ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের পাঁচফোড়ন ২

২৪তম পর্ব

লেখক: আফনান লারা

প্রেমের পাঁচফোড়ন💖

#সিজন_২

#পর্ব_২৪

#Writer_Afnan_Lara

🌸

আজব এসব কি!!!সরুন!আমাকে দেখলেই শুরু করেন নাটক!

.

আহানার কথায় শান্তর হুস আসলো,জলদি করে উঠে দাঁড়িয়ে বললো"তোমাকে দেখলেই মানে কি?তুমি দেখে হাঁটতে পারো না সেটা বলো"

.

আমি দেখো হাঁটবো?আপনি যে নিতুর দিকে তাকিয়ে আসতেছিলেন সেটা?

.

যখন দেখলে আমি ওদিকে চেয়ে আসতেছি সরে পড়তে পারোনি?আসলে হ্যান্ডসাম ছেলে দেখলে ইচ্ছে করে সামনে তো দাঁড়াবেই

.

এক্সকিউজ মি!আমি যখন দেখলাম আপনি তেড়ে এদিকে আসতেছেন তখনই আমি ডান পাশে সরে গেছিলাম,কিন্তু আপনি বাম পাশ থেকে ঘুরে ডানপাশেই এসে পড়লেন,আমি কি করতে পারি?

.

আহানা আপু,শান্ত ভাইয়া তোমরা থামো প্লিস,আমার কাজই তো হলো না

.

আহানা শান্তর পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে নিলো

আহা!বাঙালি ক্ষেতে চাষাবাদ করা কৃষকের মতন লাগতেছে

এই ভেবে আহানা ফিক করে হেসে দিলো

শান্ত আহানার হাসি দেখে লুঙ্গিটা ধরে সোজা চলে গেলো নিজের রুমের দিকে

.

হুহ!নিতু যাও পড়তে বসো,আজ তোমার কত পড়া বাকি আছে খবর আছে তোমার?

.

আপু পড়া বাদ দাও,কাল আমার স্কুলে সিন্ড্রেলা কম্পিটিশন,আমাকে জিততেই হবে যে করেই হোক

.

তাহলে তোমার ভাইয়াকে বলো যে শিখায় দিতে,আমি পারবো না কিন্তু

.

আপু প্লিস প্লিস,এ্যা😭

.

আহানা পড়লো মহা ঝামেলায় 

সে এখন কি করবে,এদিকে নিতু ড্রেস পাল্টিয়ে এসে আহানার হাতে দিয়ে বললো এটা পরে অভিনয় করে দেখাতে

আহানা বাধ্য হয়ে হ্যাঁ তো বলে দিলো কিন্তু এখন সে নিতুর রুমে সিন্ড্রেলার ড্রেসটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,নিতু তো ওর বোনের মতনই,তার উপর পুচকে একটা মেয়ে, ওর কথা না রাখে কি করে

জামাটা একটু টাইট হবে তবে বেশ ফিট হয়ে যাবে গায়ে,সিন্ড্রেলা ড্রেস তো তাই একটু বড়োসড়ো জামাটা

আহানা এসব ভাবতে ভাবতে জামাটা পরে নিলো,আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই হা হয়ে চেয়ে আছে সে

কি সুন্দর,একদম সিন্ড্রেলার মতন লাগতেছে আমায়

আহানা জামাটা ধরে রুম থেকে বাইরে পা রাখতেই শান্তর সাথে এক ধাক্কা খেয়ে গেলো

শান্ত হাতে জুস নিয়ে মায়ের রুমের দিকে যাচ্ছিলো তখন

আহানাকে রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আহানাকে এমন বেশে দেখে হা করে চেয়ে আছে সে

আহানা মুখ বাঁকিয়ে বললো"দেখে হাঁটতে পারেন না আপনি?কি হলো?কথা বলছেন না কেন,?স্টুপিড!

আহানা চলে গেলো তার সব প্রশ্নের উত্তরে শান্তর নিরবতা দেখে

শান্ত এখনও হা করে আহানাকেই দেখছে,গায়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জামাটা লেগে আছে আহানার

চুলগুলো ও ছেড়ে দেওয়া,এত সুন্দর লাগতেছে যে শান্তর আর দুনিয়ার খবর নেই

পরে নিতু শান্তর হাত ধরে টান দিতেই শান্তর হুস আসলো নিতুর দিকে না তাকিয়েই মায়ের রুমের দিকে চলে গেলো সে

তাকালেই হাজারটা প্রশ্ন করে বসবে নিতু

.

আহানা নিতুকে বেশ ভালোমতন অভিনয় কি করে করতে হবে শিখিয়ে দিয়েছে তাই আজ একটু দেরি হয়ে গেলো

একেবারে ৮টা বেজে গেছে,আহানা ঘড়ির দিকে চেয়ে হা করে বললো"এ মা এত দেরি কি করে হলো,আমাকে তো তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে"

আহানা জামাটা চেঞ্জ করে বাসা থেকে বেরিয়ে এক দৌড় দিলো

তার আগেই কেউ ওর হাত ধরে আটকে ফেলেছে ওকে

আহানা হাতের দিকে তাকিয়ে তারপর যে ধরেছে তার মুখের দিকে তাকালো

শান্ত মুখটা গম্ভীর করে চেয়ে আছে ওর দিকে

.

আমার আজ এমনিতেও দেরি হয়ে গেছে আর আপনি কিনা আমার হাত ধরে আটকিয়ে আমার সময় আরও নষ্ট করছেন?

.

তুমি আবারও একা একা রাত করে বের হয়ে বিপদ মাথায় তুলতে চাও? 

.

তো?তাতে আপনার কি?

.

শান্ত আহানার হাত হেচকা টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে এসে স্বাভাবিক ভাবেই বললো"আমার কিছু না তবে আমার দায়িত্ব বটে"

.

দায়িত্ব?কিসের দায়িত্ব? আমি তো আপনার কিছু লাগি না তাহলে কিসের দায়িত্ব আপনার?

.

আমার!আমার বাবার বেস্ট ফ্রেন্ডের মেয়ে তুমি,তো আমার তো অনেক কিছু লাগো

.

চাপা মারবেন না,হাত ছাড়ুন

.

ছাড়বো না,চলো আমার সাথে

শান্ত আহানার হাত ধরে হেঁটে চললো কারের দিকে

.

আপনি যদি ভেবে থাকেন আপনার সাথে কারে করে আমি বাসায় ফিরবো তাহলে ভুল ভাবছেন

.

আমি তো সেটা ভাবিনি

.

মানেহহহ?

.

মানেটা সহজ,কারে উঠো

.

নো ওয়ে,আমি বাসায় যাচ্ছি রিকসা নিয়ে,আপনি প্লিস দখল দিতে আসবেন না,আমি নিজের রক্ষা নিজে করতে পারি

ঐদিন ও নিজেই করছিলাম সো দূরে থাকেন,নিজের চরকায় তেল দেন,বাই

.

এই!কিসের এত জেদ তোমার?

আমার সামনেই সেন্সলেস হয়েছিলে সেদিন,রতনের সামনে হলে তখন কি হাল হতো তোমার জানো?আমি তোমাকে নিয়ে আন্টির কাছে এনেছিলাম রতন হলে সিধা কি করতো ধারণা আছে?

.

হেল্প করে আবার খোঁটা দিচ্ছেন?

.

খোঁটা বলে না এটাকে,মনে করিয়ে দিচ্ছি আমি জাস্ট!

.

আমি একা বাসায় যাবো!

.

শান্ত চুপচাপ আহানাকে কোলে তুলে সিটে বসিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো হুট করেই

আহানা ভাবতেও পারেনি শান্ত এমনটা করবে

.

আপনি একটা খারাপ লোক,আমাকে টাচ করতে মানা করিনি আমি?

.

শান্ত ঘুরে এসে ড্রাইভিং সিটে বসে চুইংগাম চিবোতে চিবোতে গাড়ী স্টার্ট দিলো

.

আপনি আমার কোনো কথাই সিরিয়াসলি নেন না কেন বলুন তো?

.

কারণ তুমি একটা বাচ্চা মেয়ে,বাচ্চাদের কথায় এত কান দিতে নাই বড়দের

.

আমার প্রতি এত কেয়ার দেখিয়ে মায়ের সামনে ভালো হতে চান তাই না?তাহলে একটা কথা শুনে রাখুন আমি আপনাকে বিয়ে করবো না

.

তোমাকেও বিয়ে করতে আমার বয়ে গেছে

.

কোন পথ দিয়ে নিচ্ছেন আবার?শুনুন আমি আপনার সাথে আলাদা কোথায় দাঁড়িয়ে বা বসেও কথা বলতে চাই না

.

আমি এখনই কথা শেষ করতে চাই বলে শর্টকাট দিয়ে যাচ্ছি,জলদি বাসায় ফিরতেও পারবা আর আমার কথাও বলা শেষ হবে ততক্ষণে

.

কিসের কথা?

.

রিয়াজের পরেরমাসের শুরুতেই বিয়ে,আমার সাথে যাওয়ার জন্য তৈরি হও

.

আমাকে পাগলে ধরছে তাই না?জীবনেও না, আপনি গিয়ে খান বিয়ে

ঐবার চুমু দিতে চেয়েছেন এবার কি করবেন কে জানে!

.

শুনো,ওটা ভুলবশত ছিলো আর কিছু না,বাদ দাও ওসব,কাল বিকালে আমার অফিসে এসো,একসাথে রিয়াজের বিয়ের গিফট কিনতে যাবো

.

আপনি হুকুম করছেন এমন ভাবে যেন আমি আপনার সব কথা মানি তাই না?এটাও মানবো না,কি করবেন?

.

শান্ত কার থামিয়ে ফেললো

.

কার থামালেন কেন?আমার বাসা তো আশেপাশেও কোথাও দেখা যাচ্ছে না,কোথায় নিয়ে এলেন আমাকে?

.

নামো

.

আমি এখন একা বাসায় ফিরবো?এমন জায়গায় নামতে বলতেছেন যেটার কিছুই চিনি না আমি আজব তো!

.

ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলবো বলে নামতে বলেছি তোমাকে,নামো!!!!!

.

আহানা শান্তর ধমকে ভয় পেলো আবার মাথার মধ্যে রাগের পাহাড় গড়তে গড়তে কার থেকে নামলো সে

শান্ত এগিয়ে এসে আহানার সামনে দাঁড়িয়ে বললো"শুনো আহানা!সবার আগে একটা কথা বলি আর সেটা হলো তুমি আমার অফিসে কাজ করবা না ভালো,চাকরি পাইসো একটা ছোটখাটো সেটা দিয়ে তুমি অনেক কষ্টে ডাল ভাত জোগানোর কথা ভাবছো সেটাও ভালো বাট এটা ভেবেছো কি যে আন্টি ভালো আছে কিনা?সবসময় নিজে যা ভালো মনে করবে সেটাই করবে এটা কিন্তু রং!

.

আমি কি করবো না করবো সেটাও কি আপনি ঠিক করবেন?

.

হ্যাঁ আমি ঠিক করবো,আর শুনো!তোমার এই সাদাসিধা চেহারা নিয়ে আমাকে ইম্প্রেস করার চেষ্টাও করবা না,এই যে মাঝে মাঝে বলো আমাকে বিয়ে করবা না এটা সেটা

এগুলো বলে কি বুঝাতে চাও?তুমি অচিনপুরের রাজকুমারী?

বাট তুমি আসলে একটা গাঁইয়া ভূত!তোমার চেয়ে তো কণা ভালোই স্মার্ট

.

তো আরও ভালো,রিয়াজ ভাইয়ার বিয়েতে গিয়ে ওর সাথে বিয়েটা পাকা করে আসেন,আমাকে মাফ করেন,সবসময় আমাকে নিয়ে টানাটানি না করে ওকে নিয়ে টানাটানি করেন বরং

.

বিয়ে কাকে করবো সেটা আমার পার্সোনাল ম্যাটার,আমি জাস্ট ৩টা কথা বলার জন্য তোমাকে এখানে এনেছি

.

কি?

.

তুমি কাল সকালে আন্টিকে নিয়ে আমাদের বাসায় ফেরত আসবা

তারপর আমার অফিসে জয়েন হবা আর সবার শেষে আমার সাথে শপিং মলে যাবা,রিয়াজের বিয়েতে কিছু গিফট দিব সেসব কিনবো,আর রিয়াজের বিয়েতেও তুমি আমার সাথেই যাবা

.

বাপের বাড়ির আবদার পেয়েছেন তাই না?

.

তুমি হয়ত জানো না আমি মজনু আঙ্কেলের বিপক্ষে একটা কেস লড়তেছি তাও তোমাদের বাড়ি গাড়ী ফেরত আনার উদ্দেশ্যে!সো তুমি ভেবে দেখো তুমি কি চাও

আমি আজ অফিস থেকে ফেরার সময় তোমাদের বাসায় গিয়েছিলাম

বাসার অবস্থা তো অনেক খারাপ,ওরকম একটা পরিবেশে তুমি আন্টিকে রাখতেছো জাস্ট তোমার জেদের বশে?হাউ চিপ ইউ আর!

আমার মা যদি বলে তোমার মত একটা মেয়েকে বিয়ে করলে উনি হাসবেন তো আমিও সেটাতেও রাজি হয়ে যাবো,জঘন্য কাজটা করতে আমি রেডি হয়ে যাবো কারণ আমি আমার মায়ের মুখের হাসির দায়িত্ব নিয়েছি সেদিন থেকে যেদিন তার হাসির মেইন কারণ আমার বাবা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছিলেন

আর তুমি??তুমি তোমার জেদ পূরন করতে গিয়ে তোমার মাকে এত কষ্ট দিচ্ছো,আমার সাথে শত্রুতা নাহয় বুঝলাম বাট আন্টির সাথে কি শত্রুতা তোমার?

.

আহানার চোখ দিয়ে পানি বেয়ে পড়তেছে অনবরত তারপর চোখ মুছে শক্ত হয়ে সে বললো"আমার কারোর সাথেই শত্রুতা নেই

আমি এমন একটা মেয়ে যে বিনা পরিশ্রমে কোনো টাকা,সাহায্য নিতে চাই না কারোর থেকে,আমি চাই আমার মা ভালো থাকুক ভালো কাজের টাকা দিয়ে

.

এক মিনিট!আমি আন্টিকে আমাদের বাসায় রাখবো এটাতে খারাপের কি দেখছো তুমি?

.

আমার মা অন্যের বাড়িতে কেন থাকবে?

.

এই চিন্তাভাবনা তোমার অনেক খারাপ!এই লজিক উঠাতে গিয়ে তুমি এটাই ভুলে গেছো যে আন্টি সেখানে ভালো আছেন নাকি নাই,বাট তুমি তো তুমিই,তোমার জেদ এত বেশি যে তুমি নিজেও না খেয়ে থাকতে পারবা আর আন্টিকেও না খাইয়ে রাখবা,এত জেদ তোমার

.

ব্যস একটা কথাও না,অনেক বলেছেন,আমাকে আমার মতো থাকতে দিন না,আমার মায়ের ভালো খারাপ আমাকে বুঝতে দিন

.

শান্ত এগিয়ে এসে আহানার দুকাঁধ চেপে ধরে কাছে এনে বললো"কিসের ভালো খারাপ??আমি তো সবটাই খারাপ দেখি!তুমি ইচ্ছে করে আন্টিকে কষ্ট দিচ্ছো,আমার মাকে যিনি বুবু ডাকে তাকে তুমি কষ্ট দিচ্ছো,যে ছোটবেলায় আমার জন্য সুয়েটার বানাতে গিয়ে হাতে বড় সুই ঢুকিয়ে ফেলেছিল সেই আন্টিমণিকে কষ্ট দিচ্ছো তুমি!"

.

আহানা ছলছল চোখে তাকিয়ে বললো"সেই মহিলাটি আমার মা,আমার অধিকার সব চাইতে বেশি"

.

তোমার মা বলে তুমি যা নয় তাই করবা আমি তা হতে দিতে পারি না,আন্টি নিজে আজ মাকে ফোন করে কেঁদেছে

আমার সামনে বসে কেঁদেছে,আমি এটা আর হতে দিতে পারি না ব্যস!!তুমি আমার কথা সোজা সাপটায় বুঝো নয়ত আমি কাল গিয়ে আন্টিকে নিয়ে আসবো

.

আহানা হাতের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বললো"আপনার কথায় হবে,হাত ছাড়ুন,আমি নাহয় আসলাম না,কিন্তু মা আসবে"

.

শান্ত আহানার হাত ছেড়ে দিলো,তারপর কিছুদূর গিয়ে থেমে বড় একটা নিশ্বাস ফেলে নিচু স্বরে বললো"আন্টি তোমায় ছাড়া থাকবে না,তুমি সহ আসবা"

.

আহানা চিৎকার করে বললো"আপনি কি চান বলুনতো"

.

আহানার কথার জবাব না দিয়ে শান্ত সামনের দিকে তাকিয়ে আছে,লম্বা লম্বা সবুজ ঘাস,বাতাসে নড়তেছে,শীতল হাওয়া এসে গায়ে লাগে বারবার

দূর দূরান্তেও মানুষ দেখা যায় না,নির্জন একটা এলাকা

আহানা যখন বলে কি চান তখন নিজের মনের ভিতর কি চলে তা যদি সে দেখতো তাহলে সে কখনও এটা জিজ্ঞেস করতো না,আমি ওর সাথে একবার ভুলবশত জোর করতে গিয়ে অনেক বড় ভুল করেছি,সেদিন চড়ের জন্য না চরিত্রহীনের এওয়ার্ডটা খারাপ লেগেছে অনেক 

তবে আহানাকে আমার ভাল্লাগেনা আবার তাকে ছাড়া একটা দিনও ভালো লাগে না,আজব অনুভূতি,কবিরা বলবে এটা ভালোবাসা

তবে আমি মানি না,ওকে ভালোবাসতে যাবো কেনোই বা??

কি আছে ওর মধ্যে?

সাজগোজের মধ্যে কপালে একটা টিপ,আর কিছুই না

না ক্রিম,না পাউডার, না কোনো ভালো ড্রেস আপ

সবসময় হালকা রঙের থ্রি পিস পরে থাকে

গলায় ওড়না ঝুলিয়ে চুলগুলো সামনে দিয়ে রাখে,হাতে জামার সাথে মিলিয়ে ১ডজন চুড়ি সবসময় থাকে

তারপরেও ওকে দেখলে মনে হয় সে আমার মায়ের পরে সবচাইতে আপন মানুষ!যার সামনে আমি অপেন বুক

সে আমাকে পড়ে দেখতে পারবে,সে যদি নিজ থেকে এসেও জড়িয়ে ধরে আমাকে হয়তবা আমি তাকে বাধা দেওয়ার শক্তি পাবো না

হ্যাঁ এটা অবশ্যই ভালোবাসা নয়

♥

এই লোকটা আমাকে কখনও সম্মান দেয়নি,দিবেও না জানি

লোকটা খুব খারাপ,এরকম খারাপ চরিত্রের লোক আমি আর দেখিনি,অথচ কেয়ার করার সময় ঠিকই করে আবার মুহুর্তেই ধাক্কা দিতেও পিছুপা হবে না

আমি বুঝি না আসলেই সে চায় টা কি?

আমাকে তো ভালোটালো বাসে না সাফ সাফ বলে দেয় তাহলে এসবের কারণ কি?আমি একা বের হলে তার কি যায় আসে?

এত বছর পর তার সাথে আমার বান্দরবনে দেখা হয়েছিলো

সেদিন থেকেই আমাকে এক দিক দিয়ে বাঁচাচ্ছে তো আরেক দিক দিয়ে অপমান করছে

এত অপমান যে তাকে শুধু ঘৃনা করতে ইচ্ছে করে আমার

আর আমিও কেমন যেন হয়ে গেছি,সেদিন কি দরকার ছিল উনার ক্ষতে মলম লাগানোর!

আমি উনাকে ভালোবাসি না,পছন্দ ও না,কিছু করি না

ঘৃনাও না!

ছোটবেলায় কি হইছে না হইছে সেটা আগের কথা,এখন এসব ভেবে লাভ আছে?দয়া করবে বলে কি মাথা কিনে খাবে আমার?

না এটা কোনোমতেই ভালোবাসা নয়,অন্য কিছু হতে পারে

চলবে♥

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন