#পর্ব_৬
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ)
.
আসিফা ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতড়ায়। হাতে পেয়েই সোজা কল করে তার " বাঁধাকপি" নামে সেভ করা নাম্বারে। ওই পাশ থেকে ফোন রিসিভ হতে সময় লাগে। রিসিভ হতেই আসিফা চেঁচিয়ে বলল,,,
"স্বপ্ন দেখেছি স্বপ্ন। মারাত্মক স্বপ্ন,,,দেখেছি তোর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে কোনো এক টাক ওয়ালা বুড়োর সাথে। তুই মহা খুশি,,,কারণ তুই নাকি সেই টাকে রোজ কাটাকুটি খেলবি। এটা কোনো কারণ হলো বল! যদি তুই বলতিস যে,সেই টাকে তুই শুকনো লঙ্কা শুখাতে দিবি তাও কথা ছিল।
কাটাকুটি খেলা! ইটস সো ফালতু আইডিয়া।"
একনাগাড়ে কথাগুলি বলে থামল আসিফা। ওই পাশে থাকা রুমি ভ্রু কুঁচকে ফেলে। সে নাক মুখ কুচকে বলে ওঠে,,,
"আসু লাইক সিরিয়াসলি! শেষ পর্যন্ত টেকো বর?"
আসিফা ঠোঁট গোল করে বলে,,,"আরে স্বপ্নই তো! কিন্তু,,,,"
"কিন্তু কি?"
"জানিস আমার এক কাজিন একদিন স্বপ্ন দেখেছিল যে,তার পাশের বাড়ির বুড়ি পটল তুলেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এইটাই যে সত্যিই সেদিন দুপুরবেলা বুড়ি পটল তোলে!"
ওই পাশের রুমি এইবার নড়ে চড়ে বসল। তার এই'বার ভয় হচ্ছে। যদি আসিফার স্বপ্ন সত্যি হয়! রুমি হা হয়ে,হতবাক স্বরে বলল,,,
"বলিস কি! সত্যি?"
আসিফা অতি সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল,,,"হ্যাঁ সত্যি। ওনার উঠান বাগানের পটল গাছ থেকেই তো পটল তুলছিলো বুড়ি।"
আসিফা ফিক করে হেসে দেয়। রুমি ফুঁসে ওঠে। দাঁত কিড়মিড় করে বললো,,,"আসুর বাচ্চা,,,,তুই আয় আজ কলেজে।"
আসিফা জোরে হেসে উঠলো। ফোন কেটে দৌড় লাগলো ওয়াশরুমের দিকে। তার কলেজ যেতে হবে। দুই দিন কলেজ যায়নি। পেটে অনেক কথা জমে। সব টা বমি করবে বাঁধাকপির গায়ে।
-------------
সময়টা তখন বিকেল। আকাশে তখন উড়ে বেড়াচ্ছে কমলা রঙের মেঘের ভেলা। সুন্দর মনোরম পরিবেশ আজ। বর্ষা গরমের মাঝে এরকম বিকেল সবার কাছে অতি প্রিয়। অফিসের শেষ কিছু ঘন্টা বাকি। সময় পেরালেই সবাই নিজের কর্মস্থান থেকে ছুটি নিয়ে নিজ গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাবে।। অফিসের বাইরে রয়েছে কিছু দোকান'পাচারি।
হালকা ব্লু রঙের, শার্ট সাদা গেবাডিং এর সাথে ইন করা। ফরমাল লুক। গলার টাই ক্লান্তি'র চোটে অগোছালো। বোঝা যাচ্ছে সেটা কেউ টেনেটুনেই এরকম করেছে।। সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে উড়াতে ব্যস্ত আয়াজ। মাঝেমধ্যে চুল ব্যাক ব্রাশ করছে।। আয়াজ এর লুক একদম মডেল দের মতোই। লম্বা চওড়া পেশীবহুল সুপুরুষ সে। রাস্তার বেশিরভাগ মানুষের দৃষ্টি তার দিকে হলেও তার দৃষ্টি ফোনে সীমাবদ্ধ। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ তার পিঠে একটা চাপড় মারলো। আয়াজ ভ্রু কুঁচকে ফেলে পিছন দিকে তাকাতেই দেখল তার এভার গ্রিন চাচু দাড়িয়ে। জগাড় আর টি শার্ট পরনে,,,চোখের রোদ চশমা কপালে তুলে আপন ভাতিজার দিকে তাকিয়ে আছে।
"কি হে ভাইপো,,,চাচু ছাড়াই টান মারো! লজ্জা করে না!"
আয়াজ ঠোঁট কামড়ে হাসলো,,,নিজের আধ খাওয়া সিগারেট চাচুর দিকে বাড়িয়ে দিতেই রাফাজ দেয় এক মেকি ধমক,,,,"লজ্জা করে না চাচুর সামনে দাঁড়িয়ে স্মোকিং করতে! আবার নিজের খাওয়া সিগারেট এগিয়ে দাও! একটা আস্ত দাও,,,"
আয়াজ মাথা এদিক সেদিক নাড়িয়ে চাচুর দিকে তাকিয়ে রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ে। তার চাচু তার থেকেও বড় ধূর্ত। একটা সিগারেট এগিয়ে দিয়ে বলে,,,
"এরকম অ্যাক্টর'ই তো খুজছে ইন্ডাস্ট্রি।"
রাফাজ ঠোঁটের মাঝে ছাইপাশ টা জ্বালায়। নাক থেকে ধোঁয়া নির্গত করতে করতে বলে,,,"ভাইপো অ্যাক্টিং তো করছি,,,নিজের সাথে। এই বার ইন্ডাস্ট্রি তে প্রবেশ করলে,,,অস্কার আমার।"
আয়াজ তাকায় আপন চাচুর পানে। অত্যাধিক সুন্দর চিন্তার অধিকারী রাফাজ। মাঝে মধ্যে আয়াজ এর বিশ্বাস করতে অসুবিধে হয় যে,তার এই পারফেক্ট চাচুর দ্বারা কারর জীবন থমকে আছে। আচ্ছা চাচুও কি থেমে নেই! সেও তো থেমে আছে,,,এই যে এক চল্লিশ বছর বয়সী সিঙ্গেল পুরুষ সে।
তাদের কথা বার্তার মাঝেই তাদের সামনে এসে দাড়ালো এক স্কুল পড়ুয়া বালিকা। পরনে এখনও ইউনিফর্ম। বয়স অনুমান ১৬ কি ১৭। দুই পুরুষই মেয়েটির দিকে তাকাল কিন্তু মেয়েটির মস্তক নিচু। কোনো রুপ ভনিতা ছাড়াই এক কাগজ এগিয়ে দিল রাফাজ এর দিকে। কাগজ দিয়ে এই মেয়েটি পড়ি কি মরি ছুট লাগালো দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তার বান্ধবীদের গ্রুপের দিকে। এদিকে রাফাজ চোখ ছোটো ছোটো করে কাগজটি খুলেই মুহূর্তেই হো হো করে হেসে উঠলো। আয়াজ কাগজ নিয়ে দেখলো সেথায় গোটা গোটা অক্ষরে লেখা,,,,
' ভালবাসি তোমায়। অনেক দিন ধরেই। তোমায় না পেলে আমি পাগল হয়ে যাবো। নিচে আমার নাম্বার,উত্তর হ্যাঁ হলে রাত আটটায় আমায় কল দিয়ো আমি অপেক্ষায় থাকবো।'
আয়াজ ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে। চাচুর দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হেসে বললো,,,," মনে করে কল দিও চাচু,, মেয়েটা পাগল হলে কিন্তু তোমার লস। এরকম কচি মেয়ে আর পাবে না! আমিও এই চাচীর অপেক্ষায়।"
দুই জনেই হাসলো। এরকম টা রাফাজ এর জন্য নরমাল। তার ড্যাসিং লুক দেখে যে কোন মেয়ে ফিদা হতে বাধ্য। রাফাজ আয়াজের কাঁধে হাত রেখে বলল,,,,
"বাড়ী যাও বাকিটা আমি দেখছি। মেহমান আসবে সন্ধ্যার পর,,,"
আয়াজ ও কথা বাড়ায় না। গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল সে। রাফাজ ঢুকলো অফিসে।
--------------
গাড়ী চলছে সচ্ছল গতিতে। মেজাজ আয়াজ এর ফুরফুরে। কিন্তু এই মেজাজ টিকলো না বেশি সময়। বুকের গতি বাড়িয়ে হঠাৎ আগমন ঘটে এক চঞ্চল পাখির,,,যে একদম উড়ে এসে দাঁড়ায় আয়াজ এর গাড়ির সামনে। দ্রুত ব্রেক কষে আয়াজ। তার বুক ধরফর করছে। আর একটু হলেই সামনের মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে উড়িয়ে দিতে সেকেন্ড লাগত না। ভুলটা যদিও মেয়েটার। হুট করে কে এরকম সামনে আসে! তারপরেও দোষারোপ হতো আয়াজ। চোখ বড় বড় করে সামনের দিকে তাকাতেই দেখল চিরচেনা সুশ্রী চেহারা। মেজাজ চোটে গেলো আয়াজ এর,,,গাড়ি থেকে দ্রুত পায়ে নেমে মেয়েটির বাহু টেনে ধরে,,, রাগে ফেটে পড়ে বললো,,,,
"এই পাগল তুমি? পাগল হয়েছো! এভাবে কে গাড়ির সামনে আসে! আরেকটু হলেই তো উড়ে যাচ্ছিল একদম।"
আসিফা ভারিক্কি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। যখন মানুষের কপাল পোড়ে তো সবদিক থেকেই পোড়ে।
এমন নয় সে ভয় পাইনি। পেয়েছে,,,অনেক পেয়েছে। তবে এখন সেই ভয় মাপামাপির সময় নেই। আয়াজ এর অগ্নিশর্মা রূপ দেখে আসিফা বিড়বিড় করে বলে উঠলো,,,,"সাক্ষাৎ ড্রাগেন,,, মুখ থেকে আগুন বের করা ড্রাগেন।"
আয়াজ এইবার রাগে দিক হারা হলো। আসিফা কে আরো নিজের সান্নিধ্যে এনে বলল,,,,"হোয়াট! হোয়াট ডিড ইউ সে?"
আসিফা শুকনো ঢোক গিলে বলে,,," আমি তো লিফট চাইছিলাম!"
" এভাবে কে লিফট চায়! চলন্ত গাড়ির সামনে এসে লিফট চায় কেউ স্টুপিড।"
"দেখুন আমায় হেল্প করুন প্লিজ. আমার পিছনে গুন্ডা পড়ে আছে।"
"গুন্ডা!"
"হ্যাঁ হ্যাঁ,,,, গুন্ডা,,,,প্লিজ আমায় সাথে নিন।"
"নো নেভার,,,,"
"এরকম করেন কেনো? একটা অবলা নারী আপনার কাছে সাহায্য চাইছে আর আপনি দেবেন না! এত নিষ্ঠুর কেনো আপনি!"
আয়াজ সরু চোখে তাকিয়ে রইল আসিফা'র দিকে। মেয়েটা একটা ধানি লঙ্কা। আয়াজ কে তাকিয়ে থাকতে দেখে আসিফা বললো,,,
"এভাবে হুতুম প্যাঁচার মতো তাকিয়ে থাকবেন না। আচ্ছা আমি গাড়িতে বসছি আপনি আসুন হ্যাঁ!"
আসিফা নিজেই গাড়ির ফ্রন্ট সিটে বসে। হাতের ইশারায় আয়াজ কেও ডাকে। এমন ভাব যেনো গাড়িটা তারই। আয়াজ ধপধপ পা ফেলে ড্রাইভিং সিটে বসে। কোনো রকম শব্দ ছাড়াই গড়ি চালিয়ে অনেক টা দূরে আসে। এইবার গাড়ি থামায় আয়াজ। আসিফার দিকে তাকিয়ে বলে,,,
"তখন কি বলছিলে,,,,কিসের গুন্ডা?
আসিফা কিছু সময় চুপ থেকে বলে,,,"কলেজে এক ছেলে অতি ফ্রি হয়ে আমার কাঁধে হাত রেখেছিল তাই রাগের চোটে ঘুরেই আমি তার মেইন পার্টে লাথি মারি। পরে সে কমপ্লেইন করে আমার নামে,বাড়ির লোক ডেকেছে অনেক গুলো।
ছেলেটার বাড়ির লোক সব গুণ্ডা টাইপের। আজ আমাকে প্রিন্সিপাল পেলে কলেজ থেকে বের করে দেবে,,,তাই তো পালিয়ে এসেছি।"
আয়াজ হা হয়ে শুনলো আসিফা'র কথা। কাউকে মেরে পালিয়ে এসেছে এই মেয়ে! আয়াজ ভ্রু কুঁচকে ফেলে। দেখলে মনে হয় ভোলাভালা কিন্তু কাজ করে খতরনাক। আসিফা আবারও মিনমিন স্বরে বলে,,,,
"যদি ওর ভবিষ্যত প্রজন্ম ডিলিট হয়ে যায় আমার লাথির কারণে তাহলে তো ওরা আমায় জেলে দেবে।"
আয়াজ এইবার কেশে উঠলো সামান্য। বিচুটি মেয়ে একটা। চোখ বন্ধ করে কিছুটা ধাতস্থ করে নিজেকে। পূর্ণ দৃষ্টি মেয়েটার দিকে মেলে বলে,,,,
"তুমি একটা ঝড় হাওয়া। যার জীবনে যাও একেবারে সাবাড় করে ফেলো। "
"এই দেখুন আপনি কিন্তু এরকম বলতে পারেন না!"
"বলবোই কি করবে তুমি?"
আসিফা ঠোঁট বেকালো। আয়াজ ফোঁস ফোঁস করে নিশ্বাস ছেড়ে কিছুটা অবাক হয়ে বলে উঠলো,,,
"তুমি যে লিফট চাইছিলে,,,আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে কি করতে? এই ভাবেই তার সাথে চলে যেতে!"
"অন্য কেউ হলে তো আরো ভালো হতো।" আসিফা মনে মনে কথাটি বলে। অতপর মেকি হেসে বলে,,,
"নাহ নাহ,,,কি যে বলেন না। অন্য কেউ হলে যেতাম নাকি!"
আয়াজ চুল ঠেলে পিছন দিকে। তার আর কথা বাড়াতে মন চাইছে না। তাই চুপচাপ গাড়ি স্টার্ট দেয়। আসিফা ও নীরব থাকে। একটা সময় গাড়ি থামে তাদের বাড়ি হতে কিছু দূরে। আসিফা বিনা বাক্যে বের হয়ে যায় গাড়ি থেকে।
----------------
সন্ধ্যা পেরিয়েছে। ঘড়িতে তখন সাড়ে আটটা নাগাদ বাজে। রুমি দের ড্রয়িং রুম জুড়ে মানুষ জন। টি টেবিল ভরা নাস্তা। সবাই একে অপরের সাথে কথা বলছে। সিঙ্গেল সোফায় বসে আছে রুমি। মাথায় টানা শাড়ীর আঁচল । শুভ্র চেহারায় কোনো চমক নেই। পাশের সোফায় বসে থাকা ছেলেটি তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। রুমি মাথা নিচু করে থাকলেও তার অসস্তি হচ্ছে।
রাফাজ ব্যাপারটি লক্ষ্য করে। এগিয়ে ছেলেটির পিছনে দাঁড়ায়। অতপর সজোরে কাধে চাপড় মেরে কানের ধারে বলে,,,,
"চোখ তো এবার মার্বেল হবে বাবাজীবন। তোমার সিগন্যাল তো এ্যান্টেনা'য় সাপোর্ট নিচ্ছে না। মনে হচ্ছে আবহাওয়া আজ তোমার জন্য খারাপ।"
ছেলেটি কিছুটা নড়ে চড়ে বসে। রুমিকে তার পছন্দ। সেই পছন্দের জোরেই তো আজ পরিবার নিয়ে হাজির। কিন্তু রাফাজ এর কথায় কিছুটা অসহায় মুখ করে তার দিকে তাকিয়ে বলল,,,,
"আঙ্কেল সিগন্যাল গ্রীন হওয়ার কোনো উপায়?"
"ব্রেক কষে এখানেই থেমে যাও,,,নাহলে রেড সিগন্যাল হাতে নিয়ে বাড়ি যাবে।"
রাফাজ কথাটি বলে চলে গেলো। ছেলের বাবা রুমির মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,,,"ভাবি ছেলে মেয়েদের আলাদা ভাবে কথা বলতে দিলে মন হয় ভালো হবে। আপনি কি বলেন?'
রুমির মা না চাইতেও হেসে বলে,,,"হ্যাঁ কেনো নয়! রুমি ছাদ থেকে ঘুরে আসো তো দুই জন।"
খুশিতে গদগদ হয়ে গেলো ছেলেটি। রুমি কিছুই বলল না। সোজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যেতে থাকে। ছেলে টিও পিছনে পিছনে যায়।
---------
গাড়ির সামনের বৃহৎ কাঁচের জানালা দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রুমি দের ছাদ। না চাইতেও গাড়ি থামে। উড়ন্ত খবর তাহলে সত্যি। কারোর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি গিয়ে পড়ে রুমির উপর। নীল শাড়িতে মেয়েটাকে মেঘের মত স্নিগ্ধ লাগছে। মুদ্ধ হয় আঁখি জোড়া। কিন্তু সেই মুদ্ধতা টিকলো না বেশি সময়,,,ক্রমেই সেই চোখ জোড়া লাল হয়ে ওঠে যখনই পাশে দাঁড়ানো ছেলেটির দিকে চোখ পড়ে জায়ান এর। চোয়াল আপনাআপনি দৃঢ় হয়। মেয়েটা তার কঠোর হৃদয়ের জ্বলমান তকলিফ। যে ব্যাথায় হৃদয় ছারখার হয়ে যায় কিন্তু অনুভূতির দাবানল জ্বলতেই থাকে। জায়ান দুই হাত দিয়ে স্টিয়ারিং চেপে ধরে রইলো। দেখতে থাকলো তার জ্বালাময়ী কে।
ছাদের রেলিং এ হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে রুমি। ছেলেটি কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে। সময় পেরোয় কিন্তু রুমি একদম কাঠের পুতুল হয়ে দাড়িয়ে রয়। সীমাহীন অসস্তি নিয়ে আর টিকতে চাইলো না রুমি। তার বিরক্ত লাগছে। কিছু না বলেই চলে যাওয়ার উদ্যোগী হতেই ছেলেটি'র তড়িঘড়ি কন্ঠ ভেসে আসে,,,
"রুমি দাঁড়াও তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে?"
দাড়িয়ে পড়ে রুমি তবে কোনো কথা বলে না। ছেলেটি আমতা আমতা করে বলে,,,"কথা টা কি এখনই বলবো নাকি পরে বলবো!"
রুমি ভ্রু কুঁচকে বেরসিক কন্ঠে বলে,,,"আপনি কখন কথা বলবেন সেটাও কি এখন আমি বলে দেবো?"
ছেলেটি কিছুটা থমথমে খায়।
"মানে,,,মানে,,,"
"এত মানে মানে করছেন কেনো? কিছু বলার হলে বলুন নাহলে আমাকে যেতে দিন,,, আমার কাজ আছে।"
রুমির এহেন কণ্ঠ শুনে ছেলেটির চেহারা কিছুটা হলদে হয়।
তার পরেও গলা ভিজিয়ে, সাহস সঞ্চয় করে বলে,,,,"আমি আসলে,,,আমি তোমাকে ভালবাসি।"
রুমির প্রতিক্রিয়া নেই। সে যেনো অনুভূতি শূন্য। এবারেও কাঠ কাঠ কন্ঠে বলে,,,"হ্যাঁ তো এতে আমি কি করতে পারি?"
ভরকে গেল ছেলেটি। ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেলো তার মুখ।পরপর বলে ওঠে,,,,"দেখো আমি তো তোমাকে ভালোবাসি,,,যদি তোমার ফ্যমিলি বা আমার ফ্যামেলি এই বিয়েতে রাজি নাও হয় তাহলে প্রয়োজনে আমি তোমায় নিয়ে পালিয়ে যাবো। তুমি কি বলো,,,!!"
রুমি আশ্চর্য হয়ে ভ্রু কুঞ্চিত করে। এহেন কথা তার আশায় ছিলো না। এই ছেলে প্রপোজ দিয়েই পালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে!! রাগ হয় রুমির। কঠিন স্বরে আওড়ায়,,,,"আমি কি বলবো মানে?আমার আপনার প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই,,,,আর আপনার সাহস কি করে হলো আমাকে এরকম কুপ্রস্তাব দেওয়ার! ফার্দার আমার সামনে আপনাকে না দেখি।"
মেয়েটাকে দেখে যেমন শান্ত,লাজুক মালুন হয় আসলে মেয়েটি তেমন নয়। ছেলেটি এইবার কিছুটা এগিয়ে এলো রুমির দিকে। তাহ দেখে রুমি বলল,,,
"দূরে! যেরকম দাড়িয়ে ছিলেন সেরকমই থাকুন।"
ছেলেটি থেমে গেলো। কিছুটা অপনাম বোধ করলো বটে,,,তাও নাছোড় বান্দা হয়ে বললো,,,"আমি ভালবাসি তোমায়।"
"দেখুন আমি আপনাকে চাই না। তাই নিচে গিয়ে রিজেক্ট করে দেবেন।"
"কিন্তু,"
"নিচে যান,,,,"
রুমির কন্ঠে সাফ রেজেকশন। ছেলেটি আর কথা এগোনোর সাহস পেলো না। তাই চলে গেলো ছাদ হতে।
রুমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। লম্বা শ্বাস টেনে ঘুরে দাঁড়ায়। হঠাৎ তার চোখ পড়ে রাস্তায়। কিছু দূরে সোডিয়াম আলোর আভায় দেখা যাচ্ছে জায়ান কে। তার গভীর লাল দৃষ্টি রুমির দিকেই। প্রখর তার অবয়ব। মেয়েটির সর্বস্ব কেপে উঠলো। চোখে চোখ মিলল। অজানা উষ্ণ বাতাস বয়ে গেলো দুই চিত্তে।
মুহূর্তেই গাড়ি চলল,,,,একেবারে চোখের পলকেই গায়েব হলো মানুষটির অস্তিত।
-------------
জায়ান এর হাতের মুঠোয় রয়েছে ছুরি। ক্রোধে তার দেহ কাপছে অবিরাম। চোখের আগুনে যেনো কাউকে ভস্ম করার ক্ষমতা আছে। হাতের মুঠো হতে চুয়ে পড়া রক্ত ফোঁটায় ফোঁটায় ফ্লোর ভিজিয়ে দেয়। তার কন্ঠনালী ওঠা নামা করছে প্রবল। চোখের সামনে ভাসছে সেই ছোটো বেলার স্মৃতি।
ছোট্ট রুমি কে টেনে আনতে আনতে জায়ান রাগে বলে,,,"বলেছি না আসু ছাড়া কারোর সাথে বন্ধুত্ব করবি না। আরিফ এর সাথে খেলেছিস কেনো তুই! ও বাজে ছেলে,,,,"
ছোট্ট রুমি কেঁদে কেঁদে বলে,,,"আতিফ বাই বালো,,,আমাকে ওনার টয় দেয়। আমাকে ছেরে দাও,,,,আমি যাবো"
"আমি তোর সাথে খেলবো আয়,,, কাদিস না।"
"কিন্তু তুমি তো আমাকে টয় দাও না,,,,"
"কিন্তু আমার কাছে তো ছেলের টয় পুতুল,,,,"
রুমি শোনে না কোনো কথা। বাচ্চার মন কখন কি চায় কে জানে! জায়ান এর হাত ছাড়িয়ে দৌড় দেয় অন্য দিকে। এদিকে জায়ান চিৎকার করে ডাকতে থাকে তার পুতুল কে।
ঠিক আজো জায়ান এর হৃদয় চিৎকার করে ডাকছে রুমি কে। সেই দিন জায়ান নিজের খেলনা দেয়নি রুমি কে,,,আর আজ জায়ান নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছে। সব মিলিয়ে কে হলো জটিলতার শিকার! সে নাকি রুমি?"
ক্রমশ
---------------☞(আমার অনুরোধ,,,গল্প পড়ে অনেকেই কিন্তু কেউ লাইক কমেন্ট করতে চায় না।। এক এক জন তিনটে করে কমেন্ট করুন প্লিজ। সাথে লাইক রিয়েক্ট দিয়ে আমার উৎসাহ বাড়ান।)