ধ্রুবতারা....
পর্ব ২৪..
লেখিকা.. আঁখি শেখ..
..............
পরের দিন সকাল বেলা। আদ্র ঘুম থেকে উঠে দেখল তারা এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি। বৃষ্টিকে উদ্দেশ্য করে আর্দ্র বলল তারা কে ডেকে দিতে। বৃষ্টি চলে গেল তারাকে ডাকতে। তারা বৃষ্টির ডাকে ঘুম থেকে উঠলো।
ঘুম থেকে উঠে কিছু সময় বিছানায় বসে থাকলো। অলসতা তাড়ানোর জন্য। তারপর হঠাৎ করে কালকের থাপ্পরের কথা মনে পড়ল । তৎক্ষণাৎ আগে চয়াল শক্ত হয়ে গেল। মনে মনে ভাবলো,
"আমি আপনাকে ছাড়বো না। এই নিয়ে চার-চারটে থাপ্পড় মেরেছেন আমায়। কিছু বলিনি চুপ করে আছি বলে ভাববেন না আমি কিছু বলবো না। এই তারা কারো ধার রাখে না। সুদ সমেত ফেরত দেয়। "
তারা গালে হাত দিয়ে দেখল গালে কোন ব্যথা নাই। এটা কি হলো। কাল রাত অবধিও তো কত ব্যথা ছিল। এখন ব্যথা নেই কেন? তারা আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। কোন দাগও নেই। কিন্তু কাল রাতে স্পষ্ট দেখেছিল দুই চায়ালে পাঁচটা পাঁচটা করে দশটা আঙুলের ছাপ বসেছিল। আর রাতারাতি দাগ এবং ব্যথা দুটোই ভ্যানিস! এটাও সম্ভব। সেদিনও প্রথম যেদিন থাপ্পড় মেরেছিল ধ্রুব তারাকে
সেদিন সকালে উঠে কোন ব্যথা পায়নি। আর না দাগ পেয়েছিল। অথচ রাত্রে কত ব্যথা ছিল দাগ ও স্পষ্ট ছিল। রাতারাতি ভেনিস হয় কিভাবে?
আদ্র তারা কে নিচে নামতে না দেখে নিজেই উপরে উঠে আসলো। তারা'র রুমে এসে দেখল তারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের গাল চেক করছে।
" কিরে জানবাচ্চা কি করছিস ? "
তারা পিছনে তাকিয়ে দেখলো তার ভাইয়ু এসেছে।
" কিছু না ভাইয়ু ভিতরে আসো না!"
আদ্র রুমের ভেতর ঢুকলো। বিছানার এক পাশে বসে তারা কে উদ্দেশ্য করল তার পাশে বসতে। তারাও বাধ্য বোনের মত তার পাশে গিয়ে বসলো।
এবার আদ্র খুবই আল্লাদি স্বরে বলল,
" কাল তোকে ধ্রুব থাপ্পড় মেরেছিল! হ্যা রে খুব ব্যথা পেয়েছিস?"
আহ্লাদী ভাইয়ের আহ্লাদি বোন, ভাইয়ের একটু আহ্লাদেই গাল ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো তারা।
তারপর ব্যথা লেগেছে বলে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো। আদ্র তারার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। তারপর বলল,
" কাদিসনা বনু। ধ্রুব যেটা করেছে খুবই অন্যায়। ওই তোকে থাপ্পড় মারা একদমই উচিত হয়নি। "
তারা যেন এবার আহ্লাদে ফেটেই পড়বে! গাল ফুলিয়ে বলল,
" শুধু কি কাল থাপ্পর মেরেছে? এর আগেও দু দুটো থাপ্পড় মেরেছে।। "
" সে কি আবার কবে থাপ্পর মারলো? "
" ওইযে সেদিন যেদিন ফুপিদের বাড়ি থেকে তার পার্টিতে যাচ্ছিলাম তার সাথে। ঐদিন রাস্তায় বাইক থেকে নামিয়ে দু দুটো থাপ্পড় মেরেছিল আমায়। আমি খুব ব্যথা পেয়েছিলাম। "
" কেন থাপ্পড় মেরেছিল তোকে তুই কেন কিছু বলিস নি আমাকে? "
" কি করে বলবো? তুমি কি উনাকে মারতে? উনার মত একটা ষাঁড় গরুর হাতে থাপ্পড় খেয়ে আমার মত একটা বাচ্চা নিষ্পাপ মেয়ের কি অবস্থা হয়েছিল তুমি জানো? কিন্তু ওইদিন রাতের তো তারপরে কথা আমার আর কিছু মনেই নাই। পরদিন যখন ঘুম থেকে উঠলাম দেখি আমার গালে একটুও ব্যথা নাই আর দাগও ছিল না। তাই আর তোমাদের কাউকে কিছু বলিনি। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানো? আজও দেখো গালে একটুও দাগ নাই আর একটুও ব্যথা নাই!"
আর্দ্র তখন ভ্রু কুসকে তারার গালের দিকে তাকালো। সত্যি তো কালকে যখন দেখলো পাঁচটা পাঁচটা করে দশটা আঙুলের ছাপ বসেছিল কি দগদগে। অথচ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কিছুই নেই দাগ। আর বলছে ব্যথা ভ্যানিস। কি করে সম্ভব এটা? আদ্র ভাবুক ভঙ্গিতে ভাবছে। তারপর কিছু একটা গেস করতে পারল। বিড়বিড় করে বলল যেমনটা বললে তারা শুনতে পায় না,
" নিজেই মারবে আবার নিজেই লুকিয়ে রাতে ট্রিটমেন্ট করে দেবে। যাতে সকালে কোন ব্যথা না পায়। দাগ ও না থাকে। এত যত্ন করে এত কেয়ার করে অথচ মুখে বলে ভালোবাসি না। এবার আমি ও দেখি তুমি কেমনে ভালো না বেসে থাকো?"
"কি হলো ভাইয়ু কি বির বির করছো?"
আদ্র তখন সিরিয়াস হওয়ার ভঙ্গিতে বলল,
" তোকে ও মারল আর তুই কিছু বললি না কেন? এতো বড় সাহস ওই এসপির আমার বোনের গায়ে হাত দেয়। যেই বোনের গায়ে একটা ফুলের টোকা ও লাগতে দেয় না আমার সেই বোনের গায়ে হাত! ছারুঙ্গা নেহি কাভি নেহি!"
" কিন্তু কি করব আমরা। উনাকে দেখেছ তুমি? একটা ষার গরু। হাতি একটা। আর সব থেকে বড় কথা সে একজন এসপি! কি করবে তুমি তার?"
" আমি না যা করার তুই করবি!"
" কিহ আমি কি করব? তুমি আমাকে দেখো, ওই হাতি টার কাছে আমি একটা মশা! আমি কি করব তার ওই হাতি টা আমাকে উল্টো লটকে দেবে!"
" শক্তি কিছু করতে পারব না জানি। তার জন্যই অন্য কিছু ভেবেছি আমি!"
" কি ভেবেছো?"
" তোর অসহ্য পুরুষ টা কে আগুনে পোড়াতে হবে। "
"কিহ........"
তারা এবার বসা থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পরল। আগুনে পোড়াতে হবে ভেবেই তো গা সিউরে উঠছে। তার ভাইয়ু কি পাগল হয়ে গেছে নাকি। না হলে কেউ কি তার নিজের মায়ের পেটের ভাই কে আগুনে পোড়াতে বলে?
" তুমি কি পাগল হয়ে গেছ ভাইয়ু? সামান্য কয়েকটা থাপ্পড় মারার জন্য একটা জলজ্যান্ত মানুষ কে আগুনে পোড়াব?"
আদ্র তারার হাত টেনে ধরে বসাতে বসাতে বলল,
" উফ আগে পুরো কথা শেষ করতে দিবি তো! আমি কি এই আগুনের কথা বলেছি? আমি বলে অদৃশ্য আগুনের কথা। যে আগুনে মানষের ভিতর পোড়ে কিন্তু বাহিরে থেকে দেখা যাই না। "
" অদৃশ্য আগুন! এটা কোন দেশের আগুন? যা পোড়ায় কিন্তু দেখা যায় না?"
" এটা হলো ভালোবাসার আগুন! প্রেমের অঙ্গার! "
" কি সব বলছো বলো তো সব তো মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। "
" বুঝিয়ে বলছি। তোকে ধ্রুব কে তোর প্রেমের জ্বালে ফাসাতে হবে। তুই ওকে তোর প্রেমে পড়তে বাদ্ধ্য করবি। আর ফেঁসে গেলে ও তোকে বিয়ে করবে। "
তারা এবার যেন আকাশ থেকে পরল। বিস্ময়ে ঠোঁট দুটো ফাঁক হয়ে গেল। চোখ দুটো রসগোল্লার মত গোল গোল করে তাকিয়ে থাকলো ভাইয়ার দিকে।
" কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? বুঝিস না আমি কি বললাম? "
" বুঝেছি! তুমি আমাকে মেরে ফেলতে চাইছো। "
" কি.. আমি তোকে মেরে ফেলতে চাইবো কেন? "
" যদি না চাও তাহলে এরকম একটা কথা বললে কি করে? আমি প্রেম করবো তোমার ওই অসহ্য ভাইয়ের সাথে। তোমার কি মাথা ঠিক আছে? আমার জীবনটা পুরো তছনছ করে দেবে। জিন্দেগীতে একটু সুখের মুখ দেখতে পারবো না। সারাক্ষণ শুধু বলবে এটা করা যাবে না ওটা করা যাবে না। কোথায় ভেবেছি তাড়াতাড়ি বিয়ে করে এই বাড়ি থেকে ভাগবো। কিন্তু তা না তুমি ওই লোকটার সাথে আমার বিয়ে দিয়ে এই বাড়িতে সারা জীবনের জন্য আটকে রাখার চিন্তা করছো?"
" আরে বাবা বোঝার চেষ্টা কর! যদি একবার তোকে ভালোবেসে ফেলে তাহলে সারা জীবন তোর কথাই উঠবে আর বসবে। তুই যা বলবি তাই শুনবে। তুই ওর মাথায় উঠে কাঁঠাল ভেঙে খেতে পারবি। কিছু বলতে পারব না ও তোকে। এখন তো তুই এ বাড়ির মেয়ে তাই সবার সামনে তোকে শাসন করতে পারছে। কিন্তু যখন ভবিষ্যতে ওর বউ হবি, তখন সবার সামনে তোকে মারার সাহস করবে না। তোকে সব সময় ভয় পাবে । জানিস না বিয়ের পর বউ চেয়ারম্যান হয় আর স্বামী হই মেম্বার। "
" কিন্তু এর যে উল্টোটা হবে না তুমি তার কি গ্যারান্টি দিচ্ছ? "
" গ্যারান্টি দিচ্ছি। কারণ তুই হয়তো ভালো করে খেয়াল করলে দেখবি যে পুরুষ বিয়ের আগে রাগী হয় বিয়ের পরে সেই পুরুষ ততটাই ঠান্ডা হয়ে যায়। আর আমি জানি তুই যতটা রাগী আর জেদি তুই অবশ্যই পারবি ধ্রুবকে কন্ট্রোল করতে। ওকে তোর প্রেমে পড়তে বাধ্য করবি। তারপর বিয়ে করে সারা জীবন ওকে কন্ট্রোল করবি। এমনিতে ধ্রুব খুব কেয়ারিং জানি সেটা। ও তোকে খুব ভালবাসবে। সম্পর্কের মানে ও খুব ভালো বোঝে। ওর মতো করে তোকে কেউ সুখে রাখবে না। এতটুকু বিশ্বাস তুই করতে পারিস। "
তারা এবার কিছুটা ভাবতে লাগলো। তার ভাইও একেবারে খারাপ কথা বলেনি। মানুষটা ভীষণ কেয়ারিং। কাল যে থাপ্পর দুটো মেরেছিল তার পেছনেও তো কারণ ছিল, সত্যিই তো তারা রেলিং এর ওপর দাঁড়িয়েছিল যদি একটু ১৯ থেকে ২০ হতো তাহলে তো পড়ে যেত। এই কথাটা মাথায় আসতেই চট করে আরেকটা কথা মাথায় আসলো তারা'র। তার ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,
" একটা কথা ভাইয়া! কাল যখন আমাকে থাপ্পর মারার পরে কথা শোনাচ্ছিলেন তখন উনি কি বলেছিল তোমার মনে আছে? "
" কি বলেছিল? "
" উনি বলেছিলেন যে, ওর সাহস কি করে হয় আমার দুনিয়ার দিকে হাত বাড়ানোর! এই দুনিয়া বলতে উনি কি বুঝিয়েছেন? "
আদ্র ভাবল সত্যি তো কালকে তো ধ্রুব এই কথাটি বলেছিল। তার মানে ধ্রুব তারা কে তার নিজের দুনিয়া বলল। ধ্রুব'র দুনিয়া হলো তারা ও কাল সেটা স্বীকার করেছিল। কিন্তু আমরা সেটা বুঝতে পারিনি। কি করে ভুলে গেলাম আমি।
" হ্যাঁ বোন তুই ঠিক বলেছিস। আমার মনে হয় ও তোকে বলেছে দুনিয়া বলতে। তার মানে বোঝ আমাদের পথ অনেকটা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। ধ্রুব তোর প্রতি আগে থেকেই দুর্বল। তুই শুধু দুর্বলতা কে কাজে লাগা। "
" আমি পারবো তো? "
" অবশ্যই পারবি তুই না আমার বোন। আমার বোনের উপর আমার বিশ্বাস আছে। আর আমার ভাইয়ের উপরেও বিশ্বাস আছে। তোরা দুজন ঠিকই চৌধুরী পরিবারকে বেধে রাখতে পারবি। চল তাহলে আমরা মিশনে নেমে পড়ি। "
"ওকে! "
আদ্র আর তারা দুজনেই হাত মিলিয়ে একসাথে বলে উঠলো,
" মিশন ধ্রুবতারা! "
...…
তারা ডাইনিং রুমের সোফার উপরে বসে টিভি দেখছিল। টিভিতে টম এন্ড জেরির কার্টুন চলছিল। ঘড়িতে তখন আটটা বাজে। জোসনা চৌধুরী আর তারমিন চৌধুরী রান্নাঘরে ব্যস্ত সকালের নাস্তা বানাতে। বৃষ্টি তাদের হেল্প করছে। তরি তরু তৌসিফ ওরা পড়াশোনা করছে। তারা' কোনদিনও সকালে পড়তে বসেনা। তারা'র ভাষ্যমতে প্রতি দিন শুরু করতে হয় বিনোদনের সাথে। তার জন্য সকালে টিভি দেখতে হয়। আর তাই তারা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে টিভি দেখে।
তখনই ড্রয়িং রুমের ধ্রুব'র স্টাডি রুম থেকে ধ্রুব বেরিয়ে আসল। চেচিয়ে মায়ের উদ্দেশ্যে বলল এক কাপ কফি দিয়ে আসতে রুম। ধ্রুব'র চেচানো শুনে তারা ধ্রুব'র দিকে তাকাল। জিম করে আসলো ধ্রুব। হার্ড জিম করার কারণে চুলগুলো ঘামে ভিজে কপালের উপর লেপটে আছে। টপ টপ করে ঘামের পানি গড়িয়ে পড়ছে। চয়াল বেয়ে চিবুক গড়িয়ে বুকের ভাজ দিয়ে নাভির নিচে নামছে মুক্তোর মত ঘামের বিন্দু। ফর্সা শরীরে প্রত্যেকটা গ্রামের বিন্দু মুক্তার মতই জ্বলজ্বল করছে। উদাম শরীর। ট্রাউজার অনেকটাই নাভির নিচে নেমে এসেছে। হাতে সাদা তোয়ালে।
ধ্রুব যখন নিজের রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ সোফায় নজর গেল। দেখলো তারা বসে তার দিকেই হা করে তাকিয়ে আছে । ধ্রুব তাকাতেই চোখাচোখি হয়ে গেল। তারা তখন ও নির্লজ্জের মত ধ্রুব'র পেটানো শরীর গোল গোল চোখে দেখে যাচ্ছে। তারাকে নিজের দিকে এইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ধ্রুব কিছুটা এগিয়ে গেল তারা'র দিকে।
আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো তেমন কেউ নেই, তাই তারা অনেকটাই কাছে গিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে তারার মুখোমুখি হয়ে বলল,
" এভাবে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিস কেন? আমি জানি আমি খুবই হ্যান্ডসাম হট এন্ড সেক্সি, তাই বলে কি তুই তোর চোখ দিয়ে আমায় গিলে খাবি। এটার রাইট শুধু আমার বউয়ের ই আছে। সো ক্লোজ ইউর আইস। "
ধ্রুব'র কথা শুনে যেন তারা'র কান দিয়ে ধোয়া বেরোচ্ছিল।
"কি নির্লজ্জ খবিশ লোক। ছি ছি। ঠোঁটকাটা বুইড়া হাতি! আমি কেন আপনাকে আমার চোখ দিয়ে গিলে খেতে যাবো। খেলে আমার জামাইকে খাব। আপনাকে কেন খাব? "
" আমাকে তোর বুইড়া মনে হল? আমি কি বুড়ো? "
" হ্যাঁ হ্যাঁ ১০০ বার আপনি বুড়ো। বয়স কত হয়েছে এখন একটা প্রেমও করতে পারেন নাই বিয়ে তো দূরের কথা। আর নিজেকে কিনা হ্যান্ডসাম বলে দাবি করছে। হুহ!"
" ঠিক আছে তুই খুঁজে দিবি আমাকে একটা গার্লফ্রেন্ড। আমিও প্রেম করবো। "
এই বলে ধ্রুব আর দাঁড়ালো না মায়ের উদ্দেশ্যে আবারো রুমে কফি পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলল।
সেই বেয়ে যখন উপরে উঠছিল তখন আদ্রত নিচে নাম ছিল। ধ্রুবকে দেখে বলল,
" এত সুন্দর আকর্ষণীয় বডি বানিয়ে লাভ কি? নাম বউ আছে না গার্লফ্রেন্ড আছে দেখাবি কাকে? "
" তোমার তো দেখানোর জন্য বউ আছে তাহলে সুন্দর বডি বানাও না কেন। আমার দিকে নজর দিচ্ছ কেন। আর এমনি তো নিজের দিকে তাকিয়ে দেখেছে অনেকটা মোটা হয়ে গেছো আগের থেকে। তোমার পেট অনেকটাই সামনে চলে আসছে। বুড়ো হয়ে যাচ্চো আগে নিজের শরীর মেন্টেন করো। নাহলে আমার বৌ বা গার্লফ্রেন্ড আসার আগে তোমার বউ ভেগে যাবে । জিম করো না কেন? "
" মোটেও না আমার পেট কোথায় উচু? আমি এখনো সিক্স প্যাথ। আর তোকে আমাকে দেখে বুড়ো মনে হচ্ছে।? "
" তাহলে কি আমাকে দেখে বুড়ো মনে হচ্ছে? আচ্ছা তোমার বয়স কতো? "
" থার্টি থ্রি! "
" আর আমার টোয়েন্টি নাইন। আমাকে যদি বুড়ো মনে হয় তাহলে তো তোমাকে বুড়োর বাপ মনে হবে।"
" তোকে আবার কে বুড়া বলল? "
" তোমার উড়নচণ্ডী বোন! "
এই বলে ধ্রুব ধুপ ধাপ পায় উপরে উঠে গেল। আর কিছু সময় ধ্রুব'র দিকে তাকিয়ে হাসলো। তারপর নিচে গিয়ে তারা'র পাশে বসে পরলো।
তারা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
" ধ্রুব কফি চেয়েছে তুই ওর রুমে কফি নিয়ে যা। "
" আমি কেন নিয়ে যাব? "
" একটু আগে কি কথা হলো ভুলে গেলি? "
" না ভুলিনাই। তবে আমি যাব না উনার রুমে। উনার রুমে গেলে উনি কুকুর তাড়ানো করে তাড়িয়ে দেন আমায়।"
"আরে এই জন্যই তো বলছি, যে তুই ওই রুমের মালকিন হয়ে যা। তখন তুই ওকে ওই রুম থেকে কুকুর তাড়ানো করে তাড়িয়ে দিবি। রিভেন্স নিবি তখন। আর ওই দিনটার জন্য এখন একটু কষ্ট করতেই হবে। পারবি না এইটুকি কষ্ট করতে? "
তারা এবার সাহসী হওয়ার ভঙ্গিতে বলল,
" পারবো পারতেই হবে আমাকে। ওই লোকটাকে শাস্তি দিতে আমাকে পারতেই হবে। ! "
কিছু সময় পর তারমিন চৌধুরি তারা কে বললেন,
" এই কফির কাপটা নিয়ে গিয়ে ধ্রুব'র রুমে দিয়ে আই। "
তারা এবার একটু ভাব নিয়ে বলল,
" আমি কফির কাপ দিয়ে আসলে আমার লাভ? "
তারমিন চৌধুরী তারা'র কান পেড়ে ধরে বললেন,
" এই নে লাভ! বড় ভাই হয় ও তোর। বড় ভাইয়ের রুমে কফি দিয়ে আসবি তাও তোর বাহানা। একটা কাজও কি তোর দ্বারা কোনদিন হবে না? "
" আহ আম্মু ছাড়ো লাগছে তো। কে বলল আমার দ্বারা কোন কাজ হবে না। দেখো সব থেকে বড় কাজটা আমিই করব। আর ওই অসহ্য লোকটা আমার ভাই নয়। আমার বড় ভাই শুধু একটাই আদ্রনিল চৌধুরী! "
তারমিন চৌধুরী তারার কান ছেড়ে দিলে। তারা কফির কাপটা হাতে নিয়ে চলে গেল।
রুবার রুমের সামনে এসে দাঁড়াল। কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে মনে সাহস জড়িয়ে বড় একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে ভেতরে ঢুকলো। গিয়ে দেখল রুমে কোথাও কেউ নেই। ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ ভেসে আসছে। তারমানে মানুষটা ওয়াশরুমে। তারা কফির কাপটা সেন্টার টেবিলে রাখল। সোফার উপর দেখল কিছু টি-শার্ট এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। তার মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি চাপলো। ও টি শার্টগুলো এক এক করে ভাঁজ করে গোছাতে লাগলো। তখনই ধ্রুব বাইরে আসলো । তারা কে নিজের টি-শার্ট গোছাতে দেখে ভ্রু কুচকে বলল,
" আবার কি নতুন ড্রামা শুরু করলি তুই? এসব করছিস কেন? "
তারা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই কোমরে দুই হাত দিয়ে বলল,
" বাহ রে এগুলোতো আমারই কাজ। আমাকেই তো করতে হবে!"
এই বলে আবার নিজের কাজ শুরু করলো।
ধ্রুব আর ঘাটলো না। বিছানার উপর রাখা নিজের ইউনিফর্ম পড়তে লাগলো। তারা অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে কাজ করছিল দেখে ধ্রুব ওখানেই প্যান্ট পরে নিল। তারপর তোয়ালেটা ছুড়ে মারল সোফার উপর। ইউনিফর্ম এর শার্টটা তখন গায়ে জড়িয়ে বোতাম লাগাতে যাবে তখনই দেখতে পেল একটা বোতাম খুলে গেছে। তো মনে মনে ভাবল এটা আবার কখন খুলল। খোলা তো ছিল না। ঠিকই তো ছিল। নাকি ওই খেয়াল করেনি। তখনি ধ্রুব'র ফোন বেজে উঠলো। ফোনটা কাউচের উপর রাখা ছিল। ফোন বাজতে দেখে তারা ফোনটা ধ্রুব'র হাতে দিল। ধ্রুব ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল অর্ণব কল দিয়েছে। রিসিভ করে কানে ধরল।
ওপাশ থেকে কি বলল তারা বুঝতে পারল না।
কিন্তু ধ্রুবকে বলতে শুনলো,
" হোয়াট আর ইউ সেইং? আইনমন্ত্রীর ছেলে আমার সঙ্গে দেখা করবে? বাট হোয়াই? "
.........."
" ওকে ফাইন লাঞ্চের পরে দেখা করছি। বলে দে। রাখছি বাই! "
মন্ত্রী ছেলের কথা শুনে তারা তো হা হয়ে গেল। 'মন্ত্রীর ছেলে এই লোকটার সঙ্গে দেখা করবে। কি সৌভাগ্য এই লোকটার। আর কি ক্ষমতা। মন্ত্রীর ছেলে কিনা তার সঙ্গে দেখা করার জন্য এপয়েন্টমেন্ট নিচ্ছে। সত্যিই তো এই লোকটার সাথে যদি আমার বিয়ে হয় তাহলে তো আমারও এরকম ক্ষমতা হবে। বাইরের মানুষ সব এর কথা ওঠাবসা করবে আর এই লোকটা ঘরে আমার কথায় ওঠাবসা করবে। ভাবতেই কেমন গর্ভবতী মনে হচ্ছে থুরি গর্ববোধ হচ্ছে। "
"কি বিড়বিড় করছিস? "
ধ্রুব'র কথায় তারা চোকিতে তাকিয়ে বললো না না কিছু না। ধ্রুব বিরক্তিতে 'চ' সুচক উচ্চারণ করল জামার বোতামের এই হাল দেখে । এখন কি করবে? তারা ধ্রুব এই হাল দেখে ঠোট টিপে হাসলো। তারপর ভাজ করা টি-শার্টগুলো কার্বাটে সুন্দর করে রাখতে রাখতে বলল,
" ক্যান আই হেল্প ইউ? "
" তোর মতো ললিপপ আমায় কি হেল্প করবে? "
তারা এবার রাগে ফুসলো। কি বলল এই লোকটা। ললিপপ। তারাকে কোন দিক থেকে দেখতে ললিপপের মত লাগে। এই লোকটার সাথে যদি সারা জীবন থাকতে হয় তারা সত্যি সত্যি কবে যেন পাগল হয়ে পাবনায় ভর্তি হবে। না না ভুল বলল মঙ্গল গ্রহে চলে যাবে। নিজের রাগ সংবরণ করে তারা বলল,
" নিজেকে কি ভাবেন সব সময় হ্যাঁ? আপনার শার্টের বোতাম ছিড়ে গেছে এটা আমি লাগিয়ে দেওয়ার কথা বলছিলাম। এতে আপনার সময় ও বাজবে টাকাও বাঁচবে । "
" গাধির বাচ্চা এটা ইউনিফর্ম এটা কিনতে টাকা লাগবে না সরকার দেবে। "
"কিন্তু এখন তো আপনার এটা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। তাই বলছিলাম যদি বলেন তো আমি সুই সুতা দিয়ে লাগিয়ে দিতে পারি। "
ধ্রুব আর কোন উপায় না পেয়ে সূচক মাথা নাড়ল। তারা দৌড়ে চলে গেল নিজের রুমে। আবার এক মিনিটের মাথায় ফিরে এলো। শুয়ে সুতা পরিয়ে ধ্রুবর কাছে এগিয়ে গেল। বুকের যেই কাছটাই বোতাম ছেড়েছিল ওইটা নিয়ে আলতো হাতে লাগিয়ে দিতে লাগলো। বোতামটা লাগানোর জন্য ধ্রুব'র খুব কাছে যেতে হয়েছিল তারাকে । ধ্রুব'র উন্মুক্ত বুকের সাথে তারার আলতো কোমল হাতের ছোঁয়া লাগছিল বারবার। উচ্চতায় তারা ধ্রুব'র বুক অব্দিই হয়। অনেক কাছে যাওয়াতে ধ্রুব'র শরীরের ম্যানলি পারফিউমের গন্ধ তারা নাকের সুর সুর করে ঢুকছিল। এক মাতাল করা ঘ্রাণ। তারার ঘ্রুানটা কেন এত ভালো লাগে তারা বোঝেনা। আমি সে তারা চোখ দুটো বন্ধ করে নিয়েছিল।
এদিকে তারাকে নিজের এত কাছে আসতে দেখে ধ্রুব"র খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। এসি চলছে রুমে সদ্য গোসল করে আসা সত্ত্বেও শরীর আবার ঘেমে যাচ্ছে। ধ্রুব তারা'র এই কাজ দেখে শুক্ন ঢোক গিলল। জিভ দিয়ে ঠোট ভেজালো। এই মেয়েটা কি বোঝেনা ধ্রুবর এত কাছে আসলে ধ্রুব'র কতটা অস্বস্তি হয়। নিজেকে কন্ট্রোল করতে অনেক বেগ পোহাতে হয়। ধ্রুব যে পুরুষ মানুষ। ২৯ বছর বয়স। নিজেকে কন্ট্রোল করতে খুব কষ্ট হয়। ধ্রুব এবার কন্ঠ অনেকটা নরম আর শিতল করে বলল,
" আমার একটা গার্লফ্রেন্ড খুঁজে এনে দিবি। একা একা থাকতে আর ভালো লাগেনা। একটা গার্লফ্রেন্ড হলে রোমান্স করতে পারতাম। সময় কেটে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। "
তারা বোতাম লাগাতে লাগাতেই উত্তর কোরলো,
" কেমন মেয়ে আপনার পছন্দ আমাকে বলবেন আমি খুঁজে দেবো । "
ধ্রুব কিছু বলবে তার আগেই তারা ধ্রুব'র বুকে মুখ গুজে দিল। ধ্রুব সাথে সাথে নিজের দুই হাত মুষ্টি বাধ্য করে নিল । চল শক্ত করে দাঁত খিচে চোখ বন্ধ করে রইল। হাত দুটো কে যথাযথ ভাবে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে। যাতে এই হাত দিয়ে তারা কে না স্পর্শ করে ফেলে। যদি ধ্রুব হাত দুটোকে কন্ট্রোল করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আজ সর্বনাশ হয়ে যাবে। একটা সময় পর তারা মাথা তুলল। ধ্রুব দেখলো সুইটা তারার হাতে এখন। হাফ ছেড়ে বাঁচলো। তারমানে এই মেয়ে সুতো কাটার জন্য মাথা দিয়েছিল বুকের উপর। আরেকটু হলে ধ্রুব'র জান বের করে নিতো। ধ্রুব দ্রুত পায়ে পেছনে সরে আসলো। তারপর বলল,
" এখন যা নিজের রুমে যা। তোর কলেজের দেরি হচ্ছে না? "
" বলছি শুনেন না আজকেও তো বাড়িতে গাড়ি থাকছে না। ড্রাইভার কাকু গাড়ি নিয়ে গেছে আব্বুকে নিয়ে আসতে। তার জন্য বলছি আপনি একটু আমাকে কলেজে নামিয়ে দিবেন। আপনার থানা তো আমার কলেজের রাস্তা দিয়েই যাই। তাহলে আমাকে কলেজে নামিয়ে দেবেন। "
" তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে নামবি। দশ মিনিট টাইম দিলাম। এক মিনিটের হেরফের হলে আমি এক সেকেন্ডও দাঁড়াবো না। "
তারা বলল এতেই হবে। এই বলে তারা দৌড়ে নিজের রুমে গেল। তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে নিচে নামলো। কোনমতে একটা স্যান্ডউইচ আর এক গ্লাস জুস খেয়ে নিল। ধ্রুব ততক্ষণে বেরিয়ে গেছে। তারা সবাইকে বলল আমি আসছি। এই বলে তাড়াতাড়ি করে বেরিয়ে গেল সে নিজেও।
ধ্রুব বাইক নিয়ে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা বাইকের সামনে এসে দু হাত দু হাটুতে ভর করে ঝুকে দাঁড়িয়ে হাপাতে লাগলো। ধ্রুব হেলমেট টা এগিয়ে ধরল। তারা হেলমেট টা নিয়ে মাথায় পরল। ধ্রুব হেলমেট আটকে দিল। তারপর তারা যখন দু'পাশে পা দিয়ে বসতে যাবে তখন ধ্রুব ধমক দিয়ে বলল,
" দুই পাশে পা দিয়ে বসিস কেন এখনো তুই কি এখনো বাচ্চা? তুই বড় হয়েছিস না এখন এক পাশে পা দিয়ে বয়।! "
তারা ধ্রুবর ধমক শুনে এক পাশে পা দিয়ে বসলো। আর বলল,
" আমার এভাবে বসতে ভয় লাগে। যদি পড়ে যাই। দুপাশে পা দিয়ে বসতে কমফোর্টেবল ফিল করি। "
" এভাবেই বসবি ভালো করে তো শক্ত করে ধরে বসবি । ঐভাবে বসলে আমার অস্বস্তি হয়। "
" ঠিক আছে আপনারা অস্বস্তি হয় যখন তখন আর বসবো না। আশিক ভাইয়ের গাড়িতে উঠবো। আশিক ভাইয়ার গাড়িতে এভাবে বসলে আশিক ভাইয়া কিছুই বলে না। "
ব্যাস শান্ত মেজাজটা বিকিয়ে দেয়ার জন্য তারা'র এই কথাটাই যথেষ্ট ছিল। দাঁতের দাঁত পিষে চয়াল শক্ত করে ধ্রুব গিয়ার টানলো। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলে বাইক উড়তে শুরু করেছে ।
30 মিনিটের রাস্তা মাত্র ১০ মিনিটে পৌছালো ধ্রুব। তারা তো জান জায় জায় অবস্থা। গাড়ি থেকে নেমে মাথা ধরে বসে পড়লো। তারপর বলা শুরু করলো,
" মেরে ফেলতে চান নাকি আমাকে? এত জোরে কেউ বাইক চালাই। মনে হচ্ছে আমার মাথা এখনো ঘুরছে। মনে থাকলে আর আপনার বাইকে উঠবো না। আশিক ভাইয়া কত সুন্দর বাইক চালায়। "
ধ্রব'র ফিকে হয়ে যাওয়া রাগটা যেন আবারো বাড়লো। তারা তো ধ্রুবকে জালানোর জন্যই আশিকের নাম বারবার বলছে।
ধ্রুব আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়ালো না। যেভাবে উড়ে উড়ে এসেছিল আবার ঠিক সেভাবেই উড়ে উড়ে চলে গেল।
তারা পেছন থেকে তাকিয়ে দেখলো আর মিষ্টি মিষ্টি হাসলো। এই তো লাইনে আসছেন আপনি। আমার উপর আপনার নাকি ভালোবাসা নেই, তাহলে আমার নামের পাশে অন্যের নাম শুনলে এত জ্বলে কেন?
তারা এবার নাচতে নাচতে কলেজের ভিতর ঢুকে গেল। ঢুকতেই দেখল মিথিলা ওর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। তারা দৌড়ে গিয়ে মিথিলা কে জড়িয়ে ধরল। তারপর দুই হাত ধরে গোল গোল ঘুরতে লাগলো। মিথিলা যখন তারার এত খুশির কারণ জানতে চাইল তখন তারা বলল,
" আমার সব থেকে বড় শত্রুর শাস্তি দেয়ার উপায় আমি পেয়ে গেছি। এবার শুধু দেখবি এমন পোড়ানো পোড়াব উনাকে যে একটা সময় উনি আমার কথা ছাড়া ওঠাবসা ভুলে যাবে। পুরো দুনিয়া চলবে তার কথাই আর সে চলবে আমার কথায়। "
"তুই কি বলছিস আমি আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে! "
" বুঝতে হবে না তোকে শুধু দেখে যা আমি কি কি করি। "
এই বলে দুই বান্ধবী গলা জড়িয়ে ধরে কলেজের ভিতরে চলে গেল।
.................
ধ্রুব নিজের পার্সোনাল কেবিনে বসে কিছু ফাইল চেক করছিল। ঠিক সেই সময় মুখটা আমসত্ত্ব বানিয়ে প্রবেশ করলো অর্নব।
ধ্রুবকে বললো,
" ভাই একটা সর্বনাশ হয়ে গেছে। "
" কি হয়েছে থানায় আগুন লেগেছে?"
" না"
" তাহলে নিশ্চিত তোর বাড়িতে আগুন লেগেছে! "
" না"
" তাহলে তো আমি ১০০% নিশ্চিত তোর পেছনে আগুন লেগেছে। "
" তাহলেও হয়তো ভালো হতো। কিন্তু আগুনটা এমন জায়গায় লাগছে নিভাতে পারছি না। পেছনে লাগলে তো বাথরুমে গিয়ে পানি ঢাললে আগুন নিভে যেত। কিন্তু আগুনটা লেগেছে যে আমার বুকে। কিভাবে পানি দিয়ে নিভাবো?"
"বালতি বালতি পানি খেয়ে ফেল! যদি নিভে। "
" পানি খেয়ে লাভ হবে না রে... আগুন লাগছে আমার বুকে রে.... লাগাইছে ওই স্বপ্নের মাইয়ারে...!"
" তাহলে স্বপ্নে গিয়ে মর এখানে আসছিস কেন? বাই দা ওয়ে ফরজ গোসল করে আসছিস তো? না করলে এক্ষুনি আমার ঘুম থেকে বের হয়ে যা!"
" তোর কি আমাকে এতটা লুচ্চা মনে হয় রে? আমি এখনো পিওর ভার্জিন! আমার মত এরকম অবলা নিষ্পাপ নিরীহ বাচ্চা ভার্জিন ছেলেকে তুই এই কথা কথা বলতে পারলি? কষ্ট পাইলাম খুব কষ্ট পাইলাম! "
" আসছে আমার ভার্জিন এর বাচ্চা! তুমি যে প্রায় রাতে স্বপ্নে ভার্জিনের মায়েরে বাপ করো সেটা আমার জানা আছে! "
" হইছে হইছে এত সত্যি কথা বলতে হবে না! ভার্জিনিটি নিয়ে না ভেবে মন্ত্রী ছেলেকে নিয়ে ভাব। ওই হালায় এখানে আইতাছে কেন? "
" ওই বেটার নামটা কি জানিস?"
" হয় জানি মনে হয়। "আব্রাহাম শিকদার জয়" বয়স ৩০ বছর। আরে ভাই আমি একবার দেখছি ভিষন হ্যান্ডসাম। মা বিদেশি বাপ বাংলাদেশি। দুটোর কম্বিনেশনে ওই হালার সৌন্দর্য পুরাই আগুন। বাংলাদেশে তো তাকে খুব একটা দেখা যায় না। আমেরিকায় থাকে। মাঝেমধ্যে আসে বাপ মার আদর নিতে। "
"তোকে দেখে আমার সন্দেহ হচ্ছে! "
" কেন ভাই কি সন্দেহ হচ্ছে? "
" তুমি যেভাবে একটা ছেলে হয়ে ছেলের প্রশংসা করছিস তাতে আমার মনে হচ্ছে তুই ছেলে নাকি ওইসব..... "
অর্ণব সাথে সাথে দুই পা তুলে চেয়ারের এর উপর উঠে বসে দুই হাটু জড়িয়ে ধরে বলল,
" কি ভাই তুই আমাকে নিয়ে এসব ভাবিস। তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ। আমি পিওর ছেলে। বিশ্বাস না হলে দেখে নিতে পারিস! "
" ইয়াক থুহ আমি কেন দেখতে যাব! হোয়াটএভার! মন্ত্রীর ছেলে কি কোন পার্সোনাল বিজনেস আছে?"
" আরে না ভাই আমি শিওর জানিনা। তুমি বড়লোকদের সব বড় বড় কারবার। থাকতেও পারে গোপনে গোপনে। ওদের তো জন্মটাও বৈধভাবে হয় না। সেখানে বিজনেস কিভাবে বৈধ হবে । "
(চলবে...…)
🌼আমার উপন্যাস টা ভালো লাগলে কমেন্টে জানাবেন। আপনাদের উৎসাহ পেলে এগিয়ে যাব। গল্পের আসল ঘটনা শুরু মাত্র আপনারা একটু ধৈর্য ধরে পরবেন ভালো লাগবে। বানান ভুল হতে পারে, আপনারা একটু মানিয়ে নিবেন প্লিজ! 🌼