#দহনচক্র
#ইশরাত_জাহান_জেরিন
#পর্ব_১০
জানালার ভারী পর্দা ভেদ করে সকালের রোদের একফালি ঝিলিক অরণ্যার মুখে এসে পড়ল। কিন্তু সেই আলোতে কোনো স্নিগ্ধতা নেই, আছে কেবল এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা। অরণ্যা সারারাত সেই শীতল মার্বেল মেঝেতেই পড়ে ছিল। তার গায়ের জামা কুঁচকে একাকার, চোখের নিচে কালির গাঢ় প্রলেপ। শরীরের প্রতিটি হাড় যেন বিদ্রোহ করছে, কিন্তু মনের অবশ ভাব তার চেয়েও বেশি তীব্র। বাইরে থেকে তালা খোলার শব্দ হলো। সেই পরিচিত ধাতব শব্দ, যা এখন অরণ্যার কাছে মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা মনে হয়। তনয় জেইদী ভেতরে ঢুকল। পরনে নেভি ব্লু স্যুট। সে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হাতের রোলেক্স ঘড়িটার দিকে একবার তাকাল, তারপর নির্লিপ্ত চোখে অরণ্যাকে দেখল। “উঠে পড়ো। মেঝেতে পড়ে থাকার নাটকটা এখন বন্ধ করো,” তনয়ের কণ্ঠস্বর ভোরের বাতাসের মতো ঠান্ডা।
অরণ্যা নড়ল না। তার নিস্পন্দ চোখের দৃষ্টি দেয়ালের এক কোণে স্থির। তনয় কয়েক পা এগিয়ে এল। তার পালিশ করা জুতোর শব্দ নিস্তব্ধ ঘরটায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। “আমি তোমাকে উঠে তৈরি হতে বলেছি, অরণ্যা। নিচে আমার পরিবারের বাকিরা অপেক্ষা করছেন। আজ আবার মেহমানও আসবে। বাড়ির বড় বউ হিসেবে তাদের সামনে তোমার যাওয়াটা বাধ্যতামূলক। হাতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় আছে।”
অরণ্যা এবার ধীরে ধীরে মাথা তুলল। ফাটা ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিষাক্ত হাসি ফুটে উঠল তার। ভাঙা গলায় সে বলে উঠল, “বড় বউ? না কি বড় বন্দি? এত ভড়ং দেখাচ্ছেন কী করে?”
তনয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। সে নিচু হয়ে অরণ্যার খুব কাছে ঝুঁকে এল। “বেয়াদবি করার জন্য এই সময়টা মোটেও উপযুক্ত নয়। নিজেকে আয়নায় দেখেছ? ভিখারির মতো দশা করে সবার সামনে গেলে তনয় জেইদীর মান থাকবে না। যাও, তৈরি হও।”
অরণ্যা এবার সোজা হয়ে বসল। তনয়ের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল, “মান? আপনার মতো একজন সাইকোর আবার মান-সম্মান কিসের? যে মানুষ নিজের একটা মেয়ের ওড়না পুড়িয়ে তৃপ্তি পায়, যে অন্যের বোনকে দাফনের আগে শেষবার দেখার অধিকার কেড়ে নেয় তার মুখে এসব কথা মানায় না। আমি যাব না। আপনার ঐ মেকি আভিজাত্যের প্রদর্শনীতে আমি শামিল হব না।”
তনয় এক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইল। তার চোখের মণি দুটো যেন আরও কালো হয়ে গেছে। সে শান্ত স্বরে বলল, “অরণ্যা, আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিও না। উঠে দাঁড়াও।”
“কেন? উঠে না দাঁড়ালে কী করবেন? মেরে ফেলবেন? ওই যে ওড়নাটা ওভাবে পড়ে আছে, ওটা দিয়েই আমার গলাটা পেঁচিয়ে দিন না। তাতে অন্তত এই নরকযন্ত্রণা থেকে বাঁচা যাবে। আপনার পরিবারের সামনে গিয়ে হাসিমুখে অভিনয় করার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক বেশি সম্মানের।”
তনয় অরণ্যার হাতটা সজোরে চেপে ধরল। হেঁচকা টানে তাকে মেঝে থেকে দাঁড় করিয়ে দিল। অরণ্যা যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠল, কিন্তু তার চোখের আগুন নেভেনি। সে তনয়ের বুকে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল।
“ছাড়ুন আমাকে! জানোয়ার একটা! আপনি কি ভাবেন টাকা আর ক্ষমতা দিয়ে সবকিছু কেনা যায়? আপনি আমাকে বন্দি করতে পারেন, কিন্তু আপনার প্রতি আমার ঘৃণা? সেটা আপনি কোনোদিন মুছতে পারবেন না। তনয় জেইদী নামটা শুনলে আমার এখন থুতু দিতে ইচ্ছে করে!" এই এক মুহূর্তেই তনয়ের ভেতরের সেই হিমশীতল শান্ত ভাবটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। রাগে তার কপালে রগগুলো ফুলে উঠল। সে অরণ্যার চিবুকটা এত জোরে চেপে ধরল যে অরণ্যার মনে হলো তার হাড়গুলো এখনই গুঁড়ো হয়ে যাবে।
“অনেক হয়েছে!” তনয় গর্জে উঠল। তার গলার স্বর এবার আর নিচু নেই, সেটা একটা হিংস্র জানোয়ারের গর্জনের মতো শোনাল। “তুমি কি ভাবছ তোমার এই সস্তা প্রতিবাদ আমাকে থামিয়ে দেবে? অরণ্যা, তুমি এখনো চেনোনি আমি কী করতে পারি। যে মুখ দিয়ে তুমি আমার বংশের নাম নিয়ে অপমান করছ, সেই মুখ আমি চিরকালের জন্য বন্ধ করে দিতে পারি।”
সে অরণ্যাকে দেয়ালের সাথে সজোরে চেপে ধরল। অরণ্যার পিঠে থাকা হাড়গুলো দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে টনটন করে উঠল। তনয় তার মুখের খুব কাছে মুখ নিয়ে এল, তার তপ্ত নিঃশ্বাস অরণ্যার নাকে লাগছে।
“সোজা কথায় তৈরি হবে, নাকি আমি আমার পদ্ধতিতে তোমাকে নিচে নিয়ে যাব? মনে রেখো, নিচে আমার পরিবার আছে। তুমি যদি ভদ্রভাবে না যাও, তো আমায় অভদ্র হতে হবে।" অরণ্যা থমকে গেল। তনয়ের এই নিষ্ঠুরতা তার কল্পনারও অতীত। সে কাঁপতে কাঁপতে তনয়ের চোখের দিকে তাকাল। তনয়ের চোখে কোনো দয়া নেই, আছে শুধু জেদ আর প্রতিশোধের নেশা।
তনয় তাকে ছেড়ে দিয়ে এক ঝটকায় আলমারি থেকে একটা গাঢ় লাল রঙের শাড়ি বের করে বিছানায় ছুড়ে দিল। “পনেরো মিনিট। এর বেশি দেরি হলে ফল ভালো হবে না, মিসেস জেইদী। আমি বাইরে অপেক্ষা করছি।”
তনয় গটগট করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। দরজাটা আবার সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল। অরণ্যা বিছানার ওপর পড়ে থাকা লাল শাড়িটার দিকে তাকিয়ে রইল। শাড়িটা তার কাছে রক্তের মতো লাল মনে হচ্ছে। সে বুঝতে পারছে, এই প্রাসাদে তার প্রতিটি প্রতিবাদের বদলে তনয় তাকে আরও গভীরে ডোবাবে। তার ডানা ছেঁটে দেওয়ার যে হুমকি তনয় দিয়েছিল, তা এখন বাস্তবায়নের পথে। অরণ্যা টলতে টলতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে সে নিজেই চমকে উঠল। এই কি সেই অরণ্যা? যার চোখে এক সময় স্বপ্ন ছিল? আজ সে কেবল এক উন্মাদ জমিদারের হাতের পুতুল। সে ধীর হাতে শাড়িটা তুলে নিল। তার ভেতরের ঘৃণাটা এখন আগ্নেয়গিরির মতো ফুটছে, যা হয়তো একদিন এই জেইদী সাম্রাজ্যকেই পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।
তনয় দরজার কাছে গিয়ে আবার থামল। তার চোয়ালের রেখাগুলো এখনো রাগে কাঁপছে। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বয়স্কা পরিচারিকা সাকিলা বানু ভয়ে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তনয় তার দিকে ঘুরে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। “সাকিলা!” তনয়ের গম্ভীর ডাক শুনে সাকিলা বানু কেঁপে উঠলেন।
“জি... জি সাহেব?” তনয় ভেতর ঘরের দিকে হাত ইশারা করে শীতল গলায় বলল, “ভেতরে যাও। এই মেয়েটাকে ঠিক পনেরো মিনিটের মধ্যে তৈরি করে নিচে নিয়ে আসবে। আর শোনো, পনেরো মিনিট মানে ঠিক পনেরো মিনিট। এক সেকেন্ড এদিক-সেদিক হলে এর শাস্তি ভোগ করতে হবে তোমাকে।”
সাকিলা বানু অবাক হয়ে তনয়ের দিকে তাকালেন। তনয় তার চোখের দিকে তাকিয়ে নিষ্ঠুর এক হাসি দিল। “যদি ও সময়মতো নিচে না পৌঁছায়, তবে আজই এই বাড়ি থেকে তোমার চিরস্থায়ী ছুটি। শুধু কাজ থেকে বের করব না যে এটা তুমি খুব ভালো করে জানো হয়তো? সব দায়ভার এখন তোমার ওপর। মনে রেখো, অরণ্যার অবাধ্যতার মাশুল দিতে হবে তোমাকে।” কথাটা বলেই তনয় আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। তার ভারী বুটের শব্দ বারান্দায় প্রতিধ্বনিত হতে হতে ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
সাকিলা বানু ঘরে ঢুকলেন। তার হাত-পা থরথর করে কাঁপছে। তিনি দেখলেন অরণ্যা বিছানার এক কোণে পাথরের মতো বসে আছে, তার পায়ের কাছে সেই লাল শাড়িটা অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। সাকিলা ধীর পায়ে অরণ্যার কাছে এগিয়ে এলেন। তার চোখে জল টলমল করছে। "ম্যাডাম...” সাকিলা খুব নিচু স্বরে ডাকলেন।
অরণ্যা মাথা তুলল না। তার দৃষ্টি মেঝের দিকে নিবদ্ধ। সাকিলা হাঁটু গেড়ে মেঝের ওপর অরণ্যার সামনে বসলেন। তার খসখসে হাত দুটো দিয়ে অরণ্যার হাতটা ধরার চেষ্টা করলেন। অরণ্যা অনুভব করল, তনয় জেইদী কতটা ধূর্ত। সে জানে অরণ্যাকে সরাসরি আঘাত করার চেয়ে অন্য কাউকে তার জন্য শাস্তি দেওয়াটা অরণ্যার কাছে বেশি যন্ত্রণাদায়ক হবে। তনয় অরণ্যার মানবিকতাকে তার দুর্বলতা হিসেবে ব্যবহার করছে। অরণ্যার ভেতরের জেদটা এক নিমিষেই একরাশ ক্লান্তিতে রূপ নিল। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানা থেকে নামল। সাকিলার চোখের জল মুছে দিয়ে খুব ধীরস্থিরভাবে বলল, "আপনার কোনো ক্ষতি আমি হতে দেব না।”
-
ঠিক পনেরো মিনিট পরেই দরজায় শব্দ হলো। তনয় ভেতরে ঢুকল। ভেতরে পা দিয়েই তনয় মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। অরণ্যা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সাকিলা বানু তার আঁচলটা ঠিক করে দিচ্ছেন। পরনের সেই গাঢ় লাল শাড়িটা অরণ্যার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে গাম্ভীর্য তৈরি করেছে। অরণ্যা খুব বেশি ফর্সা নয়। দুধে-আলতা রঙ তার নয়, বরং নিখাদ বাঙালি উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। কিন্তু এই লাল রঙটা যেন তার সেই গায়ের রঙের সাথে মিলেমিশে এক আগ্নেয়গিরির লাভার মতো রূপ নিয়েছে। ভিজে চুলগুলো পিঠের ওপর ছড়ানো। তৈরি হওয়ার পর অরণ্যা যখন ঘুরে তনয়ের মুখোমুখি দাঁড়াল, তনয়ের চোখের মণি জোড়া স্থির হয়ে গেল। গতরাতের সেই বিধ্বস্ত মেয়েটার বদলে এখন তার সামনে এক বিষাদময়ী রাজকন্যা দাঁড়িয়ে আছে। তনয় নিজেকে সামলে নিয়ে একটু কেশে গলা পরিষ্কার করল।
“সময়জ্ঞান আছে দেখছি,” তনয় নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, যদিও তার দৃষ্টি এখনো অরণ্যার ওপর থেকে সরেনি। সে এগিয়ে এসে অরণ্যার একটা হাত শক্ত করে ধরল। “চলো। সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।”
অরণ্যা কোনো কথা বলল না। সে জানে, এই মুহূর্তে মৌনতাই তার সবচেয়ে বড় ঢাল। তনয় তাকে নিয়ে বিশাল রাজকীয় সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল। সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে অরণ্যার হৃদপিণ্ড ধুকপুক করছে। অন্দরমহলের বিশাল ড্রয়িংরুমে আজ চাঁদের হাট বসেছে। জেইদী বংশের প্রভাবশালী পুরুষেরা সোফায় বসে কফি খাচ্ছেন আর গম্ভীর আলোচনায় ব্যস্ত।
সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অরণ্যা মাথা নিচু করে ছিল। সে চায় না এই জানোয়ারগুলোর চোখের দিকে তাকাতে। ড্রয়িংরুমের মাঝখানে পৌঁছাতেই তনয় ঘোষণা করল, “আমার স্ত্রী, অরণ্যা জেইদী।”
অরণ্যা যান্ত্রিকভাবে চোখ তুলল। কিন্তু সামনে তাকাতেই তার পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। ড্রয়িংরুমের এক কোণে সোফায় বসে আছে তার বাবা সাদিক দেওয়ান আর ভাই আরিশ। তাদের সামনে চা-নাস্তা রাখা। অরণ্যার চোখের পাতা কাঁপতে শুরু করল। বাবা আর ভাই এখানে কেন? অরণ্যার ইচ্ছে হলো দৌড়ে গিয়ে বাবার পা জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলতে‘বাবা, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও! এই লোকটা একটা দানব!’ কিন্তু পরক্ষণেই সে খেয়াল করল, তার বাবা আর ভাই তনয়ের দিকে তাকিয়ে যে ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে হাসছেন, তাতে কোনো পিতৃস্নেহ নেই আছে কেবল মেরুদণ্ডহীন আত্মসমর্পণ। তনয় অরণ্যার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল, “উপহারটা কেমন লাগল মিসেস জেইদী? তোমার বাবা আর ভাইকে আমিই খবর দিয়ে আনিয়েছি। ঢাকা থেকে ফরিদপুর চলে আসা এক রাতে কিন্তু মুখের কথা না।"
-
ঘরের মাঝখানে জেইদী পরিবারের বাকি পুরুষেরা যেন এক একটা মূর্তি হয়ে বসে আছে। তাদের আভিজাত্য যেমন চোখে পড়ার মতো, তেমনই তাদের চোখের চাহনিও নজর কারা। সবার সামনে পায়ের ওপর পা তুলে যেই পুরুষটি বসে আছে, সে হচ্ছে তনয় জেইদীর মেজো ভাই কায়ান জেইদী । চারকোল গ্রে রঙের স্যুটে তাকে একজন কঠোর কর্পোরেট শাসকের মতো লাগছে। তার চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। অফিসে অরন্যা তনয়ের ডিপার্টমেন্টে ছিল। ফলে বাকি ডিপার্টমেন্ট হেডদের সাথে দেখা হলেও ওমন ভাবে অরণ্যা তাদের চিনে না। তার ওপর ওদের কত বড় পদ। এত সহজ নাকি তাদের কাছ অব্দি যাওয়ার সুযোগ পাওয়া? কায়ান অরন্যা সাথে তেমন ভাবে কথা বলল না৷ সে কেবল একবার নির্লিপ্তভাবে অরণ্যার দিকে তাকিয়ে কফির কাপে চুমুক দিল। তার পাশের জন ভিরান জেইদী। তনয়ের সেজো ভাই। ভিরান জেইদীর চোখের রঙ কেমন যেন ধূসর। সহজ ভাষায় বললে বিড়ালের মতো দেখতে চোখের রঙ। একেতো সুন্দর মানুষ, তার ওপর এমন সুন্দর চোখ। ভিরানের গায়ে কফি ব্রাউন রঙের ব্লেজার আর সাদা প্যান্ট। ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা হাসিটা অদ্ভুত সুন্দর। তবে তার থেকেও বেশি রহস্যময়। অফিসে একবার চেয়ারম্যান সিনিয়রদের মিটিং এ কিছু কর্মীদের যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। কর্মী বাছাই করার দায়িত্ব ছিল প্রবাহ এহসানের কাছে। ব্যাস সে অন্যদের সাথে অরণ্যাকে বাছাই করে ফেলল। ওইদিন মিটিং এ ভিরান জেইদীর নিউ প্রোজেক্টের প্রেজেন্টেশন ছিল৷ সেদিন প্রথম ভিরান জেইদীকে এত কাছ থেকে দেখেছিল অরন্যা। ওইদিন ঠোঁটের কোণে যেই বাঁকা হাসি লেগে ছিল, আজও তেমনটাই লেগে আছে। এবার ধীরে ধীরে অরণ্যার চোখ গেল সারহানের দিকে। একে সে অবশ্যই ভালো করেই চিনে। এর কারণ হচ্ছে মানুষ হিসেবে সে নাকি অনেক মিশুক। যারা সারহান জেইদীর আন্ডারে কোনো কাজ করেছে তাদের মাঝে ওনার জনপ্রিয়তা বেশ। এত জনপ্রিয় মানুষটাকে এই প্রথম সে ভালো করে দেখল। তবে একজনকে দেখতে পাচ্ছে না। চেয়ারম্যান মানে জেইদী কোম্পানির আসল মালিককে। বাকি ভাইয়েরা অরন্যার সাথে পরিচয় না হলেও সারহান উঠে দাঁড়ালো। সাদার ওপর হালকা নীল স্ট্রাইপের শার্ট আর ফর্মাল ট্রাউজারে তাকে বেশ মার্জিত লাগছে। সে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে অরণ্যার দিকে তাকাল। তার চোখে বাকিদের মতো ঘৃণা বা তাচ্ছিল্য নেই। “শুভেচ্ছা ভাবি।" অরন্যা জবাব দিলো না। কারণ ভাবি হওয়ার শখ তার নেই। অন্তত এই বাড়ির কারো ভাবি হওয়ার শখ তো মোটেও নেই। হঠাৎ অরন্যার চোখ গেল সবার মধ্যখানের সোফার দিকে।
সোফার একদম প্রধান আসনে বসে আছে একজন মহিলা। তনয় তার সাথেও পরিচয় করিয়ে দিলো। উনি সাবিহা জেইদী। তনয়দের একমাত্র ফুফু। বয়স ষাটের কোঠায় হলেও তার ত্বক এখনো টানটান, আর চুলে রুপালি রেখার মাঝেও তেজ লক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি পরেছেন ঘিয়ে রঙের ভারী কারুকাজ করা জামদানি, গলায় তিন লহরী মুক্তোর মালা। তিনি বিয়ে করেননি। সাবিহা চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে অরণ্যাকে একবার পরখ করলেন। পাশেই বসে আছে কায়ানের স্ত্রী লুবনা। কায়ান জেইদী যে বিবাহিত তা আজকে জানতে পারল অরণ্যা। অবশ্য তার জানারও কথা না। লুবনার সাজগোছ একটু অন্যরকম। নির্গাত এমন সাজগোজের আতিশয্য যে কাউকে চমকে দেবে। ডিজাইনার জর্জেট শাড়ি, কানে হীরের বড় ঝুমকো। ইচ্ছা না থাকা শর্তেও সবার সাথে ভদ্র ভাবেই পরিচয় পর্ব শেষ করল অরণ্যা। তবে অবাক হলো। এত বড় জমিদার বাড়িতে কেবল এই কয়জন মানুষ? আর তনয় জেইদীর মা? সে কোথায়? তাকে তো দেখতে পেল না সে। নাকি ছেলের বিয়েতে সে সন্তোষ হতে পারেননি? অরন্যা এখনো বাইরে বের হতে পারেনি এই বাড়ির৷ আসলেই কি এটা ফরিদপুরের কোনো জমিদার বাড়ি? ওনারা যা মানুষ মনে তো হচ্ছে না সব কাজ ফেলে ঢাকা থেকে এত মানুষ এভাবেই চলে আসবে একসাথে। আর কোম্পানি তো ঢাকায়। ফরিদপুরে কাজ ফেলে আসার তো কোনে সুযোগই নেই। তাহলে? তবে অরন্যা এতক্ষণে বুঝে গেছে নতুন বউ নিয়ে যে এখানে সারহান জেইদী বাদে কারো আগ্রহ নেই। সে ভালো করে আরেকবার সবার পানে চাইল। হঠাৎ তার ভাইয়েরা একে একে উঠে গেল। বোধ-হয় এতক্ষণ জোর করে বসে ছিল এখানে। ওরা যেতেই সাবিহা জেইদী তনয়ের দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলল, "আমি যাচ্ছি। অরন্যার বাবা-ভাই এসেছে, ওনাদের সেবা-যত্নে কমতি পড়লে তো হবে না। "
পাশ থেকে লুবনা বলল, "আমাকে রুমে যেতে হবে ভাইয়া। একটা কাজ মনে পড়ে গিয়েছে।"
সবাই একে একে চলে যেতেই হঠাৎ অরন্যা মনে মনে বলল,"চেয়ারম্যান সাহেব কোথায়? সে ভালো মানুষ৷ তার সাথে দেখা হওয়াটা এমতাবস্থায় অতীব জুরুরি। ওই লোক ছাড়া এই নরক থেকে বোধ-হয় না বের হওয়া সম্ভব।"
তনয় অরণ্যার হাত ধরে তাকে তার বাবা আর ভাইয়ের সামনের সোফায় বসিয়ে দিল। সাদিক দেওয়ান কুণ্ঠিত স্বরে বললেন, “তনয় বাবা, আমরা কি একটু অরণ্যার সাথে আলাদা করে কথা বলতে পারি?”
তনয় অরণ্যার পিঠে হাত রেখে এমনভাবে হাসল যেন সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্বামী। “অবশ্যই৷ অরণ্যা এখন জেইদী বংশের বড় বউ। তার সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক আমি হলেও আপনাদের সাথে কথা বলতে তো মানা নেই। তবে মনে রাখবেন, সময় খুব কম। "
অরণ্যা দেখল তার ভাই আরিশও তনয়ের দিকে তাকিয়ে ভয়ে মাথা নিচু করে হাসছে। সে বুঝতে পারল, তার নিজের পরিবারও এখন তনয় জেইদীর ক্ষমতার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে কতটুকু সত্য জানা নেই। তনয় অরণ্যার চিবুকটা সামান্য উঁচিয়ে ধরে সবার সামনেই বলল, “সময় অল্প।"
অরণ্যা পাথরের মতো বসে রইল। তার ভেতরে এক প্রবল ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তনয় কেবল তার শরীরকে বন্দি করেনি, তার অস্তিত্বের শেষ সম্বল তার পরিবারকেও আজ তার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। লাল শাড়ির আঁচলটা সে শক্ত করে মুঠোয় চেপে ধরল। সে বুঝতে পারছে, এই প্রাসাদ কোনো ঘর নয়, এটা একটা গোলকধাঁধা। যেখানে প্রতিটি প্রতিবাদের পথ তনয় জেইদী আগে থেকেই বন্ধ করে রেখেছে। কিন্তু অরণ্যার চোখের সেই নিভে যাওয়া আগুনটা হঠাৎ করেই যেন ধিকিধিকি জ্বলতে শুরু করল। সে মনে মনে বলল, ‘এই জৌলুস, এই আভিজাত্য আমি একদিন মাটিতে মিশিয়ে দেব তনয় জেইদী। আপনি আমাকে বন্দি করেছেন ঠিকই, কিন্তু আমার ভেতরের ঘৃণাটাকে আপনি জয় করতে পারবেন না।’
তনয় জেইদী যখন ড্রয়িংরুমের গুমোট পরিবেশ থেকে কয়েক পা দূরে সরে গেল, অরণ্যা এতক্ষণে দম ফিরে পেল। এখন কেবল সোফায় বসে থাকা অরণ্যা, আর তার সামনে তার দুই পরম আপনজন বাবা সাদিক দেওয়ান আর ভাই আরিশ। বাকিরাও উঠে চলে গেছে ।
অরণ্যা আর মুহূর্তকাল দেরি করল না। বাবার পায়ের কাছে প্রায় মেঝেতে বসে পড়ল সে। দুই হাতে বাবার হাত দুটো আঁকড়ে ধরে ভাঙা গলায় আর্তনাদ করে উঠল, “বাবা! আমাকে নিয়ে যাও। তুমি জানো না ও কতটা ভয়ঙ্কর মানুষ! ও একটা জানোয়ার, সাইকো! দোহাই লাগে বাবা, আমাকে নিয়ে চলো এখান থেকে। আমি আর এক মুহূর্তও এই নরকে থাকতে পারব না।”
অরণ্যার প্রত্যাশা ছিল বাবা হয়তো তাকে বুকে টেনে নেবেন, ভাই হয়তো তনয় জেইদীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। কিন্তু সাদিক দেওয়ানের মুখটা পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল। তিনি সজোরে অরণ্যার হাতটা ঝটকিয়ে সরিয়ে দিলেন। “থাম অরণ্যা! অনেক হয়েছে তোর এই আদিখ্যেতা!” সাদিক দেওয়ানের গলার স্বর এবার আর নিচু নেই, তাতে মিশে আছে চরম বিরক্তি। অরণ্যা স্তব্ধ হয়ে গেল। অশ্রুভেজা চোখে সে দেখল তার ভাই আরিশও রাগী দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আরিশ বলে উঠল, “তোর লজ্জা করে না অরণ্যা? তোর জন্য আমাদের পরিবারের মান-সম্মান আজ ডাস্টবিনে গিয়ে মিশেছে। নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে চেয়েছিলি, তাতেও বাবা রাজী হয়েছিল। কিন্তু সেই বিয়ের আসরে এতগুলো মানুষের সামনে তুই যে নাটকটা করলি, সেটা কি একবারও ভেবে দেখেছিস? আমরা মানুষের কাছে মুখ দেখাব কী করে?”
অরণ্যা হাপুস নয়নে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “ভাইয়া, ওমন ছেলের সাথে জেনে শুনে কি করে বিয়ে করতাম?"
"ওমন ছেলের সাথে প্রেম তো না জেনে করতে যাস নি? কিংবা প্রেম করার সময় তো আমাদের জিজ্ঞেস করে করিসনি। "
"ভাইয়া....."
বাবা তাকে থামিয়ে দিয়ে গর্জে উঠলেন, “চুপ কর! তোর ভালোর জন্যই তোকে ফরিদপুর পাঠিয়েছিলাম। ইমন কত ভালো ছেলে, ওকে বিয়ে করলে তুই সুখে থাকতি। আমি জানতাম তুই তালবাহানা করবি কেবল এই কারনে বিয়ের বিষয়টা তোকে বলিনি৷ তোর খালাকেও বলেছিলাম যাওয়ার সাথে সাথেই বিয়েটা সারতে। তুই ভাবতে পারিস, মানলাম আমার ভালোর জন্য বিয়ে দিচ্ছিলে। কিন্তু তোমরা কেন আসোনি? তাই না? আমরা তো আসতেই চেয়েছিলাম৷ তারওর তানিশা....."
"আমি কল দিয়েছিলাম, না আমার কল ধরা হয়েছে না জানানো হয়েছে তানিশার মৃত্যুর খবর। তনিমা আপা না জানালে হয়তো জানাও হতো না।"
"কি? তনিমা তোকে জানিয়েছে?"
"হু আপার কারনেই ভাগ্যিস জানতে পেরেছিলাম। তোমরা কেউ জল ধরোনি।"
"তোর ভালোর জন্যই।"
"আমার কিসের ভালো?"
"এমনিতেই সব দিক থেকে আমাদের পরিবার ডুবছিল। ওই মূহূর্তে আমি ইমন দের সবটা জানাই৷ তোর কপাল ভালো ইমন তোর কীর্তিকলাপ জানা শর্তেও তোকে বিয়ে করতে রাজি হয়। একটা মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে গেছে, কিছুই করতে পারলাম না। আরেকজনের জীবন যাতে নষ্ট না হয় তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। তবে তুই অরণ্যা স্বার্থপর ছাড়া কিছুই নয়। নিজের ভালো ছাড়া তোর চোখে আর কিছুই পড়ে না। তোর ভালোর জন্যই বিয়েটা ঠিক করেছিলাম কিন্তু সেখান থেকেও তুই পালিয়ে গেলি। তোর কারণে আমাদের যে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে, সেটার কথা কি একবারও ভেবেছিস? লোকে ছি ছি করছিল আমাদের নিয়ে। ঢাকার মানুষ তো করেছেই এখন ফরিদপুরের মানুষজনও। তোর খালা-খালু আমায় কত সম্মান করত, এখন কোন মুখে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াবো?"
অরণ্যা এবার আর্তনাদ করে উঠল, “কিন্তু বাবা, তনয় জেইদী আমাকে জোর করে এখানে আটকে রেখেছে! আমি সিউর আমার বোন তানিশার মৃত্যুর কারণ এই লোকটাই! ওকে শেষবার দেখতে অব্দি দেয়নি।"
"কাল রাতে তনয় জেইদী আমাদের সব খুলে বলে। বিয়ে থেকে শুরু করে সব। তারপর সে আমাদের এখানে এসে দেখা করতে বলে তোর সাথে। আর তানিশাকে দেখে কি করতি? এখানে তুই যাস নি ভালোই হয়েছে। একে-তো এত কথা, এত ঝামেলা হয়েছে। তুই গেলে ঝামেলা বরং বাড়ত।"
এই কথা শুনে আরিশ বোনের দিকে তাকাল। “তানিশার মৃত্যু একটা দুর্ঘটনা ছিল অরণ্যা। তনয় সাহেবের মতো একজন মানুষ কেন এসব করতে যাবেন? ওনার মতো ব্যস্ত মানুষের কি আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই যে এসব ছোটলোকি করবে? বাবা আর আমি সব খবর নিয়েছি, তানিশার বিষয়ে তনয় সাহেবের কোনো হাত ছিল না। তুই শুধু শুধু ওনার নামে অপবাদ দিচ্ছিস। আমাদেরই ভুল ছিল যে আমরা মেয়েকে ভালো করে গড়ে তুলতে পারিনি। তানিশা যে এক ছেলের সাথে সম্পর্কে ছিল, তাও গভীর সম্পর্কে তা বুঝতে পারিনি। সে বাড়িতে চিঠি লিখে রেখেছিল। সব তাতে লেখা ছিল। ওই ছেলে নাকি টাকার জন্য ওকে ব্লাকমেইল করেছে। নইলে ভিডিও ভাইরাল করে দিবে। ভিডিও ভাইরাল করতেই শেষে উপায় না তানিশা আত্মহত্যা করে।"
সাদিক দেওয়ান অরণ্যার সামনে ঝুঁকে এসে নিচু, তীক্ষ্ণ স্বরে বললেন, “শোন অরণ্যা, তুই ভাগ্যবতী যে তনয় জেইদীর মতো একজন মানুষ তোর যাবতীয় কেলেঙ্কারির পরেও তোকে অসম্মান করেনি। তোর জন্য ওনার বংশের মান গেছে, লোক হাসাহাসি হয়েছে, অথচ লোকটা তোকে সম্মানের সাথে নিজের বাড়ির বড় বউ করে রেখেছে। এই রাজকীয় জীবন কজন পায়? আর তুই কিনা এখানে এসে আমাদের কাছে নালিশ করছিস?”
অরণ্যার মনে হলো তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। যে মানুষগুলো তার রক্ত, যারা তার আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল, তারাই আজ তনয় জেইদীর হয়ে কথা বলছে?তনয় যে কতটা ধূর্ত, সেটা অরণ্যা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। সে তার বাবাকে আর ভাইকে বোধহয় ভুল বুঝিয়ে অন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে তারা তনয়ের পৈশাচিকতা দেখতেই পাচ্ছে না।
আরিশ গম্ভীর মুখে বলল, “জেদ ছাড় অরণ্যা। বড় লোক বাড়িতে বউ হয়ে এসেছিস, গুছিয়ে থাক। তনয় সাহেব অনেক উদার মানুষ বলেই আমাদের এত আদর-যত্ন করে ঢাকা থেকে আনিয়েছেন। ওনাকে আর রাগাস না। আমরা এখন ফিরছি। আর খবরদার, ভবিষ্যতে যেন এমন উল্টোপাল্টা কথা না শুনি।”
অরণ্যা নিথর হয়ে সোফায় বসে রইল। তার কান্নার উৎসটা যেন শুকিয়ে গেছে। সে দেখল তার বাবা আর ভাই তনয় জেইদীর সাথে করমর্দন করে বিদায় নিচ্ছে। তনয় দরজায় দাঁড়িয়ে অরণ্যার দিকে তাকিয়ে এক পৈশাচিক বিজয়ের হাসি হাসল। অরণ্যা বুঝল, এই পৃথিবীতে সে এখন সম্পূর্ণ একা। তার আপনজনরাই তাকে তনয় নামের এই হিংস্র নেকড়ের মুখে ঠেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে।
তনয় ধীর পায়ে অরণ্যার কাছে এগিয়ে এল। তার কানে ফিসফিস করে বলল, “শুনলে তো মিসেস জেইদী? তোমার মুক্তির সব দুয়ার এখন বন্ধ। এখন থেকে তোমার জগৎ শুরু হবে আমার হাতের তালু থেকে, আর শেষও হবে এখানেই।”
চলবে?
( এখন আমার এই গল্পটাও বন্ধ করে দিতে ইচ্ছে করছে। কাদের জন্য গল্প লিখি? পাঠকই তো নেই।)