ফন্ট সাইজ:
থিম:
ধ্রুব তারা

২০তম পর্ব

লেখক: Akhi shekh

ধ্রুবতারা.. 

পর্ব 20.. 
লেখিকা... আঁখি শেখ …
....................
রাত নটা বাজে। তারা তরিঘরি করে ডিনার করছে। কারণ কিছুতেই এসপি ধ্রুবনীর  চৌধুরীর সামনে পড়া যাবে না।  সামনে পড়লে নিশ্চিত উগান্ডা পাঠাবে।  গুলি খাওয়াবে তো নিশ্চিত।  তার থেকে বরং সে ফেরার আগে আগে ডিনার সেড়ে ঘুমিয়ে পড়া যাক।  তারা আজকে যা করেছে, তারপর এই এক সপ্তাহের মধ্যে এসপি সামনে পড়া যাবে না।  
তারার এরুপ তরিঘরি করে ডিনার করতে দেখে জোসনা চৌধুরী বললেন,
" কিরে তারা মা এতো তাড়াহুড়ো করছিস কেন?  আস্তে ধিরে খা।"
তারা গাল ভর্তি খাবার নিয়েই বলল,
" তারাতারি না খেলে আজরাইলের সাথে দেখা হয়ে যাবে বড় আম্মু!  আজ আজরাইলের সাথে এমন প্রাংক করেছি না যে আজরাইল বড্ড ক্ষেপে আছে। দেখলেই ওপারের টিকিট হাতে ধরিয়ে দেবে। "
" বালাইষাট! এসব কি কথা মা? বলতে নেই কথা এসব কথা।  "
" বলছি কি আর সাধে গো!  আমার মত চিপায় পড়লে বুঝতে কোন মেঘে কত জল? "
আদ্র তারার কথা শুনে বলল, 
"তুই আবার কার সাথে কি করেছিস?  ধ্রুব সাথে কিছু করিস নাই তো?"
তারার খাওয়া শেষ।  ডাইনিং ছেড়ে যেতে যেতে বলল, 
" তোমার ভাইকে নাড়া ছাড়া যেন আমার কোন কাজ নেই?  যাই হোক আমি ঘুমাতে গেলাম কেউ ডাকবে না আমায়। কাল দশটার আগে কেউ ডাকবে না। গুড নাইট! "
এই বলে তাড়াতাড়ি  করে উপরে উঠে এলো তারা। রুমে ঢুকেই দরজা আটকে দিল।  ব্যাস আর কোন ভয় নেই।  এবার ঐ আজরাইল টা আসলেও কিছুতেই দরজা খুলবে না।  দরজা ভেঙে তার ভেতরে আসতে পারবে না।  তার শাস্তিও দিতে পারবে না।  
এই ভেবে তারা নাচতে নাচতে গিয়ে শুয়ে পড়ল।  সে ফোন হাতে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ঘাটাঘাটি করতে লাগলো। 
ধ্রুব বাড়ি ফিরল রাত এগারোটায়। সদর দরজার চাবির ডুবলিকেট  ধ্রুব'র কাছে এক জোড়া থাকে।  চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো। সামনে তাকিয়ে  দেখল তার মা সোফাই বসে ঝিমুচ্ছে। ধ্রুব  আস্তে আস্তে মায়ের কাছে গেল। মায়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো।  তারপর জোসনা চৌধুরীর কোলে মাথা রাখল। সাথে সাথে  জোসনা চৌধুরী চোখ খুলে ফেলেন।  তাকিয়ে দেখেন তার পাগল ছেলে।  জোসনা চৌধুরী মাথায় হাত বুলাতে বোলাতে বললেন, 
" প্রথম দিন ডিউটি কেমন হলো ছোট খোকা?"
ধ্রুব ওভাবে কোলে মাথা রেখেই জবাব দিল,
" হুম তোমার দোয়াই খুব ভালো হয়েছে আম্মু।  তুমি এখনো জেগে আছো কেন?  আর জেগে থাকবে না ঘুমিয়ে পড়বে।  "
" ছেলে বাড়ি ফিরে  না আসা পর্যন্ত কি মায়ের ঘুম হয়?  "
" তারপরও তুমি ঘুমিয়ে পরবে। আমার ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায় আম্মু।  এতো রাত অব্ধি আমার জন্য জেগে থাকলে তোমার শরীর খারাপ করবে তো?"
" তাহলে যে জেগে থাকতে পারবে তাকে আনলেই হয়ে যায়।  ! "
" হুম আনব তবে সমই হয় নি এখন ও।  যাও গিয়ে ঘুমাও।  আমি ডিনার করে আসছি। এখন আর কিছু খাবো না। ফ্রেশ হতে হবে আমায়।"
" একটা কফি করে দিই! তোকে খুব ক্লান্ত লাগছে।"
" উমম ঠিক আছে।  কফি করে আমার রুমে দিয়ে এসো। "
এই বলে ধ্রুব রুমে চলে গেল।  জোসনা চৌধুরী কফি বানাতে গেলেন রান্নাঘরে। 
ধ্রুবা রুমে যাওয়ার সময় তারার রুমের দরজা দিকে তাকালো।  বন্ধ দরজার দিকে বেশ কিছু সময় তাকিয়ে থাকলো।  আচমকা একটা মুচকি হাসি দিয়ে নিজের রুমে চলে গেল।  
রুমে এসে ইউনিফর্ম চেঞ্জ করে একটা তোয়ালে হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো।  
সাওয়ার ছেড়ে দিয়ে বেশ কিছু সময় সাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলো। পানির প্রতিটি বিন্দু কণা ধ্রুব'র মাথা ভিজিয়ে ঘাড় মুখ গলা দিয়ে নিচে নামছিল। মূহুর্তের মধ্যে ধ্রুব'র  শরীরের সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে এক শিতল স্রোত বয়ে গেল। 
....................
কেটে গেল  প্রায় এক মাস। 
এক মাসে ধ্রুব'র সাথে তারার খুবই কম দেখা হয়।  মাঝেমধ্যে সকালের  নাস্তার টেবিলে সাময়িক সময়ের জন্য দেখা হতো।  
ধ্রুব বর্তমান নিজের ডিউটি নিয়ে খুবই ব্যস্ত।  কিছু জটিল কেস সলভ  করতে হবে।  অস্ত্রপাচার  আর ড্রাগ স্মাগলিং এর একটা   গ্যাং বর্তমান খুবই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তার সাথে বেড়েছে নারী ও   শিশু পাচার। এদের আটক   করা খুবই মুশকিল হয়ে উঠেছে।  কিছুতেই ট্র্যাক করা যাচ্ছে না। তাতেই বোঝা যায় যে এসবের পেছনে অনেক ক্ষমতা শালি কারো হাত আছে।  এসব নিয়ে ধ্রুব বর্তমান খুব বিজি।  
তারা নিজের পড়াশোনা কোচিং প্রাইভেট এগুলো নিয়ে বিজি।  
তাই দেখা সাক্ষাৎ খুব কমই হয়। 
আজ সোমবার।  একটা মিশনে যাবার কথা আছে। রাত ১২ টায় একটা বড় সড় ড্রাগ এর চালান আসবে ঢাকা সদর ঘাটে। এরকমই একটা খবর দিয়েছে অর্নব ধ্রুবকে। তার প্রিপারেশনই নিচ্ছে  ধ্রুব নিজের নিজস্ব কেবিনে বসে। 
 এমন সময় অর্ণব দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো।  
ধ্রুবকে গভির মনোযোগ দিয়ে ফাইল ঘাটতে দেখে বলল,
" আর ফাইল ঘাটাঘাটি করে লাভ নাই।  আমাদের মিশনে যেতে হবে না। "
অর্ণবের কথা শুনে ধ্রুব ভ্রু কুচকে   ফেললো। 
" আর ইউ ম্যাড?  গাঞ্জা খেয়ে এসেছিস নাকি?  মিশনে যাবো না কেন?  আজকের দিনটার জন্য কতটা ওয়েট করেছি তুই জানিস? কত কাঠখর  পুরাতে হয়েছে! "
" জানিরে শালা সবই জানি।  আর আমরা জানি বলেই সমস্যা।  ডিআইজি সাহেব নিজে আমাদেরকে মিশনে যেতে বারণ করেছেন।  বলেছেন এই বিষয় নিয়ে উনি পরে দেখবেন।  "
"হোয়াট! হি সেইড ইট হিমসেল্ফ!  আর ইউ শিওর?"
" ইয়াহ আই এম ড্যাম শিওর!"
ধ্রুব অর্ণবের কথা শুনে চুপ করে গেল।  নিজের চেয়ারে শরির টা ছেরে মাথা এলিয়ে দিল।  চোখ দুটো বন্ধ করে নিল।  
অর্ণব ধ্রুবকে  দেখে ধ্রুবকে ডাকতে লাগলো। ধ্রুব প্রথমে সাড়া দিল না।  ওভাবেই বসে  থাকল। 
বেশ কিছু সময় পরে ধ্রুব চোখ খুলল।  তারপর সোজা হয়ে বসে অর্নবকে বলল, 
" হুম বুঝেছি।  এই খেলাটার পিছনে যে মাস্টারমাইন্ড আছে, তিনি ডিআইজি সাহেবকে কিনে নিয়েছেন।  তো বুঝতেই তো পারছিস মাস্টারমাইন্ড হেব্বি বড় খেলোয়াড়।  তবে চিন্তা নেই আমিও ধ্রুবনীর চৌধুরী! ইফ হি ইজ এ গেমার, আই এম এ গেম চেঞ্জার।  "
" কি করতে চাইছিস তুই?"
" এটাই যেটা একজন সৎ পুলিশ অফিসার করে।  তবে একটু ভিন্ন কথা অবলম্বন করে।  শালা কাউকে জানতেই দেবো না কি করছি।   টোটালি সিকরেট!"
"তোকে দেখে আমার ভয় করছে ধ্রুব! "
" আরে সিওর তুই এই কথা বলছিস?  আমাকে বোধহয় আজকে নতুন চিনছিস?  ইউ নো দ্যাট হু আই এম।  সো প্লিজ ফাকিং ড্রামা বন্ধ কর।  আর যা বলছি দ্রুত করে ফেল! "
........
কলেজ ছুটি হওয়ার পর তারা মিথিলার সাথে কলেজগেট দিয়ে বেরিয়ে এলো।  আজকে বাড়ির গাড়ি আসবে না।  কারণ বাড়ির গাড়ি নিয়ে জোসনা চৌধুরী এবং তারমিন চৌধুরী শপিংয়ে গেছেন।  তাই তারা কে একাই বাড়ি ফিরতে হবে।  
তারা আর মিথিলা একটা সিএনজির জন্য ওয়েট করছিল।  মাথার ওপরে ভীষণ কালো মেঘ জমেছে।  বৃষ্টি নামবে বোধ হয় যে কোন সময়।  এখন বৃষ্টির সিজন।  জুলাই মাসে এই এক প্রবলেম।  এই রোদ তো এই বৃষ্টি।  
তারা আকাশে মেঘ দেখে মিথিলাকে বলল, 
" এই চল আজকে সিএনজি নিবো না হেটেই বাড়ি যাবো।  বৃষ্টি নামবে বোধ হয় বৃষ্টিতে আজকে দুজন খুব ভিজবো।  অনেকদিন ভেজা হয় না।  "
" কিন্তু তোর তো ঠান্ডা  ধাচ আছে।  বৃষ্টির পানি গায়ে লাগলেই তো ঠান্ডা লাগে।  ঠান্ডা লাগিয়ে জ্বর বাধিয়ে পরে আমাকে কেস খাওয়াবি নাকি?  "
" আরে ধুর একটু ঠান্ডা লাগলে কিছু হবে না।  বাড়িতে তোর কথা বলবো না।  বলব আমি শুধুই ভিজেছিলাম। "
এই বলে তারা'  হাটা ধরল। মিথিলাও তারার পিছে পিছে হাঁটতে লাগলো।  বেশ কিছু সময় হাঁটার পরে ঝিরঝির  বৃষ্টি নামা শুরু হল।  প্রথমে আস্তে পরে ভীষণ জোরে নামতে লাগলো।  মূহুর্তের  মধ্যে তারা আর মিথিলা ভিজে জুবজুবে। 
বৃষ্টির কারণে রাস্তা ফাঁকা, তেমন একটা লোকজন নেই।  সাদা  কলেজ ইউনিফর্ম  ভিজে দুজনের শরীরের সাথেই চিপকা চিপকি হয়ে লেগে গেছে।  
সেদিকে দুই রমনীর কোন খেয়ালই নেই।  তারা তো বৃষ্টি বিলাসে মত্ত।  তারা' এদিক ওদিক ছুটে ছুটে তিরিং বিরিং করে নাচতে লাগলো।  মিথিলা বার  বার সাবধান করছে যেন পড়ে না যায়।  
তারা' এবার এসে মিথিলার দুই হাত ধরে গোল গোল ঘুরতে লাগলো। জোরে জোরে হাসতে হাসতে চিল্লিয়ে দিয়ে বলল, 
" আমি আজ খুব খুশি।  থ্যাঙ্ক ইউ মাই লাভ মাই বেস্টি। আমার ভিজতে খুব ভালো লাগে।  আই এম ভেরি হ্যাপি টুডে! "
তারা আর মিথিলার এই পাগলামি কেউ না দেখলেও দূর থেকে একটি কালো রঙের গাড়ির ভেতরে বসে এক যুবক খুব ভালোভাবে অবলোকন করল।  মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তারা'র দিকে।  বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া তারা'র মুখ, তারা'র চুল তারা'র শরীর সব খুব নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল।  
" সি ইজ লুকিং সো হট! আই নিড হার! এট এনি কস্ট আই নিড হার।  "
" তাহলে কি বস তুলে আনব? আজ রাতে আপনার ডিনারের  জন্য। ? "
" নো! আই ওয়ান্ট হার ফর দা রেস্ট ওফ মাই লাইফ!"
" আপনি প্রেমে পরে গেলেন বস?"
" ওসব ফাকিং প্রেম টেম আমার দ্বারা হবে না। সোজা বিয়ে করে বাসরে ঢুকব। খোজ নে হু দা গার্ল!"
"ওকে বস!"
কালো গাড়িটি প্রস্থান করল।  তারা আর মিথিলা বেশ অনেক সময় ভিজেছে।  মিথিলা বলল আর ভিজবে না।  এবার বাড়ি ফিরতে হবে।  মিথিলার বাড়ি ওখান থেকে উল্টো পথে।  তাই বাকিটা পথ তারাকে একাই যেতে হবে। 
তারা হাটা ধরল।  একা একাই যাচ্ছে।  
এদিকে ধ্রুব থানায়  মন টিক ছিল না।  নানান সব চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।  তাই মাইন্ডটাকে রিপ্লেস করতে বাইক নিয়ে বেরিয়েছিল।  পথে  বৃষ্টি নামে।  ছাওনি যুক্ত একটা জায়গায় এসে দাঁড়ায়।  
বৃষ্টি যাওয়ার নামই নেই। ধ্রুব আপন মনে বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সিগার টানছিল। 
এমন সময় ওর চোখ গেল রাস্তার ওপারে বেশ খানিকটা দূরে।  তারা তিড়িং বিরিং  করে লাফিয়ে লাফিয়ে আসছে।  বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে।  
ধ্রুব'র চোখ তারার উপর গিয়ে আটকে গেল।  কিছু সময় মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে দেখলো।  
তারপর কিছু একটা ভেবেই চয়াল শক্ত করে ফেলল, রাগে দু'হাত মুষ্টি বাধ্য হল। জ্বলন্ত সিগারটি হাতের মধ্যেই পিষ্ট হল।  এতে ধ্রুব'র হাতে খানিকটা পুড়ে গেল। 
তারা বেশ অনেকটাই কাছে চলে এসেছে।  ধ্রুব আর দাঁড়িয়ে না থেকে তারা সামনে গেল। 
" এই উড়নচন্ডির  বাচ্চা!  তোর কি লজ্জা শরম কিছু নেই?  এইভাবে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে নাচতে নাচতে যাচ্ছিস  কেন? তুই কি ভুলে গেছিস এটা  তোর বাড়ির সাদ না এটা রাস্তা!"
ধ্রুব কে দেখেই তারা'র নাচ থেমে গেছিল।  মাথাটা নিচু করে  চিবুক গলায় ঠেকালো। কি করবে ও এখন।  ওকি দৌড়ে পালাবে?  কিন্তু ষাড়  গরুটা তো ঠিক ওকে ধরে ফেলবে।  পারবে না কেউ দৌড়ে ষাড়ের  সাথে।  
তারাকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ধ্রুব আবারো ধমকে উঠলো।  ধ্রুব'র ভীষণ রাগ লাগছে। এই মেয়েটা কিভাবে রাস্তায় ভিজে ভিজে আসছে।  এমনিতেই সুন্দরী তারপর আবার বৃষ্টিতে ভিজে অসম্ভব লাগছে।  না জানি কত পুরুষকে এই অবস্থায় দেখেছে।  চৌধুরী বাড়ির মানসম্মান কি সব একাই খেয়ে ফেলবে এই মেয়েটা? 
" চৌধুরী বাড়ির মান-সম্মান নিয়ে খেলছিস কেন তুই।  তুই জানিস না চৌধুরী বাড়ির মেয়েরা এতটা উগ্রভাবে চলাফেরা করে না?  শালীনতা বজায় রাখে চলাফেরার মধ্যে।  কিন্তু তুই তো সব সীমা অতিক্রম করে ফেলেছিস।  "
তারা এবার মুখ খুলল, 
" কি করেছি আমি বাড়ি যাওয়ার পথে যদি বৃষ্টি নামে তো আমি কি করবো?  বৃষ্টিতে ভেজার মধ্যে মান সম্মান খাওয়ার কি হলো? "
তারার মুখে মুখে তর্ক করা দেখে ধ্রুব আরো রেগে গেল।   তারা'র কাছে গিয়ে দুই হাত দিয়ে তারা'র দুই হাতের কব্জিতে ধরে নিজের অনেকটা কাছে এনে তারার মুখের দিকে অনেক টা ঝুকে গিয়ে  দাতে দাত চেপে বলল, 
" তুই এখন আর সেই পিচ্চি টা নেই সুখ! অনেক বড় হয়েছিস।  হয়তো মনের দিক থেকে বড় হোস নি কিন্তু গায়ে গতরে ভালোই বড় হয়েছিস। আমি চাই না যেটা আমার তার দিকে কেউ নজর দিক। এটা আমি বরদাস্ত করব না সুখ!"
তারা ধ্রুব'র চোখের দিকে তাকিয়ে সব শুনছিল। ধ্রুব তারা'র মুখের দিকে অনেক টা ঝুকে ছিল তার জন্য বৃষ্টির পানির প্রতিটি ফোটা মাথা গড়িয়ে মুখ বেয়ে চিবুক দিয়ে তারার মুখের ওপর এসে তারাকে ভিজিয়ে দিচ্ছিল।   তারা মন্ত্র মুগ্ধ নয়নে শুধু ধ্রুব কে দেখছিল।  ধ্রুব'র এতটা কাছে আসাতে তারা অস্বস্তির বদলে এক অদ্ভুত ভালো লাগা অনুভব করছিল। আবার সেই নাম না জানা অনুভুতিরা সব মাথা চাড়া দিয়ে উঠছিল। 
তারা বলার মতো কিছু খুজে পাচ্ছে না। ধ্রুব'র কথা গুলোর মধ্যে লুকিয়ে  ছিল এক অদ্ভুত অধিকার বোধ।  বোকা তারা কথাটার মানে কি বুজলো কে জানে? বোকার মতো ধ্রুব কে শুধু দেখছিল।  
তারা কে চুপ থাকতে দেখে ধ্রুব আবার বলল,
" তোকে এই বৃষ্টি ভেজা রুপে ঠিক কেমন লাগছে জানিস? যে কোনো পুরুষের শরিরে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে তোর এই রুপ। এটা কেন বুঝতে চাস না তুই। তোর ওপর কেউ চোখ তুলেও তাকাবে এটা আমি সহ্য করতে পারি না। আই কান্ট টলারেট দিস!"
" কেন সহ্য করতে পারেন না? যেটা আমার " বলতে আপনি কি বোঝালেন ধ্রুব ভাইয়া?  আমি আপনার?"
তারা'র মুখে এই প্রশ্নের উত্তর কি দেবে ভাবছে ধ্রুব। 
ধ্রুব এবার তারা কে ছেড়ে দিল।  তারপর উল্টো দিকে ঘুরে দাড়িয়ে পকেটে দুই হাত গুজে দিয়ে বলল,
" আমি কখন বললাম তুই আমার!   তুই চৌধুরী বাড়ির কন্যা।  আর আমি চৌধুরী বাড়ির পুত্র। সেক্ষেত্রে তুই আমার রেসপনসেবলিটি।  তাই বলেছি। "
তারা এই কথার পিঠে কিছু বলল না। এর পর ধ্রুব আবার তারা'র দিকে ফিরল।  তারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল।  দুপাশে কোমর ছাপানো বেনি গুলো ভিজে জুবজুবে পানি ঝরচে টুপ টুপ করে। চোখের পাপরি গুলো ভেজা পিট পিট করে কাপছিল।  
গোলাপি ঠোঁটের ওপর দিয়ে ঠান্ডা   বৃষ্টির ফোটা গরিয়ে পরছে যার কারনে ঠোট জোড়া ও তির তির করে কাপছে। ঠোটের নিচের তিল টা ভিজে যাওয়ার কারনে যেন আরো আকর্ষনিয় লাগছে। সাদা ড্রেস টা শরিরের সাথে লেপ্টে গিয়ে এক অনন্য ভাসকর্য তৈরি করছে। 
ধ্রুব একটা শুক্ন ঢোক গিলল।  এতো বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকেও মনে হয় ঘামছিল। তৃষ্ণার্ত গলা বার  বার শুকিয়ে যাচ্ছে।  ঢোক গিলেও একফোটা ভিজছে না। এই ভাবে বেশিক্ষণ থাকলে  একটা অঘটন ঘটে যেতে পারে। তাই ধ্রুব তারা কে বলল,
" হেল মেট একটাই আছে। তুই পড়ে নে। আর বাইকে বোস! এইভাবে বেশিক্ষন থাকলে একটা অঘটন ঘটতে পারে। "
তারা বুজল না কি অঘটন ঘটতে পারে।  তাই বোকার মতো প্রশ্ন করল, 
" কি অঘটন ঘটবে?"
" তোর গোবর ঠাসা মাথায় যদি একটু বুদ্ধি থাকত তাহলে প্রশ্ন করতিস না।   নিজেই বুঝে নিতি আমি কি বলতে চাই।  কিন্তু আফসোস তোর বুদ্ধির ব ও নেই। তোর অসুখের কথা বলছি আমি। আপনি যে ননির পুতুল ভুলে গেছেন? একটু বৃষ্টির পানি গায়ে পরলেই জ্বর আসে। তোর সাথে তো আজ আমার ও আমার অসুখে ধরবে। রাতে ঘুম হবে না। "
" আপনার কেন ঘুম হবে না? " 
" সাধে কি আর বলি গোবর ঠাসা।  আজ যা দেখাচ্ছিস তাতে ঘুমাব কি করে? বক রক না করে চল!  দেরি হয়ে যাচ্ছে।  তোকে নামিয়ে আমায় বেরোতে হবে।"
তারা আর কথা বলল না।  চুপচাপ বাইকে গিয়ে বসল।  
(চলবে.....)
(সামনে আরো আকর্ষনিয় পর্ব আসতে চলেছে....)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন