ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্ত বিলাসিনী

১৭তম পর্ব

লেখক: ইশরাত জাহান জেরিন

#বসন্ত_বিলাসিনী

#ইশরাত_জাহান_জেরিন

#পর্ব_১৭

চারপাশে ভিড় জমে গেছে। উৎসুক জনতার চোখে কৌতূহল, ভয়ার্ত ফিসফিসানি বাতাসে মিশে যাচ্ছে। সবাই ছুটে এসেছে লা*শটা দেখার জন্য। ইতিমধ্যে পুলিশ এসে চারপাশ ঘিরে নিজেদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। স্নিগ্ধ লাশের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে, খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে। লা*শটির মুখ এমনভাবে বিকৃত যে চেনা দুষ্কর। কোনো এক নির্মম হাত বারবার আঘাত করে মুখের গড়নটাই নষ্ট করে দিয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে মেয়েটি ধ*র্ষণের শিকার হয়েছিল।স্নিগ্ধর চারপাশে কয়েকজন উৎসুক লোক ঘুরঘুর করছে। কথা বলার জন্য তাদের অস্থিরতা স্পষ্ট, কিন্তু স্নিগ্ধ কোনো কথা বলতে রাজি নয়। তার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কীভাবে কেউ এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে?এত নৃ*শংস ভাবে মানুষ মানুষকে কি করে খুন করে?ঠিক তখনই স্নিগ্ধর ফোনে কল আসে। অপরিচিত একটি নম্বর। কল রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসে গভীর অচেনা কণ্ঠস্বর,

'আপনি শেখ শাহরিয়ার স্নিগ্ধ?'

'জ্বী আপনি কে বলছেন?'

'আসলে আমি থানা থেকে বলছি।মিস অধোরাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।অধোরার বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলার ছিলো।'

স্নিগ্ধর কেমন যেন একটা খটকা লাগে।সে আরো একবার লাশের দিকে তাকায়। মনে মনে শুধায়,

'এটা কখনোই অধোরা হতে পারে না।'

-

আদিপ থানায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তার মা তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। বুকের গভীরে চেপে ধরে আহাজারি করতে লাগলেন।আদিপ মায়ের কান্না থামানোর চেষ্টা করল। কিন্তু নিজের ভেতরের অস্থিরতাই তো কমছে না। সে জানে, এই মুহূর্তে যদি সে ভেঙে পড়ে তবে বাকিরা আরও অসহায় হয়ে পড়বে।চারপাশের মানুষদের চেহারা অধোরার প্রতি তাদের গভীর মমতার সাক্ষ্য দিচ্ছিল। কারও চোখের জল থামছে না।তাদের ভালোবাসায় যে কোনো খুঁত নেই তা আর প্রমান করতে হবে না।

আদিপ মায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

'মা স্নিগ্ধ কোথায়?'

মা চোখ মুছে বললেন, 'পুলিশ ফোন করেছিল। আমাদের সবার সঙ্গে কথা বলেছে। স্নিগ্ধর সঙ্গেও কথা বলবে বলল।'

আদিপ ভ্রু কুঁচকে বলল, 'মিসিং কেসে এত কিছু কেন? নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সবার সঙ্গে এত কথা বলা হয় নাকি?'

মা ভারী গলায় বললেন, 'না না, তেমন কিছু না। তবে পুলিশ বলছে, আমাদের সবাইকে একবার শালনায় যেতে হবে।'

'সেখানে যাওয়ার কী প্রয়োজন? অধোরার কিছুই হয়নি, আমি জানি।ওকে ফোন করেছে কেউ? ফোন ট্র্যাক করা হয়নি কেন?'

'ফোন ট্র্যাক করে আর কী হবে বাবা? অধোরা তো ফোন বাড়িতেই রেখে গেছে।'

আদিপের মা একবার আশপাশে তাকিয়ে ছেলেকে হিসহিসিয়ে বলে উঠেন,

'আচ্ছা, তোর সঙ্গে আমার একটু ব্যক্তিগত কথা আছে। একটু ওদিকটায় চল তো।'

-

চাঁদনী সহ বাকিরা খেতে বসেছে।চাঁদনীর খালু আজ বাড়ি নেই।তাই তাকে রেখেই আজ সকলের খেতে হচ্ছে।হঠাৎ চাঁদনী তার খালাকে প্রশ্ন করলো,

'খালা তুমি তো জারিফ ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করেছো।তো মেয়ে দেখা কতদূর?'

খাবার টেবিলে বসে প্রশ্নটা করতেই চাঁদনীর খালা তার দিকে বাঁকা হেসে বললেন,

'তোর কি মনে হয় আমি আমার এত ছোট ছেলেটাকে এখনি বিয়ে দিয়ে দিবো?'

'তাহলে বললে যে?'

'হ্যাঁ সেটা এমনি বলেছিলাম।কিন্তু বিয়ের বিষয়টা খুব একটা ভুল না।'

'মানে?'

'কি মানে মানে করছিস?তোর জন্য পাত্র দেখা হচ্ছে।কত দিন আর ঘাড়ে বসে খাবি?আমরাও তো মানুষ তাই না বল?'

বলেই খালা হাসেন।খালার কথাগুলোয় যেন আকাশ থেকে পড়ল চাঁদনীর মাথায়। পাশে বসে থাকা জারিফ চুপচাপ।যেন এসব কথার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।হঠাৎ জারিফের ফোনে কল আসে।তার বন্ধু চট্টগ্রাম থেকে এই প্রথম আসবে।তাকে রিসিভ করতে জারিফের স্টেশনে যেতে হবে।এদিকে পাত্রের কথা শুনে চাঁদনীর গলা শুকিয়ে আসে। তার হেঁচকি উঠে যায়। খালার পাত্র বাছাইয়ের মাপকাঠি চাঁদনী ভালো করেই জানে।যে করেই হোক স্নিগ্ধর সঙ্গে এবার কথা বলতেই হবে।কারন চাঁদনী তাকেই বিয়ে করতে চায়। অন্য কাউকে না।কিন্তু এভাবে তো আর একটা বেকার ছেলের কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দিবে না।তাই আগে স্নিগ্ধকে বদলাতে হবে। তাকে ব্যবসার হাল ধরতে হবে।আর তারপর পরিবারের কেউ তাদের বিয়েতে বাম হাত দিতে পারবে না।

-

শালনায় ইতিমধ্যে সবাই এসে গেছে। ভিড়ের মাঝে স্নিগ্ধও রয়েছে। পুলিশ তাকে কয়েকটি প্রশ্ন করেছে—“গত দুই-এক দিনে অধোরা কি এমন কিছু বলেছে যা সন্দেহজনক হতে পারে? কোথাও যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিয়েছে? কিংবা এমন কিছু ঘটেছে যার কারণে সে ঘর ছেড়েছে?”স্নিগ্ধ এক কথায় উত্তর দেয়, “না।” কিন্তু সে মনে মনে বুঝতে পারছে অধোরার নিখোঁজ হওয়ার আসল কারণ কি। কাল রাতে অধোরাকে সে যে শাসানি দিয়েছিল, তা এখন বারবার তার মনে ফিরে আসছে। কিন্তু তাই বলে হুঁট করে সে নিখোঁজ হয়ে যাবে? এটা তো তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র। খোঁজ নিলে নিশ্চিত দেখা যাবে, অধোরা কোনো ছেলের সঙ্গে পালিয়েছে।

এদিকে লাশের তদন্ত চলছে। তবে স্নিগ্ধ সেই ঝামেলায় জড়ায়নি, একটু দূরে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনাটি দেখেছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই কাজ শেষ হয়।এই লাশ অধোরার নয়। একটা ভয় তো দূর হয়েছে তবে এখনো অধোরাকে খুঁজে পাওয়া যায় নি।হঠাৎই স্নিগ্ধর চোখ যায় আদিপের দিকে। স্নিগ্ধ আদিপকে ইশারায় ডাকে। কিন্তু আদিপ কিছুই দেখেনি, এমন ভান করে অন্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য এগিয়ে যায়। আদিপের এই আচরণে স্নিগ্ধের কপালে ভাঁজ পড়ে। কী হয়েছে হঠাৎ? এই ছেলে এমন করছে কেনো?

-

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলস্টেশনের ভিড় কমে এসেছে। যদিও এই স্টেশন এমনিতেই খুব বেশি লোকসমাগমের জন্য পরিচিত নয়। স্টেশনের এক কোনায় পুরনো একটি বেঞ্চের ওপর বসে কাঁপছে অধোরা। চেহারায় ক্লান্তি আর অসহায়ত্ব স্পষ্ট। সারাদিন এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ানোর পর যখন মনে হলো এখানে আর থাকা যাবে না, তখনই সে এসে পৌঁছেছে এই স্টেশনে।অধোরার ইচ্ছা, গ্রামের বাড়ি ফিরে যাবে।যদিও সেখানে তার থাকার জায়গা নেই।কিন্তু বাবা-মায়ের কবর তো আছে?প্রয়োজনে সেখানেই বসে থাকবে।আজ যে তার বড্ড বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ছে।কিন্তু আফসোস যেই ট্রেনে করে তার যাওয়ার কথা ছিলো তা সে মিস করেছে। পরবর্তী ট্রেন আসতে অনেক দেরি। তাই স্টেশনের নির্জনতার সঙ্গী হয়ে অপেক্ষা করছে সে। গ্রামে যাওয়ার পথও তার সেভাবে জানা নেই। তবুও মনে মনে নিজেকে সে বোঝাচ্ছে আর সান্ত্বনা দিচ্ছে শেখ বাড়িতে আর যাওয়া যাবে না।বোনের শ্বশুরবাড়িতে অনেক থেকেছে।আর নয়।শুধু অন্যের বাড়ির শান্তি নষ্টার কি দরকার?

ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে। স্টেশনের পাশে ছোট্ট একটি দোকানে রুটি আর কলা বিক্রি হচ্ছে। সেখান থেকেই সামান্য খাবার কিনে অধোরা। দোকানের সামনে কয়েকজন বাজে ছেলে আড্ডা দিচ্ছিলো। অধোরাকে দেখে তারা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। ভয়ে অধোরা জলদি সেখান থেকে চলে আসে।তবে ছেলেগুলোকে সুবিধার মনে হচ্ছে না।অধোরার এখন শুধু ট্রেন নিয়ে চিন্তা।ট্রেনটা না আসা অব্দি শান্তি পাবে না সে।কিছুপল যেতে না যেতেই অন্ধকার চায়ের দোকানটা ডিঙিয়ে ছেলেগুলো অধোরার নিকট এগিয়ে আসে।

'ওমা এত রাতে এখানে কেনো?সাহায্য লাগবে নাকি?'ছেলেগুলোর মাঝ থেকে একজন বলে উঠে।

'আমার কিছু লাগবে না।আপনারা চলে যান।'

'ওমা ওমা।বাবু দেখি রাগ করে।এখানে বসে রাত কি করে পার করবে বাবু?চলো আমাদের বাসায়।'কথাটা বলেই ছেলেটা হেঁসে উঠে।

লাল শার্ট পড়া ছেলেটা কাছে এগিয়ে আসতেই অধোরা গুটিয়ে যায়।কি করবে বুঝতে পারছে না।ছেলেগুলো এবার এক সঙ্গে অধোরার কাছে এগিয়ে আসতেই কেউ একজন তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। বলে উঠে,

'আর এক পা সামলে এগুলে খবর আছে।'

'কেন রে ভাই? তোর এর জন্য এত মায়া কিসের?'

'শী ইজ মাই ওয়াইফ।'

ছেলেগুলো থেমে যায়।কি একটা ভেবে আর এগোয় না।অধোরা এবার নিজেকে সামলে তাকে সাহায্য করা পুরুষের দিকে তাকায়।পুরুষটিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে। ঘুড়ে তাকায় অধোরার দিকে,

'তুমি ঠিক আছো?'

'আপনি কে?'

'মানুষ। '

'তা তো দেখতেই পারছি।নিজেকে আমার স্বামী বলে পরিচয় দিলেন যে?'

'আস্তে।ছেলেগুলো যদি জানতে পারে তোমাকে বাঁচানোর জন্য মিথ্যা বলেছি তাহলে তোমার সঙ্গে আমাকেও ছাড়বে না।ওরা সংখ্যায় তিন আর আমরা দুই।'

'বলুন আপনি কে?নাম কি আপনার?

'আমি?আমি জারিফ।'

-

স্টেশনে সকলে চলে এসেছে।শেখ বাড়ির পরিচিত একজন নাকি স্টেশনের পথ দিয়েই বাড়ি ফিরছিলেন।অধোরাকে বৃদ্ধ লোকটি আগে থেকেই চিনতেন।এত রাতে এখানে দেখে কেমন যেন একটা লাগে তার কাছে।সন্দেহ হতেই কল করেন আনোয়ারকে।ব্যাস খবর খেয়েই সকলে ছুঁতে এসেছে।কিন্তু এখানে এসেও কম ঝামেলা হয় নি।স্নিগ্ধ তো ইতিমধ্যে অধোরার সঙ্গে জারিফকে দেখে নানা রকম বাজে মন্তব্য শুরু করে।ভয় আর লজ্জায় অধোরার ইচ্ছে করছে মরে যেতে।কেনো এই লোক বার বার তার জীবনটা জাহান্নাম বানানোর জন্য সবখানে চলে আসে?তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্যই তো সে চলে এসেছিলো।কিন্তু আদৌও কি তার কখনো মুক্তি পাওয়া হবে?স্নিগ্ধর ব্যবহারে আনোয়ার এক পর্যায়ে প্রচন্ড ক্ষেপে দিয়ে সকলের সামনে চড় মারেন।স্নিগ্ধ নিজেও বুঝতে পারে নি দু'দিনের একটা ঝামেলার জন্য তার বাবা তার গায়ে হাত তুলবে?একেতো এই মেয়ে ছেলের সঙ্গে পালিয়ে এসেছে তার ওপর সবাই তারই পক্ষে? জারিফও বুঝতে পারছে না সে উপকার করতে এসে কোন উটকো ঝামেলায় ফেঁসে গেছে।স্নিগ্ধর গায়ে তার বাবা কখনোই কেউ হাত তুলে নি।আজ যখন তিনি তার গায়ে সকলের সামনে রাস্তার মধ্যে হাত তুলেন। ভেতরটা তার জ্বলজ্বল করছে রাগে।আজ তো সে অধোরাকে মেরেই এখান থেকে যাবে।স্নিগ্ধর বাবা সহ সকলেই এখন বুঝতে পেরে গেছে রাতের ঘটনার কারনেই অধোরা বাড়ি ছেড়েছে।তাই বাধ্য হয়ে আনোয়ার স্নিগ্ধকে অধোরার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন।

'তুমি যদি অধোরার কাছে ক্ষমা না চাও তাহলে শেখ বাড়িতে তোমার আর জায়গা হবে না।যেদিন ক্ষমা চাইতে পারবে সেদিন এসো।'

'সামান্য একটা মেয়ের জন্য যেই বাবা নিজের সন্তানকে বাড়ি ছাড়তে বলে, সেই বাড়িতে ফেরার আমার আর কোনো ইচ্ছাও নেই।'কথাটা বলেই স্নিগ্ধ রাগের চোটে অধোরার গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করে।কিন্তু এরআগেই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আদিপ।

'এখানেই থেমে যা।অধোরার গায়ে একটা আচর লাগলে বুঝে নিবি তোর বন্ধুও আজ থেকে মৃ*ত।মায়ের থেকে শুনলাম কাল রাতের ঘটনা।তুই যে খারাপ তা জানতাম।তবে এতটা নিচে নেমে গেছিস তা বুঝতে পারি নি।মেয়েটার ওপর তুই একের পর এক মানসিক নির্যাতন করছিস।কিন্তু আর নয়।'

স্নিগ্ধর মাথা কাজ করছে না।আদিপও তাকেই দোষারোপ করছে?তাও ওই অধোরার মতো মেয়ের জন্য?আচ্ছা সমস্যা নেই।স্নিগ্ধ তার বাবা সহ সকলের উদ্দেশ্য হঠাৎ বলে,

'সম্পত্তি আর বংশের নাম ধুয়ে পানি খাও তোমরা।এই মেয়ে যেদিন ইজ্জত নষ্ট করবে সেদিন সাহায্যের জন্য স্নিগ্ধর কাছে যেন আসতে না হয়।আরেকটা কথা আমার এই বাড়িতে আর ফেরার ইচ্ছাও নেই।থাকো তোমরা তোমাদের অধোরাকে নিয়ে।তবে পরের জন্য আজ তোমরা নিজের রক্তের সঙ্গে করেছো তার মাশুলও তোমাদের কে একদিন দিতেই হবে।'

স্নিগ্ধ চলে যেতে নিলেই তার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে।মায়ের মন বলে কথা।ছেলে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে সেই কষ্ট মা কি করে মেনে নিবে?কিন্তু মায়ের আকুলতাও এবার স্নিগ্ধর মন গলাতে পারে নি।এমনকি স্বামীর মনও এবার স্ত্রীর আহাজারিতে বদলায় নি।যাওয়ার সময় আদিপ আর আনোয়ার বাঁধে সকলেই স্নিগ্ধকে আটকানোর চেষ্টা করেছে।কাজ হয় নি।তবে যাওয়ার আগে স্নিগ্ধ আদিপের দিকে একবার তাকায়।এই চাহনিতে কি ছোটকালের গভীর বন্ধত্ব হুট করে নড়বড়ে হওয়ার বেদনা লুকিয়ে আছে?নাকি ক্রোধের আগুন?

-

চাঁদনীর চিন্তায় ঘুম আসছে না।বার বার সে এপাশ-ওপাশ ফিরছে।স্নিগ্ধকে সব জানানো উচিত।সব শুনে যদি স্নিগ্ধ একটু তাদের বিয়ে নিয়ে চিন্তা করে।ব্যবসা সামলানো শুরু করে তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ।আচ্ছা স্নিগ্ধ কি ঘুমিয়ে পড়েছে?না সে তো এত জলদি ঘুমানোর মানুষ নয়।চাঁদনী কি একটা ভেবে স্নিগ্ধকে কল করে।দু'বার কল করার পর স্নিগ্ধ কল ধরে।আগে এমন কখনোই হয় নি। বড়জোর একটা মিসড কর দিলেই স্নিগ্ধ কল ব্যাক করতো।তবে আজ সে কলও ব্যাক করে নি।কল রিসিভ হতেই চাঁদনী ব্যাকুল চিত্তে তাকে প্রশ্ন করে,

'কি হলো?ব্যস্ত নাকি?'

'উঁহু।'

'কি হয়েছে বলোতো?'

'কিছু না।আচ্ছা ময়না তোমাকে আমি একটা প্রশ্ন করতে পারি?'

'কেনো নয়?'

চাঁদনী সহজেই তো কথাটা বলে ফেলল।তবে তার জানি কেমন কেমন লাগছে।কি এমন প্রশ্ন স্নিগ্ধ তাকে করবে?আর আজকে তার কন্ঠও কেমন যেন অন্যরকম লাগছে।

'কত খানি ভালোবাসো আমায়?'

'তোমার ভাবনার অসীম'

'আমাকে যে-কোনো পরিস্থিতিতে ভালোবাসতে পারবে?যেকোনো অবস্থায়?'

'হু পারবো না কেন?'মিহি কন্ঠে জবাব দেয় চাঁদনী। গলার স্বর আগের থেকে কিছুটা ধীর হয়েগেছে।

'আই লাভ হউ ময়না।আমি জানতাম তুমি এমনটাই বলবে।তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো।আমি বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি।এখন থেকে শেখ শাহরিয়ার স্নিগ্ধও আট-দশটা সাধারণ ছেলের মতোই বাঁচবে। আমার না চাই ওই বাড়ি,না চাই ওই ব্যবসা আর না সম্পত্তি।আমি জলদি একটা চাকরি খুঁজে নিবো। আর তোমার বাড়ি বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো।আর কয়েকটা দিন তুমি কষ্ট করো।আমরা জলদি এক হবো।'

চাঁদনী হঠাৎ করে চুপ হয়ে যায়।কি বলছে এসব স্নিগ্ধ?

'হ্যালো?চুপ হয়ে গেলে যে?'

চাঁদনী স্তব্ধ কন্ঠে আওরায়,'তার মানে সব হাতছাড়া?'

চলবে?

(রিচেক দেওয়ার সময় পাই নি।বানান ভুল হলে কেউ ধরিয়ে দিও।ঠিক করে নিবো।আর কমেন্ট কইরো কিন্তু। আর মাত্র একটা পর্বই আছে।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন