#ছায়াবৃত_রোদ্দুর
#আয়রা_ইবনাত
২৩.
তমসাচ্ছন্ন রাতের আধার ঠেলে দিনমনি উঁকি দিচ্ছে পূব আকাশের কোনায়। সদ্যোজাত চারা গজানোর মতোই ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে সে। তার প্রখর তেজ বলে দিচ্ছে আজ উষ্ণতায় পুড়াবে ধরনী। গাছের পাতা গুলো নিশ্বাস আটকে পড়ে আছে। একটু নড়লেই যেনো শূলে চড়াবে কেউ। ইরাকে বক্ষবাজে আঁকড়ে ধরে নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে ইলহাম। আজ তার কোনো তাড়া নেই, মনে হচ্ছে কয়েক যুগ ধরে এমন এক ছুটির দিনের অপেক্ষায় ছিলো সে। থাকবে না কর্মব্যাস্ততার তাড়া, থাকবে না কোনো অযুহাত। বুকে থাকবে অর্ধাঙ্গিনী আর সে তাকে জড়িয়ে নিয়েকাটিয়ে দিবে একদিন। বউকে বুকে নিয়ে একটু প্রশান্তির ঘুমের জন্য মধ্যরাত পর্যন্ত জেগে থাকে সে। ক্লান্ত ইরা যখন ঘরে ফিরে দুর্বল শরীরটাকে এলিয়ে দেয় আরামদায়ক বিছানায়। দুচোখ ভেঙে আসে তার জোরালো ঘুমের তাড়নায়। দুনিয়ার সকল ব্যাস্ততার ইতি টেনে পাড়ি জমায় সে ঘুমের রাজ্যে আর ঠিক তখনই। চুপি চুপি আসে ইলহাম, চুপিসারে তাকে আগলে নেয় বুকে। ক্লান্তিতে ছাপিয়ে আসা ঘুম বশ করে ন্যায় ইরাকে, সে ঘূর্ণাক্ষরেও ঠের পায়না। কেউ আছে, তার জন্য অপেক্ষা করে। তাকে বুকে আগলে নিয়ে পাড়ি জমায় ঘুম নামক ভিনদেশে। ভোরের আলো ফুটতেই আবার চুপিচুপি চলে যায় সে, বউটা জেগে তাকে দেখলে আর রক্ষে থাকবে না। কিন্তু আজ গেলো না ইলহাম, আজ ছুটির দিন। সে যাবেনা বউকেও কোথায় যেতে দিবে না। তাই নির্বিগ্নে শুয়ে আছে পরোয়াহীন। তাদের শান্তির ঘুমে জল ঢালতে'ই বুঝি ঝংকার তুলে বেজে উঠলো এলার্ম! ইলহাম তড়িঘড়ি করে হাত বাড়িয়ে থামিয়ে দিলো তা। ঘুম কাতুরে ইরা, টেবিল হাতরে যখন ঘড়িটা পেলো না তখন নিরবতা ঠাহর করতেই পুনরায় চোখ বুঝে ঘুম ধরলো। কয়েক মিনিট পর তার মস্তিষ্ক কিছু আন্দাজ করলে ধড়ফড়িয়ে উঠলো সে। বাধাপ্রাপ্ত হলো ইলহামের বাহুডোরে। চিরবিরিয়ে উঠলো তার মস্তিষ্ক। দুহাতে প্রবল আঘাত হানলো তার বুকে কিন্তু নিজেকে মুক্ত করতে ব্যার্থ হলো। ইলহাম শক্ত করলো বাঁধন, ইরা বিরক্ত হলো। রাগ, ক্ষোভ চেপে গিয়ে ঠান্ডা স্বরে সুধালো
“সমস্যা কি আমার সাথে চিপকে আছেন কেন?”
“তুমি তো আমার একমাত্র বউ তাইনা? তোমার সাথে যদি চিপকে না থাকি তো থাকবো কার সাথে বলো?”
ইরা কোনো ঝামেলা বিহীন সমযোতা করতে চেয়েছিলো কিন্তু ইলহামের এসব কথা তার রাগের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে যথেষ্ট। মুখে ‘চ’ সূচক শব্দ তুলে বলল
“দেখুন ইলহাম…
“দেখাও, আমি তো অপেক্ষাতেই আছি”
তার অসম্পূর্ণ কথা টেনে নিয়ে এমন অশালীন কথার ইঙ্গিত দিতে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো ইরা। কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘুষি বসালো তার চোয়ালে। ব্যাথায় খেকিয়ে উঠলো ইলহাম, পরবর্তী আক্রমণ রুখতে ইরাকে চেপে ধরলো নিজের অধঃস্থলে। হা করে চোয়াল নেড়ে ব্যাথা প্রশমনের বৃথা চেষ্টা করলো সে, আফসোসের স্বরে বলল
“কে বলেছিলো ইলহাম, এমন মেয়ের প্রেমে পরতে। মেয়ে তো নয় যেনো আস্ত এক কুস্তিগির। কিছু বলতে গেলেই এক ঘা বসিয়ে দেয়”
পরক্ষনেই ফুস করে নিশ্বাস ছেড়ে বলল
“দেখো বউ, আজ ছুটির দিন। সপ্তাহে একটা দিন বাসায় থাকি। ছুট পাট না করে ভালো মেয়ের মতো কথা শুনো। তারচেয়ে ভালো চুপটি করে শুয়ে থাকো লক্ষীটি হয়ে”
কি মনে করে শান্ত বাচ্চার মতো নিরবে পড়ে রইলো সে। বাধ্য বউয়ের মতো জবাবদিহিতা করতে করতে বলল
“আমার কাজ আছে ইলহাম, নির্বাচনের আর বেশিদিন নেই। নির্বাচন প্রচারণার কাজে সবাই ব্যাস্ত, আমি যদি প্রার্থী হয়ে বাসায় শুয়ে বসে দিন কাটাই এটা ভালো দেখায় না। আর ইরা তার কাজে কখনো গাফলতি করে না”
মুচকি হেসে তার ঠোঁটে চুম্বন আঁকলো ইলহাম। এক সেকেন্ডের স্পর্শ অথচ তা যথেষ্ট ছিলো ইরাকে কাঁপিয়ে দিতে। শিরশির করে উঠলো তার সমস্ত কায়া। তাকে দেখে ইলহামের হাসি প্রসারিত হলো। গলদেশে নাক ঘষে ফিসফিস করে সুধালো
“কি বলছিলে?”
নিশ্বাস আটকে পড়ে রইলো সে, ইলহামের কথায় কোনো ধ্যানজ্ঞান নেই। তার শরীরের কাঁপন অনুভব করে শব্দ তুলে হেসে উঠলো ইলহাম। তবুও এক চুল ছাড় দিলো না তাকে বরং আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরলো। কানের লতিতে চুমু খেয়ে হাস্কিস্বরে বলল
“তোমার কি মনে হয় না জান? জনসেবা করতে যেয়ে স্বামী সেবায় গাফিলতি করছো? ইউ নো হোয়াট বেবি? জনসেবার চেয়ে স্বামী সেবা অনেক প্রাপ্তির, আনলিমিটেড আদর পাওয়া যায়।”
মুচড়ে উঠলো ইরা, ইলহামের সুঠাম দেহের নিচে চাপা পরে দম ফুরিয়ে আসছে তার। হাফরের ন্যায় নিশ্বাস নিতে নিতে গালি দিয়ে উঠলো তাকে
“শা*লা হাতি, গন্ডার, ছাড় আমাকে। শুধু একবার ছাড়া পাই তোর আদরের ভুত তাড়াবো আমি”
“ইট'স নট ফেয়ার মুনলাইট, ছাড়তে বলে আবার নিজেই হুমকি দিচ্ছো। এই অবলা বাচ্চাটা ভয় পায় তো, ছাড়বো না আজ”
“প্লিজ, ইলহাম। আমাকে যেতে হবে, ওরা অপেক্ষা করছে আমার। বাচ্চাদের মতো বিহেভ করো না”
সেই তেজি কন্ঠে এবার ফুটে উঠেছে অসহায়ত্ব। ইলহাম শুনলো না তার কথা। দুপাশে মাথা নেড়ে অসম্মতি জানিয়ে বলল
“উহুম,আজ দিন শুধু তোমার আর আমার। ওইসব কাজ ফাজ সাইডে রাখো। একদিনের'ই তো ব্যাপার কিছু হবে না। ওদের বলে দাও আজ তুমি যাচ্ছো না, ওরা সামলে নিবে। বিকেলের দিকে ঘুরতে বের হবো আমরা”
“আমি বিকেলের আগেই চলে আসবো। বিশ্বাস করো”
“উহুম, তোমাকে বিশ্বাস নেই আমার”
চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল ইরা, রাগটুকু গিলে নেওয়ার বৃথা প্রয়াস চালালো হয়তো। বন্ধ চোখের পল্লব ঝাপটে তাকালো ইলহামের পানে, যার দৃষ্টি তার মুখশ্রী পানেই নিবদ্ধ। ঠোঁট এলিয়ে হাসলো ইরা, মুহুর্তের মধ্যেই মুখ ডুবালো ইলহামের গলায়, বউ আদর করবে ভেবে আবেশে চোখ বুঝে ছিলো সে কিন্তু ধাক্কা লাগলো তখন। যখন তার ঘাড়ের নরম মাংসপিণ্ড দাতে পিষে ধরলো ইরা। দাতে দাত চেপে সয়ে নিলো ইলহাম, কয়েক সেকেন্ড অতিবাহিত হওয়ার পরও যখন ইরা ছাড়লো না তখন ফেসফেস করে বলে উঠল
“লাগছে মুনলাইট”
দন্তের চাপ বাড়ালো ইরা, ইলহাম অনুভব করলো তার একপাশ অবশ হয়ে আসছে। ব্যাথায় নীল হয়ে আসা মুখখানি ছাপিয়ে গেছে বিস্ময়। সে বুঝতে পারলো হাতের বাধন না ছাড়া অব্ধি ইরা ছাড়বে না তাকে। তবুও হার মানতে নারাজ সে, বউয়ের দন্ত বিষে মারা পরবে আজ, তবুও ছাড়বে না তাকে। মিনিট পেরুতে নিভে আসলো ইরা, জ্বিভে নুনতা স্বাদ আস্বাদন করতেই ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকালো ইলহামের পানে। চোখ মুখ খিচে আছে সে, আড়চোখে তাকালো তার আঘাত করা স্থানে। লাল রঞ্জক তরল গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম। কিছুটা খারাপ লাগলো তার, ছেলেটা কি বেশি ব্যাথা পেলো? তার ভেতরের পাথর সত্বাটা যেনো চেচিয়ে উঠলো
“পাক, তাতে তোর কি? এটা ওর প্রাপ্য সাজা। এতো বার বাড়তে নেই। ইরার উপর যে কর্তিত্ব ফলাতে চাইবে তাকে ঠিক এভাবেই ক্ষত বিক্ষত করে দিবে সে”
কিন্তু তার বিবেক যেনো শান্ত স্বরে বলে গেলো তাকে
“ও তোর স্বামী ইরা, তোর উপর সম্পূর্ণ অধিকার আছে মানুষটার। এমন অবিচার তুই করতে পারিস না”
অগুছালো চিন্তা ভাবনায় মগ্ন অন্যমনস্ক ইরা ভরকে গেলো ইলহামের অতর্কিত আক্রমণে। তার আঘাতের প্রতিঘাত স্বরূপ তার ছোট আকৃতির সরু নাকটাকে দন্ত দ্বারা চেপে ধরেছে ইলহাম। সাপের ন্যায় মুচড়ে উঠলো সে, ছটফট করতে করতে আঘাত করতে চাইলো তাকে, কিন্তু ব্যার্থ হলো তাতে। ইলহামের গায়ে যেনো অশরীরির শক্তি ভর করেছে, সে ইরা কেন তার মতো আর দশটা ইরার ও সামর্থ্য হবে না তাকে টলাতে। কয়েক সেকেন্ড অতিবাহিত হওয়ার পর ছেড়ে দিলো ইলহাম। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে ফিসফিস করে বলল
“বউয়ের থেকে পাওয়া প্রথম লাভ বাইট ইট ওয়াজ সো কুল”
নিরবে পড়ে রইলো ইরা, নাকে চিনচিন ব্যাথা করছে। ইরা আন্দাজ করতে পেরেছে, ইলহামকে দেওয়া তার কামড়ের অর্ধেক বলও প্রয়োগ করেনি ইলহাম। যতটুকু আঘাত লেগেছে এতে শুধু দাগ পড়বে, এতোটুকুই। তাতেই তার এমন ব্যাথা? আর সে তো রীতিমতো লোকটার মাংস তুলে নিয়েছে নিশ্চয়ই অনেক ব্যাথা পেয়েছে। ব্যাথাতুর চোখে তাকালো তার পানে, চোখে চোখ পড়তেই তার নাকের ডগায় টুপ করে চুমু খেলো ইলহাম। কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠলো
“ভালোবাসি মুনলাইট”
চলে গেছে সে, কিন্তু পেছনে ফেলে রেখে গেছে হতবাক বিস্ময়কর এক জোড়া চোখের চাউনি। এতোক্ষণ ছাড়া পেতে ছটফট করতে থাকা ইরা যেনো এবার নড়তেই পারছেনা। ওই একটা শব্দ চুষে নিয়েছে তার শরীরের সকল শক্তি। কি আছে মানুষটার মধ্যে? আর কি'ই বা আছে তার মধ্যে? কেন মানুষটা হাজার তুচ্ছতাচ্ছিল্য, ভর্ৎসনা উপেক্ষা করে তাকে ভালোবাসে? সেই বা কেন এখন মানুষটার সাথে কঠোর হতে চেয়েও হতে পারে না। এই একটা শব্দই যথেষ্ট তার সকল ধ্যানজ্ঞান কেড়ে নিতে, আর এই মানুষটা যখন দিন রাত এক করে সারাক্ষন ভালোবাসার ভুলি আওড়ায় সে পারেনা পাথর হতে। পারেনা মানুষটার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে। তার খুব ইচ্ছে হয় এই ভালোবাসা আঁকড়ে ধরতে, বাকি জীবনটা ভালোবাসার ছায়াতলে কাটিয়ে দিতে। একবার না হয় ভালোবেসে দেখবে সে, ভালোবাসা বলতে কিছু এগজিস্ট করে কিনা।
_____
ছুটির দিনে সকলেই আজ বাসায় অবস্থান করছে, কিছুক্ষণ পূর্বে ইরা বেরিয়েছে ইলেকশনের কাজে। খাবার টেবিলে প্রসঙ্গ তুলেছিলো ইলহাম, ইনায়া আর মীরাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে। বোনের এই আমুল পরিবর্তন ভাবায় তাকে, প্রতিদিন নিয়ম করে একবার বোনের সাথে সময় কাটায়। চেষ্টা করে বোনকে স্বাভাবিক করার। আয়ুশের সাথে প্রথম কদিন রাগ করে কথা বলেনি, ধীরে ধীরে সময়ের সাথে তা ঠিক হয়ে গেছে। সে জানে বাচ্চামো তাকে মানায় না, ভালোবাসা, ভালোলাগা, অনুভুতি কারো হাতে থাকে না। পুরোটাই নির্ভর করে মনের উপর, তাছাড়া ইনায়াকে বোন ভেবে ভালোবাসা এটাই ছিলো স্বাভাবিক বরং এর বাহিরে অন্য কিছু ভাবলে সেটা হতো অবাঞ্চনীয়। ভুলটা ইনায়ার ছিলো যে সে ভুল মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, এতে তো আয়ুশের কোনো দোষ নেই।
ইলহামের ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনায় ইরার উপস্থিতি ছিলো অকল্পনীয়। হুট করেই বলে দিয়েছে ইরা, বেরুনোর আগে কল দিয়েন আমায় চলে আসবো। ইলহাম কখনো আশা করেনি যে ইরা এতো সহজে তার সাথে ঘুরতে যেতে রাজি হবে। অবশেষে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন যাবে তারা।
লিভিং রুমের সোফায় বসে আছে আয়ুশ, ইনায়া, মীরা। ইরহামকে নিয়ে বেরিয়ে গেছে ইলহাম। তাদের একান্তে ছেড়ে গেছে কিছু সময়। স্বাভাবিক হওয়ার জন্য দুজনের দেখা সাক্ষাৎ বোঝাপড়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সোফায় বসে আছে দুজন, মীরা তাদের বিপরীত পাশেই বসে আছে। সে ইনায়ার থেকে শুনেছে সব, তারপর এতোটুকু বুঝেছে আয়ুশ অবিচার করেছে। লোকটা বড়ই নিষ্ঠুর। আজ কদিন পর মুখোমুখি হলো দুজন? সেদিনের পর আর কেউ কারো মুখদর্শন করেনি। মাথা নিচু করে বসে আছে ইনায়া, চোখ মুখ শুকিয়ে বসে গেছে অতলে। অস্বস্তিবোধ করলো আয়ুশ তার স্পষ্ট মনে আছে শেষ যখন দেখা হলো তখনও মেয়েটা কেমন গুলোমুলো আর প্রানবন্ত ছিলো। মেয়েটার এমন করুন চেহারার পেছনের কারনটা যে সে তা খুব ভাবালো তাকে। অপরাধবোধ জেঁকে বসলো হৃদয় জোড়ে।
প্রথম কথা সে’ই বলল
গলা ঝেড়ে তরল কন্ঠে সুধালো
“শুনলাম, কলেজে গিয়েছিলে ভর্তি হতে। সবকিছু ঠিকঠাক মতো হয়েছে?”
তার সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছে ছিলোনা ইনায়ার, তবুও অবাধ্য মন এড়িয়ে যেতে পারলো না তাকে। এ পর্যায়ে তাচ্ছিল্য হেসে বলল সে
“আমার খোঁজ খবর রাখার সময় হয় আপনার আয়ুশ ভাই?”
ব্যাথিত হলো আয়ুশ, মেয়েটা কি ভুলে গেছে সে তাদের পরিবারের এক অংশ। বোনের মতো দেখাশোনা করত। তার ভাইদের অবর্তমানে সেই সামলে নিতো যেকোনো প্রয়োজন অপ্রোয়জন।
“এমন করে বলছো কেন? তুমি আমার বোনের ম…”
হাত উচিয়ে থামিয়ে দিলো সে, বিরস কন্ঠে বলল
“আর বলবেন না প্লিজ, অনেক শুনেছি এই কথা। শুনতে ভালো না লাগলেও বলছি, এই কথা শুনতে ঘৃণা হয় আমার। অসহ্য লাগে”
“আমার আর ইসরাতের মধ্যে তেমন কো…”
আয়ুশের অসম্পূর্ণ কথা টেনে নিয়ে শক্ত গলায় বলে উঠল ইনায়া
“আমাকে কৈফিয়ত দিতে হবে না ভাইয়া, সেটা একান্তই আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার”
মুখের উপর প্রতিটি কথার দাত ভাঙা জবাব দিয়ে চলে গেছে সে, পেছনে ফেলে রেখে গেছে ব্যাথিত এক সত্বা। বাকরুদ্ধ আয়ুশ বলার মতো আর কিছুই খোঁজে পেলো না। ছোট থেকে দেখে আসা নরম স্বভাবের চঞ্চল ইনায়ার কন্ঠে এতো কাঠিন্যতা পীড়া দিলো তাকে। কোথায় যেনো বুকের মধ্যে চিনচিন ব্যাথা অনুভব হলো তার। এই পীড়া মেনে নিতে পারছে না সে। আর না পারছে ওই শুকিয়ে যাওয়া মায়াবী মুখখানি এড়িয়ে যেতে। এ কোন দুটানায় পড়লো সে? সে তো মেয়েটাকে ভালোবাসে না তবে কেন তার এমন করুন পরিণতি মেনে নিতে পারছে না?
#চলবে