ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেহজাদার আদর

৮ম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া ইসলাম নূর

💙পর্ব_০৮

শেহেজাদার আদর

#সেহেজাদ_ইউভি_চৌধুরী

#ইনায়া_নূর_চৌধুরী

#সুমাইয়া_ইসলাম_নূর

গাড়িটা ধীরে ধীরে আবার চলতে শুরু করলো।

রেদোয়ান চুপচাপ গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে চোখ সামনে,রাস্তায় কিন্তু মুখে কোনো কথা নেই।তার পাশের সিটে চুপচাপ বসে আছে ইনায়া।জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে চোখ দুটো কান্নাই ভেজা, ঠোঁট কাঁপছে হালকা করে।

পিছনের সিটে পিয়াসা আর তুবা বসে আছে

দুজনেই নিস্তব্ধ হয়ে আছে কারো মুখে কোনো কথা নেই।গাড়ির ভেতরের পরিবেশটা যেন জমে গেছে একটা ভারী নীরবতায় মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ আগের ঘটনাটা এখনো সবাই নিজের মতো করে বুঝতে চেষ্টা করছে।

কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না কিন্তু সবার মাথায় একই প্রশ্ন ঘুরছে এটা কি হলো…? তুবা আস্তে করে পিয়াসার হাত চেপে ধরল কিন্তু সেও কিছু বলল না।পিয়াসা শুধু মাথা নিচু করে বসে রইল।ইনায়ার চোখ থেকে আবার এক পোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।সে চুপচাপ সেটা মুছে ফেলল কেউ যেন না দেখে গাড়িটা এসে থামল তুবার বাসার সামনে।রেদোয়ান ধীরে বলল তুবা… নাম। তুবা কিছুক্ষণ ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল চোখে উদ্বেগ নিয়ে বললো।কাল কথা বলবো খুব আস্তে বলল সে।তারপর নেমে গেল।গাড়িটা আবার চলতে শুরু করল এইবার গন্তব্য চৌধুরী ভিলা।ভেতরের নীরবতা আরও গভীর হয়ে গেল গাড়িটা ধীরে ধীরে এসে থামল চৌধুরী ভিলার সামনে।গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই—

বাড়িটার আলো জ্বলছে রেদোয়ান গাড়ি বন্ধ করল।

কিছুক্ষণ সময় একি ভাবে চলে গেল কিন্তু কেউ নামল না।

শেষ পর্যন্ত রেদোয়ান নিজেই দরজা খুলে নামল।

তারপর পাশের দরজাটা খুলে আস্তে বলল—

“চল, বোনু পিহু আই ইনায়া ধীরে ধীরে নামল।

মাথা নিচু করে আছে চৌখ দুটো কান্না করার কারনে লাল হয়ে গেছে পিয়াসাও চুপচাপ নেমে এল।তিনজন একসাথে ভেতরে ঢুকল।ড্রয়িংরুমে বাড়ির বড়রা বসে আছেনকারো হাতে চা আবার কারো হাতে খবরের কাগজ স

ওদের দেখে নুসরাত চৌধুরী প্রথমেই উঠে দাঁড়ালেন এতো দেরি হলো কেন? ফোনও ধরছিলি না কথা শেষ করার আগেই তার চোখ পড়ল ইনায়ার মুখের বা পাশে পাঁচটা আঙ্গুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এই! তোর চোখ লাল কেন?” মুখে কি হয়েছে? এটাতো আঙুলের ছাপ কে মেরেছে তোকে? ইনায়া থেমে গেলেমুখ নিচু করে বলল কিছু না মা কিছু না মানে? তার কণ্ঠে চিন্তা স্পষ্ট ফুটে উঠলো ।

পিয়াসা কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল।রেদোয়ান এগিয়ে এলমা… ওকে আগে রুমে যেতে দাও। এই কথায় ঘরের সবাই একটু থেমে গেল।রাতিব চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে বললেন কিছু হয়েছে? রেদোয়ান এক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল পরে বলছিনঘরের ভেতর চাপা উত্তেজনা তৈরি হলো।সবার মাঝে।কেউ কিছু জোর করে জিজ্ঞেস করল না কিন্তু সবার চোখেই প্রশ্ন।

ইনায়া আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না।দ্রুত নিজের রুমের দিকে চলে গেল।দরজা বন্ধ করতেই সে ভেঙে পড়ল কান্নাই

বিছানায় বসে মুখ হাত দিয়ে কাঁদতে লাগল।তার মাথায় শুধু একটাই দৃশ্য বার বার আসছে ইউভির রাগে ভরা চোখ দুইটা ইউভির কন্ঠো সে নিজের চুলে হাত রাখল কাটা চুল…

তার বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠল।আমি কি অনেক বড় ভুল করেছি ইউভি ভাইয়া ? ফিসফিস করে বলল সে।

এদিকে নিচে পিয়াসা দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ।নুসরাত চৌধুরী আবার জিজ্ঞেস করলেন পিয়াসা, বল তো… কী হয়েছে?”

পিয়াসা ঠোঁট কামড়ে দারিয়ে আছে চোখ নামিয়ে বলল—

কিছু না মেঝো মা মিথ্যে বলিস না। রেদোয়ান এবার গভীর নিঃশ্বাস ফেলল মা… পরে বলবো বলেছি না ঘরের পরিবেশ

ভারী হয়ে উঠল।সবাই বুঝে গেছেকিছু একটা হয়েছে…

এবং সেটা ছোট কিছু না।পিয়াসা আস্তে করে বলল

“আমি উপরে যাচ্ছি সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল

ইনায়ার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।দরজায় হাত তুলেও—

থেমে গেল।ভেতর থেকে কান্নার শব্দ আসছে পিয়াসার চোখ ভিজে উঠল।আমি জানি পাখি ভাইয়া এমন কেন করলো তোর সাথে আমাকে ক্ষমা করে দিস পাখি। আমি তোকে বলতে পারবো না মনে মনে বলল সে।রেদোয়ান গভীর একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল আমি সব বলছি ঘরের সবার দৃষ্টি একসাথে তার দিকে ঘুরে গেল।রেদোয়ান ধীরে ধীরে পুরো ঘটনাটা খুলে বলল।পার্লার চুল কাটা।গাড়ির ভেতরের সেই মুহূর্ত সব।কথা শেষ হতেই ঘরের ভেতর যেন আগুন জ্বলে উঠল।লিখন চৌধুরী হঠাৎই রেগে উঠে দাঁড়ালেন এতোটা নিচে নেমে গেছে তোমার ভাই যে এই বাড়ির মেয়ের গায়ে হাত তোলে?! তার কণ্ঠে বজ্রের মতো রাগ ফুটে উঠলো আমি ভাবতেও পারিনি আমার ছেলে এমোন একটা কাজ করবে ! রাতিব চৌধুরী দ্রুত বললেন—

“ভাইয়া, শান্ত হন তারপর একটু থেমে বললো।

আমরা সবাই জানি ইউভি ইনায়ার চুল কতটা পছন্দ করে…”

তিনি ধীরে ধীরে বললেন মনে নেই?দশ বছর আগে যখন ও বাড়ি ছেড়ে চলে যায় তখন বারবার ওর মা আর মেজো মাকে বলে গিয়েছিল ‘ইনায়ার চুলের যত্ন নিও নুসরাত চৌধুরীও বললেন শুধু তাই না প্রতি শুক্রবার আসার আগে আমাকে ভিডিও পাঠাতো মেজো মা, ওর চুলে এটা দাও…

ওটা দাও তাহলেই চুলগুলো আরও সুন্দর হবে রেশমা চৌধুরী বললেন তাই বলে মেয়েটাকে মার*বে? রেশমা চৌধুরীর চোখে পানি মুছে বললোএতো বড় চুল মেয়েটা সামলাতে পারে না কত কষ্ট হয় ওর তিনি কাঁপা গলায় বললেন আমি তো মাঝে মাঝে বলতাম চুল কেটে ফেলতে…”

হঠাৎই কণ্ঠ শক্ত হয়ে গেল আসুক আজ আমার গুণধর ছেলে আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলেছে আমি ছাড়বো না!”

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে—

ঠিক তখনই নুসরাত চৌধুরী তাড়াতাড়ি বললেন না, বড় আপা… ইউভিকে কিছু বলবেন না সবাই তার দিকে তাকাল।

তিনি ধীরে বললেন কিছুদিন পর রিমঝিমের বিয়ে…

আমি চাই না আমাদের ছেলে আবার রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাক এই কথায় সবাই আবার নিস্তব্ধ হয়ে উঠলো।

ঠিক তখনই বাইরে থেকে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল—

রিমঝিম।সে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতেই বলল “আমাদের ছেলে আর বাড়ি ছেড়ে যাবে না, ভাবি সবাই তার দিকে তাকাল।

রিমঝিম শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল—

“বরং “আমার তিন ভাইকেই এখন বাড়িতে বসে বসে নাকানি-চুবানি খাওয়াবে। তার কথায় কেউ হেসে ফেলল, কেউ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল কিন্তু টেনশনের মাঝেও পরিবেশটা একটু নরম হলো।রিমঝিম ধীরে ধীরে সবার দিকে তাকাল যা হয়েছে… ভালো হয়নি।ইউভি আমাকে সবটা বলছে কিন্তু শুধু রাগ দিয়ে এই সমস্যা মিটবে না।”

সে সোফায় বসে বলল ইউভি রেগে গেছে কারণ আছে কারন টা আমার সবাই জানি।কিন্তু যে কাজ টা করছে

সেটা ভুল।

.

রাত অনেক হয়ে গেছে।শহরের রাস্তাগুলো প্রায় ফাঁকা…

দূরে দূরে স্ট্রিট লাইটের আলো ঝাপসা হয়ে পড়ছে।

একটা কালো Range Rover Autobiography গাড়ি

রাস্তায় এক পাশে থেমে আছে।গাড়ির ভেতরে বসে আছে ইউভি।ইঞ্জিন অফ করে বসে আছে চারপাশে নিস্তব্ধতা…

স্টিয়ারিংয়ে দুই হাত রেখে বসে আছে। হঠাৎ ধীরে ধীরে মাথা তুলল সে।চোখে লালচে ক্লান্তি ফুটে উঠেছে আমি কি করে ফেললাম…? নিজেকেই ফিসফিস করে বলল।

তার মাথায় বারবার ভেসে উঠছে ইনায়ার ভয় পাওয়া চোখ দুইটা কাঁপা কাঁপা মুখ ইউভি হঠাৎ স্টিয়ারিংয়ে জোরে হাত মারল ধুর! ও তো আমার আদর আমার সেই ছোট্ট ফুলটা…”

চোখ বন্ধ করে মাথা ঠেকাল স্টিয়ারিংয়ে।যাকে এত বছর দূরে থেকেও আগলে রেখেছি আজ আমি নিজেই।কথাটা শেষ করতে পারল না সে ধীরে ধীরে ফোনটা বের করল সে।

স্ক্রিনে ইনায়ার একটা ছবি খোলা লম্বা হালকা লাল চুল…

আস্তে করে আঙুল বুলিয়ে দিল স্ক্রিনে।তারপর খুব আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল তুই কষ্ট পেয়েছিস… তাই না, আদর…? আমি তোকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু কষ্টটা আমিই দিলাম চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বললো ইউভি

“সরি আদর তারপর আবার ধীরে ধীরে মাথা তুলে সামনে তাকাল।চোখে আবার সেই জেদ খুব দ্রুত আমি তোকে আমার করে নেব আদর আমি আর অপেক্ষা করবো না।

.

ডাইনিং টেবিলে তখন সবাই বসে আছে। টেবিলে নানান ধরনেী খাবার সাজানো কিন্তু কেউ ঠিকভাবে খাওয়া শুরু করছে না।কারণ এখনো ইউভি আসেনি।নুসরাত চৌধুরী একবার ঘড়ির দিকে তাকালেন এখনো এল না? রেশমা চৌধুরী বললেন রেদোয়ান, একবার ফোন দিয়ে দেখ তো।”

রেদোয়ান ফোন বের করে ইউভিকে কল দিল।

কয়েকবার রিং হতেই কল রিসিভ কটলো “হ্যাঁ? গলাটা ঠান্ডা শোনাল ।ভাইয়া সবাই বসে আছে খাবার টিবিলে তুমি আসছো না?।আমি বাইরে খেয়ে নিবো। রেদোয়ান কিছু বলার আগেই ইউভি আবার বলল কালকের মিটিংয়ের জন্য রেডি থাকিস। এরপরই কল কেটে গেল।

রেদোয়ান কিছুক্ষণ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ধীরে বলল।ভাই বাইরে খাবে।টেবিলের পরিবেশটা আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেল।এইদিকে ইনায়াকে অনেকবার ডাকা হলো ইনায়া! নিচে আয়!।খেয়ে যা মা! কিন্তু—

সে আর নামল না।শেষ পর্যন্ত সবাই চুপচাপ খাওয়া শেষ করল।কারো মুখে তেমন কথা নেই আজ যেন খাবারের স্বাদও নেই।একজন একজন করে সবাই উঠে গেল নিজের নিজের রুমে।রেদোয়ান কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল।

তারপর ধীরে উঠে দাঁড়াল।টেবিল থেকে একটা প্লেটে খাবার তুলে নিল ইনায়ার জন্য।ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠল।

ইনায়ার রুমের সামনে এসে থামল।

একটু নক করল।বোনু… দরজা খোল।।ভেতর থেকে কোনো উত্তর এলো না।

আবার বলল বোনুকিছুক্ষণ পর।ধীরে দরজাটা খুলল ইনায়া।চোখ মুখ ফোলা।রেদোয়ান কিছু না বলে ভেতরে ঢুকে গেল এরপর দরজাটা বন্ধ করল।প্লেটটা আর ফোন টা টেবিলে রেখে ধীরে ইনায়ার সামনে দাঁড়াল।কাঁদিস কেন এত? নরম গলায় বলল সে।ইনায়া মাথা নিচু করে বললো আমার খিদে নাই রেদোয়ান হালকা হেসে বলল খিদে নাই মানে?সারাদিন কিছু খাসনি… আর এখন নাটক করছিস?”

ইনায়া মুখ ফিরিয়ে নিল খাবো না রেদোয়ান ধীরে তার চিবুকটা ধরে মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিল।চোখে চোখ রেখে বলল আমার দিকে তাকিয়ে বল খাবি না? ইনায়ার চোখ আবার ভিজে উঠল।রেদোয়ান একটা ভারি নিঃশ্বাস ফেলল তারপর তাকে আলতো করে নিজের বুকে টেনে নিয়ে বললো এই পাগলি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল—

“আমার ছোট্ট বোনটা কাঁদলে আমার ভালো লাগে নাকি?

ইনায়া এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না ভাইয়ের বুকেই মুখ লুকিয়ে কাঁদতে লাগল।ভাইয়া… উনি এমন করলো কেন…? রেদোয়ান চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্তের জন্য তারপর খুব আস্তে বললসব প্রশ্নের পাওয়া যায় না, বোনু…”

“কিন্তু একটা জিনিস জানিস? ইনায়া চুপচাপ শুনছে।

তোকে কেউ খুব বেশি নিজের মনে করে ইনায়া ধীরে বলল কে?রেদোয়ান কিছু বলল না।শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।

তারপর প্লেটটা হাতে নিয়ে বলল চল, এবার খা। নিজের হাতে এক লোকমা খাবার তুলে ধরল মুখ খোল। ইনায়া একটু না না করলেও শেষে মুখ খুলল।রেদোয়ান ধীরে ধীরে তাকে খাওয়াতে লাগল একদম ছোটবেলার মতো।মাঝে মাঝে বলছে “এইটা খা… এটা তোর পছন্দের।।ইনায়ার চোখে আবার পানি চলে আসলো কিন্তু এবার সেই পানির মাঝে একটু শান্তির ছোয়া ফুটে আছে আছে খাওয়া শেষে—

রেদোয়ান তার কপালে আলতো করে একটা চুমু দিল।

“ঘুমিয়ে পড়… সব ঠিক হয়ে যাবে। ইনায়া আস্তে বলল—ভাইয়া… তুমি আছো তো? রেদোয়ান মুচকি হেসে বললো সবসময়। ফোনটা টেবিলের ওপরই পড়ে ছিল কলটা কাটা হয়নি ওপাশে কেউ একজন নিঃশব্দে সব শুনছিল।একটা কথাও না বলে একটা শব্দও না করে শুধু শোনে গেল ইনায়ার কান্না তার কষ্ট গুলো তার ভাঙা গলার সেই প্রশ্ন—

“উনি এমন করলো কেন…? ওপাশে থাকা মানুষটার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।মুঠো করে ধরল ফোনটা।চোখ বন্ধ করল ধীরে মনে মনে শুধু একটাই কথা “আমি কি এতটাই কষ্ট দিলাম তোকে, আদর…? কলটা তখনো চলছে ইউভি ফোন টা কেটে দিয়ে রওনা হলো চৌধুরী ভিলার উদ্দেশ্যে

ইনানা ঘুমিয়ে পড়লে ফোন হাতে নিয়ে দেখে রেদোয়ান ইভি এত সময় লাইনে ছিলোমনে মনে বলে এতো বালোবাসো কেন তুমি বোনু কে?।

.

রাত আরও গভীর হয়েছে।চৌধুরী ভিলার চারপাশে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।ইউভি ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে।তার মুখটা আজ অস্বাভাবিক শান্ত লাগছে কিন্তু সেই শান্তির ভেতরে লুকিয়ে আছে অপরাধবোধ।নিজের রুমের সামনে এসে থামল কিন্তু দরজা খুলল না।চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্ত তারপর পা ঘুরিয়ে এগিয়ে গেল আরেকটা দরজার দিকে।ইনায়ার রুম।

দরজাটা আস্তে করে খুলল।ভেতরে হালকা আলো জ্বলছে।

বিছানায় ঘুমিয়ে আছে ইনায়া চোখ বন্ধ করে আছে

মুখটা ক্লান্তুিতে ভরে আছে গালে হালকা লালচে দাগ এখনো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এই দৃশ্যটা দেখেই ইউভির বুকটা হালকা কেঁপে উঠল।ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল সে।বিছানার পাশে বসে পড়ল।হাত বাড়িয়ে থেমে গেল ছোঁয়ার সাহস হচ্ছে না।

“আমি… তোকে এভাবে কষ্ট দিতে চাইনি খুব আস্তে ফিসফিস করে বললো সে।তারপর ধীরে আস্তে করে ইনায়ার চুলগুলো সরিয়ে দিল কপাল থেকে।মেয়েটা ঘুমের মধ্যেই একটু নড়ল কিন্তু জাগল না।ইউভি ঝুঁকে এল তার কপালে খুব আলতো একটা চুমু দিল একটা…

তারপর আরেকটা দিলো তারপর থেমে না থেকে গুনে গুনে ছোট ছোট চুমু দিতে লাগল কপালে গালের কোণে চোখের পাশে প্রতিটা চুমুতে যেন একটা করে ক্ষমা চাওয়া…

“সরি আর এমন করব না তোকে কষ্ট দেব না তার ঠোঁট থেমে গেল ইনায়ার গালের সেই জায়গায় যেখানে সে নিজেই আঘাত করেছিল।চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করল—

এই হাতটা… আমি নিজেই শাস্তি দেব তারপর আবার ধীরে—

সেই জায়গায় কয়েকটা নরম চুমু রাখল অনেকক্ষণ বসে রইল সে শুধু তাকিয়ে রইলো ফিসফিস করে বললো উফফ… এত সুন্দর কেন রে তুই, আদর আমি তো পুরো শেষ হয়ে যাচ্ছি মৃদু হেসে বলল।এই চুলটাই তো আমার সব তুই না চাইলে ও আমার এইটা কেউ বদলাতে পারবে না…”

শেষবারের মতো আস্তে করে তার কপালে একটা চুমু দিয়ে উঠে দাঁড়াল ইউভি।দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে আবার একবার ফিরে তাকাল ইনায়া তখনো গভীর ঘুমে কিছুই জানে না তার জন্য কেউ এভাবে ভেঙে পড়েছে ইউভি চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করল আমি ই তোকে কষ্ট দিবো

আমি ই তোকে ভালোবাসবো তুই চাইলে ও ভালোবাসবো

তুই না চাইলে ও ভালোবাসবো

চলবে..............

৷ ®️ সুমাইয়া ইসলাম নূর

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন