ফন্ট সাইজ:
থিম:
হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে বিয়ে

২য় পর্ব

লেখক: সিনথিয়া ইসলাম

কলেজের গেটের সামনে এসে থামলে গাড়িটা ।লিমা আর রাইসা দরজা খুলে নেমে পড়লে।রাইসা গাড়িতে বসে থাকা আহসানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।

গাড়ির ভেতরে বসে থেকেই আহসান বলল,

—"আমি আবার নিতে আসবে।"

রাইসা আর লিমা হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে কলেজে ঢুকে যায়।লিমা নিজের ক্লাসে রুমে যায়।রাইসা ক্লাস রুমে যেয়ে মিষ্টি কে দেখে খুশি হয়ে তার পাশে গিয়ে বসে পড়লো।

মিষ্টি রাইসাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলে,

—"এতো দিন কোথায় ছিলি?"

রাইসা মৃদু হেসে বলল,

—"দোস্ত জানিস, মিস্টার আহসান খানকে বিয়ে করে নিয়েছি।"

মিষ্টি অবাক হয়ে বলল,

—"বিয়ে করে নিলি আর আমাকে জানালি না?"

—"নিজেই জানতাম না ।"

—"মজা করছিস আমার সাথে?"

—"মজা কেন করবো! সত্যি বলছি, নিজেই জানতাম না নিজের বিয়ের কথা।"

মিষ্টি একটু রেগে বলে,

—"বাল কী বলছিস! কিছুই বুঝতেছি না।"

রাইসা সবকিছু খুলে বলে মিষ্টি কে। মিষ্টি সব শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

—আচ্ছা, যাক। বিয়ে যখন হয়ে গেছে, তখন সংসার কর মন দিয়ে।

রাইসা কিছু বলতে যাবে তার আগেই টিচার ক্লাসে ঢুকে পড়ে। ক্লাস শুরু হওয়ার প্রায় দশ মিনিট পর রাইসা মিষ্টিকে গুতো দিয়ে বলল,

—"চ,বাইরে যাই।"

মিষ্টি বিরক্ত হয়ে বলল,

—"এই ক্লাসটা শেষ হতে দে। তাছাড়া ক্লাসের বাইরে যাবি কীভাবে?"

রাইসা ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে লিমাকে মেসেজ করে বাইরে আসতে বলে।

মিষ্টি জিজ্ঞাসা করলে,

—"কি করছিস?"

রাইসা ফোন রেখে মাথায় হাত দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। রাইসা অসুস্থ তার ভান করে বলল,

—"স্যার, মাথা ঘুরছে। বাড়ি যাবো।"

টিচার রাইসাকে দেখে বুঝতে পারলো অসুস্থ না । তাও কিছু বলে না।রাইসা এমনটা প্রায় করে। টিচার যদি বাইরে যেতে না দেয় তো বার বার টিচার কে ডিস্টার্ব করবে পড়ানোর সময়‌। টিচার একজনের জন্য তো আর সবার ক্ষতি করতে পারে না ।তাই টিচার রাইসাকে যেতে দেয়।রাইসা মিষ্টি কে জোর করে নিজের সাথে বাইরে আনে। লিমা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল । লিমা রাইসাকে দেখে দৌড়ে এসে রাইসাকে জড়িয়ে ধরে।মিষ্টি অবাক চোখে দু’জনের দিকে তাকিয়ে থাকে। মিষ্টি বুঝতে পারছে না এই মেয়েটা কে?আর দৌড়িয়ে আসে জড়িয়ে ধরলেই বা কেন?

রাইসা লিমাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

—এটা আমার বান্ধবী মিষ্টি।

মিষ্টি হেসে বলল,

—"হাই।"

লিমা মুচকি হেসে বলল,

—"হাই মিষ্টি আপু, আমি রাইসা ভাবির ননদ।"

তিনজন একসাথে হাঁটতে হাঁটতে কলেজের একটু দূরে থাকা শিশুপার্কে যায়। মিষ্টি প্রথমে তাদের সাথে আসতে চাইছিল না।রাইসা এক প্রকার জোর করেই নিয়ে আসে। রাইসা আর লিমা ছোট বাচ্চাদের সাথে খেলছে, দুষ্টুমি করছে। মিষ্টি তাদের দেখে অবাক।রাইসা তো ছিলই বাচ্চা মামু করার জন্য এখন তো দেখছে লিমাও সেম।

মিষ্টি মাথায় হাত দিয়ে ক্লান্ত গলায় বলল,

—"ননদ-ভাবী দুইটাই এক রকম! আল্লাহ মাবুদ, বাঁচাও আমাকে এই দুইটা পাগলের হাত থেকে!"

কলেজ ছুটি হতে এখনও ত্রিশ মিনিট বাকি।তিনজন আবার কলেজে ফিরে এসে গাছের নিচে বসে। লিমা আর রাইসা গল্প করেই যাচ্ছে, আর মিষ্টি মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। মিষ্টির তাদের মাঝে নিজেকে রোহিঙ্গা মনে হচ্ছিল।কিছুক্ষণ পর কলেজ ছুটি হয়ে যায়। আহসান তাদের নিতে আসে।আহসান ফোন করছে, কিন্তু রাইসা ফোন ধরছে না ।বাধ্য হয়ে আহসান কলেজের ভেতরে আসে।চারপাশের মেয়েরা আহসানের দিকে তাকিয়ে আছে আর বলছে দেখ হ্যান্ডসাম ছেলে টাকে ।কি সুন্দর না ছেলেটা। আহসানের কানে সবই আসছে। কিন্তু আহসানের যায় আসে না এগুলো। আহসান রাইসাকে গাছের নিচে বসে গল্প করতে দেখে সেদিকে যায়।

আহসান রাইসার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

—"ম্যাডাম, আপনার ফোন কোথায়?"

তিনজনই অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়।রাইসা শান্ত গলায় বলে,

—"ফোন তো ব্যাগে।"

—"ফোন করেছিলাম। ধরলেন না যে! মনে হয় ব্যস্ত ছিলেন।"

রাইসা একটু ভেবে বলল,

—ফোন সাইলেন্ট ছিল, তাই ধরতে পারিনি।

—চল।

রাইসা মিষ্টিকে জড়িয়ে ধরে “বাই” বলে লিমা আর আহসানের সাথে চলে যায়।

মিষ্টি তাদের চলে যেতে দেখে বলল,

—"যেমন বউ, তেমন স্বামী!"

বলেই সে কলেজের বাইরে দিকে হাটতে দিলে।

গাড়িতে বসে রাইসা আর লিমা পার্কে তুলা ছবিগুলো দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।কোন ছবিতে কে বেশি সুন্দর লাগছে, কোনটা স্টোরিতে দেওয়া যায় এসব নিয়েই গল্প করছে।

আহসান শান্ত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলে,

—"ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পার্কে গেছিলেন কেন, রাইসা?"

প্রশ্নটা শুনে রাইসা একটু ঘাবড়ে বলল,

—কই না তো, আমি তো ক্লাস করেছিলাম।

আহসান গভীর গলায় বলল,

—আপনি কখন কী করেন, সবই খোঁজ রাখি । তাই মিথ্যা বলবেন না। আমার মিথ্যা কথা শুনতে ভালো লাগে না।

রাইসা আহসানের কথা শুনেও না শোনার ভান করল। যেন কথাগুলো তার কানে পৌঁছায়ইনি।রাইসার এমন উদাসীন আচরণে আহসান বেশ বিরক্তি হলো।তবে কিছু বলে না।লিমা আর রাইসা নিজ নিজ রুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে ।রাইসা ফ্রেশ হয়ে বের হতেই দেখে, আহসান বিছানায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।রাইসা পা টিপে টিপে রুম থেকে বের হচ্ছিল। ঠিক তখনই,

আহসান রাগী গলায় বলে ওঠে,

—"আমাকে ইগনোর করছেন কেন?"

—"কই, ইগনোর করলাম?"

আহসান উঠে এসে রাইসাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে।রাইসা আহসান কে নিজের এতো কাছে দেখে লজ্জায় শেষ।

—"এতো মিথ্যা বলেন কেন? শয়তানি করা বন্ধ করুন। সেটা আপনার কাজ না, সেটা শয়তানের কাজ।"

—"আমি শয়তানি কোথায় করলাম? তাছাড়া, আপনি যখন আগেই সত্যিটা জানেন, তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করার কী আছে?"

—"তুমি এত চঞ্চল আর এত ভণ্ড কেন?"

রাইসা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

—"আপনিও তো সব সময় তেড়া তেড়া উত্তর দেন। কই, আমি তো জিজ্ঞাসা করিনি।আপনি এত খাটাস কেন?"

আহসান বুঝতে পারে রাইসার সাথে কথাই পেরে উঠবে না।তাই রাইসাকে ছেড়ে দিয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে।রাইসা কিছুক্ষণ আহসানের দিকে তাকিয়ে রইল।রাইসা কী মনে করে আহসানের পাশে গিয়ে বসলে।রাইসা মনে মনে ভাবলে,"হ্যান্ডসাম খাটাস বেডা যাই হোক, ভালোবাসে।" কিন্তু স্বীকার করে না।

আহসান চোখ বন্ধ রেখেই বলল,

—"কি চাও?"

রাইসা আহসানের কথার মানে বুঝতে না পেরে ভ্রু কুঁচকে বলল,

—"কি চাও মানে? কী বোঝাতে চাইছেন?"

আহসান শান্ত কণ্ঠে বলল,

—"ভালো হতে কি চাও?"

রাইসা শান্ত কন্ঠে বলল,

—"আপনি ভালোভাবে কথা বলতে কি চান?"

আহসান এক মুহূর্ত দেরি না করে বলল,

—"তোমাকে।"

কথাটা শুনে রাইসা থমকে যায়। লজ্জায় তার গাল লাল হয়ে উঠছে। রাইসা উড়না দিয়ে মুখ লুকায়।

***

বিকেলে রাইসা লিমার রুমে ঢুকলো, হাতে লাল আর পিংক কালারের দুইটা শাড়ি নিয়ে।

লিমা অবাক হয়ে বলল,

— ভাবি, আমি তো শাড়ি পরতে পারি না।

রাইসা শয়তানি হাসি দিয়ে বলল,

— আমি আছি তো!

— আপনি আছেন বলেই তো ভয় লাগছে।

রাইসা মুখ ফুলিয়ে বলল,

— থাক পরতে হবে না।

— আরে না না, শাড়ি পরিয়ে দেন।

রাইসা এমনভাবে শাড়ি জড়িয়ে দিয়েছে যে লিমা একদম নড়তে পারছে না।রাইসা এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যেন সে কিছুই করে নি ।

লিমা ধীরে গলায় বলল,

— ভাবি…

রাইসা হেসে বলল,

— চাচি আছে তো, তাকে ডেকে আনি!

বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেল।নিভা খান এসে দুজনকেই সুন্দর করে শাড়ি পরিয়ে দিলেন।দুজন ছাদে গিয়ে অনেকগুলো ছবি তুলল। হাসি, খুনসুটি পুরো বিকেলটাই যেন রঙিন হয়ে উঠলো। নিচে নেমে এসে লিমা ফ্রেশ হয়ে বই নিয়ে পড়তে বসে।আরিশ লিমার রুমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।হঠাৎ চোখ পড়তেই থেমে গেল।লিমা জানালার পাশে বসে বই পড়ছে। বাতাসে তার চুলগুলো উড়ছে।

আরিশ ধীর পায়ে রুমে ঢুকে বলল,

— "পড়ছিস? ডিস্টার্ব করলাম নাকি?"

লিমা মুচকি হেসে বলল,

— "না ভাইয়া, বসেন।"

আরিশ বিছানায় বসতে বসতে বলল,

—" কাউকে ভালোবাসিস?"

প্রশ্নটা শুনে লিমা থমকে গেল।না বলতে চায়ছে কিন্তু কোন এক অচেনা শক্তি তার কণ্ঠ আটকে দিছে।

আরিশ আবার জিজ্ঞাসা করলে,

— "ভালোবাসিস নাকি কাউকে?"

— "না…"

আরিশ মুচকি হেসে বলল,

— "ধন্যবাদ।"

লিমা অবাক দৃষ্টিতে আরিশের দিকে তাকিয়ে বলল,

— কেন?

— বুঝবি না।

–বলেই তো বুজবে।

দু’জন গল্পে মেতে উঠলো।কথার মাঝে বারবার চোখাচোখি হচ্ছিল। নীরবতা, যেখানে হাজারটা কথা লুকিয়ে আছে।দু’জনেই জানে,তারা একে অপরকে ভালোবাসে।তবুও কেউ বলছে না নিজের মনের কথা।

***

রাইসা শাড়ি পরেই বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েছে।আহসান রুমে ঢুকে থেমে গেল।পিংক শাড়িতে রাইসাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। আহসান রাইসার সামনে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল।

আহসান মনে মনে বলল,

— "তোমার সৌন্দর্য আমাকে বারবার মুগ্ধ করে।

যতবার ভাবি আর ভালোবাসব না।ঠিক তখনই মন বলে,আরেকবার ভালোবাসি…"

আহসান রাইসার হাতে আলতো করে চুমু খেল।তারপর ফ্রেশ হতে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে।আহসান মুচকি হেসে রাইসাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো।

***

সকাল ১০টা ছুঁই ছুঁই। কলেজ মাঠে রাইসা, লিমা আর মিষ্টি দাঁড়িয়ে আছে।

মিষ্টি বিরক্ত গলায় বলল,

— "এখানে দাঁড়িয়ে আছি কেন বলবি তো!?"

রাইসা শান্ত কন্ঠে বলল,

— "সিনিয়ার আশিক ভাইয়া ডেকেছে, তাই দাঁড়িয়ে আছি।"

লিমা কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করলে,

— "কেন ডেকেছে?"

— জানি না গো, ননদী।

কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আশিক রাইসাকে ডাক দিলে।

রাইসা আশিকের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াল।

—" জি ভাইয়া, বলুন কেন ডেকেছেন?"

আশিক হেসে বলল,

— "তুমি কি সিঙ্গেল?"

রাইসা কিছু না ভেবেই বলল,

—" জি, ভাইয়া।"

হঠাৎ পেছন থেকে গভীর কণ্ঠ ভেসে আসলো,

—" কি?"

রাইসা পিছনে ঘুরতেই আহসানের হাতের চড় খেল।

—" তুমি সিঙ্গেল?

"

রাইসা হতভম্ব হয়ে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

চারপাশের সবাই তাকিয়ে আছে তাদের দিকেই।

আশিক এগিয়ে এসে বলল,

— "কে আপনি? রাইসাকে মারছেন কেন?"

আহসান গভীর কন্ঠে বলল,

—" রাইসাকেই জিজ্ঞাসা করো, আমি তার কে।"

আশিক রাইসাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

— "ছেলেটা কে? আর তোমাকে মারল কেন?"

রাইসা আহসানের রাগি মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

—" স্বামী.."

আশিক যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

— মিথ্যা বলছো! তোমার বিয়ে কবে হলো?

আহসান গম্ভীর গলায় বলল,

— আমি মিস্টার আহসান খান। রাইসার স্বামী। আর এটাই ১০০% সত্যি।

আশিক মিষ্টিকে‌ উদ্দেশ্য করে বলল,

— মিষ্টি, সত্যি কি মিস্টার আহসান রাইসার স্বামী?

মিষ্টি শান্ত কন্ঠে বলল,

— হ্যাঁ, দুই দিন আগেই বিয়ে হয়েছে।

আশিকের চোখ ছলছল করে উঠলো।প্রথম দিন কলেজে দেখেই ভালোবেসেছিল রাইসাকে।আজ সাহস করে বলতে এসে শুনছে সে অন্য কারো।

আশিক রাইসার দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বলল,

— "ভালোবাসি, ভালোবেসে যাবে।"

আহসান রাগী জবাব দিলে,

— "ওকে ভালোবাসার জন্য আমি আছি। তোমার ভালবাসা লাগবে না।"

আহসান রাইসার হাত শক্ত করে ধরতেই, আশিকের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।রাইসা একবার আহসানের দিকে, তো একবার আশিকের দিকে তাকাচ্ছে।

রাইসা মনে মনে ভাবল,

— আমার মতো ভণ্ড মেয়ের জন্য দুইটা ছেলে লড়াই করছে।আশিক ভাইয়ার জন্য সত্যি খারাপ লাগছে।আমার কি উচিত আহসানের সাথে চলে যাওয়া?

আশিক চোখ বন্ধ করে ভাবছে,

— সময় থাকতে বললে আজ এই দিনটা দেখতে হতো না।

আশিক আকাশের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে স্থান ত্যাগ করলে।রাইসা এক হাত গালে চেপে ধরে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আহসানের দিকে।

আহসান গভীর কণ্ঠে বলল,

—"ভালোবেসেছি, বিয়ে করেছি, সারাজীবন নিজের করে রাখার জন্য।আমার গল্পে আমি নায়ক, আমি ভিলেন আর তুমি আমার গল্পের একমাত্র নায়িকা বুঝলা?"

কথাগুলো বলে আহসান রাইসার হাত ধরে কলেজের বাইরে দিকে হাঁটা দিল।পেছনে লিমা আর মিষ্টি অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।তাদের চোখে বিস্ময় আর অজানা ভয়ের ছাপ।আর রাইসা সে কিছুই বুঝতে উঠতে পারছে না।কেন আহসান হঠাৎ তাকে আঘাত করল?কেন এমন অদ্ভুত কথা বলছে? এখনি বা তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

রাইসার হৃৎপিণ্ড ফাস্ট হয়ে গেছে।অজানা এক ভয়ে।আহসান গাড়ির দরজা খুলে কোনো কথা না বলেই রাইসাকে ভেতরে বসিয়ে দিল।তারপর নিজেও উঠে স্টিয়ারিং দিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। গাড়ি ঝড়ের গতিতে ছুটে চলেছে।

রাইসা সিট শক্ত করে ধরে বসে আছে।তার হৃৎপিণ্ড হতেই ফাস্ট গেছে, যে পাশে বসা মানুষটাও শুনতে পাচ্ছে।রাইসা ভয়ে ভয়ে আহসানের দিকে তাকাল।আহসানের চোখ, সামনের রাস্তায় স্থির, চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।

—"ভালোবাসো আমাকে?"

রাইসা ভয়ার্ত চোখে আহসানের দিকে তাকিয়ে রইল।

এখন যদি বলি ভালোবাসি না, তাহলে কি আমাকে মেরে ফেলবে? কী বলবো আমি,কিছুই বুঝতে পারছি না।

আহসান রাগি গলায় বলল,

—"ভালোবাসো, কিনা?"

রাইসা কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,

—"ভালোবাসি তো, আপনার মতো হ্যান্ডসাম ছেলেকে ভালো না বেসে থাকা যায় নাকি…"

আহসান তার কথা শুনে মুচকি হাসল।কিছুক্ষণ চুপ থেকে, রাইসা আবার বলল,

—"আমরা কোথায় যাচ্ছি?"

আহসান ছোট করে উত্তর দিল,

—গেলেই জানতে পারবে।

গাড়ি এসে থামল একটা হোটেলের সামনে।রাইসার মনে মনে ভাবল, মিস্টার আমাকে এখানে কেন আনল? আমার কি কোনো ক্ষতি করবে?ভয়ে তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।

আহসান পিছন ফিরে তাকিয়ে রাইসাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,

—আসো।

রাইসার পা কাঁপছে।ভয়ে ভয়ে রাইসা আহসানের পেছন পেছন হোটেলের ভেতরে ঢুকল। রুমে ঢুকতেই আহসান দরজা বন্ধ করে দিল।রাইসার গলা শুকিয়ে আসছে।

রাইসা মনে মনে বলল,

–"আল্লাহ, একবার বাঁচিয়ে দাও। আমি আর কোনোদিন সিঙ্গেল বলবো না।"

অন্যদিকে, কলেজের গাছের নিচে বসে আছে লিমা আর মিষ্টি।চারপাশে বাতাস বয়ছে।

মিষ্টি চিন্তিত গলায় বলল,

—"মিস্টার আহসান যতটা রেগে ছিল।না জানি রাইসার কী করছে এখন!"

লিমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

—"সত্যি বলতে, ভাইয়াকে আমি কোনোদিন এত রাগতে দেখিনি।আজকে যা দেখলাম, আমারও ভয় লাগছে ভাবির জন্য।বেচারি ভাবি…"

—"দুইজন একদম বিপরীত মেজাজের মানুষ।আল্লাহ মাবুদই জানে,এদের শেষটা কী হবে…'"

অপরদিকে,

রাইসা বিছানার এক কোণায় চুপচাপ বসে আছে।

“এই লোকটা আমাকে এখানে এনে আমার সর্বনাশ করবে না তো? আল্লাহ, আমাকে বাঁচাও।”

আহসান রাইসার দিকে ঝুঁকতেই রাইসা ভয়ে সরে গেল।আহসান কিছু না বলে পাশের টেবিল থেকে ফোনটা তুলে নিয়ে মুচকি হেসে কথা বলতে শুরু করল।

রাইসা অবাক চোখে আহসান কে দেখছে।ফোন রেখে আহসান রাইসার দিকে তাকাতেই রাইসা ধীর গলায় জিজ্ঞাসা করল,

— “এখানে কেন আনেছেন আমাকে?”

আহসান দুষ্টু হেসে বলল

— “ভালোবাসতে।”

— “এহহহ!”

আহসান শুধু “হুম” বলে রাইসাকে জড়িয়ে ধরল।

রাইসার কাছে সবকিছু তার কল্পনার বাইরে।সে তো ভেবেছিল আহসান তার সাথে হয়তো উল্টা পাল্টা কিছু করবে বা মারবে । কিন্তু আহসান তো তাকে জড়িয়ে ধরছে।

****

রাইসা জানালার পাশে বসে উপন্যাস পড়ছে।

আরিশ দরজায় টোকা দিয়ে বলল,

— “ভাবি, আসতে পারি?”

রাইসা একবার তাকিয়ে আবার বইয়ে চোখ রেখে বলল,

— “আসো।”

আরিশ ভেতরে এসে সোফায় বসে শান্ত গলায় বলল,

— "ডিস্টার্ব করলাম না তো, ভাবি?"

রাইসা বইটা বন্ধ করে হেসে বলল,

—" না, বলো কি বলবে?"

আরিশ একটু থেমে বলল,

— “ভাবি…”

— “হুম?”

–জানি, আপনার আর ভাইয়ার যে পরিস্থিতিতে বিয়েটা হয়েছে। আমাদের সাথে মিশতে অস্বস্তি লাগছে না তো।

রাইসা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

— তোমাদের সাথে মিশতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।একটু বাড়ির কথা মনে পড়ছে।

— আমি কি আপনার মা-বাবার সাথে কথা বলব?

রাইসা মৃদু হেসে বলল,

— না, দরকার নেই। আমি ভালো আছি।

— আপনার কিছু লাগলে আমাকে বলবেন, ভাবি।

রাইসা আরিশের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

— তোমার ভাই তো আছেই।আর আমার তেমন কিছু লাগবে না।

— হুম, একটা প্রশ্ন করতে পারি?

— “অবশ্যই, করো।”

আরিশ ইতস্তত করে বলল,

— লিমার সাথে তো আপনি মিশেছেন। এই কয়েকদিনে আপনাদের ভালো বন্ধুত্বও হয়েছে। বলতে পারবেন কি লিমা কাউকে ভালোবাসে ?বা ওর কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে?

রাইসা ভ্রু কুঁচকে বলল,

— লিমাকে কি তুমি ভালোবাসো?

— না না! আপনি ভুল বুঝছেন, বড় ভাই হিসেবে জিজ্ঞাসা করলাম আর কি।

রাইসা তীক্ষ্ণ গলায় বলল,

— ভালোবাসে তা হলে স্বীকার করতে সমস্যা কী তোমাদের দুই ভাইয়ের?

আরিশ ঘাবড়ে গেল।ঠিক তখনই দরজার দিক থেকে গভীর কণ্ঠ ভেসে এল,

— কোনো সমস্যা নেই আমাদের দুই ভাইয়ের।

রাইসা আর আরিশ দুইজনেই অবাক হয়ে দরজার দিকে তাকাল।আহসান রুমে ঢুকে আরিশের পাশে বসলো।

আরিশ কপালের ঘাম মুছে অপ্রস্তুত হয়ে বলল,

— “আমি… আমি যাই তাহলে…”

আহসান ওর হাত ধরে থামিয়ে দিল,

— "বস।"

রাইসা মনে মনে ভাবল,

–এই লোকটা সবসময় ভুল সময়েই কেন আসে!

আহসান রাইসার দিকে তাকিয়ে বলল,

— "কিছু মানুষ বিয়ের পরও নিজেকে সিঙ্গেল দাবি করে কী যুগ আসলে রে বাবা!"

— ভালোই করেছি।

বলে রাইসা উঠে চলে গেল।আরিশ বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে ।

আহসান মুচকি হেসে আরিশকে উদ্দেশ্য করে বলল,

— তোর বিয়েটা দেওয়ার কথা ভাবছি, কোনো মেয়ে পছন্দ থাকলে আমাকে বলিস।

আরিশ অবাক হয়ে বলল,

—" কি?"

আহসান শান্ত কন্ঠে বলল,

— বাংলা ভাষায় তো বললাম তাও বুঝলি না ।

***

রাইসা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। বাতাস তার চুলগুলো এলোমেলো ভাবে উড়ছে।

রাইসা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,

— হ্যান্ডসাম বড়লোক জামাই দিলে জামাই টাকে খাটাস না বানালেও পারতে মাবুদ।

— “আমি খাটাস।”

রাইসা অবাক হয়ে পাশে তাকাতেই আহসান কে দেখে বলল,

— হুম, খাটাস বেডা কোথাকার।

আহসান হেসে বলল,

—আমি তো জানতামই না যে আমি খাটাস।

— আমি বলছি তো আপনি খাটাস বেডা একটা।

আহসান রাইসার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

— গুড, আমাকে এতো ভালো করে চিনার জন্য, এখন আমাকে ভালোবাসতেও পারেন।

— ভালোবাসতে কারো কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া লাগে না, আমার যখন ভালোবাসতে মন করবে তখন ভালোবাসবে।

আহসান মৃদু হেসে বলল,

— “তাই নাকি…”

রাইসা আহসানের থেকে দূরে সরে দাঁড়িয়ে বলল,

— "জি।"

— "জি টু।"

— আপনি একটা কথা জানেন কি!?

— না বলে জানবে কিভাবে।

— তাও ঠিক।

আহসান শান্ত কন্ঠে বলল,

— বলে কি জানি না আমি।

— লিমা আর আরিশ একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু কেউ কাউকে বলেছে না ।

আহসান শান্ত কন্ঠে বলল,

— আমারই চাচাতো ভাই বোন আমিই জানবে না নাকি যে ওরা একে অপরকে ভালবাসে, কিন্তু ওদের কে ওদের হালে ছেড়ে দাও।

— আমরা ওদের মিলাতে পারি।

আহসান গভীর কন্ঠে বলল,

— দরকার নাই, ওরা ওদের টা নিজেই বুঝে নিবে আর আমি কিছু শুনতে চাই না এই বিষয়ে।

— ওকে।

লিমা ছাদে উঠে রাইসা আর আহসানকে দেখে খুশি মনে তাদের কাছে যায়।রাইসা লিমাকে দেখে খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরে।

আহসান বিড়বিড় করে বলল,

–আমি তার স্বামী আমাকে জড়িয়ে না ধরে ননদকে জড়িয়ে ধরে বেড়ায় খালি ,এই মেয়ের নিশ্চিত মাথায় সমস্যা আছে।

লিমা হাসিমুখে বলল,

— ভাবি চলেন আমরা দুইজন বসে গল্প করি ।

রাইসা বলল,

— “চ।”

বলেই লিমার সাথে নিচে চলে গেল।ছাদে একা দাঁড়িয়ে আছে আহসান, তার মুখের অভিব্যক্তি দেখে বুঝলা মুশকিল সে এখন কিভাবছে!

লিমা রাইসার হাত ধরে বলল,

— ভাবি তুমি জানো আমি আর মিষ্টি আপু তোমাকে নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিলাম।

— আরে চিল তোমার খাটাস ভাই আমার কিছু করতে পারবে না।

লিমা চিন্তিত গলায় বলল,

— সত্যি কথা বলছে ভাবি।

রাইসা ভ্রু কুঁচকে বলল,

— আমাকে সন্দেহ করছে নাকি।

লিমা মাথা নেড়ে বলল,

— না, কিন্তু ভাইয়া সকালে যেভাবে রেগে ছিল তাই বলছি আর কি।

— তোমার ভাই এর কোন কাজ নাই তাই হুদাই রেগে আমার সুন্দর গালটায় মেরেছিল সকালে।

লিমা ধীরে গলায় বলল,

— ভাবি সকালে পরিবেশটা অনেক ওকড হয়ে গেছিল।

রাইসা শান্ত কন্ঠে বলল,

— আমি আশিক ভাইয়ার সাথে একবার কথা বলতে চাই, আমার খুব খারাপ লাগছে আশিক ভাইয়ার জন্য।

— দরকার নাই ভাবি, ভাইয়া জানতে পারলে রাগ করবে।

— রাগ করলে করুক গা, তাতে আমার কি।

–ভাবি তোমার সত্যি ভয় লাগে না ভাইয়াকে? বাড়িতে প্রায় সবাই ভয় করে আহসান ভাইয়াকে। আহসান ভাইয়ার অনেক রাগ, যা বলে তাই করেই ছাড়ে।

— “ভয় তো করে একটু একটু,”

— ভাইয়া তোমাকে ভালোবাসে তাই হয়তো তেমন কিছু বলে না ভাবি।

রাইসা মুখ ফুলিয়ে বলল,

— তোমার ভাই আমাকে সব সময় তেড়া তেড়া জবাব দেয়, রাগ লাগে অনেক জানে।

লিমা হঠাৎ করে হেসে উঠে।

রাইসা অবাক হয়ে বলল,

— হাসার মতো কি বললাম যে হাসছে।

লিমা হাসি চেপে বলল,

— এমনি হাসছি।

ঘরের ভেতর একটা নরম, হালকা মজার আবহ তৈরি হয়।রাইসা আর কিছুক্ষণ লিমার সঙ্গে গল্প করে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল। মাঝ পথে হিয়া খানের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়।

হিয়া খান খুশি মনে বললেন,

— কেমন আছো দাদু ভাই?

রাইসা হেসে বলল,

— ভালো আছি দাদি।

— আমার রুমে চলো, একটু গল্প করি।

রাইসা মুচকি হেসে তার সঙ্গে রুমে চলে গেল।রাইসা হিয়া খানের বিছানায় বসে আছে।

হিয়া খান শান্ত কণ্ঠে বললেন,

— আহসান একটু রাগী আর তেড়া স্বভাবের ছেলে। ওর কথায় কষ্ট পেয়ে না।

রাইসা মনে মনে বলল,

— তেড়া না, মহা তেড়া একটা।

হিয়া খান মুচকি হেসে আবার বললেন,

— কোনো সমস্যা হলে আমাকে নির্দ্বিধায় বলবে। আমাকে নিজের দাদি ভেবো, কেমন?

রাইসা চুপচাপ তার কথা শুনতে থাকে।হিয়া খান হঠাৎ কাশতে আরামবে করলে।রাইসা তড়িঘড়ি করে টেবিল থেকে জগ নিয়ে গ্লাসে পানি ঢেলে হিয়া খান কে দিতে যেয়ে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যায়।

— "আল্লাহ মাবুদ, আমি শেষ! "

হিয়া খান কোনোমতে নিজের হাসি চেপে রাখলেন।

ঠিক তখনই আহসান এসে রাইসাকে উঠিয়ে দিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,

— এত বড় মেয়ে, হাঁটতেও জানো না?

রাইসা রাগী চোখে তার দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলে, আমি পড়ে গেছি, কোথায় লেগেছে জিজ্ঞাসা না করে উল্টা কথা শুনাচ্ছে! বাল আর ভালো লাগে না।

হিয়া খান আহসানকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

— মেয়েটা পড়ে গেছে, কোথায় লেগেছে সেটা না জিজ্ঞাসা করে বকছো কেন?

— আমি তো ভুল কিছু বলিনি, দাদি।

রাগে আর অপমানে রাইসা রুমের বাইরে হাঁটতে লাগলো।কষ্ট করে বাইরে এসে দাঁড়াতেই।হঠাৎ আহসান তাকে কোলে তুলে নিল।রাইসা অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলে, একটু আগেই অপমান করল, এখন আবার এত কেয়ার! আজব মানুষ। আহসান তাকে রুমে এনে বিছানায় বসিয়ে ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে এলো।

— কোথায় লেগেছে?

রাইসা রাগী গলায় বলল,

— কোথাও লাগে নি।

আহসান মৃদু হেসে বলল,

— রাগ পরে দেখিয়ে, এখন বলো কোথায় লেগেছে।

রাইসা আহসানের শান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে বলল,

— পায়ে লেগেছে।

আহসান রাইসার পায়ে ওষুধ লাগাতে লাগতে বলল,

— আগে হাঁটা শিখো।

রাইসা রাগে মুখ ফুলিয়ে বসে রইল।আহসান তার পাশে বসে বলল,

— সাবধানে কাজ করতে পারো না?

রাইসা ছোট করে উত্তর দিল ,

— হুম।

আহসান তার হাতটা ধরে শান্ত গলায় বলল,

— এত চিন্তা করার দরকার নেই। আমি তো আছি।

রাইসা মুগ্ধ হয়ে আহসানের দিকে তাকিয়ে রইল।আহসান হালকা কাশি দিয়ে বলল,

— এভাবে তাকিয়ে থেকে না।

রাইসা মাথা নিচু করে বলল,

— আচ্ছা।

আহসান রাইসার পায়ে মাথা রেখে বলল,

— আমাকে ভালোবাসো?

রাইসা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— ভালোবাসা... দরকার?

আহসান চোখ বন্ধ করে মৃদু স্বরে বলল,

— হুম, দরকার ভালোবাসার।

— কেন?

— দরকার মানে দরকার।

— আমার ভালোবাসাটা কেন দরকার আপনার?

আহসান মুচকি হেসে বলল,

— তুমি ছাড়া সবাই আমাকে ভালোবাসে তাই।

রাইসা স্বাভাবিক ভাবেই বলল,

— সবাই যখন ভালোবাসে, তখন আমার মতো একটা তুচ্ছ মেয়ের ভালোবাসার কী দরকার আপনার?

আহসান গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

— তুমি কোনো তুচ্ছ মেয়ে না। আর আমার তোমার ভালোবাসাই লাগবে কথা শেষ।

রাইসা আহসানের মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবলে,“আপনি কি সত্যি আমাকে ভালোবাসেন? নাকি সবটাই শুধু স্বপ্ন?শেষ পর্যন্ত কি আমার হয়েই থাকবেন?শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমাকেই ভালোবেসে যাবেন?‘ভালোবাসি’ না বলেও কি ভালোবাসে যাবেন?”

আহসান আবার বলল,

— "ভালোবাসি বললেই ভালোবাসা হয়ে যায় না।

ভালোবাসি না বলেও ভালোবাসা যায়।কারো দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়েও ভালোবাসা যায় বুঝলে?"

রাইসা মুচকি হাসে।হয়তো সে তার উত্তর পেয়ে গেছে।

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন