ফন্ট সাইজ:
থিম:
এমপি রুশভিয়ান মির্জা

২য় পর্ব

লেখক: ফাতেমা তুজ জোহরা

#এমপি_রুশভিয়ান_মির্জা পর্বঃ২

#ফাতেমা_তুজ_জোহরা

মামি আমাকে মা*র*বেন না খুব ক*ষ্ট হচ্ছে….কথাটা বলল ইনান তার মামির পা জোড়া আকড়ে ধরে। রুমি তার কোন আকুতি শুনলো না মেয়েটাকে চ**ড় থা**প্প**ড় মে*রে*ই চলেছে। ইনান জ্বরের তোড়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে আবার বলল," আমি সব কাজ করবো মামি আমাকে ছে*ড়ে দিন " বলেই মেয়েটা শব্দ করে কেঁ*দে উঠলো।

রুমি এবার এবার যেন শান্ত হলে ইনানের মুখ থেকে কথাগুলো শুনে। চু*লের মু**ঠিটাকে ছেড়ে শাসিয়ে বলল," এবার থেকে বাহানা দেওয়ার আগে দশবার ভাববি না হলে আজকে যা দিলাম তার থেকে দ্বিগুন এরপর পড়বো তোর পিঠে বুঝলে মহারানী, "বলেই মুখ ঝামটা মে*রে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

আর ইনান মেঝেতে বসে কেঁ**দেই যাচ্ছে এগুলো তার নিত্যসঙ্গী। এমন একটা দিন নেই যখন মা*র না খেয়ে তার পেটে খাওয়ার গেছে। ইনান এই বাড়ির বর্তমান মালিক কিন্তু ভাগ্য তাকে এই বাড়ির কাজের লোকে পরিনত করেছে। ইনানের পুরো নাম ইনান তালুকদার, বয়স সতেরো বছর, উচ্চতা পাঁচফুট, গায়ের রঙ ধবধবে সাদা । তার পিতার নাম আয়মান তালুকদার। মায়ের নাম ইশিতা তালুকদার। ইনান কে জন্ম দিতে গিয়ে তার মা মা**রা যায়। তখন আয়মান ইনান কে কোলেপিঠে করে মানুষ করে। কোনদিন ও বুঝতে দেয়নি মায়ের অভাব। কিন্তু এই সুখ তার বেশি দিন সহ্য হলো না তার কপালে। ইনানের বয়স যখন বারো বছর তখন আয়মান তালুকদার রোড এ*ক্সি*ডে*ন্টে মা*রা যায়। তখন থেকে ইনানের জীবনে নেমে আসে আত্নীয় নামে বি*ষা*ক্ত লোক গুলো সহায়তার বাহানায়। আয়মান তালুকদার ছিলেন বাংলাদেশের একজন টপ বিজনেস ম্যান। টাকা পয়সা ব্যাংক ব্যালেন্স কি নেই। এই টাকার লোভে হাজির হয় ইশিতার বড় ভাই ইউসুফ তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে। কিছুদিন ইনানের খেয়াল রাখলে ও কয়েক মাস যেতেই তাদের আসল রুপ দেখাতে শুরু করে। বারো বছরের ছোট মেয়েটা দিয়ে পুরো বাড়ির কাজ করিয়ে নিতে লাগে রুমি বেগম। তারা হয়ে উঠে বাড়ির মালকিন।ইনান নাবালক হওয়াই সব সম্পত্তির মালিক হয় ইউসুফ। সে তালুকদার অব কোম্পানির কর্নধার হয়ে উঠে। বাড়ির রাজকন্যাকে করে রাখে দাসী। যে একবেলা খাবার পেলে ও দুই বেলা না খেয়ে থাকে। এই হচ্ছে ইনানের করুন জীবন কাহিনি।

ইনান তার জীর্নশীর্ন শরীরটাকে টেনেটুনে নিয়ে চললো বাড়ির সমস্ত কাজ করতে। সে খুব করে পার্থনা করে এই জীবন থেকে কেউ তাকে মুক্ত করুক। সে চায়না সম্পত্তি সে শুধু মু্ক্তি চাই। সে কতবার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে মুক্তির লো*ভে। ওই নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে প্রানখোলা ভাবে শ্বাস নিতে৷ কিন্তু মুক্তি মিলেনি তার আবার ধরে এনেছে এই ন*র*কে। সব সম্পত্তি গুলো লিগ্যাল ভাবে পাওয়ার জন্য।আঠারো বছর হলেই ইনান সব সম্পত্তির লিগ্যাল মালিকে পরিনত হবে। তখন ইউসুফ তার কাছ থেকে সব সম্পত্তি নিজের নামে করে বাড়ির থেকে বের করে দিবে ইনান কে।

******

রুপনগর ক্লাব,,

ক্লাবের সারি সারি চেয়ার টেবিল রুপনগরের মানুষের কোলাহলে পূর্ন। সবাই যে যার মতো করে ম**দ্য*পান করছে ।আড়চোখে রুশভিয়ানের দিকে তাকাচ্ছে কৌতুহল হয়ে। ক্লাবের বাম সাইডে কোনার টেবিলে বসে আছে রুশভিয়ান আর আলী। রুশভিয়ান হাঁক ছেড়ে বলল, " এই সা**লা আমারে একখানা রুপসী দে। একদম টাটকা হয় যেনো নাইলে এই ক্লাবরে আমি সিল কইরা দিমু । আর শুইনা রাখ রুপসী যেন দুই নাম্বার না হয়…. বলেই রুশভিয়ান আয়েশে সোফায় গা এলিয়ে বসে গেল চেয়ারে। জায়গাটা অতিরিক্ত গুমোট হওয়ার কারনে রুশভিয়ানের ফর্সা কপালে লেপ্টে আছে ঘামে ভেজা চুল গুলো। যা মৃদু আলোয় চিকচিক করছে। এক হাত বাড়িয়ে চুল গুলোকে পিছনে ঠেলে দেয় আলীর দিকে তাকিয়ে বিরক্তি আর অস্থির হয়ে আবার বলল," আজকে মনে হইতাছে রোযা রাখন লাগবে হেতিদের লেইগা? কখন থেইকা বইয়া আছি ওই লালঝুটির মোরগের চোখে পড়ে নাই?আমার রুপসী লেইগা আমার ভিতর টা ফাইট্রা যাইতাছে কখন আইনা দিবো তারে?

আলী কন্ঠ টাকে খাদে নামিয়ে বলল," হুজুর আইতাছে একটু বয়েন ?কিয়তক্ষন থেমে বলল," আমি যাইয়া দেইখা আইতাছি " বলেই উঠতে নিলে। রুশভিয়ান গম্ভীর স্বরে বলল, " তোরে আমি যাইতে বইলাছি মা*ঙ্গে*র না*তি? তোরে আমি জিগায় তেছি আমার রুপসী কখন আইবো । আর তুই আমারে উল্টা কাহিনী বলছিস " বলেই রা*গী চোখ নিয়ে আলীর দিকে তাকায়।হুজুরের এমন ভ*য়ং*ক*র চোখ দেখে আলীর প্রা*ন যায় যায় অবস্থা। সে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলতে লাগলো ভ*য়ে।

এরইমধ্যেই একজন রোগা পাতলা ছেলে কয়েটা ম*দে*র বোতল নিয়ে হাজির হলো রুশভিয়ানের সামনে। প্রত্যেকটা বোতলের গায়ে লিখা আছে রুপসী তার পাশে রুশভিয়ানের লুঙ্গি আর শার্ট পরা ছবি। রুশভিয়ান ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল," এই লটু আমার রুপসীরে আনতে বুঝি এক বছর লাইগা যায় তোদের। সে কখন থেইকা বইসা বইসা আমার পিঠে অবশ হইয়া গেল সেই খবর ওই লালঝুটি ম্যানাজারের আছে। তারে বইলা দে আমার লগে পাঙ্গা লইলে হেতিরে রুপনগর থেইকা লাথি মা*ই*রা বাইর করমু। হের কলজেটা ম্যালা বড় হইছে, হের লেইগা সু*দা*নি*র ফু*য়া আমার শহরের বিদেশী মাল উঠাবার চাই। তারে বইলা দে এই রুপনগর ক্লাবে আমার রুপসী ছাড়া কোন মা*ল আইবো না " বলেই একটা ছিপি খুলে মুখে পুরে ঢকঢক করে খেতে লাগলো।

রুপসী হলো ম*দ জাতীয় তরল পানি। এই রুপসী বাইরে থেকে আনা হয়না। এই রুপ নগরে লোক লাগিয়ে তৈরি করা হয়। আর রুপনগরে তৈরি বলে রুশভিয়ান এর নাম রুপসী রাখছে, সাথে নিজের ছবি দিয়েছে লেবেলে । এই ম*দ ছাড়া রুপনগর শহরে আর কোন দামী ব্যান্ডের ম*দ আসে না। আমি আগেই বলেছি আমাদের এমপি দেশপ্রেমিক তাই বাইরের দেশের জিনিস ব্যবহার করতে নারাজ সে।

ছেলেটা রুশভিয়ানের মুখে লটু নাম শুনে বেজায় ক্ষু*ব্ধ হয়। তার মা কত আদর করে নাম রাখছে লাল্টু মিয়া।এই ব*জ্জা*ত এমপি এসেই উল্টো পাল্টা নামে ডাকবে তাকে। এই লটু নাম টা শোনার পর তার গার্লফেন্ড ব্রেকাপ করেছে তার সাথে । লাল্টু মুখটা কাঁচুমাচু করে চলে যায়।

আলি অস্বস্তি গাট হয়ে বসে আছে তার খুব ইচ্ছে করছে একটা রুপসী খেতে কিন্তু ভ*য়ে বেচারা নিতে পারছে না।

এরইমধ্যে রুশভিয়ানের একটা বোতল শেষ। বোতলটাকে মুখ থেকে নামিয়ে কিয়তক্ষন ঝিম ধরে বসে থাকলো। বোঝাই যাচ্ছে এমপি সাহেবের ভালো নেশা ধরছে এক বোতল রুপসী খেয়ে। কিয়তক্ষন পর চোখ খুলে তাকালো আলির দিকে চোখ দুটো অস্বাভাবিক লাল টকটকে হয়ে আছে, মুখে বি*কৃ*ত হাসি। এক আঙ্গুল তুলে বলল," আইচ্ছা আলি সব মাইয়ারা কি খারাপ হয়? কিয়তক্ষন থেমে আবার বলল, " সব্বাই খারাপ , ছ্যাহ্ । কত শখ কইরা দাদা আমারে বিয়া দিলো আর সেই বউ আমার মত ভোলাভালা লোকরে কোর্ট অবধি লইয়া গেলরে আল্লি।বুঝলি এই বিয়া হইলো আমার জীবনের কাল। তাই আইজ থেইক্কা ওয়াদা করলাম বাঁ*ই*চ্চা থাকলে আর বিয়া করমু না! কথাটুকু শেষ করতেই আরেকটা রুপসীতে চুমুক বসালে রুশভিয়ান

আর আলি হ্যাবালার মতো বসে বসে তার হুজুরের কথায় সায় জানাচ্ছে। হুজুরের নেশা যে তুঙ্গে উঠেছে তা বুঝতে বাকি নেই আলির।

রুশভিয়ান আরেকটা বোতল শেষ করে আলগোছ ঠোঁটে লেগে থাকা পানিটুকু মুছে, দুইটা মদের বোতল বগল দাবা করে টলতে টলতে এগিয়ে গেল এক্সিট গেট দিয়ে।এই দুইটা বোতল রাস্তায় গিয়ে শেষ করবে সে। পিছনে পিছনে এগিয়ে গেল আলি। টলতে টলতে এগিয়ে গিয়ে মুখ থুবড়ে পরবে তবু ও কারো সাহায্য নিবে না। এতে নাকি তার নিজেকে পরজীবী মনে হবে। এই যুক্তি গুলোর কথা মনে করে আলি আড়ালে আবডালে কত হাসে। সে ভাবে দেশপ্রেমিক হলে ভালো করে হতে হবে, তাহলে কেন তুই মার্সিডিজ গাড়িতে উঠবি। ওটা কি তোর দাদা তৈরি করেছে। তুই উঠবি গরুর গাড়িতে তখন মনে হবে হ্যাঁ তুই একটা খাসা দেশপ্রেমিক। ওটা তোর রুপনগরের তৈরি। কিন্তু এই কথাগুলো মালিকের সামনে বলতে পারেনা বেচারা। ভ*য়ে সব সময় তটস্থ থাকে।

রাত আনুমানিক নয়টা,, চারদিকে চাঁদের আলোয় আলোকিত হয়ে আছে। এই চাঁদের আলোয় রুপনগর গ্রামের চাষের জমি, মেঠো পথ সব কিছু দৃশ্যমান দেখাচ্ছে। সবাই রুপনগর কে শহর বললে ও এটা কোন শহরের মধ্যে পড়ে না। এটা একটা অজো পাড়ার গ্রাম বইকি কিছু না। এই গ্রামে এখনো বেশ জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছানি । যতদূর চোখ যাবে কাঁচা রাস্তা । ছেলেমেয়ে দের পড়ালেখার জন্য মাইলের পর মাইল পার করে পাঠদান নিতে হয়। এতদূর স্কুল কলেজের কারনে অনেক ছেলেমেয়ে অকালে তাদের পড়ালেখার পাট চুকিয়ে ছেলেরা ক্ষেত খামারে কাজ করছে। আর মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়।

রুশভিয়ান কাঁচা রাস্তা দিয়ে ম*দে*র বোতল নিয়ে টলতে টলতে এগিয়ে যাচ্ছে বিরবির করতে করতে।। একবার করে একটা বোতলে চুমুক বসাচ্ছে।আজকে রুশভিয়ানের শখ হয়েছে হাঁটার। তাই গাড়ি পরিহার করে কাঁচা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মির্জা মহলের দিকে। পিছনে পিছনে আসছে সাতটা মার্সিডিজ কার।সব গাড়ির লাইট অফ শুধুমাত্র একটা গাড়ির হেডলাইট জ্বলছে। যার জন্য রুশভিয়ানের পথ চিন্তে অসুবিধা হচ্ছে না। এই লাইট তার শরীরে পরার জন্য, তার আকৃতির বিশাল ছায়া তেরি হচ্ছে সামনের দিকে। যা দেখতে একদম দৈ*ত্য*দে*র মতো লাগছে।

রুশভিয়ান পায়ের গতি শ্লথ হলো একটা বিশাল বড় বাড়ির সামনে। এটাকে বাড়ি বললে ভুল হবে, এটা হলো প্রসাদ। বড় লোহার গেটে ময়লা যু্ক্ত নেমপ্লেটে বড় বড় করে লেখা আছে মির্জা মহল।পেছন থেকে গাড়ির তীর্যক আলো আসায় রশভিয়ান নিভু নিভু চোখে নেমপ্লেটটা ময়লা দেখে রুশভিয়ানের মুখটা কুচকে গেল বিরক্তকিতে।মির্জাদের শরীরে যেমন ময়লা থাকে না তেমন নাম এই লেখাতে ও না । পরক্ষণেই কি মনে করে হাসি ফুটলো ঠোঁটে ঘাড় ঘুরিয়ে অবশিষ্ট হাতে একটা ম*দে*র বোতলে দিকে তাকায়। বোতল ম*দ নেমপ্লেটের ওপরে হড়হড় করে ঢেলে, এক হাত বাড়িয়ে নেমপ্লেট পরিষ্কার করতে করতে বলল," মির্জাদের শরীরেলে কোন কলঙ্ক থাকে না। আর থাইকবো না। সব ন*ডি*দে*র কাজ থেইক্কা বাইর করমু ? সারাদিন শুধু বইয়া থাকা। এইহানে মির্জারা ধুলোবালিতে গড়াগড়ি করতেছে , কই তাদের এইহান থেইক্কা তুইল্লা টানবো….. কথাগুলো বলতে বলতে রুশভিয়ান নেমপ্লেটটা পরিষ্কার করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ

করলো রশভিয়ান। গাড়ি আর আলি পিছনে প্রবেশ করলো মির্জা মহলে।

মির্জা মহলে লোহার গেট পেরিয়ে কাঠের বিশাল দরজা। দরজা জুড়ে বিভিন্ন ধরনের কারুকার্য তৈরি করা আছে। প্রতিটি কারুকার্য কি নিঁখুত আর সুন্দর। দরজার দুইপাশে দুটো লাইট মিটমিট করে জ্বলে উঠছে। রুশভিয়ান দরজায় এক লাথি মে*রে প্রবেশ করলো মির্জার মহলের অন্দর মহলে। প্রবেশ করতে দেখা মিললো এক টুকরো অর্পাথিব জান্নাত।অন্দরমহলে মধ্যে সোনালি রঙের টাইলস বসিয়ে

রাখা আছে। পুরো অন্দর মহলটা সোনার মতো চিকচিক করছ।মাথার উপরে আছে বিশাল ঝাড়বাতি। যার আলোয় প্রসাদটা আরো সুন্দর লাগছে। উপর দিয়ে চলে গেছে একটা সিঁড়ি।

ড্রয়িং রুমে রাখা আছে বিশাল বড় বড় সোফা। রুশভিয়ান কোনদিকে না তাকিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো।

এইডা কোন মা*তা*লে*র বাড়ি না? হের লেইগা প্রতিদিন মদ খাইয়া বাড়িতে প্রবেশ করবা?…. কথাটা বলল রুশভিয়ানের মা তারা বেগম। পরনে আটপৌরে শাড়ি। গা ভর্তি গহনা। নাকে নথ।

রুশভিয়ানের একদম স্থির হয়ে গেল। পিছনে ঘুরলো না সে। একভাবে সামনে তাকিয়ে রইলো। যে মানুষটা একটু আগে টলতে টলতে বাড়িতে প্রবেশ করলো। সে মানুষটা সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তারা বেগম তার প্রশ্নের উওর না পেয়ে আবার বলল," এই বাড়িতে কেডা তোমারে ডেকেছে। কিয়তক্ষন থেমে আবার বলল, " এই অন্দর তোমার লেইগা নিষিদ্ধ, কথাটা কানে ঢুকাইয়া লও। ভুল করে ও এই পথ আইবা না…. বলেই তারা বেগম চলে গেল ভেতরে।

প্রতিটা শব্দ রুশভিয়ানের বুকে শলাকার মতো বিঁধলে।চোখ দুটো জ্বলে উঠলো আচানাক। সে দাঁড়াতে পারলো না সিঁড়িতে। উল্টো ঘুড়ে আসতে নিলেই কেউ তার হাতটাকে শক্ত করে আকড়ে ধরলো। রুশভিয়ান ঘাড় না ঘুরিয়ে বলল," ছাইড়া দাও দাদা আমি আইবো না এই মির্জা মহলে?

রুশভিয়ানের দাদা আইয়ুব মির্জা একগাল হেঁসে উঠলো। বয়স সত্তরের কোঠায়। শরীরের চামড়া ঝুলে গিয়েছে। তবুও তার দাপট কমেনি। একনামে সবাই তাকে চিনে। চোখে কালো চশমা, হাতে লাঠি। পরনে লুঙ্গি আর ফতুয়া। বলল,"মায়ের উপর অভিমান হইতাছে বুঝি। তুইতো জানোস তারা মদ খাইতে দেখতে পারে না। তবুও তুই ক্যান বৌমার সামনে মদ খাইয়া আসিস ।

রুশভিয়ান অসহায় কন্ঠে বলল," যে মা আমারে সন্তান মানে তার লগে অভিমান মানায় দাদা!উঁহু মানায় না দাদা…....

#চলবে…...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন