ফন্ট সাইজ:
থিম:
কিশোরী কন্যা

৩৫তম পর্ব

লেখক: হামিদা আক্তার ইভা Hayat

#কিশোরী_কন্যা ।৩৪.১।

#হামিদা_আক্তার_ইভা_Hayat

তাহসিন দাঁড়িয়ে আছে ফরাজী বাড়ির সামনে।খানিকক্ষণ আগে সওদাগর বাড়ি থেকে মানুষ এসেছিলেন।জানতে চাইছেন তারা কবে ফিরবে বাড়ি।তাহসিন স্পষ্ট কিছু বলেনি,তবে বেশিদিন সে এখানে থাকবে না।ফিরোজা বেগমের মৃ’ত্যুর আজ ৪দিন।কাল মধুর বিয়ে ওয়াহিদের সাথে।মধুকে বিয়ে নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে আপত্তি করেনি।বাবা যেখানে রাজী,সেখানে তার কথা বলার কিছু নেই।

তাহসিন বাড়ির ভেতর ঢুকতেই ওয়াহিদ পুকুর পাড় থেকে বলল,

“এইযে দুলাভাই!এইদিকে আসেন।”

তাহসিন কপাল কুঁচকে গিয়ে সিঁড়িতে বসল।ওয়াহিদ বলল,

“কাল এত ভয় পেয়েছিলাম জানেন?”

তাহসিন বলল,

“কীসের ভয়?”

“আরে ওইযে ঢাকা গেলাম না?সুখী মেয়েটা এত ডেঞ্জারাস।আমার মতো ভোলা-ভালা ছেলেকে পেয়ে দুষ্টু দুষ্টু কথা বলছিল।”

“কী বলছিল?”

ওয়াহিদ শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে একবার ঘরের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“আরে ওইযে,বুঝতে পারছেন না?”

“আপনার তো লজ্জা হওয়া উচিত।আমার শালির হবু জামাইকে অন্য এক নারী ছুঁয়েছে।”

ওয়াহিদ হতভম্ব হয়ে বলল,

“পাগল?আমাকে ছুঁবে কেন?আমি তো তার ধারের কাছেও যাইনি।”

“কী করে বিশ্বাস করি?”

“বিশ্বাস না করার কী আছে?”

“প্রমাণ আছে,আপনি যে কিছু করেননি?”

ওয়াহিদ মুখ কালো করে বলল,

“আমি ভালো ছেলে।বউকে ছাড়া কারোর দিকে নজর দেই না।”

“তাহলে তো আপনার নজর খারাপ।”

“আশ্চর্য!নজর খারাপ হবে কেন?”

তাহসিন লম্বা শ্বাস টেনে বলল,

“কারণ আপনি এখনও অবিবাহিত।আমার শালি এখনও আপনার বউ হয়নি।”

ওয়াহিদ বিরক্ত হয়ে দাঁত চেপে বসে রইল।তখন ফাহাদ গুটি গুটি পায়ে ওদের নিকট এগিয়ে এসে বলল,

“ওও দুলাবাই!”

তাহসিন পাশে তাকায়।ফাহাদের ঘুমঘুম মুখ দেখে কাছে টেনে কোলে বসায়।ফাহাদ তাহসিনের গলা জড়িয়ে ধরে বলে,

“মা কুই?আমি মা যামু।”

তাহসিন ফাহাদের গাল টেনে দিয়ে বলে,

“মা আছে তো!তোমার আম্মা চাঁদের বুড়ির দেশে গেছে।”

ফাহাদ অবাক হয়ে বলে,

“তাই?আমারে নিলু না কেন?”

“তোমার জন্য উপহার আনতে গেছে সে।”

“সুত্যি?”

