ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়াবৃত রোদ্দুর

১ম পর্ব

লেখক: আয়রা ইবনাত

"এই যে মিস্টার এদিকে আসুন"

মেয়েলি কন্ঠের জোড়ালো আওয়াজে কর্মরত হাত থামিয়ে ঘাড় বাকিয়ে দরজার পানে তাকালো ইলহাম। দরজায় দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণী, বয়স তেইশ কিংবা চব্বিশ হবে। পড়নে হালকা বাদামি রঙের থ্রি পিছ, সুতি ওড়না লম্বালম্বি ভাজ করে বাম কাধে রাখা। চেহারায় ফুটে উঠেছে কঠোরতা, চোয়াল দু’টি শক্তভাবে আঁটা, ঠোঁটের কোণে কাঁপন নেই বিন্দুমাত্র।পুনরায় নিজের কাজে মনযোগী হয়ে প্রতিত্তুর করলো সে

"পাঁচ মিনিট বসুন আমি কাজ শেষ করে আসছি"

"ইরা কারো জন্য অপেক্ষা করেনা"

নাম শুনে আবারও ঘাড় বাকিয়ে তাকালো তার পানে। সে এখানে জয়েন করেছে পনেরো দিনের মতো হবে এই কদিনে লোক মুখে এই নাম অনেক শুনেছে। জেলা সভানেত্রী ইরা আহসান যার দাপটে এই গাজীপুর এলাকা কাঁপে। তাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করলো সে

"এটা কারো বাপের কেনা রাজ্য নয় এটা হসপিটাল।এখানে মাস্তানি চলবে না"

"এবার কিন্তু খুব বাড়াবাড়ি করছিস ডাক্তার, লোক পাঠিয়ে ডেকেছি যাসনি এখন নিজে এসে ডাকছি তবুও দেমাগ দেখাচ্ছিস? তুই জানিস আমি চাইলে তোকে এক্ষুনি এই হসপিটাল থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারি"

"দেখুন মিস, এটা হসপিটাল এখানে চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার সবার সমান। উনারা আমার এডমিটেড পেশেন্ট এখন উনাদের চেক আপের টাইম আমি উনাদের চেক আপ শেষ করে তবেই এই ওয়ার্ড থেকে বের হবো। আপনি অপেক্ষা করুন"

উত্তেজিত ইরা কিছু বলতে যাবে তৎক্ষনাৎ পেছন থেকে একজন পাতলা গড়নের মেয়ে তার হাত টেনে ধরলো

"ছেড়ে দাও আপু এতো উত্তেজিত হইয়ো না, আকিব ভাইয়ের অবস্থা অনেক ক্রিটিকাল এখন কোনো ঝামেলা না করাই ভালো। উনি ছাড়া তো আর কোনো ডক্টর নেই এখানে"

আরও দুজন ছেলে সহমত পোষণ করলো তার সাথে। তার সাথে গলা মিলিয়ে ইরাকে সান্ত্বনা দিল

"হ্যাঁ আপু এখান থেকে চলো এখন আমরা বরং বাহিরে অপেক্ষা করি সেটাই ভালো হবে"

আগুন ঝরা চোখে কর্মরত ইলহামের পানে তাকিয়ে হনহনিয়ে সেখান থেকে চলে গেল ইরা। মিনিট সাতেক পর ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে বারান্দায় তাদের মুখোমুখি হলো ইলহাম। একপাশে বেঞ্চিতে বসে আছে এক যুবক যার মাথা থেকে গড়িয়ে পড়ছে তাজা রক্ত। পাশেই একটি চেয়ারে বসে আছে ইরা। আর চারপাঁচজন ছেলে ও দুজন মেয়ে দাঁড়ানো তার পাশে। ইলহাম এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলো

"সমস্যা কি?"

"চোখের সামনে ইঞ্জুর্ড একজন বসে আছে দেখতে পাচ্ছিস না? আবার বলতে হবে সমস্যা কি?"

ইরার ঝাঝালো কন্ঠস্বরে গালের ভেতর জ্বিভ ঠেলে হাসলো ইলহাম। নিচু কন্ঠে বিরবির করলো 'মেয়ের দেখছি সেই তেজ' গলা ঝেড়ে কাশলো সে

"দেখুন মিস ইরা আমি একজন হার্ট সার্জন এসব কাজ আমার নয় তবুও জরুরি ভিত্তিতে আমি চিকিৎসা দিতে পারি কিন্তু আমাকে তো তার ইঞ্জুরি সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।"

বেঞ্চিতে বসা রক্তাক্ত আকিবের মাথায় হাত রেখে ক্ষতের গভীরতা দেখেনিল সে। পাশ থেকে একটি ছেলে বলল

"দেয়ালের কর্নারে ধাক্কা লেগেছিল"

ঠোঁট কামড়ে হাসলো ইলহাম, ঠাট্টার স্বরে বলল

"কেন ভাই দেয়ালের সাথে কুস্তি লড়ছিলে?"

ইরা বিরক্তিকর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ইলহামের দিকে। ছেলেটা একটু বেশিই হেয়ালিপনা করছে। তার পাশে দাড়ানো হালকা পাতলা গড়নের ইসরাত নামের মেয়েটি তাকে অবগত করলো

"তেমন কিছু না ডক্টর, আজ আমাদের সমাবেশ ছিল সেখানে প্রতিপক্ষের লোকেরা হঠাৎ আক্রমণ করে ওই একটু মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একসময় ধাক্কা খেয়ে দেয়ালের উপর পড়ে যায় ভাইয়া তখন মাথায় চোট লেগেছে"

বিরক্তিতে 'চ' সুচক শব্দ করলো ইরা। এই বলদ মেয়েটাও না! সে বলেছে মানে কি সত্যিই আকিব দেয়ালের সাথে কুস্তি লড়তে গিয়েছিল নাকি এমন করে বলছে তেমন কিছু না ডক্টর মনে হচ্ছে সত্যি সত্যিই দেয়ালের সাথে কুস্তি লড়া যায়। সে প্রশ্ন করলো ইলহামকে

"ক্ষত কতটুকু গভীর?"

"বেশি না আবার কমও না তবে সেলাই লাগবে, আপাতত আমি ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছি। আপনারা পরবর্তীতে ডক্টরের সাথে দেখা করে সম্পূর্ণ চিকিৎসা নিয়ে নিবেন আর নাহয় ইমার্জেন্সি ক্লিনিকে চলে যান সেখানে চিকিৎসা পাবেন। আর উনার যেই অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে প্রথমেই সেখানে চলে গেলে ভালো হতো"

"তোর কি মনে হয় ইমার্জেন্সি ক্লিনিকে না গিয়ে তোর অপেক্ষায় বসে ছিলাম? ওখানে কেউ নেই।"

কপালে ভাজ পড়লো তার, ইমার্জেন্সি ক্লিনিক তো চব্বিশ ঘন্টা খোলা থাকে এখন আবার ডাক্তাররা কেউ হসপিটালে নেই তাহলে ওখানে কেউ থাকবে না কেন? সে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল

"আপনারা আমার সাথে আসুন আমি দেখছি"

গর্জে উঠল ইরা

"হসপিটাল রেখে তোদের ডাক্তাররা কোথায় থাকে? এই যদি হয় তোদের অবস্থা তাহলে তো দেখছি সাধারন জনগণ বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে"

সে ঠোঁট টিপে হেসে ঠাট্টার স্বরে বলল

"কি যে বলেন না আপনি, আপনার মতো জননেত্রী থাকতে সাধারন মানুষ জন কেন বিনা চিকিৎসায় মরবে। আপনার যেই তেজ আপনার এক ডাকে আমরা পুরো ডাক্তার সমাজ ছুটে আসবো"

"হেয়ালি করবি না একদম, তোদের ডাক্তার কোথায়"

"প্রতিমাসে আমাদের ডাক্তারদের একটি কনফারেন্স হয় সবাই সেখানেই আছে"

"তাহলে তোকে নিয়ে যায়নি কেন? এতে নিশ্চয়ই এটা পরিষ্কার যে তুই একটা ভুয়া ডাক্তার"

শব্দ করে হেসে উঠলো ইলহাম, তার হাসির সাথে গা দুলে উঠছে। মুগ্ধ চোখে তাকালো ইরা, এই প্রথম কোনো ছেলের প্রতি সে মুগ্ধ হলো সাদা এপ্রোনের উপর গলায় ঝুলানো স্টেথোস্কোপ। দুই ইঞ্চি সমান লম্বা চুলগুলো ঝুকে আছে কপালের উপর। মুক্ত দানার মতো সাদা ঝকঝকে দাত গুলো যেন ঝিলিক দিচ্ছে, বাদামি রঙের চোখ আর উচু সরু নাক যেন স্রষ্টার নিপুন সৃষ্টি। হাসতে হাসতে উত্তর দিলো সে

"স্যরি ম্যাম আপনার আন্দাজ ঠিক হলো না, সাড়ে পাঁচটায় আমার একটা সার্জারি আছে তাই কনফারেন্সে এটেন্ড করিনি আমি"

কথা বলতে বলতে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে প্রবেশ ঘটলো তাদের। সেখানে দায়িত্বরত ডক্টর সালেহ আহমদ সালাম ঠুকলো তাকে

"আসসালামু আলাইকুম স্যার"

"ওয়ালাইকুমুস সালাম, কাজ ছেড়ে কোথায় থাকো তুমি উনারা নাকি কিছুক্ষন আগে এখানে এসে তোমাকে পাননি?"

মাথা নিচু করে মিনমিন করলো সে

"স্যরি স্যার, আমি ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম"

"নার্স কাউকে রেখে যেতে, এভাবে ক্লিনিক খালি করে যাবে না আর কখনো"

"জ্বি স্যার"

"উনার মাথার ইঞ্জুরি দেখে ভালো চিকিৎসা দিন। আমি আসছি"

সে চলে যাবে তখন ঘাড় বাকিয়ে তাকালো ইরার পানে ইমার্জেন্সি ক্লিনিকে এখন তাদের ভীড়, ইলহাম ঠোঁট কামড়ে হেসে ডাকলো তাকে

"মিস জিরা"

নিজের নামের বিকৃত উচ্চারণ শুনে ললাটে ভাজ ফেলে তাকালো ইরা, ইলহাম তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সে আঙুল তুলে নিজেকে ইশারা করলো। ইলহাম মাথা নাড়লো

"জ্বি আপনাকেই বলছি"

"হাউ ডেয়ার ইউ! আমাকে নাম বিকৃত করে ডাকছিস? আ..."

"আহ এতো চেচাচ্ছেন কেন? হসপিটালের রোল ভঙ্গ করছেন কিন্তু"

তার মুখ বাক্য কেড়ে নিয়েছে ইলহাম। ইরা বিরক্ত হলো এই ডাক্তার টা একটু বেশিই উড়ছে। ইলহাম ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল

"একটা সিক্রেট বলবো এদিকে আসেন"

না চাইতেও দুই কদম এগিয়ে এলো ইরা। ইলহাম তার কানের কাছে ঝুকে ফিসফিস করলো

"মেয়েদের এতো রাগ থাকতে নেই। এর কারন কি জানেন? এক, অতিরিক্ত রেগে যাওয়া সাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দুই, রাগলে যখন তাদের অতিরিক্ত সুন্দরী দেখায় তখন যে কেউ প্রেমে পড়ে যেতে পারে"

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে চোখ টিপ দিল সে, বিস্ময়ে আশ্চর্য হয়ে তাকালো ইরা। হেলেদুলে হেটে চলে যাচ্ছে ইলহাম তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো সে, ছেলেটা কি ইন্ডিরেক্টলি তাকে ফ্লার্ট করলো?

আকাশ ঢেকে দিয়েছে এক অদৃশ্য চাদরে। চারদিক নিস্তব্ধ দূরের কোনো কুকুরের ডাক মাঝে মাঝে নিঃশব্দতাকে ছেদ করে। আকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে তারার ঝিকিমিকি আলোর ক্ষুদ্র বিন্দুগুলো যেন হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের দৃষ্টান্ত।চাঁদটা আধো আলো ছড়াচ্ছে চারদিকে, গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে মাটিতে পড়া তার আলো ছায়া-আলোয় এক মোহনীয় ছবি আঁকছে। রাত তখন ঘড়ির কাটায় দশটা বেজে পয়তাল্লিশ। কলিংবেলের আওয়াজে ছুটে গিয়ে দরজা খোলেছে মিরা। ইরা দাঁড়িয়ে আছে বাহিরে, লিভিংরুমে বসে থাকা রিয়াজ আহসানের পানে তাকিয়ে আবার বোনের পানে তাকালো মিরা। ইরা কোনোদিকে না তাকিয়ে পা চালিয়ে সিড়ির কাছে চলে গেছে পেছন থেকে ডেকে উঠলেন রিয়াজ আহসান

"দাড়াও ইরা"

চলমান পা থামিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে সে কিন্তু পেছন ঘুরে তাকায়নি। তিনি হুংকার ছুড়লেন

"তোমাকে এর আগেও অনেকবার বলেছি এতো রাত করে ঘরে ফেরা আমার পছন্দ নয়। কোনো ভদ্র ঘরের মেয়ে এতো রাত পর্যন্ত বাড়ির বাহিরে থাকেনা"

"আমাকে আমার মতো ছেড়ে দিন মিস্টার আহসান, আমার লাইফে কারো ইন্টারফেয়ার আমি পছন্দ করি না"

জোর গলায় ধমকে উঠলেন তিনি

"ইরা, তুমি কিন্তু দিন দিন সহ্যের সীমা পেরিয়ে যাচ্ছো। তুমি ভুলে যেওনা যে আমি তোমার বাবা, তোমার লাইফে ইন্টার ফেয়ার করার সম্পূর্ণ অধিকার আমার আছে"

"শুধু জন্ম দিলেই বাবা হওয়া যায়না মিস্টার আহসান, বাবা হওয়ার জন্য বাবার দায়িত্ব পালন করতে হয় আর বাকি রইলো ভদ্র ঘরের সন্তান, ভদ্র ঘরের মেয়েরা রাত করে বাড়ি ফিরেনা তবে ভদ্র ঘরের ছেলেরা কি করে বেড়ায় তা বলতে আমাকে বাধ্য করবেন না"

গট গট শব্দ তুলে সিড়ি পেরিয়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেছে সে। বাবার পাশে দাঁড়িয়ে অসহায় চোখে বোনের যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে মিরা। এসব নতুন নয় রোজকার ঘটনা এসব, প্রতিদিন এক ঘটনা দেখতে দেখতে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আঁচলে হাত মুছতে মুছতে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন মালিহা আহসান মেয়ের পানে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন

"চলে গেছে?"

সে মাথা নাড়লো, তিনি উপরে তাকিয়ে দেখলেন রুমের বাতি জ্বলছে। তাকে আদেশ করলেন

"খাওয়ার জন্য ডেকে আয়"

ফুস করে নিশ্বাস ছেড়ে সিড়িতে পা ফেলে ছুটে গেল সে। দরজায় দাঁড়িয়ে গলা উচিয়ে ডাকলো

"আপু"

"দরজা খোলা আছে"

সে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো। আয়নার সামনে দাড়িয়ে তোয়ালেতে হাত পা মুছছে সে। মিরা ডাকলো তাকে

"আপু খাবার খাবে চলো"

"রুমে দিয়ে যা"

"আপু আমিও খাইনি"

বিরক্ত হলো ইরা। হাতের তোয়ালে বিছানায় ছুড়ে ফেলে বিরক্তিতে ধমকে উঠলো তাকে

"খাসনি কেন? তোকে বলিনি আমি? আমার জন্য অপেক্ষা করবি না"

সে মাথা নিচু করে রইলো, ওয়াড্রবের উপর থেকে ওড়না টেনে কাধে ঝুলিয়ে পা বাড়ালো সে

"চল"

______

বেলকোনিতে দাঁড়িয়ে তারাভরা আকাশের পানে তাকিয়ে আছে ইলহাম। হাতে কফির মগ মাঝে মাঝে চুমুক দিচ্ছে তাতে পাশেই ডিবানে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে আয়ুশ। তার বাল্যকালের বন্ধু সে, কিন্তু দুজনের প্রফেশনাল লাইফ সম্পূর্ণ আলাদা। সে একজন হার্ট স্পেশালিষ্ট ডক্টর আর তার এই বন্ধু একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার। গত বছর আগষ্টে সে এখানে ট্রান্সফার হয় আর এবছর এপ্রিলে সে এখানে জয়েন করে প্রায় একবছরের দুরত্বের পর দুই বন্ধু এক হয়েছে। একই জায়গায় কাজের সুবাধে একই ফ্লাটে থাকছে দুইজন যেহেতু পরিবার পরিজন কেউ সাথে নেই তাই দুই বন্ধু মিলেই কাটাচ্ছে দিনকাল। আকাশের পানে তাকিয়ে আয়ুশের উদ্দেশ্যে বলে উঠল সে

"তোদের নেত্রী কিন্তু সেই রকম আইটেম"

ভ্রু কুঁচকে তাকালো আয়ুশ

"আমদের নেত্রী মানে? কার কথা বলছিস?"

"ইরা আহসান"

"আমাদের নেত্রী হলো কি করে?"

"ওমা একবছর ধরে এখানে আছিস এখানের সবকিছুই তো এখন তোদের"

ঠোঁট এলিয়ে হাসল সে,

"প্রেমে পড়লি নাকি?"

"উহুম, তবে তার তেজের প্রসংশা করতেই হয়"

"বলতেই হয় বেডি একটা বাঘিনি"

"আই উইশ তোদের বাঘিনির সাথে প্রতিদিন নিয়ম করে আমার দেখা হোক"

ললাটে ভাজ ফেলে ভ্রু দুটি কুঞ্চিত করে প্রশ্ন করলো আয়ুশ

"এই মাত্র না বললি প্রেমে পড়িসনি"

"পড়িনি মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই পড়তে যাচ্ছি।ম্যাডামকে খুব মনে ধরেছে"

"এটা যদি ইরা জানে তোকে শূলে চড়াবে, শুনেছি বেডির নাকি প্রেম ভালোবাসায় এলার্জি আছে"

"আমি নাহয় ম্যাডামেকে এলার্জির ঔষধ হয়ে ধরা দিবো"

শব্দ করে হেসে উঠলো আয়ুশ

"তুই ভাই পারিস ও বটে"

হাতে ধরা কফির মগ পাশে রেখে আয়ুশের মুখোমুখি রকিং চেয়ারে বসল সে। চেয়ারে মাথা হেলিয়ে চোখ বন্ধ করে ডুব দিলো কল্পনায়। বন্ধ চোখের পর্দায় ভেসে উঠলো শ্যামবর্নের এক মায়াবী মুখের আদল।গায়ের রং যেন টাটকা তামার মতো উজ্জ্বল, মাধুর্যে ভরা চোখ দুটি গভীর কালো। কুচকুচে কালো চুল গুলি খোপা করে রাখা,ঠোঁট জোড়া যেন পাকা জামরুলের মতো। ঠোঁটের নিচে থুতনির উপর কালো কুচকুচে একটা তিল। তার তেজ যেন দীপ্তিমান সূর্যকে হার মানাবে। ঠোঁট কামড়ে হাসল ইলহাম, আপন মনে বিরবির করলো

"তোমার ওই আগুনের স্ফুলিঙ্গের ন্যায় জ্বলন্ত চোখ দুটো না দেখলে আমি জানতেই পারতাম না কারো রুপের নয় তেজের প্রেমে পড়েও হাবুডুবু খাওয়া যায়।"

#সূচনা_পর্ব

#ছায়াবৃত_রোদ্দুর#আয়রা_ইবনাত

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন