#ছায়াবৃত_রোদ্দুর
#আয়রা_ইবনাত
৪১.
স্নিগ্ধ রজনী গভীরতার চাদরে মুড়িয়ে যেতে ঢের বাকি। ফারুকি ভিলায় আজ নতুন করে আসর জমেছে, নিশা প্রহরের দ্বিতীয়াংশ। খাবার টেবিলে বসে ছেলে মেয়েরা সব বাবা মায়ের সাথে হৈ হুল্লোড় করছে। সাথে আছেন খান পরিবার। কার কি লাগবে না লাগবে হাতে হাতে এগিয়ে দিচ্ছেন রিপা ফারুকী ও মেয়েতুল্য গৃহপরিচারিকা আয়েশা। আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু নব বধু ইরা আহসান, শাশুড়ী তাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে বলেছিলেন তাতেই কি না গাল ফুলালো তাদের আদরের মেয়ে! তার অভিযোগ সেও তো এতোদিন পর বাড়ি আসলো কই তাকে তো খাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হলো যেই না ছেলে বউ পেলেন ওমনি তাকে ভুলে গেলেন! তারপর ইরা মানা করা সত্বেও তিনি খাইয়ে দিচ্ছেন তাদের। ইরা, মীরা ও ইনায়া তিনজনকেই এক হাতে করে খাইয়ে দিচ্ছেন এক থালার খাবার। প্রসঙ্গ এসেছিলো আজ রাতেই কিনা ছেলে মেয়ে দুজন মধু চন্দ্রিমায় বিলেত যাবে। ফিরতে তো কদিন যাবে, এলো থেকে নাকি যত্ন আদ্দির করা হয়নি মোটেও।
মাঝে দুদিন পেরিয়ে গেছে, এই দুদিনে সিলেটের আনাচে কানাচে উল্লেখ্য প্রায় প্রতিটি জায়গা ঘুরেছে তারা। জাফলংয়ের স্বচ্ছ জলে ভেসে থাকা ধুসর পাথর, রাতারগুলের সবুজাভ জলের বুকে এক টুকরো বন আর প্রকৃতির বুক ছিড়ে বয়ে যাওয়া মনোরম জল ফুয়ারা সহ অনেক অনিন্দ্য সুন্দর শান্তির প্রাঙ্গণের প্রত্যক্ষ দর্শনে মন মাতিয়েছে। আজ সারাদিন বাড়িতে অবস্থান করেছে, রাতে ব্যাংককের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পরিকল্পনা। খান পরিবার সবাই আজ বিকেলে এসেছেন তাদের সম্বর্ধিত বিদায় জানাতে।
রাজকীয় এক বিশাল ডাইনিংয়ের দু মাথায় বসেছেন দুই ফারুকী সাহেব। ইরফান ফারুকীর পাশে আছেন জাবেদ খান, পাশে তার স্ত্রী। আর বাকি দুপাশে বসেছে তাদের ছেলে মেয়েরা সব। অনেকটা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবেই আয়ুশের জায়গা হয়েছে ইনায়ার বিপরীত পাশে। খাবার প্লেট থেকে চোখ তুললেই দুজনের মুখদর্শন হয় তবে এমন প্রত্যক্ষ দর্শনকেও খুব সুক্ষ্ম ভাবে বার বার এড়িয়ে যায় ইনায়া। খাচ্ছে থেকে তো খাচ্ছেই, খাবার চিবুতে চিবুতে মাঝে দুয়েকটা কথা বলছে মা কে আবার ইরা মীরার সাথেও এটা ওটা নিয়ে কথা বলছে। বাকিরা সবাই এক যোগে কোনো প্রসঙ্গ তুললে সেখানেও পুরন কাটছে সকল ধ্যান জ্ঞান তার এখানেই শুধু সামনের মানুষটাকেই যেনো দেখেও দেখছে না। কিন্তু সেটাই মানতে পারছে না আয়ুশ। এক সময় এমন কোনো দিনের প্রহর গুনতে চাওয়া মনটাও এখন বেইমানি করছে। মেনে নিতে পারছে না এখন, এখন মন বলছে সেই আগের মেয়েটাই তো ভালো ছিল। যখন খাবার টেবিলে বসে অকারনেই আয়ুশ ভাই আয়ুশ ভাই করে মেয়েটা জ্বালাতন করতো তখন বিরক্ত হতো! এই তো এই খাবার টেবিলে বসেই কিনা কত ইতি উতি করতো মেয়েটা। তার প্লেট থেকে ছিনিয়ে নিতো এটা ওটা কিংবা কখনো তার প্লেটেই তুলে দিতো ভালো কোনো খাবার। খেতে খেতে হঠাৎ করে হাত ফসকে চামচ ফেলে নিচে ঝুকে যেতো আর চামচ উঠাতে যেয়ে চিমটি কাটতো তার পায়ে। চামচ পড়ে যাওয়া তো ছিলো শুধুই বাহানা। সেই পুরনো দিনগুলোর কথা মনে পড়তেই বুকটা কেমন করে উঠলো আয়ুশের। এতো তাড়াতাড়ি কি করে এতো পরিবর্তীত হয়ে গেলো সে? কি করে এতো এতো পাগলামুতে লাগাম টানলো?
“আর খাবো না আম্মু, অনেক খেয়ে নিয়েছি”
খাবার মাঝ পথে বাধ সাধলো ইরা, দেখে বুঝে ডায়েট মেইনটেইন করে অল্প অল্প করে খাওয়া সে এখন শাশুড়ীর হাতে পড়ে পরিমাণের চেয়ে একটু বেশি'ই খেয়ে নিয়েছে। কিন্তু তাতেও থামতে রাজি নন রাখিয়া ফারুকি, মেকি ধমক দিয়ে বললেন
“কি খেয়েছো তুমি? এই এক প্লেট থেকে তিনজনকে খাইয়ে আরেক প্লেট নিয়েছি মাত্র এতেই খাওয়া শেষ? সবটা শেষ করে উঠবে”
“আম্মু আমিও আর পারবো না”
ইরা কিছু বলার আগেই ইনায়াকেও মানা করতে দেখে চোখ গরম করে তাকালেন তিনি। তিনজন মিলে এইটুকু খেতে পারছে না? এর জের ধরে ভালোই কথা শুনালেন। মীরা যদিও মানা করেনি তবে সেও আর বেশি খেতে পারবে না। হয়তো আরও দুয়েক বার নিয়েই মানা করতো। কিন্তু এখন ওদের অবস্থা দেখে না চাইতেও হেসে ফেলল ভাব নিয়ে বলল
“দেখলেন আন্টি মীরার মতো সবাই হতে পারে না, আমি কত গুড গার্ল দেখলেন সেই প্রথম থেকে খাচ্ছি একবারও কিন্তু মানা করিনি”
তার কথার প্রত্যুত্তরে সবাই হাসলেন একযোগে। ইরহাম তখন টিপ্পনী কেটে বলল
“হ্যাঁ দেখতেই তো পাচ্ছি কত গুড গার্ল এতো খাও বলেই তো এই অবস্থা। আমি তো এটা ভাবছি, এই যে আসছে ঝড়ের মৌসুম তোমাকে না আবার পিলারের সাথে বেধে রাখতে হয়। পাছে না আবার কোনদিকে উড়িয়ে নিয়ে যায় কে জানে”
মীরা বেজায় রেগে গেলো, ঘরভর্তি মানুষের সামনে কথাটা খুব গায়ে লাগলো তার। নাক মুখ কুচকে বোনকে বলল
“আপু, তোমার দেবরকে সাবধান করে এসব আমি একদম বরদাস্ত করবো না। আমার সাথে এমন করলে আমি এখানে থাকবো না। আমি এক্ষুনি চলে যাবো”
“আচ্ছা যাও, আমি এগিয়ে দিয়ে আসবো?”
ইরহাম ফের টিপ্পনী কাটলো,গাল ফুলালো মীরা, সবাই ঠোঁট টিপে হাসছেন, ইরাকে গম্ভীর হয়ে বসে আছে দেখে সপ্তদশী রমনী বেজায় কষ্ট পেলো। বুঝলো তার বোনটাও পর হয়ে গেছে, তার হয়ে দেবরকে দুটো কথা শুনাবে না। সে তাকালো ইলহামের দিকে, নত মস্তকে খাবার প্লেটে হাত চালাচ্ছে। সেও যে হাসছে এটা বুঝতে বাকি নেই তার। তাই এবার দুঃখে কষ্টে কাউকে কিছু না বলে গাল ফুলিয়ে বসে রইলো। রাখিয়া ফারুকি বিস্তর হাসলেন তার মাথায় হাত বুলিয়ে নমনীয় কন্ঠে কিছুটা অভিযোগ নিয়ে সুধালেন ইরহামকে।
“কত মিষ্টি মেয়েটা, দেখতে একদম পুতুলের মতো। এইটুকু নাহয় হালকা পাতলা গড়ন পেয়েছে তাই বলে তুই এমন করে বলবি ইরহাম? তুই জানিস ওর বয়সে তুই কেমন ছিলি? তখন তো ইলহাম এক হাতে তুলে নিতো তোকে।”
রাখিয়া ফারুকির কথায় যেনো হাসির বিস্ফোরণ ঘটলো ডাইনিংয়ে। ঘরময় মুখরিত হলো সবার খিলখিল হাসিতে। ইরহাম লজ্জা পেলো খানিক, ভোতা মুখে শুধু চেয়ে দেখলো সকলকে। মীরা যেনো মজা পেলো খুব, সুযোগটা মিস করলো না বরং ফাঁকে একবার মুখ ঝামটা দিয়ে বিদ্রূপ হাসলো। রিপা ফারুকী এগিয়ে এলেন, ইরহামের পাতে এক পিস মাংস তুলে দিতে দিতে বললেন
“হয়েছে আপা, ছেলেটাকে আর লজ্জা দিও না। এখন দেখো তো আমার বাবা কত বড় হয়েছে? কেউ বলবে সে এমন ছিল? তুমি নিশ্চয়ই মিথ্যে বলছো”
ঠোঁট টিপে হেসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। খাবারে ইশারা করে বললেন।
“খাও তো বাবা, তুমি খাও কারো কথায় কান দিও না”
হাসিটুকু চেপে নিয়ে ভাইয়ের থেকে চোখ ফিরিয়ে স্বচ্ছ কাচের পানি পাত্র তুলে ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি পান করলো ইনায়া। হাতের উল্টো পিঠে ঠোঁট মুছে একটি হাই দিয়ে মাকে বলল
“আমার ঘুম পাচ্ছে আম্মু গেলাম আমি।”
“কোথায় যাবি? আগে খাবার শেষ কর তারপর যাবি। শরীরের কি অবস্থা হয়েছে আয়নায় দেখেছিস? কি থেকে কি হয়েছিস সেই খেয়াল আছে? খাবারে এমন অনীহা দেখেই তো এই অবস্থা। কোনো কথা শুনছিনা, সব খাবার শেষ করবি”
রাখিয়া ফারুকির ঠান্ডা ধমকে চুপসে গেলো ইনায়া, আড়চোখে একবার তাকালো আয়ুশের দিকে। তক্ষুনি চোখাচোখি হলো দুজনার, ব্যাথিত নয়নে তাকিয়ে সে। এই সুন্দর স্বাস্থবতী সুসুশ্রী রমনীর ধেবে যাওয়া চক্ষু আর ভেঙে যাওয়া শরীরের পেছনের কারনটা যে সে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার নিজেকেই মনে হলো সর্ব অপরাধি।
ইনায়া শুনলো না মায়ের কথা, মেকি কান্নার ভান করে খাবারের প্রতি স্পষ্ট অনীহা জানিয়ে ধপাধাপ পা ফেলে প্রস্থান করলো সেখান থেকে। তৎক্ষনাত আয়ুশ পিছু নিলো তার, পকেট থেকে ফোন বের করে জরুরী ফোনের তাগিদের বাহানায় চলে এলো উপরে।
বিপরীত মুখি এপার ওপার করিডোরের বাম প্রান্তে ইনায়ার ঘর, সে সবে মাত্র ভেতরে প্রবেশ করে দরজা দিবে ওমনি ঝড়ের বেগে সেটি আটকে দিলো আয়ুশ। আচমকা কেউ এভাবে সামনে আসায় চমকে উঠলো ইনায়া, খানিকটা নড়ে উঠলো তৎপর। সেই সুবাধে দরজার নব চেপে ধরা হাত ফসকে গেলো অনায়াসেই। আয়ুশ পা রাখলো ভেতরে, এক পা দুপা করে এগিয়ে গেলো ইনায়ার সম্মুখে। মেয়েটা বিস্ময় আর অপ্রস্তুততায় পিছিয়ে গেলো দুপা। আয়ুশ চেপে ধরলো তার হাতের কব্জি, হেচকা টাকে দেয়ালের সাথে মিলিয়ে দিলো তার পিঠ। সহসাই দুপাশে হাত রেখে মুখোমুখি আটকে ধরলো তার বাহুডোরে। শুকনো ঢোক গিললো ইনায়া, সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তার মুখাবয়বে নজড় বুলালো। চোয়াল শক্ত করে খসখসে গলায় সুধালো
“সমস্যা কি? কেন এসেছেন এখানে?”
আয়ুশ খুব স্বাভাবিক, চেহারায় নেই কোনো গাম্ভীর্য, নেই কোনো বিরক্তি, আর না তো আছে রাগ। দৃষ্টিতে তার সীমাহীন শীতলতা। ইনায়ার শুকনো মুখপানে তাকিয়ে ঠান্ডা স্বরেই সুধালো
“সমস্যা কি সেটা তো তুই বলবি, আমাকে জিজ্ঞাসা করছিস কেন?”
“দূ..দূরে যান”
কল্পপুরুষকে প্রথম বারের মতো এতো কাছে পেয়ে অষ্টাদশীর হৃদযন্ত্র ছুটেছে বেগতিক। তার উপর এমন শীতল দৃষ্টি তার অন্তরান্তা কাঁপিয়ে দিতে অনঢ়। পেলব কায়াখানি কুঁকড়ে গেলো খানিক, থরথর করে কেঁপে উঠলো কমল বোনের ন্যায়। চকিতেই দূরত্ব বাড়ানোর হুশিয়ারি দিলো রমনী কিন্তু বেপরোয়া পুরুষ তার হুশিয়ারি বাণীকে থোড়াই করলো দাম্ভিকতায়। বরং পূর্বের তুলনায় আরও কাছ ঘেঁষে দাড়ালো তার। দূরত্ব ঘুচিয়ে নিজেদের মধ্য ঘনিষ্ঠতা বাড়ালো। ইনায়া সেটে গেলো দেয়ালের সাথে। হাত পায়ের তালু শিরশির করছে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে হুংকার দিলো
“স..মস্যা কি এ..এমন করছেন কেন? স..সরুন এখান থেকে”
“সমস্যা তো তোর, সেটা আমাকে বর্তাচ্ছিস কেন? কি সমস্যা? আমাকে ইগ্নোর করিস কেন?”
বুকের দগদগে ক্ষতটা যেনো জ্বলে উঠলো মুহুর্তেই। ক্ষেপা বাঘিনীর মতো তেতে উঠলো ইনায়া। দুহাত মেলে প্রবল ধাক্কা হাকালো সম্মুখভাগে দন্ডায়মান পুরুষের শক্ত বুকে। আয়ুশ পিছু হটলো একপা। তবে দৃষ্টি তার ইনায়াতেই অটল। সে হুংকার ছুড়লো,, দাতে দাত পিষে হিসহিসিয়ে বলল
“আদিখ্যেতা দেখাতে আসছেন? আমি ইগ্নোর করি কিংবা লুতুপুতু করি তাতে কি আসে যায় আপনার? এর জবাবদিহিতা কেন চাইছেন? এতে তো আপনার খুশি হওয়ার কথা তাইনা? এটাই তো চেয়েছিলেন? তাহলে এখন কেন জবাবদিহি করতে আসছেন?”
“ভুলে যা না ওসব, এমন করিস না। তোকে এভাবে দেখতে ভালো লাগে না আমার। আগের মতো হয়ে যা প্লিজ!”
তাচ্ছিল্য হাসলো রমনী। ঠোঁটের কোণে বাকা হাসি ফুটিয়ে উপহাস করে বলল।
“কাদা মাটি রোদে পুড়ে শক্ত হয় আয়ুশ ভাই, তারপর আঘাত করলে ভাঙে এটা জানেন তো?”
নিস্প্রভ শূন্য চোখে তাকালো আয়ুশ, সেথায় ফুটে উঠেছে অসহায়ত্ব। ফের এগিয়ে এলো নিকটে রমনির পেলব দুহাত মুঠোয় পুরে নির্জীব কন্ঠে অনুনয় করলো।
“তোকে এভাবে দেখে আমার খুব কষ্ট হয় ইনু, তুই আমাকে ইগ্নোর করিস এটা মেনে নিতে পারছি না এই যে এখানে অনেক ব্যাথা অনুভব করি”
সফেদ শার্টের নিচে আবৃত বুকের বা পাশ ইশারা করলো সে। ইনায়া চোখ নামিয়ে নিলো নিম্মিত্তে। শক্ত হাতের মুঠোয় পুরে রাখা নিজ দুহাত ছাড়িয়ে নিয়ে বিরস কন্ঠে বলে উঠল।
“আমার স্বচ্ছ কাঁচের মতো ওই হৃদয়ে করা আঘাতের কাছে এসব কিছুই না আয়ুশ ভাই। ভালোবাসেননি তো ভালোবেসে অপমানিত হওয়ার কষ্ট আপনি কখনো অনুভব করতে পারবেন না।”
“প্লিজ বিরক্ত করবেন না আমাকে! বেরিয়ে যান। আমার ঘুম প্রয়োজন”
অনুভূতির অনুভূতিরা তার কেমন হয় সেই তিক্ত সত্যগুলো তুলে ধরার অবকাশ দিলো না রমনি। সে কিছু বলতে চাইলে তার আগেই চলে যেতে হুশিয়ারি দিলো। অগ্যতা এবারের মতো তাকে পরিত্রাণ দিয়ে সে নিরবে বেরিয়ে গেলো।
_____
“না গেলে হয় না ইলহাম?”
বিছানার এক কোনে হাট করে খোলে রাখা ট্রলি ব্যাগে প্রয়োজনীয় সকল কিছু গুছিয়ে রাখছে ইলহাম। চারপাশে ছড়িয়ে আছে হরেক রকম কাপড় আর ছোট খাটো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস। ইরা তার ঠিক পাশে বসা, শাশুড়ী তার কয়েকখানা শাড়ী দিয়েছেন সেখানে পড়ার জন্য। সেগুলো হাতের মুঠোয় পুরে নিস্প্রভ চোখে তাকিয়ে উক্ত প্রশ্ন করলো সে। ইলহাম চকিতে তাকালো, যাওয়ার কথা উঠেছে থেকে এই কথা কয়েক হাজারবার বলেছে তার বউ। প্রথমে তো বেকে বসেছিলো যাবেই না, মায়ের দোহাই দিয়ে কতকি বলেই না রাজি করালো তাও তার খচখচ গেলো না। সে প্রসস্থ হাসলো প্রেয়সীর পাশে বসে একহাতে আগলে নিলো তাকে। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল
“একবার গিয়েই দেখো বউ আর ফিরতে ইচ্ছে করবে না”
“আমি সিরিয়াস ইলহাম, বিশ্বাস করুন আমার একদমই যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মনটা খুব খচখচ করছে। আমার অনেক কাজ পড়ে আছে ইলহাম। থাইল্যান্ড না গিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গাজীপুর ফিরে যেতে চাই আমি”
“মাত্র তিন চারটে দিন তারপর তো ফিরেই যাবো। আপাতত এসব কাজ টাজ সাইডে রেখে সেখানে গিয়ে কি করবে না করবে সেটার প্লান করো”
“ইলহাম!”
“হুশ! কোনো কথা না, যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। ধীরে ধীরে প্রস্তুত হও। আমার গুছানো শেষ আর পাঁচ মিনিট লাগবে”
ইলহাম তাড়া দিলো তাকে! অগত্যা না চাইতেও লম্বা ভ্রমণের জন্য তৈরি হতে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো। ইরা আহসানের নিজ ইচ্ছার উপর কারো কর্তিত্ব ফলানোর সাহস নেই। আর না তো কেউ কর্তিত্ব ফলাতে পেরেছে। কিন্তু না পেয়ে পাওয়া এই মায়ের ভালোবাসার কাছে সবই যেনো ঠুনকো। তাই তো ইচ্ছে না থাকা সত্বেও শাশুড়ী যেনো মন খারাপ না করেন কষ্ট না পান এ কথা ভেবে যেতে রাজি হলো। শতই হোক এমন মমতাময়ী শাশুড়ীর মনে সে জেনে বুঝে কষ্ট দিতে পারবে না। সে কঠোর হতে পারে কিন্তু অকৃজ্ঞ নয়, এতো ভালোবাসা দিয়ে আগলে নেওয়া মানুষটাকে কি করে কষ্ট দিবে!
#চলবে।