#পর্ব_১৯
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ)
.
দরোজায় বাংবার টোকা পড়ছে। যেনো কেউ আর্জেন্ট ডাকছে তাকে। গভীর ঘুমে নিমজ্জিত জায়ান।। সারারাত জেগে ফজর এর নামাজ আদায় করে ঘুমিয়েছে সে। একটা নির্ঘুম রাত পার করেছে সে।। এখন ঘড়িতে সময় সাড়ে ছয়টার মত।। একটা সময় ভ্রু কুঁচকে চোখ মেলে তাকালো। ঘুমের ঘোর বিদ্যমান। কোনো রকম চাদর সরিয়ে উঠে দাঁড়ায় ছেলেটা। লাল লাল আঁখি আশপাশ ঘুরিয়ে সোফা থেকে কালো টি শার্ট গায়ে জড়াতে জড়াতে স্লিপার পড়ে দরোজা খুলে দিতেই আসিফা চেঁচিয়ে গেয়ে উঠলো,,,,
Happy birthday to you ji
Cake shake hai toh phir bulao ji
Aise hi tum buddhe hote rahoge
Humko usse kya matlab batao ji
Happy birthday to you haanji
To ispe itne khush kyo ho avai
জায়ান মোটেও অবাক হয়না। আসিফা এমন কিছু প্রতিবার করে। জায়ান লম্বা শ্বাস টেনে বোন এর গাল টেনে দেয়। মেয়েটার মাথায় জন্মদিনের ঝিকিমিকি টোপর,হাতে কেক,ঠোটে বিস্তার হাসি। জায়ান মেয়েটার পিছনে তাকাতেই দেখলো আনোয়ারা বেগম ও দাড়িয়ে,তার মাথায় ও টোপর।
নিশ্চই এটা আসিফার কাজ। মেয়েটা সবাইকেই তুলেছে সকাল সকাল। পরিবারের সবাই উপস্থিত।
আসিফা তাড়া দিয়ে বলো,,,"দাভাই তাড়াতাড়ি কেক কাটো আমি খাবো।"
জারিন মেয়েটার নাক টেনে বলে,,,"জন্মদিন কার!"
"আরে ফুমা,,, দাভাই কি সব কেক খাবে নাকি!"
জায়ান লম্বা শ্বাস টেনে বলে,,,"তো! কি করতে হবে আমাকে!"
আসিফা ওর হাত টেনে সোফায় বসলো। অতঃপর জারিন এর হাত থেকে একটা সোনালী রঙের প্রিন্স ক্রাউন জায়ান এর মাথায় রাখলো। ছেলেটাকে সত্যিই সুন্দর দেখলো। কার্গোর সাথে কালো টি শার্ট, মাথায় ক্রাউন সুঠাম দেহের মর্ডান প্রিন্স জায়ান। জায়ান ভ্রু কুঁচকে বললো,,,
"আসু,,,এখনও কি আমি ছোটো আছি! এইভাবে বার্ডডে আর কি কেউ সেলিব্রেট করে!"
আসিফা উত্তর দিলো না। কেক টেবিলে রেখে ছুরি জায়ান এর হাতে দেয়। তত্পর সুন্দর সময় পার করে তারা,, ফোটো তোলা হলো অনেক অনেক। অর্ধেক কেক আসিফা নিজেই খেয়ে ফেলে।। আনোয়ারা বেগম নাতির মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দেয় অনেক। হাজার টাকা জায়ান এর হাতে দেয়,,,এই ভালোবাসা অনন্য। লাখ টাকা কামানো,প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেকে দাদি দেয় হাজার টাকা,,, জায়ান তাহ হাসি মুখে গ্রহণ করে।। জারিন একটা ঘড়ি গিফট করে। অবশেষে আসিফা একটা সানগ্লাস জায়ান এর চোখে পরিয়ে দিলো। দাত কেলিয়ে বললো,,,
"শাহরুখ খান ফেল...ইস্ট এন্ড ওয়েস্ট জায়ান ইস দ্যা বেস্ট।। দাড়াও দাদাভাই একটা কবিতা বলি,,,
চোখে চশমা,মুখে হাসি,,,, আরে বাহ্ বাহ্ কে বলবে?"
জায়ান রুদ্ধ শাস ছেড়ে বাহ্ বাহ্ বলে। আসিফা আবারও শুরু করে,,,
"চোখে চশমা,মুখে হাসি
বাবা বাজার থেকে এনেছে খাসি।
খাসি দিলো হেগে,আমি গেলাম ভেগে।"
বলেই আসিফা দৌড়ে পালালো। মেয়েটা ঠিক হওয়ার নয়।। জায়ান দীর্ঘঃশ্বাস ফেলে দরোজা বন্ধ করতে যাবে কি তার আগেই আসিফা উকি দিয়ে বলে,,,,
"জায়ান চা খাবি কি?
এটা বলার জন্য তোমার লাগবে একটা,হাবিবি।"
বলে আবারও পালালো মেয়েটা। জায়ান অবাক হয়ে রইল।।
-----------
আয়াজ গেছিলো জগিং এ। হলাগলা স্লিভলেস স্যান্ডো গেঞ্জি,ট্রাউজার। কানে হেডফোন। সমান তালে দৌড়াচ্ছে ছেলেটা। চুল কিছুটা কপালে,,ঘামে ভেজা।। চারি দিক থেকেই ভেসে আসছে কোকিলের কুহু কুহু সুরে ডাক। সকালের মুগ্ধ পরিবেশের মাঝে এমন সুরেলা পাখির ডাক শুনতে খুব একটা খারাপ লাগছে না কিন্তু হঠাৎ করেই আয়াজের কানে আসে কেউ একজন কোকিলের সাথে তাল মিলিয়ে ডেকে যাচ্ছে বারবার। মেয়েলি চেনা কণ্ঠ।
আয়াজ নিজের অবস্থান দেখে। সে ঠিক খান বাড়ির পিছনের রাস্তায় এখন। জগিং করার সময় আয়াজ প্রায় এই রাস্তা নেয়। আয়াজ ভ্রু কুঁচকে ছাদের দিকে তাকালো। কারোর উপস্থিতি বুঝলো। চুল খোলা,কোনো নারী। কৌতূহল সৃষ্টি হলো ছেলেটার মাঝে। চাইতেও মনের অজান্তেই বিড়বিড় করে বলে উঠলো,,,
"হৃষ্টপাখি..."
পলক পরলোনা আয়াজ এর। তাকিয়ে রইলো এক ভাবে। এক অবাঞ্চিত বাসনা কাজ করল মন মাঝারে। অবশেষে দেখা মিলল মেয়েটার। হাতে ধরে রাখা পাইপ,,,সম্ভবত গাছে পানি দিচ্ছে। সমানতালে ঠোঁট গোল করে কুহু কুহু করছে মেয়েটা। কোকিল ও ঘুরিয়ে ডাকছে। একপ্রকার কম্পিটিশন হচ্ছে দুইজনের মধ্যে।। আসিফা কি মনে করে রাস্তার দিকে তাকাতেই দেখলো অকাঙ্ক্ষিত মানুষ কে। উষ্ঠা খেলো মেয়েটা। কুহু শব্দ করতে গিয়েও ঢোক গিলে।। দ্রিম দ্রিম হলো বুকে। এক অদ্ভুত অনুভূতি উকি দিল মেয়েটার মাঝে। হাত থেকে পাইপ পড়ে গেলো। রেলিং এ হাত দিয়ে দাড়ালো মেয়েটা।।
কিছু পল বইলো আপন গতিতে। নীরব দুই নারী পুরুষ,,,দুরত্ব তাদের মাঝে। কিন্তু অনুভূতি গুলো একইরকম,,,রহস্যময়।। বাতাস বইলো শীতল।। অপূর্ব এক দৃশ্য।
কিছু মুহূর্ত যেতেই আসিফা ছাদ বাগানে ফুটে ওঠা জেসমিন ফুলের থোকা ছিঁড়ে ফিক্বে ফেলে আয়াজ এর দিকে। ছেলেটা ক্যাচ ধরে। আসিফা মৃদু হেসে ঠোঁট নাড়িয়ে মৃদু স্বরে বলে,,,
"থ্যাংক ইউ"
আয়াজ বোঝে। জানে এই ধন্যবাদ কিসের জন্য। আসিফা পিছন ফিরে চলে যায়। মন্দ বাতাস ছুঁয়ে দিলো মেয়েটার চুল,,, আয়াজ এর হৃদয়।
-----------------
অস্থিরতা কাকে বলে সেটা জায়ান কে না দেখলে টের পেতাম না আমরা। ছেলেটা অশান্ত। বাহির থেকে যতটাই স্বাভাবিক,ভিতর থেকে ঠিক ততটাই চাঞ্চল্যকর।। নাস্তার টেবিলে সমস্ত তার প্রিয় খাবার। হাসি মুখে সে গুলো খেলেও তার অন্তর খোঁজে অন্য কিছু।।
তার প্রতি জন্মদিনে রুমি কিছু না কিছু পাঠায় জায়ান এর জন্য। ছোটখাটো বার্থডে উইশ বল কিংবা গিফট। নামহীনা এই উইশ গুলো জায়ান জানে কে দেয়।। এখন ঘড়িতে এগারোটা তার জন্য উইশ আসতে কখনোই এত দেরি হয় না। তবে আজ কেনো!
জায়ান গোসলে যায়। তার বারোটার মধ্যে অফিস যেতেই হবে।। বৃহৎ ওয়াশরুমে দেওয়ালে হাত মুঠো করে সটাং দাড়িয়ে রইলো।। অস্থিরতা শান্ত হচ্ছে না তার। নিজের উপরই বিরক্ত ছেলেটা। বেরিয়ে নেভি ব্লু শার্ট,প্যান্ট পড়ে। গায়ে কোট জড়িয়ে শামামা আতর ঘষে ঘাড়ে। বেরিয়ে পড়ে অফিসের জন্য। রাগে গজগজ করতে করতে বলে,,,
"না আসুক,,,কিছুই না আসুক,,,তাতে আমার কি!
আমি কি মরে যাচ্ছি তার উইশ পাওয়ার জন্য।"
মনকে শান্ত করতে কথাটি। আদেও কি কাজ হলো!
জানা নেই।।
-----------
মিটিং রুমে প্রেজেন্টেশান এর প্রিপারেশান চলছে। জায়ান দাড়িয়ে সবার প্রেজেন্টেশান এক এক করে দেখছে আর শুনছে। তার মাঝেই মিটিং রুমে প্রবেশ করে তার পি. এ রাইসা। নম্রতার সহিত বলে,,,
"স্যার,,, ক্লায়েন্ট দের আসতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগবে। স্যার,,,তারা আধ্যাতিক রিকুয়েস্ট এর সাথে জানিয়েছে আপনি যেনো একটু অপেক্ষা করেন।"
জায়ান এর মাথায় যেনো বাজ পড়লো।। তার হাতে থাকা ফাইল টেবিলের উপর ছুঁড়ে মেরে, দাঁত পিষে বললো,,,
"অপেক্ষা! আর কত অপেক্ষা! জানো অপেক্ষা করা কত কষ্ট! অপেক্ষা করতে করতে মানুষ পাগলও হয়ে যেতে পারে।। সকাল থেকে দুপুর হতে চলল অপেক্ষাই করছি।"
চিৎকার করে কথা গুলো বললো। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে সামনে তাকাতেই দেখলো সবাই তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে অবাক দৃষ্টিতে। জায়ান গলা কাশে। বোঝে নিজের ফাস্টেশন ভুল জায়গায় বের করে ফেলেছ। জুলফিকার সাহেব ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে,,,
"আব্বু একটু কেবিনে যাও,,,বিশ্রাম নাও। ওরা আসলে তোমায় ডেকে নেবো।"
জায়ান হন হন করে চলে গেলো। কেবিনে প্রবেশ করে টাই খুলে ফেললো।সোফায় মাথা নিচু করে বসে থাকলো।। ফোন বের করে সেদিন ক্যাফেতে তোলা ছবির দিকে তাকিয়ে রইল কিছু পল,,,
"হলুদ রাঙ্গা বিষাক্ত ফুল।"
-----------------
বুকের পানি যেনো একটুর জন্য শুখায়নি।। রাফাজ মাথা তুলে তাকালো দেখলো গাড়ির সামনে নারীটি চোখ বন্ধ করে সিটিয়ে আছে। একটুর জন্য বেঁচেছে সে। নাহলে জীবন যেতো ফিরুৎ করে। রাফাজ ভালো করে তাকাতেই লক্ষ করে এটা আর কেউ না জারিন। তাই জন্যই তার বুকের ভেতর দামামা বাজছিল।।
জারিন পারেনা গাড়ির চালক কে টেনে বের করে পেটাতে। কিন্তু তার তাড়া আছে। জারিন গাড়ির দিকে তাকালো পর্যন্ত না। দোয়া ইউনুস পড়তে পড়তে রাস্তা পার হয়ে হেঁটে গেল। রাফাজ তাকিয়ে রইলো।
হঠাৎ ফোন বাজার শব্দে রাফাজ এর হুস ফিরল। আয়াজ কল করেছে। রিসিভ হতেই শুনতে পেলো ভাতিজার কণ্ঠ,,,,
"চাচু আজ আমাদের মিটিং কাদের সাথে জানো?"
রাফাজ রুদ্ধশ্বাস ছেড়ে বলে,,,"জানি,,,দেখো আজাদ সাহেব এর সাথে আমাদের কোম্পানির সর্ম্পক ভালো। তিনি চান তার এই প্রজেক্টে আমরা তার সাথে থাকি। আজাদ সাহেব এর এই প্রজেক্ট খান দের সাথে,,,কথাটি কাল জানতে পেরেছি। না করার সুযোগ নেই আয়াজ।"
"কিন্তু চাচু! তুমি জায়ান কে ভালো করেই চেনো।
ঘাড়ত্যাড়া একটা ছেলে।"
" কোম্পানি একা ও চালায় না,,,আর এমনিতেও এতটা বুদ্ধি ওর আছে যে ক্লায়েন্ট এর সাথে কেমন বিহেভ করতে হয়। আশা করি এখানে ও পার্সোনাল ব্যাপার টেনে আনবে না।"
"যদি আনে!"
"তখনকার কথা, তখন দেখা যাবে। তুমি কত দুর!"
"কাছেই আছি,,,আসছি।"
-------------------
মিটিং রুমে প্রবেশ কারী তিন ব্যক্তিকে দেখে জায়ান এর রক্ত টগবগ করে ফুটতে শুরু করলো।
চোখের কোণ লাল আকার ধারন করলো ছেলেটার। জুলফিকার সাহেব ছেলের হাব ভাব লক্ষ্য করে। অগচরে ছেলের হাতের উপর হাত দিয়ে আশ্বাস দিয়ে মৃদু কন্ঠে বলে,,,
"এটা শুধু মাত্র বিজনেস মিটিং। সহজ হও তুমি।"
জায়ান লম্বা শ্বাস টেনে নিজেকে সংযত করে। প্রেজেন্টেশন শুরু হয়। এক পর্যায়ে জায়ান বলে ওঠে,,,
"মার্কেটিং এর ব্যাপারে আপনাদের রায় কি?"
লম্বা টেবিল এর দুই মাথায় দুই যুবক। আয়াজ জায়ান এর কথার উত্তর হিসাবে আজাদ সাহেব এর দিকে তাকিয়ে বলে,,,
"আঙ্কেল... ফ্ল্যাট এর স্কয়ার ফিট অনুযায়ী দাম আমরা ঠিকঠাক রেখেছি কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি আমরা যে দেশে বসবাস করি সেখানে মিডিল ক্লাসের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের শুধু ফার্স্ট ক্লাস মানুষের জন্য ভাবলে হবে না,,, এখানে আপনার কি মতামত!?"
আজাদ সাহেব বললেন,,,"কথাটা খুব একটা খারাপ না। জায়ান.... Project 13..এ আমরা একটু চেঞ্জেস আনি।"
"কেমন চেঞ্জেস?"(জায়ান)
"আমরা এই কলনীতেই তিনটে বিল্ডিং ডিজাইন করবো...যার দাম রাখবো একদম পারফেক্ট ফর মিডিল ক্লাস।। আয়াজ এর ভাবনা চিন্তা আমার ভালো লেগেছে।। আমি এই বিষয় পুরোটাই তোমাদের দুই ইয়াং ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে দিলাম। I hope you won't disappoint me on this.
রাফাজ... হোয়াটস ইওর ওপেনিয়ান!"
রাফাজ সামান্য হেসে বলল,,,"They are both young engineers. Their thinking is of high quality. Our hopes on them will not be in vain. Insha Allah."
জুলফিকার সাহেব বলে উঠলো,,,"ইনশা আল্লাহ্।"
জায়ান ও আয়াজ তাকালো একে অপরের দিকে।
বাল্যকালের দুই বন্ধু আজ আবারো একসাথে হবে।সেটা যে কারণেই হোক না কেনো।
-------------
"ফুলটা দিবি তারপর বলবি,,,,
আমার শান্ত,মনটা ভীষণ ক্লান্ত।
মেনে যাও তাড়াতাড়ি করে,নাহলে কাঁদবো আমি গড়াগড়ি দিয়ে।"
বলেই খিলখিল করে হেসে উঠলো আসিফা। শান্ত ভোঁতা মুখে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। জীবনের প্রথম কাউকে সে পছন্দ করেছে। কথাটি আসিফা কে বলা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শুধুই মজা নিচ্ছে।। শান্ত বিরক্ত হয়ে বললো,,,
"আমার অনুভূতি নিয়ে মজা উড়াচ্ছিস! উড়া উড়া,,,তুই কি বুঝবি প্রেমের! কক্ষনো করেছিস!?"
আসিফা এইবার হাসি থামায়। কিছুটা শাস ছেড়ে বলে,,,"প্রেম সবার জীবনে ধরা দেয়না। আর দিলেও সবাই রাখতে পারে না।। আমার প্রেম হবে আজীবনের মত,,,একটা মনের মানুষ আসবে,হাত ধরবে আর কোনোদিন ছাড়বে না।।"
মনের মানুষ, কথাটি বলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো আয়াজ এর চেহারা। সহসা কেপে উঠলো আসিফা। এইগুলো কি হচ্ছে তার সাথে! না না,,,একটু বেশীই ভেবে ফেলছে।। তাদের কথার মাঝেই উপস্থিত হলো রুমি।। শান্ত আর আসিফা কে সে আগেই দেখেছে,,,ক্যাম্পাসের মাঠে।। রুমি কে দেখেই আসিফা বলে ওঠে,,,
"ওরে রুমির বাচ্চা,,,তোর আজ এত দেরি হলো কেনো! জানিস সেই কখন থেকে বসে আছি।"
রুমির হাতে আজ এক্সট্রা একটা ব্যাগ। কাঁধ আর হাতের ব্যাগ মাঠে রেখে নিজে ধপাস করে বসে পড়ল। ক্লান্ত সে। আসিফা ভ্রু কুঁচকে ব্যাগের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"ওই ব্যাগে আবার কি!! "
রুমি মৃদু হেসে ব্যাগ থেকে দুইটি মাঝারি সাইজের চৌকো ডাব্বা বের করে। বিরিয়ানির ঘ্রাণ আসছে প্রবল। আসিফা এক প্রকার ডাব্বা ছিনিয়ে খুলে দেখতেই চোখ চিকচিক করে উঠলো। অবাক হয়ে বলল,,,
"আরে এটা তো বিরিয়ানি।"
রুমি বললো,,,"হ্যাঁ আমি বানিয়েছি প্রথম বার। তোদের না দিয়ে খাই কি করে! কিন্তু খবরদার এখানে খাবি না বাড়ি গিয়ে খাবি দুইজনে। আর শান্ত,,, শামীমা কে দিয়ে খাস।"
শান্ত মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে। এদিকে আসিফা চোখ ছোটো ছোটো করে শান্তর দিকে ঝুঁকে আলতো স্বরে বলে,,,
"হায়রে বেচারি,,,ওর মুখের উপর যদি বিরিয়ানি খেয়ে বমি করি সেটা সহ্য করতে পারবে না তাই বাড়ি গিয়ে খেতে বলছে।। শান্ত,,,আগে তুই খেয়ে আমায় কল করবি,,,তুই বেঁচে থাকলে আমি খাবো।"
রুমি সবটা শুনে আসিফার পিঠে গুম করে একটা ঘুষি দিয়ে বলল,,,"নিজেতো রান্নার র পারিস না আবার আমার রান্নায় খুঁত ধরে!"
আসিফা চোখ মুখ কুঁচকে উফ করে উঠলো।
"শালী...ঐতো তোর শরীর পুটি মাছের মত। এত শক্তি পাস কোথা থেকে! আল্লাহ,,,ব্যাথা করছে"
রুমি আটিটিউড এর সাথে বলে,,,"রোগা দের হাড়ে জোড় বুঝেছো আসু খাসু।"
শান্ত এবার তাকালো আসিফার দিকে। চোখের ইশারায় কিছু বলার ইঙ্গিত দিলো রুমি কে।। আসিফা হুট করেই কিছু মনে পড়ার মত করে। ঝটপট রুমির দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"জানিস আমাদের শান্ত প্রেমে পড়েছে,,,ওই যে জুনিয়র ক্লাসের মেয়েটা। যে,সুন্দর আঁকতে পারে। কি নাম যেনো,,,,"
"রোজি।।।।"(ঝটফট বললো শান্ত)
"হ্যাঁ হ্যাঁ,,ওই কাজের বেটি রোজিনা। ওই মেয়েটা,,,"
রুমি ভ্রু নাচিয়ে শান্তর দিকে তাকিয়ে বলে,,,"সত্যি!"
শান্ত লাজুক মুখে মাথা নারায়। রুমি বললো,,,"তাহলে আমাদের এখন মিশন হচ্ছে,,শান্তর শান্তি।"
তিনজনেই বেশ উৎফুল্ল হলো। নানান আইডিয়া বের করতে লাগলো প্রপজের। একটা সময় আসিফা বলে ওঠে,,,
"দেখ শান্ত তুই ভাব যে আমি রোজি। জাস্ট ইমাজিন। আমি দাঁড়াবো,,,তুই হাঁটু গেড়ে প্রপোজ করবি,,,প্র্যাকটিস মেকস পারফেক্ট। বুঝলি!"
শান্ত মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। অতঃপর আসিফা ঢং করে দাঁড়ালো। শান্ত হাতে করে একটা ঘাস ফুল নিয়ে আসিফার সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসে প্রপোজ করে বলে,,,
"রোজি,,,তুমি সর্বদা থাকবে আমার কাছে কচি।।
আমি ভীষণ কুল,দিলাম তোমায় ফুল,বলবে কি কবুল!"
শান্তর কথায় তিন জনেই হো হো করে হেসে উঠলো। আসিফা তার হাত থেকে ফুলটা নিয়ে লাজুক স্বরে বলল,,,
"অবশ্যই..."
রুমি ভিডিও করছে। হাসাহাসির এক পর্যায়ে দেখা মেলে রোজি নামের মেয়েটার। আসিফা তাড়া দিল শান্ত কে। ছেলেটার পিলে চমকালো। অসহায় হয়ে আসিফার দিকে তাকিয়ে বলল,,,,
"যদি চড় মারে!"
রুমি অভয় দিয়ে বলল,,,"ধুর...ভয় পাচ্ছিস কেনো! আমরা আছি তো। বি এ ম্যান শান্ত।"
আসিফা দুষ্টু হেসে শান্তর দিকে ঝুঁকে বললো,,,,"আমার কাছে একটা আইডি আছে। প্রপোজটা একটু অন্যভাবে কর,,, দেখবি হ্যাঁ ছাড়া না বলবেই না।। চড় তো দূরের কথা দেখবি চুমু খেয়ে বসে থাকবে তোকে।"
"সত্যিই!?"
"ট্রাস্ট মিঃ বন্ধু,, এরকম কতশত প্রেম আমি করিয়ে দিয়েছি তা হাতে গোনার বাহিরে।"(একটু অ্যাটিটিউড দেখিয়ে)
"আরে শান্ত,,আসু যা বলছে তাহ্ কর। দেখবি তোর প্রেমের গাড়ি শুধু চলবে না দৌড়াবে।"
রুমির কথায় শান্ত আশ্বাস পায়। ছেলেটা সেই প্রপোজ করার ধরন জানতে চাইলে আসিফা বাঁকা হেসে কিছু বলল। শান্ত প্রথমে না না বললেও পড়ে সে রাজি হয়। অতঃপর একটা ফুল নিয়ে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। রোজি নামের মেয়েটির সান্নিধ্যে গিয়ে দাঁড়াতে মেয়েটি ভুরু কুঁচকে ফেলে। শান্তর দিকে প্রশ্ন সূচক দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেই শান্ত অতি নার্ভাসনেসের সহিত গড়গড় করে বলে ওঠে,,,
"আই লাভ ইউ।
যদি তুমি এক বাপের বেটি হয়ে থাকো তাহলে আমার প্রোপজাল অ্যাকসেপ্ট করো ,,,নাহলে ভাববো তোমার দুটো বাপ।।"
সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটার তলতলা গালে থাপ্পড় পড়ে মেয়েলি হাতের। এদিকে আসিফা আর রুমি পেট চেপে হেসে উঠলো। দৌড়ে পালালো ক্যাম্পাস ছেড়ে।। এদিকে শান্ত একদম শান্ত। দাতে দাঁত পিষে বিড়বিড় করে বলে,,,"রুশিফার বাচ্চা,,"
-----------------
খান বাড়ির খাওয়ার টেবিল। সবাই বসেছে নিজনিজ স্থানে। আজ দুপুরে খেতে আজ লেট হয়েছে। বাড়ির পুরুষদের অফিস থেকে ফিরতে লেট হয়েছে। ঘড়িতে এখন তিনটে মত বাজে। আসিফা খাওয়ার জন্য আকুপাকু করছে। বিরিয়ানি খাবে বলে পাগল প্রায়। ডাব্বা রাখা টেবিলের মাঝে। আসিফা নিজের মা কে জানিয়েছে এটা রুমির দেওয়া।
খাবার সার্ভ করার এক পর্যায়ে আনোয়ারা বেগম ভ্রু কুঞ্চিত করে বড় বউ কে জিজ্ঞাসা করলেন,,,
"বড়ো বউ এই ডাব্বার মধ্যে কি?"
তিনি বললেন,,,"মা এটা তো আসু এনেছে। বিরিয়ানি আছে এর মধ্যে।"
আসিফা এতক্ষণে নিজের পাতে বিরিয়ানি নিয়ে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আসিফা পারে না ছুটে গিয়ে তার বাঁধাকবি কে জড়িয়ে ধরতে। আনোয়ারা বেগম আপন নাতনির পানে চেয়ে বলে,,,
"কোথা থেকে এনেছো বিরিয়ানি আসু! কে দিয়েছে!?"
"কে আবার দেবে আমার বাঁধাকবি ছাড়া। দারুন হয়েছে খেতে,,,জাস্ট অসাধা....."
কথাটি আর পুরো করতে পারলো না। টেবিলে বসা সবাই তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে। আসিফা এতক্ষণে মনে হলো সে ভুল করেছে। অগচরে জিভ কেটে মাথা নিচু করে চুপ চাপ খেতে আরম্ভ করলো।। জায়ান একদৃষ্টিতে বক্সটির দিকে চেয়ে রইল। অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছালো সবাই তখন যখন আনোয়ারা বেগম নিজেই সেই বিরিয়ানি খেতে শুরু করলো।। তাঁকে দেখে সবাই একটু একটু করে নিলো। সবাই ভাবলো জায়ান খাবে না,,,কিন্তু সবাইকে চকিত করে সেও বিরিয়ানি নিলো পাতে।। আজ টেবিলে সব খাবার জায়ান এর পছন্দের,,,কিন্তু এই বিরিয়ানি ছেলেটার কাছে অমৃত ঠেকছে।। আজ মনে মনে হাজার বার সে আসিফা কে ধন্যবাদ জানালো।
আসিফার খুশির ঠিকানা নেই। তার রুমির বানানো বিরিয়ানি সবাই এত আদরের সাহিত খাচ্ছে দেখে আনন্দে উৎফুল্ল হলো। বিস্তার হেসে বলল,,,,
"কেমন হয়েছে খেতে দাদি! আমি জানি ভালই হয়েছে,,,বানিয়েছে কে দেখতে হবে না! আমার বাঁধাকবি বলে কথা!"
আনোয়ারা বেগম মিটিমিটি হেসে আনমনা হয়ে বললো,,,"আমার নাতবউ বলে কথা!"
কথাটি তিনি অনেক ধীরেই বলেছে যাহ শুনেছে তার বড় ছেলে জুলফিকার। পাশে মায়ের দিকে তাকিয়ে তিনি ইশারায় কিছু বললো তাতেই গলা কেশে উঠলেন তিনি।। অতঃপর মুচকি হেসে আসুর দিকে তাকিয়ে বলল,,,,
"অনেক ভালো হয়েছে খেতে,,,মেয়েটাকে শুকরিয়া বলো।"
আসিফা মাথা নাড়ায়। সবাই একত্রে খাওয়া শেষ করে।।
------------
রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ।। কলিং বেলের শব্দে ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে টিভি দেখা আসিফা বিরক্ত হয় প্রচুর। মাত্রই একটা ইমোশনাল সিন হতো আর আসিফা সেটা দেখে কান্না করত,,, ধুর সব বিগড়ে দিলো।। পা ঠুকে ঠুকে দরোজা খুলতেই তাদের দারোয়ান কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে আসিফা ভ্রু কুঁচকে বলে,,,
"ধুর মিয়া ভুল টাইমে কলিং বেল বাজান কেন হ্যাঁ? এক্ষুনি ইমোশনাল সিনটা আমি দেখতাম,,, আমার পুরো মজাটাই আপনি পানি ঢেলে দিলেন,,,"
দারোয়ান চাচা অসস্তিতে পড়লেন। এই মেয়ে একটা ধানি লঙ্কা। তিনি হাতে ধরা পার্সেল টি আসিফার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,,,
"আসু মা এই পার্সেল একজন দিয়ে গেছে। জায়ান বাবার নামে।"
আসিফা চোখ ছোটো ছোটো করে বললো,,,"এর মধ্যে তো বোমা ও হতে পারে তাই না!?"
বেচারা চাচা ভয় পেলো।। ঝট করে পার্সেল টির দিকে তাকিয়ে বলল,,,"বোমা!?"
"আরে হ্যাঁ বোমা,,, আপনি ফোন দেখেন না! ওখানে কত দেখায় এরকম পার্সেল দেওয়ার বাহানায় বোমা দিয়ে আস্থ একটা মানুষকে উড়িয়ে দিয়ে চলে যায়,,, বুঝেছেন!?"
এইবার থরথর করে কাঁপতে লাগলো দারোয়ান।।
হাতের পার্সেল টি নিচে রেখে বলো,,,"আমার মাফ করো মা,,,এর পর থেকে আর কোনো পার্সেল নিবো না।"
বলেই চলে গেলেন তিনি। আসিফা শয়তানি হাসি দিয়ে চিল্লিয়ে বললো,,,"এরপর থেকে মনে রাখবেন চাচা।"
বলেই পার্সেল নিয়ে সোজা জায়ান এর রুমের সামনে যায়। টোকা দিতেই ভিতর থেকে ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি আসে। আসিফা দেখে তার দাভাই ইলেকট্রিক কিবোর্ড পিয়ানোতে শব্দ তুলছে। ছোটো থাকতেই জায়ান পিয়ানো বাজানো শিখেছে। ছেলেটার শখের জায়গা এটা। খুব কম সে পিয়ানো বাজায়। আসিফা মুচকি হেসে জায়ান এর পাশে গিয়ে দাড়িয়ে বলে,,,
"দাভাই ঝটফট একটা গান গেয়ে শোনাও দেখি।"
জায়ান আলতো হেসে কিবোর্ড পিয়ানো পাশে রেখে বলে,,,"আজ না বনু,, পরে কখনও।"
"নো নো নো,,,এখনই। নাহলে তোমার জন্য আসা পার্সেল কিন্তু আমি দেবো না।"
জায়ান ভ্রু কুঁচকে বলে,,,"পার্সেল।"
"ইয়েস,,,এই দেখো।"
বলেই হাতের পার্সেল জায়ান কে দেখায়। কেনো জানি ছেলেটার বুক ধুক করে ওঠে। মন বলে এটা সেই রমণীর দেওয়া। যার অপেক্ষা সেই সকাল থেকে করছে। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে পার্সেল নিতে গেলেই আসিফা দাঁত বের করে বলে,,,
"আগে গান,,,"
"ওকে ফাইন,,,"
বলেই পিয়ানো কোলের উপর তুলে নিল। চোখ বন্ধ করতেই সূর্যমুখীর হলদে শাড়িতে দেখলো এক রমণীকে। সুর তুলে গেয়ে উঠলো,,,,
কারণে অকারণে, নিষেধে বা বারণে
তোমার নামেই যতো জোছনা নিলাম,
ভেতরে বাহিরে, দহণে বা ধারণে
আমায় নিখোঁজ ভাবো বা পাশেই ছিলাম।
চোখে জল নোনা কি
নিয়ে গেলো জোনাকি,
কেনো আমি পথে একা দাঁড়িয়ে,
আলোদের পিয়নে, সোডিয়াম নিয়নে
যেন সবই কোথায় হারিয়ে ..
আমি তোমার দ্বিধায় বাঁচি
তোমার দ্বিধায় পুড়ে যাই,
এমন দ্বিধার পৃথিবীতে
তোমায় চেয়েছি পুরোটাই।
আমি তোমার স্বপ্নে বাঁচি
তোমার স্বপ্নে পুড়ে যাই,
এমন সাধের পৃথিবীতে
তোমায় চেয়েছি পুরোটাই,
পুরোটাই ..🎶
(গল্পের ক্ষেত্রে গানটি ইউজ করলাম)
জায়ান থামতেই আসিফা তালি দিয়ে বাহ্ বাহ্ করতে করতে বলে,,,"অসাধারণ দাভাই,,,তোমাকে অস্কার দেওয়া উচিত।"
"আপাতত পার্সেল দিলেই চলবে,,,"
আসিফা পার্সেল টি জায়ান এর হাতে দিয়ে চলে যায়।। ছেলেটা দুরু দুরু বক্ষে দরোজা বন্ধ করে অতপর ব্যাস্ত হাতে প্যাকিং খুলে একটা ডাইরি পায়। একদম আলাদা রকমের ডাইরি ,দেখে মনে হবে অনেক পুরোনো দিনের সেটা। কিন্তু আসলে তাহ না,,,ডাইরি একদম নতুন। সাথে একটা সবুজ রঙের চিট পেপার।। জায়ান কৌতূহলের সহিত সেটি খুলে দেখে,,,সেখানে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা,,,,
"মিস্টার মাথাগরম....
বয়সের গণ্ডি পেরাচ্ছে কিন্তু আপনি রয়ে গেলাম একই রকম। ঠিক একই রকম না,,,বদলেছেন শুধুই আমার বেলায়। আপনার অযত্নে ফেলে যাওয়া আমিটাও এখন বুঝদার। সব বুঝি,,,অবহেলা,বিতৃষ্ণার অনুভূতি আপনি হাতে ধরে শিখিয়েছেন।। স্মৃতির পাতায় ভাসমান ওই সমস্ত সুখ আমি ভুলতে গিয়েও পারি না।।
থাক সেসব কথা,,,আজ আপনার জন্মদিন। তাতে কি,,,পৃথিবীতে এসে কি এমন তীর মারলেন! অক্সিজেন খরচ করে শুধুই পৃথিবীর ভার বাড়াচ্ছেন। শুধুই পারেন মাথা গরম করতে। আচ্ছা আপনি একটা ফ্রিজ নিয়ে ঘুরবেন,,,মাথা গরম হলেই ফ্রিজ খুলে বরফ মাথায় দেবেন।। আইডিয়া টা ভালো না!? অবশ্যই ভালো,, ট্রাই করে দেখতে পারেন।
শেষে... জন্মদিনের শুভেচ্ছা মোটেও জানাই না আন্তরিক ভাবে। এ আর এমন কি! প্রতি বছর আসে,,,তাতে এত মাতামাতির কি আছে। বরং ভাবেন যে,আপনি বুড়ো হচ্ছেন।। আয়নায় দেখবেন,,,গ্যারান্টি একটা না একটা পাকা চুল পাবেন।।
পরিশেষে একটি ডাইরি গিফট করলাম,,,সুখ দুঃখের মুহূর্ত সেখানে লিখবেন। কোনো একদিন ডায়েরিটি আমি চাইবো। হুট করেই,,,,
ইতি
আপনার অপ্রিয় কেউ
চিঠি পড়ে জায়ান হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারল না। চিঠির মধ্যেই যেনো রুমি নিজের চঞ্চলতার সাথে আবেগী দিক তুলে ধরলো। জায়ান আলতো হেসে সোফায় বসে।। লাল পেন নিয়ে ডায়রির পাতায় লেখে,,,,
"নীল আসমানের মাঝে যত দিন সূর্য থাকবে,
এই মানবের হৃদয়ে শুধুই তোমারই বসবাস থাকবে আমার, সূর্যমুখী।
তোমায় পেয়ে গেলে চাইবো কি!?
আমার জীবনের সবচেয়ে দামি দোয়াটাই তো তুমি।
থাক কিছু পূর্ণতার শহরে অপূর্ণতা,
থাকুক আমার মাঝে তুমি নামক অসুস্থতা।
আমি বাঁচতে চাই এই রোগ নিয়েই।
আমার প্রিয় অসুখ তুমিই।"
ক্রমশ
---------------------(সবাই মতামত জানাবেন আশা করি। গল্পের মধ্যে বাস্তবতা কিংবা লজিক খুঁজে আমায় বিব্রত করবেন না। লাইক আর কমেন্ট কিন্তু একটা লেখিকার জন্য অনেক বড় রোল প্লে করে আশা করি আপনারা আমাকে হতাশ করবেন না। বিকেলে কিংবা রাতে গল্প দেওয়ার সময় আমি পাবো না তাই এখনই দিয়ে দিলাম।)