#দহনচক্র
#ইশরাত_জাহান_জেরিন
#পর্ব_৮
অরণ্যা দুচোখের পাতা মেলে তাকাতেই আভিজাত্য তার দৃষ্টিকে গ্রাস করল। চোখ খুলতেই তার দৃষ্টি থমকে গেল মাথার ওপর। বিশাল উঁচু ছাদ, সাদা প্লাস্টারের ওপর সূক্ষ্ম খোদাই ফুল, লতা, আর জ্যামিতিক নকশা। ঠিক মাঝখানে ঝুলে আছে এক বিরাট ঝাড়বাতি। ক্রিস্টালের স্তরগুলোতে সকালের আলো ভেঙে পড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে চারদিকে। সে ধীরে উঠে বসল। শরীরটা এখনও ভারী লাগছে, কিন্তু তার থেকেও বেশি ভারী এই ঘরের উপস্থিতি। অরণ্যা বিছানার দিকে তাকাল। বিছানাটা বিশাল, চারপাশে খোদাই করা মোটা কাঠের খুঁটি, তার গায়ে পুরোনো দিনের সূক্ষ্ম নকশা। খুঁটির ওপর ঝুলছে হালকা মসলিনের পর্দা। অরণ্যা পা নামাল মেঝেতে। ঠান্ডা মার্বেলের স্পর্শে তার শরীর কেঁপে উঠল। মেঝেটা সাদা-কালো পাথরের চেকার্ড প্যাটার্নে বাঁধানো, মাঝখানে গাঢ় লাল রঙের পার্সিয়ান কার্পেট বিছানো। তার ওপর সূক্ষ্ম সোনালি নকশা করা। তার শরীর এখনো দূর্বল লাগছে। কোথায় সে? কাল রাতে কি এমন হয়েছিল? সে দেয়ালগুলোর দিকে তাকাল। দেয়ালগুলো ভারী কাঠের প্যানেলে ঢাকা। কোথাও কোথাও ঝোলানো পুরোনো অয়েল পেইন্টিং। একটা দেয়ালের পাশে রাখা বিশাল সেগুন কাঠের আলমারি। তার দরজায় খোদাই করা বাঘের মুখ। জানালাগুলো উঁচু আর লম্বা, মেঝে থেকে প্রায় ছাদ ছুঁয়ে গেছে। গাঢ় মেরুন ভেলভেটের ভারী পর্দা দেওয়া তাতে, তার ওপর সোনালি বর্ডার। পর্দার ফাঁক গলে আসা আলো ধুলো কণাগুলোকে দৃশ্যমান করে তুলেছে। জানালার ধারে একটা লম্বা, খোদাই করা কাঠের সিট। সেখানে বসলে হয়তো বাইরের দুনিয়া দেখা যায়। অরণ্যা আরো ভালো করে পর্যবেক্ষণ করল। ঘরের এক কোণে রাখা প্রাচীন ধাঁচের ড্রেসিং টেবিল। বড় আয়না, তার চারপাশে খোদাই করা লতা-পাতার নকশা। তার ঠোঁট শুকিয়ে আসছে, গলা ভারী হয়ে আসছে। খুব আস্তে ফিসফিস করে উঠল সে, “আমি… কোথায়?” প্রশ্নটা বাতাসেই ঝুলে রইল, কোনো উত্তর এলো না সঙ্গে সঙ্গে। ঠিক তখনই দরজার পাশে মৃদু শব্দে তার দৃষ্টি ঘুরে গেল। আধখোলা দরজাটা আরও একটু সরে গিয়ে ভেতরে ঢুকল এক মধ্যবয়স্ক নারী। তার পেছনে আরেকজন তরুণী, হাতে ট্রে। নারীটি মাথা সামান্য ঝুঁকিয়ে বলল, “ঘুম ভাঙছে, ম্যাডাম?” ‘ম্যাডাম’ শব্দটা অরণ্যার কানে অস্বস্তিকরভাবে ঠেকল। সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ধীরে বলল, “আমি কোথায়?”
নারীটি খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর দিল, “আপনি সাহেবের বাড়িতে আছেন।”
“সাহেব?” অরণ্যার কণ্ঠে বিরক্তির রেখা স্পষ্ট হলো।
“জি… তনয় সাহেব।” নামটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতর দিয়ে ঠান্ডা একটা স্রোত বয়ে গেল। গত রাতের সবকিছু, মসজিদের ভিড়, তানিশার মৃত্যু, জোর করে বিয়ে, আর সেই গাড়ির ভেতরের কথোপকথন একসাথে ফিরে এলো। তার আঙুলগুলো অজান্তেই মুঠো হয়ে উঠল। “আমাকে এখানে কে এনেছে?” প্রশ্নটা এবার স্পষ্ট। নারীটি একটুও বিচলিত হলো না। “সাহেব।"
অরণ্যার চোখ তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। “আমি তো বলিনি আমাকে এখানে আনতে।”
মহিলা দু'জন ভয়ে জলদি রুম থেকে চলে গেল। অরণ্যাকে বাইরে থেকে আবারও লক করে। এবার অরণ্যা নিজেকে এখানে আরও বেশি বেমানান, আরও বেশি অপ্রাসঙ্গিক মনে করতে লাগল। তার বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠল। শ্বাসটা ঠিক মতো নিতে পারছে না। মনে হচ্ছে দেয়ালগুলো একটু একটু করে এগিয়ে আসছে তার দিকে। সে জলদি খালি পায়ে দ্রুত এগিয়ে গেল দরজার দিকে। ভারী কাঠের হাতলটা চেপে ধরল। একবার, দু’বার, তারপর জোরে ঘুরাল।
সত্যিই দরজাখানা বন্ধ। অরণ্যার আঙুল শক্ত হয়ে উঠল। সে এবার দরজায় ধাক্কা দিল। “দরজা খুলুন!”
সে এবার মুঠো পাকিয়ে দরজায় আঘাত করতে লাগল। প্রতিটা আঘাতে তার ভেতরের রাগ, অপমান, অসহায়তা বেরিয়ে আসছে। “শুনতে পাচ্ছেন না? আমি এখানে থাকব না!” অরণ্যা হাঁপিয়ে উঠছে। চুল এলোমেলো হয়ে মুখে লেগে গেছে। “এইটা কোনো বাড়ি না, এটা কারাগার!”
ঠিক তখনই বাইরে থেকে আসা পায়ের শব্দ শুনতে পেল সে। একটা তালমাফিক এগিয়ে আসা পায়ের গতি।
অরণ্যার হাত থেমে গেল দরজার ওপরেই। তালার শব্দ হলো। তারপর আস্তে করে দরজাটা খুলে গেল।
দরজা খুলে যাওয়া মাত্রই অরণ্যা দেখতে পেল বাইরে তনয় দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে কোনো বিরক্তির ছাপ নেই। চোখে সেই একই স্থির, গভীর দৃষ্টি।
অরণ্যা এক সেকেন্ডও নষ্ট করল না। “এইসব কী? আমাকে আটকে রেখেছেন কেন?”
তনয় ভেতরে ঢুকল না। দরজার ফ্রেমে দাঁড়িয়ে রইল।
“শেষ?”
অরণ্যা থমকাল না। “না, শেষ হয়নি! আমি এখান থেকে বের হব। এখনই।” তনয় মাথা সামান্য কাত করল।
“কোথায় যাবে?”
“ওটা আমার ব্যাপার,” অরণ্যা ঠান্ডা গলায় বলল।
“তাই?”
তনয় এবার এক পা ভেতরে এলো। “গতকালও তো তোমার ‘ব্যাপার’ ছিল।”
অরণ্যার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। “ওটা টানবেন না।”
“কেন? অস্বস্তি হয়? খুব? খুব বেশি?"
অরণ্যা এবার এক পা এগিয়ে এলো। চোখে স্পষ্ট রাগ।
“আপনি সীমা ছাড়াচ্ছেন।”
তনয় থামল না। সে এখন এমন দূরত্বে দাঁড়িয়ে বলল,
“সীমা…” সে ধীরে বলল, “তুমি কখনো রেখেছিলে?”
অরণ্যা হঠাৎ হাত তুলে চুলগুলো সরাল। তারপর দাঁত চেপে বলল, “আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি।” সে পাশ কাটিয়ে দরজার দিকে এগোল। তনয় নড়ল না।
কিন্তু তবুও সে যেতে পারল না। অরণ্যা থেমে গেল। খুব সামান্য দূরত্ব। তবুও সেই দূরত্বটাই অতিক্রম করা গেল না। ধীরে বলল, “সরে দাঁড়ান।”
তনয় তাকিয়ে রইল।
“না সরলে?”
অরণ্যার শ্বাস কেঁপে উঠল। চোখে জল জমছে রাগে, অপমানে। কিন্তু সে সেটা পড়তে দিল না। “আপনি জোর করছেন।”
“না,” তনয় মাথা নাড়ল, “আমি থামাচ্ছি।”
“একই কথা।”
“না। একটা আবেগ… আরেকটা নিয়ন্ত্রণ।”
অরণ্যা আর সহ্য করতে পারল না। হঠাৎ হাত বাড়িয়ে তাকে সরাতে গেল। তনয় তার কব্জিটা ধরল।
সময়ের মতো থেমে গেল মুহূর্তটা। দুজনের চোখ একসাথে আটকে গেল।
“ছাড়ুন,” অরণ্যা ফিসফিস করে বলল।
তনয় ছেড়ে দিল। “তুমি কি ভাবো? চাইলেই সুতা ছিঁড়ে বের হওয়া যায়? এটা নাটক না মিসেস জেইদী।
অরণ্যা তাকিয়ে রইল।
“বাস্তবে…”
সে এক সেকেন্ড থামল, “সব দরজা খোলা থাকে না।”
অরণ্যা কিছু বলল না এবার।
শুধু তাকিয়ে রইল। চোখে জমাট বাঁধা একরাশ জেদ।
তনয় ঘুরে দাঁড়াল। দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“চিৎকার করে কিছু বদলাবে না।” দরজার কাছে গিয়ে থামল। “নিজেকে সামলাও।”
দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎই তার বুকের ভেতর জমে থাকা প্রশ্নটা ফেটে বেরোল অরণ্যার। “এমন তো কথা ছিল না…”
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তনয় থামল। পুরোপুরি ঘুরে তাকাল না, শুধু মুখের অর্ধেকটা আলোয় এলো।
অরণ্যা এবার সামনে এগিয়ে এলো, “বিয়ে তো… জাস্ট একটা ফর্মালিটি ছিল। ওই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য। আপনি নিজেও জানতেন! তাহলে এখন এইসব কী? আমাকে এখানে আটকে রাখার মানে কী?”
তনয় এবার ধীরে ঘুরে দাঁড়াল। “তুমি ফর্মালিটি ভেবেছ,” সে শান্ত স্বরে বলল, “আমি এখন ফলাফল ভাবছি।"
অরণ্যা থমকে গেল। “মানে?”
“মানে,” তনয় ধীরে বলল, “যেটা করা হয়েছে… সেটা তো হয়েই গেছে। এখন সেটা মুছার আগে… বুঝতে হবে এর পরিণতি কী।”
“আমি কিছু বুঝতে চাই না!” অরণ্যার গলা হঠাৎ উঁচু হয়ে গেল, “আমি আমার বাসায় যাব। এখনই।” তার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠছে। চোখের পানি এবার আটকে রাখা যাচ্ছে না। “আমাকে ফোন দিতে হবে… আমি.....” কথাটা আটকে গেল। গলার স্বর হঠাৎ ভেঙে পড়ল।
“আমার বোন…তানিশা… সে মারা গেছে…” শেষ কথাটা বলতে গিয়েই তার গলা রুদ্ধ হয়ে গেল।
অরণ্যা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
“আমি বাসায় যাব!” সে প্রায় চিৎকার করল, “আমি ওকে শেষবার দেখতে চাই! আপনি বুঝতে পারছেন না?”
সে তনয়ের দিকে এগিয়ে এলো, “আমাকে একটা ফোন দিন… প্লিজ… আমি শুধু একটা কল করব…”
তনয় তাকিয়ে রইল।
চোখে কোনো স্পষ্ট আবেগ নেই।
“শেষবার দেখতে চাও? শেষবার কেন? এরপর কি তোমার মৃত্যু আসবে নাকি?"
অরণ্যা মাথা নাড়ল দ্রুত। “হ্যাঁ… আমি যাব… আমাকে যেতে হবে…” অরন্যা পরের কথাটাকে গুনায় ধরল না।
তনয় খুব ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ল। তারপর বলল, “যখন সে বেঁচে ছিল… তখন তুমি কোথায় ছিলে?"
"আমি....আমি ফরিদপুর খালার বাড়ি...."
" পার্মানেন্ট ছুটি এনজয় করতে গিয়েছিলে?"
"আপনি নিষ্ঠুর।!”
“নিষ্ঠুরতা বাস্তবেরই অংশ।”
“চুপ করুন!” অরণ্যা কান চেপে ধরল এক মুহূর্তের জন্য। তারপর আবার তাকাল, “আমি যাব। আপনি আমাকে আটকাতে পারেন না।” তনয় এবার একটু এগিয়ে এলো।
“আমি পারি।" তনয় একবার অরণ্যাকে ওপর-নিচে পরখ করে বলল, "আমি চাইলে সবই করতে পারি। নমুনা দেখতে চাও?"
অরণ্যার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। “আপনি মানুষ না…” সে ফিসফিস করে বলল, “আপনি একটা.....”
শব্দটা শেষ করল না।
তনয় থামালও না। শুধু বলল, “এই অবস্থায় তুমি কোথাও যাবে না।”
“কেন?”
“কারণ তুমি এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।”
অরণ্যা হেসে ফেলল।
“ওটা আপনি ঠিক করবেন?”
“হ্যাঁ।”
অরণ্যা আবার চুপ করল। কয়েক সেকেন্ড পর নিচু স্বরে বলল, “আমি ওকে শেষবার দেখতে চাই…” এইবার কথাটা অনুনয়ের মতো শোনাল। কিন্তু তনয়ের কণ্ঠ বদলাল না। “সব ইচ্ছা পূরণ হয় না।”
অরণ্যার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল এবার।
সে ধীরে পেছাতে লাগল, "আপনার সমস্যা কি? আমাকে বলুন? আমাকে কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছেন? এটা কোথায়? কেন আঁটকে রেখেছেন? আমি তো আপনার ক্ষতি করিনি।"
তনয় নিঃশ্বাস ছাড়ল। "দেখো বিয়ে যেই কারনেই হোক না কেন, অবৈধ ভাবে তো হয়নি। আমি এখন তোমার স্বামী। স্বামী শব্দের মানে বুঝো? বুঝবে কেমন করে?খালি তো বিয়ে ভেঙেছে। তোমার সাত কপালের ভাগ্য নামের পেছনে আমার পদবী যুক্ত হয়েছে। আর তোমাকে এত সহজে ছাড়ি কি করে বলোতো? তোমার জন্য এতগুলো লোক আমায় কটু কথা বলল, একজন বিজনেস আইকোনকে হ্যারেসমেন্ট করল, তুমি তোমার বোনের মৃত্যুর অভিযোগ আমার ওপর আনলে, সঙ্গে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার। কেবল কি তাই? অফিসে প্রেম নিষিদ্ধ করার পরও নিয়ম ভেঙে প্রেম করেছ, তোমার প্রেমিকের আবার আমার পিএ সুরভীর সাথে প্রেম ছিল, অবৈধ সম্পর্ক। এসবের কারনে সুরভীকে বের করতে হলো, প্রবাহকে লোয়ার ডিপার্টমেন্টে শিফট করতে হলো। তুমিও চলে গেলে। সব দিক থেকে লস তো কোম্পানির। আর কোম্পানির লস মানে তনয় জেইদীর লস। আর লস প্রোজেক্ট তনয় জেইদী হ্যান্ডেল করেনা।"
"আপনার লস হয়েছে তাতে আমার কি দোষ?"
"বাহ্ রে! তুমি প্রেম করেছ মানলাম যাও। কিন্তু কেমন প্রেম করেছো যে প্রেমিকের দিকে নজর রাখতে পারোনি? নজরটা রাখলে অবৈধ প্রেমও প্রবাহ করতে পারত না। আর এত ঝামেলাও হতো না।"
"আপনি থামুন। আমি এখান থেকে বের হতে চাই। আর এটা কোথায়?"
"ফরিদপুর জমিদার বাড়ি। জেইদীদরে পারিবারিক বাসস্থান। আর কিছু?"
"আপনি ফরিদপুরের?"
"কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই। আর শুনো এসেছো আমার ইচ্ছায়, যাবেও আমার ইচ্ছেতেই। এত সহজ মুক্তি মেলা? এটা সকলের জন্য জান্নাত হলেও তোমার জন্য হবে জাহান্নাম। আগুনের সাথে খেলার পরিনতি বড্ড ভয়ানক। আমি ডিভোর্স দিবা না। আর না তুমি এই বাড়ির চৌকাঠ পার হতে পারবে। অপমান, রেপুটেশন নষ্ট করা সবার সামনে, এতকিছুর মাশুল এবার চুকাও। এটা তবে শুরু। তুমি ক্যামেলিয়ন চিনো? আমার না ক্যামেলিয়ন খুব পছন্দ।" বলেই সে বাঁকা হাসল। হঠাৎ দরজায় কড়া নড়ল।তনয়ের চোখ একবার দরজার সেদিকে গেল। “আসো,” খুব স্বাভাবিক স্বরে বলল সে। দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকল সেই মধ্যবয়স্ক কাজের মহিলা। হাতে ট্রে। রুপোলি ঢাকনা দেয়া থালা, পাশে পানির গ্লাস। সে মাথা নিচু করে ভেতরে এলো, পরিবেশটা বুঝে নিয়ে যেন আরো সংযত হয়ে গেল। “সাহেব…” সে নিচু স্বরে বলল, “খাবারটা দিছি…” একটু ইতস্তত করে অরণ্যার দিকে তাকাল, তারপর আবার বলল, “আমি ম্যাডামরে খাওয়াইয়া দিমুনি?” তনয় খুব ধীরে মাথা তুলল। তারপর ঠোঁটে সামান্য, প্রায় অদৃশ্য একটা বাঁকের দেখা মিলল।
“আমার বউকে আমি নিজ হাতে খাওয়াবো।”
“আমার বউ।” বলা শব্দটা শুনে অরণ্যার শরীর মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেল। মহিলাটা এক সেকেন্ড থমকাল, তারপর দ্রুত মাথা নাড়িয়ে বলল, “আচ্ছা সাহেব…” সে ট্রেটা টেবিলের ওপর রেখে নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল। দরজাটা
তনয় ধীরে টেবিলের দিকে এগোল। ঢাকনাটা সরাল। গরম ভাতের ভাপ উঠল, সাথে মশলার গন্ধ। যা এই মুহূর্তে অরণ্যার কাছে একদমই অর্থহীন। সে প্লেটটা হাতে তুলে নিল। তারপর ঘুরে অরণ্যার দিকে এগিয়ে এলো। “এসো। কিছু খেয়ে নাও।”
অরণ্যা এক পা পিছিয়ে গেল। চোখে তীব্র বিরক্তি।
“ড্রামা বন্ধ করুন,” সে ঠান্ডা গলায় বলল।
তনয় থামল না। “খালি পেটে মাথা কাজ করে না,” সে খুব স্বাভাবিকভাবে বলল, “তুমি এমনিতেই দুর্বল আছো।”
“আমি আপনার দেওয়া কিছুই খাব না।”
তনয় প্লেটটা হাতে নিয়েই দাঁড়িয়ে রইল। তার দৃষ্টিতে কোনো বিরক্তি নেই। “জেদ করে নিজেরই ক্ষতি করছ,” সে বলল।
অরণ্যা হেসে উঠল। তিক্ত হাসি মুখে। “আমার ক্ষতি নিয়ে আপনার এত চিন্তা কেন?”
“চিন্তা না,” তনয় বলল, “প্রয়োজন।”
অরণ্যার চোখ জ্বলে উঠল। “ওই একই কথা আর বলবেন না!” তনয় এবার একেবারে সামনে এসে দাঁড়াল। সে চামচে একটু ভাত তুলে ধরল।
“মুখ খোলো।” অরণ্যা তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড।
তারপর ধীরে বলল, “আপনি ভাবছেন, আমি আপনার এই নাটকে অংশ নেব? দেখুন আগেই জানতাম আপনি জঘন্য কিন্তু এত বেশি? আমার তো মনে হচ্ছে ওই বিয়েটাও আপনার একটা ফাঁদ। ওইদিন অফিসে আপনাকে আমি অরণ্যা দেওয়ান রিজেক্ট করেছিলাম বলে প্রতিশোধ নিলেন তাই না?"
তনয় তাকিয়ে রইল। কোনো জবাব না দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর এগিয়ে এসে বলল, "প্রতিশোধের কি বুঝো তুমি? তনয় প্রতিশোধ নিলে এখনও মুখ দিয়ে এত শব্দ বের হওয়ার সামর্থ্য থাকত না। আর তোমার মতো সস্তা নারীকে বিয়ের জন্য তনয়ের কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই।"
তনয় আর কিছু বলল না। চামচটা একইভাবে সামনে ধরে রাখল। অরণ্যার ভেতরের জমে থাকা ক্ষোভ এবার ফেটে পড়ল। “বউ?” সে প্রায় থুতু ছিটিয়ে বলল, “এই শব্দটা আপনার মুখে মানায়?” তনয়ের চোখ এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। অরণ্যা থামল না।
“একটা মেয়ে জোর করে বিয়ে করে, তারপর তাকে আটকে রেখে এখন তাকে খাওয়ানোর নাটক করছেন? আপনি অসুস্থ!”
তনয় এখনও চুপ। শুধু তাকিয়ে আছে।
অরণ্যা হঠাৎ হাত বাড়িয়ে চামচটা সরিয়ে দিল।
না। শুধু সরাল না। পুরো প্লেটটাই তার হাত থেকে ঠেলে ফেলে দিল। ঝনঝন শব্দে থালা মেঝেতে পড়ে ভেঙে গেল। ভাত ছড়িয়ে পড়ল সাদা মার্বেলের ওপর।
মুহূর্তটা থেমে গেল। তনয় ধীরে নিচের দিকে তাকাল। মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা খাবার। তারপর আবার মাথা তুলল। এইবার, তার চোখে সেই পরিচিত স্থিরতা নেই।
কিছু একটা বদলে গেছে। খুব সূক্ষ্মভাবে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
“খাবার নষ্ট করা…” সে খুব ধীরে বলল, “খুব খারাপ অভ্যাস। দু'টো মুঠো অন্নের জন্য মানুষ পবিত্র হতে পাপিষ্ঠ হয়ে ওঠে জানো?" অরণ্যা তাকিয়ে রইল। চোখে কোনো অনুতাপ নেই। শুধু জেদ। তনয় আর কিছু বলল না কয়েক সেকেন্ড। তারপর এক পা এগিয়ে এলো।
“ঠিক আছে,” সে বলল, “যেহেতু তুমি খেতে চাও না…”
সে থামল। চোখ সরাসরি অরণ্যার চোখে। "তাহলে না খেয়েই থাকো।”
অরণ্যা দাঁড়িয়ে থাকা তনয়কে বলল, “আপনি মানুষকে সম্মান করতে জানেন না, ভালোবাসা তো দূরের কথা। সত্যি বলতে কী জানেন আপনার দিকে তাকালে মনে হয়, আপনাকে কেউ কোনোদিন মানুষ করে বড়ই করেনি।” তনয় স্থির দাঁড়িয়ে রইল। কিন্তু তার মুখের পেশিগুলো শক্ত হয়ে উঠল। অরণ্যা থামল না।
“আসলেই কি আপনার বাবা-মা আছে?” সে বিষ মেশানো স্বরে বলল। “নাকি ছিলই না? থাকলে অন্তত কিছু শিক্ষা দিত। আচরণ শেখাত। একটা মেয়েকে কীভাবে সম্মান করতে হয়, সেটা শেখাত।”
কথাগুলো শেষ হতেই নিস্তব্ধতা নেমে এলো।
তনয় খুব ধীরে মাথা কাত করল।
“আরেকবার বলো।”
অরণ্যা পিছু হটল না। “শুনতেই তো পেয়েছেন,” সে বলল। “যার পরিবার থাকে, সে এমন জানোয়ার হয় না।” পরের মুহূর্তেই তনয় ঝড়ের মতো এগিয়ে এলো।
অরণ্যা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরা হলো। মাথাটা পেছনে টেনে উঠিয়ে দিল তনয়। যন্ত্রণায় অরণ্যার মুখ দিয়ে চাপা শব্দ বেরিয়ে এলো।
“ছাড়ুন!” সে হাত ছুঁড়ল। “ছাড়ুন বলছি!”
তনয়ের মুখ এবার একেবারে সামনে। চোখে জমাট অন্ধকার। “আমার সম্পর্কে যা খুশি বলবে,” সে দাঁত চেপে বলল, “কিন্তু বাবা-মা নিয়ে একটা টু শব্দও নয়। জানে মেরে ফেলব। মাথা কেটে বুড়িগঙ্গায় ভাসাবো।" অরণ্যার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। তবু সে চোখ নামাল না। তনয় এক হাতে তাকে ধরে রেখেই পকেট থেকে সিগারেট বের করল। অন্য হাতে লাইটার জ্বালাল। ছোট্ট আগুনের আলো এক মুহূর্তের জন্য তার মুখে পড়তেই তাকে আরো কঠিন দেখাল। সে গভীর একটা টান নিল। ঘরে ধোঁয়া ছড়িয়ে গেল। অরণ্যা এবার সত্যিই অস্বস্তি টের পেল। “আপনি কী করছেন?”
তনয় কোনো উত্তর দিল না। ধীরে ধীরে তার কব্জিটা টেনে সামনে আনল। অরণ্যা ছটফট করে উঠল।
“না.....” জ্বলন্ত আগুনের ছোঁয়া ত্বকে লাগতেই সে চিৎকার করে উঠল। “আহ্....!” হাতটা ছিটকে নিলেও দেরি হয়ে গেছে। লাল হয়ে ওঠা জায়গাটা মুহূর্তেই জ্বালা করতে লাগল। চোখে পানি এসে গেল অরণ্যার, কিন্তু সে কাঁদল না। তনয় সিগারেটটা মেঝেতে ফেলে জুতোর নিচে পিষে দিল। তারপরও মনে হলো, তার রাগ কমেনি।
সে দরজার দিকে ফিরল, গলা এবার বজ্রের মতো।
“সাকিলা!” কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দরজা খুলে সেই মধ্যবয়স্ক মহিলা ভয়ে ভয়ে ভেতরে ঢুকল। “জ্বি… সাহেব?” তনয় আঙুল তুলে অরণ্যার দিকে দেখাল। তার গলা নিচু, “ওকে তৈরি করো।”
মহিলা হতভম্ব। “জ্বি?”
তনয় এবার ধীরে তার দিকে তাকাল। “আজ বাসর রাত।” এক সেকেন্ড থেমে ঠোঁটের কোণে নিষ্ঠুর হাসি ফুটল। “সে অনুযায়ী সাজিয়ে আনো।”
অরণ্যার শরীর জমে গেল। “আপনি পাগল!” সে চিৎকার করল। “আমাকে কেউ ছুঁবে না!”
তনয় আবার তার দিকে ফিরল। “এই ঘরে,” সে ধীরে ধীরে বলল, “কি হবে, কি হবে না সেটা আমি ঠিক করি।”
সাকিলা কাঁপা হাতে এগিয়ে এলো। “ম্যাডাম… চলেন…”
অরণ্যা হাত ঝটকে সরিয়ে দিল। “দূরে থাকুন!”
তনয় একপাশে সরে দাঁড়াল। “জেদ যত বেশি,” সে বলল, “ভাঙার শব্দ তত সুন্দর হয়।”
অরণ্যা তাকিয়ে রইল তার দিকে। তার বুক উঠানামা করছে দ্রুত। কব্জির জ্বালা এখনও থামেনি, চোখে পানি চিকচিক করছে। তবু সেই পানি দুর্বলতার ছিল না, ছিল অপমানের।
সাকিলা ভয়ে একপাশে সরে দাঁড়িয়ে আছেন। তনয়ও নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে। যেন কিছুই হয়নি। যেন কারও শরীরে আগুনের ছাপ ফেলে দেওয়াও তার কাছে সামান্য ঘটনা। সেই নির্লিপ্ততাই অরণ্যার ভেতরের শেষ বাঁধ ভেঙে দিল। সে ঝড়ের মতো সামনে এগিয়ে গেল। তনয় কিছু বোঝার আগেই দুই হাতে তার শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরল। “আপনি নিজেকে কী ভাবেন?” অরণ্যার গলা কাঁপছে, “মানুষ? আপনি মানুষ নন। কাপুরুষ। একজন বন্দি মেয়ের ওপর শক্তি দেখিয়ে নিজেকে বড় ভাবছেন?”
সাকিলা হাঁ করে তাকিয়ে রইল। তনয় নিচে তাকাল। অরণ্যার হাত তার কলারে শক্ত হয়ে আছে। তারপর খুব ধীরে চোখ তুলল তার মুখের দিকে। “হাত ছাড়ো।”
স্বরে চাপা হুমকি। অরণ্যা ছাড়ল না। বরং আরো কাছে ঝুঁকে এলো। “না ছাড়লে কী করবেন?” সে বলল। “আরেকটা ছ্যাকা দেবেন? নাকি এবার শ্বাস বন্ধ করে মারবেন?” তনয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। “শেষবার বলছি, হাত ছাড়ো।”
অরণ্যার ঠোঁটে তীব্র হাসি ফুটল। “আপনার মতো পুরুষকে ভয় পাওয়ার দিন শেষ।” বলেই ঠাস করে তনয়ের গাল ছুঁয়ে গেল তার হাত। অরণ্যার হাতের চড় সোজা গিয়ে পড়ল তনয়ের গালে।
সাকিলার মুখ দিয়ে চাপা হাঁফ বেরিয়ে এলো। সে তড়িঘড়ি করে মুখে হাত চাপা দিল। তনয় নড়ল না। শুধু মাথাটা সামান্য একদিকে ঘুরে আছে। কয়েক সেকেন্ড পর ধীরে ধীরে সে আবার সোজা হলো। তার গালে লাল দাগ ফুটে উঠেছে। অরণ্যা হাঁপাচ্ছে।। কিন্তু সে চোখ নামায়নি। তনয় খুব আস্তে জিভ দিয়ে ভেতরের গাল ছুঁয়ে নিল। তারপর মাথা কাত করল। “ভুল করলে, অরণ্যা।” সে এক পা সামনে এগিয়ে এলো।
অরণ্যা এবারও পিছোল না, কিন্তু তার বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল। তনয় ধীরে ধীরে তার কলার থেকে অরণ্যার হাত সরিয়ে দিল। একেকটা আঙুল আলাদা করে ছাড়াল। তারপর নিচু স্বরে বলল,
“রাগ আমার ছিলই।” সে আরেক পা এগোল।
“তুমি শুধু আগুনে তেল ঢেলে দিলে।”
সাকিলা কাঁপা গলায় বললেন, “সাহেব… আমি কি....”
“বের হও।” মহিলা আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না। দরজা টেনে বেরিয়ে গেল। তনয় অরণ্যার দিকে তাকিয়ে রইল দীর্ঘক্ষণ। “আজ পর্যন্ত,” সে ধীরে বলল, “কেউ আমার গায়ে হাত তোলার সাহস করেনি।”
অরণ্যা ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে রইল। “তাহলে আজ জেনে রাখুন,” সে বলল, “আমি বাকিদের মতো নই।”
এক মুহূর্তের জন্য তনয়ের চোখে কিছু একটা জ্বলে উঠল। তারপর সে হাসল। “ভালো,” সে বলল। “এখন থেকে তোমাকে ভাঙার কাজটা আরো মন দিয়ে করব।”
তনয় সামনে এগোতে থাকল শার্টের ওপরের বোতাম খুলতে খুলতে। অরণ্যার বুকের ভেতর ধুকপুকানি এবার সত্যিই ভয় হয়ে উঠল। সে এক পা, তারপর আরেক পা পিছিয়ে দরজার দিকে সরে গেল। হাত বাড়িয়ে নব ধরতে যাবে ঠিক তখনই তনয় ঝড়ের মতো এগিয়ে এলো। এক ঝটকায় তার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে টেনে নিল। “আহ্!” যন্ত্রণায় অরণ্যার মুখ থেকে শব্দ বেরিয়ে এলো। পরের মুহূর্তেই তাকে ঠেলে বিছানার ওপর ফেলে দিল তনয়। শরীরটা ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতেই তার ওড়না কাঁধ থেকে সরে মেঝেতে পড়ে গেল।
অরণ্যা তড়িঘড়ি করে সেটা তুলতে হাত বাড়াল।
তনয় আগে তুলে নিল। ওড়নাটা তার হাতে পাকিয়ে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল। তারপর পকেট থেকে লাইটার বের করল। ছোট্ট আগুনটা জ্বলে উঠতেই ঘরের আলো যেন অন্যরকম হয়ে গেল। তনয় আগুনটা অরণ্যার চোখের সামনে তুলে ধরল। খুব কাছে নয়, কিন্তু যথেষ্ট কাছে। অরণ্যা বিছানার ওপর সরে গেল, হাত দুটো পেছনে ঠেকিয়ে নিজেকে সামলাতে সামলাতে। তনয় তাকিয়ে রইল। “আমি জানোয়ার না?” তনয়ের স্বর নিচু, “এবার দেখো, জানোয়ার কতখানি জানোয়ারগিরি দেখাতে পারে।” সে লাইটারের আগুনের মাধ্যমে অরন্যার চোখের সামনেই তার ওড়নায় আগুন লাগিয়ে মেঝের ওপর ছুঁড়ে মারল তা। অরণ্যা তাকিয়ে রইল তার দিকে। চোখে এবার প্রথমবারের মতো স্পষ্ট আতঙ্ক ফুটে উঠেছে। “আপনি যতই ভয় দেখান,” সে কাঁপা গলায় বলল, “আপনি ভেতরে ভেতরে কাপুরুষই থাকবেন।”
তনয় থেমে গেল। তারপর ধীরে ধীরে বিছানার কিনারায় হাত রেখে সামনে ঝুঁকল। এতটাই কাছে যে অরণ্যা তার নিশ্বাসের গরম ভাব টের পেল। “ভয় আর ঘৃণা দুটোই শক্তিশালী জিনিস,” সে বলল। “তুমি এখন দুটোই আমাকে দিচ্ছ।” সে এবার অরণ্যারর শরীরের দিকে চাইতেই ঘৃণায় অরণ্যা মুখ ফিরিয়ে নিল।
তনয় সোজা হয়ে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থেকে কাকে যেন কল করে বলল, "ঘরটা বাইরে থেকে লক করো।” অরণ্যা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। “না! দরজা খুলুন!” তনয় তার দিকে তাকিয়ে এবার হাসল, " হিশশশশ! বাসর রাতে এত শব্দ করতে নেই মিসেস তনয় জেইদী। তুমি আমায় আগুনে পুড়াতে গিয়ে নিজের গায়ে কেরাসিন দিয়েছো। এবার তনয় জেইদী নয় তুমি পুড়বে। তনয়ের এই জাহান্নামে পোড়ার জন্য—স্বাগতম।”
চলবে?
( এত বড় একটা পর্ব দিয়েছি। সবাই কেন ১k রিয়েক্ট দেন না? ধূর গল্প দিতে ইচ্ছে করে না। রিয়েক্ট টার্গেট না দিলে এমনি গল্প পড়ে চলে যান। আর দিলে ঠিকই টার্গেট পূরন হয়। তাহলে টার্গেট দেওয়া ভালো না?)