_কন্যা

#হামিদা_আক্তার_ইভা_Hayat

১৫.

ময়ূরীকে দিয়ে বাড়ির বউদের সব কাজই করানো হচ্ছে।মেয়েটা এত কাজ বিয়ের আগে কোনোদিনও করেনি।বিয়ে করে মনে হচ্ছে বিরাট বড় ভুল করে ফেলেছে।এত এত নিয়ম,বাধ্যতা মানতে যেন বড্ড কষ্ট হচ্ছে।শ্বশুর বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষই অদ্ভূত।

তাকে দাদি শাশুড়ি খাবার দিয়ে বলেছেন বড় চাচা শ্বশুরকে দিয়ে আসতে।ময়ূরী খাবারের প্লেট আর পানির বোতল হাতে নিয়ে দেখিয়ে দেয়া ঘরের দিকে রওনা হলো।নিচ তলার শেষে একটা ঘর আছে।সেখানে মাহতাবের বাবা রহমান সওদাগর থাকেন।ময়ূরী চাঁপানো দরজা ঠেলে খুলে ফেলল।দরজা বরাবর বিছানায় একজন মধ্যবয়স্ক লোক কাঁথা জড়িয়ে বিছানায় বসে বসে বই পড়ছেন।দরজা খোলার শব্দে লোকটা সামনে তাকিয়ে দেখলেন একটা টুকটুকে বউ।তিনি আজ প্রথমবার ময়ূরীকে দেখলেন।সবাই বলেছিল তাহসিনের বউটা চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতোন সুন্দর।ময়ূরী নিচু স্বরে সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করল।

খাবারের প্লেট বিছানার একপাশে রেখে বলল,

“আপনার খাবার।”

রহমান সওদাগর মুচকি হাসলেন।লোকটার মুখখানা দেখে ময়ূরীর আব্বার কথা খুব মনে পড়ল।আব্বাও ঠিক এমন করেই হাসেন।রহামন সওদাগর হাতের বই পাশে রেখে বললেন,

“আমার তাহসিনের বউ না তুমি?”

ময়ূরী লাজুক মুখ নত করল।

“জি।”

“মাশাআল্লাহ।আল্লাহ তোমাদের সংসারে বরকত দিক।বসো মা!”

ময়ূরী বসল।ঘরের চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখল দামী দামী জিনিস পত্র।সে আড়চোখে চাচাশ্বশুরকে দেখে জিজ্ঞেস করল,

“আপনি ঘরের বাইরে বের হন না কেন বড় আব্বা?”

“আমার পায়ে সমস্যা আম্মাজান।বিছানায় পড়েছি অনেকদিন হয়েছে।”

“আপনার দম বন্ধ লাগে না?”

হাসলেন তিনি।বললেন,

“প্রথম প্রথম লাগত,তবে এখন এই একাকিত্বই ভীষণ পছন্দ আমার।”

বলতে বলতে তিনি আলাদা বাটিতে হাত ধুয়ে প্লেট হাতে নিয়ে ভাত মাখিয়ে মুখে নিলেন।আজ আলাদা স্বাদ পেয়ে বললেন,

“মাছটা আজ অন্যরকম হয়েছে।কে রান্না করেছে?”

ময়ূরী আতঙ্কিত হয়ে বলল,

“মজা হয়নি?আসলে আমি এর আগে কখনো রান্না করিনি বড় আব্বা।আজ যতটুকু পেরেছি ততটুকুই করেছি।”

রহমান সওদাগর হেসে বললেন,

“প্রথমবার হিসেবে মোটেও খারাপ হয়নি।তবে একটু মশলা বেশি হয়েছে।”

লজ্জা পেল সে।খাওয়ার যোগ্য আদৌ হয়েছে কিনা আল্লাহ ভালো জানেন।সে চুপ করে রইল যতক্ষণ না তার খাওয়া শেষ হয়।রহমান সওদাগরের খাওয়া শেষ হলে ময়ূরী প্লেট নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ভদ্রলোক বললেন,

“আম্মাজান,আমার পুতুলরে একটু নিয়ে এসো আমার কাছে।দেখি না অনেকদিন ধরে।”

ময়ূরী মুচকি হেসে ঘর থেকে বের হলো।পুতুল আর ফাহাদকে এখনো খাওয়ানো হয়নি।ওদিকে তাহসিন বাড়ি থেকে বেরিয়েছে ভোর সকালে,এখনো বাড়ি ফিরেনি।লোকটার কোনো আক্কেল নেই।বাড়ির সবার প্রায় খাওয়া শেষ।ডাইনিং টেবিলে ময়ূরী ভাই আর মেয়েকে নিয়ে বসেছে।আদনান,হিমি কিংবা তাহসিন কেও’ই বাড়িতে নেই।সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।আশেপাশে তাকিয়ে কাউকে না দেখে আবারও দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।প্লেটে ভাত নিয়ে দুজনকেই একসাথে খাইয়ে দিচ্ছে সে।পুতুলকে খাইয়ে দিলে ফাহাদ রেগে যায়,আর ফাহাদকে দিলে পুতুল।বেচারি নিজেও এখনো খায়নি।গরমে সকাল সকাল রান্নাঘরে গিয়ে এমনিতেই মেজাজ আসমানে উঠে আছে।

ওদের খাইয়ে দেয়া শেষে আফিয়া এসে ওদের নিয়ে গেল।ময়ূরী নিজের জন্য ভাত বেড়ে সবে বসেছে।আর ঠিক তখনই তাহসিনরা ফিরেছে বাইরে থেকে।ময়ূরী ঘাড় ঘুরিয়ে ওদের দিকে তাকায়।ওদের দেখে মনে হচ্ছে বাগান থেকেই হাত মুখ ধুয়ে এসেছে।তাহসিন সোজা এসে ময়ূরীর পাশে বসল।চেয়ার টেনে দুরুত্ব ঘুচিয়ে বলল,

“জামাইকে রেখে একা একা খাচ্ছ,শরম হওয়া উচিত তোমার।”

ময়ূরী হতভম্ব।বিস্মিত চোখে তাহসিনকে দেখে বলল,

“আপনার জন্যই তো অপেক্ষা করছিলাম।আপনি আমাকে না বলে বাইরে গেছেন,এবং বলেও যাননি কখন আসবেন।আমার বুঝি ক্ষুধা লাগে না?”

হিমি ঠোঁট টিপে হাসল।নিজেই আদনান আর তার জন্য খাবার বেড়ে বলল,

“তুমি তোমার জামাইয়ের কথার মানে বুঝনি?জামাইকে একটু খাইয়ে দাও নিজের হাতে।”

ময়ূরী নাক ছিঁটকে বলল,

“বাজে কথা।”

ময়ূরী লাজে আড়চোখে তাহসিনের দিকে তাকাল।তাহসিন গালে হাত দিয়ে বউয়ের লাজ দেখতে ব্যস্ত।মেয়েটা শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে আশেপাশে তাকাল।বাড়ির কেও যদি দেখে ফেলে তাহলে কী ভাববে?লোকটার লজ্জা নাই থাকতে পারে,তাই বলে সেও কি নির্লজ্জ?মেয়েটা একটু সরে এসে খালি হাত দিয়ে তাহসিনের খাবার বেড়ে তার সামনে দিলো।বলল,

“খেয়ে আমাকে উদ্ধার করুন।”

তাহসিন মুচকি হেসে খেতে বসে।খাওয়া দাওয়া শেষে আদনান যখন হাত ধুয়ে ডাইনিং টেবিল থেকে ড্রয়িংরুমে সোফায় গিয়ে বসেছে,তখন বর্ষা কোত্থেকে এসে যেন তার পাশে বসল।ছেলেটা চমকে তাকানোর আগেই বর্ষা গড়গড় করে বলল,

“আপনাকে আমি পুরো বাড়ি খুঁজেও পাইনি সকাল থেকে।কোথায় ছিলেন আপনি?”

আদনান সরে গিয়ে বসল।আড়চোখে হিমিকে দেখে ঠোঁটে দারুণ হাসি টানল।

“আমাকে খুঁজছিলেন?আমিও তো আপনাকে খুঁজছিলাম।”

“সত্যি?”

“আমাকে দেখে মনে হচ্ছে আমি মিথ্যে কথা বলছি?”

বর্ষা লাজুক হেসে মাথা নাড়িয়ে বলল,

“মনে তো হচ্ছে না।যাইহোক,আমার সাথে আজ ঘুরতে যাবেন?আপনাকে গ্রাম ঘুরিয়ে দেখাব।”

হিমির খাওয়া শেষ হয়ে গেলেও সে জায়গা ছেড়ে উঠল না।অভাবেই বসে রইল চেয়ারে।আদনান শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে মিনমিন করে ধীর কণ্ঠে বলল,

“আজ নয়,অন্য একদিন নাহয় যাব?”

“আজ গেলে কী সমস্যা?আমার বান্ধুবীদের দেখাব না আপনাকে?”

“আপনার বান্ধুবীদের দেখাবেন মানে?”

“বাহরে,ওরা ওদের দুলাভাইকে দেখবে না?”

“কীসের দুলাভাই?”

“আপনি আমাকে বিয়ে করলে ওরা আপনার শালী হবে না?”

আদনান বলদের মতো মাথা নাড়ল।সব পাগল তার কাছেই কেন আসে?দাদির উপর ভীষণ রাগ হচ্ছে তার।সে তো মজা করে বলেছিল মেয়ে দেখতে,আর উনি তো মেয়ে নিয়েই হাজির হয়েছেন বাড়িতে।হিমি উঠে এসে আদনানের পাশে বসল।আদনান শুকনো ঢোক গিলে উঠে চলে যেতে চাইলে হিমি ওর হাত টেনে ধরে বসালো।বর্ষাকে বলল,

“এটা আবার বলতে হয় বর্ষা?তুমি বাইরে নিয়ে যাবে তাতে ওর বারণ থাকবে কেন?বিকেলে তৈরি হয়ে আজ ওর সাথে বের হবে তুমি কেমন?”

বর্ষা খুশি হয়ে মাথা নাড়ল।আদনান ঠোঁট কামড়ে হিমির একহাত শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে।কুসুমের ডাকে বর্ষা উঠে চলে যাওয়ার পর হিমি ঝাড়া মেরে আদনানের হাত সরিয়ে দিয়ে ঘরের দিকে হাঁটা ধরল।আদনান ঠোঁট উল্টে বিড়বিড় করল কিছু।জেলাস ফীল করাতে গিয়ে নিজের পায়েই কুড়াল মারল সে।হিমি কী আর তার সাথে কথা বলবে?দরকার হলে খু’ন করবে তবুও কথা বলবে না।

সে বিরক্ত হয়ে সিঁড়ির দিকে গেল।

অন্যদিকে ময়ূরী রান্না ঘরে থালা-বাসন ধুচ্ছে।তাহসিন দাঁড়িয়ে আছে পাশে।দেয়ালে হ্যালান দিয়ে বুকে হাত বেঁধে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

মেয়েটা কাজ শেষে ওকে রেখেই বেরিয়ে গেল সেখান থেকে।এখন নিশ্চিত পিছু পিছু আসবে তার।সে বাইরে বেরিয়ে একবার পিছু ফিরে তাকাল।ঠিক ধরেছে,লোকটা পিছু পিছু আসছে।

ময়ূরী নিচের সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে দাঁত চেপে বলল,

“কী সমস্যা?পিছু পিছু ঘুরছেন কেন?”

তাহসিন সোজাসজি উত্তর দিলো,

“বউ আমার,পিছে ঘুরি আমি তাতে তোমার সমস্যা কী?”

“নাটক বন্ধ করুন।যেখানে যাচ্ছি আপনি পিছু পিছু সেখানেই যাচ্ছেন।বলি আর কোনো কাজ নেই আপনার?”

“আছে তো!বউয়ের পিছু পিছু ঘোরা।”

মেয়েটা রেগে তাকিয়ে সিঁড়িতে পা রাখল।বজ্জাত লোক একটা।সারাদিন খোঁজ নেই,বাড়িতে এলেই বউয়ের কথা মনে হয়।তাহসিন আর বউয়ের পিছু নিল না।সে গেল বড় আব্বার ঘরে।ভদ্রলোক শুয়ে ছিলেন।তাহসিন আসতেই তার সাহায্য নিয়ে উঠে বসলেন।

“কী খবর তোর?”

তাহসিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,

“কিছুই বুঝতে পারছি না।আজ দাদার বড় গোডাউননে গিয়েছিলাম।”

“সেখানে কিছু নেই।ওখানে শুধু ধানের বস্তা রাখা হয়।”

“এই এত এত বস্তা ভর্তি ধান এলো কোত্থেকে?আমার জানা মতে আমাদের তো এত ক্ষেত নেই।এত বড় একটা গোডাউন,আর সেটা ভর্তি বস্তা।”

রহমান সওদাগর ভ্রু কুঁচকে ফেললেন।

“গোডাউন ভর্তি বস্তা?”

“হ্যা!”

“ঠিক করে দেখিছিস সব?”

“সব দেখেছি।ভাবছি আজ একবার পুরনো দালান বাড়ি যাব।যদি কিছু পাই সেখানে।”

তাদের মধ্যে বেশ খানিকক্ষণ কথা হওয়ার পর তাহসিন দরজা চাপিয়ে ঘর থেকে বের হলো।আফিয়ার ঘরে গিয়ে দেখল বাচ্চা দুটোকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে আফিয়া।সে মুচকি হেসে নিজের ঘরে এলো।বউটা ওয়াশরুমে বসে বসে কিছু জামা কাপড় ধুয়ে দিচ্ছে।তাহসিন আলমারির নিকট এগিয়ে গিয়ে নিজের তিনটা ধুয়ে দেয়া শার্ট বের করে ওয়াশরুমের দরজার কাছে এগিয়ে ময়ূরীর সামনে ফেলে দিয়ে বলল,

“শোনো বউ,তোমার জামাই আবার নোংরা কাপড় গায়ে দিয়ে থাকতে পারে না।এগুলো একটু ধুয়ে দাও তো।”

ময়ূরী কোমরের কাপড় ভালো করে গুঁজে আধ-খোলা খোঁপাটা ভালো করে খোঁপা করে জোরপূর্বক হেসে তাহসিনের দিকে ফিরল।ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে টেবিলের সামনের চেয়ারটা টেনে এসে তাহসিনকে বলল,

“আপনি এত কষ্ট করে দাঁড়িয়ে থাকবেন কেন?নিন,এখানে আরাম করে বসুন।”

তাহসিন ভ্রু কুঁচকে বসল সেখানে।বউয়ের মতলব কিছু বুঝতে পারছে না সে।ময়ূরী বারান্দা থেকে লাল রঙের একটা বালতি এসে তাহসিনের সামনে রাখল।একে একে সব জামা কাপড় ধুয়ে সেখানে রেখে কাপড়ের ক্লিপ গুলো হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,

“ভালো মানুষের মতো এগুলো নিয়ে ছাদে ছড়িয়ে দিয়ে আসুন।”

তাহসিন বোকা চোখে কাপড় গুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,

“তুমি আমাকে দিয়ে কাজ করাচ্ছ?”

“ওমাহ,বিয়ের দিন না বললেন?অর্ধেক আপনার কাজ আর অর্ধেক আমার।”

তাহসিন চেয়ার ছেড়ে উঠে বালতি হাতে নিয়ে পিছু ঘুরল।দরজার বাইরে বেরিয়ে বলল,

“সময় একদিন আমারও আসবে বেগম সাহেবা।”

ময়ূরী দৌঁড়ে গিয়ে তাহসিনের হাত থেকে বালতি নিয়ে বলল,

“থাক,আপনাকে যেতে হবে না।আপনি বরং গোসল সেরে নিন।”

“কেন?সমস্যা নেই আমার,দাও আমি গিয়ে দিয়ে আসছি।”

“আমি একা গেলে সমস্যা হবে?কেও কিছু বলবে?”

“কিছু হবে না।যদি কেও দেখে,বলবে আমি ব্যস্ত।”

ময়ূরী মাথা নাড়িয়ে কাপড় গুলো ছাদে দিয়ে ছাদের দরজার কাছে আসতেই হঠাৎ ছাদের ছোট ঘর থেকে কারোর কথোপকথনের শব্দ শুনতে পেল।সে ভ্রু কুঁচকে ঘরের জানালার কাছে এগিয়ে গিয়ে উকি মেরে দেখল মাহতাব চৌকিতে বসে আছে মাথা চেপে।পাশে উল্টো ঘুরে কেও একজন বসে আছে।তাদের মধ্যে যা কথা হচ্ছিল সব কিছুই ময়ূরী স্তব্ধ হয়ে শুনে গেছে।

হঠাৎ বাইরে শব্দ হওয়ায় তাদের কথায় ব্যাঘাত ঘটে।মাহতাব চমকে তাকায় জানালার দিকে।ময়ূরী হাত থেকে পড়ে যাওয়া বালতি নিয়ে দৌঁড়ে নিচে নেমে যায়।ঘরের ভেতর ঢুকে ভেতর থেকে দরজা আঁটকে থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ।শরীর কাঁপছে থরথর করে।তাহসিন ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো।তার চোখে তখন একরাশ উদ্বেগ।ওয়াশরুম থেকে ভিজে চুল নিয়ে বেরিয়ে এসে বউকে এমন স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।ময়ূরীর মুখ নিস্তেজ,ঠোঁট কাঁপছে অদ্ভুতভাবে।সে তাকিয়ে আছে ফাঁকা দৃষ্টিতে,যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছে না।

তাহসিন ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রাখল,

“ময়ূরী,কী হয়েছে তোমার?”

কোনো উত্তর নেই।সে তখনো নিথর।তাহসিনের বুকের মধ্যে হঠাৎ শীতল একটা হাওয়া বইল।

সে একটানে ময়ূরীকে নিজের বুকে টেনে নিল,

মেয়েটার গায়ে অদ্ভুত কাঁপুনি,নিঃশ্বাস যেন ভারী হয়ে গেছে।

“এই ময়ূরী,কথা বলো?চুপ করে আছো কেন?”

ময়ূরী ঠোঁট নাড়ল কষ্টে,শুষ্ক গলা ভিজিয়ে বলল,

“কিছু হয়নি।”

তাহসিন ভেজা তোয়ালে দিয়ে ময়ূরীর ঘামন্ত মুখ মুছিয়ে দিলো।মেয়েটা স্বাভাবিক হলো বেশ কিছুক্ষণ পর।ফাহাদ গুটি গুটি পায়ে দুলাভাইয়ের ঘরে ঢুকে মাথা উঁচিয়ে ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে বলল,

“আপা!”

ময়ূরী সরে দাঁড়ায়।ভাইকে দেখে গলা ভিজিয়ে তাহসিনের দিকে তাকায়।তাহসিন কপাল কুঁচকে রেখেছে।ফাহাদকে নিয়ে ময়ূরী বিছানায় গিয়ে বসার পর ফাহাদ আবার ঘুমিয়ে পড়ল।তাহসিন কাছে এসে বসল ওর।

“সত্যি করে বলো তো,হয়েছে কী?”

ময়ূরী ভাইয়ের উপর পাতলা কাঁথা দিয়ে সোজা হয়ে বসে।বলে,

“আমার শরীরটা ভালো লাগছে না।ছাদে এত রোদ।”

“বলেছিলাম কাপড় গুলো আমাকে দাও।যাও,গোসল করে আসো ভালো লাগবে।নাকি আমি করিয়ে দিব?”

নাক ছিঁটকালো মেয়েটা।বজ্জাত লোকের মুখ সব সময় চলতেই থাকে।

#চলবে…?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন