ফন্ট সাইজ:
থিম:
ধ্রুব তারা

১১তম পর্ব

লেখক: Akhi shekh

"ধ্রুবতারা"...

পর্ব..১১
লেখিকা...আখি শেখ..
......….....….....
" চল বাড়ি ফাকা আছে,  তোর ডাউট ক্লিয়ার করে দিই আই!"
 
তারা সমান তালে পিছিয়ে যাচ্ছে,  আর অস্পষ্ট স্বরে বলে যাচ্ছে, 
" ক- কি করছেন? আ- আমি আর ব- বলবনা, প্লিজ!"
পেছাতে পেছাতে তারার পিঠ গিয়ে ঠেকল সিড়ির রেলিং এ। কিন্তু ধ্রুব এখনো সেই ভাবেই আগাচ্ছে। শার্টের সব গুলো বোতাম  খোলা শেষ। তারা ধ্রুব উন্মুক্ত লোম হিন বুক দেখে গলা শুকিয়ে কাঠ কাঠ।  শুক্ন ঢোক গিলে আমতা আমতা করছে। ধ্রুব তারার খুব কাছে গিয়ে মাথাটা একটি ঝুকিয়ে আনে তারার মুখ বরাবর। নিজের এতো কাছে ধ্রুব র ওই সম্মোহনী চোখ দুটো দেখে তারার যেন পৃথিবী টা যেন থমকে গেছে।  ধ্রুব যখন তারার ঠোটের দিকে তাকিয়ে নিজের ঠোট দুটো এগিয়ে নিয়ে  যাচ্ছিল। তারার কি হলো কে জানে। কোনো বাধা না দিয়ে  নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে নিল। ধ্রুব ঠোট ছেরে যখন তারার চোখের দিকে তাকাল দেখল তারার চোখের পাতা পিট পিট করে কাপছিল।  বন্ধ চোখের পাতর নিচ দিয়ে  দুফোটা পানি গড়িয়ে পরল। 
ধ্রুব শুক্ন একটা ঢোক গিলে পিছিয়ে আসল। তরপর নিঃশব্দে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।  
অনেক সময় হয়ে গেল এখন কোনো কিছু না করতে দেখে তারার এক চোখ বন্ধ রেখেই আরেক চোখ খুলে সামনে তাকাই দেখে কেউ নেই। সাথে সাথেই দুটো চোখই খুলে ফেলে।  অনেক ক্ষন শ্বাষ আটকে রাখার দ্বরুন ঘন ঘন শাষ নিচ্ছিল বুক চেপে ধরে। 
মানুষ টা কোথায় গেল বোঝার জন্য ওপরে তাকাল দেখল ধ্রুব শেষ সিড়ি পার করছে। 
ধ্রুব ওপরে উঠে আবার পিছনে তাকিয়ে বলল,
" স্বঙের মতো দাড়িয়ে না থেকে যাহ গিয়ে এটা চেন্জ করে আই!  এই ভাবে গেলে আমি নেব না।  ১০ মিনিট টাইম দিলাম। "
তারা রেগে গিয়ে কিছু না বলে সোফার ওপর বসে পরল। কে বলল তাকে খারাপ  দেকতে লাগছে। কত সময় ধরে সাজলো। বড় আম্মু আমার জন্য এতো সুন্দর একটা ড্রেস কিনে আনল আজকে পড়ার জন্য। আর এভাবই যাবে।  সে কে যে তার কথা শুনে এখন তারাকে চেন্জ করতে হবে?  পারবে না চেন্জ করতে। তার কি জেদ নেই? পুরো চৌধুরী পরিবার আমার জেদ কে ভয় পাই,  আর এই পুরুষ টা কোনো পাত্তাই দেয় না। সে যা বলবে তাই হবে নাকি? 
" কিরে এখনো রেডি হসনি।?"
ধ্রুব নিচে নেমে দেখলো তারা এখনো সেভাবেই আছে চেন্জ করেনাই তাই এই প্রশ্ন করল। 
তারা তো ছেড়ে দেবার পাত্রী না। সেও ফুসে এসে বলল,
" এই দেখুন আমি আপনার ঘরের বউ নয় যে আপনি যখন যা বললেন আমাকে তখন তাই করতে হবে!"
" ঘরের বউ না বলেই বেচে গেলি,  আর তা না হলে তোর এই সাজ নষ্ট করার দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিতাম।"
" বললেই হলো, বড় আম্মু আমাকে এই ড্রেস টা দিয়েছে আজকের ইভেন্টে পরার জন্য।  আমি চেন্জ করতে পারব না। এভাবেই যাব আমি।"
ধ্রুব এবার কন্ঠ কিছু টা নরম করে বলল,
" তাহলে অন্তত চুল গুলো বেধে একটা হিজাব পরে আই।! "
তারা ঠোট উল্টিয়ে বলল,
" আমি পারি না তো হিজাব বাধতে। আমার তো হিজাব ও নাই।"
ধ্রুব তারা কে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে নিল। না খুব একটা খারাপ সাজ তো না। শালিনতা আছে সাজে। আর তাছারা তো ও সাথে যাচ্ছেই। 
" ঠিক আছে চল"!
ধ্রুব' র থেকে সম্মতি পেয়ে  তারা তো বেজায় খুশি।
ধ্রুব বাইকে উঠে বসল। তারা কে উঠতে বললে তারা বলল,
" শুনুন আমাকে আপনি একটা টোটো দেখে উঠিয়ে দিন। আমি আপনার বাইকে যাব না।"
" ঠিক আছে তুই এখানে দাড়া আমি তোর জন্যে হেলিকপ্টার ভাড়া করে আনছি!"
তারা ধ্রুব' র ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে বলা কথায়  ঠোট উল্টে বলল,
" আপনি সবসময় এমন কেন করেন? একটু মিষ্টি করে কথা বললে কি আপনার জাত চলে যাবে?"
" আই হেট সুইট' স! এবার ওঠ না হলে এখানে বসে থাক আমি চলে গেলাম।"
তারা আর উপায় না পেয়ে উঠে পরল। ধ্রুব'র গায়ের সাথে গা লাগলে ধ্রুব চেচিয়ে বলে উঠলো, 
" আমার শরিরের সাথে শরির লাগাবি না। সোসাল ডিস্টেন্স মেনটেইন করবি।"
" আচ্ছা আপনি কি মানুষ এই ভাবে বাইকে বসা যাই?"
" হ্যা আমি মানুষ কিন্তু পুরুষ মানুষ আর তুই মহিলা মানুষ! তাই যা বললাম তাই কর।"
" আপনার চোখে আমাকে দেখে মহিলা মানুষ মনে হলো?"
" সে কি তুই মহিলা না তাহলে কি?"
" আমি মেয়ে মানুষ!  আর মহিলা মানুষ মাঝ বয়সী মেয়েদের বলে।"
" ওহ তাই বল! আমি তো অন্য কিছু ভাবছিলাম।  ওকে ভলো করে ধরে বস। "
তারা বাইকের পেছনের রেলিং ধরে বসল। দুজনের মাঝে সামান্য একটু দুরুক্ত।  তারা মনে মনে বলেছিল,  এই ভাবে কি বসা যাই। মনে হচ্ছে এখনি পড়ে যাব। এই অসহ্য পুরুষ টার জন্য আজ না আমার ইন্না-লিল্লাহ হয়ে যাই। অসহ্য! 
ধ্রুব হয়তো তারার অস্বস্তি টা বুঝতে পেরে ছিল।  তাই জোরে চালিয়ে হঠাৎ ব্রেক কষে ধরল। তারা ওমনি তাল সামলে নিতে না পেরে দুই হাত দিয়ে ধ্রুব' র পেট পেচিয়ে ধরে ফেলল।  তারা রেগে গিয়ে বলল,
" এই ভাবে কেউ ব্রেক কষে। একখুনি তো আমার সানডে মানডে ক্লোজ হয়ে যেত। "
" তোর সমস্যা হলে এই ভাবেই  ধরে বসে থাক,  আমি  আস্তে চালাতে পারি না।  জ্বোরে চালাব। পেছন থেকে উড়ে গেলে আমার কোনো দোষ নেই। "
 তারা সেভাবেই ধরে বসে থাকলো। তারার বুক গিয়ে ঠেকল ধ্রুব'র পিঠের সাথে। তারা আবার সেই মাতাল করা পারফিউম এর তীব্র ঘ্রাণ এসে নাকে লাগলো। এই ঘ্রাণ টা তারা কে পাগল করে দয়। নিজেকে এলোমেলো লাগে। তারা মনে মনে ভাবে,
কি পারফিউম ইউজ করে এই অসহ্য পুরুষ টা।  আজকে জানতেই হবে। আজ রাতেই  একটা ব্যবস্থা করছি।  
তারার আকাশ পাতাল ভাবনার মাঝেই হটাৎ করে ধ্রুব' বলল,
" আচ্ছা তোর শেষ ইচ্ছে কি বলতো?"
তারা বুঝতে না পেরে ভ্রু কুচকে বলল, 
" এমন ভাবে বলছেন যেন আমি এখনি টপকে যাব,  আর আমার শেষ ইচ্ছে টা আপনি পুরোন করবেন!"
" ধরে নে এরকম কিছুই। এবার বল!"
" আমার শেষ ইচ্ছে হলো একটা প্রেম করা, তারপর বিয়ে করা, তারপর  একটা ক্রিকেট টিম বানানো। "
" ঠিক আছে তোর প্রথম ইচ্ছে আমি পুরন করে দিচ্ছি। আমি এখন তোর বয় ফ্রেন্ড। কিন্তু বাকি ইচ্ছে গুলো পুরনো হবে না।  " 
" কেন হবে না?"
" কারন গাড়ির ব্রেক ফেইল করছে। একটু পরেই দুজনের ভবলিলা স্বাঙ্গ হবে। তাই যতসময় বেচে আছি তুই আমার আমি তোর।"
কথাটা শোনার পর তারার মাথায় পুরো আকাশ ভেঙে পরল। গাড়ির ব্রেক ফেইল করছে মানে? আমরা আর বাচব না?
(চলবে........)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন