ফন্ট সাইজ:
থিম:
Forever Mine

২য় পর্ব

লেখক: Israt Jahan probah

Forever Mine

Israt Jahan probah

.২

[ একটা কথা বলে রাখি আমি নবীন লেখিকা আমার লিখা গল্পের পরিমাণ খুবই কম আমি এই নিয়ে তৃতীয় গল্প লিখছি আমার গল্পের অনেক সংশোধন করতে হতে পারে আবার অনেককিছুই শিক্ষার থাকতে পারে সেই দিক থেকে আমার ভুল ত্রুটি থাকলে অবশ্যই ধরিয়ে দিবেন আমি সেটি সংশোধন করে নিবো কেমন আপনারা পাশে থাকেন তাহলে হবে]

"ফ্ল্যাশব্যাক"

মেক্সিকো শহরের ব্যস্ততা সন্ধ্যার নিয়ন আলোয় রূপ নেয়, তখন শহরটির আন্ডারওয়ার্ল্ডের সমীকরণগুলো আরও বেশি রহস্যময় হয়ে ওঠে। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সবচেয়ে জমজমাট, অভিজাত এবং কুখ্যাত নাইট ক্লাব—'দ্য অবসিডিয়ান ভয়েড'-এর বাইরে এসে থামল একটি বুলেটপ্রুফ কালো রঙের মার্সিডিজ-বেঞ্জ জি-ওয়াগন। গাড়িটির গায়ে যেন অন্ধকারও থমকে দাঁড়িয়ে আছে।

ড্রাইভিং সিট থেকে কালো কোট পরিহিত ড্রাইভার দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল। ভয়ে তার মুখ দিয়ে ঠান্ডার রাতেও বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরছে, হাত কাঁপছে থরথর করে। তড়িঘড়ি করে সে পেছনের দরজাটা খুলে এক পাশে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, যেন সাক্ষাৎ যমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে।

গাড়ির ভেতর থেকে প্রথমে চকচকে একটি কালো চামড়ার জুতো মাটিতে রেখে অত্যন্ত সাবলীল, ধীরস্থির অথচ ব্যক্তিত্বপূর্ণ ভঙ্গিতে মাথা উঁচু করে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এল মেক্সিকো শহরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সর্বেসর্বা মাফিয়া বস—ম্যাক্সিমাস হ্যারিস।

তার পরনে ছিল নিখুঁত প্রিমিয়াম ইতালিয়ান স্যুট, চোখে গাঢ় রোদচশমা। রাতের আঁধারেও রোদচশমা পরে থাকার অদ্ভুত এক স্বভাব তার ব্যক্তিত্বকে আরও রহস্যময় করে তুলে। তার পেছনে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে রইল তার একদল বিশ্বস্ত নির্মম বডিগার্ড। ম্যাক্সিমাসের চারপাশের বাতাসে বইতে লাগল এক বরফশীতল ও থমথমে নীরবতা। ক্লাবের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা বিশালদেহী বাউন্সাররাও ভয়ে একপাশে সরে মাথা নিচু করে রইল; কারোরই সাহস হলো না মাফিয়া বসের চোখের দিকে তাকানোর।

ক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করার পর চারপাশের বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ এ চারপাশ ঘিরে ছিল। ম্যাক্সিমাস তার বডিগার্ডদের নিয়ে সোজা চলে গেল ভিআইপি লাউঞ্জের দিকে। এটি ক্লাবের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও নির্জন অংশ, যেখানে কেবল শহরের শীর্ষস্থানীয় অপরাধ জগতের বরপুত্র ও কোটিপতিদের আনাগোনা।

ভিআইপি লাউঞ্জের ভেতরে টেবিলে বসা ছিল মেক্সিকোর আরেক প্রভাবশালী ড্রাগ লর্ড ও সিন্ডিকেট প্রধান—দিয়েগো সান্তোস। তার সাথে ছিল তার দুই পেটুয়া আইনজীবী। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে আছে কোটি কোটি ডলারের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার বিজনেস ডিল ও কন্ট্রাক্ট পেপার।

ম্যাক্সিমাস সোফায় বসে কোনো কথা না বলে প্রথমে নিজের রোদচশমাটি খুলে টেবিলে রেখে সে তীক্ষ্ণ, বরফশীতল নীল চোখ দুটি দিয়ে সে দিয়েগো সান্তোসের দিকে তাকাল। সেই চাহনিতেই দিয়েগোর বুক কেঁপে উঠলেও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে থাকে।

দিয়েগো আমতা আমতা করে হাসার চেষ্টা করে বলল, "স্বাগতম ম্যাক্সিমাস! হ্যারিস এন্টারপ্রাইজের সাথে এই নতুন পার্টনারশিপ আমাদের ব্যবসাকে পুরো মেক্সিকো শহরের একচ্ছত্র অধিপতি বানিয়ে দেবে।"

ম্যাক্সিমাস কোনো মৃদু হাসি না দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, "ব্যবসায়ের কথা পরে হবে, মিস্টার দিয়েগো। কাগজপত্রগুলো সামনে আনুন। আমি দেখতে চাই শর্তগুলো ঠিকঠাক আছে কি না।"

দিয়েগো দ্রুত কাগজপত্র সামনে এগিয়ে দিল। ম্যাক্সিমাস এক মনে পাতাগুলো উল্টাতে লাগল। কিন্তু পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল একটি বিশেষ ধারার ওপর। তার হাতের আঙুলগুলো কাগজটার ওপর শক্ত হয়ে চেপে বসে যায়। সে দেখে তাদের মূল লজিস্টিকস রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আড়ালে ইউরোপ এবং লাতিন মেক্সিকো মধ্যে কোটি কোটি ডলারের সিন্থেটিক ড্রাগস ও কোকেন সাপ্লাই করার একটি গোপন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

টেবিলে হাত রেখে ঠান্ডা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দিয়েগোর দিকে তাকায় ম্যাক্সিমাস। তার শক্ত চোয়ালের পেশিগুলো দপদপ করে উঠে। পুরো বারের তাপমাত্রা যেন কয়েক ডিগ্রি নেমে আসে।

ম্যাক্সিমাস শান্ত বজ্রকঠিন, হিমশীতল গলায় উচ্চারণ করল:

"হ্যারিস এন্টারপ্রাইজ অন্ধকার জগতের ব্যবসা করে ঠিকই, অস্ত্র বেচে, ক্যাসিনো চালায়, কন্ট্রাক্ট ডিল করে—কিন্তু আমরা রক্ত, মানুষের জীবন আর ধ্বংসের নেশা বিক্রি করি না। বাচ্চাদের বা সাধারণ মানুষের মাঝে ড্রাগস ছড়ানোর মতো নোংরা খেলায় ম্যাক্সিমাস হ্যারিস কখনো হাত লাগায় না। এই ডিল এখানেই শেষ।"

দিয়েগো ও তার সহযোগীরা এই কথা শুনে চমকে উঠে কারণ তারা ভেবেছিল ম্যাক্সিমাস না দেখেই ডিল এ সাইন করে অ্যাপ্রেসিড করে নিবে কিন্তু এমন টা হওয়ার কথা ছিল না। মুখের ওপর এমন সোজাসাপ্টা অপমানজনক কথা শুনে দিয়েগোর চেহারার রং ফ্যাকাশে থেকে লাল হয়ে গেল। সে টেবিলে থাপ্পড় মেরে দাঁড়িয়ে উঠে বলল, "ম্যাক্সিমাস! তুমি ভাবছ তুমি কে? আমাদের মুখের ওপর না বলার সাহস তোমার হয় কীভাবে? এই সিন্ডিকেটে একবার পা রাখলে কেউ নিজের ইচ্ছায় বের হতে পারে না!"

ম্যাক্সিমাস এক ঝটকায় নিজের কোটের বোতাম ঠিক করে অত্যন্ত অবজ্ঞার সাথে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। সে দিয়েগোর চোখের দিকে তাকিয়ে এক চিলতে বিদ্রূপের হাসি হেসে বলল, "আমাকে নিয়ম শেখাতে এসো না, দিয়েগো। কার সাধ্য আছে আমাকে আটকে রাখে, সেটা আজকেই প্রমাণ পেয়ে যাবে।" আর একটু আগে চিন্তা ভাবনা অন্য কোথাও ট্রাই করবে কারণ ম্যাক্সিমাস পিপড়া হাঁটা ও মনোযোগ নিউর দেখে আর এ তো সামান্য কালি আর আমি দেখবো না হাস্যকর।

বলেই সে তার বডিগার্ডদের ইশারা দিল বের হয়ে যাওয়ার জন্য।

ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে গেল অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা! পেছন থেকে অতর্কিত আক্রমণ করতেই! দিয়েগোর ইশারায় লাউঞ্জের চারপাশের ছায়াবৃত কোণগুলো থেকে একদল ভাড়াটে গুন্ডা বেরিয়ে এল। তাদের সবার হাতে অটোমেটিক মেশিনগান ভারী অস্ত্র। তারা ম্যাক্সিমাস তার লোকদের ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে উদ্যত হতেই

গোলমালের ঠিক মাঝখানে হঠাৎ ঘটে গেল অভাবনীয় এক দৃশ্য। ক্লাবের ভিড়ের ভেতর থেকে বজ্রগতির মতো ছুটে এল এক রহস্যময় অবয়ব।

সে পরনে ছিল ডার্ক ব্লু রঙের হাঁটু সমান একটি স্লিক ব্লেজার, নিচে ম্যাচিং করা টাইট ফিটিং প্যান্ট এবং পায়ে কমব্যাট বুটস। তার মাথা ঢাকা ছিল একটি প্রিমিয়াম ডার্ক রঙের ফুল-ফেস স্কাল হেলমেটে, যার সাথে ছিল একটি উইন্ডপ্রুফ কালো ভাইজর স্কি ফেস মাস্ক, যা তার মুখ ও পরিচয় পুরোপুরি ঢেকে রাখা যায়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই ছিপছিপে দেহের রহস্যময়ী মেয়েটি বিদ্যুৎ গতিতে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে গুন্ডাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

তার ফাইটিং স্কিল ছিল অবিশ্বাস্য! একেকটা নিখুঁত কারাতে কিক, জুডো থ্রো জাপানিজ মার্শাল আর্টের ব্লেন্ডিংয়ে সে সেকেন্ডের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে দিতে লাগল সশস্ত্র গুন্ডাদের। তার ক্ষিপ্র গতি ও নির্ভুল আক্রমণ দেখে স্ক সেকেন্ড এর জন্য থমকে গেল খোদ ম্যাক্সিমাস হ্যারিস। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শত রক্তক্ষয়ী লড়াই, গ্যাং ওয়ার কিলারদের মুখোমুখি হওয়ার পরও এমন নিখুঁত, সুন্দর অথচ মারাত্মক ফাইটিং স্টাইল এর আগে কখনো দেখেছে বলে মনে হচ্ছে না তার কাছে এখন। মেয়েটি যেন কোনো জীবন্ত কালজয়ী ফাইটার প্রিন্সেস!

গোটা লাউঞ্জে তখন কাচ ভাঙার শব্দ, আর্তনাদ আর গুলির আওয়াজে প্রলয় কাণ্ড বেজে উঠেছে।

পরিস্থিতি যখন চরম উত্তপ্ত হিংস্র রূপ নিয়েছে, তখন প্রতিপক্ষের এক ক্ষিপ্ত কোণঠাসা সদস্য পেছন থেকে তীব্র আক্রোশে একটি ভারী কাঁচের ওয়াইনের গ্লাস সজোরে ছুড়ে মারেসেই মেয়েটির দিকে, ঠিক যখন সে অন্য এক গুন্ডাকে কিক করতে ব্যস্ত ঠিক তখনই

ম্যাক্সিমাস চোখের পলকে তা খেয়াল করে সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিষ্ঠুর মাফিয়া বস হলেও ভেতরে ভেতরে এক অদ্ভুত কারণে তার অবচেতন মন মেয়েটির ওপর থেকে এক সেকেন্ডের জন্যও দৃষ্টি সরায়নি। এক মুহূর্তও দেরি না করে ম্যাক্সিমাস বিদ্যুৎ গতিতে সে মেয়েটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিজের পেশিবহুল বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে একপাশে সরিয়ে নিল।

ঝাপটার মুখে ভারী কাঁচের ওয়াইনের গ্লাসটি সো গিয়ে সজোরে আঘাত হানল মেয়েটির মাথার হেলমেটে। গ্লাসের আঘাতে কাঁচগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে, আর সেই প্রচণ্ড আঘাতে মেয়েটির মাথার হেলমেটটি হেলে গিয়ে ছিটকে দূরে পড়ে গেল।

আর ঠিক তখনই উদ্ভাসিত হলো এক অভাবনীয় রূপ! হেলমেট ছিটকে যাওয়ার সাথে সাথে মেয়েটির চুলগুলো কোমর ওপর ছড়িয়ে পড়ল। তার মুখের ওপর থাকা স্কি ফেস মাস্ক ভাইজরটিও হালকা সরে গিয়ে উন্মুক্ত করে দিল তার মুখাবয়ব যদিও মুখের সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়নি। বিশেষ করে তার মায়াবী, দীপ্তিময়, গভীর চোখগুলোর ওপর গিয়ে পড়ল আন্ডারওয়ার্ল্ডের নির্মম মাফিয়া বস ম্যাক্সিমাস হ্যারিসের দৃষ্টি।

মুহূর্তের জন্য থমকে গেল ম্যাক্সিমাসের হৃদস্পন্দন। চারপাশের সময় যেন এক ফোঁটায় থেমে গেল। গুলির শব্দ, গুন্ডাদের চিৎকার—সবকিছু পলকে মিলিয়ে গেল মহাশূন্যে। সেই মায়াবী অথচ অসম্ভব সাহসী চোখগুলোর দিকে তাকিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই নিষ্ঠুর মানুষটির বুকজুড়ে হঠাৎ অদ্ভুত এক অজানা অনুভূতি আর উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে। তার বুকের ভেতর কেমন যেন এক অজানা শিহরণ বয়ে গেল, যা সে জীবনে কখনো অনুভব করেনি।

মেয়েটি মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে সামলে নিল। সে ম্যাক্সিমাসের শক্তিশালী হাতের বাঁধন থেকে এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। নিজের মুখ হাত দিয়ে কিছুটা ঢেকে, পরনের ব্লেজার ও স্কার্ট পোশাকের ভাজগুলো দ্রুত ঠিক করে নিল। তারপর এক সেকেন্ডের জন্যও আর কালবিলম্ব না করে সে ম্যাক্সিমাস কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ক্লাবের পিছনের গোপন ফায়ার এক্সিট দরজার দিকে বিদ্যুৎ গতিতে দৌড়ে মিলিয়ে গেল।

ম্যাক্সিমাস স্থবির হয়ে সেই দরজার দিকে তাকিয়ে রইল কিন্তু অবাকের বিষয় সে কিছুই করছে না কেমন রোবটের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে তার ভেতরের সত্ত্বা তখন এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে ডুব দিয়েছে।

ঠিক সেই মুহূর্তে ম্যাক্সিমাসের বিশ্বস্ত বন্ধু তবে পার্টনার দায়িত্ব বেশিই—লিওনার্ড (Leo) দৌড়ে তার কাছে এসে। লিওনার্ডের চেহারায় তখন চরম উৎকণ্ঠা।

লিওনার্ড হাঁপাতে হাঁপাতে ইংরেজিতে চিৎকার করে উঠল:

"Max! Are you out of your mind? What the hell was that? Why did you jump in front of that glass? You could have been seriously hurt! Let's get out of here right now before the federal police show up!"

[ম্যাক্স! তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? এ তুমি কী করলে? ওই গ্লাসটার সামনে লাফিয়ে পড়তে গেলে কেন? তোমার বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়ে যেতে পারত! ফেডারেল পুলিশ আসার আগেই চলো আমরা এখনই এখান থেকে বের হয়ে যাই!"]

ম্যাক্সিমাস যেন লিওনার্ডের কোনো কথাই কানে নিচ্ছিল না। তার চোখ তখনও সেই শূন্য দরজার দিকে স্থির হয়ে আছে। সে নিজের ডান হাত দিয়ে নিজের বুকটা ছুঁয়ে নেয়, যেখানে একটু আগে মেয়েটির হৃৎস্পন্দন সে অনুভব করেছিল।

দিয়েগো সান্তোস ততক্ষণে ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে চিৎকার দিয়ে উঠল, "ম্যাক্সিমাস! তোমরা আমার ডিল ভেস্তে দিয়েছ আমার লোকজনকে মেরেছ! এর চড়া মূল্য দিতে হবে তোমাদের!"

ম্যাক্সিমাস ধীরে ধীরে নিজের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েগোর দিকে তাকাল। তার চোখের সেই বরফশীতল চাহনি এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে দিয়েগো ভয়ে দুই পা পিছিয়ে গেল। ম্যাক্সিমাস নিজের পকেট থেকে রুমাল বের করে হাত মুছতে মুছতে অত্যন্ত ঠান্ডা, নিচু কিন্তু মারাত্মক গলায় ইংরেজিতে বলল:

"Shut up, Diego. Just shut the fuck up right now."

লিওনার্ড দ্রুত ম্যাক্সিমাসের কাঁধে হাত রেখে ইশারা করে শান্ত করার সুরে বলল, "ম্যাক্স, প্লিজ রিলাক্স ম্যান! জাস্ট রিলাক্স! লেটস নট লুজ আওয়ার টেম্পার হিয়ার। উই হ্যাভ টু গেট আউট অফ দিস প্লেস রাইট নাও। কাম অন!"

ম্যাক্সিমাস নিজের চোয়ালের পেশি শক্ত করে দিয়েগোর কলার চেপে ধরে তার মুখের একদম কাছে মুখ নিয়ে নিচু গলায় হুংকার দিয়ে উঠল:

"আমার ব্যবসার শর্ত ভাঙার শাস্তি কী জানিস, দিয়েগো? আজ তোকে ছাড় দিলাম কারণ আমার অন্য এক জায়গায় মন আটকে গেছে। কিন্তু এরপর যদি আমার সামনে আসিস, তবে তোর অস্তিত্ব এই মেক্সিকো শহরের মানচিত্র থেকে মুছে দেব।"

বলেই সে দিয়েগোকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে লিওনার্ডকে ইশারা করে সে দ্রুত পায়ে ক্লাবের বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য পা বাড়াল। ক্লাব থেকে বের হওয়ার ঠিক আগে সে লিওনার্ডকে চোখের ইশারায় ফিসফিস করে বলল, "লিও, ওই মেয়েটাকে আমার চাই। সে কে, কোথা থেকে এসেছে—সব তথ্য চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আমার টেবিলে চাই। একটি সেকেন্ডও যেন দেরি না হয়।"

ক্লাবের বাইরে এসে ম্যাক্সিমাস দেখে তার কালো মার্সিডিজ গাড়িটি প্রস্তুত। কিন্তু তার মনের ভেতর তখন অন্য ঝড় বইছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ক্লাবের পাশের অন্ধকার গলি থেকে গর্জে উঠল একটি শক্তিশালী সুপারবাইক। ডার্ক ম্যাট ব্ল্যাক রঙের ভারী স্পোর্টস বাইকটি স্টার্ট নিয়ে চোখের পলকে রাতের আঁধার চিরে ঝড়ের বেগে ছুটে মিলিয়ে গেল মেক্সিকো শহরের মূল হাইওয়ের দিকে। বাইকের চালক আর কেউ নয়—সেই রহস্যময়ী মেয়েটি!

ম্যাক্সিমাস গাড়ির দরজায় হাত রেখে এক পলক সেই বাইক চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে টা রাতে থাকা সেই হেলপেট টির দিকে তাকিয়ে তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক রহস্যময় হাসি। অন্ধকার জগতের নিষ্ঠুর মাফিয়া বস আজ প্রথমবার কারো প্রেমে বা মোহে আচ্ছন্ন হয়েছে। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে —যেভাবেই হোক, এই রহস্যময়ীকে সে খুঁজে বের করবেই। সে শুধুই ম্যাক্সিমাসের—'ফরেভার মাইন'!

রাত তখন গভীর। মেক্সিকো শহরের অচেনা ও নির্জন এক গলির শেষ মাথায় এসে হঠাৎ ব্রেক কষে থেমে গেল স্পোর্টস বাইকটি। এটি তাদের গোপন আস্তানা সেফহাউস। বাইক থেকে নেমেই মেয়েটি দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে গেল তার সিক্রেট রুমের দিকে।

ডিজিটাল পাসওয়ার্ড দিয়ে সোজা ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে ভারী দরজাটি নিজ থেকে সয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেল। সে সোজা গিয়ে বসল টেবিলের পাশের চামড়ার চেয়ারটায়। তারপর একটানে মাথা থেকে স্কি ফেস মাস্কটি খুলে পাশের টেবিলে ধপ করে ছুঁড়ে ফেলল।

মাস্ক খুলতেই বোঝা গেল, এই ভয়ডরহীন ফাইটার আর কেউ নয়—স্বয়ং জারিন!

জারিন আসার পর কিছুক্ষণ কেটে গেছে। তার ঠিক কিছুক্ষণ পরই সেখানে উপস্থিত হলো রিসা ও জাস্টিন।

তারা দুজনে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত ও চিন্তিত নজরে জারিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তাদের এই চাউনি বা তাকানোটা জারিনের কাছে যেন নিজ মায়ের বাড়ির সেই বাসি চায়ের মতো পরিচিত ও অর্থহীন মনে হলো। তাই সে তাদের কোনো পাত্তা না দিয়ে নিজের মতো করে বরফের টুকরো দিয়ে ভর্তি গ্লাস থেকে চুমুকের পর চুমুক পানি খেতে লাগল।

রিসা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে দ্রুত এগিয়ে এসে জারিনের পাশে বসে উদ্‌ভ্রান্ত ও চিন্তিত কণ্ঠে বলে উঠল

মাথা কি ঠিক আছে তোর একা এত একটা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় তুই একা কেন গেলি, আমাকে বল তো? আমরা কত চিন্তায় ছিলাম জানিস? একটা বার ভাব, আন্টি-আঙ্কেলকে কী বুঝিয়েছি! কত রকম মিথ্যে বলে তাদের সামলে রেখেছি, সেই দিকে তোর একটুও খেয়াল আছে? আমাকে বল তো! তোর সাহস অতিরিক্ত বেড়ে গেছে, সবসময় নিজের মতো করে চলতে চাস কেন বল তো? তুই কি ভুলে যাস তোর একটা পরিবার আছে? ভুলে যাস তোকে ঘরে ফেরার কেউ অপেক্ষা করে?"

রিসা তার ক্ষোভ ও বুকচাপা ভয় থেকে কথাগুলো প্রায় চেঁচিয়ে বলে ফেলল।

কিন্তু রিসার মুখে পরিবার ও আত্মীস্বজনের কথা শুনতেই জারিনের মনের ভেতর জমে থাকা পুরোনো ক্ষতগুলো দাউদাউ করে জ্বলে উঠে তার চোখের পলক কঠোর হয়ে গেল।

জারিন আর নিজেকে সংযত রাখতে পারল না। সে গ্লাসটা হাত থেকে সজোরে ফ্লোরে ছুঁড়ে মারে। কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দে ঘরটা কেঁপে উঠে সে চিৎকার করে বলে উঠল:

"আর তোরা কী ভুলে যাস আমার বোনের সাথে সেদিন কী জঘন্য অন্যায়টা করা হয়েছিল?! সেদিন কি আমরা কম বিচার চাইতে গিয়েছিলাম? বল, কই জন আমাদের সাহায্যের হাত কয়জনে বাড়িয়ে দিয়েছিল ? কই জন আমার বোনের এই মর্মান্তিক অন্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল? কেউ হয়েছিল কি? তোরা কি ভুলে গেছিস সেদিনের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা? যেদিন আমার বোনের বিধ্বস্ত, রক্তাক্ত ও ছিঁড়ে যাওয়া কাপড়ে রাস্তার ডাস্টবিনে পড়ে থাকার সেই দৃশ্যটা আমাদের সামনে এসেছিল? তোরা এসব ভুলে যেতে পারিস, কারণ তোদের কেউ আপন কাউকে হারাসনি! তোরা নিজের কাউকে হারানোর কষ্ট জানিস না! যদি হারাতিস, তবে বুঝতে এর মর্ম ঠিক কতখানি ভয়ংকর!"

চিৎকার করে কথাগুলো বলে জারিনের বুকটা কেঁপে ওঠে। তার চোখ দুটো লাল হয়ে গেল।

জাস্টিন এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। সে গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস নিয়ে জারিনের একদম কাছে এসে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত নরম অথচ ভারী গলায় বলল:

"আমি বা আমরা কেউই কিন্তু ভুলে যাইনি সেই দিনের কথা, জারিন! আর না কখনো ভুলতে পারব। ভুলে যাওয়ার জন্য তো আমরা এই অন্ধকার রাস্তায় পা বাড়াইনি। তুই তো জানিস ওরা কতখানি জঘন্য আর পিশাচ প্রকৃতির মানুষ! ওরা জাফারের সাথে যা করেছে—আল্লাহ না করুক, তোর সাথেও তো তারা একই কাজ করতে পারত! আর সেই ভয়টাই তো আমরা পাচ্ছিলাম। তুই রিসাকে না নিলেও অন্তত আমাকে তো সাথে নিতে পারতি! কিন্তু তুই এই গভীর রাতে একাই সব বিপদের মুখে ঝাঁপিয়ে পড়লি!"

কথাটি শেষ করেই জাস্টিন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। সে ধপ করে পাশের অন্য একটি চেয়ারে বসে পড়ে নিজের দুইহাতে মাথা নিচু করে ফেলল।

জারিন একটা দীর্ঘ ভারী নিঃশ্বাস ফেলল। সে রিসা ও জাস্টিনের মাঝখানের চেয়ারটায় গিয়ে বসে তাদের দুজনের দিকে মায়াবী অথচ ক্লান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে শান্ত গলায় বলল:

"আমি তোদের জানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জানাইনি। আমি চাইনি এই গভীর রাতে তোরা আমাকে নিয়ে অকারণে টেনশন করিস, তাই বলিনি। আর সব থেকে বড় কথা হলো—আমি সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইনি। আমি বিকেলের দিকে যখন আম্মুর জন্য প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কিনতে ফার্মেসিতে গিয়েছিলাম, ঠিক তখনই ওদের গতিবিধি আমার নজরে আসে। এত কম সময়ে কীভাবে কী করব, তা নিয়ে মাথা কাজ করছিল না। ওই অমানুষটাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার করার সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে চাইনি, তাই অতড়াহুড়ো করে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু কাজের কাজ তো কিছুই হলো না! উল্টো ওই মাথা মোটা অদ্ভুত লোকটার সাথে ধাক্কা খেয়ে আমার হেলমেটটা ওইখানেই পড়ে গেল। কোনো রকমে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে চলে আসতে বাধ্য হলাম।"

রিসা অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলে উঠল:

"মানে কী! তুই ওই জানোয়ারটাকে সামনাসামনি দেখেও কিছু করলি না? তুই তাকে চিনতে পারিসনি?"

জারিন ম্লান হাসল। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "অবশ্যই দেখেছি এবং খুব ভালোভাবেই চিনে গেছি! তার ডান হাতের কনুইয়ের সেই চেনা রেড ট্যাটুটা (Red Tattoo) ঠিকই আমার চোখে পড়েছিল। আর সেটাই দেখে আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়ে গেছি যে ওটাই সেই নরপিশাচ।

রিসা এই চিন্তা যুক্ত কথার মাঝখানে ফট করে বগড উঠে,,

তা সেই অদ্ভুত মাথা মোটা লোকটি কে জানতে পারি?

জারিন চোখগুলো ছোট ছোট করে তার দিকে বলে,,, হবে হয়তো কোনো গায়ের বাছুর তা জেনে আমার কোনো কাজ নেই তবে আমি দেখেছি তাকে ওই অমানুষের পাশে বসে থাকতে তবে মাঝখানে ঝামেলা হওয়ায় আর ধ্যান দিতে পারিনি।

রিসা দুষ্টু হেসে বলে , ওহ তো তোর কাছে সময় থাকলে তাকে মন ভরে দেখতি নাকি?

জারিন এবার ক্ষিপ্ত নজরে তাকিয়ে বলে,, ফাইজলামি করবি না রিসা তুই ভালো করেই জানিস এইসব ফালতু জিনিসের প্রতি আমার কোনো ইন্ট্রেস্ট নেই গড ইট সো ক্লোজ থিস চ্যাপ্টার রাইট নাও।

জাস্টিন এবার মাথা তুলে জারিনের চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রশ্ন করল:

"আচ্ছা, তো এখন আমাদের পরবর্তী চিন্তা ভাবনা কী? এই বিষয়ে তুই কী ভেবেছিস?"

জারিন এবার নিজেকে সামলে নিল। তার মুখের চাউনিতে ফিরে এল সেই কঠিন ও জেদি অভিব্যক্তি। সে শক্ত কণ্ঠে বলে উঠল:

"অবশ্যই কিছু একটা তো করবই! চুপ করে বসে থাকার পাত্রী আমি নই। তবে এবার যা হবে, তা এমন এক ধামাকা হবে যা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারবে না! আচ্ছা শোন জাস্টিন, আমরা আপাতত এই বিষয় নিয়ে আর কথা বাড়াচ্ছি না। অনেক রাত হয়ে গেছে, ঘড়িতে প্রায় দুটো বাজতে চলল। এখন আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে, চল।"

বলেই জারিন চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। সে বাড়ির দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই রিসা হঠাৎ হাত ধরে জারিনকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল:

"আরে মিস চশমিশ! কোথায় চললেন এভাবে? আপনার এই রূপ পরিবর্তন করুন! আগে সেই রূপ ধারণ করুন, যেই রূপে আপনাকে আপনার বাবা-মা চেনে এবং দেখতে অভ্যস্ত।"

রিসা জারিনের হাতে মার্জিত পোশাকগুলো ধরিয়ে দিয়ে তাকে সোজা ওয়াশরুমের দিকে ঠেলে পাঠিয়ে দিল।

কিছুক্ষণ পর জারিন বাধ্য মেয়ের মতো সেই চশমা আর সাধারণ পোশাক পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এল।

তার এই সাদামাটা রূপ দেখেই রিসা ও জাস্টিন একসাথে দুষ্টু হাসি হেসে বলে উঠল:

"এই তো আমাদের ঢাকনাওয়ালি একদম পারফেক্টলি রেডি!"

নিজের এই রূপ দেখে জারিন একটু ভঙিমায় রাগী ভাব নিয়ে তাদের দিকে তাকাতেই, তিনজনে একসাথে খিলখিল করে হেসে উঠল। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সমস্ত রক্তক্ষয়ী উত্তেজনা আর দুশ্চিন্তাকে পেছনে ফেলে সেই ছোট রুমটা মুহূর্তের জন্য তাদের হাসিতে মুখরিত হয়ে উঠে।

(আপনাদের সুন্দর রেসপন্স এবং ভালোবাসা পেলে এ

ই গল্পটি আরও চমৎকারভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না!)

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন