ফন্ট সাইজ:
থিম:
The Captive

৭ম পর্ব

লেখক: স্বর্ণালী ইসলাম

“লাঙ্গে দিতে পারল না গুঁতা, পাইছে একটা বালের ছুতা! ওঠ, বান্দী। ধরতে না দিলে এমন রোগীর মতো গা এলিয়ে পড়ে থাকার মানেটা কী?”

বেলা গরিয়ে প্রায় অনেক। তহুরা আজকের দিনটা আজ উঠতে পারেনি। মাফিয়া বস তাকে ছেড়ে তো দেয় রোজ তবে শুরুতে খনিকটা সময় কষ্ট দিতে যেনো সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। গত রাত রাত টাও ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঠিক ততক্ষণ আয়েশ করে তার মাঝে ডুবেছিলো যতক্ষণ না মেয়েটা রাগে ঘৃণায় তার ওপর গর্জেছে। সকালে উঠেই কোথাও একটা গিয়ে এসেছে। এখন প্রায় দুপুর বাসায় কোন রান্নাও করেনি। তহুরা চোখ জোরা আধোআধো খুলে শরীরে কাপড় জরিয়ে বের চটে পরে,

“ সমস্যা কি আপনার এসব অশ্লীল কথা কেনো বলছেন?”

সামিউ আড়াআড়ি ভাবে তাকায় মেয়েটার দিকে। দুই পা বিছানার দিকে গিয়ে, হেচকা টানে কাথ সরিয়ে দিলো চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো রমনী। সামিউ বলে,

“অশ্লীল কাজ করার সময় তো বাইম মাছের মতো পিছলে যাস। তাই আপাতত অশ্লীল কথাতেই শরীর জুড়াই। এবার উঠে নিচে যা। ফুল পুরো বাসায় আজ একা সামিরকে কাজের জন্য পাঠিয়েছি।”

“সব সময় এসব কথাই বলতে হবে? একদিন ভদ্র মানুষের মতো কথা বললেতো আর মান-সম্মান কমবে না।”

সামিউ এবার নিজের গিয়ে আনছে তার পাশে বসে, গালে টুক করে একটা চুমু খেয়ে দাতে দাত পিশে বলে,

“আমার মতো ভালো মানুষ আর একটা পাবি না, ডার্লিং। জানিস তো, তোর এই ফাকিং হাজব্যান্ডটা অতিরিক্ত ভালো মানুষ। এই ভালো মানুষির জন্য কতবার যে পেছন মারা খেয়েছি, সেটা নাই-বা বললাম!”

তার এমন মূহুর্তে পাল্টে যাওয়া রুপ দেখে বিস্মিত হলো রমনী, না চাইতেও কটাক্ষ করে,

“তা যদি এতই পেছন মারা খেয়ে থাকেন, তাহলে পেছনে একটা ছালার বস্তা বেঁধে নেন না কেন? অন্তত মারটা বস্তাতেই পড়ত। যদিও আপনার অমাবস্যার মতো কালো পেছনটা লাল হলেও কেউ বুঝবে না!তাই বস্তা না হলেও চলবে!”

সামিউ তার কথায় বেশ মজা নিয়ে হাসে, তহুরার শরীরের ওপর দুটো পা তুলে দিলো হাতে নিজের ফোন নিয়ে গেমস বের করে। বলে,

“Good. That's my wifey. তোর কাছ থেকে এমন উত্তরই আশা করি। পুরস্কার হিসেবে—এবার আমার প্যান্টটা খুলে দাও, ফাস্ট।”

কেপে ওঠে তহুরা, একে কি আবার রাতের মতো কোন আজর ভর করলো নাকি? না রাতে তো এসব বলে না। তাহলে? তহুরাকে ভয় পেতে দেখে সামিউ পা দিয়ে রমনীর নাকের সামনে ঘুড়িয়ে আনে। দুষ্টু ভঙ্গিতে বলে,

“ডার্লিং, ডার্ক চকলেটের একদম মুড নেই। নিচে তো আন্ডারওয়্যার আছেই, কিন্তু এই গরমে সব সেদ্ধ হয়ে যাবে। খুলে দাও।”

বাধ্য মেয়ের মতো সত্যি তহুরা নামিয়ে দিচ্ছে তার প্যান্ট, বুঝলো লোকটা বাজে হলেও তার অনুমতি ছাড়া অন্তত গভীর কিছু করবে না। প্যান্ট নামানোর সময় পায়ের কাছে সামান্য রক্তের ছিটে দেখে ঢোক গেলে মেয়েটি। একটু ইতস্তত হয়ে জিজ্ঞেস করে,

“সকাল সকাল মার্ডার করেছেন?”

নির্লিপ্ত ভংগিমায় উত্তর করে মাফিয়া বস,

“দুইটা ডার্লিং। পাঠার বাচ্চা গুলো ভিসন জালায় আমাকে। আর জানই তো মানুষ আমাকে ভালো পেয়ে….।”

“হয়েছে আপনার ভালোমানুষি গান আর শুনতে চাই না আমি। দয়া করে সাটার বন্ধ করুন।”

বাধ্য পুরুষ বউয়ের কথায় থেমে গেলো। তবে মনে মনে বুঝলো না মেয়েটা আজ এত আল্হাদ কেনো করছে তার সঙ্গে? তহুরা বিছানা থেকে নেমে ঘরির দিকে তাকায় দুপুর ১২ঃ২০ মানে অনেক বেলা। সে সামিউর দিকে তাকায়, ধীরে ধীরে গিয়ে গা ঘেসে বসে। লোকটা বুঝতে পারছে মেয়েটা তাকে কিছু একটা বলতে চায় আর হলোও তাই, এত সময়ের এত আল্হাদের কারন প্রকাশ করলো,

“আপনি বলেছিলেন আমার মা বেঁচে আছে, সামিউ সত্যি বেঁচে আছে তো?”

বউয়ের সেবা যে পেতে হলে কিছু দিতে হয় সেটা অজানা নয় মাফিয়া বসের। সে ফোনটা পাশে রেখে স্ত্রীর ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকায়। যেনো মায়ের মৃত্যুর খবরটা ভুল আর একবার বল্লেই বিশ্বাস হয়ে যাবে। সামিউ দীর্ঘ কয়েক মূহুর্তে চুপ থেকে আঙুলের ইশারায় কাছে ডাকে তহুরাকে। রমনী কাপা কাপা পায়ে এগিয়ে যায়। ঝুঁকে যায় সামিউর মুখের ওপর। লতানো কোমরে হালকা চাপ দিয়ে মাফিয়া বস তাকে নিজের ওপর ফেলে দেয়, ঘনঘন চোখের পাপড়ি গুলো সেকেন্ডের ব্যবধারে কয়েকবার ঝাপটা দিচ্ছে অষ্টাদশী। এই হরিণী চোখ গুলোই কি বস করে রাখেনি? তার যদি একটা বাঙালি মা থাকতো। তবে এই LED-র চোখে আঙুল তুলে বোলতো

“এই মেয়ে আমার ছেলেকে বান মেয়েছে।”

হাহ নিজের ভাবনায় নিজেই হেসে দিলো। সামিউ একটি হাতে রমনীর এলোমেলো চুলগুলো কানের পেছনে গুজে দেয়। তহুরা ঢোক গেলে। রাগ ও ঘৃণারা মনের ভেতর ছটফট করছে। পুরুষালী লম্বা আঙুল গুলো ধীরে ধীরে নিচে নামছে। চোখ বুঝে মেয়েটা ফিসফিস করে,

“ব..বলুন মা কোথায়?”

সামিউ আরো নিচে নামে, এবং ঠিক তহুরার বুকের বাম পাশটায় নিজের আঙুল থামায়,

“এখানে….!”

চট করে চোখ মেলে মেয়েটা, নিজের বুকের দিকে তাকায়, ছোট কাটা দাগ। সেখনটায়। প্রায় বছর খানের আগে হার্টের সার্জারী হয়েছিলো তার। সেই ক্ষত স্থানেই চাপ দিয়ে কথাটা বলছে সামিউ।

“এখানে সার্জারী হওয়ার পর কতদিন সেন্স লেস ছিলে তুমি ? ইসস যদি তখন পেতাম অজ্ঞান হটি বউটার সুযোগ ভালো করে নিতাম। কবে দেবে জান হোয়াইট সিরাম?”

তার রসিকতা ধরতে পেরে ঝটকা দিয়ে সরে আসে রমনী, কোন রকম বাক্য আর বের করলো না। এমন নষ্ট পুরুষ জাতির সঙ্গে বলার আছেই বা কি? তাকে চলে যেতে দেখে সামিউ ঠোঁট কামড়ে হেসে ওঠে।

_______

রান্নাঘরে নিজের মনেই রান্না করছে তহুরা। কয়েকজন মহিলা গার্ড তো আছেই, তবে প্রত্যেকেই পুরুষদের মতো আচরণ করে বেড়ায়। মহিলাদের মতো কোনো কাজ নাকি তারা পারে না। ভাবতেই তহুরার হাসি পায়, মহিলা হয়েও মহিলাদের কাজ পারে না, এও যেন এক হাস্যকর ব্যাপার। সে মনোযোগ দিয়ে শসা কাটছে। এমন সময় কানে ভেসে এলো এক অপরিচিত মেয়েলি কণ্ঠ,

“স্যাম? হেই স্যাম। ফাকিং বাস্টার্ড, তুমি মারকেনোর সঙ্গে একা দেখা করে এসেছো? হোয়াট দ্যা?”

তহুরা তড়িঘড়ি করে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখে সে থমকে যায়। শরীরে প্রায় পোশাক নেই বললেই চলে। বেল্টলেস, এক হাতাওয়ালা ছোট্ট একটি টপ, সঙ্গে উরুর অনেক ওপরে উঠে থাকা শর্টস। এলোমেলো চুল, ঠোঁটে কালো লিপস্টিক, পুরো চেহারায় এক বেপরোয়া ভাব।

তহুরার দিকে তাকিয়েই থমকে যায় মেয়েটিও। ঘামে ভেজা শরীর, কপালে লেগে থাকা এলোমেলো চুল, হাতে খুন্তি রান্নাঘরের উষ্ণ বাতাসে চুলগুলো হালকা উড়ছে। মুহূর্তের জন্য যেন তার চোখে তহুরা কোনো স্বর্গীয় অপ্সরায় রূপ নেয়। অস্পষ্ট স্বরে তার ঠোঁট নড়ে ওঠে,

“ডেম... ফাঁক।”

বেয়ে হেলেদুলে নিচে নামছে স্যাম। এলোমেলো শার্ট, মুখে বিরক্তির ছাপ। এলিসার মুখে তহুরাকে নিয়ে করামন্তব্যটা একেবারেই হজম করতে পারল না মাফিয়া বস।সিঁড়ির শেষ ধাপে পা রাখতেই ডাইনিং টেবিল কাঁটা চামচ তুলে বিদ্যুৎগতিতে ছুড়ে মারল এলিসার চোখ লক্ষ্য করে। একচুল এদিক-সেদিক হলেই হয়তো মেয়েটা চিরদিনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারাত।

রাগী চোখে তহুরার দিকে তাকিয়ে স্যাম গম্ভীর স্বরে বলল,

“এখনের যুগে শুধু ছেলেরাই না, মেয়েরাও মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ওর থেকে দূরে থাকবে, ওকে ডার্লিং?”

তহুরা মাথা দোলায় উপর-নিচ। তার মাথার ভেতর হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আর প্রতিটি প্রশ্নের গায়ে লেগে আছে স্যাম নামটার মানে কি? সামিউর নাম স্যাম মনে তো হচ্ছে না মুসলিম। সামিউকে এমন বিধস্ত দেখে এলিসার গলায় জমে কটাক্ষ,,

"স্যাম, এটা কী হচ্ছে? একজন কুখ্যাত মাফিয়া হয়ে, এমন কুইনকে দিয়ে কাজ করাস? ও বেইবি, আমি হেল্প করছি তোমার ওয়েট।"

এলিসা এগোতে চায়, বড় বড় দুই পা ফেলে। কিন্তু সামিউ হাত ধরে থামায়, কর্কশ গলায় বলে,

"শি ক্যান ডু ইট অ্যালোন।”

অবুঝ তহুরা স্বামীকে পছন্দ করে না, হয়তো তাই বিশ্বাস করে না তার কথা। সে জানে, যুগ বদলালেও বাঙালি মনের গাঁথুনি বদলায় না। একটা মেয়ে কি কখনো আরেক মেয়েকে চাইতে পারে? সামিউ কি মিথ্যা বলছে? তাকে কষ্ট দিতেই কি এমন কথা? তার প্রতিবাদ আসে,

"বান্দী বলেন, বান্দীর মতোই ব্যবহার করেন। একটু সাহায্য করতে চাইলেও করতে দেন না। সিরিয়াসলি? এটা কেমন বিচার? ডোন্ট গেট মি রং, আমি আপনার জন্য এখানে নেই। শুধু ওই ফুলিটার জন্য... আর আপনি বলেছিলেন আমার মা বেঁচে আছেন। সেই সত্যটা জানার জন্যই আপনার প্রতিটা কথা মেনে নিচ্ছি। বাট দ্যাট ডাজন্ট গিভ ইউ দ্য রাইট টু ট্রিট মি লাইক দিস।"

সামিউ এক ভ্রু কুচকে নেয়। এলিসা যেন সুযোগ পেয়ে বলে,,

"ঠিক একটু হেল্প করি আমি।"

সামিউ চোখ পিটপিট করে তাকায়, তহুরার তেজটা গায়ে ফোস্কার মতোই বিঁধেছে। এলিসার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে দুই আঙুল দিয়ে নিজের চোখের সঙ্গে তার চোখের কন্টাক্ট করে বোঝায়, 'তোর ওপর আমার নজর আছে।' তারপর হাত ঝেড়ে ইশারা করে 'দূরে থাকবি।'

তহুরা কিচেনে যেতেই এলিসা হেলেদুলে তার পেছনে যায় লতানো কোমরে সামিউর দেওয়া শাড়ি দিয়ে আড়াল করার অহেতুক চেষ্টা। শাড়ি বিহীন আর কোনো কাপড় নেই তার বাড়িতে। যেন ট্রেডিশনাল পোশাকে থাকাটা সামিউর বড্ড পছন্দ। পাতলা শাড়ির ফাঁক গলে কোমর দৃশ্যমান, হাঁটার তালে বারবার চামড়া মুচড়ে ওঠে। এলিসা যেন সেই মেয়েটার চারপাশে ঘোরের জাল বুনছে। সে ঢুকেই বলে,

"কী হেল্প করব বেইবি?"

"বেইবি?"

সরল তহুরা হালকা মুচকি হাসে। এলিসা ভিসন সুন্দর একটু গেটআপ পাল্টালে অপরূপ লাগবে, বুঝতে সময় লাগলো না তহুরার। কালো লিপস্টিকে আঁকা ঠোঁট জিভ দিয়ে ভিজিয়ে এলিসা মানদকতাচ্ছন্ন গলায় বলে,,

"ইউ লুক লিটল বেইবি। কিউট পুকি একটা।"

তহুরা খিলখিল করে হেসে ওঠে, কাজে হাত দিয়ে বলে,

"ওই দিকে পেয়াজ আছে, ছুলে দাও, বেইব।"

অষ্টাদশীর কণ্ঠে মধুর স্বরটা যেন এলিসাকে ঘায়েল করে। সে হা করে শ্বাস ফেলে বাতাসে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় ছুড়ি আর পেয়াজ নিয়ে কাটার চেষ্টা করে। কিন্তু এলিসার চোখ সেই উন্মুক্ত কোমরের দিকে। হালকা মাংস নড়তেই থলথল করে। এলিসা ইচ্ছাকৃতভাবে পরে যাওয়ার ভান করে ছুঁয়ে দেয় সেখানটা, রীতিমতো চাপ প্রয়োগ করে। তহুরা সতর্ক হয়। ভালো-মন্দ ছোঁয়ার তফাৎ সে চিনতে পারবে এতটাও অবুঝ নয়। সামিউর কথার টনক নড়ে মেয়েরা কি মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট হয়? সে তো এমন নয়। এলিসা কি সত্যি নারীতে আসক্ত?

বোকা হেসে তহুরা কাজে মন দেয়। কিছুক্ষণ স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি, সে নিজেই দোষ দেয়। হয়তো ভুল করে মেয়েটা ছুঁয়েছে, আর সে নরপিশাচটার কথা বিশ্বাস করে এত কিছু ভাবল?

হঠাৎ এলিসা কুকিয়ে ওঠে বিরক্তিতে,

"আহহ, বেইবি লুক, আমি কাটতে পারছি না! প্লিজ শেখাও আমাকে!"

ঠোঁট উল্টায় মেয়েটা যেন জোর করে নিজেকে কিউট বানানোর চেষ্টায় মত্ত। তহুরা একটু ইতস্তত করে সোজা হয়। পেয়াজের ওপর ছুড়ি চালিয়ে দক্ষতার সঙ্গে কাটে,

"এই তো এভাবে। ট্রাই করো।"

এলিসা বলে,

"আর একবার দেখাও।"

তহুরা আবারো করতে যায়, কিন্তু পেয়াজে ছুরি ছোঁয়ানোর আগেই এক জোড়া নরম হাত তার হাত ছুঁয়ে যায়। উপর থেকে আলতো করে এসে ছুরির ওপর রাখে। গরম শ্বাস পড়ে কাঁধে। এলিসা হিসহিসিয়ে বলে,

"এখন তুমি আমাকে শেখাও। পরে আমি তোমাকে শেখাবো।বাট ট্রাস্ট মি মাই টিচিং উইল গিভ মোর স্যাটিসফ্যাকশন।”

ঝটকা দেয় তহুরা ছুরি পড়ে যায় ফ্লোরে ঝনঝন করে। ঝাড়া দিয়ে এলিসাকে সরিয়ে দেয়৷

"আপনি একটা ম...মেয়ে হয়ে আমাকে এভাবে ছুঁয়ে দিচ্ছেন কেনো? ছিঃ—কত নোংরা!"

এলিসা ঠান্ডা গলায় বলে,,

"ইটস নরমাল। উই হ্যাভ ফ্রিডম টু চুজ পার্টনার্স। দিস ইজেন্ট বিডি।”

বলে আবারও এগোতে চায় তহুরা কোনমতে পাশ কাটিয়ে ড্রইংরুমের দিকে ছুটে যায়। বিশাল একটি দরজার ওপারে সামিউ আছে সে জানে, যদিও কখনো যায়নি ওই কক্ষে। আজ এলিসাকে ভয়ে দৌড়ে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে প্রবেশ করে। এলোমেলোভাবে কোথাও না তাকিয়ে পুরুষালি গলায় ঝুলে পড়ে থরথর করে কাঁপছে। নাকে ভেসে আসা ঘামের গন্ধের চেয়ে বেশি এলিসার ছোঁয়ায় গা গুলিয়ে উঠছে তার।

আশান্বিত হামলায় সামিউ নড়ে ওঠে, পেচিয়ে ধরে স্ত্রীর লতানো শরীর। নরম গলায় জিজ্ঞেস করে,

"হোয়াট হ্যাপেন্ড, ডার্লিং?”

ঢোক গিলে রমণী ঘামে ভেজা লোকটার ঘাড়ে মুখ গুঁজে ভাঙা গলায় বলল,

“আপনি ছুঁলেও তো এমন হয় না... ওই মেয়েটার ছোঁয়ায় এত অদ্ভুত অনুভূতি কেন?”

সামিউর যেন মাথায় বাজ পড়ল। তহুরার কোমরে আঙুল শক্ত করে বসিয়ে মুহূর্তেই তাকে নিজের সামনে টেনে আনে। বিস্ময় আর উৎকণ্ঠা মেশানো কণ্ঠে বলল,

“কেমন অনুভূতি? তুইও লেসবিয়ান নাকি? একদম বলবি না যে মেয়েদের প্রতি তোর আগ্রহ আছে... খুন করে ফেলব।”

ভড়কে গেল তহুরা। পরপর কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল সামিউর শক্ত বুকে।

“ধুর! ওই মেয়েটার কথা ভাবলেই আমার গা গুলিয়ে ওঠছে। ওর ছোঁয়ায়ও তাই হয়েছে। আপনি ছুঁলেও তো এমন লাগে না।”

একটা দীর্ঘ, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল মাফিয়া বস। তার স্ত্রী যদি সত্যিই মেয়েদের প্রতিই আসক্ত হতো, তাহলে বোধহয় হার্ট অ্যাটাকই করত সে। এলিসাকে আর বাড়িতে আনা যাবে না। মেয়েটা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এখন কি তবে নিজের স্ত্রীকে মেয়েদের কাছ থেকেও আগলে রাখতে হবে?

ভাবনার মাঝেই টের পেল, তহুরা ঠিক শান্ত, লক্ষ্মী মেয়ের মতো তার গলা জড়িয়ে কোমর আঁকড়ে আছে। কৌতূহলী চোখে চারপাশটা দেখছে সে। নিশ্চয়ই এ ঘরেই সামিউ জিম করে। এই মুহূর্তে তারা দাঁড়িয়ে আছে থেমে থাকা ট্রেডমিলের ওপর।

দৃষ্টি ঘুরতে ঘুরতে থেমে গেল সামিউর বুকে। গাঢ় কালো বুকে চোখ আটকে রইল কিছুক্ষণ। তারপর অজান্তেই নেমে গেল নিচের দিকে সুস্পষ্ট অ্যাবসের রেখাগুলোয়। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল সে।

সামিউর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে। মেয়েটার নির্ভেজাল কৌতূহল তার ভেতরে অদ্ভুত এক আলোড়ন তুলল।

“তার মানে ফিল এর সঙ্গে মজা তুইও নিস, কেবল আমার সামনে ন্যাকামি করিস?”

মাথা নুইয়ে নিলো তহুরা, মুহূর্তেই বদলে গেল তার চোখের ভাষা। কোমরে চাপ বাড়িয়ে তহুরাকে কোলে তুলে নিল সামিউ। হকচকিয়ে তহুরা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তার গলা। বেশিক্ষণ কোলে রাখল না সামিউ। আলতো করে শুইয়ে দিল ল্যাট মেশিনের ওপর। তহুরা উঠে বসতে চাইতেই নিচু, ধীর কণ্ঠে বলল,

“আমার কথা শুনলে... তোমার মায়ের সম্পর্কে তথ্য পাবে, ডার্লিং।”

থমকে গেল তহুরা।

“সত্যি?”

“মাফিয়া হওয়ার একটা নীতি আছে, ডার্লিং,” শান্ত স্বরে বলছে সামিউ। “আমরা প্রতিশ্রুতি ভাঙি না। ভাঙলে তার মূল্য চুকাতে হয়।”

সে মেশিনের হ্যান্ডেল টেনে তহুরার হাতের কাছে এনে ইশারায় ধরতে বলে। তহুরার গলা শুকিয়ে কাঠ। এত ভারী জিনিস সে কীভাবে টানবে?

সামিউ আশ্বস্ত করে তাকে নরম গলায়,,

“ওয়েট কমিয়ে দিয়েছি।”

তখনও সে জানে না, এই আশ্বাসের আড়ালেও সামিউর দুষ্টুমি লুকিয়ে আছে। বাধ্য মেয়ের মতো হ্যান্ডেলটা ধরল তহুরা। সর্বশক্তি দিয়ে টান দিতেই মনে হলো, কেবলটা যেন তাকেই উল্টো টেনে তুলবে। কপালে ঘাম জমে উঠেছে মূহুর্তে।

সামিউ নিঃশব্দে তার শাড়ির আঁচলটা একটু সরিয়ে দেয়, পেটেন কেন্দ্রবিন্দুতে চোখ রাখে। এবং নিজের সঙ্গেই করে বসে অপ্রত্যাশিত কাজ। ফলে লজ্জায় রমনী চোখ ফেরায়। সামিউ থামলো না বরং রমণীর চিবুক তুলে নিজের দিকে ফেরায় বলে,

“লুক তোকে পাওয়ার জন্য কতটা মরিয়া আমি।”

তহুরা চমকে উঠে কিছু বলার আগেই সে শান্ত গলায় বলল,

“Pull it down.”

শব্দ দুটো যেন আরও ভারী হয়ে বাজল তহুরার কানে। শক্তি প্রয়োগ করতে গিয়ে তার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠে। হাত কাঁপছে, তবু চেষ্টা করে যাচ্ছে। সামিউ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে তার দিকে। কপালের ঘাম, দ্রুত ওঠানামা করা বুক, ক্লান্তির সঙ্গে লড়ে যাওয়া মুখ সবকিছুই যেন চোখে ধরে রাখছে সে।

তহুরা ফিসফিস করে বলল,

“এটা জঘন্য... সামিউ, সরুন।”

কিন্তু সামিউ নড়ল না। বরং নিচু, নেশামাখা স্বরে আবার বলল,

“Slowly up.”

চোখ বন্ধ করে নির্দেশ মেনে চলল তহুরা। তার শরীরের শক্তি যেন ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। শ্বাস ভারী, হাত কাঁপছে। অবশেষে ক্লান্ত গলায় বলে উঠে,

“আর পারছি না...”

সামিউর ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটল। উত্তেজনায় কপালের রগ ফুলে উঠেছে। তবু দৃষ্টি সরাল না সে। ধীরে ধীরে তহুরার মুখের কাছে ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলল,

“Time to fill hell with some white serum.”

তৎক্ষনাৎ তহুরা চোখ-মুখ শক্ত করে বন্ধ করে । হাত থেকে ছিটকে বেরিয়ে গেল হ্যান্ডেল। ধাতব শব্দে কেঁপে উঠল ঘর। আঘাতে কুঁকিয়ে উঠল সে।

আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না তহুরা। উপর থেকে সামিউকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। ছুটে কোথায় যাবে পথ হাড়িয়েছে অবুঝ নারী। পেছন থেকে কেবল শান্ত গলায় সামিউ বলল,

“ডানদিকে ওয়াশরুম, ডার্লিং।

এলোমেলো পায়ে ছুটে গেল পাশের ওয়াশরুমে। কল খুলে বারবার মুখে, ঘাড়ে, গলায় পানি ছিটাতে লাগল। গা গুলিয়ে উঠছে, বারবার বমি বমি ভাব হচ্ছে তার।

ঘরে নীরবতা নামে সামিউ ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ঠিক তহুরার জায়গাটাতেই শুয়ে পড়ে। চোখ বন্ধ করতেই যেন কিছুক্ষণ আগের প্রতিটি মুহূর্ত আবারও ফিরে এলো তার মনে। আবার আবার, বার বার, এই কাজটা করতে ইচ্ছে হচ্ছে আজ। অস্পষ্ট গলায় গেয়ে ওঠে,,

Every hour, every minute,

every second

You know night after night

I'll be fuckin' you right

চলবে...

#the_captive

#স্বর্ণালী_ইসলাম

পর্বঃ৭

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন