ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভিলেন

২য় পর্ব

লেখক: মিহি সুলতানা

২য় পর্ব

গলিতে ঢুকতেই বুকটা ধক করে উঠলো মিলির। 

সোডিয়ামের বাতিটা নষ্ট। উপরে তার ছিঁড়া। নিচে ময়লা পানি জমে আছে।

সামনে ৩টা ছায়া। দেয়ালে হেলান দিয়ে।

প্রথম জন সামনে আসলো।  গায়ে হলুদ ময়লা গেঞ্জি। মুখে পানের পিক। হাতে ৬ ইঞ্চির ছুরি। 

দ্বিতীয় জন। চোখ লাল। ঠোঁট কাঁপতেছে। নেশা করছে। হাতে লোহার রড। 

তৃতীয় জন সবচেয়ে লম্বা। ৫ ফুট ৯। গায়ে শক্তি। হাতের তালুতে কালশিটে।

৩ জনের বয়স ২০-২১ হবে।

"কিরে সুন্দরী, একা একা কই যাও?" মিলির সামনে এসে রাস্তা আটকালো তারা। গা থেকে বাসি বিড়ি আর ঘামের গন্ধ।

মিলি ২ কদম পিছালো। "ভাই... আমারে যাইতে দেন।" গলাটা কাঁপতেছে।

"যাইতে দিব? আগে ব্যাগটা দে।" হাত বাড়ালো।

মিলি ব্যাগ বুকে চেপে ধরলো। "আমার কাছে কিছু নাই ভাই।"

"নাটক করিস না।" ঝাপটা মেরে ব্যাগের ফিতা ধরলো। টানাটানি শুরু হলো। 

টানাটানির কারণে মিলির কাঁধে ব্যথা লাগলো। ওড়না খুলে গেল।

"ছাড়েন... প্লিজ..." মিলি কেঁদে ফেলল।

"চুপ। একদম চিল্লাবি না।" কাঁধ চেপে ধরলোএকজন।নোংরা হাতের ৫টা আঙুলের দাগ বসে গেল মিলির কাধেঁ।

আরেকজন পিছন থেকে মিলির চুল মুঠ করে ধরে বললো, "টাকা কই?"

টান দিতেই ব্যাগের চেইন খুলে গেল। টাকার বান্ডিল মাটিতে পড়ে গেল। ৫০ টাকার নোট ছড়িয়ে গেল।

"ওহো। ১২ হাজার। আজকে তো ঈদ।" তারা টাকাগুলো কুড়াতে লাগলো।

মিলি টাকার দিকে হাত বাড়াতেই... 

ঠাস।

ডান গালে কষে চড় দিলো একজন। মাথাটা ডানে ঘুরে গেল মিলির।কানের ভিতর ভোঁ ভোঁ শব্দ। মুখে ৫ আঙুলের লাল দাগ।

"মা**_ টাকা ধরিস?" চুল ধরে টেনে দাঁড় করালো।

মিলি ব্যথায় কুঁকড়ে গেল তারপর অনেক কষ্টে বললো, "আমার ভাই... ভর্তি... প্লিজ ভাই..."

"ভাইয়ের _মা*****।" বলেই মিলির পেটে জোরে লাথি দিলো একজন

লাথিটা লাগলো পেটের নিচে। মিলির দম বন্ধ হয়ে গেল। সে মাটিতে বসে পড়লো কাশতে কাশতে।

"উঠ।" জামার কলার ধরে টেনে তুললো।

মিলির ওড়না মাটিতে পড়ে গেল।

তৃতীয় জন সামনে এসে মিলির থুতনি ধরে বললো, "কান্না থামা। সুন্দর আছিস। নাম কি?"

মিলি মুখ ঘুরিয়ে নিল। 

ঠাস। আরেকটা চড়। এবার বাম গালে। 

"প্রশ্নের উত্তর দে।"

মিলি দুই হাত দিয়ে মুখ ঢাকলো। কাঁধ কাঁপতেছে। "আমার মা অসুস্থ... ওষুধ..."

"ওষুধের টাকা আমরাই নিয়ে নেই।" হাসলো তিন জনেই।

একজন হাতের ছুরিটা মিলির গলার কাছে আনলো। ঠান্ডা লোহা গলায় লাগতেই মিলি কেঁপে উঠলো। 

"চিল্লাইলে কিন্তু..." গলায় হালকা চাপ দিল। গলায় দাগ বসে গেল।

আশেপাশে ৪-৫ জন মানুষ। চায়ের দোকানদার। রিকশাওয়ালা। 

সবাই দেখলো। তারপর মুখ ঘুরায়ে নিল। 

"আল্লাহ বাঁচাক"। কেউ আগালো না।

মিলি চোখ বন্ধ করে ফেলল।

ঠিক তখনই...

ভম।

মাটি কাঁপানো ইঞ্জিনের শব্দ।

সবাই পিছনে তাকালো।

গলির মুখে কালো বাইক। হেডলাইটের আলো সোজা ওদের চোখে। 

বাইকের উপর একজন। ফুল ব্ল্যাক। হেলমেটের ভাইজর নামানো। ভিতরে অন্ধকার।

বাইক থামলো। ইঞ্জিন বন্ধ।

"কে তুই?" চিৎকার করে বললো একজন,  গলাটা ভয়ে কাঁপতেছে।

উত্তর নাই।

বাইকওয়ালা নামলো। ধীরে। খুব ধীরে। 

প্রথমে ডান পা। তারপর বাম পা। 

হাঁটার শব্দ নাই। শুধু গ্লাভসের চামড়ার শব্দ।

সে প্রথমে মিলির দিকে তাকালো। মিলির ছেঁড়া ওড়না, গালের দাগ, কাঁপা শরীর। 

২ সেকেন্ড দেখলো তারপর ওদের দিকে ঘুরলো।

তারপর প্রথম জন ছুরি উঁচু করে দৌড়ে আসলো। "তোরে..."

বাইকওয়ালা এক পাশে সরে গেল। ছুরিটা বাতাস কাটলো। 

ডান হাত দিয়ে ওর কব্জি ধরে মোচড় দিলো।

কট। কট। 

দুইটা শব্দ। কব্জি আর কনুই দুই জায়গায় ভেঙে গেল। 

সে চিৎকার করে মাটিতে পড়লো। হাতটা অদ্ভুত ভাবে বেঁকে গেল।

দ্বিতীয় জন রড নিয়ে পিছন থেকে মারতে আসলো। 

বাইকওয়ালা ঘুরলো। বাম হাত দিয়ে রডটা ধরে ফেললো। টান দিয়ে নিজের দিকে আনলো। 

ডান পায়ের হাঁটু দিয়ে পেটে গুঁতো দিলো। ধুপ। 

নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলো দ্বিতীয় ছেলেটির।

তারপর রডটা কেড়ে নিয়ে ওরই বাম হাঁটুর নিচে সজোরে বাড়ি মারলো।

হাঁটু উল্টা দিকে ভেঙে গেল। রড ছিটকে ১০ হাত দূরে।

তৃতীয় জন ভয় পেয়ে দৌড় দিল। 

বাইকওয়ালা ৩ কদমে ওর কাছে গিয়ে  পিছন থেকে কলার ধরে টান দিলো।

ওকে ঘুরিয়ে একটা সোজা ঘুষি দিলো নাক বরাবর। নাকের হাড় ভেঙে গেল। ৩টা দাঁত পড়ে গেল। মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।

সে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খেতে লাগলো।

পুরা ৪০ সেকেন্ড।

গলির মানুষ পাথর হয়ে গেছে। কারো মুখে কথা নাই।

বাইকওয়ালা পকেট থেকে ৩টা সাদা কাগজ বের করলো। লাল স্কেচ পেন। 

হাত কাঁপলো না। বড় বড় করে লিখলো:

__"সন্ধ্যার পর কোনো মেয়ের গায়ে হাত দিলে, 

তোমার হাত আর থাকে না। 

- ভিলেন"_* 

নিচে ভাঙা মুকুট।

কাগজ ৩টা ৩ জনের বুকের উপর রেখে দিল।

তারপর সে মিলির সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো। 

মিলি ভয়ে কাঁপতেছে।

পকেট থেকে ছোট কার্ড বের করলো। মিলির কাঁপা হাতে দিল। 

*"ভয় পেয়ো না। আমি আছি।"*

মিলি ফুঁপিয়ে বলল, "ওরা... ওরা আমার..." 

বাইকওয়ালা মিলির মাথায় হাতটা রাখলো

মিলি ফিসফিসিয়ে বললো,,"আপনি....আপনি কে?"

বাইকওয়ালা কিছু বললো না শুধু মাথা নাড়লো।

তারপর মিলির পাশ থেকে উঠে গিয়ে বাইকে উঠে বাইক স্টার্ট দেয়। ৩ সেকেন্ডে অন্ধকারে বাইকটি গায়েব হয়ে যায়।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন