ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়াবৃত রোদ্দুর

৪৬তম পর্ব

লেখক: আয়রা ইবনাত

#ছায়াবৃত_রোদ্দুর

#আয়রা_ইবনাত

৪৬.

"গাজীপুর-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইরা আহসানের সহকর্মী ইসরাত জাহানের নির্মম মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। গত সোমবার সকালে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর তিনি আর ঘরে ফিরে আসেননি। পরবর্তীতে পরিত্যক্ত এক অবৈধ ডেরা থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। ডেরা অনুকরণভেদে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি সাবেক জেলা সভাপতি আকবর আলীর অনুচরদের কাজ। এই নৃশংসতার পর থেকেই আকবর আলী ও তাঁর অনুসারীদের গ্রেফতার করতে পুলিশী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাঁরা এখনও পলাতক। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শেষবারের মতো আকবর আলীকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা গিয়েছিল। কোনো এক অলৌকিক উপায়ে তিনি কি তবে দেশত্যাগ করেছেন? নাকি এই নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অন্ধকার রহস্য? এই ঘটনা এবং তাঁর সহকর্মীর এমন নৃশংস পরিণতি নিয়ে খোদ সংসদ সদস্য ইরা আহসানের অবস্থান ঠিক কী? তিনি কী ভাবছেন? বিস্তারিত জানতে আমরা সরাসরি চলে যাচ্ছি আমাদের প্রতিনিধি সোহেল রানার কাছে।"

টেলিভিশনের উজ্জ্বল পর্দায় জ্বলজ্বল করছে এক অনিন্দ্য সুন্দরী তরুণী সংবাদ উপস্থাপিকার মুখ। সেই মিষ্টি কণ্ঠের আবৃত্তি শেষ হতেই পর্দার দৃশ্যপটে দ্রুত বদল ঘটলো। লাইভ ক্যামেরার ফ্রেমে ভেসে উঠল শিববাড়ির ১৪ নম্বর রোডের মধ্য প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তিনতলা এক রঙিন ভবন। তপ্ত রোদের মাঝে ছাতা আর বুম হাতে দাঁড়িয়ে একজন রিপোর্টার। তিনি মাইক্রোফোন উঁচিয়ে বলতে শুরু করলেন,

“আমি এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি শিববাড়ির এই বহুতল ভবনটির নিচে, যা সংসদ সদস্য ইরা আহসানের স্বামীর বাসভবন একইসাথে ভিক্টিম ইসরাত জাহানের বাসভবন। প্রিয় সহকর্মীর এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে ইরা আহসান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছিল। আমরা ঘটনা জানাজানি হবার পর থেকেই তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। প্রথম দিকে আমরা তার নাগালে না পৌছাতে পারলেও ভোরের দিকে তিনি হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান বলে গুঞ্জন ছড়ায়। সকাল থেকে আমরা তাঁর সাথে যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ। তবে আমাদের কাছে থাকা সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ইরা আহসান এই মুহূর্তে এই বাসভবনের ভেতরেই অবস্থান করছেন। আমরা বারবার বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলেও, ভেতর থেকে এখনও আশানুরূপ কোনো সাড়া মেলেনি। পুরো এলাকা জুড়েই এখন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কি হবে এর পর? ইরা আহসান কি পারবেন তার সহকর্মীর হত্যাকারীদের প্রাপ্য শাস্তি মঞ্জুর করাতে?”

লিভিং রুমের বিশাল এলইডি স্ক্রিনে সকালের এই উত্তপ্ত নিউজটি আলোড়ন তুলতেই মুখে ‘'চ’’ সূচক শব্দ করলো ইরা। টেলিভিশনের তীব্র আলো এসে পড়ছিল তাঁর ক্লান্ত তীক্ষ্ণ চোখের ওপর। পাশে বসা ইলহাম, রাখিয়া ফারুকি, ইরফান ফারুকী সহ সকলেই আছে সেখানে। সবার দৃষ্টি পর্দার ওই চলমান চাঞ্চল্যের দিকে।

মিডিয়ার এই মনগড়া গল্প আর অতিরঞ্জিত নাটকীয়তা দেখে ইরার ভেতরের বিরক্তি চরমে পৌঁছাল। সে ডান হাতে রিমোটটা চেপে এক ঝটকায় বন্ধ করে দিলো জ্বলন্ত টিভির পর্দা।

টিভির পর্দা কালো হয়ে আসতেই লিভিং রুমের সেই দমবন্ধ করা নীরবতা আরও গাঢ় হলো। আরাম কেদারার পিঠে মাথাটা এলিয়ে আলতো করে চোখ দুটো বুজে নিলো ইরা। দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক লড়াই, পুতুলের মতো মেয়েটার এমন নৃশংস মৃত্যু, আর এখন দরজার বাইরে অপেক্ষারত ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো মিডিয়ার ভিড় সব মিলিয়ে তাঁর মস্তিষ্কের ভেতর অসহ্যকর বিরক্তি ও এলোমেলো ক্ষোভ যেনো কিলবিল করছে। ক্লান্তিতে মাথাটা ভেঙে আসছিলো। রাখিয়া ফারুকি থমথমে মুখাবয়বে তীর্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন তার পানে। কাল থেকে তিনি যে শকের উপর আছেন এরপর আর ইরার সাথে কোনোরূপ বাক্যবিনিময় করেননি। এ পর্যায়ে যেনো আর চুপ থাকতে পারলেন না নীরবতা ভেঙে ঘরের ভেতর আছড়ে পড়লো চাবুকের ফলার মতো তীক্ষ্ণ কন্ঠ, কথার পিঠে খানিক ঠেশ দিয়ে তিনি বলে উঠলেন

“টিভি বন্ধ করলে কি হবে চাইলেই তো সবকিছু এড়িয়ে যাওয়া যায়না। এতোই যদি বিরক্ত হও তবে এসবে জড়িয়েছো কেন? দেশ সেবার যখন এতোই শখ তাহলে বাহিরের লোকেরা ঘরের দরজায় এসে নাচানাচি করবে এটাও তো মেনে নিতে হবে তাইনা? বলা যায় কি কখন না আবার ঘরে এসে গা ধাক্কা দিয়ে মুখের উপর আওয়াজ তুলে”

শাশুড়ির কণ্ঠের এহেন অপ্রত্যাশিত সুরের আঘাতে তীব্র ঝটকায় চোখ মেলে তাকালো ইরা। তাঁর অবশ হয়ে আসা শরীরটা এক টানে সোজা হয়ে বসল। সে স্তব্ধ, খানিক হতভম্ব হয়ে শাশুড়ির দিকে তাকালো চোখ তুলে। সর্বক্ষণ মমতায় আগলে রাখা, আদুরে শাশুড়ীর হঠাৎ এমন কথার ভাড় যেনো হজম করতে পারলো না সে। শূন্য চোখে শুধু তাকিয়েই রইলো। ভেসে এলো ইলহামের নরম স্বর, সে শান্ত কন্ঠে ডেকে উঠলো মাকে

“আম্মু, কি বলছো এসব?”

“তুমি চুপ করো আব্বু, আমাকে বলতে দাও। মেয়ে মানুষ হয়ে কেন এসব করতে হবে? রাজনীতি কোনো ভালো মানুষ করে না আর না তো রাজনীতির মাঠে কোনো ভালো মানুষ টিকে থাকতে পারে। দূরে কেন যাবো নিজেরা'ই তো দেখলে ফুলের মতো একটা মেয়ের জীবন অকালে ঝড়ে গেলো। রাজনীতির এই নোংরা খেলায় আমার ঘরের বউকে আমি কিছুতেই মেনে নিবো না। হয়তো রাজনীতি ছাড়বে নয়তো আমার ছেলেকে”

কথাগুলো বলতে বলতে চেহারায় কাটিন্যতা ফুটে উঠলো তার। ইরা বিস্ময়ে হতবাক, তার সেই চেনা শাশুড়ী যেন আজ অচেনা। তখনি ইরফান ফারুকী স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মৃদু ধমক দিলেন

“হচ্ছে কি রাখিয়া? তোমার মাথা ঠিক আছে? কি বলছো এসব?”

“আমি যা বলছি ভেবে চিন্তেই বলছি ফারুকী সাহেব, ভুলে যেও না তোমার ছেলে মরতে মরতে বেঁচে ফিরেছে। আজ তার স্ত্রীকেও একই পথের পথিক হতে দিতে পারিনা আমি। শুধু সে কেন জল গড়িয়ে বিপদ যে আমার ছেলেকে ছুবে না এর কি নিশ্চয়তা আছে?”

ইলহাম, ইনায়া, আয়ুশ তিনজনে মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। এই দিনটার ভয়েই তো ছিল এতোকাল। আগেই তো অনুমান করেছিলো এসব শুনলে তাদের মা ইরাকে মেনে নিবে না।

রক্তশূণ্য মুখে একবার তাকালো ইলহামের দিকে। সে মাথা নিচু করে দাত খিচে বসে আছে, দেখেই বুঝা যাচ্ছে ভেতর ফেটে আসা রাগ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

“সময় কি সব এক হয় নাকি। তুমি শান্ত হও, ঘরে চলো আমরা পরে ঠান্ডা মাথায় কথা বলবো”

“আমি ঠান্ডা মাথাতেই কথা বলছি, তোমার বউমাকে বলো আমার কথার জবাব দিতে”

“ও জবাব দিতে বাধ্য নয় আম্মু, আর না তো ও কারো কথায় নিজের লক্ষ্যভেদ করবে। ও আমার স্ত্রী ওর কাজ এবং ওর লাইফের কোনো কিছুতে যদি আমার কোনো অসুবিধা না থাকে তবে সেখানে আর কারো অসুবিধা থাকার কোনো কারন দেখছি না আমি”

হঠাৎ করেই ছেলের এমন গর্জন তুলা কন্ঠে খানিক থামলেন রাখিয়া ফারুকি, তবে তার অবস্থান থেকে এক চুলও নড়লেন না আর তো ছেলের দিকে একবার ফিরে তাকালেন। বরং ছেলেকে থোড়াই করে শক্ত কন্ঠে এবার নিজেই হুকুম ছুড়লেন ইরাকে

“ভাবার জন্য তোমাকে সময় দিলাম, ভেবে দেখো কি করবে। হয় রাজনীতি নয়তো আমার ছেলে দুটোর মধ্যে একটা তোমাকে বেছে নিতে হবে”

তার শ্যামবর্ণের তীক্ষ্ণ মুখাবয়বে কাঠিন্যতা নেমে এসেছে, শাশুড়ির এই অভাবিত ঔদ্ধত্য তাঁর ভেতরের সুপ্ত অহংকার আর আত্মসম্মানে কাঁপন ধরিয়েছে। ক্রোধ আর বিস্ময়ের এক মিশ্র অনুভূতিতে গম্ভীর মুখশ্রীতে ইস্পাত কঠিন ধারালো চোয়াল দুটি শক্ত হয়ে বসল, গালের চামড়া টানটান হয়ে উঠল। চোখের মণি দুটো স্থির, যেন এক লহমায় ঘরের সব আলো শুষে নিয়ে এক জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। তাৎক্ষনিক বিদ্যুৎ বেগে সোফা ছেড়ে উঠে দাড়ালো সে দাতে দাত পিষে ঠোঁটের কোণে ক্রুর হাসি ফুটিয়ে বলল

“ভাবার প্রয়োজন নেই, আসছি”

উপস্থিত থাকা সকলেই বিস্ময়ে হতবাক, রাখিয়া ফারুকি নিজেও এতোটা আশা করেন নি যে ইরা সত্যিই এভাবে চলে যাবে তার ছেলেকে ছেড়ে তাও তার এক কথায় শুধু মাত্র রাজনীতির জন্য? এক কোনে দাঁড়িয়ে থাকা মীরা অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে ইলহামের দিকে, যার অগ্নি দৃষ্টি এখন জ্বালিয়ে দিচ্ছে ইরাকে। সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে ইরা সত্যিই দরজার দিকে পা বাড়ালো, ওমনি গলা ছেড়ে চেচিয়ে উঠলো ইলহাম

“ইরা! আর এক পা যদি বাড়িয়েছো তাহলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না”

ইরা এক পেশে হাসলো, তার সম্মুখ ভাগ বিপরীতে থাকায় সেই হাসি কারো দৃষ্টিগোছর হলো না। যদি কেউ দেখতো তাহলে ঠিকই বুঝতে পারতো ইরার এই হাসির মানে, ইরা কাউকে থোড়াই করেনা। নিজ অহমিকা দেখিয়ে সে আরও দুপা এগিয়ে গেলো, ইলহামের ধৈর্যের বাধ ভাঙলো। হুশিয়ার করার পরও তাকে উপেক্ষা করার স্পর্ধা দেখানোর দায়ে ছুটে গিয়ে এক থাবায় চেপে ধরলো ইরার পেলব চোয়াল। দাত কিড়মিড় করে হিসহিসিয়ে বলল

“শুনিসনি কি বলেছি? কোথা থেকে পাস এতো সাহস আমাকে ছেড়ে যাওয়ার? কলিজা ছিঁড়ে হাতে ধরিয়ে দিবো”

ইরফান ফারুকী হতবিহ্বল হয়ে ছুটে গেলেন ছেলের কাছে এক ধাক্কায় তাকে ইরার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মেয়েটা আগলে নিলেন বাহুতে। কন্ঠে তেজ ঢেলে ধমকে উঠলেন তাকে

“তুমি কি পাগল হয়ে গেছো ইলহাম? এই শিক্ষা দিয়েছি আমি তোমায়? ওর গায়ে হাত দেওয়ার সাহস কোথায় পেলে তুমি?”

“কেটে টুকরো টুকরো করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিবো, আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সাহস দেখাবে কেন ও?”

বাবার কথায় দ্বিগুন তেজ দেখিয়ে জবাব দিলো সে। ছেলের এহেন অভিযোগে আর প্রতিত্তোর করার মতো কোনো ভাষা খোজে পেলেন না তিনি। বুঝলেন ছেলেটা বড্ড বেশি'ই ভালোবাসে মেয়েটাকে। কিন্তু এটা ছেলের মা বুঝলেই হয়! তিনি শূন্য চোখে তাকালেন রাখিয়া ফারুকির দিকে। তৎক্ষনাত চোখাচোখি হলো দুজনার। এক দৃষ্টিতেই সহধর্মিণীর মন পড়ে নিলেন তিনি। ওই চোখে তখন তার থেকেও দ্বিগুন বিস্ময় সাথে ভয়। তবে এর শেষ পরিণতি কি?

জানালার ভারী পর্দা ভেদ করে দুপুরের ম্লান আলো এসে দুল খাচ্ছে নরম বিছানায়। তীব্র উত্তেজনার পর পুরো ফ্লাট জুড়ে এখন এক নিস্তব্ধতার রাজত্ব। গোছানো বিছানায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ইরা। ঘুমের ওষুধের প্রভাবে তাঁর ক্লান্ত শরীরটা নিথর, কিন্তু অবচেতন মনের ধকল যেন এখনো তাঁর কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ হয়ে লেগে আছে। তার শিয়রে শান্ত হয়ে বসে আছে ইলহাম।

তার মুনলাইট মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, সেখানে তার মায়ের এমন কঠোর আচরণ অশোভনীয়। কথাগুলো তো দুদিন পরেও বলা যেতো, তবে মাকেই বা কি দোষ দিবে, মায়ের মন এইটুকু কঠোর তো হওয়ারই ছিল। তবুও নিজেকে সামলাতে ব্যার্থ হয় সে, বাহিরে তখন সাংবাদিকদের উপচে পড়া ভিড়, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর অবান্তর হুল্লোড়। ঘরের ভেতরের এই অশান্তি আর ইরার এমন কঠিন আচরণে ইলহাম নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। তার সমস্ত পুঞ্জীভূত ক্ষোভ গিয়ে আছড়ে পড়েছিল তাদের উপর। রণমূর্তি ধারণ করে সাংবাদিকদের সাথে তুমুল বাকবিতণ্ডা, চেঁচামেচি আর রীতিমতো এক লঙ্কা কাণ্ড বাধিয়ে সে সাফ হুকুম দিয়েছে, ব্যক্তিগত জীবনে এমন কোনো সস্তা নাটক সে বরদাশত করবে না। ইলহামের সেই রুদ্ররূপের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মেনে, ক্যামেরার লেন্স গুটিয়ে একে একে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিল তিলে তাল করা অহেতুক লোকগুলো।

ইলহাম যখন ঘরে ফেরে, ইরা তখন পাথরের মতো বসে ছিল সোফার কোণে। অনুভূতিহীন শূন্য চোখ দুটোতে অনিমেষ ক্লান্তি। মীরা,ইনায়া পাশে বসে এটা ওটা বলে যাচ্ছে অথচ সে নির্লিপ্ত। মেয়েটার বিশ্রাম প্রয়োজন, অথচ সেই মানসিকতাও নেই তার। অবশেষে বাধ্য হয়ে জলের সাথে ঘুমের ঔষধ দিয়েছে সে।

ঘুমন্ত ইরার শান্ত, নিস্পৃহ মুখশ্রীতে অপলক চেয়ে আছে ইলহাম। প্রিয় চেনা শ্যামবর্ণের মুখখানি, ধারালো চোয়াল আর দীর্ঘ চোখের পাতা। এই মেয়েটির গম্ভীর মেজাজ আর অটল ব্যক্তিত্ব তাকে সবসময় এক অদ্ভুত মায়ায় মুগ্ধ করে রাখে। আজও এই রণক্লান্ত রূপে ইরাকে কতটা অনন্যা, কতটা সম্রাজ্ঞীর মতো দেখাচ্ছে! এই মুগ্ধতার মাঝেই হুট করে তারর বুকের ভেতর একটা তীব্র অভিমান মোচড়ে উঠল। কিয়ংক্ষত আগেও এই মেয়েটা কিনা তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিলো! তার ভালোবাসা, তার অস্তিত্ব কি এই মেয়েটার কাছে এতোই সস্তা? সে নিচু হয়ে কিঞ্চিৎ ঝুকলো ইরার উপর, নিশ্বাস বন্ধ করে এক মুহুর্ত চেয়ে দেখলো তার রুদ্ররূপিণীকে, পরপর শুষ্ক ঠোঁট ধাবিয়ে দীর্ঘ চুমু আঁকলো তার তামাটে ললাটে। চুলের ভাজে হাত বুলিয়ে কোমল কন্ঠে বলে উঠলো

“এই নিশ্বাস চলাকালীন কখনো আর ছেড়ে যাওয়ার দুঃসাহস দেখিও না মুনলাইট, যদি যেতেই হয় তবে কবরে ফুল রেখে যেও”

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন