ফন্ট সাইজ:
থিম:
অতিরিক্ত চাওয়া

৩য় পর্ব

লেখক: নাবিলা ইস্ক

অতিরিক্ত চাওয়া 🔥

নাবিলা ইষ্ক

পর্ব : ৪+৫

অতপরঃ কি আর করার স্যার যাচ্ছে আর আমি তার পেছন পেছন। মে বি আমি স্যারের বুকের একটু নিচে পরবো লম্বায়। বুঝাই যাচ্ছে। কি লম্বা স্যারটা। স্যার আমায় অফিস রূমে নিয়ে যাচ্ছে.. যেখানে সকল স্যার ম্যাডাম বসে আড্ডা দিচ্ছেন। আমি কিছু বলতেও পারছি না? যে ওখানে কেনো নিচ্ছেন...?

স্যার অফিস রূমে ঢুকলেন আমি গেটের কাছেই দাঁড়িয়ে। স্যার আমার সামনে এসে বললেন...

" হোয়াট..? কাম!

আমি পিছু পিছু যেতে লাগলাম। রূমে প্রবেশ করতেই সকলকে সালাম দিলাম! বড় এক ট্যাবিলের চেয়ারে বসে স্যারেররা ব্রেকফাস্ট করছেন। অন্যএকটি ট্যাবিলে স্যার একটি বক্স রেখে সামনে বসলেন আর আমায় দ্বিতীয় পাশে বসতে ইশারা করলেন...

আমি মাথা নিচু করে বসলাম। স্যার তার হাতের টিফিন বক্স আমার দিক দিয়ে বললেন...

" পুরো ফিনিস করো....!

আর আমার হাতের টিফিন বক্স নিয়ে খুলে খেতে শুরু করলেন। আশেপাশের টিচাররা আড়চোখে তাকাচ্ছেন। মরিয়ম ম্যাডাম তো জিজ্ঞাস করেই বসলেন...

" তৃষ্ণা স্যার... বেলিকে এখানে আনলেন যে?

স্যার খেতে খেতেই শান্ত গলায় জবাব দিলেন....

" খেতে চাচ্ছিলো না!

কেউ আর কিছু বলল না। আমি বক্স খুলছিলাম না, দেখে স্যার আবারো খেতে খেতে বললেন...

" খাচ্ছো না যে..?

আমি নিম্ন স্বরে বললাম.." স্যার আমি ক্যান্টিন থেকে খেয়ে নিতে পারতাম!

" চুপচাপ খেতে থাকো!

ভয় পেলাম স্যারের এতো ভাড়ি আওয়াজে। কবে জেনো আমি মাড়াই যাই হার্টফ্যাল করে!

আমি বক্স খুলে দেখি...বিরিয়ানী। আমায় আর পায় কে? মন খুলে খেতে শুরু করলাম। আশেপাশে কি হচ্ছে, না হচ্ছে দেখার টাইম নেই। হঠাৎ তালুতে উঠে গেলো খাবার...!

স্যার তো চিল্লিয়ে উঠলো....

" ইউ... [ তাড়াতাড়ি পানির বটেলের মুক্ষা খুলে এগিয়ে দিলো আমি ডগডগ করে খেয়ে ফেললাম। ] খাবার তো কেউ নিচ্ছে না? ধীরে ধীরে খাও। ঠিকাছো?

" জি...!

আমি আবারো খেতে শুরু করলাম। স্যারের দিক তাকাতেই দেখলাম স্যার আমায় দেখছিলেন মে বি। আমি তাকাতেই স্যার খেতে শুরু করলেন। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে এইটা স্যারের খাবার! আর আমি সব খেয়েই যাচ্ছি।

আমি কাদো কাদো গলায় বললাম..

" স্যার? আম সরি আপনাকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি। আমি চামিচ দিয়ে খাচ্ছিলাম খাবার নষ্ট হয় নি। আপনি কি খাবেন?

কথাটা বলেই বেয়াক্কাল হয়ে গেলাম। আমার ছানা খাবার স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম। মাথা নিচু করে আবারো খাচ্ছি। হঠাৎ স্যারের কথায় স্যারের দিক তাকালাম...

" লাষ্টে কিছু খাবার রেখে দিয়ো।

আমি মাথা নাড়ালাম। কিছু খাবার কি ফালানোর জন্য রাখবো। আজিব? আমি কিছু খাবার রেখে দিলাম। আহ পেট ভড়ে গেছে?

" স্যার হয়েছে।

" পেট ভরছে..?

" জি।

" যাও দেড়ি হচ্ছে ক্লাসের জন্য।

" স্যার আসসালামুয়ালাইকুম।

আমি দিলাম দৌড়। আশেপাশে না দেখেই দৌড়িয়ে যাচ্ছিলাম হঠাৎ টিফিন বক্সের কথা মনে পড়তেই আবার অফিস রূমের দিক যাবো, তখনি জানালায় চোখ পড়তেই দেখলাম স্যার বিরিয়ানী খাচ্ছেন। তাও সেম চামিচ আর সেম বাটি যেভাবে রেখে আসছিলাম। স্যার চোখ বুঝে খাচ্ছেন। আমার কষ্ট লাগলো অনেক। মে বি স্যারের প্রচন্ড ক্ষুদা পেয়েছিলো। আর আমি সব খেয়ে ছাবার করে দিলাম।

ক্লাসে চলে এলাম। ৩ টা ক্লাস করে লাষ্ট ক্লাস ছিলো তৃষ্ণা স্যারের। আমি আর হাসান ড্রইং করছিলাম তখনি স্যার প্রবেশ করলেন। দাড়িয়ে সালাম জানালাম? স্যার বসতে বললেন।

বসেও আমার শরীর থেকে ঘাম ঝড়ছে। আজ আমি পড়া পারি না! সাথে হোমওয়ার্ক ও করি নি। পড়া না পারলে হোমওয়ার্ক কিভাবে করবো। ক্যাপ্টেন খাতা উঠানো শুরু করেছে। আমার রোল ৪, সেই হিসেবে পড়া না পারলে, অনেক হ্যানোস্তা হতে হয়।

খাতা উঠানোর সময় আমার খাতা না থাকায় দাড়াতে হয়েছে। হাসান বসে ছিলো ও খাতা এনেছে। এদিক_ওদিক তাকাচ্ছি দেখলাম মাত্র ৫ জন দাড়িয়েছে। প্রচন্ড ভয় করছে। স্যার খাতা চেক করে প্রথম ব্যাঞ্চ থেকে পড়া ধরা শুরু করলেন। পড়া না পাড়ায় ৫ টা দু'হাতে বাড়ি দিচ্ছেন কাঠের স্কিল দিয়ে।

লাষ্ট বেচে আসতেই বলে উঠলেন....

" খাতা আনো নি কেন?

" স্যার পড়া...

আমাকে বলতে না দিয়ে স্যার বলে উঠলেন...

" নো এক্সকিউজ... হাত পাতো?

আমি চোখ বন্ধ করে দু হাত এগিয়ে দিতেই টাস, টাস আওয়াজ এলো পাচটা। তখন মনে হচ্ছিলো হাত দিয়ে রক্ত বেড়চ্ছে।

আমি আর স্যারর দিক তাকাই নি। নিচে তাকিয়েই রয়েছি...

" পড়া বলো...?

আমি চোখ_মুখ খিচে মাথা নাড়িয়ে বললাম...

" পারি নাহ...!

বলেই হাত পেতে দিলাম। চোখ ভিতরে ঢুকিয়ে ঠোট চেপে ধড়েছি। এভাবেই হাত জলে যাচ্ছে এখানে আবার মাড়লে আমি আজ মড়েই যাবো...!

তখনি আরো ৫ টাহ দু ' হাতে পড়লো। মনে হচ্ছিলো কেউ কাটা যায়গায় লবন ছিটিয়ে দিয়েছে! চোখে পানি টপ টপ করে ঝড়ছে!

" বসো...! কাল থেকে জেনো পড়া আর হাতের লেখা মিস না হয়।

আমি মাথা নাড়াতেই স্যার অন্যসাইডে গেলেন। আর আমি হাসানের দিক ঘুরে লুকিয়ে ফুপিয়ে কেদে উঠলাম। বড্ড ব্যাথা করছে। হাসান আমার চোখ পুছিয়ে দিচ্ছে আর বলছে...

" কাদিস না বেলি...

আমার তো জান বেড়িয়ে যাচ্ছে ব্যাথায়। বোতল খুলে হাতে পানি দিলো হাসান। আমার ব্যাথা মনে হচ্ছে আরো বাড়ছে। লাল লাল হয়ে আছে যেই প্লেসে স্কেল লেগেছে! আমি ভালো ভাবে চোখ মুখ মুছে নিলাম। স্যার পড়াতে শুরু করলেন আর আমি বুঝার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম।

স্যারের ক্লাস লাষ্ট ছিলো ঘন্টা দিতেই ব্যাগ গুছানো শুরু করলাম। বাট হাতের ব্যাথায় বই গুলিও ধরতে পারছিলাম না! হাসান আমার ব্যাগ গুছিয়ে কাধে দিয়ে দিলো! এখনও চোখ মুখ ফুলা!

আমি হাসান কথা বলতে বলতে বেড়িয়ে আসলাম। গেট দিয়ে বেড়িয়ে আসবো তখনি স্যারের আওয়াজ পেলাম। আমি ঘুড়ে দাড়ালাম বাট তার দিক তাকাই নি। সালাম দিয়ে মাথা নিচু করে রাখলাম। বড্ড অভিমান লাগছিলো জানি না কেনো? বাট তিব্র কষ্ট হচ্ছিলো। হাত গুলি এখনো জলছে। সবাইকে মেড়েছে কেউ কাদে নি কিন্তু আমি কেদেছি কারন আমায় অনেক জড়ে মেরেছে। আওয়াজ ও অনেক হয়েছিলো। এভাবে স্যার কখনও মাড়েন নি! আজ মেড়েছেন তাও এতো?

" টিফিন বক্স নাও...

আমি হাত পেতে দিলাম বক্স দেওয়ার জন্য। বাট স্যার দিচ্ছিলেন না। মে বি আমার হাতের দিক তাকিয়ে ছিলেন..? স্যার দিচ্ছিলেন না দেখে আমি বললাম...

" স্যার... বক্স?

স্যার কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে হাসানের হাতে বক্স দিয়ে চলে যাচ্ছেন। আমি তো হাত পেতে রেখেছিলাম। হাসান বলল...

" দে ব্যাগে ঢুকিয়ে দি। আর শুন বাসায় গিয়ে হাতে বরফ লাগাস। দেখ লাল লাল হয়ে আছে। আর হাতটা ফুলেও গেছে অনেকখানি।

ব্যাথাটা মনে হতেই তীব্র কষ্ট হচ্ছে! হাটতে হাটতে চলে এলাম বাসায়...

" মা আমি এসে পড়েছি...?

মা রান্নাঘর থেকে জবাব দিলেন....

" রূমে গিয়ে কাপড় চেঞ্জ করে গোসল করে নে।

" জি।

আমি রুমে গিয়ে ব্যাগটা রেখেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। চোখ বুঝতেই সেই ভয়াবহ দৃষ্য... ঠাস, ঠাস বাড়ী গুলি। স্যারের পড়া না পারলে আমি আর কখনো স্কুলে পা রাখবো না।

গোসল করে নিলাম। হাতটা জলছে এখনো। পানি ধরায় আরো তিব্র হয়েছে ব্যাথাটা। দুপুরের খাবার মায়ের হাতেই খেলাম। নিজের হাত আর দেখায়নি।

ঘুম দিলাম চোখ খুলতেই দেখলাম পাশে আম্মু_আব্বু আর ডাক্তার আংকেল! আমাকে জাগতে দেখেই আম্মু বকাবকি শুরু করে দিলো!

" গায়ে এতো জর কিভাবে আসলো? হুহ? দেখতো মুখের কি অবস্থা হয়েছে! আর এই হাতের অবস্থা এমন কেন? কি হয়েছে হাতে?

আমি আর কিছুই বললাম না! প্রচন্ড খারাপ লাগছিলো! রাত ৮ টা বাজতে চলল! এতোগুলো ঔষধ খেয়ে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগলাম! বাবা আমার হাত ধরে বসে আছেন!

সকালে আর স্কুল গেলাম না! ব্যাথাটা তীব্র হওয়ায় রাত্রে প্রচন্ড জড় এসেছিলো! এখন অনেকটা ভালোই লাগছে! বাট অতোটা না! কেমন মাথাটা ভাড়ি ভাড়ি লাগছে! ১২ টার দিক মা চিল্লাতে শুরু করলো..

" বেলি, বেলি! তোর টিচার আসবে তোকে দেখতে!

কথাটা শুনতেই আমি লাফ দিয়ে বাহিরে আসলাম!

" কে আসবে মা?

" তৃষ্ণা স্যার আসবে!

" মা! স্যারও আসলে তুমি খাইয়ে পাঠিয়ে দিয়ো! আমার শরীর একদম ভালো লাগছে না! ঘুমুবো!

কথাটা বলেই ঘুমুতে চলে গেলাম! কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পরেছি! মা অনেকবার ডেকেছেন! বাবাও ডেকেছেন, কিন্তু আমি ঘুমিয়েই ছিলাম!

সকালে উঠতেই মা বলল..

" স্কুল যাবি?

" নাহ মা! কাল থেকে যাবো!

ফ্রেস হয়ে ছাদে অনেক্ষণ ঘুরলাম! এখন অনেকটা ভালো লাগছে! শরীরের কৌতুহলটা আর নেই!

শুনেছিলাম মা য়ের থেকে স্যার আমাকে একবার দেখার কথা অনেকবার বলেছেন! হাতটা এখনও কেমন জানো দেখাচ্ছে!

চলবে.......

অতিরিক্ত চাওয়া 🔥

নাবিলা ইষ্ক

পর্ব : ৫

সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চলল! স্যার নাকি বাবাকে ডায়রেক্টলি বলে দিয়েছে আমায় পড়তে যেতে! যাওয়ার ইচ্ছা না থাকতেও যেতে হবে!

আজ মা স্যারের এই মাসের বেতনও সাথে দিয়েছে। মাস সেষের দিক তাই মে বি দিয়ে দিয়েছে। আমি একটা ড্যারিমিল্ক কিনে খেতে খেতে স্যারের বাসায় পৌছালাম।

আজও আমি তাড়াতাড়ি এসেছি । দরজার কাছে কারো জুতো নেই...! এখন সবার আগে পৌছালে স্যার বকা দেবেন তাই দরজার কাছে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম! কেউ এখনও আসছে না কেন?

আমি ভিতরে ঢুকে ট্যাবিলে বসে পড়লাম। কিছুক্ষণ পড়াগুলি দেখলাম। স্যার না আসায় আমি রূমের দিক উঁকি দিলাম। না স্যার নেই?

আমি কৌতুহল নিয়ে বই যেখানে থাকে সেখানে চলে এলাম। সেই রূমটা অন্ধকার। লাইটের সুইচ খুজছিলাম... কিন্তু পাচ্ছি না। স্যারের ডায়রিটা আর সেই যায়গায় নেই...

নিচু হবো তখনি কারো স্পর্শ পেলাম! কেউ পিছন থেকে আমার দু হাতের কবজি ধরলো! আমি জড়েই চিৎকার দিয়ে উঠলাম.......

" স.. স্যার.....?

অজানা ব্যাক্তি আমার মুখ চেপে ধরলো। হঠাৎ কানে আওয়াজ আসলো.....?

" শিশশশ! ডোন্ট সাউন্ড!

আমি ভয়ে চুপ হয়ে রইলাম। ধীরে ধীরে আমায় তার দিক ঘুড়িয়ে নিলো। আমি তাকিয়ে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলাম না! তাও অচেনা ব্যাক্তিকে দেখার চেষ্টা করা ছাড়লাম না!! ভয়ে আত্তাসহ লাফাচ্ছে আমার!

" হু....হু আর ইউ? আমি কিন্তু স্যারকে বলে দেবো?

অজানা ব্যাক্তি কিছুই বলল না। আমার হাত দুটি ধরে উঁচু করতে লাগলো... সাডেনলি হাতে নরম ঠোঁটের স্পর্শ পেলাম। দু 'হাতের তালুতে চুমু খেয়েই যাচ্ছে অসংখ্য। আমি হাত ছুটানোর চেষ্টা করছি! কিন্তু, সে আরো টাইট করে ধরে চুমু খাচ্ছে...

আমি কাদো কাদো গলায় বললাম.....

" ভ...ভুত..?

সে আমার হাত দুটিতে টাইট করে দুটো চুমু খেয়ে ছেড়ে দিলো। হঠাৎ দু গালে হাতের স্পর্শ পেলাম " সে আমার দু গালে হাত রাখলো! হাতে হয়তো কিছু বেধে দেওয়া আছে! মে বি ব্যান্ডেজ! .. ব্যাক্তির ভয়েস শুনতে পেলাম...

" আম সরি পিচ্চি পাখি...!

আম রিয়েলি সরি....!

আই নো আম গেটিং ক্রেজি। ওল বিকজ ফর ইউ।

ব্যাক্তির ভয়েস অনেকটা স্যারের মতো শুনতে। কিন্তু আমার বিশ্বাস ই হচ্ছে না। সে আমার কপালে চুমু খেয়ে উধাও হয়ে গেলো হয়তো? আর কোনো আওয়াজ বা স্পর্শ পাচ্ছিলাম না।

হঠাৎ লাইট জলতেই সামনে তাকাতেই দেখলাম স্যার....

" এখানে এই অন্ধকারে কি করছো...?

আমি ঘেমে একাকার। ছিঃ কি ভেবেছিলাম? স্যার কেনো হতে যাবেন। আল্লাহ মাফ করো? তাহলে কে ছিলো...?

" ব...বই পড়তে এসেছিলাম।

" যাও ট্যাবিলে গিয়ে বসো।

আমি মাথা নিচু করে স্যারকে সালাম দিয়ে নিজের যায়গায় বসলাম। পড়া মাথায় ঢুকছিলোই না। শুধু সেই কাহিনী মনে উকি দিচ্ছে। হঠাৎ পাশের নাইন এর আপু বলে উঠলো..

" স্যার আপনার হাতে কি হয়েছে? এতো বড় ব্যান্ডেজ কেনো?

আমিও সাথে সাথে খেয়াল করলাম! স্যার জবাবে মুচকি হেসে নিজের পড়ানোতে মনোযোগ দিলেন! কিন্তু আমার মনোযোগ সেই অদ্ভুত কাহিনীতে!

বাসায় এসেও মাথায় সেই টেনশান...! কে ছিলো? কি ছিলো? সত্যি ছিলো? না, মিথ্যা?

ডিনার করে মাত্র বেডে বসলাম! অনলাইনে ঢুকতেই কারো মেসেজ পেলাম। নাম ছিলো...

" ক্রেজি হান্টার...!

আমি লোকটার আইডিতে ঢুকে শুধু একটা স্ট্যাটাস ই পেলাম....

" পিচ্চি পাখি..

আম সরি ফর হোয়াট আই ডিড!

সাথে সাথেই মনে পরলো অন্ধকারের লোকটার কথাটা...

" আম সরি পিচ্চি পাখি...!

আমি সাথে সাথে ইনবক্সে গেলাম! ইনবক্সে গিয়ে দেখলাম.. " এই বয়সে ফেসবুক একাউন্ট ও খুলেছো?

আমি মেসেজ দেখেই ভয় পেয়ে গিয়েছি। কাপা কাপা হাতে রিপ্লায় দিলাম....

" আপনি কে?

" ভুত?

" স্যারের বাসার ভুত?

" নোপ নিউ ভুত?

" নতুন ভুত?

" হুম শুধু তোমার জন্য এই ভুতের জন্ম।

" আপনি কি আমায় চিনেন?

" কেনোহ?

" আপনি স্ট্যাটাস টা কার জন্য লিখেছেন?

" যদি বলি তোমার জন্য?

" নাহ আসোলে আপনি কথাটা ২ ঘন্টা আগে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। কেউ একজন আমায় এই কথাটা বলেছিলো হয়তো?

" বলেছে তো বলেছে। আর কয়টা বাজে?

" ১১ টা..?

" এখনও অনলাইনে কি? আমি ছাড়া আর কারো সাথে মেসেজ করবে না। যাও ঘুমাও!

কি আজব.. চিনি না জানি না? হুকুম দিচ্ছে আমায়। আমারও ঘুম পাচ্ছে তাই ঘুমানোর প্রচেষ্টা করতে লাগলাম!

এভাবেই চলতে লাগলো আমার দিনকাল। ধীরেধীরে ভুলে গেলাম সেদিন অন্ধকারে কারো ঠোঁটের স্পর্শ। মাঝে মাঝে টাইপিং হতো অচেনা "ক্রেজি হান্টার " এর সাথে। মা _বাবা, পড়ালেখা... আর বিকেলের খেলাদুলা.. এগুলো দিয়েই পার হয়ে গেলো J, S, C! যত্ন করেই পরিক্ষার হলে নিয়ে যেতেন, নিয়ে আসতেন আব্বু। আর স্যার তো বুঝিয়ে দিতেন প্লাস দু বেলা পড়াতেন।

১ মাসের মতো স্যারের বাসায় আর পড়তে যাওয়া হয় নি। ছাদে খেলতাম যখন তখন প্রায়ি স্যারকে দেখতাম বারান্দার রেলিং ধরে এখানেই তাকিয়ে থাকতেন। রেজাল্টের দিন আসলো....

আমি তো প্রচন্ড ভয়ে ছিলাম। হাত পা কাপতেছিলো। জানতে পারলাম....

" 4 :89 পেয়েছি।

খারাপ লেগেছিলো প্রচন্ড বাট তাও?

9 এ ভর্তি হলাম৷ ক্লাস এটেন্ড করা শুরু করলাম। ধীরে ধীরে কেমন এক ম্যাচুরিটি ফিল আসতেছে গায়ে৷ আলাদা ফিলিং টানতো মনে। বান্ধুবিদের প্রেমিয় আলাপ শুনলে। কিছু মেয়ে ফ্রেন্ড ও হয়ে গেলো নাইনে। হাসান ও রিলেশন এ জড়ালো নিম্মির সাথে। মাঝে মাঝে আমারও ইচ্ছে হতো একটা প্রেম করার বাট বাবার কথা চিন্তা করে আর এগুলোর মধ্যে নিজেকে জড়াইনা।

প্রাইভেট এ যাওয়া শুরু করলাম। হাসানদের সাথেই মিলে পড়ি। আগে জানি না বাট কিছুদিন যাবত আমার স্যারের চাহনীয় কেমন জেনো লাগে। নেশীয় কোনো পদার্থ সামনে থাকলে চোখ যেমন দেখায় ঠিক তেমন। স্যার কখনো আমার চোখের সাথে চোখ মিলাতেন না। সদা আমায় এড়িয়ে চলতেন। যেটা আমার কাছে আজকাল প্রচন্ড যন্ত্রনাদায়ক। বুকে তিব্র কষ্ট হয় স্যারের ব্যবহারে। আমার ব্যচের সব মেয়েদের সাথে স্যার হাসিখুশি কথা বলেন শুধু আমায় বাদে। সব কপাল..?

কখনো ক্লাসে হঠাৎ স্যার দাড় করিয়ে মারতেন। কেনো মাড়তেন? কিছুই করতাম না আমি।

ধীরে ধীরে দিন যেতে লাগলো আমিও বড় হতে লাগলাম। ১০ম শ্রেনীতে উঠে এলাম। এখন দিনকাল অন্যরকম যায়..!ফ্রেন্ডসদের সাথে মজা_মাস্তি হাসিঠাট্টা। প্রপোজ তো পেলাম অনেক কিন্তু মনের মতো ছিলো না।

আজ ক্লাসে নিম্মি আমি আর হাসান এক বেঞ্চে একসাথে বসেছি। মধ্যে আমি আর দুই সাইডে প্রেমিক_প্রেমিকাকে বসিয়েছি। নাহলে ওদের প্রেমিয় আলাপে আমার কান ফালাফালা হয়ে যাবে।

তৃষ্ণা স্যারের ক্লাস তাই আমি আর কোনো কথা বলবো না। কারন স্যার আমায় এভাবেই পছন্দ করেন না? দেখতে পারেন না। হাসান আর নিম্মি দুজন তো ফিসফিসানো আওয়াজে কথা বলেই যাচ্ছে। স্যার অনেকবার চোখ রাংগিয়ে তাকিয়েছে।

আমি লিখছিলাম হঠাৎ হাসান নিম্মিকে কিছু বলার জন্য আমার গায়ের সাথে অনেকটা ঝুকে ছিলো আর আমি নিম্মির দিক সাইডে চাপতে নিচ্ছিলাম তখনি জড়ে এক আওয়াজ....

" ঠাস....!

থাপ্পড়টা আমার গালে পড়েছে তাও স্যার মেড়েছেন। পুরো ক্লাসের ছেলে_মেয়ের সামনে। আমি গালে হাত দিয়েই দাড়িয়ে পরলাম। আমার এখন প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। সবাই আমার দিকে ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে। স্যার আমার দিকে তার হাতে থাকা চকটা ছুড়ে মাড়লেন। ডাষ্টার হাতে নিয়ে চলে গেলেন ক্লাস থেকে। তখনো ক্লাসের ২৫ মিনিট বাকি ছিলো। স্যার যেতেই সবাই হাসাহাসি শুরু করে দিলো। আমি তো বুঝতেই পারলাম না থাপ্পড়টা কেন মারলো....? 😖

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন