পর্ব: (১)
কলমে: (কৌশিক দত্ত)✍️✍️
আমাদের গল্পের নায়কের নাম হচ্ছে রাজ সেনগুপ্ত। সে এখন ঢাকা শহরে কোনো একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছে। আর তাঁর মা, বাবা, ছোট বোন তাঁরা গ্রামের বাড়িতেই থাকে। রাজ তাঁর চাকরির সূত্রে তাঁর স্ত্রী রিপাকে নিয়েই ঢাকায় থাকে। রাজ-রিপা তাদের বিবাহিত জীবন বেশ সুখেই কাটাচ্ছে। কিন্তু তাদের বিবাহিত জীবনের পেছনে ছোট একটি গল্প লুকিয়ে রয়েছে।
চলুন, আমরা সময় নষ্ট না করে ফিরে যাই রাজ-রিপার বিয়ের আগের লাইফে..................
রাজ তাঁর গ্রামের বন্ধু বিনয়কে নিয়ে গ্রামের একটি মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছে। মানে ব্যাচেলরদের আড্ডা যেমন হয়ে থাকে আরকি। রাজ আর বিনয় সিগারেট খেতে খেতে দুজনে কথা বলছিল। রাজ বিনয়কে বলে ওঠে সিগারেট খেতে খেতে
- বিনয়, অনেক হয়েছে, এখন আমার একটি চাকরির দরকার, বুঝলি। গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে বেকার হয়ে বসে রয়েছি, আর ভালো লাগছে না রে!
তারপর বিনয় বলে ওঠে রাজকে
- কি আর করবি রে দোস্ত! আমাদের দেশের চাকরির যে বাজার। চাকরি খুঁজতে খুঁজতে তোর এই নায়কের মতো চেহারা দেখতে হয়ে যাচ্ছে মেজো ভূতের মতো।
বিনয়ের এমন কথা শুনে রাজ হেসে দিয়ে বলে ওঠে
- কি আর করবো! যে ভাবেই হোক, একটি চাকরি তো পেতেই হবে।
এখন বিনয় আবার বলে ওঠে
- আমি তো ভেবে নিয়েছি, আমার ছেলে হলে তাঁকে একটি ব্যবসা খুলে দিব।
বিনয়ের এমন কথা শুনে রাজ বলে ওঠে
- আগে বিয়ে কর! তারপর না-হয় ছেলের কথা ভাবিস।
বিনয়ের হাতে শেষ হওয়া সিগারেট ফেলে দিয়ে বলে ওঠে
- বিয়ে করবো আর বেশি দিন নেই। আমার পরান পাখি আমায় প্যারা দিচ্ছে রে বিয়ে করার জন্য। এইবার বিয়েটা করেই ফেলবো, বুঝলি।
এখন রাজও তাঁর হাতে থাকা শেষ হয়ে যাওয়া সিগারেটটা ফেলে দিয়ে বলে ওঠে
- কর বিয়ে। আমার তো আর গার্লফ্রেন্ড নেই! তাই আমিও আর বিয়ে করতে পারবো না।
বিনয় কিছু বলতে যাবে, সে সময় কলেজ পড়ুয়া দুটো মেয়ে এসে তাদের মধ্যে একজন বলে ওঠে রাজকে
- আপনাদের কারো ফোনে ব্যালেন্স আছে কি?
সেই কথা বলা মেয়েটিকে দেখে রাজের বুকের ভিতরটা "ধক-ধক" শুরু করে দিলো। মেয়েটি খুব কিউট দেখতে। সে মেয়ের চোখগুলো যেন আকাশের চেয়েও বেশি নীল। ঠোঁটগুলো যেন শিমুল তুলোর মতো নরম। মেয়েটি দেখতে ফরসার মধ্যে সাদামাটা। চুলগুলো লম্বা কিন্তু খোঁপা করা। মানে রাজের মনের মতো সেই মেয়েটি। তারপর রাজ জবাবে বলে ওঠে
- হ্যাঁ, ব্যালেন্স আছে! কাউকে ফোন করবেন নাকি?
সেই মেয়েটি ঘাড় নাড়িয়ে বলে ওঠে
- হুমম।
এখন আবার রাজ বলে ওঠে সেই মেয়েদেরকে
- ফোন দিতে পারি, কিন্তু একটি শর্তে। সেই শর্তটা হলো তোমাদেরকে তোমাদের নাম বলতে হবে।
রাজের এমন কথা শুনে তাদের মধ্যে একটি মেয়ে বলে ওঠে, "মানে রাজের মনের মতো যে মেয়েটি, তাঁর বন্ধু"
- আমার নাম শিখা আর ওর নাম রিপা।
এদের নাম শুনে রাজ মুচকি হাসি দিয়ে বিরবির করে বলে ওঠে
- বাহ্, কী সুন্দর না...."
রাজ বিরবির করছে দেখে সে সময় শিখা বলে ওঠে রাজকে
- কিছু কি বলছেন আপনি?
জবাবে রাজ বলে ওঠে শিখাকে
- না, তেমন কিছু না।
এই বলে রাজ তাঁর ফোনটা পকেট থেকে বের করে দিয়ে বলে
- এই নেন ফোন।
তারপর রিপা রাজের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে একটু দূরে গিয়ে কোনো একজনের সাথে ফোনে কথা বলে একটু পরেই রিপা রাজকে ফোনটা ফেরত দিতে গিয়ে বলে ওঠে
- থ্যাঙ্ক ইউ, এই নেন আপনার ফোন।
জবাবে রাজ কিছু না বলে রিপার থেকে ফোনটা নিয়ে নেয় এবং তারপরেই রিপা আর শিখা সেই স্থান থেকে চলে যায়। রিপা আর শিখা চলে যাওয়ার পরেই রাজ বলে ওঠে একটি সিগারেট জ্বালিয়ে বিনয়কে
- মামা, মেয়েটাকে দেখেছিস? সে তো পুরোই পরীর মতো দেখতে রে! আমি পেয়ে গিয়েছি আমার লাইফ পার্টনার।
জবাবে বিনয় বলে ওঠে
- তা তো তোর চোখ দেখেই বুঝতে পেরেছি।
এইবার রাজ বিনয়কে বলে ওঠে
- দোস্ত, তুই খবর লাগিয়ে ফেল! রিপা কোথায় থাকে, কোন কলেজে পড়ে আর কোন ক্লাসেই বা পড়ে! আমি এ টু জেড পর্যন্ত খবর চাই রিপার। তা নাহলে তোর খবর আছে।
রাজের এমন কথা শুনে বিনয় বলে ওঠে
- ঠিক আছে দোস্ত, চাপ নিস না! এখন সিগারেটটা দে, শালা। তারপর রাজ সিগারেটটি বিনয়কে দিয়ে বলে ওঠে
- চল, এখন উঠি, অনেক বেলা হয়ে গিয়েছে! বাড়িতে ফিরতে হবে।
তারপর বিনয় শেষ হয়ে যাওয়া সিগারেটটি ফেলে দিয়ে তাঁরা বাড়িতে ফিরে যেতে লাগে।
এখন রাত ১০টা বাজতে চলছে ঘড়িতে। রোজ দিনের মতো আজকেও তাঁরা লুডু খেলার আড্ডা জমিয়েছে বিনয়দের বাড়িতে। মানে বিনয়, রাজ আর শান্তু, তাঁরা তিনজন মিলে লুডু খেলে। যে হেরে যায় সে চা-সিগারেটের বিল দেয় সেদিন রাতের। লুডু খেলতে খেলতে বিনয় বলে ওঠে শান্তুকে
- শান্তু, একটি খবর আছে! আমাদের রাজ, রিপা নামের একটি মেয়ের প্রেমে পড়েছে।
জবাবে শান্তু বলে ওঠে
- তাই নাকি? তা রিপা কোথায় থাকে?
আবার বিনয় বলে ওঠে
- রাজের নায়িকার বাড়ি আমাদের পাশের গ্রামেই।
বিনয়ের মুখে এই কথা শুনে রাজ বলে ওঠে বিনয়কে:
- তুই কিভাবে জানলি রিপা পাশের গ্রামেই থাকে?
জবাবে বিনয় বলে ওঠে
- রিপার জন্য খোঁজ লাগিয়েছিলাম! সব খবর পেয়ে গেছি। সে আমাদের পাশের গ্রামেই থাকে এবং কী, তিনি মহিলা কলেজে অনার্স শেষ ইয়ারে পড়ছে। তাঁর বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং সর্বশেষ রিপার একটি ছোট ভাই আছে, ক্লাস থ্রিতে পড়ে। তাছাড়া রিপা এখনো পর্যন্ত সিঙ্গেল, কারো সাথে রিলেশনে জড়ায়নি।
বিনয়ের এইসব শুনে শান্তু বলে ওঠে বিনয়কে
- এখন তুই ট্রিট নে রাজের থেকে।
তারপর রাজ বলে ওঠে তাদেরকে
- বিনয়কে আজকে আমার তরফ থেকে দুটো সিগারেট বেশি কিনে দিব।
এখন বিনয় আবার বলে ওঠে
- শালা, তোর এই সিগারেটের জন্যই কি, আমি সারাদিন এত পরিশ্রম করে খবর জোগাড় করলাম? তোর সিগারেট তুই-ই খা, আমি রেস্টুরেন্টে খাবো আর তুই ট্রিট দিবি! তা নাহলে তোর খবর আছে।
বিনয়ের এমন কথা শুনে শান্তু বলে ওঠে
- বিনয় একদম ঠিক বলেছে! রাজ, তোর "বিনয়কে আর আমাকে" ট্রিট দিতে হবে।
শান্তুর এই কথা বলার সাথে সাথেই শান্তুই লুডু খেলায় হেরে যায়! তাই রাজ এখন বলে ওঠে শান্তুকে
- এখন তুই আগে আমাদের ট্রিট দে, তারপর অন্য কথা।
লুডু খেলা শেষ করে তাঁরা তিনজনে গল্প করতে করতে বাজারে গিয়ে একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিতে থাকে। আর যা বিল হবে, সে বিল শান্তু মেটাবে—এটাই তাদের লুডু খেলার নিয়ম। এইভাবেই রোজ রাতে চলে তাদের আড্ডা।
🙏🙏গল্প চলবে,,,,,,,
বি: দ্র: (ধূমপান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর) 🚭🚭
🫠ধন্যবাদ সবাইকে🫠