তাহসিন মাথা নাড়ায়।ওয়াহিদ তাকিয়ে থাকে বাচ্চাটার দিকে।বাচ্চাটা জানেও না তার মা আর নেই।কী অদ্ভুত দুনিয়ার নিয়ম।

বাড়ির পেছনে ময়ূরীদের একটা ছোট সবজি বাগান আছে।ফিরোজা বেগম কাঁচা সবজির বাগান করেছিলেন।মধু আর ময়ূরী সেখানেই এসেছে খানিকক্ষণ আগে।এখান থেকে তাহসিনদের দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট।দুই বোনের মুখে একটা কথাও নেই।এই চারদিনে দুটো কথা মুখ ফুটে তারা বলেছে কিনা সন্দেহ।নীরবতা ভেঙে ময়ূরী বলল,

“তুই কী আব্বাকে রেখে মামার বাড়ি যাবি?”

মধু বলল,

“উনার তো কাজ শেষ হয়নি।সে অব্দি হয়তো এখানেই থাকতে হবে।”

“তাহলে আব্বার কী হবে?আব্বা এখানে একা কী করে থাকবে?”

মধু উত্তর দিতে পারল না।চুপটি করে বসে রইল।কয়েকদিনেই দুই বোনের বেহাল অবস্থা হয়েছে।কেনোই বা হবে না?নিজেদের যত্ন নেয়ার সময়টুকু তাদের আছে?মা থাকলে বোধহয় এসব কিছুই হত না।

চারপাশে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে।মেম্বার বাড়ির উঠোনে চলছে বাড়ির মানুষদের সাথে আলাপ-আলোচনা।হঠাৎ বাড়ির দরজায় কড়া শব্দ হলো।রাজুর আম্মা গিয়ে দরজা খুলে দিতেই কপাল কুঁচকে এলো মেম্বারের।বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে ওয়াহিদ,তাহসিন এবং আরও একজন অফিসার।মেম্বার উঠে দাঁড়ালেন।তাহসিনরা প্রবেশ করল ভেতরে।রাজু দাঁত চেপে চেয়ারে বসে আছে।

“কী ব্যাপার তাহসিন?পুলিশ নিয়ে হঠাৎ আমার বাড়িতে?”

তাহসিন মৃদু হেসে এগিয়ে এলো।বসল ওয়াহিদ আর সেই অফিসারকে নিয়ে।বলল,

“অফিসারের কাজ ছিল আপনার সাথে।”

“কী কাজ?”

ওয়াহিদ বলল,

“আপনার নামে বেশ কিছু রিপোর্ট আছে।”

মেম্বার মুখ গম্ভীর করে বললেন,

“যেমন?”

“গ্রামের উন্নয়নের জন্য এখন অব্দি প্রায় কয়েক কোটি খানিক টাকা এসেছে সরকার থেকে।গ্রামের উন্নয়ন তো হয়নি,উল্টো গরিব মানুষদের জায়গা-জমি দখল করার অভিযোগ আছে আপনার উপর।”

মেম্বার মেকি হাসলেন।বললেন,

“উন্নয়নের কাজ দেখার দায়িত্ব আমার,করার নয়।”

ওয়াহিদ একটু ঝুঁকে এসও ফিসফিস করে বলল,

“কিন্তু টাকা তো আপনার পকেটেও এসেছে মেম্বার সাহেব।”

“আপনি আপনার সীমা ছাড়াচ্ছেন অফিসার।”

চিৎকার করে উঠলেন মেম্বার।তাহসিন ডান হাতের দুটো আঙুল দিয়ে কপাল চুলকাল।ওয়াহিদ শান্ত গলায় বলল,

“১৯টা পরিবারের সকল জায়গা-জমি নিজের নামে করেছেন।ভুল বললাম?”

মেম্বার রেগে গিয়ে ওয়াহিদের শার্টের কলার ধরে বিশ্রী ভাষায় গালাগালি শুরু করলেন।ওয়াহিদ সাথে সাথে কাছে রাখা ব ন্দু ক মেম্বারের কপালে ঠেকিয়ে বলল,

“বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না।আমার কাছে অনুমতি আছে একদম উপরে পাঠিয়ে দেয়ার।”

মেম্বার শুকনো ঢোক গিলে ছেড়ে দিলেন ওয়াহিদকে।রাজুর আগে থেকেই রাগ ওয়াহিদের উপর।এখন যেন দ্বিগুণ হলো সেটা।সে কিছুটা রুষ্ট গলায় বলল,

“আপনার কাছে কী প্রমাণ আছে?”

অন্য অফিসার হাতে রাখা ফাইল এগিয়ে দিল।রাজু সেটা হাতে নিতেই কিছুটা ঘাবড়ে গেল।তৎক্ষণাৎ ওয়াহিদ মেম্বারকে নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে বের হয় বাড়ি থেকে।তাহসিন রাজুর ঘাড়ে হাত রেখে নিচু গলায় বলে,

“সাবধানে থেকো রাজু।এমন দিন আবার তোমার না আসে।”

•

মেম্বারকে থানায় এনে কাজ হলো না।ওয়াহিদ আশ্চর্য হচ্ছে সিনিয়র অফিসারদের কাজ দেখে।খানিকক্ষণ আগেই মেম্বার থানা থেকে বের হয়েছেন।বেরিয়ে যাওয়ার আগে অবশ্য হুমকিও দিয়েছেন তাকে।থানায় বারে বারে “নওমান তাহির” নামটা উচ্চারিত হচ্ছিল।মেম্বার ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না এই নওমান নামের নতুন অফিসারটা ঠিক কে হতে পারে।এর আগেও তিনি এই নাম শুনেছেন।তখন প্রায় মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়।বড় বাজারের রিকশার গোডাউনে সামনা-সামনি বসে আছে মেম্বার এবং এক মধ্যবয়স্ক লোক।পাশেই দাঁড়িয়ে আছে রাজু।

অপর পাশের লোকটা ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট রেখে বললেন,

“আমার স্বর্ণের পাচার প্রায় বন্ধের পথে মেম্বার।তুমি থাকতে এসব হচ্ছে কী করে?”

মেম্বার বললেন,

“গ্রামে নতুন নতুন অফিসার এসেছে শুনেছি।তাদের মধ্যে “নওমান তাহির” নামের অফিসারটার কারণেই এসব হচ্ছে।”

লোকটা ভ্রু কুঁচকে বললেন,

“নওমান তাহির?কে সে?তার জন্য আমার লস হয়েই যাচ্ছে।”

নওমান তাহির নামটা শুনে লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।সিগারেটের ধোঁয়া ধীরে ধীরে বাতাসে মিশে গেল।রাজু লক্ষ্য করল,লোকটার চোখে একরাশ বিরক্তি জমে উঠেছে।

“খোঁজ নিয়েছ?” লোকটা জিজ্ঞেস করল।

মেম্বার মাথা নাড়লেন,

“পুরোপুরি না।শুধু জানি সদ্য পোস্টিং।চুপচাপ টাইপের,কিন্তু হাত শক্ত।”

লোকটা ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বলল,

“এই চুপচাপ লোকগুলোকেই বেশি ভয় লাগে।বেশি কথা বলে না,কাজটা ঠিকই করে ফেলে।”

রাজু আর চুপ থাকতে পারল না।সে এগিয়ে এসে বলল,

“চাচা,আপনি চিন্তা করবেন না।এসআই কে আমি দেখে নিচ্ছি।”

“খোঁজ নাও সে কে?নতুন অফিসার এসেছে অথচ আমি চিনি না?”

আগামীকাল থেকে ময়ূরীর টেস্ট পরীক্ষা।বোরহান সওদাগর স্কুলে গিয়ে কথা বলে এসেছেন।ক্ষমতা দেখিয়ে ময়ূরীর পরীক্ষা বাতিল করেছেন।সে টেস্ট ব্যতীত এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।সব কিছুই চলছিল নিজ নিয়মে।ময়ূরী বিছানা করছিল ঘুমানোর জন্য।মধুর বিয়েটা হয়ে গেলেই হয়তো আবার তাকে ফিরতে হবে শ্বশুর বাড়ি।তাহসিন বলেছে সে ফিরে যাবে ঢাকা কিছুদিন পরেই।পুতুলকে এবার ময়ূরীর সাথে রেখে যাবে।তার এসএসসি শেষ হলে তাদের ঢাকা নিয়ে যাবে সাথে করে।

দরজায় শব্দ হলো হঠাৎ।ময়ূরী পিছু ফিরে দেখল,তাহসিন দাঁড়িয়ে আছে সেখানে।

“বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?”

তাহসিন দরজা চাপিয়ে ভেতরে এলো।বসল বিছানায়।ময়ূরী বলল,

“আপনার কাজ হয়েছে?”

“কিছু এখনও বাকি আছে।”

“তারপরই বুঝি চলে যাবেন?”

“যেতে তো হবেই।আমার কাজ আছে না?কাজ না করলে সংসার চলবে কী দিয়ে?”

ময়ূরী তার পাশে বসল।বসে তাহসিনের একহাত মুঠোয় নিয়ে বলল,

“কী দরকার বলুন না?কোনো সাধারণ কাজ করা যায় না?আমার ভয় হয় আপনাকে নিয়ে।”

তাহসিন হেসে বাচ্চা বউয়ের মাথায় হাত রেখে বলে,

“আমার কিছু হবে না।শোনো মেয়ে,তোমার সাথে আমার সংসার শুরুই হলো সবে।বাকি জীবনটা তো এখনও পড়ে আছে।আমাদের ছোট একটা সংসার সাজানো এখনও বাকি।”

ময়ূরী মলিন হেসে বলল,

“যদি সেই সুযোগ না হয়?”

“হবে!সব হবে।”

তাহসিনের ছোট্ট একটা সংসার বউ-বাচ্চা নিয়ে।যেখানে ভালোবাসার সাথে নরম স্পর্শের মতো শান্তিও আছে।নিজের হাঁটু সমান এক কিশোরীকে বিয়ে করে প্রথমে আফসোস থাকলেও এখন মনে হচ্ছে সে সঠিক মানুষকেই কবুল করেছিল।যার কোনো চাহিদা নেই,আকাঙ্ক্ষা নেই,শুধু আছে একটুখানি ভালোবাসায় মুড়িয়ে থাকার ইচ্ছে।ওইটুকু দেয়ার সামর্থ তাহসিনের আছে।

ময়ূরীর চুল এলোমেলো দেখে তাহসিন বলল,

“এবার একটু নিজের দিকে নজর দাও।কী হাল হয়েছে তোমার দেখেছ?”

বলতে বলতে সে চিরুনি নিয়ে এসে বসল পাশে।ময়ূরী পা উঠিয়ে হাঁটু জড়িয়ে উল্টো ঘুরে বসল।সে জানে এখন তাহসিন খুব যত্ন করে অযত্নে পড়ে থাকা চুল গুলো যত্ন করে আঁচড়ে দিবে।তারপর সুন্দর করে বেণী গেঁথে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলবে,

“তোমাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি।”

হলোও তাই।আজ অনেকদিন পর ময়ূরী আলতো হাসল।এই মানুষটাকে বিয়ে করে একটা সময় অভিমান করে কারোর সাথে কথা বলেনি।জোর করে বিয়ে দিয়েছিল বলে আম্মা-আব্বার সাথেও রাগ করেছিল।কিন্তু আল্লাহ যে তার কপালে এমন একজন স্বামী লিখে রেখেছিলেন,সেটা সে কল্পনাও করেনি।

তাহসিন তখন ময়ূরীর ঠিক পেছনে।সে অনুভব করছিল কিশোরীকে।ময়ূরীর কথায় কিছুটা কপাল কুঁচকে এলো,

“আপনার কাজ শেষ হলে আপনি ঢাকায় চলে গেলে আমি থাকব কোথায়?”

“আমার বাড়ি কী তোমার বাড়ি নয়?তুমি তোমার বাড়ি থাকবে।”

“ওই বাড়ি আমি থাকব কী করে?”

“কেন পারবে না?”

“সব জানার পর কেউ আমার সাথে ভালো ব্যবহার করবে?”

তাহসিন মৃদু হেসে বলল,

“ভয় পাচ্ছ পাখি?জীবন পাড়ি দিতে গেলে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়,লড়াই করতে হয়।”

“আপন মানুষের সাথে লড়াই করব কেমন করে?”

তাহসিন চুপ রইল।

বাইরে বাতাসের ঝড় বইছে।বাতাসের প্রখরতা তখন তীব্র।ওয়াহিদ এই গ্রামে ট্রান্সফার হয়েছিল ৩টা কেস সমাধান করতে।ইতোমধ্যে তার সব গুলো কাজই সম্পূর্ণ হয়েছে।কিন্তু ঢাকা থেকে নতুন SB টিম আসাতে তাকে তাদের সঙ্গ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।এই কাজ গুলোও আশা করা যায় খুব শীঘ্রই শেষ হবে।

সে বাড়ির বাইরে চুপচাপ বসেছিল।খানিকক্ষণ আগেই বক্কর ফরাজীর সাথে তার কথা হয়েছে।মানুষটা একদম ভেঙে পড়েছেন।সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।আগামীকাল তার বিয়ে।মধুমিতা তার হবে।মুচকি হাসল সে।তখন মধু গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে গাছের নিচে ব্রেঞ্চে বসল তার পাশে।ওয়াহিদের ঘরের সামনে এই গাছটা।ওয়াহিদ এত রাতে মধুকে জাগ্রত দেখে বলল,

“জেগে আছিস যে?কাল না তুই বউ সাজবি?না ঘুমালে সুন্দর লাগবে?”

মধু কপাল কুঁচকে বলল,

“সাজতে যাব কেন?”

“আমার বউ সাজবি না?”

“কে সাজিয়ে দিবে?”

ওয়াহিদ লম্বা শ্বাস টেনে বলল,

“বিয়ের পর আমি সাজিয়ে দিব।যত্ন করব,ভালোবাসব,খাইয়ে দিব,ঘুম পাড়িয়ে দিব।”

“এইটুকুই?”

“আরও কিছু চাই?”

মধু হেসে মাথা নাড়ল।বলল,

“যদি আমাদের সংসার না হয়?”

“কেন হবে না?সংসার করার জন্যই তো তোকে বিয়ে করছি।”

মধু পা উঠিয়ে বসল সেখানে।হাঁটুতে মাথা রেখে নরম গলায় বলল,

“আমার মধ্যে আহামরি কিছু নেই।বাকিদের মতোই সাধারণ এক নারী।আপনি আমায় ভালো কেন বেসেছেন সেটাও আমি জানি না।তবে আপনার জানা উচিত আমি কেমন।আপনার মতো একজন মানুষের সাথে আমার যায়?”

“কেন যায় না?”

“আপনার আম্মা কিন্তু নারাজ হয়েছেন।”

“সে আমি বুঝে নিব।”

“পরে কিন্তু আমায় ছাড়তে পারবেন না।”

“ছাড়তে চাইও না।”

সেইরাতে তাদের মধ্যে এইটুকুই কথা হয়েছে।যখন মধ্যরাত হলো,পুরো গ্রাম মৃ’ত মানুষের মতো নিস্তব্ধ হয়ে গেল,তখন মধুর গোঙানোর হালকা শব্দ শোনা গেল বাড়ির গেটের কাছ থেকে।কয়েক জোড়া পায়ের মৃদু আওয়াজের সাথে সেই চাপা চিৎকার কারোর কান অব্দি পৌঁছাল না।কী হলো তার সাথে?কাদেরই বা পায়ের শব্দ ভেসে এলো সেখান থেকে?

#চলবে..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন