#ছায়াবৃত_রোদ্দুর
#আয়রা_ইবনাত
৩৬.
সূর্যের কোমল আলো যেন নিস্তব্ধ পৃথিবীকে ধীরে ধীরে ঘুম থেকে তুলে দিচ্ছে। বাতাসে মিশে আছে রাতভর ভেজা মাটির স্নিগ্ধ গন্ধ। আকাশটা পুরোপুরি নীল হয়নি তখনও, হালকা সোনালি আলো আর ফিকে মেঘের ভাঁজ মিলেমিশে এক শান্ত, নির্মল সকাল গড়ে তুলেছে। ইলহামদের বিলাসবহুল ফ্লাটের ভেতরেও সেই সকালের প্রশান্তিময় নরম আলো ছড়িয়ে পড়েছে। ডাইনিং টেবিলের উপর সাদা টেবিলক্লথটা জানালা দিয়ে আসা রোদের রেখায় আরো উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। এক পাশে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ তুলে চুমুক দিচ্ছে ইরা, তার পাশে ইলহাম গভীর মনোযোগ দিয়ে দুধে ভেজানো ওট’স চামচে তুলে মুখে নিচ্ছে। পাউরুটিতে মাখন লেপ্টে রাখছেন রিতা খালা। পাশে ফলের প্লেটে সাজানো আছে টাটকা আপেল, আঙুর আর কমলার টুকরো। ছোট প্লেটে রাখা অমলেটের উপর ছড়িয়ে আছে কুচি ধনেপাতা। পাশে আবার বিরিয়ানির প্লেট। সবাই বসেছে গোল হয়ে, যার যা ভালো লাগছে নিয়ে খাচ্ছে। কোনো তাড়াহুড়ো নেই তবে কোথাও তো একটা খুশির আমেজ লেগে আছে আজ যে বাড়ি ফিরবে সবাই। নাস্তা সেড়েই বের হবে সকলে, সকাল সকাল রিতা খালাকে ঈদের বোনাস ধরিয়ে দিয়েছে ইলহাম, তিনি তো আজ খুশিতে নাস্তার আইটেম বাড়িয়ে দিয়েছেন। খুশি কি আর ধরে রাখা যায়, বোনাস বেতন সাথে আবার লম্বা ছুটি।
খেতে খেতে ইনায়া ও আয়ুশের দিকে আড়চোখে তাকালো ইলহাম। দুটো পাশাপাশি চেয়ারে বসেছে, আসলে বসেনি আয়ুশ এসে বসেছে ইনায়ার পাশে। এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছে সে সরিয়ে দিলে আবার পাতে তুলে দিচ্ছে আয়ুশ। বলা বাহুল্য মেয়েটা এখনো সেই দিনটাতে পড়ে আছে, এরপর থেকে আর পারেনি আয়ুশের সাথে স্বাভাবিক হতে আর না তো পেরেছে নিজেকে স্বাভাবিক করতে। ইলহাম লক্ষ্য করেছে, আগে দুজনের মধ্যে যে সাপ বেজির সম্পর্ক ছিলো সেটি আর নেই। ইনায়া মিইয়ে গেছে তাতে তার খারাপ লাগে তবে আয়ুশ যে ইয়ানায়ার প্রতি কেয়ার দেখায় ইদানিং যেছে পড়ে কথা বলে এসব তার ভালো লাগে। তার বোনটা আয়ুশের জন্য কষ্ট পাচ্ছে সেখানে আয়ুশ যদি তাকে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট করে তাহলে এভাবে গো ধরে বসে থাকার কিছু নেই। তবে কিছুটা নাকানিচুবানি খাওয়ানো উচিত। আদরের বোনটা তার ভিষণ মনোকষ্ট পেয়েছে কিনা, তার বোন হয়ে এমন কিছুটা গো ধরে বসে না থাকলে সেটা বরং বেমানান লাগবে।
তার ভাবনা চিন্তার মধ্যেই খাবার প্লেট ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো ইনায়া। নাকের পাটা ফুলিয়ে হিসহিসিয়ে বলল
“সমস্যা কি আপনার? শান্তিতে দুটো দানা খেতেও দিবেন না? কেন আমাকে বিরক্ত করছেন?”
আয়ুশ অনুভূতিহীন চোখে তাকিয়ে রইলো, কি বলবে হয়তো বুঝে উঠতে পারছেনা। কাদা মাটির মতো নরম মেয়েটার এতো পরিবর্তন যে তার সহ্য হয়না। আর তার জন্য সে নিজেই দায়ী। এক বুক অস্বস্তি, হাহাকার আর অনুসূচনা তাকে স্বস্থি দেয়না। তার মন সেই আগের ইনায়াকে ফিরে পেতে চায় এই অভিভূতি সে কাকে বোঝাবে?
ইলহাম বুঝলো হয়তো কিছু, ইনায়াকে ইশারা করে শান্ত হতে বলল। কি মনে করে গলা ঝেড়ে বলল
“আয়ুশ নাহয় তোকে খাইয়ে দিক? তোর কষ্ট করে খেতে হবে না”
“ভাইয়াহ!”
চেচালো ইনায়া, তার অভিমানের পাহাড় যে খুব মজবুত। এই পাহাড় ভাঙতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হবে বুঝলো সে। তাতে কি? যার জন্য এই পাহাড় গড়ে উঠলো তা ধ্বসে দেওয়ার দায়িত্ব তারই। ইলহাম চোখে হাসলো, বন্ধুকে কিছু বোঝালো হয়তো। চতুর আয়ুশ ধরে ফেলল সেটি, ঝটফট এক টুকরো পরোটা ছিঁড়ে ডিম বাজি দিয়ে তুলে ধরলো ইনায়ার মুখের সামনে। চোখে অশ্রু জমলো তার, এই যত্ন, এই ভালোবাসা এসব পাওয়ার জন্যই তো এতোকাল মুখিয়ে ছিলো। হারানোর ভয়ে অনুভূতিগুলো তুলে ধরেছিলো কিন্তু মানুষটা তো তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো, ভালোবাসে না আঘাত করতে হাত উঠিয়েছিলো। কথাটি ভাবতে চোখের কোটর ছেড়ে অশ্রুকণা গড়িয়ে পড়লো, শত অভিমান থাকুক কিন্তু এই মানুষটাকে ফিরিয়ে দেওয়ার সাহস যে নেই তার, কি করে এই খাবার মুখে নিবে আর কি করেই বা ফিরিয়ে দিবে?
“কি হলো হা কর”
ইরা আড়চোখে তাকালো ইলহামের দিকে, সে নির্বিকার খাবার প্লেটে চামচ চালাচ্ছে যেনো কিছুই হয়নি এখানে। ইরা ফের তাকালো ইনায়া আয়ুশের দিকে, বাবাহ্ কত সুন্দর একজন খাইয়ে দিচ্ছে আর আরেকজন খাচ্ছে। ওদের দেখলে কি কেও বলবে যে এই ছেলেটা দাবি করে সে নাকি এই মেয়েকে ভালোবাসে না? তবে কেন এতো উতলা তার জন্য? সে না খেয়ে থাকলে কিংবা জীবন্ত লাশ হয়ে গেলেও তার তো মাথা ঘামানোর কথা না।
“রোজ! আমি কি তোমাকে খাইয়ে দিবো? না মানে এমনি বললাম আরকি”
মীরার দিকে ঝুকে ফিসফিস করে সুধালো ইরহাম, তার চোখেমুখে দুষ্টুমি তবে তার দেওয়া মিষ্টি সম্মোধন শুনে লজ্জায় গুটিয়ে গেছে মেয়েটা। ঠোঁট টিপে হাসলো ইরহাম, ফের সুধালো
“দিবো? না মানে তুমি ওদের দেখে আফসোস করবে সেটা কি আমি মানতে পারি বলো?”
“আফসোস হলে আমি আয়ুশ ভাইয়ের থেকে খেয়ে নিবো তবুও আপনার থেকে খাবো না”
“এই পিচ্ছি এবার ভালো হচ্ছে না কিন্তু শুধু খেয়ে দেখো আয়ুশ ভাইয়ের থেকে খাওয়ার জন্য আর এই মুখটাই থাকবে না”
ফুসে উঠলো মীরা, পাজি লোকটা কি তাকে থ্রেট দিচ্ছে? সে তো এটা কিছুতেই বরদাশ করবে না।
“আমি কিন্তু আপুর কাছে আপনার নামে বিচার দিবো বেয়াইন”
“তো আমি কি তোমার আপুকে ভয় পাই? যে…”
কথা বলতে বলতে ইরার দিকে তাকালো ইরহাম, ওমনি কলিজা লাফিয়ে উঠলো যেনো। তীক্ষ্ণ চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে ইরা। মেকি হাসলো সে, তড়িৎ বেগে সোজা হয়ে বসে জবাবদিহিতা করার মতো হেসে হেসে বলল
“না মানে খেতে খেতে বোর হচ্ছিলাম তাই গল্প করছিলাম দুজন”
“হুম,, বিয়ে করবেন সেটা সোজা বললেই পারেন ভাইজান, এতো ঘুরানো পেছানোর কি আছে। খেতে বসেও যদি বোর হয়ে যান তবে তো খুব তাড়াতাড়ি আমার জা আনার ব্যাবস্থা করতে হচ্ছে। না জানি বাকি কাজ করতে কতোটা বোর হন”
ঘরময় খিলখিল করে হেসে উঠলো সবাই, ইরা নিজেও সুক্ষ্ম ঠোঁট বাকালো। লজ্জায় মাথা চুলকালো ইরহাম, তার কাটখোট্টা ভাবিটা যে এভাবে নাস্তানাবুদ করবে আগে জানলে মুখে কুলুপ এটে বসে থাকতো। সবাই মিলে হাসি ঠাট্টায় খাবার খেতে ব্যাস্ত তখন আকস্মিক বেজে উঠলো কলিং বেল। রিতা খালা ছুটে গেলেন সেদিকে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফিরে এলেন সাথে ইসরাতকে নিয়ে। মেয়েটা কেমন গাল ফুলিয়ে আছে, ইরা সুক্ষ্ম হাসলো হয়তো অনুমান করতে পেরেছে এই গাল ফুলানোর মানে। ইলহাম চেয়ার দেখিয়ে বসতে বলল তাকে, কিন্তু বসলো না সে। বরং চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো কিছুটা দূরে, ওকে এতো চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখে না চাইতেও আড়চোখে তাকালো আয়ুশ। সে এতোক্ষণ মনোযোগ দিয়ে খাওয়াচ্ছিলো ইনায়াকে কিন্তু ইসরাতের আগমনে ইনায়া যে তীক্ষ্ণ চোখে তার ভাবাবেগ পরিলক্ষণ করছে সেটা সে আন্দাজ করতে পারেনি। ইসরাতের থেকে চোখ ফিরিয়ে ইনায়ার দিকে তাকাতেই অস্বস্তিতে পড়লো, মেয়েটা যে আবার তাকে ভুল বুঝবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
“আমার দেবরটা অনেক ছোট ইসরাত, নাহয় তোকে ওর গলায় ঝুলিয়ে দিতাম”
ইরার কথায় এবার গালের সাথে নাকের পাটা ফুলালো সে, মেকি রাগ দেখিয়ে বলল
“একদম মজা নিবে না আপু, তুমি হঠাৎ করে এভাবে চলে যাচ্ছো আমাদের একবার বললে কি হতো? আমরা কি তোমার সাথে চলে যাবো নাকি যে তোমার জামাইয়ের খরচ বাড়িতে দিতাম”
হাসলো ইরা, এবার তার হাসিতে কিছুটা শব্দ হলো। সাথে হাসলো সকলেই তবে হাসি নেই শুধু ইরহামের মুখে। প্রথম দিকে ভাবি মেয়েটাকে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়ার কথা বলতেই কিনা কিডনিতে টান পড়লো তার। এই মেয়ে যেই না পাজির পাজি কি তার ভাবির ভক্ত, কি জানি কথা কখন বলে দেয় হোক ছোট তবুও তোমার দেবর কে দিয়ে দাও। তোমাকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না
“চলে আসবো তো! আমাদের অনেক কাজ আছে না? মাত্র তো কয়েকটা দিন”
“মীরা যাচ্ছে?”
“হুম”
“আংকেল দিলো?”
“দিতে চায়নি আমি নিয়ে এসেছি। আমার বোনকে ছেড়ে এতোদূর শেষ কবে থেকেছি মনে পড়ছেনা”
“দেখলে আপু, নিজের বোন বলে এই কথা বললে কিন্তু আমার কথা তো একবারও ভাবলে না। প্রতি ঈদে তোমাকে সালাম না করলে আমার ঈদ হয়না আপু”
“আরে শালিকা এতো প্যারা নিচ্ছো কেন? তাহলে তুমিও চলো আমাদের সাথে। সবাই মিলে নাহয় ঈদটা জমজমাট কাটবে, চলো চলো তুমি গেলে আস্তো গরুর বারবিকিউ ট্রিট দিবো”
ইলহামের কথায় প্রফুল্ল হাসলো ইসরাত, খুশিটুকু চেপে কিছু বলতে যাবে তার আগেই খেকিয়ে উঠলো আয়ুশ
“একদম দরদ দেখাতে আসবি না ইলহাম, এই পুটিমাছ যদি আমাদের মাঝে এসেছে তাহলে গোড়ায় গলদ হবে। এই মেয়ের অতিরিক্ত বকর বকর যথেষ্ট ভালো মুডটাকে মাটি করতে”
“এই কা”না লোক এই, নিজেকে কি মনে করেন হ্যাঁ? লাট সাহেব? আপনার সাথে যাওয়ার জন্য আমি বসে আছি। যেখানে আপনি আছেন সেখানে আমি কেন একটা মশা যেতে হলেও সাত বার ভাবতে। দূষিত রক্ত মশার পেটেও হজম হয়না”
“এই বে”য়া”দব, লিমিট ক্রস করবে না একদম, থাপড়ে গাল লাল করে দিবো”
“আসেন দেখি টিউবলাইট,চার চোখয়ালা আমিও কামড়ে দিবো”
“হ্যাঁ পারো তো সেই কুকুরের মতো কামড়া”কামড়ি করতে, মানুষ হলে তো ভালো কিছু করবে”
“কা”না কি আর সাধে বলি? চোখদুটো থাকলে তো ভালো কিছু চোখে পড়বে”
“লিলিপুট পুটিমাছ, মাথায় তুলে এক আছাড় দিবো বাপ দাদার নাম ভূলে যাবি”
“আপনাকে..
“স্টপ…কি হচ্ছে কি এখানে? তোমরা এমন বাচ্চাদের মতো ঝগড়া করছো কেন আশ্চর্য!”
ইরার বিকট ধমকে চুপসে গেলো ইসরাত, তবে চোখ মুখ কুচকে এখনো তাকিয়ে আছে আয়ুশের দিকে। পারলে যেনো এক্ষুনি চিবিয়ে খায়। আয়ুশেরও একই অবস্থা বিরক্তিকর চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। বাকিরা সবাই হতভম্ব হয়ে দেখছে তাদের, ইনায়া বিস্ময়ে চোয়াল ঝুলিয়ে আছে। এদের মধ্যে কি আদৌ কিছু হওয়া সম্ভব যা সে ভেবেছিলো।
“আরে বউ ভালোই তো সিনেমা দেখছিলাম, দিলেতো বা হাত ডুকিয়ে”
গালে হাত দিয়ে বসেছিলো ইলহাম, তবে ইরার ধমকে এবার সার্কাস বন্ধ হতে বেজায় বিরক্ত সে। তার এমন নির্লিপ্ত ভাব দেখে বিরক্ত হলো ইরা, এবার তার ইচ্ছে হলো এই ইলহামকে মাথায় তুলে আছাড় দিতে তবে কি মনে করে বিরক্তিটুকু গিলে নিলো। উঠে গিয়ে ইসরাতকে একপাশ হতে জড়িয়ে ধরে বলল
“যাবি আমাদের সাথে?”
“আম্মুদের ছেড়ে কোথাও গিয়ে থাকতে পারিনা তো”
মন খারাপ করে বলল ইসরাত, তার কথা শুনে হাসলো ইরা। তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল
“তাহলে আম্মুদের সাথেই থাক, কথা হবে তো আমাদের। প্রথম সালামিটা তোকেই দিবো, ঠিক আছে?”
______
মেঘলা দিন, নেই রোদের ঝাঝালো তেজ, আর না তো আছে বৃষ্টি। নিভু নিভু রোদের আলোতে শান্ত প্রকৃতি যেনো অনন্য সুন্দর মিলন। সিলেট শহরের রাস্তায় একের পর এক গাড়ি পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে ইলহামদের মাইক্রো। জানালার পাশ ঘেঁষে বসে আছে ইরা, চোখ তার বাহিরেই নিবদ্ধ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেট ভূমির দর্শনে মন প্রাণ সজিব। তবে দৃষ্টি তার প্রকৃতির চেয়ে ইলহামের দিকেই পতিত হচ্ছে বেশি, ঘুরে ফিরে চোখ তার ফ্রন্ট মিররে আটকে যাচ্ছে। সাদা শার্ট কালো প্যান্ট আর চোখে সানগ্লাস। কিঞ্চিৎ লম্বা চুলগুলো সেট করে রাখা, চোখ ধাধানো সৌন্দর্য বুঝি একেই বলে! তবে দৃষ্টি তার ইলহামকে পরখ করার প্রধান কারন ইলহামের পরিচিত। শহরে প্রবেশ করার পর থেকে যত গুলো গাড়ি যাচ্ছে যতগুলো পথিক পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে সকলেই সালাম ঠুকছে তাকে। গাড়ির ড্রাইভার থেকে ধরে প্যাসেঞ্জার যাদের দৃষ্টিতে ইলহাম পড়েছে সকলেই ভদ্রতার সহিত সালাম দিয়ে যাচ্ছে। একজন ডাক্তার বুঝি এতো পরিচিত হয়? এতো তার সম্মান? নাকি আর কোনো পরিচয় আছে এর উল্টো পিঠে? ইরা তাকিয়ে রইলো অপলক ইলহামের প্রতিবিম্বে, এই হাসি খুশি প্রাণোচ্ছল মানুষটার এটাই কি আসল রূপ নাকি তার অজানায় এমন কিছু আছে যা তার স্বামী নামক পুরুষটার আসল পরিচয়। তবে কি ভেবে ভালো লাগায় চেয়ে গেলো মন, বুঝতে বাকি নেই মানুষটা সবার পছন্দের। এতো শান মান তো আর এমনি এমনি হয়নি, তা অর্জন করতে হয়েছে আর এই অর্জন তার স্বামীর গর্ব।
#চলবে