ফন্ট সাইজ:
থিম:
জটিল প্রেম

১৭তম পর্ব

লেখক: আসিফা খান

#পর্ব_১৭

#জটিল_প্রেম

----------------------☞

(গল্প কপি করা নিষেধ)

.

"বিয়ের ডেট দুই বছর পর! এত লেট কেনো রাফাজ?"

রাফাজ জুলফিকার সাহেব এর দিকে তাকিয়ে বলল,,,"ফিরেছি মাত্র চার মাস হয়েছে ভাইজান। ব্যবসা সামলাতে,সেটাকে নিজের এডুকাশান দ্বারা বৃদ্ধি করতে সময় তো লাগবে।। বাবার ব্যবসা আমি আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আর তারউপর জারিন এখনও পড়ছে। আমি চাই ও পড়া শেষ করুক আমিও সবকিছু সামলে উঠি।। এত দিন অপেক্ষা করেছি আরো দুই বছর ও অপেক্ষা করতে পারবো।"

আনোয়ারা বেগম রাফাজ এর কথায় সামান্য হেসে বলল,,,"অবশ্যই অপেক্ষা করা যাবে। কিন্তু একটা কিছু না করে রাখলে তো সমাজের কাছে তোমাদের সম্পর্ক নামহীন হয়ে থাকবে বাবা।"

রাফাজ বললো,,,"তাই আজ আমি সঙ্গে করে আংটি এনেছি খালামা।।"

আজ খান বাড়ির সাথে শেখ বাড়ির একটা গেট টু গেদার হয়েছে। এই পারিবারিক একটা আলাপ আয়োজন করেছে আনোয়ারা বেগম।। তাঁর দেওয়া দাওয়াতে আজ সবাই এক সাথে।। অবশ্যই এর পিছনে একটা কারণ আছে,,,মেয়ে জারিন আর রাফাজ এর একটা বিহিত করা। ছেলে মেয়ে একে অপরকে চায়।। অনেক দিন ধরেই তাদের এই প্রেমের শুরু।। তাদের চার হাত এক করার ব্যবস্থা করা এটা তো বড়দের কাজ।।

এখন বিকেল সময়। জারিন ফল কাটছিল ডাইনিং টেবিলে বসে। খানিক লাজে রাঙা সে। তার ফল কাটা থামলো রাফাজ এর কথায়। ঘাড় ফিরিয়ে সোজা দেখতেই দেখলো, সোফায় বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে মানুষ টা।। জারিন শুকনো ঢোক গিলে। এদিক সেদিক নজর ঘোড়ায়। আনোয়ারা বেগম উৎফুল্ল হয়েই বললেন,,

"বাহ্...তাহলে আজ এখন এই মুহুর্তেই রাফাজ আর জারিন এর এঙ্গেজমেন্ট করা হোক। তোদের কি মতামত জুলফিকার আর আয়নাম!"

দুই জনেই নিজেদের সহমত পোষণ করে। তারাও চায় তাদের ভাই বোনের সুন্দর জীবন।। আনোয়ারা বেগম উঠে একটা রুপর আংটি আনলেন। রাফাজ সোনা পড়ে না,এটা হারাম। তাই ইসলামে পুরুষদের জন্য যথা নিয়মে বানানো রুপোর আংটি।। জারিন কে ডাকা হলো। মেয়েটা মাথায় কাপড় টেনে বসলো রাফাজ এর পাশে। দুরত্ব রেখে।। উপস্থিত সকলে। বাচ্চা চার উৎসুক হয়ে রয়েছে। তাদের চাচু আর ফুপির কিছু একটা তো হচ্ছেই।।

জারিন এর পরিবার এবং রাফাজ এর পরিবার সবাই নিজেদের মাঝেই খুশি।। রাফাজ এর মা রাজিয়া বেগম বললেন,,,,

"রাফাজ আংটি পরাও জারিন মা কে।"

রাফাজ মৃদু হেসে জারিন এর দিকে তাকালো। মেয়েটা মাথা নিচু করে আছে। রাফাজ ওর হাত ধরতেই কেপে উঠলো। আংটি পরিয়ে নিজের বৃদ্ধ আঙুল সামান্য একটু ঘষে দিল মেয়েটার হাতের পিঠে। জারিন লম্বা শ্বাস টেনে রাফাজ কে আংটি পড়ায়।। সবাই একত্রে করতালি দেয়। মিষ্টি মুখ করে। তাদের অভিনন্দন জানায়।। সবার অধরেই লেগে হাসির রেখা।।

এই সব কিছুই দূরে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে রহিম। রহিম উদ্দিন। জারিন এর এক চাচাতো বড়ো ভাই সে। বয়সে রাফাজ এর মতই।। লম্বা,স্বাস্থ্য দেহ তার। নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে সে। বাবার একটা মুদি দোকান আছে। পড়া লেখা করেছে নিজের খরচে। চাকরি খোঁজে ছেড়েছে। মোটা অংকের ঘুষ চায় তাঁরা যাহ রহিম এর পক্ষে অসম্ভব। তাই নিজেও বাবার মুদি দোকানে বসে।। জীবন নিয়ে অতিষ্ঠ সে। এরকম জীবন রহিমের মোটেও পছন্দ নয়। সে তো রাফাজ এর মত জীবন কাটাতে চায়। কিন্তু তাহ কি সম্ভব! হয়তো সম্ভব যদি রহিম সাচ্চা মনে মেহনত করে। কিন্তু তার মনে যে হিংসে।। যাহ মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে।।

রহিম দাঁতে দাঁত পিষে দাড়িয়ে রইলো। তার মনের রানি জারিন ও রাফাজ এর। সব রাফাজ এর। আল্লাহ যেনো রাফাজ কে অপূর্ন রাখবে না ভেবেছেন।। রহিম পারে না রাফাজ কে ঠেলে নিজে বসে যেতে। কেনো তার জীবন টা কঠিন!!

"আরে রহিম যে...ওখানে দাঁড়িয়ে কেনো? ভিতরে আয়।"

জুলফিকার সাহেব রহিম কে দেখে তাকে ভিতরে প্রবেশ করতে বললেন। রহিম এগিয়ে এসে মেকি হাসি ফুটিয়ে তুলে বলে,,,

"ভুল সময়ে এলাম বুঝি!"

"কি যে বলো না। ভুল সময় কেনো! একদম ঠিক সময় এসেছো। নাও তুমিও মিষ্টি মুখ করো।"

আসিফার বাবা আমান সাহেব রহিম কে মিষ্টি খাওয়াতে নিলেই ও নাচক করে বলে,,,"নাহ...আসলে সবে খেয়ে আসলাম পেটে জায়গা নেই।"

"আচ্ছা,,,বসো তাহলে।"(জুলফিকার সাহেব)

"নাহ,,,ভাইজান তোমার সাথে একটু দরকার ছিলো।"

"আচ্ছা চল তাহলে বারান্দায় যাই।"

তারা বারান্দায় কাউচে বসলো।। রহিম খানিক আমতা আমতা করেই বললো,,,,"ভাইজান তিরিশ হাজার টাকা মত ধার লাগবে। আর্জেন্ট,,,মায়ের শরীর অসুস্থ ও দোকানের মেরামত করতে লাগবে টাকা। আমায় ধার হিসাবে দাও,,, দুই মাস পর ফিরত দেবো।।"

জুলফিকার সাহেব বললেন,,,"দুই মাস কেনো যখন ইচ্ছে ফিরত দে সমস্যা নেই। আচ্ছা তোর তো রেজাল্ট ভালো,,,আমি জানি তুই ইমপ্লোই ও ভালো হবি। আমার অফিসে যোগ দে। আপাতত সেলারি কম কারণ তুই নতুন,,, ধর মাসে পনেরো হাজার।

ধীরে ধীরে বাড়বে। তুই চাইলে কাল একবার অফিস আসতে পারিস।"

রহিম কিছুটা অপ্রস্তুত হলো। তার চোখে মুখে চনমনে একটা ভান।সে আমতা আমতা করে বলল,,,,"নাহ ভাইজান। আমি চেষ্টা করছি জবের জন্য। নিজেদের মানুষের কাছে কাজে ঢুকতে চাই না। তুমি দোয়া করো। আর হ্যাঁ টাকার বিষয়টা তুমি মা বাবা কে বলো না তারা টেনশান করবে।"

"আচ্ছা,,,যেটা তোর ভালো মনে হয়। বোস আমি টাকা নিয়ে আসি।"

জুলফিকার সাহেব চলে গেলেন। রহিম বাঁকা হাসলো। ধপ করে শরীর এলিয়ে দিল কাউচে। দুই হাত মাথার পিছনে রেখে বিড়বিড় করে বললো,,,,

"চাকরি আর কে করবে! আমি? কক্ষনো না। ওই ধুঁকে ধুঁকে বড়লোক হবে কে! আমি হবো একেবারে বড়লোক। এই টাকা যাবে জুয়ায়,,,তিরিশ থেকে ষাট হাজার। ষাট থেকে নব্বই। নব্বই থেকে,,,"

বলে হেসে উঠলো রহিম। চোখ বন্ধ করতেই জারিন এর চেহারা সামনে এলো।। টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার পথে দেখা হলো জারিন এর সাথে। গার্ডেনে চার বাচ্চাদের ফল দিচ্ছে মেয়েটি। রহিম এগিয়ে এসে বলল,,,,

"অভিনন্দন জারিন।"

"ধন্যবাদ দাভাই।"

রহিম জারিন এর আঙ্গুলে মোটা সোনার আংটির দিকে চেয়ে বলল,,,"তোমার আঙুলে ডায়মন্ড মানায় জারিন,,,"

জারিন থমথমে খায়। কিছু বলতে যাওয়ার আগেই রাফাজ তাদের দিকে আসে। সে শুনেছে রহিম এর কথা। রাফাজ জারিন এর পাশ ঘেঁসে দাড়িয়ে বিস্তার হেসে বলল,,,

"আমার জারিন পুরোটাই একটা ডায়মন্ড,,,,তার কাছে যে কোনো অলংকার তুচ্ছ। আর রইলো কথা জারিন এর উপর কি মানায় আর কি মানায় না,তাহলে বলবো অপেক্ষা করতে,,,ইনশা আল্লাহ,,,আল্লাহ চাইলে আমার জারিন কে আমি সব ধরনের অলংকার দ্বারা মুড়িয়ে রাখবো।।"

রহিম এর চোখ মুখ শক্ত হয়। আর কথা না বাড়িয়ে হনহন করে হেঁটে বেরিয়ে যায়। রাফাজ সেদিকে তাকিয়ে রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ে। ছেলেটার চোখে সর্বদা তাকে নিয়ে ঈর্ষা দেখে রাফাজ। এদিকে জারিন হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল নিজের হাতের আঙ্গুল এর দিকে।

________________

ছোট্ট বক্স এ রাখা আংটিটার উপর একবার আঙ্গুল ছোঁয়ালো জারিন।। এখন রাত প্রায় এগারোটা। চোখের পানি আটকাতে পারে না সে। কিন্তু এই পানি কাউকে দেখানো পাপ। তাই দ্রুত মুছে ফেলল।। হঠাৎ কারোর হেঁটে আসার আভাস পেয়ে জারিন তাড়াতাড়ি বক্সটি আলমারিতে রেখে দিলো।

রাগে অগ্নিশর্মা রূপে তার রুমে প্রবেশ করলো স্বয়ং জায়ান আহমেদ খান।। পরনে ট্রাউজার টি শার্ট,,, চুল উস্কখুস্ক। চোখের কোণ লাল হয়ে আছে তার। জায়ান কে তখনই এরকম দেখতে লাগে যখন সে রাগে।। জারিন ভ্রু কুঞ্চিত করে। ভাতিঝার এহেন আচরণে অবাক হয় জারিন।

"কি হয়েছে জায়ু! আর ইউ ওকে!"

জায়ান চোয়াল শক্ত করে বললো,,,"নো... আম নট ওকে।। পুরো একটা দিন হয়ে গেলো আর তুমি আমাকে কিছুই জানালে না!"

"কোন বিষয়ে!?"

"সেই রাস্কেল'টার বিষয়ে। সাহস কত বড়! কলিজা কত বড় ওর!"

জারিন বোঝে ছেলেটা কি নিয়ে কথা বলছে। জারিন লম্বা শ্বাস টেনে বলে,,,"বাদ দাও না জায়ু। ওই সব মানুষদের নিয়ে কথাও বলতে চাইনা আমি।"

"আমি যদি আজ সিসিটিভি ফুটেজ না দেখতাম তাহলে তো কিছুই জানতে পারতাম না! আর ওই রাস্কেল টা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতো!"

"তুমি এনজিও গিয়েছিলে আজ!"

"হ্যাঁ,,,তুমি ইনফর্ম না করলেও অনেকে আছে যারা আমায় ইনফর্ম করেছে।। সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশে দেখিয়ে জেলে পুড়ে এসেছি ওটা কে।। তোমার একটা কমপ্লেইন লাগবে,,, ব্যাস,,,তারপর মরুক ওই জেলে।"

জারিন লম্বা শ্বাস টেনে বলে,,,"কি দরকার ছিলো এই গুলোর!?"

"আমি আর একটা কথাও শুনতে চাই না,,, কাল আমার সাথে যাবে পুলিশ স্টেশন।।"

জারিন আর কি বলবে! ভুলের খেসারত মানুষ কে দিতেই হয়। জারিন জায়ান এর কথা রাখলো। ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,,,

"আচ্ছা। এবার একটু ঠাণ্ডা করো মাথা।"

জায়ান চোখ বন্ধ করে বুক ফুলিয়ে নিশ্বাস ত্যাগ করে। তার মায়ের পর ফুমা। কিংবা ফুমায়ের ভালোবাসা সম্পূর্ণ আলাদা। ছোটো থেকে জারিন এর কাছে তারা বড় হয়েছে। আদর,যত্নে বড়ো করেছে তাদের। এই ফুমায়ের উপর একটা ফুলের টোকাও বরদাস্ত করবে কি ভাবে! বুকে লাগে না!!

-----------------

পর দিন প্রায় বিকেল। কলেজ এর ক্যাম্পাসে দাড়িয়ে আসিফা। চোখে মুখে বিরক্তি। পেট চেপে দাড়িয়ে সে। মাঝে মাঝেই ভীষণ ব্যাথা হচ্ছে পেটের নিচের দিকে। সকাল থেকেই হচ্ছে কিন্তু এখন বেশি হচ্ছে। লাস্ট ক্লাস সে করবে না ভেবেছিলো। কিন্তু মহান রুমি লাস্ট ক্লাস করবেই। আসিফাও রুমি কে আটকায়নি,,, রুমি ক্লাস করলে ও বুঝে নেবে টপিক টা রুমির কাছ থেকেই ।। আসিফা চোখ উল্টিয়ে,ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো....

"একটা ক্লাস না করলে কি এমন হতো!! যেনো কেউ ফাঁসি দিয়ে দিত।"

বলেই ফোন বের করলো। এখনও ক্লাস শেষ হতে বাকি পনেরো মিনিট। তাকে আজ জায়ান নিতে আসবে না। আসিফা রুমি'কে একটা ম্যাসেজ করে দিলো যে সে চলে যাচ্ছে। তার ভালোলাগছে না।।

অতঃপর সে একাই গেটের কাছে চলে এলো।।

কিন্তু সেই মুহূর্তেই তার দেখা হলো কাফিল স্যার এর সঙ্গে। মানুষটা আসিফা কে দেখেই থেমে যায়।

এগিয়ে এসে নিজ থেকেই বলে,,,

"যদি আমি ভুল না হই তোমার নাম আসিফা!"

মেয়েটা হঠাৎ কারোর কন্ঠে চমকে পাশে তাকালো। অতঃপর বুকে হাত রেখে বলল,,,"স্যার আপনি!"

কাফিল অভয় দিয়ে বলে,,,"আরে ভয় পেলে! সরি,,,"

আসিফা হাসার চেষ্টা করে বললো,,,"আরে স্যার আপনি সরি কেনো বলছেন! আমি এরকমই,,,ভয় আমার পেতে হয়না সেটা সবসময় আমার আশেপাশে থাকে।।"

কাফিল মুচকি হাসলো। মেয়েটা সব সময় ছটফটে। আসিফা আবারও বললো,,,"স্যার আপনি কি আমায় কিছু বলছিলেন!"

কাফিল সামান্য আশেপাশে তাকিয়ে বলল,,,"আম,,আসলে তুমি একা আজ! মানে তোমার ফ্রেন্ড!?"

আসিফা ফোঁস করে নিশ্বাস ছেড়ে বলে,,,"ওহ,,, বিদ্যাসাগরিণী রুমির কথা বলছেন স্যার! ও এখনও লাস্ট ক্লাস করছে। আমার বিরক্ত লাগছিল তাই করিনি।"

"ওহহ আচ্ছা,,,"

"জ্বী স্যার। আর কিছু বলবেন স্যার?"

"নাহ নাহ,,,সাবধানে যাও।"

আসিফা বিস্তার হাসে। এদিকে তাদের দুর থেকে দেখছে আয়াজ। একদম তীক্ষ্ম,সরু চোখে পরখ করে চলেছে তাদের। কাফিল কে তার মোটেও ভালো লাগছে না। কেনো যেনো ভীষণ রাগ লাগছে তার। শক্ত মারি, দাঁত কিড়মিড় করছে ছেলেটার।।

আসিফা কাফিল কে বিদায় জানালো। হেঁটে আসে রাস্তার মোড়ে। অটো পেতে হবে তাকে।। আয়াজ এর চক্ষু তখনও আসিফার পানে। গাড়ির মধ্যেই বসে সে। হঠাৎ নিজের ফোন ম্যাসেজ পেলো সে। রুমি করেছে ম্যাসেজ। লিখেছে,,,

"ভাইয়া আজ আমার ফিরতে লেট হবে তুমি এসো না। কলেজ থেকে সোজা সোনিয়া দের বাড়ি যাবো। কিছু নোটস কপি করতে হবে,,,আর মেয়েটার শরীর ও অসুস্থ দেখে আসবো ওকে।। আসু চলে গেছে আগেই। ওর পেটে ব্যাথা করছিলো সকাল থেকেই তাই জোর করিনি আমি,,,একা ওকে ছাড়তে চাইছিলাম না কিন্তু ক্লাস না করলে যে পরে অসুবিধায় পড়তে হতো দুইজন কেই।। আমি একাই যাতায়াত করতে পারবো।।"

আয়াজ ব্যাক ম্যাসেজ করে বললো,,,"আমি তোর কলেজের বাহিরেই দাড়িয়ে। আমি তোকে তোর বান্ধবীদের বাড়ি ড্রপ করে দেবো।"

সেকেন্ড যেতেই রুমির ম্যাসেজ আসে,,,"ক্লাস শেষে লাইব্রেরি যাবো। ইংলিশ ম্যাম একটা এক্সট্রা কেয়ার রেখেছেন।।"

আয়াজ ম্যাসেজ দেখে। রুমি কে কিছু টাকা অনলাইন ট্রান্সফার করে। অতঃপর সামনে তাকিয়ে আসিফকে খোঁজার চেষ্টা করে। বেশ দূরে নজর যেতেই দেখে মেয়েটা মন মরা হয়ে দাড়িয়ে,ছাউনির নিচে।। পেটে হাত বুলাচ্ছে বার বার।। আয়াজ এর বুকটা কেমন করে উঠলো। মেয়েটাকে এহেন রূপে মানায় না।। আয়াজ সোজা গাড়ি ব্রেক করে আসিফার সামনে। নেমে সোজা মেয়েটার সামনে দাঁড়ালো।।

আসিফা একবার ওর দিকে তাকিয়ে আবারও চোখ ঘুরিয়ে ফেললো। আয়াজ ব্যাপারটা লক্ষ করে বলে,,,,

"গাড়িতে ওঠো।"

আসিফা ভাবলেশহীন ভাবে বললো,,,"হু আর ইউ?"

আয়ান এক ভ্রু উঁচিয়ে তাকায়। তাচ্ছিল্য হেসে বলে,,,,,"ওহহ রিয়ালি! ইউ ডোন্ট নো মিঃ!"

আসিফা মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়। মানে সে চেনে না।। আয়াজ এইবার দুই পকেটে হাত ঢুকিয়ে বুক টান টান করে মেয়েটার সান্নিধ্যে দাঁড়ালো। আসিফা শুকনো ঢোক গিলে পিছিয়ে যেতে চেয়েও পারে না।

আমতা আমতা করে বলল,,,,

"এইভাবে কুমিরের মত করে দাঁড়ালেন কেনো!"

আয়াজ নাক কুঁচকে বলে,,,"কুমির দাঁড়ায় কি ভাবে?"

"ঠিক যেমন আপনি দাড়িয়ে আছেন,তেমন ভাবে।"

আয়াজ মাথা নাড়ায়। এই মেয়ের সাথে কথা বলা মানেই নিজেকে ধৈর্যের পরীক্ষা দেওয়া। আয়াজ ঠোঁট গোল করে শাস ছেড়ে বলে,,,

"ফাইন,,,এবার গাড়িতে বসো।"

"আমি আপনার সাথে যাবো না।"

"কেনো?"

"সেদিন আমায় আপনি অপমান করেছিলেন। তাই আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই।"

"তাই নাকি! তাহলে অপমানের পরেও কে আমার গাড়ি করে এসেছিল আমার সাথে?"

আসিফা ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,,,"ওটা তো উপায় না পেয়ে এসেছিলাম। আমার কাজিন দের উপর রাগ করে।"

আয়াজ হাসে। মেয়েটা কে তার এখন মোটেও বিচুটি পাতা লাগছে না। কেনো জানি অতি আদুরে লাগছে এখন। কিন্তু মেয়েটার চোখে মুখে ব্যাথাতুর ভাব আয়াজকে ব্যাকুল করছে ভিতরে ভিতরে। আয়াজ বেশ কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো আসিফার দিকে। হঠাৎ করেই মেয়েটার কাধে ঝোলানো ব্যাগ টেনে নিয়ে নিলো নিজের কাছে।

বললো,,,

"আজ তাহলে আমার উপর রাগ করেই আমার সাথে আসো।। রেগে গেলে খামচি দাও তুমি,,,ছোটো বেলায় তোমার অনেক খামচি খেয়েছি। আজ আবার খাবো।"

আসিফা হা হয়ে রইলো। ব্যাগ কেড়ে নিতে গিয়েও ব্যর্থ হলো। উপরন্ত আয়াজ ওর হাত টেনে ধরে। এইবার কিছুটা দৃঢ় কন্ঠে বলে,,,

"ব্যাথা করছে অনেক তাও প্রকাশ করতে চাইছো না,,,এত চাপা স্বভাবের হলে তো সমস্যা।। এইভাবে জেদ দেখিয়ে দাড়িয়ে থাকবে সেটা তোমার জন্যই কষ্ট সাধ্য হবে।। আসো আমার সাথে।"

তল পেটে মুচড়ে ওঠে মেয়েটার। প্রবল ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে মুহূর্তেই। গাল হা করে নিশ্বাস নিতেই আয়াজ অস্থির হলো। বাহুর মাঝে তাকে এনে গাড়িতে বসালো।। আসিফা এইবার হাঁফিয়ে ওঠে।

সত্যিই তার ব্যাথা বারে বৈ কমে। কিছু একটা মনে হতেই পাশে গাড়ি স্টার্ট দিতে থাকা আয়াজ এর উদ্দেশে শুকনো ঢোক গিলে জিজ্ঞাসা করল,,,

"আজ কত তারিখ?"

আয়াজ ভ্রু কুঁচকে বলে,,,"আট তারিখ। কেনো?"

আসিফা লম্বা শ্বাস টেনে,জিভ দিয়ে ঠোঁট দুটো ভিজিয়ে নিলো। তার পিরিয়ড ডেট সাত আজ আট তারিখ। নির্ঘাত পেটে ব্যথার কারণ ও সেটা। আসিফা সিটে শরীর এলিয়ে দিলো। মোটেও কিছু ভালো লাগছে না তার। মেয়েটা ক্লিষ্ট চোখে আয়াজ এর দিকে তাকিয়ে বলল,,,

"গাড়িটাকে এলিকপ্টার বানানো যায়!?"

"কিইইইই!?"

"যত দ্রুত সম্ভব আমায় বাড়ি পৌঁছিয়ে দিন মিস্টার ড্রাগেন। নাহলে আপনার গাড়ির সিট...."

পরের গুলো বলা হলো না মেয়েটার। ব্যথার চোটে চোখ মুখ কুঁচকে সিটে চেপে বসে। আয়াজ বোঝে অনেক কিছুই। চুপচাপ গাড়ি স্টার্ট দিলো সে।

----------------

"সোনিয়া তো ডাক্তারের কাছে গেছে ওর ভাই এর সাথে। তুমি চাইলে অপেক্ষা করতে পারো,,,আসো ভিতরে এসো।"

"কখন গেছে ও।"

"এই পনেরো মিনিট হবে।"

রুমি কিছু ভেবে সোনিয়ার মায়ের উদ্দেশে বলে,,,"আচ্ছা আন্টি তাহলে আজ আসি।"

"বসো তুমি ততক্ষন।"

"নাহ আন্টি আজ না। সোনিয়া আসলে বলবেন আমি এসেছিলাম।"

রুমি সালাম জানিয়ে চলে যায়। রাস্তা থেকে এক একা হাঁটছে সে। খুব একটা খারাপ লাগছে না অবশ্যই। আজ তার ফুরফুরে মেজাজ। পরিবেশ ও মনোরম। গোধূলি বেলা এখন। আকাশ কেমন কমলা হয়ে আসছে। পাখি উড়ে যাচ্ছে দল বেঁধে। আনমনেই হেসে ফেললো মেয়েটা। ভেবে নিলো একটা কোথাও বসে কফি খাবে সে। কিন্তু মিস করছে আসু কে। একবার কল করা দরকার মেয়েটাকে। মনটা ক্ষণেই উদাস হলো। কল করলেও রিসিভ হলো না। রুমি ভেবে নেয় হয়তো বিশ্রাম নিচ্ছে মেয়েটা।।

রুমি ব্যাগে ফোন ঢুকানোর পূর্বেই সেটা বেজে উঠলো।। রুমি ভাবে তার আসু,,,উৎফুল্ল চিত্তে ফোনের দিকে তাকাতেই রুমির হাসি হাসি মুখটা সাপের পাঁচ পা দেখার মতো চমকে ওঠে। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো ফোনের দিকে। জায়ান তাকে কল করছে!! এটা কি ভ্রম নাকি সত্য!

বছর দেড়েক আগে রুমিকে ফ্যামিলি থেকে ফোন দেওয়া হয়। তখন খুবই কৌশলে আসিফার ফোন থেকে জায়ান এর নাম্বার নিজের ফোনে সেভ করে সে। রুমি জানত এই নাম্বার থেকে কখনোই তার কাছে কল আসবে না। তাই তো,,,Mr.Hot Tempered বলে সেভ করে তার নাম্বার।। কিন্তু আজ,,এখন এই মুহূর্তে রুমির বুক কাপছে।। কম্পিত হাতে কল রিসিভ করে কানে দিতেই শোনা গেল জায়ান এর পুরুষালি কন্ঠ....

"যেখানে আছো সেখানেই দাড়িয়ে থাকো। আমি আসছি,,,জাস্ট ফাইভ মিনিট।"

কল কেটে গেলো। ভ্রু কুঁচকে ফেলে। কি হলো মুহূর্তেই বুঝলো না। না চাইতেও ফোনে সময় দেখতে লাগলো।। তার অন্তর ছলাৎ ছলাৎ করে। একবার তাকায় নিজের দিকে।রুমির পরনে আজ কালো গোল ওয়ান পিস ফ্রক হাঁটু পর্যন্ত,সাথে লেডিস কার্গো জিন্স,মাথায় টানা স্কার্ফ।। ভালই লাগছে আজ তাকে।। নিজের এই আচরণে বিরক্ত হলো সে। কার জন্য দেখছে নিজেকে! সেই মিস্টার মাথা গরম এর জন্য!! রুমি লম্বা শ্বাস টানে। টাইম অনুযায়ী জায়ান ঠিক পাঁচ মিনিট হওয়ার পঁচিশ সেকেন্ড আগে এলো। গাড়ির মিরর নামিয়ে সোজা তাকালো রুমির দিকে। অতঃপর একবার নিজের দিকে তাকিয়ে হেসে দিল জায়ান,বিড়বিড় করে আওড়ায়,,,

"A person often meets his destiny on the road he took to avoid it..."

রুমি চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসে। নিচু কন্ঠে সালাম জানাতেই জায়ান এর চেতনা ফেরে।। গলা কেশে জায়ান উত্তর দেয়। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগেই রুমি বলে ওঠে,,,

"আগে বলুন আমরা কোথায় যাচ্ছি!"

জায়ান তার গভীর আঁখি মেয়েটির দিকে মেলে বলে,,,"গেলেই দেখতে পাবে।"

"নাহ এখন বলুন।"

জায়ান গাড়ি স্টার্ট দিলো,,,স্টিয়ারিং এ হাতের কারসাজি করতে করতে রাস্তার দিকে তাকালো। অতঃপর বললো,,,

"আজ কাল অনেক বেশি কথা বলো তুমি।"

"বারণ নাকি?"

"একদম না,,,আজ আমি দেখব তুমি কত বেশি কথা বলতে পারো।"

রুমি কিছুটা বিরক্ত হয়েই বলে,,,"আপনি সোজা কথার সোজা উত্তর দিতে পারেন না!"

জায়ান ভাবলেশহীন ভাবে বলে,,,"নাহ,,,"

জায়ান এর কপট উত্তরে রুমি থমথমে খেলো। এই মানুষটাকে কি বলবে সে! আদেও উত্তর পাবে!

রুমি সাইড আই দিয়ে তাকালো ছেলেটার দিকে।

কালো ইন করা শার্ট সাথে প্যান্ট অতি মাত্রিক চিত্তাকর্ষক লাগছে তাকে।

"চোরের মত তাকাচ্ছো কেনো? কিছু কি চুরি করার মতলব আঁঠছো!?"

রুমি কিছুটা ভরকে গেল। উত্তর না দিয়ে জানালার দিকে তাকালো। মৃদু স্বরে বলল,,,

"কি চুরি করবো!"

জায়ান সামনের চুল পিছনে ঠেলে দিয়ে বলে,,,"হৃৎস্পন্দন।"

"জ্বী!?"

"নো...নাথিং।"

তারপর নিস্তব্ধ সব। গাড়ি চলছে নিজ গতিতে। ঠান্ডা বাতাস ছুঁয়ে দিচ্ছে দুই জনকেই।। জায়ান গাড়ির রেডিও চালালো। গাড়ির মধ্যের থমথমে ভাবটা দুর করা প্রয়োজন। কত বছর পরে এরকম একটা মুহুর্ত এসেছে তাদের মাঝে। যেখানে মনোমালিন্য, ঝগড়া ঝাটি নেই আছে শুধুই অব্যক্ত অনুভূতিদের রাশি রাশি জলধারা।। যেই জলধারার সুমিষ্ট শব্দ শুনতে পাচ্ছে দুই জনেই। জায়ান জানে না এই মুহূর্ত কতক্ষন থাকবে,,, তাও যতটা পারে এই সময়কে নিজের অন্তরে বাঁধিয়ে রাখবে সে।

রেডিও থেকে একটা হিন্দি গান এর মাঝের লাইন ভেসে আসলো,,,

Na Hoke Bhi Kareeb Tu

Hamesha Paas Tha 🎶

Ke Sau Janam Bhi Dekhta

🎼Main Tera Raasta

Jo Bhi Hai Sab Mera

Tere Hawale Kar Diya🎶

Jism Ka Har Ruaan

🎼Tere Hawale Kar Diya

Jo Bhi Hai Sab Mera

Tere Hawaale Kar Diya🎶

শৈশবে যে অনুভূতির সৃষ্টি,যে অনুভূতির কোনো নাম ছিলো না,যে অনুভূতি ছিল অত্যাধিক পবিত্র,,,সেই বিশাল অনুভূতি সহ নিজের বিশ্বাস,অনুরাগ সবটাই সে জায়ান কে কবেই দিয়ে দিয়েছে। মানুষটা তার কাছে না থেকেও কাছে থাকার আভাস চিত্তকুলে জড়িয়ে ধরে রেখেছে রুমি। আজ তারা পাশাপাশি হয়েও রয়েছে দূরত্ব। । ভালোবাসা কোনো যন্ত্র না,যে সেটা চালিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে যে ভালোবাসা কতটুকু। ভালোবাসা তো একটা স্পর্শহীন স্পর্শ, যা ছুঁয়ে বোঝাতে হয় না,বুঝে নিতে হয়।।

জায়ান এর চুল কপাল থেকে উড়ছে আবারও আশ্রয় নিচে সেথায়। আচ্ছা,,,রুমি কে যদি তার হৃদপিন্ডে আটকে রাখা যেতো! ধুর,,,কি ভাবছে সে এগুলো! সেতো বাচ্চা না,,,মজনু না তাহলে এহেন চিন্তা কেনো! সেতো প্রেমিক,,,প্রেমহীন প্রেমিক। যে প্রেম প্রকাশ করা নিষেধ।।

গানটা শুনতে জায়ান এর যে খুব খারাপ লাগছে তাহ কিন্তু নয়। তাও সে বন্ধ করে দিলো রেডিও।

এত আবেগপ্রবণ গান পরিবেশ টাকে আরও গভীর করে তুলছে।।

"বন্ধ করলেন কেনো?"

"Too Much annoying."

"আপনার কাছে লাগবেই,,,emotionless person."

"বলো যা ইচ্ছে...আজ যা বলবে শুনবো।"

রুমি এক ভ্রু নাচিয়ে বলল,,,"আমার সাথে আজ এত ভালো ব্যবহারের কারন কি!?"

জায়ান গিয়ার চেঞ্জ করে। ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে কিছুটা। বলে,,,

"আজ আমার মেজাজ ভালো।"

রুমি কৌতূহলী হয়ে বললো,,,"তাই নাকি! এই মেজাজ ভালোর কারণ কি?"

"সেইদিন ছুরি চালিয়ে আমায় মেরে দাওনি,,, বেঁচে আছি দেখে,,মেজাজ ভালো।"

রুমি কথা বাড়ায় না। সে লক্ষ্য করেছে প্রতি এই দিনে জায়ান এর মন ভালো থাকে। এর কোনো স্পেসিফিক কারণ নেই। হয়তো এটা রুমির মনে ভুল,,, তার যেনো এরকমটা ফিল হয় তার।। রুমি আবারও জানালার বাহিরে তাকালো। চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস ছাড়ে। এই দিন সযত্নে তুলে রাখবে তার স্মৃতির পাতায়।। মনে মনে সুধায়,,,

"আমি জানি না সে আমায় কি বলেছিল,,, শুধু শুনেছি সেটাই, যেটা সে আমায় কখনও বলেনি।"

--------

অনেকটা সময় পেরিয়ে গাড়ি থামে একটা ক্যাফের সামনে। দুই জনেই নেমে ভিতরে প্রবেশ করে। জায়ান হেঁটে যায় সামনের দিকে,,,রুমি পিছন পিছন এসে টেবিলের দিকে তাকাতেই দেখে,,,

ক্রমশ

------------(গল্পে বাস্তব কিংবা লজিক খুঁজে আমায় বিব্রত করবেন না। সবাই মতামত জানাবেন নিজের। আর প্লিজ গঠন মূলক কমেন্ট করেন,আপনাদের একটা কমেন্ট আমার মনোবল বৃদ্ধির কাজ করে। আর গল্প পড়ে চুপচাপ কেটে পড়বেন না,,,)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন