ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৩৫তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-৩৫♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

আজ নিয়ে ১ সপ্তাহ হয়ে গেল সাদা বিলাই আমার সাথে কোনো কথা বলছেন না। কি হয়েছে উনার? আমি যতোবারই কিছু বলতে গিয়েছি ততবারই উনি আমায় পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছেন। যার জন্য ভীষণ বিরক্ত আমি।

উনি কি আমায় এতোটাই অপছন্দ করেন? আমি জানি এক্সিডেন্টলি আমাদের বিয়েটা হয়ে গিয়েছে তাই বলে কি একেবারেই দূরত্ব বাড়িয়ে দেবেন উনি? আমার ভাবীর ভাই হন উনি। আরেক দিক থেকে ভাইয়ের বেস্টফ্রেন্ড, টুকটাক কথাও তো বলতে পারেন! উনি কি বোঝেন না ভয় পেলেও উনার সাথে কথা না বললে আমার ভেতরটা কেমন যেনো ফাঁকা ফাঁকা লাগে?

.

আজ নিত্য আপু আর অগ্নি ভাইয়ার এনগেজমেন্ট আজকের দিনেও অন্তত একটু হলেও কথা বলা উচিত! নয় কি? কিন্তু না, উনি তো আমার আশেপাশেও আসছেন না। কেমন যেনো পালিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়োচ্ছেন। আচ্ছা আমি কি বাঘ নাকি ভাল্লুক? আমার থেকে পালাচ্ছেন কেনো উনি?

.

---- ছুটকি এখনোও রেডি হোস নি কেনো? তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। লোকজন আসতে শুরু করে দিয়েছে তো।

.

রুশো ভাইয়ার ডাকে ভ্রম কাটলো আমার। সেই ১ ঘন্টা আগে রেডি হতে পাঠিয়েছে আম্মু। আর আমি এখনো বিছানায় বসে সাদা বিলাই কে নিয়ে ভেবে যাচ্ছি! উফফফ....! কতো বলদ আমি।

কিন্তু রাত্রি এখনো এলো না কেনো? ও না আসলে আমি একা একা রেডি হবো কি করে? আম্মুও তো ব্যস্ত। ধ্যাত! তার মধ্যে এই শাড়ি আর জুয়েলারি হাতে ধরিয়ে দিয়েছে আম্মু। তার একটাই কথা, আজ যেনো টপস, স্কার্ট, টি-শার্ট এসব না পরি। কিন্তু একা একা তো পড়তেও পারবো না শাড়িটা৷

তাই অসহায়ের মতো ঠোঁট উল্টালাম আমি। রুশো ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলাম,

.

---- ভাইয়া, রাত্রি তো আসেনি এখনোও আমি তো একা একা শাড়ি পড়তে পারবো না।

.

আমার উত্তরে নিমিষেই হাসিমাখা মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো রুশো ভাইয়ার।

---- এটম বোম্ব হয়তো আসবে না রে ছুটকি।

.

রুশো ভাইয়ার কথায় কপাল কুঁচকে এলো আমার। এটা কেমন কথা? ভাইয়ার এনগেজমেন্টে আসবে না মানে কি?

---- তুমি কি করে জানলে যে আসবে না?

.

রুশো ভাইয়া বোধহয় কিছুটা ভরকে গেলো। আমতাআমতা করে বলে উঠলো,

---- এতোক্ষণেও যখন আসেনি। তাই আর কি আইডিয়া করে বললাম।

.

আসলেই এতোক্ষণে চলে আসা উচিত ছিলো রাত্রির। সাজুগুজু করলেও কোনো অকেশনে এতো লেট করার মেয়ে ও না।

ব্যাপারটা শিওর হওয়ার জন্য ফোনটা হাতে নিয়ে রাত্রির নম্বরে ডায়াল করলাম। কিন্তু আমায় হতাশ করে দিয়ে সেই চিরচেনা বিরক্তিকর নারী কন্ঠ ভেসে আসতে লাগলো ওপাশ থেকে।

" দুঃখীত! আপনার কাঙ্ক্ষিত নম্বরে এই মুহূর্তে সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। অনুগ্রহ করে কিছুক্ষণ পর ডায়াল করুন। Sorry, the number you dial is currently unreachable!"

নিমিষেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো আমার। মানেটা কি? ফোন বন্ধ কেনো ওর?

রেগেমেগে ফোন ছুড়ে মারলাম আমি। আসবে কখন রাত্রি আর আমি রেডি হবোই বা কখন!

.

রুশো ভাইয়া আমার অবস্থা বুঝতে পেরে কিছুক্ষণ চুপ থেকে কিছু একটা ভেবে বলে উঠলো,

---- হেই ডোন্ট টেক টেনশন। ইউ নো হোয়াট ছুটকি, টেনশন লেনে কা নেহি টেনশন দেনে কা হ্যায়!

.

বলেই রুশো ভাইয়া একপ্রকার ছুট লাগালো বাইরে। আর আমি হ্যাবলার মতো চেয়ে থাকলাম শুধু! হা? কি করতে যাচ্ছে ভাইয়া?

.

🌹

.

প্রায় ৭ মিনিটের মাথায় ঘরে প্রবেশ করলো ১ জোড়া পা। এই পায়ের অধিকারী কে তা দেখতে চোখ উপরে ওঠাতেই চোখজোড়া বড়বড় হয়ে এলো আমার।

সাদা বিলাই ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে আসছেন। উনার চোখ-মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে উনি চরম বিরক্ত। কেউ জোড় করে উনাকে এখানে পাঠিয়েছে এমন টাইপ। উনি আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বিরক্তিমাখা কন্ঠে বলে উঠলেন,

.

---- কি?

.

---- কোথায় কি?

.

---- সেটাই তো বলছি কি হয়েছে টা কি?

.

---- কোথায় কি হবে? আপনি এসেছেন কেনো?

.

নীবিড় ভাইয়ার বোধহয় আমার পাল্টা প্রশ্ন করাটা ঠিক পছন্দ হলো না। ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠলেন উনি,

---- তুমি একটা ১৮+ মেয়ে কে বলবে? জাস্ট থিংক কতোটা স্টুপিড তুমি! একটা শাড়ি পর্যন্ত পড়তে পারো না।

.

এবার বুঝলাম আসল কাহিনী। তার মানে রুশো ভাইয়া "টেনশন লেনে কা নেহি, টেনশন দেনে কা" বলতে আই সাদা বিলাইকে হেল্প কর‍তে পাঠানোর জন্য ভেবেছিলো? হায় আল্লাহ। কিন্তু রুশো ভাইয়া কি জানে, যে সে আমার টেনশন আগের থেকেও আরোও বাড়িয়ে দিয়েছে?

আমি চুপ করে এসব ভেবে যাচ্ছি তখন আবারও উনি ধমকে উঠলেন,

.

---- এই নাও এই ব্লাউজ এন্ড এটার নাম যেনো কি...? হোয়াট এভার, পড়ে আসো কুইক!

.

আমি অবাকের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে চোখদুটো আরোও বড়বড় করে ফেললাম! উনি চোখ রাঙিয়ে আবারও ধমকানোর পূর্বেই দিলাম এক দৌড়।

ওয়াশরুমের দরজা লাগিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম যেনো।

কি অদ্ভুত! আমিই চাচ্ছিলাম উনার সাথে কথা বলতে আবার যখন উনি এলেন তো ভয়ে কু্ঁকরে পালিয়ে এলাম। তবুও ভেতরে কেমন যেনো এক প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছি আমি।

ব্লাক কালারের ব্লাউজ-পেটিকোট পড়ে নিলাম তাড়াতাড়ি করে কিন্তু বিপত্তি ঘটলো এখানে, আমি শাড়িটা ফেলেই চলে এসেছি। পেট-পিঠ দুটোই বের হয়ে আছে আমার। এই সামান্য জড়জেটের পাতলা ওড়না দিয়ে কতটুকুই আর কভার করা যাবে? তাও কোনোমতে পেঁচায় পুঁচায় ওড়নাটা গায়ের সাথে জড়িয়ে নিলাম।

.

বের হতেই দেখি মি. সাদা বিলাই উল্টো দিকে মুখ ঘুড়িয়ে রেখেছেন। ভালোই হলো অবশ্য। এই ফাঁকে আমি ফট করে শাড়িটা গায়ের সাথে পেঁচিয়ে নিলাম। নিজেকে ঠিকঠাক ভাবে ঢেকে নেওয়া হয়ে গেলে একটা শুকনো কাশি দিয়ে বসলাম অামি,

---- আহহহুউউউউম! আহহুউউউউউম! আপনি এবার ঘুরতে পারেন।

.

আমার কথায় উনি চোখ বন্ধ রেখেই ঘুরে দাঁড়ালেন। যা দেখে আমার মনে হচ্ছে লজ্জা নামক জিনিসটি বোধহয় আমার মধ্যেই নেই আর উনার মধ্যে লজ্জার খনি রয়েছে।

.

---- চোখ বন্ধ রাখার কিছুই নেই৷ চোখ খুলতে পারেন। আর চোখ বন্ধ থাকলে শাড়িটা পড়িয়ে দেবেন কিভাবে?

.

আমার কথা শুনে উনি "শাট আপ!" বলে চেঁচিয়েই পিটপিট করে চোখ খুলতে শুরু করলেন।

পুরোপুরি চোখ খুলে হুট করে আমায় একটান মেরে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে শাড়ির আঁচলটা কাঁধে ঠিক মতো পিন দিয়ে আটকিয়ে নিলেন। আর আমি শুধু রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছি। হাহ! করুক আজকে যা করার। আমি কিচ্ছু করবো না৷ আমি তো স্টুপিড! কিচ্ছু পারিনা। ওকে উনি পুরো শাড়ি একা একা কিভাবে পড়ান আমিও দেখতে চাই।

নীবিড় ভাইয়া হঠাৎ কিছু একটা ভাবতে শুরু করলেন৷ যা দেখে আমি জিজ্ঞেস করে উঠলাম,

.

---- কি? থামলেন কেনো। পড়ান।

.

উনি শাড়ির ডানদিকের পাড় হাতে নিয়ে ভ্রু কুচকে বোকার মতো বলে উঠলেন,

---- এটা, ডান দিকে গুঁজাবো না বাম দিকে! ইটস সো কনফিউজিং!

.

এবার আমার ভীষণ রাগ উঠতে লাগলো। আরে আমাকে শাড়ি পড়তে না পারার জন্য বকে নিজে এমন ভাবটা নিলেন যেনো উনি শাড়ি পড়ানোতে পিএইচডি লাভ করে এসেছেন। আর এখনই হাওয়া ফুউউউসসসস.....!

.

আমি মুখ খুলে কিছু বলতে যাবো তার আগেই উনি "ওয়েট আ মিনিট!" বলে আমায় থামিয়ে দিয়ে ফোনে মুখ গুঁজে দিলেন। বুঝলাম উনি পারবেন না একা একা যার জন্যে ইউটিউব মামার হেল্প নিতে শুরু করে দিয়েছেন। হুহ! যত্তসব।

.

🍁

.

রাত্রিদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে রুশো। কলিংবেল বাজাবে কি বাজাবেনা এই নিয়ে চরম কনফিউজড সে। আগের বার নাহয় রাতে চুপিচুপি এসেছিলো বলে সবাই তাকে চোর ভেবেছিলো কিন্তু এবার তো সে লুকিয়ে লুকিয়ে নয় বরং সদর দরজা দিয়ে ঢুকে ভদ্র ভাবে রাত্রিকে নিয়ে যেতে এসেছে। তাও কেনো যেনো সাহস কুলিয়ে উঠছে না তার। বারবার রাত্রির হাতে ঝাড়ু থাকার সিন টা ভেসে আসছে চোখের সামনে।

.

শেষমেশ অনেক ভাবার পর বুক ফুলিয়ে একটা দীর্ঘঃশ্বাস টেনে কলিং বেলে চাপ দিলো রুশো। জাস্ট ৫ সেকেন্ডের মধ্যেই খট করে দরজা খুলে যাওয়ায় খানিকটা অবাক হলো সে।

ভেতর থেকে বেড়িয়ে এলো এক হাস্যজ্বল মুখ।

.

---- জ্বি বলুন! কাকে চাই?

.

--- ইয়া মানে আপু, রাত্রি বাসায় আছে?

.

মহিলার বয়স আর চেহারা দেখে রুশোর মনে হলো উনি বোধহয় রাত্রির বড় বোন! তাই সে আপু বলেই সম্মোধন করলো মহিলাটিকে। কিন্তু রুশোকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করে দিয়ে মহিলাটি বলে উঠলেন,

.

---- হ্যাঁ রাত্রি বাসায়ই আছে, আর আমি ওর মা! কিন্তু তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না। কে তুমি বাবা?

.

রুশো কিছুটা ভরকে গিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলো। আমতাআমতা করে বলে উঠলো,

---- ইয়ে মানে সরি আন্টি। আসলে আপনাকে ইয়াং মনে হচ্ছে তাই রাত্রির বড় বোন ভেবে নিয়েছিলাম।

আমি রুশো। অনন্যার কাজিন, আজকে তো অগ্নি ব্রোর এনগেজমেন্ট জানেন নিশ্চয়। রাত্রি এখনোও যায় নি তাই ওকে নিতে আসলাম!

.

রুশোর মুখ থেকে নিজের প্রশংসা শুনে যেনো গর্বে বুক ফুলে উঠলো ভদ্রমহিলার। উনি এক গাল হেসে হঠাৎ চমকে উঠে বলে উঠলেন,

---- কি বললে? অগ্নির এনগেজমেন্ট? কই আমরা তো কিছু জানি না।

.

রুশো কিছু একটা ভেবে বলে উঠলো,

---- রাত্রিকে তো ইনভাইটেশন কার্ড দিয়েছিলো অনন্যা! হয়তো ও বলে নি আপনাদের।

.

শায়লা বেগম (রাত্রির মা) কিছুক্ষণ চুপ থেকে পর মুহূর্তে মুখে হাসি ফুটিয়ে রুশোকে টানতে টানতে ভেতরে নিয়ে যেতে লাগলো।

---- এসো এসো বাবা ভেতরে এসো। আমি এক্ষুনি রাত্রিকে রেডি করিয়ে আনছি।

.

শায়লা বেগম রুশোকে সোফায় বসিয়ে দিয়ে উপরে চলে গেলেন।

.

🌸

.

---- রাত্রিইইই....! আজ অগ্নির এনগেজমেন্ট আর তুই আমাদের জানাস নি! দেখ তো অনামিকা ভাবী কি ভাববেন আমাদের। আর অনন্যাটাই কি বলবে তোকে বল? এখন তো আর আমাদের যাওয়া সম্ভবও নয়। তোর বাবা অফিসে। তুই চট করে রেডি হয়ে নে।

.

রাত্রি হঠাৎ মায়ের কথা হকচকিয়ে যায়। সে বুঝে উঠতে পারছে না এই খবরটা তার মা কে কে দিলো।কতো সুন্দরভাবে লুকিয়ে যাচ্ছিলো সে অথচ শেষ মুহূর্তে এসে ধরা খেয়ে গেলো!

.

---- এমা! আমি তো একদম ভুলেই গিয়েছিলাম। আর এতোক্ষণে নিশ্চয় এনগেজমেন্ট হয়েও গিয়েছে। আর গিয়ে লাভ কি? আমি পরে অনন্যাকে মানিয়ে নেবো তুমি টেনশন করো না।

.

---- আজ্ঞে না৷ কিচ্ছু শেষ হয় নি। তুই জাস্ট ৫ মিনিটে রেডি হ। অনন্যার বাড়ি থেকে লোক এসেছে তোকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

.

বলেই শায়লা বেগম বেড়িয়ে গেলেন ঘর থেকে। আর এদিকে রাত্রি পড়লো মহাবিপদে। সে চাচ্ছিলো না এনগেজমেন্টে যেতে। কিন্তু মায়ের ওপরে কথা বলার সাহস নেই তার। তাই অগত্যা মুখ কালো করে একটা গাউন পড়ে রেডি হয়ে নিলো সে।

তবে আজ অন্য দিনের মতো কোনো সাজগোজ করলো না রাত্রি। কিভাবেই বা করবে? নিজের ভালোবাসায় মানুষটার অন্য মানুষের হাতে রিং পড়িয়ে দেওয়ার দিনে কি করে সাজবে সে?

.

নিচে নেমে আসতেই রুশোকে দেখে চোখ বড়বড় ক্ক্রে ফেললো রাত্রি!

---- আপনিইইইইই.....???

.

রুশো রাত্রির চিৎকারে হকচকিয়ে উঠে এক লাফ দিয়ে বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলো।

---- উফফফ...! বাচ্চেকা জান লোগে কেয়া? এমনিতেই ভয়ে ভয়ে আছি তারওপর এভাবে চিৎকার দিলে নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক করে মরে যাবো আমি।

.

রুশোর মুখ থেকে মরে যাওয়ার কথা শুনেই রাত্রির ভেতরটা কেঁপে উঠলো। রেগে গিয়ে বলে উঠলো সে,

---- কিসব আজে বাজে কথা বলেন? আর আপনি এসেছেন কেনো?

.

---- কেনো আবার তোমাকে নিতে! ছুটকির স্যাড ফেইস এই রুশো দেখতে পারে না জানো না? সো চলো এখন।

.

রুশো ভালো করে খেয়াল করে দেখলো রাত্রির মুখে কোনো সাজগোজ নেই। ক্রিম টাও দিয়েছে কিনা সন্দেহ।

কানেও কোনো দুল না পড়ায় কেমন যেনো ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। তা দেখে রুশো শায়লা বেগমকে ডেক দিয়ে বসলো,

.

---- আন্টি, রাত্রি এভাবে যাবে? ওখানে কতো গেস্ট আসবে। ওকে একটু ফাস্ট জাস্ট সিম্পলি রেডি করিয়ে দিন প্লিজ।

.

রুশোর কথায় শায়লা বেগমের রাত্রিকে এক ঝলক দেখেই কপাল কুঁচকে যায়। কড়া হুকুমে রাত্রিকে ভালো মতো রেডি হতে বলায় রাত্রি ২ মিনিটেই ঘোড়ার বেগে রেডি হয়ে এসে উপস্থিত হয়। আর এদিকে রুশো রাত্রির ভয়ে ভয়ে রেডি হওয়া দেখে মুচকি মুচকি হেসে যাচ্ছে।

আর মনে মনে বলছে সে, "রাত্রি, তোমাকে স্ট্রং হতে হবে!পালিয়ে পালিয়ে আর কতো দিন! আমি তোমার পাশে আছি তুমি ঠিকই সব ভুলে নিজের লাইফে ফোকাস করতে পারবে!"

মনে মনে কথাগুলো বলে একটুপরই শায়লা বেগমের সাথে কুশল বিনিময় করে রাত্রিকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে রুশো।

.

🍁

.

প্রায় ১৫ মিনিট ধরে টিউটোরিয়াল দেখে ড্যাশিং মুড নিয়ে ফোন রেখে আমায় শাড়ি পড়াতে লেগে পড়েন সাদা বিলাই। আগের বাড় তো শুধু কুঁচিই করে দিয়েছিলেন তাতেও হয়তো ভেবে নিয়েছিলেন শাড়ি পড়ানো ভীষণ সহজ। এখন দেখ কেমন লাগে! যত্তসব ঢং।

.

কুঁচি করা হয়ে গেলে আমার হাতে কুঁচি গুলো ধরিয়ে দেওয়ার আগেই আমি হাত সরিয়ে ফেললাম।

---- কি হলো ধরো?

.

আমি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে ডান হাতের নখ দেখতে দেখতে বললাম,

---- এতোক্ষণ ধরে টিউটোরিয়াল দেখে করলেন টা কি? আমি তো স্টুপিড। আপনি তো ইন্টেলিজেন্ট। সো ফার্স্ট টু লাস্ট। সবকিছুই আপনিয়ে করিয়ে দেবেন, আমি কিছু করছি না ব্যস।

.

আমার কথায় যেনো উনি আরোও খুশিই হলেন। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে এক হাত দিয়ে আমার কোমড় চেপে ধরে টেনে আনলেন নিজের কাছে। উনার আচমকা এমন করায় পুরো শরীরে এজ অজানা শিহরণ বয়ে গেলো আমার। সাথেসাথেই চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম আমি।

উনি আমার কোমড় আগের থেকেও আরোও শক্ত করে চেপে ধরে শাড়ির কুচিগুলো আমার কোমড়ের সামনের দিকে গুঁজে দিলেন। উনার হাত আমার উন্মুক্ত পেটে স্পর্শ করা মাত্রই শিউরে উঠলাম আমি। আচমকাই উনার শার্টে কলার শক্ত করে খাঁমচে ধরলাম। উনি এবার দুহাত দিয়ে আমার কোমড় ধরে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে নিলেন। এতোটাই কাছে নিয়ে গেলেন নিজের যে সেখানে ১ সে.মি এর মতোও গ্যাপ আছে কিনা সন্দেহ হতে লাগলো আমার।

উনি আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে শীতল কন্ঠে বলে উঠলেন,

.

---- কি? এখন কেনো ভয় পাচ্ছো? আমায় পাগল করার আগে এই ভয় কোথায় ছিলো হুম?

.

বলেই আমার কানের লতিতে ঠোঁট ছোঁয়ালেন উনি। এতে যেনো ৪৪০ ভোল্ট ঝাটকায় কেঁপে উঠলাম আমি। থরথর করে কাঁপতে শুরু করে দিয়েছি আমি ইতিমধ্যেই। উনি হঠাৎ এক হাত আমার কোমড় থেকে সরিয়ে সেই হাতে আমার পেটের ওপর থেকে আস্তে আস্তে শাড়ি সরাতে লাগলেন।

এতে আমি আরোও জমে গয়ে খপ করে উনার হাত চেপে ধরলাম।

.

.

.

চলবে....................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন