ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভিলেন

২৮তম পর্ব

লেখক: মিহি সুলতানা

...*

রাত ১২টা ০৩। শ্যামবাজার। পুরান গোডাউন।

আশেপাশে কোনো লোক নাই। শুধু নদীর বাতাস আর কুকুরের ডাক। 

আরিয়ান গাড়ি থেকে নেমে পিস্তল চেক করল। টর্চ জ্বালাল।

ভিতরে ঢুকতেই উপরে স্পিকারে আওয়াজ।

M: "ওয়েলকাম আরিয়ান।" 

আরিয়ান: "সামনে আসো M। লুকায় কথা বলো কেন?" 

M হাসল: "আমি ছায়া। ছায়ার কোনো মুখ হয় না অফিসার।" 

আরিয়ান: "৫টা মেয়ের খুনি কে? নাম বল।" 

M: "নাম বললে খেলা শেষ। আর খেলা শেষ হলে তুমি কি করবা? বোর হয়ে যাবা।" 

আরিয়ান: "তুই আমার সাথে খেলতেছিস?" 

M: "না। আমি আইনের সাথে খেলতেছি। তুমি জাস্ট গুটি।"

ঠিক তখনই চারপাশে লাইট জ্বলে উঠল। 

১০ জন লোক। হাতে রড, চাপাতি।

আরিয়ান: "এটাই তোর প্ল্যান?" 

M: "না। এটা ওয়ার্ম আপ।"

ফাইট শুরু। 

আরিয়ান ট্রেনিং প্রাপ্ত CID অফিসার। ৪ জনকে নামাল। কিন্তু সংখ্যা বেশি। 

পিঠে রডের বাড়ি। কপাল কেটে রক্ত। 

আরিয়ান একটা রড কেড়ে নিয়ে আরো ২ জনকে ফেলল।

M: "ব্যাস ব্যাস। অনেক হইছে। ওকে মারবা না। শুধু শিক্ষা।" 

আরিয়ান: "তুই কে?!"

উত্তর নাই। শুধু হাসির আওয়াজ। তারপর সব লাইট অফ।

আরিয়ান কোনোমতে গাড়ি পর্যন্ত গেল। স্টিয়ারিং ধরে বসে থাকল ৫ মিনিট। 

বিড়বিড় করল: "ও আমাকে মারতে চায় না... ও আমাকে ভাঙতে চায়।"

---

রাত ১টা ৪৮। আরিয়ানের ফ্ল্যাট।

ধুপ ধুপ। দরজায় আওয়াজ।

মায়া ঘুমায় নাই। জায়নামাজে বসে ছিল। দৌড়ে দরজা খুলল।

দরজায় আরিয়ান। কপাল ফাটা। শার্ট ছেড়া। ডান হাতে রক্ত। 

কিন্তু পায়ে দাঁড়ানো।

মায়া: "স্যার!! আল্লাহ!!" 

আরিয়ান ভিতরে ঢুকে দরজা লক করল। তারপর সোফায় বসে চোখ বন্ধ করল।

মায়া দৌড়ে ফার্স্ট এইড বক্স, গরম পানি, তোয়ালে নিয়ে আসল। 

কাঁপা হাতে কপালের রক্ত মুছল।

মায়া: "স্যার কি হইছে? কে মারছে আপনাকে? পুলিশকে খবর দিব?" 

আরিয়ান: "দিও না।" 

মায়া: "কিন্তু স্যার আপনার..." 

আরিয়ান চোখ খুলল: "মায়া। তুমি ঠিক ছিলা।"

মায়া থেমে গেল: "মানে?" 

আরিয়ান: "গোডাউনে কেউ ছিল না। শুধু স্পিকারে M এর ভয়েস। আর ১০ জন গুন্ডা। 

ওরা বলছে 'বস বলছে মারবি না। ভয় দেখাবি।' 

মায়া, ও আমাকে মারতে চায় না। ও চায় আমি ভেঙে পড়ি।"

আরিয়ান পকেট থেকে USB বের করল। 

বল: "এটাও ভুয়া। ল্যাবে পাঠাইছি। রিপোর্ট আসছে ৩০ মিনিট আগে। 

ভিডিওটা ২টা ক্লিপ জোড়া লাগানো। ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ আলাদা।"

মায়া চুপ করে ব্যান্ডেজ লাগাল। 

মায়া: "স্যার আপনি বাসায় ফিরছেন এটাই বড় কথা।"

আরিয়ান মায়ার দিকে তাকাল: "তুমি যদি না থাকতা মায়া... আমি হয়তো পাগল হয়ে যেতাম। 

৩ দিন ধরে তুমি আমার সাথে ফাইল ঘাটছো। রাত জাগছো। থ্যাংক ইউ।"

মায়া মাথা নিচু করল: "আমি তো কিছুই করি নাই স্যার। আপনি দেশের জন্য করতেছেন।"

আরিয়ান উঠে জানালার কাছে গেল। শহর অন্ধকার। 

বল: "M ভাবছে আমাকে ভয় দেখায় দমায় দিবে। 

কিন্তু ও জানে না... যত আঘাত পাই, তত জেদ বাড়ে।"

আরিয়ান ঘুরে বলল: "কাল থেকে নতুন প্ল্যান। M যেখানে আঘাত করবে, আমি সেখানেই ফাঁদ পাতব।"

মায়া: "জি স্যার। আমি হেল্প করব।"

আরিয়ান হালকা হাসল: "তুমি আমার টিমের সবচেয়ে বুদ্ধিমতী মেম্বার মায়া।"

---

রাত ৩টা ১০।

আরিয়ান ব্যাথার ওষুধ খেয়ে ঘুম। 

মায়া আরিয়ানের কপালে ঠান্ডা পট্টি দিল।

তারপর কিচেনে গিয়ে পানি খেল। 

ফোন বাজল। Unknown।

মায়া ধরল না। ২ বার বাজার পর কেটে গেল। 

মায়া মেসেজ চেক করল: "Status?" 

মায়া রিপ্লাই দিল না। ফোন সাইলেন্ট করে রাখল।

জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। 

বিড়বিড় করল: "স্যার আপনি অনেক ভালো মানুষ।"

---

সকাল ৬টা।

আরিয়ান ঘুম থেকে উঠে দেখে টেবিলে নাস্তা রেডি। 

মায়া চা বানাচ্ছে।

আরিয়ান: "ঘুমাও নাই?" 

মায়া: "এইতো স্যার একটু। আপনার কপাল?" 

আরিয়ান: "ঠিক আছে। ব্যাথা নাই।"

আরিয়ান চেয়ারে বসে বলল: "মায়া, আজ থেকে তুমি আমার সাথে ফিল্ডে যাবা। 

M তোমার নাম নিছে। তার মানে তুমিও টার্গেট। একা থাকবা না।"

মায়া চমকাল: "স্যার আমি? আমি তো..." 

আরিয়ান: "তুমি ল’ এর স্টুডেন্ট। কেস বুঝো। আমার লাগবে তোমাকে।"

মায়া: "ঠিক আছে স্যার।"

আরিয়ান ফোন বের করল। রাফিকে কল দিল: 

"রাফি। শ্যামবাজার গোডাউনের আশেপাশের সব CCTV ফুটেজ লাগবে। রাত ১১টা থেকে ১টা। 

আর হাসপাতালের ৬ মাস আগের ডেথ রিপোর্ট। জাস্টিস রফিক।"

ফোন রাখার পর আরিয়ান বিড়বিড় করল: "এবার খেলা হবে M।"

---

মায়া চায়ের কাপ এগিয়ে দিল। 

আরিয়ান চা খেতে খেতে ফাইলের দিকে তাকাল।

আর মায়া জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন