ফন্ট সাইজ:
থিম:
আনাস্তাসিয়া

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: Samiya

#আনাস্তাসিয়া
#লেখিকা_সামিয়া
#পর্ব:৬

সকাল ৭টার দিকে আদ্রিয়ান এর ঘুম ভাঙে। সে নিজের চোখ খুলতে চাইল কিন্তু পারলো না। তার পুরো মাথা ভার হয়ে আছে। সে অনেক কষ্ট করে পিটপিট করে চোখ খুলে। মাথায় হাত দিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকে, আর কাল রাতে কি হয়েছে সে সব মনে করার চেষ্টা করে। কাল রাতের সব ঘটনা মনে পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকাল। পাশে তাকাতেই দেখল বিছানা ফাঁকা তার পাশে আনাস্তাসিয়া নেই। সে তখনি বিছানা থেকে উঠে পুরো রুম খুঁজে দেখল না আনাস্তাসিয়া কোথাও নেই। সে দ্রুত পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে করিডোর দিয়ে এগুতেই উচ্চ স্বরে মিউজিক এর শব্দ ভেসে এলো। সে শব্দ অনুসরণ করে এগোতে লাগলো। একটি কক্ষের সামনে আসতেই সে কিছু ক্ষণ থামল অতঃপর ভেতরে ঢুকতেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। সামনের দিশ্ব দেখে তার প্রচন্ড রাগ উঠল। তার সামনে আমান আর আনাস্তাসিয়া একসাথে ড্যান্স করছে। মূলত তারা মাঝেমধ্যেই সকালে একসাথে বা একাও ড্যান্স করে থাকে। সাধারণ তাঁরা শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ড্যান্স করে থাকে। নিয়মিত নাচ করা একটি চমৎকার অ্যারোবিক ব্যায়াম। এটি হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং ক্যালোরি পুড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা দূর করতে, স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে এবং শরীরের ভারসাম্য ও পেশির শক্তি বৃদ্ধিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নাচ উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এমনকি সাধারণ হাঁটার তুলনায় নাচের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বেশি উন্নত হয়। নাচ জগিং বা সাইক্লিংয়ের মতোই দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। এটি অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে শরীরকে সুন্দর শেপ বা কাঠামো দিতে অত্যন্ত কার্যকর। নাচের সময় শরীর থেকে এন্ডোরফিন ও ডোপামিনের মতো "হ্যাপি হরমোন" নিঃসৃত হয়, যা দুশ্চিন্তা ও ক্লান্তি দূর করে মনকে প্রফুল্ল রাখে। নিয়মিত নাচ ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তি প্রখর করে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝেইমারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। নাচের মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি পেশির দারুণ ব্যায়াম হয়। এটি শরীরের ভারসাম্য, সমন্বয় (coordination) এবং নমনীয়তা (flexibility) বৃদ্ধি করে। নাচের ফলে শরীরের স্ট্যামিনা বা অনেকক্ষণ কাজ করার শক্তি বৃদ্ধি পায়।

ড্যান্স করতে করতে দরজার দিকে চোখ পড়তেই আনাস্তাসিয়া থেমে গেল। আনাস্তাসিয়াকে থামতে দেখে আমান ও থেমে যায়। সে আনাস্তাসিয়ার দৃষ্টি অনুসরণ করে দরজা দিকে তাকাতেই দেখল আদ্রিয়ান চোখ মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে দুজনের মধ্যে কারোর কোন ভাবান্তর হলো না। আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বলে,

__"ওয়াট হ্যাপেন, এখানে কি করছো"?

আদ্রিয়ান কোন উত্তর না দিয়ে আনাস্তাসিয়ার সামনে এসে দাঁড়িয়ে, তার হাত শক্ত করে চেপে ধরে। এতোটাই জোরে ধরে যে আনাস্তাসিয়া কুকিয়ে উঠল। আদ্রিয়ান তার হাত ধরে টেনে তার সাথে নিয়ে যেতে নিলেই আনাস্তাসিয়ার ফোন বেজে উঠে। সে এক পা বাড়াতেই থমকে যায়। পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখে আনাস্তাসিয়া দাঁড়িয়ে আছে। আনাস্তাসিয়া তার প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে রিসিভ করতেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। রাগি চোখে আদ্রিয়ান এর দিকে তাকিয়ে এক ঝটকায় নিজের হাত ছড়িয়ে নেয়। রাগে তার হাতের ফোন জোরে আছার মারে। যার ফলে ফোনটি ফ্লোরে পড়ে টুকরো টুকরো করে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। আদ্রিয়ান বিষয়টি বুঝতে পেরে বাঁকা হাসে। আনাস্তাসিয়া তার কাছে গিয়ে গর্জে উঠে।

__" হাউ ডেয়ার ইউ, ফাকিং ম্যান। তোমার সাহস কি করে হলো এইসব করার"।

__" যে ভাবে তোমার সাহস হয়েছিল আমার কন্টেইনার হাইযেক করার।

__" অহ্ স্টপ দিস ননসেন্স। কতবার বলবো আমি ঐসব করিনি। এভরিথিং ইউর ফাদার প্লেন। আমার বিরুদ্ধে ইউজ করছে তোমাকে"।

__" আই ডোন্ট বিলিভ ইউ। ইউ প্রুভড্ ইট"।

__" ওকে ফাইন। জাস্ট থী ডে, ওয়েট এন্ড ওয়াচ"।

অতঃপর আমান এর দিকে তাকিয়ে বলে,

__" "গো গেট রেডি কুইকলি অ্যান্ড ইনফর্ম লেনি দ্যাট উই হ্যাভ টু লিভ রাইট নাউ।

আর কোন কথা না বাড়িয়ে আনাস্তাসিয়া আর আমান চলে গেল। আদ্রিয়ান ও তাদের পিছু পিছু বেড় হয়ে যায়।

_____________>>>>>>>>>>>>_____________

করিডোর দিয়ে হেঁটে হেঁটে পুরো ভবনটি দেখছে নিদ্রা। কাল রাত করে আসায় ভবনটি ভালো ভাবে দেখার সুযোগ পায়নি, তাই তো সকাল সকাল উঠে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েছে। চারিদিকের প্রতিটি দেওয়ালে টাঙানো সুন্দর ও আকর্ষণীয় এন্টিক পেন্টিং। দেওয়ালে অসম্ভব সুন্দর ডিজাইন। দেওয়ালের সাথে ঘেঁষে দাঁড় করিয়ে রেখেছে অসম্ভব সুন্দর ডিজাইন করা এন্টিক ফুলদানি ও তাঁতে সজ্জিত অসঙ্খ সুন্দর ফুল। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কেউ তার হাত ধরে টান দিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে। সে কিছু বুঝে উঠার আগেই আগন্তুক তার ঘাড়ে মুখ গুজে পরম আবেশে লম্বা একটি শ্বাস টেনে নেয়। আগন্তুক তার জামার ভেতর দিয়ে উম্মুক্ত কোমরে হাত রেখে চেপে ধরে। আচমকা এরকম কান্ড ঘটায় প্রথমে ভয় পেয়ে গেলেও পরমূহুর্তে কে হতে পারে বুঝতে পেরে, নিজেও আগন্তুককে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। এভাবেই কিছু ক্ষণ জড়িয়ে ধরে থেকে নিদ্রা বলে উঠে,

__" এরিক স্টপ, ছাড়ো আমায় কেউ দেখে ফেলবে"।

কিন্তু এরিক ছাড়ে না বরং তার ঘাড়ে ও গলায় টুকরো টুকরো চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকে। আর নেশা তুলব কন্ঠে বলে,

__" উহু ডোন্ট ডিস্টার্ব সুইটহার্ট, আই কান্ট কন্ট্রোল মাইসেল্ফ"।

বলেই আবারো তার অবাধ হাতের বিচলন চালালো নিদ্রার সর্বাঙ্গে। টুকরো টুকরো চুমু গুলো ধীরে ধীরে কামড়ে পরিনত হলো। এদিকে এমন কান্ডে সে অস্থির হয়ে পরলো। তার শ্বাস ধীরে ধীরে ভারি হয়ে যায়, সে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে অস্থির স্বরে বলে,

__" এরিক প্লিজ স্টপ, কেউ দেখে ফেললে সর্বনাশ হয়ে যাবে"।

এরিকের কোন ভাবান্তর হলো না সে একই ভাবে বলে,

__" আই ডোন্ট কেয়ার, ইউ আর মাই লিগ্যাল ওয়াইফ"।

বলেই নিদ্রার ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে নিয়ে নিল। পরম আবেশে শুষে নিতে লাগলো অম্রিতা শুভ্রা। গভীর চুম্বনে লিপ্ত হলো দু'জন মানব মানবী। প্রায় মিনিট বিশেক পর ছেঁড়ে দিতেই হাঁপাতে হাঁপাতে নিদ্রা বলে,

__" প্লিজ কন্ট্রোল ইউরসেল্ফ, ভাইয়া দেখে ফেললে অনর্থক হয়ে যাবে"।

__" হু কেয়ারস, চলো সবাইকে সব বলে দেই"।

বলেই হাত ধরে তাকে নিয়ে যেতে চাইলে আটকে দেয় নিদ্রা। করুন চোখে তাকিয়ে দুই পাশে মাথা নাড়িয়ে বলে,

__" নো, তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি কি করে বাঁচবো। ভাইয়া মেনে নিলেও পাপা মানবে না। তোমার ক্ষতি করে ফেলবে, তোমাকে আমার কাছ থেকে আলাদা করে ফেলবে"।

এরিক তার কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে তার মাথা নিজের বুকে চেপে ধরে।

__" নো টেনশন, কিছু হবে না আমি আছি না সব সামলে নেব"।

অতঃপর কিছুক্ষণ এভাবে থেকে বলে,

__" চলো এখন এখান থেকে"।

__" হুম"।

অতঃপর দুজনে হাতে হাত ধরে চলে যায়।

ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে আমান। লেনি আর আনাস্তাসিয়ার আসার জন্য অপেক্ষা করছে সে। একবার হাতের ঘুড়ির দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালো সে। তখনি উপর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলো আদ্রিয়ান। আমানকে দেখে বাঁকা হেসে এগিয়ে এলো সে। অতঃপর আমান এর সামনে এসে মুখমুখি দাঁড়াতেই আমান ভ্রু কুঁচকে তাঁর দিকে তাকায়। তখনি সিঁড়ির কাছে আনাস্তাসিয়া এসে থমকে যায়। আদ্রিয়ান আমানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,

__" মুসলমানি হয়েছে তোর?

আমান ঠিক বুঝতে পারলো না।

__" বুঝতে পারি নি"।

__" আরেহহ গাধার বাচ্চা গরু কাটিং ফিটিং হয়েছে তোর? সুন্নতে খাৎনা। না হলে করে নেব। করা বড়ই জরুরি। আর নতুন মেয়ে খুঁজে নিস। আমার বউর দিকে তাকালে কাটিং ফিটিং এর জিনিস খানা একদম পুরোটা কেটে দেব। গট ইট"।

আমান সামনে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তখনি দেখতে পেল, আনাস্তাসিয়া সিঁড়ির ওখানে দাঁড়িয়ে ইশারায় কিছু বলতে বারণ করছে। তাই সে কিছু না বলে চুপ করে রইলো। আদ্রিয়ান হুট করে তার গলা জড়িয়ে ধরে টুপ করে আমান এর গালে একটা চুমু খেয়ে বলে,

__" আমার সোনা মনা টুনটুনি
ভালোবেসে তোমায় ডাকবো বুলবুলি
চুমু খেয়ে হয়ে যাও ট্রমা
তোমায় আমি ডাকবো ও মাই শীলা"।

আনাস্তাসিয়া এসব শুনে মুখ চেপে তার হাঁসি আটকালো। আমান চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে তবদা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এসব কি হলো তার সাথে? কি বললো আদ্রিয়ান তাকে। সব যেন তার মাথার উপর দিয়ে গেল। আদ্রিয়ান চলে যেতেই সে শুকনো ঢোঁক গিলে বিরবির করে বলে,

__" এ মানুষ নাকি কবিতার ধর্ষক? সহজ সরল কবিতাকে পুরোই ধর্ষণ করে দিচ্ছে"।

অতঃপর আনাস্তাসিয়া নিচে নেমে এসে তার কাঁধে হাত রাখলো। সে ঘাড় ঘুরিয়ে আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,

__" তুই বলতে দিলি না কেন আমি তোর ভাই, আমাদের মধ্যে সেরকম কোন সম্পর্ক নেই"?

__" কিছু জিনিস অজানা থাকায় ভালো"।

__" তোমরা এখানে দাঁড়িয়ে কি করছো"?

তখনি সেখানে লেনি এসে বললো। তাঁরা দুজন একবার লেনির দিকে একবার তাকিয়ে বলে,

__" তোমার জন্য ওয়েট করছিলাম চলো"।

তাঁরা আর কোন কথা না বাড়িয়ে দরজা দিয়ে বেরিয়ে চলে গেল।

______________>>>>>>>>>>>>____________

সমুদ্রের পাড়ের বন্দরের চারিদিকে ধোঁয়া আর ধোঁয়া উড়ছে। ধোঁয়ার কারণে চারপাশটা ভালো ভাবে দেখা ও যাচ্ছে না। এই ধোঁয়ার মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে তিন জন মানব মানবী আর চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গার্ড। আমান, আনাস্তাসিয়া আর লেনি তিন জনেই মুখে মার্ক্স পরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ধোঁয়া ওঠা ৫০/৬০ টা কন্টেইনার। যার ভেতরে ছিল অসংখ্য ড্রাগ মাদব দ্রব্য আর অবৈধ অস্ত্র যার মূল্য ছিল কয়েকশ' মিলিয়নের উপরে তা এখন পুড়ে ছাই হয়ে আছে। নিজেদের চোঁখের সামনে নিজেদের এতো বড় লোকসান মেনে নিতে পারছে না আমান আর আনাস্তাসিয়া। কি করেই বা মেনে নেবে তারা কখনো লস দেখেনি শুধু প্রফিট দেখেছে। সে খানে এতো বড় ক্ষতি মেনে নেওয়া অসম্ভব। আনাস্তাসিয়া চাইলেই এসব কিছু আটকাতে পারে তার কাছেত বা হাতের খেলা। কিন্তু ঝোঁকের বশে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয় আর সে এতো সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়। সে তো তিলে তিলে সব কিছু শেষ করবে, তার যা ক্ষতি করেছে তার দ্বিগুণ ক্ষতি ফেরত দেবে। তাই তো সে এখন মুখ বুজে সব সহ্য করছে। তাদের মধ্য কার নিরবতা ভেঙ্গে লেনি বলে,

__" এখন কি করবে তোমরা"?

আনাস্তাসিয়া একটি দির্ঘশ্বাস ফেলে আমান এর দিকে তাকিয়ে বলে,

__" চলো ভাইয়া শ্বশুর বাড়ি থেকে ঘুরে আসি"।

আনাস্তাসিয়ার কথা শুনে আমান ভ্রু কুঁচকে তাঁর দিকে তাকিয়ে বলে,

__" ওয়াট ডু ইয়ু মিন বাই শ্বশুর বাড়ি"? কি বলতে চাইছিস"?

__" মানেটা হলো এইযে আমার বিয়ে হলো তো শ্বশুর বাড়ি যেতে হবে না। তাঁকে জানতে তো হবে যে আমি তার একমাত্র ছেলের বউ।সে এতো লক্ষীমন্তর বউ মা পেয়েছে। বউ মা হিসেবে আমার ও তো একটা দায়িত্ব আছে নাকি"।

__" বস আপনি সিরিয়াসলি আশরাফ শেখ এর বাড়ি যাবেন"?

আনাস্তাসিয়া লেনির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,

__" ইয়েস লেনি বিয়ে হয়েছে তো শ্বশুর বাড়ি যেতে হবে না। চলো এবার"।

তাঁরা তিনজন গাড়িতে উঠে শেখ নিবাসের দিকে রওনা দিল।

সূর্য আস্তে আস্তে ডুবে যাচ্ছে, ধরণীতে নেমে আসসে অন্ধকার। আনাস্তাসিয়াদের গাড়ি এসে পৌঁছাল শেখ নিবাসের সামনে। তাদের গাড়ি গেট দিয়ে ঢুকতেই চারিদিকের গার্ড সতর্ক হয়ে গেল। এঁকে এঁকে সকলে গাড়ি থেকে নেমে পরলো। তাঁরা নামতেই একজন মেয়ে গার্ড এসে আনাস্তাসিয়ার আর লেনিকে চেক করলো। আর একজন ছেলে গার্ড এসে আমানকে চেক করে তাদের কাছে থাকা লুকানো অস্ত্র নিয়ে যায়। অতঃপর তারা একবার চারিদিক চোখ বুলিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ভেতরে ঢুকতেই দেখে পুরো ড্রয়িংরুম ফাঁকা। তাঁরা তিনজন এঁকে এঁকে সোফায় গিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে পড়ে।

কিছুক্ষণ পরে উপর থেকে আশরাফ শেখ, হাসিবুল শেখ আর শিশির শেখ সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসতে থাকে। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় ড্রয়িংরুমে বসে থাকা আনাস্তাসিয়াদের দেখে কিছুটা ভরকে যায়। তাদের চোখে মুখে কিছুটা ভয় ফুটে ওঠে। এই মেয়ে তো আর এমনি এমনি তাদের বাড়িতে আসেনি নিশ্চিত কোন মতলব আছে। আনাস্তাসিয়া তাদের নামতে দেখে মুচকি হেসে বলে,

__" আরে শ্বশুর মশাই যে, আসুন আসুন বসুন"।

তাঁরা নিচে এসে আনাস্তাসিয়াদের মুখমুখি সোফায় বসে। আশরাফ শেখ বসতে বসতে ভ্রু কুঁচকে বলে,

__" কিসের শ্বশুর মশাই? আর তুমি আমার বাড়িতে কোন মতলবে এসেছ শুনি"।

__" কি বলেন না শ্বশুর মশাই আমি আবার কোন মতলবে আসবো। শ্বশুর বাড়িতে কি কেউ মতলব নিয়ে আসে বলুন"?

আশরাফ শেখ এবার একটু রাগ মেশানো কন্ঠে জোরে বলে,

__" এই মেয়ে এই কখন থেকে কি শ্বশুর মশাই শ্বশুর মশাই বলে যাচ্ছো, কে তোমার শ্বশুর"?

আনাস্তাসিয়া এবার একটু অবাক হওয়ার ভান ধরে বলে,

__" এ..মা... আপনি জানেন না কালকেই তো আপনার ছেলের সাথে আমার বিয়ে হলো। তার পর বাসর হলো, কিছু দিন পর আপনি দাদা হবেন। ডজন ডজন নাতি নাতনিতে আপনার এই বাড়ি ভর্তি হয়ে যাবে। তাঁরা আপনার সাথে খেলবে আপনার কোলে হিসু করবে। ভাবতেই দেখুন আমার কেমন লজ্জা লজ্জা লাগে"।

বলেই লজ্জা পাওয়ার অভিনয় করে মাথা একটু নিচু করলো। আনাস্তাসিয়া এমন অভিনয় দেখে আমান আর লেনির পেট ফেটে হাসি আসছে। পারলে তারা এখনি হাসতে হাসতে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খায়। তবুও তারা অনেক কষ্টে ঠোঁট চেপে নিজেদের হাঁসি আটকাচ্ছে।

অপর দিকে আশরাফ শেখ আর হাসিবুল শেখ যেন আকাশ থেকে পড়ল। বলেকি এই মেয়ে তার ছেলের সাথে নাকি এই মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তার পর তেদের নাকি বা' আর ভাবতে পারলো না সে। অপর দিকে শিশির নির্বিকার। সে এক দৃষ্টিতে আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। আনাস্তাসিয়ার পরনে ঢিলা ঢালা সবুজ রঙের টিশার্ট আর কার্গো প্যান্ট। পায়ে সাদা শু মাথায় কালো কেপ। তবুও শিশির এসবের উপর দিয়েই যেন তাকে গিলে খাচ্ছে। আশরাফ শেখ দাঁতে দাঁত চেপে বলেন,

__" এই মেয়ে তোমার লজ্জা করেনা এসব বলতে।

__" ও মা সত্যি বলতে লজ্জা কিসের? আপনি ও তো বিয়ের পরে বাসর করছেন। না করলে কি দুটো প্রডাক্ট আপনার হেঁটে হেঁটে চলে আসলো বুঝি"?

আনাস্তাসিয়া কথা শুনে আশরাফ শেখ এর কাশি উঠে যায়। আশরাফ শেখ এর কাশি উঠতে দেখে, তার পাশে বসে থাকা হামিদুল শেখ তাকে সামনে রাখা, টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাস নিয়ে খাইয়ে দিল। তার পর আনাস্তাসিয়ার দিকে ক্ষিপ্ত চোখে তাকিয়ে বলে,

__" এই মেয়ে বড়দের সামনে কি ভাবে কথা বলতে হয় জানো না।ম্যানার্স নেই তোমার মধ্যে। লজ্জা করে না এসব বলতে"।

আনাস্তাসিয়া এবার ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,

__" নো, বিকজ আই এ'ম শেইমলেস গার্ল"।

আশরাফ শেখ এবার রেগে গিয়ে বলেন,

__" আমি এই বিয়ে মানি না, কি প্রুভড্ আছে তোমার কাছে যে আমার ছেলের সাথে তোমার বিয়ে হয়েছে। 

আনাস্তাসিয়া এবার ঠোঁট উল্টে ইনসেন্ট ফেস করে কাঁদো কাঁদো ভাব ধরে বলে,

__" আপনি এভাবে বলতে পারলেন শ্বশুর মশাই? হ্যাঁ জানি আপনার সাথে আমাদের শত্রুতা তাই বলে নিজের ছেলের বউকে এভাবে অশিকার করবেন? আমার মতো একটা নিষ্পাপ সরল মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আপনার মায়া হলো না এসব বলতে? আমান এক গ্লাস পানি নিয়ে আসো আমি তাতে ডুব দিয়ে মরে যাই"।

বলেই আমান এর বাহু ধরে কান্নার ভাব ধরে চোখের পানি মুছার অভিনয় করলো। এসব দেখে আশরাফ শেখ বিরক্তিতে বিরবির করে বলে,

__" যতসব ঢং

অতঃপর ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে,

__" এই তোমার ড্রামা স্টপ করতো বিরক্তি লাগছে আমার"।

আনাস্তাসিয়া এবার সোজা হয়ে বসে বলে,

__" আপনার আমার ইমশনকে ড্রামা মনে হচ্ছে শ্বশুর মশাই? আপনার প্রুভড্ লাগবেত। লেনি ওনাকে কাগজ গুলো দেখাও তো"।

আনাস্তাসিয়ার কথা অনুযায়ী লেনি কাগজ গুলো আশরাফ শেখ এর হাতে দিতে দিতে বলে,

__" এই দেখুন বিয়ের রেজেস্টি পেপার্স। আদ্রিয়ান স্যার এর সাথেই ম্যাম এর বিয়ে হয়েছে তার প্রুভড্। এটা দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে"।

আশরাফ শেখ কাগজটি হাতে নিয়ে ভালো ভাবে দেখলেন। এভাবে একে একে হাসিবুল শেখ আর শিশির ও দেখলেন। কাগজটি দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে আনাস্তাসিয়ার সাথেই আদ্রিয়ান এর বিয়ে হয়েছে। তবুও আশরাফ শেখ মানতে রাজি না হয়ে বলেন,

__" পেপার্স তো নকল ও হতে পারে। কি প্রমাণ আছে পেপার্স গুলো আসল"?

আনাস্তাসিয়া এবার বিরক্তি নিয়ে বলে,

__" আপনি তো আচ্ছা ঘাড়ত্যাড়া মানুষ, বিশ্বাস না হলে আপনার ছেলেকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে নিন"।

__" ভাইজান মেয়েটা কিন্তু ঠিক বলছে, আদ্রিয়ান বাবা এসে নিজের মুখে সব বললেই তো সব ক্লিয়ার হয়ে যায়"।

হামিদুল শেখ এর কথা শুনে আশরাফ শেখ একটু ভেবে ফোন নিয়ে আদ্রিয়ানকে ফোন করলেন।

______________>>>>>>>>>>>_____________

রাশিয়াতে এখন আর গরমকাল নেই, তবে শীতটাও সেভাবে গেঁড়ে বসেনি ভুখন্ডে।

গভীর রাত হলে মৃদুমন্দ ঠান্ডা শীতল হাওয়া খানিকটা কেপে উঠে শরীরের সর্বাঙ্গ তবে তুষারপাত হতে এখন ঢেড় দেরি।

তুষারপাত হলো আদ্রিয়ানের সবচেয়ে প্রিয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রচন্ড ঠান্ডায় সবুজ রঙের তরতাজা বিসতৃত গাছপালা যখন ধবধবে সাদা লাশের ন্যায় মৃত ভুখন্ডে পরিনত হয়, তখন তৃপ্তিতে চোখ জুড়িয়ে আসে তার। ভেতরের পৈশাচিক সত্তাটা দিগুন আগ্রহ নিয়ে ফন্দি আঁটতে শুরু করে নতুন কোন মিশনের, মেতে ওঠে নতুন কোন মস্তিষ্কের খেলায়।

তবে এই মুহূর্তে প্রকৃতির সামান্য হিমেল হাওয়াতে ও টগবগিয়ে ফুটে উঠছে আদ্রিয়ান এর দাবানলের মতো মস্তিষ্ক, তুষারপাতের অপেক্ষা করতে গেলে শত্রু নিধনে বড্ড দেরী হয়ে যাবে, চোখের সামনে শত্রুর ফেলে যাওয়া টপকে এত সহজে ছেড়ে দিলে সোলন্তসেনস্কায়া ব্রাতভার লিডার হওয়ার যোগ্যতা আর রইলো কই? তাছাড়া আদ্রিয়ান নিজেও তো প্রতিশোধ নিতে চায়, ভল্কর ডানা কেটে দেওয়ার এটাই সৃবর্ণ সুযোগ। কারণ, ওর একমাত্র সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড এখন এই মুহূর্তে আদ্রিয়ানের হাতে বন্দি।

সোলন্তসেনস্কায়া ব্রাতভার গ্রাউন্ড ফ্লোরের ব্যাক ইয়ার্ডে আজ ফায়ারফ্লেক্স জ্বালানো হয়েছে, দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা অগ্নিশিখার রক্তাক্ত লালিমায় অদ্ভুত গা ছমছমে লাগছে চারিপাশে। ফায়ারফ্লেক্স থেকে কয়েক হাত দূরে চেয়ারের সঙ্গে হাতমুখ বেধে বসিয়ে রাখা হয়েছে ভল্কর গার্লফ্রেন্ড ওলগা কে।

ওলগার চোখেমুখে ভয়ের ঘনকালো মেঘ। এই কম্পানিতে এসে আদ্রিয়ানকে নিজের লাস্যময়ী রূপে পাগল করতে যেয়ে ও নিজেই যে কতবড় বিপদের মুখে ফেসে গিয়েছে তা এতক্ষণে ভালো মতোই অনুভব করতে পেরেছে ওলগা। এই মুহূর্তে আদ্রৌও আদ্রিয়ানের থাবা থেকে জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরতে পারবে কিনা সেই আতঙ্কেই রক্ত ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে মেয়েটার। নিজ মুখে যে কোনকিছু স্বীকার করবে সেই উপায়টুকুও বাঁচিয়ে রাখেনি গার্ডস'রা, এমন ভাবে মুখ বেধে রেখেছে যে টুঁশব্দটাও বের হচ্ছে না ভেতর থেকে। শুধু চোখের কানির্শ বেয়ে ঝরে যাচ্ছে অনবরত নোনাজল।

একটু পর ব্যাক ইয়ার্ডে হাজির হয় আদ্রিয়ান, এসে ওলগার মুখমুখি একটা চেয়ারে পায়ে পা তুলে আরাম করে বসে পরে।

এরিক ওর পাশেই রিভলবার হাতে নিয়ে দাড়িয়ে ছিল, আদ্রিয়ান বসে খানিকক্ষণ ওলগা মেয়েটাকে পর্যবেক্ষণ করে, অতঃপর ঠোঁট কামড়ে হিসহিসিয়ে বলে,

__" টোটাল মিস্টেক, ভল্ক তোমাকে পুরোপুরি একটা বিচ বানাতে পারেনি বেবিগার্ল। কারণ তুমি আজ জামাকাপড় খুলে যাকে সিডিউস করায় ব্যস্ত ওটা আসলে আমি ছিলামি না, এরিক ছিল"।

আঙুলের ইশারায় এরিককে দেখিয়ে দেয় আদ্রিয়ান, সঙ্গে সঙ্গে টাইয়ের নটে হাত দিয়ে খক খক করে কেশে ওঠে এরিক।

__" এনিওয়ে তুমি আমাকে এর আগে দেখোনি এটা তোমারও মিস্টেক নয়, অফকোর্স এটা তোমার গডফাদার ভল্কর মিস্টেক"।

অত্যন্ত ঠান্ডা স্বরে ওলগা কে কথাগুলো শুনিয়ে, এরিকের দিকে না তাকিয়েই নিজের সিল্কি রেড ব্রাউন চুল গুলোতে ব্যাকব্রাশ করতে করতে আদ্রিয়ান ওকে আদেশ দিয়ে বলে,

__" ভল্ককে ভিডিও কনফারেন্সে নিয়ে এসো"।

এরিক তক্ৎক্ষনাৎ তাই করলো, ভল্ককে ভিডিও কল দিয়ে ম্যাকবুকটা ওলগার সামনে ছোট্ট একটা সেন্টার টেবিলের উপর রেখেদিল সে।

স্ক্রিনে ওলগার এহেন হাল দেখা মাত্রই ওপাশ থেকে উদ্বিগ্ন কন্ঠস্বর ভেসে এলো ভল্ক,

__" বেবিগার্ল, হোয়াট হ্যাপেন টু ইউ? আর ইউ ওকে?

তৎক্ষণাৎ দক্ষ হাতে ম্যাকবুকটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল আদ্রিয়ান, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে করুন হেঁসে শুধালো,

__" নিজের বিচ কে স্পাই বানিয়ে পাঠিয়ে আমাকে জব্দ চেয়েছিলে তাইতো মি.ভল্ক? কিন্তু কি বলোতো তোমার বিচ টা তোমার মতোই বোকা"।

__" ডোন্ট কল হার বিচ,শী ইজ নট আ স্লাট, শী ইজ মাই গার্ল, এন্ড আই লাভ হার"।

ভল্কর কর্কশ আওয়াজ ভেসে এলো মনিটরের ওপাশ থেকে।

ওর কথায় ঠোঁটের হাসি প্রসারিত হলো আদ্রিয়ান এর, যেন মাত্রই কোন মশকরা করেছে ভল্ক,

__" ওকে কিছু করোনা, আমরা একটা ডিলের মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে পারি, দরকার পরলে Bratva এর সাহায্যে ......

উদভ্রান্তের মতো কথা বলে যাচ্ছিল ভল্ক তখন হুট করেই ওর মুখের উপর কথা ছুড়লো আদ্রিয়ান,

__" তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো Bratva এর বস আমি, Bratva আমার কথায় চলে, ইভেন্ট Bratva এর কোন মাফিয়া বস ই আমার কথার বাইরে গিয়ে তোমাকে সাহায্য করতে আসবে না, কারণ তুমি রুলস ব্রেক করেছো, আমার টেরিটরিতে নিজের স্পাই পাঠিয়েছো"।

এবার সত্যিই ক্ষীণ হয়ে এলো ভল্কের গলার স্বর, সে খানিকটা কাহিল কন্ঠে আদ্রিয়ানকে অনুনয় করে বললো,

__" প্লিজ আদ্রিয়ান ওকে কিছু করোনা, যা প্রতিশোধ নিতে হয় আমার সাথে মোকাবিলা করো। আমি ওলগা কে সত্যিই ভালোবাসি"।

__" ভালোবাসি? একটা মাফিয়া বস হয়ে কি করে কাওকে ভালবাসতে পারো তুমি ভল্ক? তাও আবার সেটা নিজের শত্রুর সামনে জাহির করছো? সিরিয়াসলি"!

আদ্রিয়ান হাসলো, পরবর্তীতে মুখভঙ্গিমা গম্ভীর করে কঠিন গলায় বলে উঠল,

__" একজন মাফিয়া কোনোদিন কাউকে ভালোবাসতে পারেনা, কিন্তু তুমি বেসেছো। তাই তুমি অনেক দূর্বল ভল্ক, নিজের এই দূর্বল আত্মাটাকে নিয়ে আমার সাথে আর কখনো গেইম খেলতে এসোনা, নইলে এভাবেই মা'রা পর্বে"।

কথা শেষ করে এরিকের হাতে থেকে রিভলবারটা ছিনিয়ে নিয়ে পেছনের একটা গার্ডকে পয়েন্ট করে আচমকা গুলি ছুঁড়ল আদ্রিয়ান।

এরপর সামনে ঘুরে রিভলবারে থাকা সবকটা গুলি কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে পাস করে দিল সামনে বসে থাকা ওলগার মস্তিষ্কে।

এর এই আকস্মিক কর্মকান্ডে হতভম্ব সকলে, ভিডিও কলের ওপাশ থেকে ভল্ক রাগি গর্জন ভেসে আসছে, সে অনবরত চিৎকার করে আদ্রিয়ানকে কঠিন হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মূহুর্তেই আদ্রিয়ান রিভলবার থেকে গুলি ছুড়ে চোখের সামনে গোটা ম্যাকবুক টাই ভেঙে ফেললো। এরিক চট করেই কোমর থেকে আরেকটা গান বের করে সতর্ক অবস্থান নিতে নিতে আদ্রিয়ানকে শুধালো,

__" কি হলো হঠাৎ "।

আদ্রিয়ান ঘার ফুটিয়ে এদিকে ওদিকে সতর্ক দৃষ্টিপাত করে বলে,

__" ভল্ক যখন ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার সময় বারবার হাত নাড়িয়ে কাওকে মোর্স কোড বোঝাচ্ছিল, তখনই সন্দেহ হয়েছিল যে ওদের ব্যাকআপ প্লেন আমার পেছনেই রয়েছে। এরপর সন্দেহের পারদটা আরেকটু ঝালিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ওলগার পায়ের দিকে লক্ষ্য করলাম, এবং তখনি সিওর হলাম, শী ইজ অলসো আ মাফিয়া গার্ল, কারণ ওর পায়ে ইংরেজি অক্ষরে Bratva ট্যাটু করা ছিল, যেটা আমাদের সবার শরীরেই আছে"।

আদ্রিয়ান এর কথা শেষ হলেই তার ফোনটা বেজে উঠলো। সে প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে রিসিভ করে। অতঃপর কিছুক্ষণ পর 'আসছি' বলে ফোন কেটে দির্ঘশ্বাস ফেলে এরিকের দিকে তাকিয়ে বলে,

__" এখানকার সব কাজ কমপ্লিট করে,ওই বাসা থেকে নিদ্রাকে নিয়ে সোজা শেখ নিবাসে আসবে"।

__" হঠাৎ শেখ নিবাসে কেন"?

__" আমি কয়ফিয়ত দিতে পছন্দ করি না, যা বললাম তাই করো"।

বলেই আদ্রিয়ান বেরিয়ে গেল।

 
_____________>>>>>>>>>>>>_____________

ড্রয়িংরুম জুড়ে নিস্তব্ধতা ছেয়ে আছে। ড্রয়িংরুমের আবহাওয়া ভারি হয়ে আছে, কারো মুখে কোন টু শব্দটুকুও নেই। চারিদিকে শুধু ভারি নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে।সকলে যেন কারোর আসার অপেক্ষা করছে, সকলের মুখে ফুটে উঠেছে গম্ভীরতা। তাদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দরজা দিয়ে প্রবেশ করল আদ্রিয়ান। দরজার কাছে কারো পায়ের শব্দ হতেই সকলে সেদিকে তাকালো। আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। পর মূহুর্তে সেই হাসি মিলিয়ে গেল। সে কাঁদো কাঁদো ভাব করে উঠে দাড়িয়ে দৌড়ে গিয়ে আদ্রিয়ানকে জোড়িয়ে ধরে।

__" ও বেইবি, ইউ হ্যাভ অ্যারাইভড। জানো শ্বশুর মশাই বলছে আমি মিথ্যে কথা বলছি। তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়নি। সে নাকি আমাদের বিয়ে মানে না। তুমি সবাইকে বলে দাওতো আমি মিথ্যা কথা বলছি না, আই অ্যাম ইউর ওয়াইফ"।

আদ্রিয়ান তাজ্জব বনে যায়,সে আনাস্তাসিয়ার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাঁর দিকে তাকায়। হঠাৎ করে কি হলো তার যে সে এমন করছে। তাদেও কি এসব সত্যি না কি ড্রামা করছে সে? মতলব কি এই মেয়েটার? সে যখন স্পর্শ করতে চায় তাকে তখন যে মেয়ে রেগে যায় আর এখন কিভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। তার ভাবনা চিন্তার মধ্যেই আনাস্তাসিয়া তার বুকে থেকে মুখ উঠিয়ে মুচকি হেসে চোখ টিপ মারে। আদ্রিয়ান তা দেখে ভেবাচেকা খেয়ে যায়।

__" কি হলো বলো, সত্যিই কি তুমি এই মেয়েটাকে বিয়ে করেছো"?

__" ইয়েস আই ম্যারিড হার, শি ইজ মাই ওয়াইফ"।

আনাস্তাসিয়া এবার আদ্রিয়ানকে ছেড়ে সোজা হয়ে তার পাশে দাঁড়ায়। আদ্রিয়ান এর কথা তুলে আশরাফ শেখ খেপে যায়। সে রাগি কন্ঠে মৃদু চিৎকার করে বলে,

__""হ্যাভ ইউ লস্ট ইওর মাইন্ড? ডু ইউ রিয়ালাইজ হাউ ডেঞ্জারাস হি ইজ? হি ইজ আওয়ার বিগেস্ট এনেমি, ইয়েট ইউ ম্যারিড হিম। হি কুড হার্ম ইউ অ্যাট এনি মোমেন্ট। ডু ইউ নো দ্যাট?"

__""ইয়েস, আই নো হাউ ডেঞ্জারাস শি ইজ, বাট ওয়েদার ইউ অ্যাকসেপ্ট ইট অর নট, শি ইজ মাই ওয়াইফ নাউ, অ্যান্ড আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু হিয়ার অ্যানাদার ওয়ার্ড অ্যাবাউট ইট।"

__" আদ্রিয়ান.......

আদ্রিয়ান এবার বিরক্তি নিয়ে বলে,

__" চিৎকার করবেন না, চিৎকার করে কোন লাভ নেই তাই মুখ বন্ধ রাখুন তাতেই আপনার মঙ্গল"।

__" আদ্রিয়ান, বাবার সাথে এভাবে কেন কথা বলছো? এটা কেমন শিক্ষা তোমার, বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তা জানো না"?

হামিদুল শেখ এর কথা শুনে আদ্রিয়ান বিরক্তি নিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আনাস্তাসিয়া বলে উঠে,

__" স্টপ, স্টপ নয়েজ পলিউশন"।

আনাস্তাসিয়া একটু থেমে আবার মুচকি হেসে বলে,

__" শ্বশুর মশাই আপনার ছেলের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে, ছেলের বউ হিসেবে আমাকে তো আপনার কিছু দেওয়া উচিত তাই না"।

আনাস্তাসিয়া কথা শুনে আশরাফ শেখ ভ্রু কুঁচকে তাঁর দিকে তাকিয়ে বলে,

__" মানে কি বলতে চাইছো তুমি, আর কিছু দিবো মানে কি"?

ড্রয়িংরুমের সকলে আনাস্তাসিয়া দিকে তাকিয়ে আছে। সে এবার অবাক হওয়ার ভান করে মুখে হাত দিয়ে বলে,

__" এএএ বাবা আপনি জানেন না নতুন ছেলের বউ কে দেখলে কিছু দিতে হয়? আর কিছু না দিলে তখন সকলে আপনাকে কিপ্টা শ্বশুর বলবে, তখন আমার ইজ্জত বলতে কিছু থাকবে না, তখন আমি কি করে সকলকে মুখ দেখাবো"।

__" এতো ড্রামা না করে যা বলতে চাইছো সরাসরি বলো"।

আনাস্তাসিয়া এবার স্বাভাবিক ভাবে বলে,

__" বেশি কিছু না, আপনার সম্পত্তির ২০% আমার নামে লিখে দিন তাহলেই হলো"।

__" কি, তুমি কি আমাকে পাগল পেয়েছো আমি তোমার নামে আমার সম্পত্তি লিখে দিবো। মরে গেলেও আমি এই কাজ কখনো করবো না"।

আনাস্তাসিয়া এবার মুচকি হেসে বলে,

__" করবেন করবেন আপনি নিজে ভালোবেসে এখন এই মুহূর্তে আমার নামে আপনার ২০% সম্পত্তি লিখে দিবেন। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি"।

বলেই নিজের প্যান্ট এর পকেট থেকে ফোন বের করে আশরাফ শেখ এর কাছে এসে একটি ভিডিও বের করে তার সামনে ধরে। ভিডিওটির দিকে তাকিয়ে আশরাফ শেখ এর চোখ বড় বড় হয়ে যায়। সে শুকনো ঢোঁক গিলে, তার কপাল বেয়ে ঘাম পরছে থাকে।

ভিডিওটিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে আশরাফ শেখ এর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও। তিনি আর একটি যুবতী মেয়ে একসাথে এক বিছানায় এসব দেখে তার শরীরে রক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়। এই মেয়ে তাদের এই ভিডিও করলো কখন সে বুঝতে পারছেনা। যদি কেউ যেনে যায় তখন কি হবে। আনাস্তাসিয়া তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,

__" কি শ্বশুর মশাই সবাইকে দেখিয়ে দেই, সবাই দেখুক রাশিয়ার টপ বিজনেস ম্যানদের একজন কিভাবে তার পুরুষত্ব দেখাচ্ছে। বিশেষ করে আপনার ছেলেকে তো দেখাতেই হবে, তার বাবা তার জন্য নতুন মা'র নতুন ভাই বোন এর ব্যাবস্থা করছে"।

আশরাফ শেখ এবার আরো ভয় পেয়ে যায়। কোন ভাবে এইসব কিছু কাওকে জানতে দেওয়া যাবেনা। তাহলে তার এতো বছরের কামানো রেপুটেশন মান সম্মান সব ধূলোয় মিশে যাবে।আর আদ্রিয়ান সে জানলে তো আর সব প্ল্যান ভেস্তে যাবে। এমনিতেই তাঁর ছেলে তার কথা শুনে না এর পর তো আরো শুনবে না। আনাস্তাসিয়া তার দিকে তাকিয়ে ডেভেল স্মাইল দিয়ে লেনিকে ইশারা করে। লেনিকে ইশারা করতেই সে কিছু পেপার্স আনাস্তাসিয়ার দিকে এগিয়ে দেয়। আনাস্তাসিয়া পেপার্স গুলো নিয়ে আশরাফ শেখ এর সামনে ধরে। আশরাফ শেখ কোন উপায় না পেয়ে পেপার্স গুলো নিয়ে টেবিলের উপর রেখে কয়েকটা শুকনো ঢোঁক গিলে কাঁপা কাঁপা হাতে সাইন করে দেয়। আনাস্তাসিয়া বাঁকা হেসে পেপার্স গুলো এক টানে নিয়ে তা ভালো ভেবে একবার দেখে নেয়। অতঃপর এক গাল হাসি নিয়ে বলে,

__" ও শ্বশুর মশাই আপনি আমাকে এতো ভালবাসেন যে আপনার সম্পত্তির ২০% আমার নামে করে দিলেন, আমি আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দিব বুঝতে পারছি না"।

আশরাফ তার দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকায়। নিজে তাকে বাধ্য করে তার সম্পত্তি নিজের নামে এখন নাটক করা হচ্ছে। আবার বলছে তাঁকে নাকি সে ভালোবাসে, ভালোবাসে না ছাই সে পারলে এখনি এই মেয়েটিকে সে মেরে ফেলতো। আনাস্তাসিয়া তার হাতের পেপার্স গুলো লেনির কাছে দিয়ে, দুই হাত দিয়ে আদ্রিয়ান এর গলা জড়িয়ে ধরে।

__" চলো বেইবি রুমে চলো, শ্বশুর মশাইকে জলদি দাদা বানাতে হবে তো। কখন আবার বুড়োটা টপকে যায় ভরসা নেই তাকে দিয়ে, তখন আমাদের বাচ্চা গুলো দাদার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবে, এ আমি মা হয়ে কি করে মেনে নেব বলো"?

আনাস্তাসিয়ার কথা শুনে হামিদুল শেখ এর কাশি উঠে যায়। বলে কি এই মেয়ে, লাজ লজ্জা বলতে কিছু নেই বড় দের সামনে এসব কেউ বলে। আদ্রিয়ান মুচকি হেসে তাকে কোলে তুলে নিয়ে রুমে যাওয়ার জন্য সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। সকলে আনাস্তাসিয়া দের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,

__" নাইস প্ল্যান, ইউ আর ভেরি স্মার্ট"।

__" আই নো, তুমি আমার যা ক্ষতি করেছো আমি তোমার বাবার কাছ থেকে তার দ্বিগুণ অশুল্ক করেছি, মনে রেখো আনাস্তাসিয়া কখনো লস মেনে নেয় না"।

আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে বেডরুমে নিয়ে এসে দরজা বন্ধ করে তাকে কোল থেকে নামিয়ে দেয়। আনাস্তাসিয়া কোল থেকে নেমে রুমের চারিপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। সাদা আর ছাই রঙের কম্বিনেশনে তৈরি বেশ বড়সড় একটি রুম। তা দেখে আনাস্তাসিয়া বিরবির করে বলে,

__" নাইস রুম"।

অতঃপর আদ্রিয়ান এর দিকে তাকাতেই দেখতে পেল সে তার দিকে ছোট ছোট চোখ করে ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে তাকিয়ে আছে। তা দেখে আনাস্তাসিয়া জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকাতেই সে এক পা দুই পা করে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। আনাস্তাসিয়া ও ধীরে ধীরে পেছনে যেতে থাকে। আদ্রিয়ান সামনে এগোতে এগোতে বলে,

__" তাহলে প্রসেসিং শুরু করা যাক"।

আনাস্তাসিয়া কয়েকটা শুকনো ঢোঁক গিলে বলে,

__" কিসের প্রসেসিং"?

আদ্রিয়ান এবার আনাস্তাসিয়ার কোমর শক্ত করে চেপে ধরে তার সাথে মিলিয়ে নেয়। আদ্রিয়ান এর মাথা একটু ঝুঁকে থাকার কারণে তার গরম নিঃশ্বাস আনাস্তাসিয়ার মুখের উপর পরছে। আদ্রিয়ান এর কড়া পারফিউমের ভেনিলা ফ্লেভারের মিষ্টি ঘ্রাণ তার নাকে এসে লাগছে।সে দীর্ঘ একটি নিঃশ্বাস টেনে নিল নিজের ভেতরে। অতঃপর আদ্রিয়ান বললো,

__" বাচ্চা ডাউনলোড করার"।

আদ্রিয়ান এর কথা শুনে আনাস্তাসিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। অতঃপর কিছু একটা ভেবে ঘুরে আদ্রিয়ানকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে তার উপর উঠে বসে। আদ্রিয়ান তা দেখে বাঁকা হেসে দুই হাত দিয়ে আনাস্তাসিয়ার কোমর পেঁচিয়ে ধরে তার দিকে আরেকটু টেনে নেয়। আনাস্তাসিয়া তার প্যান্টের পকেট থেকে একটি কালো ফিতা বের করে। তা দেখে আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে শীতল কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,

__" এটা কেন বেইবি"?

আনাস্তাসিয়া তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,

__" ডার্ক রোমান্স........

অতঃপর ফিতাটি আদ্রিয়ান এর চোখে উপর রেখে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসে। আদ্রিয়ান পরম আবেশে চোখ বন্ধ করে নেয়। এভাবে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকার পর যখন দেখলো কিছুই হচ্ছে না। তার উপর কেমন হালকা হালকা লাগছে, হাত গুলো নারাতে পারছে না তখন চোখ খুলতেই দেখলো আনাস্তাসিয়া তার উপরে নেই, তার হাত পা মুখ সব বাধা। সে অনেক কষ্টে উঠে বসে রুমের চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখলো, আনাস্তাসিয়া দরজার কাছে চেয়ার নিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বাঁকা হেসে তার দিকে তাকিয়ে আছে। অতঃপর আনাস্তাসিয়া নিজের ফোন বের করে কিছু একটা করতেই তা থেকে অদ্ভুত শব্দ বের হতে লাগলো। তা শুনে আদ্রিয়ান এর চোখ বড় বড় হয়ে গেল, সে কয়েকটা ঢোঁক গিলে গলা ভিজিয়ে নেয়। এতো জোরে শব্দ গুলো হচ্ছে যে তা রুমের বাহিরে পর্যন্ত যাচ্ছে। বাহিরে থেকে যে কেউ শব্দ গুলো শুনলে ভাববে ভেতরে কারোর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের চলছে, কি অশ্রিল সব আওয়াজ। আদ্রিয়ান ছোটার জন্য মচরামুচরি করতে লাগলো কিন্তু শক্ত করে বেঁধে রাখার জন্য কোন লাভ হলো না। আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে তাকে দরজার দিকে তাকাতে ইশারা করলো। আদ্রিয়ান ইশারা অনুযায়ী দরজার দিকে তাকাতেই দেখতে পেল দরজার নিচ দিয়ে কারোর ছায়া দেখা যাচ্ছে। অতঃপর সে আর নরাচরা না করে চুপচাপ শুয়ে পরলো।

কিছুক্ষণ পর দরজায় কেউ এসে নক করতেই আনাস্তাসিয়া ফোন অফ করে দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলতেই দেখতে পেল আমান হাতে একটা প্যাকেট নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমান প্যাকেট তার হাতে দিয়ে ঘরের ভেতর উঁকি মেরে জিজ্ঞেস করে,

__" এমন আওয়াজ কোথা থেকে হচ্ছিল"?

আনাস্তাসিয়া তার হাতের ফোন উঠিয়ে তার সামনে ধরে মুচকি হাসে। আমান তার মাথায় হাত দিয়ে চুল এলোমেলো করে দিয়ে বলে,

__" পাগলি একটা, এখন ঘুমা তার আর আসবে না"।

বলেই সে চলে গেল, অতঃপর সে দরজা লাগিয়ে প্যাকেট খুলে নিজের জামাকাপড় বের করে ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করে এসে শুয়ে পরে। আদ্রিয়ান কে সারা রাত বাঁধা অবস্থায় থাকতে হয়।

সকালে ঘুম ভাঙতেই আশরাফ শেখ হামিদুল শেখ উঠে ড্রায়নিং টেবিল আসতেই দেখে পুরো টেবিল ফাঁকা। কোনো নাস্তার আয়োজন করা হয়নি আর আনাস্তাসিয়া টেবিলে উপর পা তুলে আরাম করে চেয়ারে বসে আপেল খাচ্ছে। তা দেখে আশরাফ শেখ বাড়ির কাজের মুহিলাকে ডেকে এখন নাস্তা বানানো হয়নি জিজ্ঞেস করতেই আনাস্তাসিয়া বলে,

__" আজ কেউ রান্না করবে না"।

__" মানে"?

__" আজ আপনারা দুজন আমাদের সকলের জন্য রান্না করবেন"।

আশরাফ শেখ রেগে গিয়ে বললেন,

__" মানে কি? তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে, আমরা কেন রান্না করবো? আর রান্না করা মহিলাদের কাজ পুরুষ মানুষের না"।

__" আহা শ্বশুর মশাই আজকাল মহিলা আর পুরুষ মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, সবাই সমান সমান, নারীরা যা করতে পারে একজন পুরুষ মানুষ ও তা করতে পারে, আপনি ও পারবেন"।

__" আমি রান্না করতে পারবো না"।

আনাস্তাসিয়া এবার শয়তানি একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বলে,

__" তাই বুঝি, তাহলে ভিডিওটা সকলকে দেখিয়ে দেই"।

বলেই ফোনের দিকে ইশারা করলো। আশরাফ শেখ এর পুরো শরীর রাগে রিরি করে উঠছে। সে দাঁতে দাঁত চেপে সবকিছু মুখ বুঝে সহ্য করে নিয়ে হামিদুল শেখ কে কিছু বলতে না দিয়ে তাকে নিয়ে কিচেনে চলে যায়। আনাস্তাসিয়া তা দেখে মুচকি হেসে আপেলে আরেকটা কামড় বসায়।

( চলবে....)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন