ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাতেই আসক্ত

৯২তম পর্ব

লেখক: তানিশা সুলতানা

"বড় ভাগ্য করে পেয়েছিলাম আপনাকে। যতটা দুঃখ দিয়েছিলেন তার থেকেও দ্বীগুণ বেশি সুখ দিয়েছেন। দুঃখ কাকে বলে আর বুঝতেই দিলেন না।

আবরার অফিসে যাবে বলে রেডি হচ্ছে। ট্রাই বাঁধতে বাঁধতে আদ্রিতার মুখ পানে এক পলক তাকায়। আগের চেয়ে বেশ মোটা হয়েছে। গাল দুটো টমেটোর মতো গোল হয়ে গেছে। ঢোলাঢালা ম্যাক্সি পড়ে থাকে সারাক্ষণ। গলা কুচকুচে কালো হয়ে গিয়েছে। আবরার৷ ডাক্তার দেখিয়েছে এটার জন্য। তবে তো ফল পাওয়া যায় নি। আতিয়া বেগম এর মতে মেয়ে বাবু হলে মায়েদের গলা কালো হয়।

আদ্রিতা এখন একটুতেই হাঁপিয়ে ওঠে। হাঁটাচলা করতেই পারে না। বেচারি টিশা প্রচন্ড কষ্ট করে। সাম্বার দেখাশোনা পাশাপাশি আদ্রিতার কখন কি লাগবে সবটাই নজরে রাখে।

" আবরার কথা বলছেন না কেনো?

আবরার আদ্রিতার সামনে এসে হাঁটু মুরে বসে পড়ে। উঁচু উদরে ওষ্ঠ ছুঁয়িয়ে বলে

"আসছি আমি।।

সাবধানে থাকবে।

আদ্রিতা কপাল কুঁচকে বলে

" যেতেই হবে কেনে?

"ইমপটেন্ট মিটিং আছে। দ্রুত চলে আসবো।

তারপর ওর কপালে ওষ্ঠ ছুঁয়িয়ে আবরার চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।

" বাবা মা/রা গেছে আমায় কেনো বলেন নি?

পা থেমে যায় আবরারের। পেছন ঘুরে তাকায় আদ্রিতার মুখ পানে।

"কি ভেবেছিলেন? আমি দুঃখ পাবো?

" থাকো পাখি। এসে সব কথা শুনবো।

চলে যায় আবরার। আদ্রিতা মুখ বাঁকায়। লাটসাহেব একটা।

তবে হ্যাঁ মানতেই হবে লোকটা অন্য রকম। এই যে প্রেগন্যান্সির পর থেকে আদ্রিতার শরীর ভালো থাকে না। মাঝ রাতে খিধে পায়। হাত পা ব্যাথা করে। বমি পায়।

মানুষটা বড্ড ধৈর্য নিয়ে সবটা সহ্য করে নেয়। সাম্বা এখন হামাগুড়ি দেওয়া শিখেছে। হুরহুর করে এখান থেকে ওখানে চলে যায়। আহিল কথা বলতে পারে। আহাদ এবং ইভান ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। আদ্রিতার ডেলিভারির পরে ধুমধাম অনুষ্ঠান করে তাদের বাড়িতে তোলা হবে।

তবে সিয়াম এখনো বদলায় নি।

এই যে এই মুহুর্তে ড্রয়িং রুম থেকে সিয়াম এর কবিতার সুর ভেসে আসছে।

আদ্রিতা হেসে সেদিকে এগিয়ে যায়।

টিশা এবং ইশারা সাম্বাকে খাওয়াচ্ছে। সিয়াম সোফায় পা তুলে বসে বলছে

"ছেলে আমার হইছে বড়

ওহে টিশা ইশারা তোমরা সরো

দুইদিন পরে করাবো বিয়ে

বাড়িতে আনবো একটা ময়না টিয়া

দুজন মিলে বাঁধবে সুখের ঘর

তোমরা তখন হয়ে যাবা পর।

আদ্রিতা বলে ওঠে

" ভাইয়া ছেলেকে অন্য জায়গায় বিয়ে করানোর কথা চিন্তাও করবেন না। সাম্বা আমার মেয়ের জামাই হবে।

সিয়াম মুখ বাঁকিয়ে বলে

"মা তুমি আমার।

তোমার বর মা ডাকতে বলেছিলো সেসব ভুলি নি। মায়ের মেয়ে আমার বোন হয়।

" আমি জীবনেও আপনাকে ছেলের নজরে দেখি নি। আপনি আমার ভাই ছিলেন।

"তোমার পাগলা ঘোড়াকে বলবা আমাকে দিয়ে মা ডাকানোর জন্য যেনো স্যরি বলে তারপরই বিয়ের কথা এগোবো

আদ্রিতা সঙ্গে সঙ্গে কল করে আবরারের নাম্বারে। সঙ্গে সঙ্গে কল রিসিভ হয়।

" কি হয়েছে পাখি? ঠিক আছো তুমি?

আবরার বড়ই চিন্তিত স্বরে শুধায়।

"আমি ঠিক নেই। সিয়াম ভাই বলছে আপনি স্যরি না বললে ছেলে বিয়ে দিবে না। আপনি দ্রুত স্যরি বলুন।

আবরার ফোঁস করে শ্বাস টানে। তারপর বলে

" কল লাউড এ দাও।

আদ্রিতা দেয়। সিয়াম কান খাড়া করে স্যরি শোনার জন্য। পাশ থেকে আমান বলে ওঠে

"সিয়াম তোর কানের নিচে তিনটে থা*প্প*ড় দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দিবো। শালা চরিত্রহীন। আমার বোনকে দেখে ক্রাশ খেয়েছিলি তা তো আবরার মা ডাকিয়েছিলাম।

সালা চোখের তো মা বোন নেই। মেয়ে দেখলেই নয়না ছলাৎ ছলাৎ করতো।

ইশারা কঠিন দৃষ্টিতে তাকায় সিয়ামের মুখ পানে। বেচারা শুকনো ঢোক গিয়ে আদ্রিতার হাত থেকে ফোন নিয়ে কল কেটে দেয়। টিশা আর আদ্রিতা মুখ চেপে হাসতে থাকে। ছোট্ট সাম্বাও বাবার মুখ পানে তাকিয়ে আছে। যেনো বলছে " সত্যিই তুমি ছলাৎ ছলাৎ করো না কি?"

ইশারা বলে ওঠে

"এই খারাপ বেডার সংসার আমি করবোই না। চলে যাবো বাবার বাড়ি।

সিয়াম কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে

" আমানের পাখির কসম তোমাকে দেখার পর আর কোনো মেয়ের দিকে তাকাই নি।

সেসবে রাগ কমলো না ইশারার। সে চলে যায় তার কক্ষে। দরজ বন্ধ করতেও ভোলে না।

_____

রাত বারোটা বেজে আট মিনিট। সকলেই ঘুমিয়ে পড়েছে। আবরার কিচেনে কেক বানাতে ব্যস্ত। কারণ এখন আদ্রিতার কেক খেতে মন চাচ্ছে। কিছু মুহুর্ত আগেই সে বাসায় এসেছে। জামাকাপড় পাল্টানোর আগেই আদ্রিতা বলে উঠলো "কেক খাইতে মন চায়"

ব্যাস এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে তখুনি কেক বানানোর কাজে লেগে পঠেছে সে।

অবশ্য তাকে সাহায্য করছে আদ্রিতা। পাশে দাঁড়িয়ে এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছে।

আবরার বার বার বলছে "তুমি বসো গিয়ে"

কিন্তু সেসব শোনার মতো মেয়ে সে নয়।

সে এখানেই থাকবে।।

ওভেনে কেক দেওয়ার পরে আদ্রিতা বলে

"একবার ভালোবাসি বলুন তো ফট করে। কতোদিন হলো শব্দটা শুনি না।

আবরার সত্যিই সঙ্গে সঙ্গে বলে

" ভালোবাসি পাখি। অনেক ভালোবাসি।

আদ্রিতা হাসে। দুই হাত বাড়িয়ে বলে

"ঠিক আছে

তাহলে এখন আমাকে কোলে তুলে রুমে দিয়ে আসুন।

আবরার কোলে তুলে নেয়। তখনই চিৎকার করে ওঠে আদ্রিতা।

চলবে

(সকালে বাকিটুকু দিয়ে দিবোনি)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন