ফন্ট সাইজ:
থিম:
Forever Mine

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: Israt Jahan probah

Forever Mine

Israt Jahan probah

.৬

ভোরের মিষ্টি আলো জারিনের মুখে পড়তেই আরোমোরো হয়ে ঘুম থেকে উঠে বসে। পাশ থেকে ফোন টা নিয়ে দেখে রিসা কিছুক্ষন আগে কল দিয়েছিল জারিন দেখে সেও রিসা কে কল। রিং হওয়ার সাথে সাথে কল রিসিভ করে রিসা।

রিসা কল ধরেই বলে উঠে,, জারিন শুন ফোনে এত কথা বলা যাবে না 099 ( এমন সংখ্যা দিয়ে কথা তারাই বলে যাদের কল বা কোনো কিছু বলতে গেলে সরাসরি দেখা করার এটি সুরক্ষা সিস্টেম)

ওকে।

জারিন রিসা কথা বলো ফোন কেটে দিয়ে হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। মোটামুটি ভালোই সকাল তবুও রাস্তায় তেমন কোনো মানুষ নেই তাই সে অস্থির নিঃশ্বাস ফেলে দ্রুত যেতে থাকে।

কিছুক্ষণ লতাপাতায় মোড়ানো জায়গাটায় চলে এসে হ্যান্ড স্কেন করে ভিতরে প্রবেশ করে জারিন।

সে ভিতরে গিয়েই থেকে আগে থেকেই জাস্টিন রিসা উপস্থিত ছিল।

জারিন তাদের কাছে গিয়ে জানতে চায় কি হয়েছে সকাল সকাল এইভাবে ডেকে পাঠানোর মানে কি?

রিসা উৎকণ্ঠে বলতে গেলে জাস্টিন থামিয়ে দেয়,,,

তারপর জাস্টিন বলে,,, দোস্ত তোকে এত সকাল সকাল ডেকেছি এর পিছনে তো অবশ্যই কারণ আছেই।

জারিন আবারও জিজ্ঞেস করলে জাস্টিন এবার মনিটরের দিকে ইশারা করে। জারিন ও সেদিকে তাকায়।

সেখানে দেখা যাচ্ছে একটি নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ফ্রেডি ম্যারাডোনা ও তাঁর পুত্র দিয়েগো ম্যারাডোনাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে!

এখনও পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় মূল রহস্য উদঘাটিত না হলেও, ঘটনাস্থলে দুই লাশের যে লোমহর্ষক চিত্র দেখা গেছে—তাতে পুলিশ ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি কোনো সাধারণ হত্যা নয়, বরং পুরোনো কোনো গভীর ক্ষোভ বা চরম আক্রোশ থেকেই এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

ঘটনাস্থলের মর্মান্তিক কিছু বিবরণ:

দিয়েগো ম্যারাডোনার শরীর থেকে পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে।

তাঁর মাথার একপাশ থেকে মগজ বের করে নেওয়া হয়েছে।

হাতের নখ ছাড়া বাকি আঙুলগুলো আলাদা করে ফেলে রাখা হয়েছে।

মুখের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অজস্র খামচির গভীর দাগ।

পিতা ফ্রেডি ম্যারাডোনার শরীরেও একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং নির্যাতনের এমন সব ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে ঘাতকরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ধীরে ধীরে তিলে তিলে তাদের পৈশাচিক তৃপ্তি মিটিয়েছিল। ঘরের প্রতিটি কোণায় যেন রক্তের ছিটেফোঁটা আর যন্ত্রণার আর্তনাদের প্রতিধ্বনি ঝুলে আছে।

কে বা কারা এই বর্বরোচিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত শেষেই প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

ধন্যবাদ।

চোখেমুখে চরম রেগে, অবিশ্বাস আর ক্রোধ নিয়ে সে চিৎকার করে বলতে থাকে—

"আআআআআআআ! না... না! এটা হতে পারে না! আমার শত্রুকে এইভাবে মারলো কে?! আমি বেঁচে থাকতে আমার শত্রুকে আমার নিজের হাতে শেষ করার কথা ছিল! আমি বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছি নিখুঁত বদলা নেওয়ার জন্য, তিলে তিলে কায়দা করেছি নিজের হাতে হিসাব চুকানোর জন্য! তবে আমার সেই শত্রুকে আমার আগে অন্য কোনো কাপুরুষ এমন পশুবৃত্তসুলভ উপায়ে কীভাবে শেষ করে দিল? কে সেই নরপিশাচ? কেড়ে নিল আমার অধিকার?!"

জাস্টিন জারিনের পাশে এসে বলে তার সাথে সাথে রিসা ও আসে।

জাস্টিন এবার বলে,, এখন কি করবি আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না আমরা কেউ কিছু না করলে এই নিখুঁত খুন কে করলো আমার মাথাতেই আসছে না।

জারিন শক্ত চোখে মনিটরের দিকে তাকিয়ে বলে,,, যে করেছে তাকে খুঁজে বের কর কিভাবে বের করবি? জানিনা কিন্তু খুঁজে বের কর কত বড় স্পর্ধা আমার শিকার কেড়ে নেয়।

রিসা চিন্তিত কণ্ঠে বলে,,, কিন্তু আমরা কীভাবে খুজবো কিছুই তো বোঝতে পারছি না?

জারিন হঠাৎ উঠে দাঁড়ায় তাদের কে বলে চল,,

জাস্টিন বলে, কোথায় যাবো?

যেখানে ওই কুত্তার বাচ্চা কে মারা হয়েছে।

ওইখান এ এখন আমরা গিয়ে কি করবো?

রিসার কথায় ঘরটার ভেতর এক মুহূর্তের জন্য যেন পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। জাস্টিন মনিটরের দিকে থেকে চোখ সরিয়ে রিসার দিকে তাকায়, তার কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই জারিনের মুখের সেই কঠিন, পাথুরে অভিব্যক্তি সমস্ত ঘরটাকে যেন হিমশীতল করে তোলে। তার চোখের চাহনিতে এখন আর কোনো কান্না বা দুর্বলতা নেই; সেখানে জ্বলছে কেবল ধ্বংসের আগুন আর প্রতিশোধের এক অন্ধ নেশা।

"যেখানেই মারা হোক না কেন, সুয়োরের বাচ্চাগুলোর গন্ধ ঠিকই সেখানে পাওয়া যাবে," জারিনের গলার স্বর এতটাই নিচু কিন্তু তীক্ষ্ণ ছিল যে জাস্টিন আর রিসা দুজনেই শিউরে ওঠে। "তোরা কি ভেবেছিস আমি হাত গুটিয়ে বসে থাকব? আমার শিকার, আমার হিসাব—সেটা অন্য কেউ এসে চুকিয়ে দিয়ে যাবে আর আমি শুধু দর্শকের মতো তা দাঁড়িয়ে দেখব? কক্ষনো না! চল আমার সাথে, এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করার সময় নেই।"

জারিন আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করে না। ঝড়ের বেগে নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে সে ঘরের দরজার দিকে পা বাড়ায়। তার পরনের পোশাক আর এলোমেলো চুলে তাকে এই মুহূর্তে কোনো উন্মাদিনী শক্তির প্রতীক বলেই মনে হচ্ছিল। জাস্টিন এক পলক রিসার দিকে তাকায়, এরপর আর কোনো প্রশ্ন না করে রিসাকে সাথে নিয়ে দ্রুত জারিনের পিছন পিছন ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।

বাইরে তখন রোদ্র নেই বললেও চলে আধার আধার পরিবেশ মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। শহরের অলিতে গলিতে পুলিশের সাইরেনের শব্দ মাঝে মাঝে দূর থেকে ভেসে আসছে। তিনজনে মিলে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে এবং সরাসরি জাস্টিনের কালো রঙের এসইউভি গাড়িটার দিকে এগিয়ে যায়।

জাস্টিন নিজেই ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসেন, আর পিছনের সিটে জারিন ও রিসা পাশাপাশি বসে। গাড়ি স্টার্ট নেওয়ার সাথে সাথেই ইঞ্জিন গর্জে ওঠে এবং আঁধারের ফাঁকা রাস্তাগুলো চিরে গাড়িটা তীব্র গতিতে ছুটতে শুরু করে সেই অভিশপ্ত বাংলোর দিকে—যেখানে ফ্রেডি ও দিয়েগো ম্যারাডোনাকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হয়েছিল।

কারো মুখেই কোনো কথা নেই। শুধু বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আর ইঞ্জিনের গর্জনের আওয়াজ। জারিন জানলার কাঁচের বাইরে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, তার হাতের মুঠি দুটো এতটাই শক্ত করে বন্ধ করা যে তার আঙুলের গিঁটগুলো সাদা হয়ে গেছে। তার মাথার ভেতর কেবল একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে—কে সেই ধুরন্ধর? কে এমন দুঃসাহস দেখাল যে তার চোখের সামনে থেকে তার বহুদিনের লালিত শিকারকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল?

প্রায় বিশ মিনিট দ্রুত ড্রাইভ করার পর গাড়িটা এসে থামে সেই অভিজাত ও সুনসান বাংলোর সামনে। জায়গাটা পুলিশ ইতোমধ্যে ক্রাইম সিন হিসেবে হলুদ ফিতে দিয়ে ঘিরে রেখেছে। চারপাশটা কেমন যেন একটা ভারী ও থমথমে পরিবেশে ভরা। রাতের কৃত্রিম লাইটের আলোয় বাংলোর মূল গেটটা আরও ভুতুড়ে দেখাচ্ছে।

দূরে দু'জন পুলিশ কনস্টেবল পাহারা দিচ্ছিল, কিন্তু জাস্টিন অত্যন্ত চতুরতার সাথে গাড়িটাকে একটু আড়ালে পার্ক করে এবং তাদের পরিচিত ও প্রভাবশালী মহলের কিছু চালবাজি তে প্রবেশের গোপনীয় পথ কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই মূল বেড়ার পিছন দিক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। পুলিশের নজর এড়িয়ে তারা ঠিক সেই ঘরের সামনে এসে পৌঁছায়, যেখানে কিছু সময় আগেও রক্তে ভেসে গিয়েছিল মেঝের টাইলস।

ভাঙা দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করতেই নাকে লাগে সেই তীব্র, বিশ্রী গন্ধ—রক্ত, ঘাম এবং মৃত্যুর গন্ধ। ঘরের ভেতরে এখনও পুলিশি ফরেনসিকের কিছু চিহ্ন এবং ইশারার দাগ রয়ে গেছে। মেঝেতে তাকালে সেই ভয়াবহ রাতের দৃশ্যগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। রিসা ভয়ে ভয়ে নিজের হাত দুটো দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে, সে আর এক মুহূর্তও এই ঘরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না।

"আমরা এখানে এসে কী করব, জারিন?" রিসা কাঁপতে কাঁপতে ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলে। "এখানে তো পুলিশ সব তছনছ করে দিয়ে গেছে। কোনো ক্লু পাওয়ার কিচ্ছু নেই এখানে। তুই ভুল করছিস, চল এখান থেকে চলে যাই।"

জারিন রিসার কথায় কানও দেয় না। সে ধীর পায়ে হেঁটে ঠিক সেই জায়গাটায় গিয়ে দাঁড়ায় যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহটি পড়ে ছিল। সে হাঁটু গেয়ে মেঝের ওপরে বসে পড়ে। তার হাত গিয়ে লাগে সেই রক্তমাখা সুতোর টুকরো কিংবা ঘাতকদের ফেলে যাওয়া অবশিষ্টাংশের ওপর। তার বুকটা আবার উত্তাল হয়ে ওঠে। সে নিচু গলায় বিড়বিড় করে বলে, "পুলিশ যা দেখবে, আমরা সেটা দেখব না, রিসা। পুলিশ দেখছে অপরাধী ধরার প্রমাণ... আর আমি খুঁজছি ঘাতকের আত্মার গন্ধ। যে এখানে এসেছিল, সে নিজের রক্ত বা কোনো না কোনো চিহ্ন এখানে ফেলে গেছে। খুনি যত বড় চাল্লাই হোক না কেন, নিখুঁত অপরাধ বলে কিছু হয় না।"

জাস্টিন ঘরের অন্য কোণে গিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে চারপাশটা খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করে। সে দেয়ালের কোণগুলো, আলমারির ভাঙা অংশ এবং জানলার লকগুলো পরীক্ষা করতে করতে বলে, "জারিন ভুল বলছে না। একটু লক্ষ্য করলেই বুঝবি, এই বাংলোতে ঢোকার বা বেরোনোর রাস্তা একটাই নয়। গেট ভেঙে কেউ আসেনি, বরং ঘরের পেছনের স্মোক ভেন্টিলেটর বা ছোট গ্লাস কাটার কোনো মেকানিজম ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, ঘাতকরা জানত এই বাড়ির ভেতরকার সিকিউরিটি সিস্টেম কেমন।"

"ঠিক বলেছিস, জাস্টিন," জারিন মাটি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। তার চোখ দুটো অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে। "ওরা শুধু বাইরের কেউ নয়। ওরা এই বাড়ির অলিগলি, ফ্রেডি ম্যারাডোনার চলাফেরার সময়, এবং আমাদের প্রতি ইঞ্চির খবর রাখত। এমন কেউ যে আমাদের মাথার ওপর দিয়ে এই খেলা খেলে গেছে।"

"কিন্তু জারিন, আমাদের হাতে তো কোনো নাম নেই, কোনো প্রমাণ নেই!" রিসা কিছুটা হতাশার সুরে বলে ওঠে। "তুই না হয় প্রতিশোধের আগুনে পুড়ছিস, কিন্তু আমরা শুরুটা করব কোথায় গিয়ে? কার বিরুদ্ধে লড়ব আমরা?"

জারিন এক পা এগিয়ে এসে রিসার কাঁধে হাত রাখে। তার গলার স্বরে এবার কোনো রাগ নেই, বরং এক অদ্ভুত হিমশীতল আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ে। সে বলে, "শুরুটা করতে হবে সেই জায়গা থেকে, যেখান থেকে এই খবরটা প্রথম আমাদের কানে এসেছে। ফ্রেডির সাথে কার শেষ শত্রুতার বৈঠক হয়েছিল? কোন ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট গত এক সপ্তাহ ধরে আমাদের পেছনে লাগার চেষ্টা করছিল? সেই তালিকা বের করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা—যে আমার শিকারকে আমার আগে শেষ করেছে, সে নিশ্চয়ই পৈশাচিক উল্লাসে কোথাও না কোথাও আরামেই বসে আছে। আমি তাকে খুঁজে বের করবই, সে যেখানেই হোক না কেন।"

জাস্টিন পকেট থেকে তার মোবাইল ফোনটা বের করে স্ক্রিনটা অন করে বলে, "খবর নেওয়ার জন্য আমার কিছু লোক ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের খবর যারা রাখে, তাদের সাথে আমি যোগাযোগ করেছি। তবে একটা কথা মনে রাখিস, জারিন—এই খেলার পরিণতি কিন্তু খুব ভয়ংকর হবে। যে এমন নিখুঁত ও নৃশংস খুন করতে পারে, সে আমাদের জন্যও ফাঁদ পেতে বসে আছে।"

"ফাঁদ তো আমি নিজেই পেতে রেখেছিলাম, জাস্টিন!" জারিনের মুখে এক নিষ্ঠুর ও মারাত্মক হাসি ফুটে ওঠে। "ওরা ভেবেছে আমাকে ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যাবে? এই শহরে আমার অনুমতি ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না, আর সেখানে আমার চোখের সামনে দিয়ে একটা আস্ত প্রতিশোধের গল্প কেউ অন্য কারো হাতে লিখে দিয়ে চলে যাবে—তা হতে দেব না। চল, এখান থেকে বের হতে হবে। আমাদের প্রথম টার্গেট এখন ওই আন্ডারওয়ার্ল্ডের ইনফর্মারটা, যে ডন ক্যাসিয়ানোর সাথে শেষ কথা বলেছিল।"

বাইরে তখন ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বাংলোর ভাঙা জানলা দিয়ে হু হু করে বাতাস ঢুকে ঘরের ভেতর এক অদ্ভুত ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করছে। জারিন, জাস্টিন আর রিসা আর এক মুহূর্তও সেখানে অপেক্ষা করে না। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেই অভিশপ্ত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে এবং গাঢ় অন্ধকারের ভেতরেই মিলিয়ে যায় এক নতুন ও আরও বড় রক্তের খেলার সন্ধানে।

ম্যাক্সিমাসের শীতল ছায়া ক্যাসিনোর নেশা

রাত তখন আরও গভীর হয়েছে। শহরের আকাশটা যেন জমাট বাঁধা কালির মতো কুচকুচে কালো। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তখন ছড়িয়ে পড়েছে ফ্রেডি ও দিয়েগো ম্যারাডোনার পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিহরণ। কিন্তু এই ধ্বংসস্তূপ, রক্তের গন্ধ আর অন্ধ আক্রোশের কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরে, শহরের অন্য এক বিলাসবহুল ও সুরক্ষিত গ্লাস টাওয়ারের ওপরের তলায় দাঁড়িয়েছিল এক মূর্তি—ম্যাক্সিমাস।

তার পরনের গাঢ় নীল রঙের ফরমাল শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। এক হাতে ধরা ক্রিস্টালের গ্লাস, যার ভেতরে অ্যাম্বার রঙের তরল বরফের টুকটুকের সাথে মৃদু দুলছে। জানলার কাঁচের এপাশে দাঁড়িয়ে সে শহরের বিত্তবৈভব আর নিয়ন আলোর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছে। তার মুখে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো উদ্বেগ নেই; বরং চোখের দৃষ্টিতে রয়েছে এক অসম্ভব আত্মবিশ্বাস আর একতরফা ভালোবাসার এমন এক মাদকতা, যা সাধারণ মানুষের বোধের বাইরে।

ম্যাক্সিমাস তার গ্লাসের তরলে চুমুক দিতে দিতে মনে মনে সেই দিনটার কথা স্মরণ করে—যেদিন জারিন ওই বাংলো থেকে বাঘিনীর মতো ক্ষিপ্ত হয়ে ছুটে বেরিয়ে গিয়েছিল। সেদিন ম্যাক্সিমাস জেনেশুনেই জারিনের সামনে যায়নি। সে জানত, জারিনের সেই উন্মত্ত ও প্রতিশোধপরায়ণ চোখের সামনে পড়লে হয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে। তাছাড়া, জারিনকে আটকানো বা তার পথ আটকে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না। ম্যাক্সিমাস তো চেয়েছিলই এটাই—জারিন উন্মাদ হয়ে উঠুক, তার ভিতরের রাগটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ুক।

লিও, ম্যাক্সিমাসের বিশ্বস্ত ও ছায়াসঙ্গী, ডার্ক ওয়েবের সব ইনফরমেশন আর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জারিনের প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখছিল। জারিন হয়তো বিন্দুমাত্র বুঝতেও পারেনি যে সে যার ছায়াও দেখতে পাচ্ছে না, সেই ম্যাক্সিমাস তার প্রতিটি নিশ্বাসের হিসাব রাখছে।

ম্যাক্সিমাস খালি গ্লাসটা টেবিলে নামিয়ে রেখে নিজের মনেই বিড়বিড় করে ওঠে, তার গলার স্বরে এক অদ্ভুত শিহরণ কাজ করে:

"চতুরতা তোমার... I really impressed! কী দারুণ ফাইট করো তুমি, উফফ! জাস্ট নেশা ধরে যায়। ক্যাসিনো... তোমাকে দেখার পর থেকে আমার সত্যি আর কোনো প্রকার এক্সট্রা নেশা করার প্রয়োজনই হয়নি। কী এমন আছে তোমার মধ্যে, বলো তো? আমার জীবনের সব নেশা আর আসক্তি আজ তোমার কাছে এসে হার মেনে যায়! উফফ, ক্যাসিনো... তুমি নিজে কি একটুও জানো, তোমার জন্য আমি কী করতে পারি, আর কী করেছি?"

ম্যাক্সিমাসের এই কথাগুলোর ভেতরে যেমন একটা পৈশাচিক রোমাঞ্চ ছিল, তেমনই ছিল এক গভীর আচ্ছন্নতা। যে ক্যাসিনোকে সে নিজের মনের গভীরে বসিয়ে ফেলেছে, সেই ক্যাসিনো বা জারিন যখন রাতের অন্ধকারে নিজের দলবল নিয়ে হন্যে হয়ে খুনিকে খুঁজছে, তখন ম্যাক্সিমাস তার সুউচ্চ টাওয়ারের ডেস্কে বসে এক মনে জাদুকরী হাসছে।

লিও ঘরের এক কোণ থেকে এগিয়ে এসে বলে, "বস, জারিন আর তার টিম এখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো ইনফর্মারদের ঘাঁটিতে হানা দিয়েছে। তারা মনে করছে আমরাই বুঝি সব ক্লু মুছে দিয়েছি।"

ম্যাক্সিমাস তার চোখের চশমাটা একটু ঠিক করে নিয়ে ঠোঁটে দুষ্টু হাসির রেখা টেনে বলে, "ওদের খুঁজতে দাও, লিও। পথ খুঁজতে খুঁজতে ওরা ক্লান্ত হয়ে শেষমেশ আমার দরজাতেই আসবে। আমি সেই সুদিনেরই অপেক্ষায় আছি।"

“Oh, Casino... game তো এখন শুরু হবে! তুমি আমাকে খুঁজতে খুঁজতে একসময় ঠিক আমার কাছেই আসবে, আমি সেইদিনেরই অপেক্ষায় আছি।”

(Oh, Casino... The game has just begun! You will search everywhere and eventually come right to me, and I am eagerly waiting for that very day.)

ওদিকে শহরের অপর প্রান্তে, জারিনের মনের ভেতর তখন আগ্নেয়গিরি ফুটছে। জাস্টিন আর রিসাকে সঙ্গে নিয়ে সে শহরের সবচেয়ে অন্ধকার ও কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডেনগুলোতে চষে বেড়াচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের ইনফর্মার ডন ক্যাসিয়ানোর গোপন আড্ডার সামনে যখন তাদের কালো রঙের এসইউভি এসে ব্রেক কষে, তখন বাতাসের গতিবেগ যেন আরও বেড়ে গেছে।

গাড়ির দরজা সজোরে ধাক্কা দিয়ে খুলে জারিন যখন বাইরে পা রাখল, তার চোখেমুখে তখন প্রতিশোধের আগুন। জাস্টিন তাকে সাবধান করার সুরে বলল, "জারিন, জায়গাটা খুব একটা সুবিধার নয়। ডন ক্যাসিয়ানো একা নয়, তার চারপাশে সবসময় সশস্ত্র লোক থাকে। একটু ঠান্ডা মাথায় পা ফেলিস।"

"ঠান্ডা মাথা? কার জন্য রাখব মাথা ঠান্ডা?" জারিন রিভলবারের সেফটি ক্যচ নামাতে নামাতে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলে ওঠে, "আমার শিকারকে যে বা যারা আমার চোখের সামনে থেকে কেড়ে নিয়ে গেছে, তাদের রক্তে আজ এই রাস্তা আমি ভিজিয়ে দেব! কে ক্যাসিয়ানো, আর কোন কুত্তার বাচ্চা কার সাথে ডিল করছে—সব আজ বের করব।"

রিসা তাদের পেছনে থেকে কাঁপতে কাঁপতে বলে, "জারিন, আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমরা ভুল রাস্তায় হাঁটছি। এই খুন সাধারণ কোনো গ্যাং ওয়ার নয়। এর পেছনে অনেক বড় কোনো মাস্টারমাইন্ড আছে, যে আমাদের প্রতিটা মুভ আগে থেকেই জানে।"

"জানুক! যত বড় মাস্টারমাইন্ডই হোক না কেন, আমার মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার ফল কী হতে পারে, সেটা সে হাড়ে হাড়ে টের পাবে," জারিন আর কথা না বাড়িয়ে সোজা ক্যাসিয়ানোর আড্ডার ভারী লোহার দরজায় একটা সজোরে লাথি মারলো।

দরজা খুলে যেতেই ভেতরের ধোঁয়া ওঠা ঘরের ভেতর অস্ত্র উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু লোক চমকে ওঠে। জারিন এক সেকেন্ডের জন্যও সময় নষ্ট না করে চোখের পলকে ক্যাসিয়ানোর গলা চেপে ধরে তাকে দেয়ালের সাথে ঠেকিয়ে দেয়। তার গলার স্বর তখন সাক্ষাৎ যমের মতো ভারী:

"বল ক্যাসিয়ানো! ফ্রেডি আর দিয়েগোকে কে মারল? কে আমার বহুদিনের সাধের প্রতিশোধের হিসাব এভাবে মাঝপথে থামিয়ে দিল? কার ইশারায় এই খেলা চলছে?"

ক্যাসিয়ানো ভয়ে ঘামতে ঘামতে কাঁপাকাঁপা গলায় বলে, "ম্যাডাম... বিশ্বাস করুন, আমি কিচ্ছু জানি না! এটা আমাদের সিণ্ডিকেটের কাজ নয়। এটা... এটা অন্য কারো কাজ।

"কে সে? নাম বল!" জারিন চিৎকার করে ওঠে।

কিন্তু ক্যাসিয়ানো ভয়ে আর কোনো কথা বলতে পারে না, সে কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। জারিনের ভেতরের রাগ তখন উপচে পড়ছে। সে বুঝতে পারছে, এই অন্ধকারের গভীরে এমন কেউ শিকড় গেড়ে বসে আছে, যে জারিনের চেয়েও অনেক বেশি ধূর্ত, অনেক বেশি শক্তিশালী।

জারিনের রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে সে আর সহ্য করতে না পেরে রিভলবার বের করে দুই হাতে লাগাদার সুট করতে থাকে।

জাস্টিন তো পুরাই থ সে নিজেকে সামলে জারিনের সাথে সেও সুট করে।

রিসা গিয়ে তাদের কিছু ইম্পর্টেন্ট ডকুমেন্ট নিয়ে নেই।

কাজ শেষ হয়ে গেলে সমস্ত লাশের দিকে তাকিয়ে জারিন যায় বড় মনিটর এর দিকে।

জারিন সোজা সামনে দাঁড়িয়ে হাত গুলো আড়াআড়ি করে স্ট্রিট ভাবে দাঁড়ায়।

তারপর সে আরও কাছে চলে এসে মনিটর এ টেবিলে দুইপাশে হাত রেখে শক্ত চোখে চেয়ে বলে,, মাস্টারমাইন্ড তো তারাই যে ছুঁড়ে মেরে ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে বের করে।

মাস্টার মাইন্ড তারা না যারা অন্যের খাবার নিজের নামে বলে চালিয়ে দেয়। তাকে আমি খুঁজে বের করবো আর আমি খুব ভালো করেই জানি এইখানে এই অবস্থায় স্বয়ং আপনি উপস্থিত আছেন।

দেখা যাক খেলা এবার কোনদিকে গড়ায় আপনার পালিত কুত্তা গুলোর জানাজার ব্যবস্থা করুন মিস্টার খুব শীগ্রই দেখা হচ্ছে।

ম্যাক্সিমাস সম্পূর্ণ কথাগুলো শুনে মুচকি হেসে উঠে,,,

পাশে থাকা লিও বলে,, বস আপনি কিছু বলছেন না কেন?

ম্যাক্সিমাস উঠে থাই বারান্দার পাশ ঘেষে দাঁড়িয়ে বলে,, তার কণ্ঠ শুনেছ উফফ ক্যাসিনো তার চোখ দেখেছো মনে হচ্ছিল জেন্ত কোনো নেশক্ত দ্রব্য আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

বস আপনি তাকে চিনবেন কীভাবে তার শরীর তার পোশাকের ভিন্নতা একেক সময় একেক রকম। লিও বলে।

ম্যাক্সিমাস লিওর দিকে তাকিয়ে সে মুচকি হাসে কিছু বলে না।

সে তার জানলার গ্লাসে আঙুল মেলাতে মেলাতে ফিসফিস করে বলে ওঠে,

“Let her run, let her burn in her own fire. The more she searches, the closer she gets to her true obsession.”

(তাকে ছুটতে দাও, সে তার নিজের আগুনে পুড়ুক। সে যত বেশি খুঁজবে, ততই সে তার আসল নেশার কাছাকাছি এসে পৌঁছাবে।)

লিও তার ট্যাবলেটে জারিনের লোকেশন ট্র্যাক করে ম্যাক্সিমাসকে দেখায়। ম্যাক্সিমাস স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে একটি তৃপ্তির হাসি দেয়। সে খুব ভালো করেই জানে,যে , দিনশেষে এই পুরো গোলকধাঁধার একমাত্র সুতোটা ম্যাক্সিমাসের নিজের হাতেই বাঁধা আছে।

Oh, Casino... The game is just getting started now. You will search for me and ultimately find your way to me, and I am eagerly waiting for that exact day.

"ওহ ক্যাসিনো... game তো এখন শুরু হবে তুমি আমাকে খুঁজতে খুঁজে আমার কাছে আসবে আমি সেইদিনেরই অপেক্ষায় আছি।"

ম্যাক্সিমাস তার গ্লাসের শেষ চুমুকটা দিয়ে জানলার কাঁচ থেকে সরে এসে তার চামড়ার সোফায় বসে। বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আর সেই বৃষ্টির প্রতি ফোঁটায় যেন লেখা আছে এক নতুন ও ভয়ংকর পরিণতির রোমাঞ্চকর উপাখ্যান। জারিনের ক্ষোভ আর ম্যাক্সিমাসের নিবিড় নেশার এই লুকোচুরি খেলা কোন রক্তক্ষয়ী সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল সময়ই বলে দেবে।

রাস্তা ক্লিয়ার করে দাও যে যেখানে আছে

আমাকে ফাস্ট ইনফোম করবে ওকে। আগন্তুক টি কথাটা বলেই কল রেখে দেয়।

অপমান করেছো না এর শোধ এখন তোমার পরিবার মানুষের ওপর দিয়ে যাবে পারলে আটকে দেখাও আমার ম্যাক্সিমাস।

( কি সমস্যা তোমাদের সোনা মনিরা একটু সাপোর্ট করছো নো কেন ফলো দিলে কি হাত ব্যথা করে কমেন্ট করে বলে যেও যে হাত ব্যথা করে 🙂)

চলবে,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন