সকাল ৭টা। ঘুম ভাঙার আগেই পুরা ঢাকা শহর জেগে গেছে। টিভির স্ক্রিনে ব্রেকিং নিউজ। MP এর ছেলে রনি সহ ৪ জন খুন। খুনি M। মোবাইলে নোটিফিকেশন আসতেছে টং টং করে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক সব জায়গায় একটা ভিডিও ঘুরতেছে। ফার্ম হাউজের বাইরের ভিডিও। পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, আর বৃষ্টির ভিতর লাশ বের করার দৃশ্য।
চায়ের দোকানে সকাল থেকেই ভিড়। দোকানদার রেডিও ছেড়ে দিছে। নিউজে বার বার M এর নাম আসতেছে। এক চাচা বিড়ি টানতে টানতে বলে, "যাক বাবা একটা কাম হইছে। ওই রনি এলাকার কত মেয়ের জীবন নষ্ট করছে। পুলিশ ধরেও ছাইড়া দিছে। বাপ MP তো। এখন M এসে হিসাব করে দিছে।"
পাশের লোকটা বলে, "আস্তে কথা কও। দেওয়ালেরও কান আছে।"
কিন্তু মনের কথা তো আর চাপা থাকে না। সবাই জানে M ঠিক কাজ করছে।
ভার্সিটির গেটে মেয়েদের গ্রুপ। সবাই ফোনে নিউজ দেখতেছে আর ফিসফিস করে কথা বলতেছে।
একটা মেয়ে বলে, "আচ্ছা M ছেলে নাকি মেয়ে। "
আরেকজন বলে, "ছেলে মেয়ে দিয়ে কি হবে। যে অন্যায়ের বিচার করে সে মানুষ। "
তৃতীয় মেয়েটা চুপ করে থাকে। ওর চোখে পানি। কারণ ও জানে ওর বান্ধবীর সাথেও এমন হইছিলো। কিন্তু কেউ বিচার করে নাই। আজ M করছে।
অফিসে বসরাও কাজ ফেলে M নিয়ে আলোচনা করতেছে। বড় বড় স্যাররা পর্যন্ত বলে, "M যদি আমাদের কোম্পানির দুর্নীতিবাজ গুলারেও ধরতো। "
জুনিয়াররা হাসে। বলে, "স্যার M তো শুধু খুনি ধরে। ঘুষখোর ধরে না।"
দুপুর ১২টা। নিউজ চ্যানেলে লাইভ ডিবেট। একজন আইনজীবী বলে, "এটা আইন হাতে তুলে নেওয়া। এটা অপরাধ। "
আরেকজন সাংবাদিক বলে, "১০ মাস ধরে আইন কই ছিলো। যখন রনির নামে ৫টা কেস ছিলো আর একটারও বিচার হয় নাই তখন।"
এঙ্কার মাঝখানে বলে, "থামেন। জনগণ কি চায় সেটা শুনি।"
কল আসে। একটা মা কান্না করে বলে, "আমার মেয়েকে রনি নষ্ট করছে। পুলিশ কিছু করে নাই। M আমার মেয়ের বিচার করছে। আমি M কে দোয়া করি।"
বিকাল ৪টা। ফেসবুকে M এর নামে ২০টা পেজ। সবচেয়ে বড় পেজটার নাম Justice by M। ১ ঘন্টায় ২ লাখ ফলোয়ার। কমেন্ট বক্স ভরা। কেউ লিখতেছে M ভাই আমার এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীটারে ধরেন। কেউ লিখতেছে M আপু প্লিজ আমার বোনের কেসটা দেখেন। কেউ লিখতেছে M তুমি বাংলাদেশের ব্যাটম্যান। মিম বানানো শুরু হয়ে গেছে। M এর মুখে মাস্ক, হাতে ছুরি। নিচে লেখা When law sleeps, M wakes up।
থানায় অবস্থা খারাপ। রফিক স্যার চিৎকার করতেছে। টেবিলের উপর M এর তিনটা ফাইল। প্রথমটা নেশাখোর, দ্বিতীয়টা ধর্ষক, তৃতীয়টা MP এর ছেলে। তিনটার মধ্যে কমন কি। সবাই পাওয়ারফুল। সবার টাকা আছে। আর সবার কেস ঝুলে আছে। আরিয়ান চুপচাপ বসে ফুটেজ দেখে। সাভারের সব CCTV তে ওই রাতে কারেন্ট ছিলো না। জেনারেটরও কেউ বন্ধ করে দিছে। প্রফেশনাল কাজ। কোনো সাক্ষী নাই। শুধু দুইটা মেয়ে আছে। ওরা বলে কালো কাপড় পড়া ছিলো। মুখ দেখি নাই। গলা ভারী ছিলো।
রাত ৯টা। শহরের আন্ডারওয়ার্ল্ডে মিটিং বসছে। মাদক ব্যবসায়ী, জমি দখলকারী, লম্পট নেতারা সবাই ভয়ে কাঁপতেছে।
ওদের মধ্যে একজন বলে, "M যদি আমাদের ধরে।"
আরেকজন বলে, "চুপ কর। M শুধু মেয়েদের কেস ধরে। আমরা তো মেয়েদের গায়ে হাত দেই না।"
সবাই চুপ করে থাকে কারণ সবাই জানে ওরা কি করে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ। রিকশাওয়ালা, গার্মেন্টসের মেয়ে, স্কুলের টিচার। ওরা রাতে দরজা খুলে ঘুমায়। কারণ ওরা জানে M ওদের কিছু করবে না। M খারাপ মানুষের শত্রু।
রাত ১১টা। শহরের দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি। বড় করে M লেখা। নিচে লেখা We are watching। পুলিশ মুছে দেয়। সকালে আবার নতুন করে ওঠে।
একটা রাতেই M হয়ে গেলো আতঙ্কের নাম। আর একটা রাতেই M হয়ে গেলো ভরসার নাম। পুলিশ রাস্তায় রাস্তায় M রে খুঁজতেছে হাতকড়া পরানোর জন্য। আর মানুষ রাস্তায় রাস্তায় M রে খুঁজতেছে সাহায্য চাওয়ার জন্য।
শহর এখন দুই ভাগ। এক ভাগ M কে ভয় পায়। আরেক ভাগ M কে ভালোবাসে। আর M এখনো চুপ। ওর পরের টার্গেটের নাম ও ছাড়া কেউ জানে না।