ফন্ট সাইজ:
থিম:
Tell me who i am(২য় খণ্ড)

৩৫তম পর্ব

লেখক: আয়সা ইসলাম মনি

#Tell_me_who_I_am

#পর্ব_২৩_দ্বিতীয়াংশ

#আয়সা_ইসলাম_মনি

(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

🍁২য় খণ্ড🍁

🔺Trigger Warning: This post is a fictional story that contains sensitive content related to sexual violence. It is intended solely for awareness and educational purposes. It does not promote or glorify any form of abuse.

________________________________________☞

"কীহ? এই বেয়াদব, মাথা ঠিক আছে তোমার?" এতক্ষণের প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল হাসিমুখটা মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেল মিরার। সে রেগেমেগে আগুন হয়ে কারানের চোখের দিকে তাকাল। ক্ষোভে তার নাকের প্রান্তদেশ তখন অবাধ্যভাবে কাঁপছে।

কারান দাঁত দিয়ে হালকা জিভ কাটল। তারপর মাথা দুই দিকে আলতো দুলিয়ে ‘না’ বলার ভঙ্গিতে বলল, "তওবা তওবা! আসতাগফিরুল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ! লিসেন টু মি, সুইটহার্ট... তুমি যা ভাবছ, আমি কিন্তু একদমই তা মিন করিনি।" মাথার চুলগুলো আঙুল দিয়ে খানিকটা অবিন্যস্ত করতে করতে কারান পুনরায় বলল, "আই মিন... সেদিন ফুঁপির সামনে আমি কতটা ওভার-কনফিডেন্স নিয়ে জোর গলায় বললাম যে, আগামী পাঁচ বছরের আগে আমরা কোনো ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ে যাচ্ছি না! কিন্তু এই মিরাকলটা..."

কারানের মতো একজন ডমিনেটিং পুরুষের মুখের এমন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, অপ্রস্তুত ভাব দেখে মিরা নিজের রাগ ধরে রাখতে পারল না; খপ করে হেসেই ফেলল। সে কারানের দুই গাল নিজের নরম হাতের তালু দিয়ে চেপে ধরে আলতো করে ঝাঁকাল। কৌতুকের সুরে চোখ টিপে বলল, "তোমার বেবি তো, তাই বোধহয় বাপের মতোই একটুও টাইম ওয়েস্ট করতে চায়নি! আচ্ছা মিস্টার চৌধুরী, তুমি আবার লজ্জাটজ্জা পাচ্ছ না তো? বলো বলো?"

কারান একদিকের ঠোঁট বাঁকিয়ে মিরার দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকাল, যেন মিরা এইমাত্র মহাবিশ্বের অষ্টম আশ্চর্যের কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আবিষ্কার করে ফেলেছে। কারান চৌধুরি পাবে লজ্জা! হোয়াট আ জোক! কিন্তু মূল মনস্তাত্ত্বিক সত্য হলো, এই মুহূর্তে তার ঠিক কী ধরনের এক্সপ্রেশন বা রিয়েকশন দেওয়া উচিত, তা তার নিজেরও জানা নেই।

ওদিকে কারানকে এভাবে ড্রয়িংরুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আশমিনি এগিয়ে এলেন। তিনি কারানের সুটের হাতা ধরে তাকে আলতো টানে একটু একপাশে সরিয়ে নিয়ে গেলেন। কারানের দিকে পরম স্নেহে তাকিয়ে বললেন, "তোকে আর মিরাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়া বাড়িটাতে এই মুহূর্তে একটা ছোট্ট নতুন প্রাণ আর এক চিলতে খাঁটি খুশির বড্ড প্রয়োজন ছিল।"

কারান কোনো প্রত্যুত্তর না করে নিস্পৃহের মতো চুপচাপ দাঁড়িয়েই রইল। আশমিনিও খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করলেন যে, এমন একটা পরিস্থিতিতে এই মহাসুসংবাদ এলেও কারান আদতে মানসিকভাবে নিজেকে এর সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না।

আশমিনি হুট করেই তার শাড়ির আঁচলের আড়াল থেকে একটা জিনিস বের করে কারানের হাতের মুঠোয় গুঁজে দিলেন। গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, "এই ডকুমেন্টটা তুই একবার নিরিবিলিতে পড়িস, এবং অবশ্যই পড়বি। এটা দেখা তোর জন্য অনেক বেশি জরুরি। এটা তোকে অতীত জানতে অনেকটা সাহায্য করবে।"

ফাইলটা নিয়ে কারান টালমাটাল পায়ে ভেতরের কক্ষের দিকে না গিয়ে আবারও সদর দরজার দিকে অগ্রসর হতে লাগল। তার এই অদ্ভুত প্রস্থান দেখে পেছন থেকে মিরা কিছুটা চিন্তিত গলায় ডেকে উঠল, "আরে! কোথায় যাচ্ছ তুমি? মাত্রই না অফিস থেকে ফিরলে?"

"নিজেকে কিছুটা সামলাতে!"

কথাটা শেষ করেই কারান সদর দরজা পেরিয়ে বাইরের লনের দিকে পা বাড়াল। এমন বিশৃঙ্খল ভঙ্গিতে টলমল পায়ে হাঁটতে থাকল, যেন সে মাত্রই অতিরিক্ত মদ্যপান করেছে।

°

°

কারান গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলের ওপর দুই হাত রেখে বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। তার বাম হাতের মুঠোয় এখনো শক্ত করে ধরা মিরার সেই মেডিক্যাল রিপোর্ট। আর ঠিক পাশের প্যাসেঞ্জার সিটে অবহেলায় পড়ে আছে আশমিনির দেওয়া রহস্যময় পুরোনো ফাইলটা।

কারান গাড়ির স্টার্ট বাটনে চাপ দিল। চাকা দুটো পিচঢালা রাজপথ ছুঁয়ে সচল হতেই তার দৃষ্টি আবারও কাগজের দিকে চলে গেল। এরমধ্যেই তার এতক্ষণের জড়তা, অবিশ্বাস আর হতভম্ব ভাবটা কর্পূরের মতো উড়ে গিয়ে ঠোঁটের কোণে নিখাদ হাসির রেখা ফুটে উঠল। সেই হাসির পরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়তে লাগল। একপর্যায়ে সে নিজের ভেতরের সমস্ত গাম্ভীর্য, ইগোর দেয়াল ভেঙে হুট করেই এক গাল চওড়া হেসে গাড়ির ভেতরেই চিৎকার করে উঠল, "হুউউউউ! আই জাস্ট কান্ট বিলিভ দিস! আমি... কারান চৌধুরি ফাইনালি বাবা হতে চলেছি! আমার... আমার সন্তান? মাই ওন ব্লাড? আমি বাবা হচ্ছি, আল্লাহ! আমার মতো এক অভিশপ্ত, রূঢ় মানুষের র*ক্তে নতুন একটা প্রাণের স্পন্দন আসবে?"

খুশির অনিয়ন্ত্রিত ঢেউ যেন কারানের পুরো শরীরে বিদ্যুৎ তরঙ্গের মতো খেলে গেল। সে আক্ষরিক অর্থেই সিটের ওপর সামান্য লাফিয়ে উঠল, যেন এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ কোনো গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছে সে। স্টিয়ারিং হুইল আর ড্যাশবোর্ডের ওপর দুহাতে সজোরে চাপড় দিতে দিতে উল্লাসে বলতে লাগল, "লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান, জাস্ট লিসেন টু মি! অবশেষে আপনাদের এই হট অ্যান্ড হ্যান্ডসাম কারান চৌধুরি, যে কিনা আজীবন ফালতু ম্যারেজ লাইফ আর ইমোশনাল ড্রামাকে ঘৃণা করত, যে একটা সিংগেল লাইফ কাটানোর প্রমিজ নিয়ে ঘুরত... ওহ গড, হি ইজ অফিশিয়ালি গোয়িং টু বি আ ড্যাড! আ রিয়েল ফাদার!"

কথাটা বলেই সে ড্রাইভিং সিটেই দুই হাত এদিক-ওদিক ঝাঁকিয়ে এক পাগ'লাটে, উরাধুরা নাচ জুড়ে দিল। তার এই সেলিব্রেশন দেখার মতো তখন আশেপাশে কেউ ছিল না, আর কারানও ঠিক এটাই চেয়েছিল। বাড়ির সবার সামনে নিজের ভেতরের অবাধ্য, চাইল্ডিশ রূপটা সে কখনোই প্রকাশ পেতে দিবে না। নিজেকে সামলে নিয়ে সে পরম মায়া আর গভীর অধিকারবোধে মিরার সেই ক্লিনিক্যাল রিপোর্টের ওপর পর পর কয়েকটা উষ্ণ চুমু খেল।

"উমমমমাহ! উম্মাহ! উম্মাহ! উম্মাহ!" নিজের চওড়া হাতের তালুটা বুকের বাঁ পাশে চেপে ধরে, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অবরুদ্ধ কণ্ঠে বলল, "ও আম...আমাকে... আমাকে প্রথমবার পাপা কিংবা ড্যাডি বলে ডাকবে... রাইট? ওর ওই ভাঙা ভাঙা, আধো আধো কণ্ঠে আমার এই কর্কশ নামটা উচ্চারিত হবে? আর আমার মহারানি মিরাকে ও মা বলবে? উফফ... বুকটা কেন এভাবে ভারী হয়ে আসছে! এত সুখ রাখার মতো জায়গা তো আমার এই ক্ষয়ে যাওয়া শরীরে নেই!"

স্টিয়ারিং থেকে হাত সরিয়ে দুই হাত ওপরে তুলে, অত্যন্ত আবেগঘন মোনাজাতের ভঙ্গিতে ওপরের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে বলল, "থ্যাংক ইউ আল্লাহ, থ্যাংক ইউ সো মাচ ফর দিস মিরাকল! অ্যান্ড থ্যাংক ইউ মাই ওয়াইফ... আমার মায়াবতী মিরা। তুমি আমাকে জীবনের সবচেয়ে পিওর আর বিগেস্ট খুশির মুহূর্তটা উপহার দিলে। মনে হচ্ছে বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘদিনের পাথরের মতো ভারী কষ্টগুলো এক সেকেন্ডে গলে জল হয়ে যাচ্ছে। আই অ্যাম সো হ্যাপি, উফ হুউউউউ!"

আসলে কারান যে অস্বস্তি নিয়ে বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে এসেছিল, তার মূল কারণটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে চেয়েছিল লোকচক্ষুর আড়ালে এসে নিজের এই উপচে পড়া ইমোশনটাকে একটু স্পেস দিতে, আর মিরার জন্য এমন একটা বিশেষ উপহার পছন্দ করতে, যা দেখে মিরা বুঝতে পারে কারান তার এই উপহারের মূল্য কতটা গভীরভাবে অনুভব করেছে। সে মিরাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে বলতে চায়, সে কতটা কৃতজ্ঞ।

কারান মুচকি হেসে ‘আমিন’ বলল। বিগত কয়েকটি সপ্তাহের অবিরাম যাতনা, মৃ*ত্যু আর শোকের মাঝে এই আকস্মিক পরম প্রাপ্তির আনন্দে তার অজান্তেই চোখের কোণ বেয়ে দুটো লোনা জলের ফোঁটা গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। এই কান্না কোনো বিষাদের নয়, এ যেন এক নতুন ভোরের আবাহন।

কারান পরাপর কয়েকবার দীর্ঘ প্রশ্বাস টেনে চোখ দুটো শক্ত করে বুজল। তার হাতের মুঠোয় থাকা রিপোর্টের কাগজটা সে বুকের বাম পাশে, ঠিক হৃৎপিণ্ডের ওপর চেপে ধরল। তার ঠোঁটের কোণে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র হাসি ফুটে উঠল। জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে সে আবেগমাখা কণ্ঠে বিড়বিড় করে বলল, "তাড়াতাড়ি চলে এসো, মাই লিটল হার্ট... আমার এক টুকরো অস্তিত্ব, আমার প্রাণের অংশ। তোমার পাপার অভিশপ্ত ভাগ্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তুমি এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হও। তোমার আগমনে আমার চারপাশের সমস্ত মৃ*ত্যু, সমস্ত বিষাদ, সমস্ত অন্ধকার চিরতরে মুছে যাক। তোমার ছোট্ট অস্তিত্বই হোক আমার নতুন করে বাঁচার কারণ... আই অ্যাম ওয়েটিং ফর ইউ..."

সে নিজেকে সামলে নিয়ে এবার শক্ত করে স্টিয়ারিং হুইলটা চেপে ধরতে যাবে, ঠিক তখনই সামনের মোড় থেকে হেডলাইটের আলো এসে কারানের চোখে লাগল। কিছু বুঝে ওঠার, ব্রেক চাপার বা গাড়ি ঘোরানোর ন্যূনতম সুযোগটুকুও প্রকৃতি তাকে দিল না। বিপরীত দিক থেকে আসা একটা বেপরোয়া গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে এসে কারানের সাধের গাড়িটার ওপর আছড়ে পড়ল। আর তীব্র ঝাঁকুনিতে কারানের হাতের সেই মেডিক্যাল রিপোর্টটা তার আঙুলের ফাঁক গলে ছিটকে পড়ে গেল।

________

শেফ টেবিল থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টটা তুলে আলতো করে ফুঁ দিল। তার পরনে কালো লিনেন শার্টের স্লিভ দুটো কনুই পর্যন্ত নিখুঁতভাবে ফোল্ড করা, আর ফেডেড ডেনিমের পকেটে এক হাত গোঁজা। প্রথম দেখায় যে কেউ তাকে কোনো হাই-প্রোফাইল মডেল বা করপোরেট এক্সিকিউটিভ ভাববে। এই পরিত্যক্ত রেস্টুরেন্টের ভ্যাপসা গন্ধের মাঝেও তার শরীর থেকে বের হওয়া ফ্রেঞ্চ পারফিউমের ব্ল্যাক জেসমিনের সুবাস পুরো পরিবেশটাকে মোহনীয় করে তুলছিল।

রিপোর্টের সাদা-কালো ইমেজের ওপর লম্বা, ফরসা বুড়ো আঙুলটা বোলাতে বোলাতে শেফ এক চিলতে বিষাক্ত হাসি হাসল। সে সাবলীল টোনে বলতে শুরু করল, "বেবি কনসিভ করেছ মানেই যে সেটা পৃথিবীতে সাকসেসফুলি ল্যান্ড করবে, এই ব্যাকডেটেড থিয়োরি তুমি কোন সস্তা টেক্সটবুক থেকে মুখস্থ করেছ, মাই ব্ল্যাকরোজ? তুমি যদি ভেবে থাকো এই আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টটা দেখে আমি দুঃখে জর্জরিত হয়ে দেবদাস সেজে দু-দিন না খেয়ে অনশন করব, দেন ইউ আর লিভিং ইন আ ফুলস প্যারাডাইস, মাই সুইট ট্রমা!" শেফ তার চুলে হাত চালিয়ে ব্যাকব্রাশ করতে করতে মন মাতানো সুরে পুনরায় বলল, "এই সামান্য বিষয় নিয়ে আমি একদমই মাইন্ড করব না। ইনফ্যাক্ট, আমার তো এক দিক থেকে বেশ ভালোই লাগছে। কারান চৌধুরির সাথে গেমটা এবার আরও বেশি স্পাইসি, আরও বেশি থ্রিলিং হবে। যে মানুষটা নিজের হাতে নিজের দু-দুটো পরিবারের সবাইকে জঘন্যভাবে মে'রে ফেলতে পারে, তার কাছে কি এসব ছোটোখাটো চাইল্ড-প্লে ম্যাটার করে, বলো?"

কথাগুলো শেষ করেই শেফ ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে টেবিলটার এক কোনায় আধবসা হয়ে হেলান দিল। তার সুগঠিত বাম পা-টা মেঝের ওপর সোজা টানটান হয়ে রইল, আর ডান পা-টা হালকা ভাঁজ করে টেবিলের পায়ের সাথে লক করে নিল।

পকেটে থাকা ম্যাট-ব্ল্যাক লাইটারটা বের করে একটা চারকোল-ফিল্টার্ড সিগারেট ঠোঁটের কোণে চেপে ধরে সে আগুন জ্বালাল।

শেফ যখন মাথাটা সামান্য পেছনে হেলিয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকাল, তখন তার টানটান হয়ে যাওয়া গলার চামড়া ভেদ করে কন্ঠনালীর সুগঠিত অ্যাডামস অ্যাপেলটা ভীষণ স্পষ্টভাবে ভেসে উঠল। সে যখন সিগারেটের ধোঁয়াটা ফুসফুস থেকে ধীরে ধীরে ওপরে ঠেলে দিচ্ছিল, তখন তার অ্যাডামস অ্যাপেলটা আলতো করে ওঠানামা করল।

সিগারেটটা দুই আঙুলের ডগায় ধরে সে হাতটা টেবিলের ওপর অলসভাবে ছেড়ে দিল, যেখানে তার কবজির নীলচে রগগুলো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। তারপর শেফ বুড়ো আঙুলের আলতো টোকায় জ্বলন্ত সিগারেটের ছাইটুকু রিপোর্টের ঠিক সেই জায়গাটাতে ফেলল, যেখানে ভ্রূণের অবয়বটা ফুটে উঠেছে।

"আমার পেইন লাগে ঠিক তখন, যখন তুমি ওই কারানকে হাগ করো, ওকে কিস করো, ওর শরীরের সাথে সম্পূর্ণ মিশে যাও। ওই মোমেন্টগুলোতে আমার ভেতরে এমন একটা আরোহণ হয় যে, মন চায় তোমাকে জাস্ট মা'র্ডার করে, পিস পিস করে কেটে আমার ক্লোজেটের সবচেয়ে সুন্দর এবং পার্সোনাল জায়গাটাতে জুয়েলারির মতো সাজিয়ে রাখি। পারফেক্ট শোপিস, ইউ নো?"

ঠিক তখনই অবরুদ্ধ গোঙানির মতো ‘উম-উম’ শব্দ ভেসে এল। ঘরের ঠিক মাঝখানে রাখা একটা স্টেইনলেস স্টিলের মেডিক্যাল স্ট্রেচার। তাতে শক্ত করে এক নারীকে বেঁধে রাখা হয়েছে। পরনে তার হালকা নীল রঙের সার্জিক্যাল স্ক্রাব আর ওপরে সাদা ডক্টরস অ্যাপ্রোন। অ্যাপ্রনের নেমপ্লেটে লেখা ‘ডক্টর কোহিনুর সিদ্দিকী, গাইনোকোলজিস্ট’। তার হাত, পা এবং মুখ শিকল দিয়ে এমনভাবে লক করা যে, সামান্য নড়াচড়াতেও চামড়ায় কালশিটে পড়ে যাচ্ছে।

শেফ পরিমাপিত কদমে এগিয়ে এসে স্ট্রেচারের পাশে দাঁড়াল। তার বডি ল্যাংগুয়েজ একদম শান্ত, যেন কোনো আর্ট গ্যালারিতে হাঁটছে। অথচ তার দুই হাতের তালু ইতোমধ্যেই র*ক্তাক্ত। কারণ সে এতক্ষণ কথা বলার মাঝেই একটা স্টেরাইল সার্জিক্যাল ব্লেড দিয়ে নিজের বাম আর ডান হাতের তালুতে গভীর সমান্তরাল আঁচড় কেটে যাচ্ছিল। লাল, তাজা র*ক্ত চুইয়ে চুইয়ে তার আঙুলের ডগা বেয়ে মেঝেতে ফোঁটা ফোঁটা পড়ছিল। এই দৃশ্য দেখে স্ট্রেচারে থাকা ডক্টরের চোখ দুটো ভয়ে কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছিল। তিনি মুখ বন্ধ অবস্থাতেই গোঙাচ্ছিলেন, যার অর্থ দাঁড়ায়, 'তোর হতচ্ছাড়ি জানেমনের জন্য আমাকে কেন বেঁধে রেখেছিস, ভাই? চোখে কি ছানি পড়েছে? আমি তো মেয়ে, বাজান!"

শেফ ডক্টরের কাছাকাছি এসে নিজের র*ক্তাক্ত হাত দুটো ডক্টরের সাদা অ্যাপ্রনের কলারের কাছে ঘষতে লাগল। কটন কাপড়ে র*ক্ত দ্রুত শুষে নিলেও শেফের কাটা স্থান থেকে নতুন করে র*ক্তের ধারা নামছিল। অত্যন্ত যত্ন সহকারে নিজের র*ক্তাক্ত হাতটা ওই ডাক্তারেরই সাদা অ্যাপ্রনের কোনা দিয়ে মুছতে লাগল সে। মুছতে মুছতে শীতল গলায় বলল, "তুমি মেয়ে হলেও তোমার কোনো রাইট ছিল না আমার পার্সোনাল প্রপার্টিকে টাচ করার, তাকে এই দুটো আকুল চোখে দেখার। মিরাকে দেখার পর তোমার নিশ্চয়ই মনে মনে উইশ হচ্ছিল, 'ইশ, আমি যদি একটা ড্যাশিং ছেলে হতাম, তাহলে এই মেয়েটাকে পটিয়ে নিজের করে নিতাম! সত্যি করে বলো, হয়নি এমন ব্যাড থট?"

ডক্টর কোহিনুর এবার মরিয়া হয়ে নিজের শরীর ঝাঁকাতে লাগলেন। তার কপালে ঘামের বিন্দু জমছে। তিনি মনে মনে চিৎকার করছিলেন, 'পা'গল ব্যাটা! আমার নিজের ঘরে মিরার বয়সি দুটো বাচ্চা আছে। আজ থেকে আমার ছেলেদের প্রতিও কোনো ইন্টারেস্ট থাকবে না, মেয়ে তো অনেক দূরের কথা। আমাকে জাস্ট একবার রিলিজ করে দে উজবুকের বাচ্চা, চাকরি ছেড়ে দরকার হলে ভিনগ্রহে গিয়ে ভ্যান চালাব।'

শেফ ডক্টরের মুখের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল। সে ডক্টরের কপালের একপাশে আলতো করে আঙুল বোলাল। র*ক্তের একটা লাল দাগ ডক্টরের ত্বকে বসে গেল।

"তোমার ওপর আমার খুব রাগ হচ্ছে, ভীষণ রাগ। ইচ্ছে করছে এই দুই হাত দিয়ে সজোরে প্রেস করে তোমার এই মাথাটা এক সেকেন্ডে ফাটিয়ে দিই। কারণ তোমার ওই ফাউল রিপোর্টের জন্যই তো মিরা এত তাড়াতাড়ি জানতে পারল যে সে মা হতে চলেছে। যাই হোক, চিল ডিয়ার! তোমাকে আমি খুব বেশি টর্চার করে মার'ব না। আমার আবার দয়ার শরীর তো।"

ডাক্তার তখন অবরুদ্ধ চোখে ভাবছিলেন, এই ছেলেটা দেখতে এতটা হ্যান্ডসাম, এতটা এলিগ্যান্ট হলে কী হবে, এর মতো তারছিঁড়া, স্ক্রু-ঢিলা লোক সে তার পুরো জীবনে দেখেনি। এর তো উচিত কোনো হাই-লেভেল মেন্টাল অ্যাসাইলামে থাকা, তা না করে মাঝরাতে একজন গাইনোকোলজিস্টকে কিডন্যাপ করে এনেছে? ছেলেটা উপর থেকে পুরুষ হলেও ভেতর থেকে আবার নারী নয়তো? আজকালকার জেনারেশনে সার্জারি আর হরমোন বদলে কে কখন কী হয়ে যায়, তা অনেক সময় অভিজ্ঞ সার্জনরাও প্রথম দেখায় ধরতে পারেন না।

শেফ হঠাৎ তার মুখের একদম কাছে নিজের মুখটা এনে রহস্যময় চোখে চাইল। তার গরম নিশ্বাস ডাক্তারের চেহারায় আছড়ে পড়ায় সে শিউরে উঠল। শেফ বাঁকা হেসে আইকনিক স্টাইলে ডাক্তারকে একটা চোখ টিপ মারল।

"তুমি তো খুব নটী গার্ল দেখছি! আমার সামনে শুয়ে মনে মনে আবার আমারই জেন্ডার নিয়ে রিসার্চ করছ? হাহ?" ঠোঁটের কোণে চেপে ধরা সিগারেট থেকে ফুসফুস ভর্তি ধোঁয়া টেনে নিয়ে সে সরাসরি ডাক্তারের মুখের ওপর ছেড়ে দিল। ধোঁয়ার কুয়াশায় ডক্টরের চোখ দুটো জ্বলতে থাকল। "বিলিভ মি, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত আমি খাঁটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পুরুষ। চাইলে তোমাকে একটা ডেমো দিতে পারতাম, বাট আনফরচুনেটলি তোমার প্রতি আমার বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই।"

ডাক্তারের চোখ থেকে ততক্ষণে নোনা জল শুকিয়ে চামড়ায় সাদা দাগ পড়ে গেছে। সে ভ্যাবলার মতো শেফের দিকে চেয়ে রইল। এই অন্ধকার, নরকসদৃশ রেস্টুরেন্টেও শেফকে দেখতে অসম্ভব আকর্ষণীয় লাগছিল। যে-কোনো সাধারণ মেয়েরই তার ডার্ক লুকের প্রেমে পড়ে যাওয়ার কথা, যদি না তার এই পৈশাচিক রূপটা সামনে আসত। ডক্টর তার দীর্ঘ মেডিক্যাল ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে ভাবার চেষ্টা করছিলেন, এই ছেলের নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারটা ঠিক কোন পর্যায়ের? এটা কি সিভিয়ার অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার, নাকি স্কিজোফ্রেনিয়ার কোনো এক্সট্রিম কেস? সে দেখতে যতটা আর্টফুল, ভেতরটা ততটাই মনস্টার।

শেফ হঠাৎ করেই মাথাটা একটু কাত করল। তার রেশমি চুলগুলো কপালে এসে আছড়ে পড়ল। মোহনীয় হাসির রেখা টেনে ঠোঁট কামড়ে বলল, "ওয়েল... সুদর্শন পুরুষদের দেখতে একটু বেশিই ভালো লাগে, তাই না ডক্টর? জাস্ট কনফেস ইট!" একটা ভ্রূ উঁচিয়ে সে প্রশ্নটা করল। "তবে যাই বলো, তোমার স্ক্রিন টোনটা কিন্তু আমার বেশ লেগেছে, সানশাইন!"

তার শান্ত, সৌম্য মুখভঙ্গি দেখে বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় ছিল না যে সে ঠিক পরের সেকেন্ডে কী ধরনের ক্রূর ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে যাচ্ছে। ডাক্তার সম্পূর্ণ হতভম্ব। বলে কি এই পা'গলায়! এই ছেলের ক্রোমোজোমে নিশ্চয়ই কোনো বড় ধরনের সমস্যা আছে, নাহলে সে তার মায়ের বয়সি একজন নারীর সাথে এই অবস্থায়ও ফ্লার্ট করছে!

শেফ আজন্ম ঠান্ডা মাথার মানুষ। নিজের শিকারের সামনে দাঁড়িয়ে সে কখনো বাড়তি একটা বাক্যও খরচ করে না। তার তৃষ্ণা কেবল উষ্ণ র*ক্ত আর নিখুঁত মাংসের পিসে।

কিন্তু আজকের টেবিলে শুয়ে থাকা ডক্টরকে দেখে তার মনে হলো, সে অলৌকিকভাবে এই মানুষটার মনের প্রতিটি অব্যক্ত কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। ব্যাপারটা তার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং ঠেকলো।

লোকেরা তাকে নিরেট, রসকষহীন এক কসাই ভাবলে চরম ভুল করবে। শেফ আদতে তা নয়। সে খুব ভালো করেই জানে কীভাবে শব্দের জালে খুনশুটি করতে হয়, কীভাবে কথার পিঠে কথা সাজিয়ে ফ্লার্ট করতে হয়। শুধু তার এই বিশেষ স্বভাবটির একমাত্র দাবিদার, তার সেই আরাধ্য 'ব্ল্যাকরোজ' এই মুহূর্তে পাশে নেই।

তাতে কী? সামনে পড়ে থাকা এই জ্যান্ত ক্যানভাসটাকেই সে আজ বেছে নিল নিজের ধারাল রসবোধের মহড়া হিসেবে। তার সুনিপুণ দক্ষতার খানিকটা প্রয়োগ সে আজ এখানেই করে দেখাবে; যাতে ভবিষ্যতে যখন সে তার মিরার মুখোমুখি হবে, তখন যেন তার প্রতিটি বাক্য একেবারে নিখুঁত আর মোহময়ী হয়ে ওঠে।

কিন্তু একটু পরই শেফের সেই শান্ত ইম্প্রেশনটা এক লহমায় হিংস্র মনস্টারের রূপে রূপান্তরিত হলো। তার চোয়ালের হাড় শক্ত হয়ে গেল, ঘাড়ের এবং হাতের নীল রগগুলো অতিরিক্ত র*ক্তচাপে ফুলে উঠল। চোখের মণি দুটো লালচে রূপ নিল, যা দেখে এতক্ষণ ধরে নিজেকে কোনোমতে ধরে রাখা ডাক্তার প্রগাঢ় আতঙ্কে কাঁপতে লাগলেন।

শেফের ডান হাত চলে গেল পাশে রাখা মেটাল ট্রের দিকে। সেখানে রাখা ছিল একটি চেইন শো।

শেফ চেইন শো-এর পাওয়ার ট্রিগারটাতে আঙুল চাপল। কানফাটানো যান্ত্রিক শব্দ তৈরি হলো। সে চেইন-শ’র হ্যান্ডেলটা দুই হাতে শক্ত করে ধরে, সেই নারীর ঊরুর সন্ধিস্থলের দিকে তাকাল। ডাক্তারকে উদ্দেশ্য করে ফিসফিস করে বলল, "যেহেতু তুমি মেডিক্যাল সায়েন্স নিয়ে খুব বেশি প্রাউড, তাই ভাবলাম তোমাকে আজ মেল আর ফিমেলের অ্যানাটমিটা একটু অন্যভাবে শেখাই। লেটস স্টার্ট দ্য রিয়েল সার্জারি, ডক্টর!"

শেফ খুব রিল্যাক্সড ভঙ্গিতে চেইন শ-এর ব্লেডটা ডক্টরের গালের একদম কাছ দিয়ে নামিয়ে আনল। ঘূর্ণায়মান ব্লেডের ঠান্ডা বাতাস ডক্টরের চামড়া ছুঁয়ে যেতেই তিনি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললেন। ব্লেডের একটি দাঁত আলতো করে তার গাল ছুঁয়ে যেতেই সেখান থেকে হালকা র*ক্ত ছিটকে উঠলো।

"হেই, হেই... চোখ বন্ধ করলে তো চিটিং হবে, ডক্টর! নো চিটিং! তাহলে কিন্তু পরীক্ষায় টেন মার্ক মাইনাস করব। অর্থাৎ তোমার শাস্তিটা আরও ভয়াবহ হবে!" শেফ কিছুটা আদুরে গলায় ভেতরে জিভ দিয়ে গাল ঠেলে বলল।

সে এক হাত দিয়ে নিজের চিবুক চুলকাল। তারপর ফ্লার্টি একটা স্মাইল দিয়ে বলল, "আই মিন, লুক অ্যাট মি! এত সে'ক্সি একটা ছেলে তোমার সামনে লাইভ পারফর্ম করছে, আর তুমি চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর ট্রাই করছ? দিস ইজ রুড, ভেরি রুড! লেডিসরা আমার একটা গ্ল্যান্স পাওয়ার জন্য ব্ল্যাংক চেক নিয়ে ঘোরে, আর তুমি ফ্রিতে পেয়েও ভ্যালু দিচ্ছ না, ডিয়ার?"

ডক্টর তখন ভয়ে নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে মাথা নাড়ছেন। তার চোখ বেয়ে অনবরত পানি নেমে যাচ্ছে। চিৎকার করতে চাইছেন, কিন্তু মুখের লোহার শিকল আর বাধন সেই আওয়াজকে বুকের ভেতরেই পিষে ফেলছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতি হলে তিনি নিশ্চয়ই মনে মনে শেফকে জুতোপেটা করতেন, 'ওই শালা মেন্টাল! তুই সে'ক্সী নাকি তোর বাপ সে'ক্সী, তা দিয়ে আমার কী কাজ? কোটি টাকার লেডিসরা তোকে দেখতে চায় তো তাদের কিডন্যাপ করে আনতি! মাঝখান থেকে এই গরিবের ওপর জোর করে অত্যাচার করার কী দরকার ছিল?'

শেফ চেইন-শ’র ধারালো মাথাটা তার প্রাইভেট পার্টসের ওপর আলতো করে ঠেকাল। ঘূর্ণায়মান ব্লেডের হালকা স্পর্শে কাপড়ের সুতো কেটে চামড়া ছিটকে যেতেই প্রথম র*ক্তের ফিনকিটা শেফের ফরসা গালে এসে লাগল। শেফ চোখ বন্ধ করে তর্জনী দিয়ে তুলে সেই গরম র*ক্তের স্বাদ নিল, যেন সে কোনো স্বর্গীয় সুধা আস্বাদন করছে।

সে পুরো চেইন-শ’র ব্লেডটা সজোরে দাবিয়ে দিল নারীর যৌ*না*ঙ্গের মাঝ বরাবর। সংবেদনশীল পেশি কাটার কুৎসিত শব্দের সাথে সাথে র*ক্ত আর মাংসের দলা ছিটকে গিয়ে রেস্টুরেন্টের দেয়ালে মাখামাখি হয়ে গেল। শেফের পুরো ব্ল্যাক শার্ট ভিজে জবজবে হয়ে গেল। চেইন শো’র ধারালো দাঁতগুলো ওই নারীর পেলভিক বোন এবং তলপেটের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে কিমা বানিয়ে দিচ্ছিল।

ডাক্তার কিন্তু মা'রা যাননি। তীব্র যন্ত্রণায় নিমজ্জিত হলেন, যেখানে তার পুরো শরীর সর্পের ন্যায় কুঞ্চিত হয়ে স্ট্রেচারের সাথে আছাড় খাচ্ছিল। শেফ চেইন-শ’টা এক ঝটকায় টেনে বের করে নিচে ছুঁড়ে ফেলল। মেঝের ওপর তখন চর্বি, উষ্ণ র*ক্ত আর ছেঁড়া পেশির একটা পিছল পুকুর তৈরি হয়েছে। শেফ পকেট থেকে একটা সিল্কের রুমাল বের করে নিজের গালের র*ক্তটুকু মুছল। সে রুমালটা নিখুঁত ভাঁজ করে আবার পকেটে চালান করে দিল। তারপর অর্ধচেতন, যন্ত্রণায় কাঁপতে থাকা ডক্টরের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "সো, প্র্যাক্টিক্যাল এক্সাম কিন্তু এখনো বাকি।"

সে এবার একে একে তার পরিচিত সমস্ত যন্ত্র হাতে নিতে শুরু করল। মেটাল ট্রে থেকে একটা দীর্ঘ, ধারালো কার্বন-স্টিলের রামদা এবং একটা মাংস কাটার বড় চপার তুলে নিল।

শেফ নিখুঁত দক্ষতায় রামদার সূক্ষ্ম ডগাটা ওই নারীর পেটের ক্ষতের ভেতর ঢুকিয়ে দিল। ব্যথার নতুন তরঙ্গে ডক্টরের চোখ দুটো উলটে ওপরের দিকে উঠে গেল, পুরো শরীর ধনুকের মতো বেঁকে গেল। শেফ রামদা দিয়ে এক টানে তার পাকস্থলীর দুই প্রান্ত কেটে দু’পাশে ফাঁক করে ধরল। ভেতরটা তখন একটা র*ক্তাক্ত সুড়ঙ্গের মতো রূপ নিল। শেফ নিজের খালি হাতটা সেই তপ্ত গহ্বরের ভেতর ঢুকিয়ে দিল। ভেতর থেকে সে একে একে অন্ত্রনালির সর্পিল পাকগুলো টেনেহিঁচড়ে হাতে দড়ির মতো প্যাঁচিয়ে প্যাঁচিয়ে বাইরে বের করে আনতে লাগল। প্রতিটি টানে নারীর মেরুদণ্ড স্ট্রেচারের সাথে সজোরে বারি খাচ্ছিল, আর তার মুখের কোন দিয়ে কেবল সাদা ফেনা আর র*ক্ত বেরিয়ে আসছিল। তারপর নারীর দেহটা শেষবারের মতো আকস্মিক একটা ঝাঁকুনি দিয়ে নিথর হয়ে এল।

শেফ অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে আঙুল ঢুকিয়ে অগ্ন্যাশয় আর লিভারের অংশ চেপে ধরল। একটা তীব্র ঝটকায় ধমনীসহ উপড়ে ফেলল সেটা। মাংস আর লিভারের সেই কালচে দলাটা সে হাতের তালুতে নিয়ে চোখের সামনে একবার ঘুরিয়ে দেখল। এরপর সে চপারটা হাতে নিল। শেফ ডানে-বামে মাথা দুলিয়ে গুনগুন করে শিস বাজাতে বাজাতে কসাইয়ের মতো নারীর দুই ঊরুর সংযোগস্থল এবং কোমর বরাবর রামদা আর চপারের একের পর এক নিখুঁত কোপ বসাতে লাগল। চামড়া আর চর্বির স্তরটা আলাদা হয়ে যেতেই ভেতরের লালচে-গোলাপি কাঁচা মাংস বেরিয়ে পড়ল। শেফ সেই মাংসের বড়ো অংশটাতে বড় হুকটা গেঁথে দিল। গার্ডল এবং ঊরুর হাড়গুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে শ্বেতশুভ্র মজ্জা র*ক্তের সাথে মিশে আঠালো তরল হয়ে মেঝেতে চুইয়ে পড়তে লাগল।

শেফ নারীত্বের সেই বিধ্বস্ত, ছিন্নভিন্ন অবশিষ্টাংশগুলোকে নিজের বুটের নিচে পিষে দলা থ্যাঁতলানো কাদা বানিয়ে ফেলল। তারপর সে এই মাংসের কুচি আর অঙ্গগুলো একে একে তুলে নিয়ে রেস্টুরেন্টের কিচেন টেবিলের দিকে অগ্রসর হতে লাগল। প্রতিটি পদক্ষেপে তার বুটের তলা থেকে র*ক্তের চপচপ শব্দ হচ্ছিল।

শেফ চপারটা টেবিলের ওপর গেঁথে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াল। নিজের র*ক্তাক্ত ব্ল্যাক শার্টের দিকে তাকিয়ে সে আফসোসের সুরে মাথা নাড়ল, "আহ ডক্টর! তোমার ব্লাড প্রেশারটা বড্ড বেশি ছিল। আমার ফেভারিট লিমিটেড এডিশন শার্টটার বারোটা বাজিয়ে দিলে! এটার ড্রাই ক্লিনিংয়ের বিল কিন্তু তোমার ফ্যামিলিকে পে করতে হবে, মনে থাকে যেন। তবে স্বীকার করতেই হবে, আজকের স্পেশাল মেন্যুটা কিন্তু জাস্ট ফাটাফাটি হবে। কাস্টমাররা আঙুল চাটতে বাধ্য! থ্যাংক ইউ ফর ইয়োর ভলান্টারি কন্ট্রিবিউশন, সানশাইন। আই উইল গিভ ইউ আ ফাইভ-স্টার রিভিউ অন গুগল!"

________

হসপিটালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেটটা পকেটে নিয়ে যখন শৌর্য বাইরের রাজপথের ধারে এসে দাঁড়াল, তখন তার পুরো অবয়বে হিংস্রতা ফুটে উঠেছে। সে অতিরিক্ত ঠান্ডা মস্তিষ্কের মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও, আপাতত তার সেই স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দাঁতে দাঁত চেপে, ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে সে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, "বাকিদেরও পরিবার আর আমারও পরিবার! অল অফ দেম আর ব্লাডি মা*দারফা*কা*র্স! এদের সাথে সম্পর্কটা শুধুই টাকার। এতগুলো দিন আমি হসপিটালে অলমোস্ট ডেড কন্ডিশনে পড়ে রইলাম, অথচ এখানে আসা তো দূর, একটা ফরমাল খবর পর্যন্ত কেউ নিল না!"

কথাটা শেষ হতেই তার ডান হাতের চওড়া পাঞ্জাটা সজোরে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল, হাতের রগগুলো নীল হয়ে চামড়া ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইল। "আর ওই ড্রাইভারটা... জাস্ট লেট মি ফাইন্ড হিম ওয়ান্স। তোকে যদি একবার আমি আমার হাতের নাগালে পাই, খু'নের যতগুলো অ্যানাটমিক্যাল মেথড আমি জানি, সব তোর শরীরের ওপর এক্সপেরিমেন্ট করব, ইউ পিস অফ শি*ট!"

সে তখন রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে তার নিজের সেই বিশেষ শুভাকাঙ্ক্ষীর দেওয়া ব্যাক-আপ গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল। হসপিটাল থেকে বের হওয়ার পরপরই সে নিজের বর্তমান কন্ডিশন জানিয়ে লোকটিকে একটা এনক্রিপ্টেড কল করেছিল এবং ওপাশ থেকে অ্যাসুরেন্স দেওয়া হয়েছিল যে কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পট কাস্টমাইজড গাড়ি পৌঁছে যাবে। ঠিক দুই মিনিটের মাথায় একটা কুচকুচে কালো টয়োটা ক্রাউন এসে তার পায়ের সামনে ব্রেক কষল। গাড়ির উইন্ডশিল্ডের বিশেষ আলফা কোড দেখে শৌর্য নিশ্চিত হলো যে এটাই তার কাঙ্ক্ষিত বাহন। তার নিজের বিলাসবহুল মার্সিডিজটা তো সেই এক্সিডেন্টেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; ওটা স্ক্র্যাপ কন্টেইনারে পাঠিয়ে নতুন একটা হাই-এন্ড মডেল অর্ডার করতে হবে।

একটি তপ্ত নিশ্বাস ফেলে শৌর্য গাড়ির পেছনের আরামদায়ক লেদার সিটে গিয়ে বসল এবং আইফোনটা বের করে স্ক্রিনে আঙুল চালাতে লাগল। মূলত তার ডার্ক ওয়েবের সোর্সগুলো ব্যবহার করে সে সেই ঘাতক ড্রাইভারের লাইভ লোকেশন এবং আইডেন্টিটি ট্র্যাক করার চেষ্টা করছিল। গাড়িটি শহরের ট্র্যাফিক গলিয়ে মসৃণ গতিতে চলতে শুরু করেছে।

কিন্তু হুট করেই মাত্র কয়েকটা ব্লক পার হতেই শৌর্যের শার্প নিউরনগুলো কেমন যেন অবশ হয়ে আসছিল, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা লাগছিল। সে খেয়াল করল, গাড়ির হিটার ভেন্ট থেকে বর্ণহীন গ্যাস কেবিনের ভেতর ছড়িয়ে পড়েছে। চারপাশটা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। শৌর্য নাক-মুখ চেপে ধরে গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করল, কিন্তু তার পেশিগুলো তখন সম্পূর্ণ প্যারালাইজড। অবশ হয়ে পুরোপুরি জ্ঞান হারানোর ঠিক এক সেকেন্ড আগে, সে শেষবারের মতো ড্রাইভিং সিটের রিয়ার-ভিউ মিররের দিকে তাকাল। সেখানে দেখতে পেল, কালো সার্জিক্যাল মাস্ক পরা একজোড়া বরফ-শীতল চোখ অত্যন্ত নিস্পৃহভাবে তার দিকেই চেয়ে আছে। পর মুহূর্তেই শৌর্য অন্ধকারে তলিয়ে গেল।

°

°

কয়েক ঘণ্টা পর...

যখন শৌর্যের চেতনা ফিরল, তখন তার পুরো শরীর যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠল। সে আবিষ্কার করল, সে একটা অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে ঘরের মাঝখানে ভারী লোহার চেয়ারের সাথে নিখুঁতভাবে আবদ্ধ। তার হাত, পা, বুক এমনকি চোয়ালের একাংশ মোটা লোহার শিকল দিয়ে সম্পূর্ণ প্যাঁচিয়ে লক করা হয়েছে। শৌর্য ছটফটানি শুরু করল, তার সুগঠিত শরীরের সমস্ত শক্তি এক করে সে লোহার চেইনগুলো ছেঁড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে লাগল। কিন্তু কিছুদিন আগের সেই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার ধকল এবং ক্লোরোফর্মের আফটার-ইফেক্টের কারণে তার শরীরে তখন পর্যাপ্ত গ্লুকোজ ছিল না। তবুও সে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে নিজের শেষ র'ক্তবিন্দু দিয়ে লড়ে যাচ্ছিল।

ঠিক তখনই সেই নিস্তব্ধ, ভূতুড়ে কামরার ভেতর একটা ভারী লোহার ফোল্ডিং চেয়ার মেঝেতে টেনে হিঁচড়ে আনার শব্দ হলো। লোহার পায়ার সাথে কংক্রিটের মেঝের কর্কশ ঘর্ষণের শব্দে শৌর্যের কানের পর্দা যেন ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো।

ঘরটার চারপাশের আবছা আলোয় বোঝা যাচ্ছে, এটা সম্ভবত কোনো পরিত্যক্ত লোহা গলানোর কারখানা। চারপাশে মরচে পড়া বিশাল সব গিয়ার, ভাঙা ক্রেন আর ধারালো লোহার পাত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

সেই ফোল্ডিং চেয়ারটা শৌর্যের ঠিক চার ফুট সামনে এনে অলস ভঙ্গিতে মেলে বসল এক দীর্ঘদেহী অবয়ব। লোকটির পকেট থেকে একটা ক্লাসিক জিপো লাইটারের শব্দ পাওয়া গেল। নীলচে আগুনের শিখায় তার মুখের নিচের অংশ দেখা গেল। সে নিস্পৃহভাবে লাইটারটা নিভিয়ে অন্ধকারের বুকে চুরুটের নীলচে ধোঁয়া ছাড়ল।

তার ডান হাতে ধরা ছিল একটা পেশাদার চেইন শো। হুট করেই লোকটা কোনো ওয়ার্নিং ছাড়াই সেই চেইন-শ’র মোটরটা অন করে দিল। চেইন-শ’র সেই ধারালো করাত চাকাটা যখন প্রতি মিনিটে হাজার বার ঘুরতে শুরু করল, তখন সেই ভাইব্রেশনের শব্দে শৌর্যের মাথা যেন ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল।

শৌর্য নিজের মনের ভেতর আক্রোশে বলল, "একবার... জাস্ট একটাবার যদি এই চেইনটা থেকে আমি ছাড়া পাই, আর যদি জানতে পারি এই নোংরা গেমটা কে খেলছে আমার সাথে, ওকে আমি জ্যান্ত ১২ হাত মাটির নিচে পুঁতে দেব!"

শৌর্যের মনের ভেতরের হুমকিটা বোধহয় সামনের চেয়ারে বসা সেই অন্ধকারের মানব নিখুঁতভাবে টের পেয়ে গেল। সে চেইন-শ’র মোটরটা অফ করে দিল। চারপাশটা আবার থমথমে নীরবতায় ডুবে গেল।

লোকটা চেয়ার ছেড়ে পরিমাপিত পায়ে শৌর্যের একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। ঠোঁটের সেই জ্বলন্ত চুরুটটা দাঁত দিয়ে চেপে ধরে, সে তার জ্যাকেটের ভেতর থেকে বের করে আনল দুটো চকচকে কার্বন স্টিলের ট্যাকটিক্যাল ছুরি।

সে শৌর্যের চোখের দিকে কিছু সেকেন্ডের জন্য তাকাল। এরপর হুট করেই একটা ছুরি সজোরে বসিয়ে দিল শৌর্যের ডান কাঁধের হাড়ের জয়েন্টে, আর অন্য ছুরিটা সোজা গেঁথে দিল তার বাম পায়ের কাফ মাসলে!

"আহহহ!" শৌর্য যন্ত্রণায় গুঙিয়ে উঠল, পরক্ষণেই সেটাকে চেপে নিয়ে ও দাঁতে দাঁত চাপল। না, এক ফোঁটা পানিও চোখের কোণে জমতে দিল না। শত্রুর সামনে ভেঙে পড়ার চেয়ে ম'রে যাওয়া ভালো। তবে যন্ত্রণায় সে লোহার চেয়ারসহই ছটফটিয়ে উঠল, অথচ মেরুদণ্ড সোজা রাখল।

ধমনি ছিঁড়ে ফিনকি দিয়ে তাজা, গরম র*ক্ত দেয়ালে ছিটকে উঠল। শৌর্যের নীল শার্ট বেয়ে ঘন র*ক্ত গড়িয়ে পড়ে পিঠ, প্যান্ট আর মেঝে লাল করে দিল। ঠিক সেই মুহূর্তে, ফারহান তার দাঁতে চেপে রাখা ওই জ্বলন্ত, লাল চুরুটটা মুখ থেকে বের করল। সেটা সরাসরি চেপে ধরল শৌর্যের ডান গালের নরম চামড়ার ওপর।

ফারহান শৌর্যের কানের কাছে নিজের মুখটা এনে ফিসফিস করে বলল, "ঠিক কতটা পেইন দিলে তোর মতো একটা জা'নো'য়ারের শাস্তি কমপ্লিট হবে বলতো, শৌর্য? আমার তো মনে হচ্ছে, তোকে এই মাত্র যে টর্চারটা করলাম, ওটা তোর পাওনা শাস্তির এক পার্সেন্টও না! শাস্তি? না... শাস্তি শব্দটা তোর জন্য খুবই সস্তা। আমি তোকে এমন একটা দুঃস্বপ্নের ভেতর বাঁচিয়ে রাখব, যেখানে প্রতিটা নিশ্বাস হবে আজাব, প্রতিটা মুহূর্ত হবে তোর মৃ'ত্যুর জন্য ভিক্ষা করার কারণ। তুই মর'তে চাইবি, কিন্তু মৃ'ত্যু তোর নাগালের বাইরেই থাকবে। মৃ'ত্যু একটা রহমত, আর সেই রহমতটা আমি তোকে এত সহজে পেতে দেব না।

দিস ইজ নট ইয়োর পানিশমেন্ট...

দিস ইজ জাস্ট দ্য বিগিনিং অফ ইয়োর হেল!"

🍁চলবে?🍁

কারান চৌধুরীই পৃথিবীর একমাত্র বাপ,যে কিনা বাচ্চা আসার খুশিতে এক্সিডেন্ট করছে🐸😂

~তমু

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন