#অন্তঃদহন
#Writer_DRM_Shohag
#পর্ব_২১ [বর্ধিতাংশ]
গতরাত,
রাত তখন ১:৩০ প্রায়। সৌম্য'র চোখে ঘুম নেই। সে ভাবলো বাইরে গিয়ে একটু হাঁটবে। কিছু ভালো লাগছে না। বাইরে বেরোতে নিলে সন্ধ্যা বিছানা থেকে নেমে সৌম্য'র হাত ধরে। সৌম্য বিচলিত কণ্ঠে বলে,
- কি হয়েছে বোনু? খারাপ লাগছে?
সন্ধ্যা দু'দিকে মাথা নাড়িয়ে বোঝায় না। ইশারায় বলে, - সে-ও সৌম্য'র সাথে বাইরে যেতে চায়। সৌম্য মৃদু হেসে বোনের হাত ধরে বাইরে বেরিয়ে যায়। জোৎস্নার আলো নেই আজ। তবে মৃদু বাতাস বইছে। সৌম্য সন্ধ্যার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূর এগিয়ে যায়। ভালোই লাগছে। সৌম্য ভাইয়ের কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে হাঁটছে। অনেকদূর হাঁটার পর হঠাৎ কানে আসে শোরোগোলের আওয়াজ। সৌম্য সন্ধ্যা দু'জনেই ভ্রু কুঁচকে তাকায়। তবে তেমন পাত্তা দিল না। এসব গ্রামে অনেক যাত্রাপালা হয়। সেসব হতে পারে।
এদিকে শীতের রাত হওয়ায় ঘরে আগুন লাগলেও সাধনদের উষ্ণতা পেয়ে যেন ঘুম আরও গাঢ় হয়ে যায়। সকলেই কমবেশি ক্লান্ত থাকায় এমনিতেই ঘুমে বিভোর। কিন্তু এতো এতো শোরোগোলের আওয়াজে প্রথমে সাধনের ঘুম ভাঙলো। ঘুমের ঘোরে আশেপাশে তাকালে সে ভ'য় পেয়ে যায়। চারপাশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। সাধন তার বোনের দিকে তাকায়। সোহা কি আরামে ঘুমাচ্ছে। হঠাৎ পাশে আ'গুনের ফুলকি পড়লে সাধন চেঁচিয়ে ওঠে। সোহা ঘুমিয়ে। সাধন কাঁপা কণ্ঠে ডাকলো,
- সোহা বোন ওঠ। আ'গুন লেগেছে।
সোহা ধড়ফড় করে উঠে বসে। ঘুমুঘুমু চোখে চারিপাশে তাকালে ঘুম উড়ে যায়। তার পাশে ঠাস করে আগুনের ফুলকি এসে কাপড়ের উপর এসে পড়ে। সোহা চেঁচিয়ে উঠে সাধনকে জড়িয়ে ধরে। কেঁদে দিয়ে বলে,
- ভাইয়া আমাকে বাঁচাও।
সাধন ডানহাতে সোহার কাপড়ের উপর থা'প্প'ড় দিয়ে আগুন নিভিয়ে দিয়ে বোনকে আগলে নেয়। সোহা গুটিশুটি মেরে ভাইকে ধরে কাঁদতে থাকে। সাধন কোনোদিকে বেরোনোর পথ পায় না। পাশের ঘরগুলো থেকে চিৎকারের আওয়াজ আসছে। সাধন সোহা দৌড়ে অন্য রুমে যেতে চায়, কিন্তু আ'গুনের তেজে যেতে পারছে না। সময়ের পাল্লা বাড়তে থাকে, এক পর্যায়ে আ'গুন থেকে বাঁচাতে পারলো না ঘরের ভেতর থাকা ব্যক্তিরা। সৃজা তার ভাইকে জড়িয়ে ধরে আছে। ছোট্ট সিজান চিৎকার করে কাঁদছে। সৃজা ভাইটাকে জড়িয়ে গলা কাটা মুরগির ন্যায় ছটফটায়, সৃজা কাঁদতে কাঁদতে ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,
- ঘুমা ভাইয়া। আল্লাহ তোকে ফুলের বাগানে রাখবে। ঘুমা।
সিজান বোনের গলা জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
- আপু আমি ম'রি গিলাম। আমার শলীল জুলচে। আমাকি বাঁচাউ।
সৃজা শুধু কেঁদেই গেল, আর বিড়বিড় করল,
- ঘুমা ভাইয়া। আল্লাহ তোকে জান্নাতের বাগান দিবে।
পাশের রুমে সৃজার বাবা, মা জ্বলছে আর আহাজারি করছে, সাথে ছেলেমেয়েদু'টোর চিৎকারে কলিজা ফেটে যাচ্ছে। কিচ্ছু করার রইল না। সৃজার বাবা শেষ একবার দীর্ঘশ্বাস নিয়ে প্রিয় স্ত্রীকে জড়িয়ে অহস্য য'ন্ত্র'ণা'য় জ্ঞান হারায়। একসময় সৃজার মা-ও স্বামীর বুকেই হয়তো শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল।
সাধন, সোহা দু'জনে দু'জনকে জড়িয়ে ধরে আছে। দু'ভাইবোন জ্বলন্ত খড়ির ন্যায় জ্বলছে। সোহা কাঁদতে কাঁদতে বলে,
- ও ভাইয়া। আমার খুব ক'ষ্ট হচ্ছে গো। আমার শরীর টা জ্বলে ছাই হয়ে গেল! আমায় বাঁচাবেনা ভাইয়া?
সাধন বোনকে শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে কান্নামাখা গলায় বলে,
- ক্ষমা করিস বোন। আমি ওপারে গিয়ে আর কখনো তোকে মারবো না।
সোহা ভাইয়াের গলা জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
- ভাইয়া? ও ভাইয়া? ম'রে যাচ্ছি আমি। আহ!
সাধন বোনের কপালে চুমু খায়। সোহা চেঁচিয়ে কাঁদে। সাধন বোনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। বিড়বিড়িয়ে বলে,
- তোকে অনেক ভালোবাসি বোনু।
একসময় সাধন, সোহা-ও নিস্তেজ হয়ে গেল। আ'গুন তাদের জ্বালিয়ে দিল। সোহা বিড়বিড় করে,
- ভাইয়া, ভালোবাসি। সন্ধ্যা বেস্ট ফ্রেন্ডকেও ভালোবাসি।
সাধন বোনকে ছাড়লো না একটু-ও। জ্ঞান হারায় তবুও শক্ত করে ধরে রাখলো। চোখের কোণ ঘেঁষে পানি গড়িয়ে পড়লো। সৌম্য'র কথা মনে পড়ল। বিড়বিড় করল, - বোনু, সৌম্য ভা.....
দু'ভাইবোন জ্ঞান হারায়। নাহ, হয়তো শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ফেলেছে। দু'জন দু'জন গলা জড়িয়ে আগুন পোড়া খড়ির ন্যায় পু'ড়ছে।
.
.
সৌম্য, সন্ধ্যা প্রায় দেড় ঘণ্টাখানেক এদিক-ওদিক ঘুরে আবার-ও উল্টোপথ ধরে। বাড়ির দিকে যত এগোয়, তত মনে হলো চারপাশটা কেমন আলোতে ভ'রে গিয়েছে। সৌম্য ভ্রু কুঁচকে বোনের হাত ধরে পায়ের গতি বাড়ায়। এতোক্ষণে শোরোগোল বেড়ে গিয়েছে। অনেকটা কাছে আসলে সৌম্য যখন বুঝল বাড়িতে আ'গুন লেগেছে তখন বোনের হাত ধরে দৌড় লাগায়। সন্ধ্যা চোখ বড় বড় করে ভাইয়ের সাথে পা মেলায়। আ'গুনের তেজে দু'ভাইবোন এগোতে পারেনা। সন্ধ্যা নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলে এগিয়ে যায়, এখানে তো সোহা আছে, সবাই আছে। কোথায় সবাই।
সৌম্য, সন্ধ্যা সিজান আর সোহার আর্তনাদ একটু-আধটু শুনতে পেল। সন্ধ্যার কান্না পায়। সব ভুলে এগিয়ে যায়। সোহা যে তাকে বেসফ্রেন্ড বলেছিল, বোন বলেছিল। সেই বোন আ'র্ত'নাদ করছে। সন্ধ্যার পা থেমে থাকে? সে সব ভুলে দৌড়ায়।
হঠাৎ-ই বিকট শব্দ হয়, সন্ধ্যা যেন কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়েছে। একদম উড়ে পড়ার মতো কয়েক হাত দূরে এসে পড়ে। সৌম্য চিৎকার করে ডাকে,
- বোনু???????
দৌড়ে গিয়ে সন্ধ্যার পাশে হাঁটুমুড়ে বসে। সন্ধ্যার কোনো সাড়া নেই। সৌম্য সন্ধ্যাকে এতো ডাকলো, অথচ কোনো সাড়া পায় না। সন্ধ্যাকে টেনে বুকে জড়িয়ে নিয়ে সামনে তাকায়। আ'গুনের তীব্রতা যেন বেড়েই চলেছে।
হঠাৎ-ই উপরে কয়েকটা হেলিকপ্টার ঘুরতে দেখে সৌম্য ভীত চোখে তাকায়। ভাবে এরাই হয়তো তাদের ক্ষ'তি করতে চাইছে। সৌম্য দ্রুত সন্ধ্যাকে কোলে তুলে নেয়। কোনদিকে যাবে বুঝতে পারেনা। তারা বাড়ির পিছনের দিকটায়। এজন্য এদিকে কেউ নেই। সৌম্য জ্বলতে থাকা বাড়িটার দিকে তাকায়। চোখের কোণ ঘেঁষে পানি গড়িয়ে পড়ে। তার প্রিয় মানুষগুলো কি তবে তাকে আর বোনুকে ছেড়ে চলে গেল?
ভাবনার মাঝেই আরও কয়েকটা হেলিকপ্টার দেখে সৌম্য অজ্ঞান সন্ধ্যাকে কোলে নিয়ে দিকবিদিকশুন্য হয়ে দৌড়ায়। সে পারলো না তার প্রিয় মানুষগুলোকে বাঁচাতে। তার বোনটা ঠিক আছে তো? কথাটা ভাবলতেই সৌম্য'র পায়ের জোর কমে আসে। সৌম্য আশেপাশে লুকানোর মতো কিছু খুঁজে না পেয়ে রাস্তা থেকে কিছুটা নিচের দিকে নেমে যায়। এরপর সন্ধ্যাকে সেখানে শুইয়ে দু'হাতে সন্ধ্যার গালে চাপড় মে'রে ডাকে,
- বোনু? এই বোনু? ওঠ বোনু!
প্রায় ১০ মিনিটের মতো সন্ধ্যাকে ডেকে-ও যখন কোনো রেসপন্স পায় না। তখন সৌম্য'র চোখ বেয়ে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে। তার বোনকে কি শেষমেষ হারিয়েই ফেলল? সৌম্য দু'হাতে সন্ধ্যাকে জড়িয়ে নিয়ে ভাঙা কণ্ঠে আওড়ায়,
- বোনু ওঠ না? তুই ছাড়া আমার কেউ নেই বোনু। যারা একটু-আধটু ছিল, তারা-ও হারিয়ে গেছে। এই বোনু? বোনু???
সন্ধ্যার কোনো সাড়া না পেয়ে সৌম্য দিশেহারা হয়ে পড়ে। আবার-ও সন্ধ্যাকে কোলে নিয়ে রাস্তা দিয়ে এদিক-ওদিক ছোটে। কোথায় নিয়ে যাবে তার বোনটাকে? রাস্তার পাশে একটি কল চোখে পড়লে সৌম্য সন্ধ্যাকে কলের পাড়ে শুইয়ে দেয়। এরপর দু'হাতে কল চেপে দ্রুত দু'হাত কলের মুখে রাখে। কিছুটা পানি দু'হাতের মুঠোয় জমা হলে তা নিয়ে দ্রুত সন্ধ্যার মুখে ছিটিয়ে দেয়। এরপর দু'হাতে সন্ধ্যার দু'গাল ধরে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ডাকে,
- বোনু? উঠ না বোনু! আমার একা রেখে যাস না। তুই আমায় রেখে গেলে আমি ম'রে যাবো বোনু। তুই না আমার ছোট মা? একটু চোখ মেলে তাকা। বোনু?
সৌম্য'র চোখের কোণে ঘেঁষে গড়িয়ে পড়া কয়েক ফোঁটা নোনা পানি সন্ধ্যার মুখের উপর পড়ে।
সৌম্য আবার-ও উঠে এসে কল থেকে পানি নিয়ে সন্ধ্যার মুখে ছিটায়। এরকরম চারবার করার পর সন্ধ্যা একটু নড়ে ওঠে। সৌম্য'র জানে পানি আসে। দ্রুত সন্ধ্যাকে দু'হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। বিড়বিড়িয়ে বলে,
- বোনু? আমায় ছেড়ে যাস না কখনো।
সন্ধ্যা ভাইকে জড়িয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো। সৌম্য ডান হাতে তার চোখজোড়া মুছে সন্ধ্যার দিকে তাকায়। সন্ধ্যা ভাইকে ইশারায় বোঝায়,
- সোহা, সাধন, সৃজা, সিজান, মামা, মামি সবাই ওই ঘরে পু'ড়ে গিয়েছে ভাইয়া?
সৌম্য'র চোখজোড়া ভিজে ওঠে। আশেপাশে তাকালো। অনেকটা সময় পেরিয়েছে। শোরোগোল টা কমেছে বোধয়। সৌম্য সন্ধ্যাকে ধরে আবার-ও সৃজাদের বাড়ির দিকে যায়। আশপাশটা কেমন যেন শুনশান লাগলো। কেউ নেই এখানে এখন।
কিছুক্ষণ আগে-ও যেখানে একটি বাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল, সেই বাড়িটি এখন ছাইয়ে পরিণত হয়ে আছে।
তাদের ছোট্ট একটি পরিবার ছিল, হয়তো র'ক্তের সম্পর্ক ছিল না, তবে তার চেয়েও বেশি টান ছিল প্রতিটি মানুষের সাথে, তাদের সবাইকে হারিয়ে ফেলল সৌম্য আর সন্ধ্যা। সন্ধ্যা দৌড় দেয়। একটুখানি গিয়ে হঠাৎ-ই পায়ে গরম লাগলে টিকতে না পেরে পিছিয়ে আসে। সৌম্য বোনকে আগলে নেয়। পরনের প্যান্টে ফোন ছিল, যেটা বের করে চারিদিকে লাইট দিয়ে খুঁজল কিছু।
একটু ঘুরে ঘুরে দেখলে হঠাৎ চোখে পড়ল, দু'টো মাথা। তবে চেনা যাচ্ছেনা। একদম কালো কুচকুচে হয়ে গেছে। সৌম্য বেশ কিছুক্ষণ চেয়ে চিনতে পারলো এটা তার মামা মামি। মুহূর্তেই ছেলেটার সৌম্য'র চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। তার মা নেই, বাবা থেকেও নেই। এই দু'জন মানুষ-ই ছিল বাবা মায়ের মতো। আল্লাহ কি সুন্দর করে তাদের কেড়ে নিল! এরপর একটু দূরেই দেখল একটি ছোট্ট মাথা, আরেকটি মাথা লাগানো। সৌম্য চিনলো এরা সৃজা, সিজান। সিজানের আদোআদো স্বরে ডাক, সৃজার বলা সেই কথাটি কানে বাজলো,
- সোহাকে একদিনেই বোন বানিয়ে ফেললেন? আর আমি একমাসের বেশি হয়ে গেল, একসাথে থাকছি। তাও আমাকে বোন ভাবতে পারছেন না? আপনি এতো কিপ্টা কেন?
সৌম্য ভেজা চোখে চেয়ে বিড়বিড় করল,
- সৃজা তোমাকে আমি প্রথম দিন-ই বোনু বানিয়ে নিয়েছিলাম। শুধু তুমি বুঝতে পারোনি।
সন্ধ্যার চোখ থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। সৌম্য বা হাতে বোনকে আগলে নিয়ে আরেকটু সামনে এগোলে আরও দু'টো মাথা দেখল। এদের চিনতে একটু-ও অসুবিধা হলো না। সাধন,, দু'দিনের পরিচিত হওয়া এক ভাই তার। সৌম্য এ পর্যায়ে বোনকে জড়িয়ে বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠলো কেন জানি। সাধন যে বলেছিল, সে চাকরি পেলে তার থেকে সাধন শীতের পোষাক কিনে নিবে। তাকে বারবার আপন ভাইয়ের কথা মনে করিয়ে দিত! কিন্তু সে যে ফাঁকি দিয়ে চলে গেল।
সন্ধ্যা কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি তুলে ফেলেছে। সোহার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো কি করে ভুলবে সে? তার জ্বর আসলে সোহা তার মাথায় কত স্নেহের হাত বুলিয়ে দিত! আর কখনো দিবে না। দৌড়ে এসে আর জড়িয়ে ধরবে না তাকে। আর হাসবে না তার দিকে চেয়ে। তাকে আর হাসাবে না সোহা নামক চঞ্চল মেয়েটি। সে হারিয়ে গিয়েছে।
হঠাৎ মানুষের একটু আঁচ পেয়ে সৌম্য নিজেকে সামলে নেয়। সন্ধ্যাকে ধরে দ্রুত জায়গাটি প্রস্থান করার জন্য পা বাড়ায়। সৌম্য জানেনা এসব কারা করেছে, তবে কেউ না তো কেউ তাদের মা'র'তেই করেছে। সন্ধ্যা যেতে চায় না। সে সোহা, সৃজা, সিজান মামা, মামি ওদের রেখে কি করে যাবে? সৌম্য সন্ধ্যাকে জোর করেই টেনে নিয়ে যেতে থাকে।
.
ধীরে ধীরে দিনের আলো ফুটতে শুরু করে। সৌম্য সন্ধ্যাকে নিয়ে রাস্তায় ধারে বসে থাকে। কোথায় যাবে, কি করবে কিচ্ছু জানেনা। পকেটে কয়টা টাকা আছে। আর তার ফোনটা। আর তাদের গায়ে একটি করে জামা। পায়ের জুতো-ও নেই। রাত বলে খালি পায়ে হাঁটতে বেরিয়েছিল।
সৌম্য সন্ধ্যাকে আগলে নিয়ে বসে ভাবছে কি করবে। হঠাৎ রিয়াদের বাসার কথা মনে পড়ে। আর তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
বেলা বাড়লে সৌম্য বাসের টিকিট কাটে দু'টো। টিকিট কেটে পকেটে থাকলো দুই টাকার একটি কয়েন।
সৌম্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এরপর বাস আসলে খালি পায়ে দুইভাইবোন সেই বাসে উঠে বসে। অনেকে বাঁকা চোখে তাকিয়েছে। অন্যসময় হলে হয়তো একটু অন্যরকম লাগতো। কিন্তু আজ সৌম্য, সন্ধ্যার কোনো অনুভূতি হলো না। তারা প্রিয় মানুষগুলোকে হারিয়ে পাথর হয়ে গিয়েছে যেন।
.
.
এরপর সন্ধ্যা, সৌম্য রিয়াদের বাড়ি এসে কিছুদিন এখানে থাকতে চায়। সৌম্য, সন্ধ্যার অবস্থা দেখে তারা অবাক হয়েছিল। সৌম্যদের নিজেরকে নতুন করে পরিচয় দিতে হয়নি। কারণ তারা আগে থেকেই রিয়াদের কাছে সাধন, সোহা হিসেবে পরিচিত। এরপর দু'ভাইবোন এখানেই থাকতে শুরু করলো।
জমির দলিলগুলো পুড়ে গিয়েছে। সৌম্য'র আর তার মামার ঋণ শোধ করা লাগেনি। তবে তার বাবার মতো মামাকে হারিয়ে ফেলেছে। বাঁচাতে পারেনি।
দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল পাঁচ মাস। এখানে সৌম্য টিউশন পায়নি বলে আবার-ও মিস্ত্রির কাজ করে। যখন যে কাজ পায়, সেটাই করে। দিনমজুর যাকে বলে। দিনশেষে তার বোনুর মুখে দু'টো খাবার তুলে দেয়। এইতো তাদের জীবন। এভাবেই চলছে।
________________________
রিয়া গতকাল সন্ধ্যার ডায়রি নিয়েছিল। আজ বসে পড়ছিল।
সন্ধ্যা, সৌম্য, সাধন, সোহা, সৃজাদের কাহিনী পড়ে মেয়েটির কাঁদতে কাঁদতে অবস্থা খারাপ।
এক পর্যায়ে হাতের ডায়রি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। সন্ধ্যা রিয়াকে রাতের খাবার খেতে ডাকতে এসেছিল। রিয়াকে এভাবে কাঁদতে দেখে দৌড়ে এসে রিয়াকে ঝাঁকিয়ে ইশারায় বলে,
- কি হয়েছে?
রিয়ার কান্নায় একে একে তার মা, নানি, সাথে সৌম্য এসে হাজির হয় এই ঘরে। রিয়ার মা এগিয়ে এসে বলে,
- কি হয়েছে মা? এভাবে কাঁদছিস কেন?
রিয়া কাঁদতে কাঁদতে ফিক উঠিয়ে ফেলেছে। সময় নিয়ে নিজেকে সামলে বলে,
- মা জানো, এদের নাম সন্ধ্যা আর সৌম্য। আমাদের সাধন ভাইয়া আর আমার বান্ধবী সোহা ম'রে গিয়েছে মা। ওরা আর বেঁচে নেই। এজন্য আজ পাঁচ মাস হয়ে গেছে এখানে আর আসেনা। আর আগে দুই মাস পর পর-ই আসতো। আমি মিছেমিছি অভিমান করে আছি সাধন ভাইয়া আর সোহার উপর। ওরা তো বেঁচেই নেই মা।
রিয়ার কথা শুনে রিয়ার মা আর তার নানি স্তব্ধ চোখে তাকায়। সন্ধ্যার চোখ থেকে আবার-ও টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে। একবার সৌম্য'র দিকে তাকালো। সৌম্য ঝাপসা চোখে সন্ধ্যার দিকে চেয়ে আছে। সন্ধ্যা দৌড়ে এসে ভাইকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলো। সে সোহাকে কখনো ভুলবে না। তার কখনো কোনো বান্ধবী ছিল না। ওই একটাই বান্ধবী ছিল তার। যে খুব ভালো ছিল। তাকে খুব ভালোবাসতো। সে কি করে ভুলবে তার বোনটার কথা?
সৌম্য সন্ধ্যাকে বা হাতে জড়িয়ে নিয়ে ডান হাতে ঝাপসা চোখজোড়া ডলে কয়েকবার। সাধনের সেই নাটকীয় ভঙ্গিতে বলা, 'প্রিয় ভাইসাব' কানে বাজলো। কতবার তাকে জড়িয়ে ধরেছিল। আপন ভাই বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছিল। কথাগুলো ভেবে আবার-ও চোখজোড়া ঝাপসা হয়। মনে মনে বিড়বিড় করে,
- পরিচয়টা দু'দিনের। স্মৃতি খুবই সামান্য। অথচ এর ভার এতোটাই বেশি, যা বইতে আমাদের দু'ভাইবোনের নিঃশ্বাস নিতে ক'ষ্ট হয়। দম আটকে আসে।
____________________________
মোট ছয়টি লা'শ পাওয়া গিয়েছিল। তবে কাউকে চেনা যায়নি। পুরো কয়লা হয়ে গিয়েছে। কারো কারো বডির কিছু অংশ খুঁজেই পাওয়া যায়নি।
গত পাঁচ মাসে এটুকু তথ্যই পেয়েছে আকাশ।
আসমানী নওয়ান সেদিন শ'ক্ত থাকলে-ও, এরপর পর থেকে হয়ে গেলেন অসুস্থ,, আর আকাশ হয়ে গেল পাথরের মতো শক্ত। মাকে নিয়ে দু'দিন পর পর হসপিটাল দৌড়ায়। অনুভূতিহীনদের মতো বেঁচে আছে দু'টো মানুষ।
.
.
আসমানী নওয়ান অসুস্থ হওয়ায় আবারও আকাশ তার মাকে হসপিটালে ভর্তি করেছে।
আকাশ হসপিটাল থেকে আসার সময় এক কেজি শিং মাছ কিনে এনেছে। বাসায় এসে কাজের খালা কে মাছগুলো কেটে সবকিছু রেডি করতে বলে দোতলায় তার রুমে আসে। সময় ন'ষ্ট না করে শাওয়ার নেয়। এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা রান্নাঘরে আসে। তার মা বাইরের কারোর হাতের রান্না খায় না। আকাশ নিজেই রান্না করবে। পাকা হাত নয়, তবে যা পারে খাওয়া যায়।
আসমানী নওয়ান এর শরীর ভালো যায় না ইদানিং। দু'দিন পর পর তাকে হসপিটাল নিয়ে ছুটতে হয়। আকাশ চুলায় প্যান বসিয়ে একে একে রান্নার সব উপকরণ দিতে থাকলো প্যানে।
পিছন থেকে আকাশের বাবা সাইফুদ্দীন নওয়ান বলে,
- তোমার মা এখন কেমন আছে?
আকাশ ছোট করে বলে,
- ভালো।
আকাশের বাবা আবার-ও বলে,
- তুমি বিশ্রাম কর। আমি রান্না করে দিচ্ছি।
বাবার কথায় আকাশের হাত থেমে যায়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
- যার জন্য রাঁধছি, সে-ই তো খাবে না। তোমার হাতের ছোঁয়া থাকলে।
একটু থেমে শ'ক্ত গলায় বলে,
- তাছাড়া তোমার হাতের রান্না আমার মায়ের মুখে পড়ুক, সেটা আমি চাইছি না। সবচেয়ে বড় কথা তোমাকে আমি দেখতে চাইনা, তোমার কণ্ঠ-ও শুনতে চাই না। তুমি কি দয়া করে এই বাড়ি থেকে অন্যকোথাও যাবে? নয়তো আমি আমার মা কে নিয়ে এখান থেকে চলে যাবো।
সাইফুদ্দীন নওয়ান ছেলের পানে চেয়ে অস্থির কণ্ঠে বলে,
- আমি যাচ্ছি বাবা। তোমরা কোথাও যে-ও না। আমি তোমাদের সামনে তেমন আসিনা তো। আর আসবো না।
কথাগুলো বলে ভদ্রলোক ধীরে পায়ে জায়গাটি প্রস্থান করে। চোখের কোণে পানি জমেছে। নিজের চেয়ে-ও বেশি ভালোবাসেন তার স্ত্রী-সন্তানকে। অথচ ভাগ্যের কী পরিহাস! আজ তারা তার মুখ-ও দর্শন করতে চায়না। বিড়বিড় করে,
- আমি কি কখনো ক্ষমা পাবো না আসমানী?
.
.
.
আকাশের রান্না শেষ। শিং মাছের ঝোল সাথে সাদা ভাত রান্না করেছে। এরপর সে নিজের হাতে সব বাটিতে ভরে বাটি দু'টো ব্যাগে ভরল। ব্যাগটি ডায়নিং টেবিলের উপর রেখে সিঁড়ি বেয়ে তার ঘরে যায়। ঘরে গিয়ে আবার-ও শাওয়ার নেয়। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে গায়ে আরেকটা সাদা পাঞ্জাবি সাথে গ্যাবার্ডিন প্যান্ট পরে নেয়। বা হাতে চেইন এর হাতঘড়ি পরে নেয়।
সন্ধ্যা পেরিয়ে গিয়েছে। আকাশ সময় ন'ষ্ট করল না। দ্রুত খাবার এর ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
হসপিটালে পৌঁছে মায়ের কেবিনে গিয়ে দেখল আসমানী নওয়ান দরজার দিকেই চেয়ে আছে। আকাশ ভেতরে গিয়ে মায়ের পাশে বসে। আসমানী নওয়ান ছেলেকে দেখে ধীরে ধীরে উঠে বসে। আকাশ হাতের ব্যাগ রেখে মাকে বসতে সাহায্য করে। আসমানী নওয়ান মৃদুস্বরে বলে,
- তুমি খাইছ আব্বা?
আকাশ খাবার বের করতে করতে বলে,
- তুমি আগে খাও মা। আমার ক্ষুধা নেই।
আসমানী নওয়ান আকাশের থেকে হাতের বাটি নেয়। আকাশ শিং মাছ খায় না। ভদ্রমহিলা জানেন ছেলে নিজের জন্য কিছু রাঁধে-ও নি। বেডের পাশে রাখা একটি বোলে হাত ধুয়ে নিয়ে আকাশের মা বলে,
- দুপুরে-ও খাও নাই। তুমি খাইয়া আসো আব্বা। আমি খাইতাছি।
আকাশ চিন্তিত কণ্ঠে বলে,
- তুমি খাও মা। আমি পরে খাবো।
আসমানী নওয়ান মৃদুস্বরে বলে,
- যাও আব্বা। তুমি না খাইলে আমার মুখ দিয়া খাবার যায় না।
আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে নার্সকে বলে তার মাকে দেখে রাখতে। এরপর কেবিন থেকে বাইরে বেরোনোর জন্য দরজার কাছে গেলে আসমানী নওয়ান মলিন গলায় বলে,
- জান্নাতের কোনো খোঁজ পাও নাই তাই না আব্বা?
আকাশ পিছু ফিরে মায়ের দিকে তাকায়। গত কয়েক মাস যাবৎ আসমানী নওয়ান নিয়ম করে তাকে এই প্রশ্ন করে আসছে। আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছোট করে বলে,
- জানিনা সে কোথায়!
কথাটি বলে আর দাঁড়ালো না। দ্রুতপায়ে জায়গাটি প্রস্থান করে। আসমানি নওয়ান মলিন মুখে চেয়ে রইল। চোখের কোণে জলকণা চিকচিক করছে।
.
.
.
আকাশ হসপিটালের ক্যান্টিনের পাশে ছোটোখাটো রেস্টুরেন্টে গিয়ে একটি টেবিল বুক করে বসে। দু'হাতের পাঞ্জাবির হাতা কনুই এর উপর পর্যন্ত গোটানো। টেবিলের উপর ডান হাতের কনুই রেখে, আঙুলগুলো ভাঁজ করে গাল আর কপালে ছুঁইয়ে রেখেছে।
টেবিলের অপর পাশে চেয়ার টেনে ডক্টর নিয়াজ বসে। গলা ঝেড়ে বলে,
- কি অবস্থা? কোথায় গিয়েছিলে?
নিয়াজের কণ্ঠে আকাশ চোখ মেলে তাকায়। সোজা হয়ে বসে বলে,
- বাসায় গিয়েছিলাম।
কথাটা বলে ওয়েটারকে ডেকে সাদা ভাত আর গরুর মাংস দিতে বলে আকাশ।
নিয়াজ আকাশের দিকে তাকালো। সন্ধ্যা আর সৌম্য'র চিকিৎসা সে করেছিল। নামটাও জানতো। সিলেট তার বোনের বাসা। সেখানে তার দাদু যাত্রাপথে সৌম্যদের দেখা পেয়েছিল। তারা তার বোনের বাসার ওখানেই থাকতো।
তাদের দাদু এসে তাদের কাছে গল্প করেছিল। তারপর একদিন শুনলো সন্ধ্যা, সৌম্য যে বাড়িতে থাকতো সেই বাড়ি পুড়ে গিয়েছে। সাথে তারা-ও আর নেই।
এরপর সে হসপিটালে আকাশের মাকে এডমিট করানোর পর জানতে পেরেছে সন্ধ্যা আকাশের বউ ছিল। মেয়েটির জন্য তার খারাপ লাগে এখনো। সেদিন রাতে তাকে বাঁচাতে পারলেও এর কিছুদিন পরেই মেয়েটি পরপারে চলে গেল, সাথে তার ভাই। নিয়াজ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
ওয়েটার আকাশের সামনে ভাত-মাংস রাখে। আকাশ বেশ অনেকক্ষণ চুপচাপ ভাতের প্লেটের দিকে চেয়ে রইল। হঠাৎ যেন সাদা ভাতের উপর সন্ধ্যার হাস্যজ্জ্বল মুখ ভেসে উঠল। আকাশ ঢোক গিলল৷ চোখজোড়া ঝাপসা হতে শুরু করল। বুকে ব্য'থা ক্রমাগত বাড়তে লাগলো। তার সন্ধ্যামালতী সত্যিই কি আর নেই এই পৃথিবীতে? কথাটা ভাবতেই ডান হাতে বুক চেপে ধরল। এই ব্য'থা নিরাময়ের উপায় একমাত্র তার সন্ধ্যামালতী, কিন্তু তার সন্ধ্যামালতী যে নেই। কোথাও নেই।
সাদা ভাতের উপর আকাশের কল্পনায় ভাসা সন্ধ্যার মুখ মিলিয়ে যায়। আকাশ শব্দ করে ডেকে ওঠে,
- সন্ধ্যামালতী?
নিয়াজ ভ্রু কুঁচকে বলে,
- সন্ধ্যামালতী তো ফুলের নাম। তোমার সন্ধ্যামালতী ফুল পছন্দ না-কি?
আকাশ কিছু বলল না। চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালে মাথাটা কেমন ঘুরে ওঠে। নিয়াজ খেয়াল করে বলে,
- ঠিক আছো?
আকাশ এবারেও কিছু বলল না। তার নিজেকে ভীষণ দুর্বল লাগছে। নিয়াজ হয়ত আকাশের এই আচরণের কারণ বুঝল। আর আকাশের বলা সন্ধ্যামালতীর অর্থটাও বুঝল। মৃদুস্বরে বলে,
- আকাশ ভাত খেলে না তো!
আকাশ দুর্বল কণ্ঠে বলে,
- তোমার হসপিটালের খাবার তুমি খাও।
আকাশের ত্যাড়া কথায় নিয়াজ রা'গলো না। তার খারাপ লাগে। আকাশকে এতো খাপছাড়া সে আগে কখনো দেখেনি। সবসময় একটা মুড নিয়ে থাকতো। অথচ এখন কি!
নিয়াজ ওয়েটারকে ডেকে ভাতের প্লেট ফিরিয়ে দেয়। এরপর আকাশের পাশে হাঁটতে থাকে। মৃদুস্বরে বলে,
- তোমার ওয়াইফের মাঝে কি এমন আছে? যে, তার মৃত্যুর মাস পেরিয়ে যাচ্ছে, অথচ তুমি তাকে ভুলতেই পারছ না?
আকাশ একটু হাসলো। তবে হাসিতে প্রাণ নেই। হাঁটতে হাঁটতে ধরা গলায় বলে,
- শ্যামলা গড়নের সে মেয়ে, যার স্নিগ্ধ হাসিতে বাম গালে সৃষ্টি হয় এক গভীর টোল। যে নৃত্য করলে তার দীঘল কালো চুলগুলো তাকে সঙ্গ দেয়। যে ফুল কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে, তার কালো রেশমি চুলগুলো পরম যত্নে মাটি ছুঁয়ে দেয়। যার দু'চোখ কথা বলে, দু'হাত কথা বলে, কিন্তু কখনো মুখ নাড়িয়ে শব্দ খরচ করতে হয় না। যার অনুপস্থিতি আমার হৃদয় ভ'য়ং'ক'র'ভাবে পু'ড়ি'য়ে দিতে সক্ষম। সে শুধু আমার সন্ধ্যামালতী, আমার ভালোবাসা। আর আমার ভালোবাসাময় সন্ধ্যামালতীকে কখনো ভোলা যায় না, তাকে শুধু মনে রাখা যায়।
কথাগুলো বলতে গিয়ে আকাশের চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু অশ্রুকণা জমেছে। আকাশ পায়ের গতি বাড়ালো।
পিছনে বিস্ময়ান্বিত নিয়াজ দাঁড়িয়ে রইল। ভালোবাসার ব্যাপারে তার ধারণা নেই। তবে আকাশের কথাগুলো শুনে তার মনে হলো, কাউকে ভালোবাসলে সত্যিই তাকে কখনো ভোলা যায় না।
চলবে ইনশাআল্লাহ~~