ফন্ট সাইজ:
থিম:
জটিল প্রেম

২৩তম পর্ব

লেখক: আসিফা খান

#পর্ব_২৩

#জটিল_প্রেম

----------------------☞

(গল্প কপি করা নিষেধ।)

.

দুই বছর কেটেছে এক বুক উত্তেজনায়। এক আকাশ পরিমাণ আশা আকাংখা নিয়ে। আর মাত্র আট দিন পর রাফাজ আর জারিন এর বিয়ে। যার প্রতীক্ষায় ছিলো দুই ভালোবাসায় সিক্ত হৃদয়,দুই পরিবার।। তাদের পরিণয়ের এর মাত্র কিছু দিন। কিন্তু মাঝে পড়লো একটা বিঘ্ন।। নিউ ইয়র্ক এ পড়া কালীন রাফাজ এর একটা ভালো বন্ধু ছিলো নাম তার লুকাস।। হঠাৎ করেই খবর আসে লুকাসের শরীর অত্যাধিক খারাপ,লাইফ সাপোর্টে আছে সে এখন। রাফাজ এর কাছে খবরটি আসতেই ছেলেটা উদ্বিঘ্ন হলো। একটা বন্ধু হিসাবে বন্ধুর খারাপ সময়ে পাশে থাকা জরুরি, কর্তব্য।

রাফাজ এই দুই বছরে সেরকম কারোর সাথেই যোগাযোগঃ রাখেনি। তার ফোকাস শুধুই ক্যারিয়ার বিল্ট করা ছিলো।। অবশ্য যোগাযোগ না রাখার আরো একটা কারণ আছে।। কিন্তু কিছু দিন আগে নিজের বিয়ের দাওয়াত দেওয়ার জন্য লুকাস কে মেল করলে জানতে পারে ছেলেটার এহেন অবস্থায় কথা।। রাফাজ তিন দিন এর জন্য নিউ ইয়র্ক যাচ্ছে। বিয়ের পাঁচ দিন আগেই সে ব্যাক করবে।।

ব্যাগ গুছানো শেষ। অবশ্য কোনো বড়ো লাগেজ নয়। ছোটখাটো একটা পিঠ ব্যাগ।। সবাই ওর সাথে দেখা করে রুম থেকে বেরিয়েছে কিন্তু রুমের এক কনায় চুপটি করে দাড়িয়ে আছে জারিন। টলমলে চোখে দেখে যাচ্ছে রাফাজ কে।। ছেলেটা এইবার রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে জারিন এর নিকটে আসে। ছলছল পানি আলতো করে মুছে দিয়ে বলল,,,

"চলে আসবো তো,,মাত্র তিন দিন।"

"যাচ্ছেন কেনো!? বিয়ের পরেই যেতেন,,,আমি ইম্পর্টেন্ট না আপনার আছে! জানি আমি,,,"

রাফাজ অসহায় তাকিয়ে রইলো বাইস বছর বয়সী রমণীর দিকে।। মেয়েটা অভিমান উগলে দিচ্ছে। রাফাজ জারিন এর কনিষ্ঠ আঙ্গুল এর সাথে নিজের কনিষ্ঠ আঙ্গুল মিলিয়ে নিয়ে আদুরে গলায় বলল,,,,

"তুমি আমার কাছে কতটা মূল্যবান তার ধারণা তোমার নেই জারিন।। তোমার জন্য আমার জীবন গল্প মধুময়। তুমি আমার হৃদয় গহীনে বসবাস করা গোপন সুখ।"

জারিন ঠোঁট ফুলিয়ে তাকিয়ে রইল রাফাজ এর দিকে।। রাফাজ মৃদু হেসে বলল,,,"তোমার পলক ফেলার সাথে সাথে আমি চলে আসবো। ইটস জাস্ট থ্রি ডেস্"

"তাহলে আমি পলক কখনও ফেলবই না।"

"তাহলে চোখ জ্বালা করে পানি পোড়বে।"

"করুক,,,পড়ুক পানি।"

জারিন সত্যিই সত্যিই রাফাজ এর দিকে চেয়ে আছে অপলক। চোখের পলক তার পড়ছে না। সেকেন্ড যায়,,,জারিন স্থির। জারিন এর কান্ড দেখে রাফাজ বিস্মিত হলো।। মেয়েটা জেদি হয়ে উঠছে।

রাফাজ ঘন কন্ঠে বলে,,,,

"জারিন,,,কি হচ্ছে! পলক ফেলো,,,চোখ লাল হচ্ছে। পানি আসবে,,,"

জারিন বেঁকা স্বরে বলে,,,"আসুক,,,"

পেরায় দেড় মিনিট। রাফাজ জারিন এর গালে হাত রেখে বলে,,,"জারিন জেদ না,,,চলে আসবো তো।"

"বিয়ের পর যাবেন।"

"লুকাস এর অবস্থা সিরিয়াস,,,বিদেশে আমার খুব খেয়াল রেখেছিল ও,,,ওর এই সময়ে ওর পাশে না দাঁড়ালে স্বার্থপর হয়ে যাবো জারিন।"

এইবার পলক পড়লো জারিন এর,,,বেয়ে পড়লো নোনা জল।। রাফাজ তাহ মুছিয়ে দিয়ে বলে,,,

"এবার যাই ম্যাডাম!"

জারিন ঠোঁট ভেঙ্গে বলে,,,"দ্রুত আমার কাছে ফিরে আসবেন।"

"জো হুকুম।"

তারপর ঐ যে আকাশের বুক চিরে এরোপ্লেন উড়ে গেলো। জারিন এর ভাবনায় ছেদ পড়ল।। রাতের আকাশের দিকে সে কতক্ষন তাকিয়ে ছিলো! জানা নেই তাই তো চোখে পানি জমেছে। জারিন দ্রুত তাহ মুছে ফেললো।।

---------------------

সূচনা নব দিনের। সকাল তখন কয়টা বাজে! ঠিক জানা নেই,,,শেখ বাড়ির সবাই নাস্তা শেষ করেছে মাত্র।। বাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে মৃদু কথপোকথনের শব্দ।ড্রয়িং রুমে বসে তখনও বাবা চাচা দের আলচনা শুনছে আয়াজ কিন্তু তাকে অফিস যেতে হবে ভেবে উঠে এলো।

রুমির রুম থেকে তার হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে।। আয়াজ এর পা জোড়া থেমে গেলো সেখানেই। বোনের হাসি শুনতে তার ভালো লাগে।। রুমে একবার উকি দিতেই দেখলো রুমি ফোনে কিছু দেখছে। আয়াজ ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে ফোনে চলমান ভিডিও'র দিকে তাকাতেই চোখে মুখে ফুটে ওঠে কাঠিন্যতা।

আসিফার সামনে শান্ত হাঁটু গেড়ে বসে কিছু একটা বলতেই আসিফা লাফিয়ে,লজ্জা মিশিয়ে হ্যাঁ বলে।

তাহ দেখা মাত্রই আয়াজ এর মস্তিষ্ক টনটন করে উঠলো।। মন চাইছে মেয়েটাকে চাপকে আসতে।। আচ্ছা শান্ত কি আসিফার! না নাহ,,,এটা হতে পারে না।।

"এই সব করতেই কলেজ যাস তোরা!?"

হঠাৎ পুরুষালি গমগমে সুর কানে আসতেই রুমি বুকে থুতু দিয়ে তড়াক করে পিছে ফিরে তাকালো।

তার বুক লাফাচ্ছে। এইভাবে কে ভয় দেখায়! রুমি ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে বলে,,,

"এই পাগল তুমি!? এইভাবে কে দাঁড়ায়! আল্লাহ আমি ভয় পেয়ে গেছি,,"

আয়াজ এর রূপ বদলায় না। একই রকম থাকে সে। কেনো তার রাগ লাগছে! ওই ফিদ্দি মেয়েটার জন্য! ওই,, ধানী লঙ্কা, বিচুটি পাতার জন্য! কেনো?

আয়াজ একই রকম ভাবে ক্রুদ্ধ স্বরে বলে ওঠে,,,

"কলেজে পড়াশোনা হয় না! শুধুই কি মুখ দেখাতে যাস নিজের! আর এই সব কি হ্যাঁ!"

রুমি কনফিউজ হয়ে বলে,,"কোন সবার কথা বলছো ভাইয়া!"

আয়াজ রুমির ফোন কেড়ে ভিডিও টি আবারও প্লে করে রুমির মুখের সামনে ধরে বলে,,,"এই সব! আর এই মেয়েকে দেখে তো মনে হয় না যে ও আবার প্রেম করে! তাও শান্ত! কলেজে এই সব হয় নাকি! পড়াশোনার জন্য তোকে সেখানে পাঠানো হয়,,,বান্ধবীর প্রেমের সাক্ষী হিসাবে নয়।"

রুমি চুপচাপ আয়াজ এর কথা গুলো শুনতে থাকে! তার ভাইয়া এই টুকু বিষয় নিয়ে এত মাতামাতি করার মানুষ না।। ব্যাপার টা অবশ্যই সন্দেহ জনক।

রুমি সরু চোখে দেখে চলেছে আয়াজ কে। আয়াজ কিছুটা হলেও বিব্রত হল। কি হলো তার হঠাৎ করে।

রুমি ফিক করে হেসে ফোনের ভলিউম বাড়িয়ে দিলো।

"পুরোটা না শুনেই রিয়েক্ট করলে তো হবে না ভাইয়া। আমরা মোটেও কলেজে এই সব করতে যাই না,,,আর রইলো আসু! ও করবে প্রেম! সেটা ভাবাও বোকামি।। কিন্তু ভাইয়া কথা হলো তুমি এরকম ক্ষেপে গেলে কেনো ফট করে!!"

আয়াজ ভ্রু কুঞ্চিত করে ভিডিও দেখলো,শুনলো অতঃপর নিজেই উষ্টা খেয়ে বসে থাকলো। প্রচুর অপ্রস্তুত ফিল করলো সে। বোনের সামনে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে ফেলেছে। যাহ মোটেও ঠিক হয়নি। আয়াজ গলা কাসলো। ফোন রুমির হাতে দিয়ে আমতা আমতা করে বলল,,,,

"কি!? শান্তকে মেয়েটা হ্যাঁ বলেছে!?"

উত্তর শোনার ইচ্ছে হলো না হয়তো। কথাটি বলেই কেটে পড়লো।। রুমি বাঁকা হেসে ফোন দুই আঙ্গুলের মাঝে ঘোরাতে ঘোরাতে বললো,,,,

"সখা তোরা প্রেম করিও না

পিরিতি ভালা না,,,"

হেসে উঠলো মেয়েটা। তার ভাইয়া ফেঁসে সে তাও বিচুটি পাতার প্রেমে। প্রকৃতির বিচুটি পাতা শরীরে লাগলে শরীর চুলকায়,,,কিন্তু আয়াজ এর বিচুটি পাতা শরীরে না মনে লাগে আর পর মন জ্বলে।

---------------

আরমান নামের ছেলেটা ফুঁপিয়ে কাদঁছে। তার উপর দেওয়া আলিগেশন মিথ্যে। কিন্তু এটা বোঝাতে সে পারছে না। সিধা সাধা একটা ছেলে।।

পড়াশোনা শেষ করে জায়ান দের কোম্পানিতে ইন্টার্শীপ এ নিযুক্ত।।

কেবিনের কাঁচ যুক্ত বড়ো দেওয়াল এর সামনে দুই পকেটে হাত পুরে সটাং দাড়িয়ে জায়ান।। ব্যাস্ত নগরী দেখতে ব্যাস্ত সে এখন।। আয়াজ সোফায় বসা। দুই হাত দুই হাঁটুতে রাখা তার,তীক্ষ্ম নজরে দেখছে আরমান কে।

"স্যার বিশ্বাস করুন,,,আমি এমন কিছুই করিনি।।"

আরমান চোখের পানি মুছে আয়াজ এর দিকে তাকিয়ে বলল কথাটি।। আয়াজ রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে বলে,,,

"লাস্ট লগ আউট তোমার আরমান। তুমি প্রজেক্ট 13 এর টিম মেম্বার। আমারা ইন্টার্ন দের কখনও বিগ প্রজেক্ট এ রাখি না তোমায় রেখেছি কারণ তুমি ব্রিলিয়ান্ট,,, কিন্তু আমাদের প্রজেক্ট আইডিয়া তুমি অন্য কোম্পানিকে সেন্ট করছো!"

শেষে তেজস্বী কন্ঠে কথা গুলি বললো আয়াজ। আরমান হুঁ হুঁ করে উঠলো। নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে বললো,,,

"স্যার বিশ্বাস করুন আমি এমন কিছুই করিনি। আমি জানি না লাস্ট লগ ইন কি ভাবে আমার! স্যার আমি অফিস টাইম শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বেরিয়ে যাই,,কারণ বাড়িতে আমার এক মাত্র মানসিক অসুস্থ একটা বোন আছে। স্যার,,,আমার বিশ্বাস করুন।"

"তোমার লগ ইন পাসওয়ার্ড তুমি কাউকে বলেছো!?"(জায়ান)

আরমান ভারিক্কি নিঃশ্বাস নিতে নিতে অনেকক্ষণ কিছু মনে করলো। অতঃপর কিছু মনে আসার মত করে ঝট করে উঠলো।। মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায় ছেলেটা অতপর গরগর করে কিছু বলে।।

--------------

"শুনলাম নাকি তুমি অসুস্থ ছিলে?"

কাফিল এর কথায় রুমি থমথমে খেয়ে বলে,,"জ... জ্বী স্যার।"

"নাও ইউ আর ফাইন!?"

"ইয়েস স্যার।"

কাফিল আর কি বলবে ভেবে পেলো না কিন্তু আরো কিছুক্ষণ কথা বলতে মন চাইছে তার। এটা কলেজ মানুষ ভুল ভাবতে পারে জেনে কাফিল মৃদু হেসে বলল,,,"বেশ,,দেন টেক কেয়ার।"

"থ্যাংক ইউ স্যার।"

আসিফা আর রুমি হাটা দিল ক্যাম্পাসের মাঠে। আজ পরপর তিনটে ক্লাস করেছে তারা। আসিফা ক্যান্টিন থেকে স্যান্ডউইচ কিনে এখন গব গব করে গিলছে তাহ দেখে রুমি নাক সিটকে বললো,,,

"ইসস ,,,একটু মানুষের মত খা। দেখে মনে হচ্ছে কত দিন অভুক্ত তুই।"

আসিফা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো,,,"চুপ কর তো! অত নাটক করে খেতে পারবো না।"

"নরমাল মেয়েদের দেখেছিস,তারা পাবলিক প্লেসে খেলে কত ঢং করে নাক মুখ চাপা দিয়ে তবে খাবার চেবায়,,, তুই তো মেয়ে জাতির নিয়ম ভেঙ্গে দিচ্ছিস।"

আসিফা দাঁত কেলিয়ে বলে,,,"আমার জন্মই হয়েছে পৃথিবীর কিছু নিয়ম ভাঙার জন্য।"

আসিফা পানি খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর গেলে।। রুমি ফোঁস করে শাস ছাড়ে। এই বিন্দাস বান্ধবী পেয়ে সেও বিন্দাস। এই মেয়ে অত নিয়ম মানে না,,, মানে না ' লোকে কি ভাববে ' এই উক্তি কে। আসিফা কে যদি এরকম কথা বলা হয় তাহলে মেয়েটা বলে,,,"

"লোকে কি ভাববে সেটাও যদি আমারা ভাবি তাহলে লোকে কিই ভাববে!!"

রুমি বলে,,,"আজ শান্ত কেনো এলোনা বল তো!?"

" কি জানি,,,হয়তো রোজির থাপ্পড় খেয়ে উল্টে আছে বিছানায়।"

"ইস্ আমরা কি ওটা ঠিক করেছিলাম বল! বেচারা আমাদের কি ভাবছে,,,টেনশন লাগছে।"

আসিফা চিল মুডে বললো,,,"আরে টেনশন নেবে এনশান মিয়া।"

"কে এনশান মিয়া!?"

"আমি কি জানি! এমনি বললাম,,,আর শান্ত কে নিয়ে ভাবার কিছুই নেই। ও ঠিক আছে,,,"

"বুঝলাম,,,"

"তো চল বাড়ি ফিরে যাই,,,আর তো কোনো ক্লাস নেই ,,,প্রায় বিকেল হয়ে এলো।"

"উম যাওয়া যায়। আচ্ছা শোন আজ না আয়াজ ভাই স্পোর্টস ক্লাব যাবে,,,ওর আজ বাস্কেট বল ম্যাচ আছে! ভাইয়া কে সারপ্রাইজ দেবো,,,যাবি আমার সাথে!?"

আয়াজ এর কথা শুনে নড়েচড়ে বসল আসিফা। মনটা ক্ষণেই চনমন করে উঠছে। ঠোটে একটা সরু হাসির রেখা সৃষ্টি হলো। যা চোখ এড়ালো না রুমির। আসিফা ঠোঁট কামড়িয়ে ধরে বলে,,,

"হ্যাঁ,,, চল যাওয়াই যায়।"

"ওকে,,, চল তাড়াতাড়ি।"

-----------------

বাস্কেট বল মাঝারি আকারের স্টেডিয়াম লোকে ভরা।। কোনো রকম দুই সিট খুজে বসে পরে রুমি আর আসিফা। সামনে খানিক নিচে বাস্কেট বল কোর্ট। দুই ধারে লম্বা বাস্কেট,,,ওই ঝুড়িতেই বল ফেলতে হবে। নানান কালারের ছক কাটা। আসিফা বেশ এক্সাইটেড তার দাভাই জায়ানকে অনেকবার ফুটবল খেলতে দেখলেও আজ আয়াজ নামক তার প্রেম মানব কে প্রথমবার বাস্কেট বল খেলতে দেখবে ভেবেই উত্তেজিত মেয়েটা।

কিছু মুহূর্ত পর এনাউন্সমেন্ট হতেই দুই দল কোর্টে প্রবেশ করতে শুরু করে। আসিফা অধির আগ্রহে অপেক্ষায় আয়াজ এর। দেখা মিললও ছেলেটার। স্লিভলেস ব্ল্যাক জার্সি ওর পরনে। হাতে তার বল। বাহুর মার্শাল ফোলা ফোলা।। আসিফা বেহায়া হলো যেনো,,,মুহূর্তেই পুরো স্টেডিয়াম হৈহৈ করে উঠলে মেয়েটা চমকায়।।

বেশ কিছুক্ষণ পর সিটির শব্দে খেলা শুরু হলো। আয়াজ এর টিমের নাম ' টিম ব্ল্যাক ' সবাই এটা বলেই চিয়ার আপ করছে।। আয়াজ ফুল দমে বল ছিনিয়ে নিচ্ছে বিপরীত দলের থেকে। একটা সময় আয়াজ বল উঁচিয়ে বাস্কেটে ফেলে আর আসিফা জোড়ে চিৎকার করে উঠলো,,,পুরো স্টেডিয়াম সহ আয়াজ নিজেও উপরের সিট গুলোর দিকে তাকালো, আসিফা কে দেখার সাথে সাথেই ওর বুকের মধ্যে টান পড়লো। কি এক অদ্ভুত টান।

"আসু কি করছিস? আস্তে,,, দেখ সবাই দেখছে।"

মেয়েটা নিজেকে সংযত করলো। আয়াজ এর চোখে চোখ পড়ার সাথে সাথে গুটিয়ে নিলো নিজেকে।। খেলা শুরু হলো আবার। প্রায় চল্লিশ মিনিট খেলার পর বিজয়ী টিম হলো ' টিম ব্ল্যাক ' এটা শোনা মাত্রই পুরো স্টেডিয়াম হৈহৈ রইরই করে উঠলো। ধীরে ধীরে খালি হতে লাগলো স্টেডিয়াম। সবাই টিম ব্ল্যাক কে অভিনন্দন জানিয়ে বের হতে থাকলো।

একটা সময় রইলো অল্প কিছু মানুষ। আয়াজ দেখলো এইবার রুমি আর আসিফা নেমে আসছে।

রুমি দৌড়ে এসে আয়াজ কে জড়িয়ে ধরে বলল,,,

"কংগ্রাচুলেশন ভাইয়া,,, আম সো হ্যাপি ফর ইউ।"

"থ্যাংক ইউ সো মাচ,,,গায়ে ঘাম আমার দূরে সর।"

আসিফা ঠোঁট কামড়িয়ে দূরে দাঁড়িয়ে। আয়াজ এর কথা শুনে মনে মনে বলল,,,"আপনার ঘাম পারলে আমি সিসি ভরে রেখেদি আয়াজ ভাই।"

আসিফা এগিয়ে এসে বলল,,,"কংগ্রাচুলেশন"

আয়াজ ছোটো করে বললো,,,"হুম,,,রুমি এদিকে আয়!"

আয়াজ রুমি কে নিয়ে সাইডে গেলো। আসিফা এই ফাঁকে নিচে পড়ে থাকা বাস্কেট বল হাতে তুলে নিজেই ফ্লোরে মেরে আবারও হাতের মাঝে নিলো,,,যেমনটা সে এতক্ষণ খেলায় দেখেছে।।

আয়াজ এক পলক আসিফার দিকে তাকিয়ে বলল,,,

"ওকে এনেছিস কেনো?"

"তো কি হয়েছে ভাইয়া। আমরা এসেছি দেখে তুমি খুশি হওনি!?"

আয়াজ রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে বললো,,,"তুই এসেছিস প্রবলেম নেই কিন্তু সাথে করে ওকে আনার দরকার ছিল কি?"

"আস্তে বলো ভাইয়া ও শুনলে কষ্ট পাবে। ও আসতে চাইনি আমিই ওকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু প্রবলেম কোথায়?"

আয়াজ আবারও আসিফা'র দিকে তাকালো। মেয়েটা নিজের মত খেলায় ব্যাস্ত। " সমস্যা জটিল রুমি,,,মেয়েটা কে দূরে রাখ আমার থেকে।" মনে মনে কথা আওড়ে আসিফা'র কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। মেয়েটা বল বাস্কেটে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আয়াজ ওর হাত থেকে বল নিয়ে নিজে এক ঢিলে বল বাস্কেটে ফেলে। অতঃপর ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,,,

"তুমি এখানে তোমার দাভাই জানে?"

"উম হুঁ,,,"

"বাড়ি চলো।"

সবাই বেরিয়ে গেলো স্টেডিয়াম থেকে।। আয়াজ ড্রাইভ করছে। পিছনে রুমি আর আসিফা বসে।

আয়াজ মিরর দিয়ে পিছনে মেয়েটার খরগোশ দাঁতের হাসি দেখে। অন্তর ছলাৎ করে ওঠে।

নাহ একটা মেয়ের জন্য সে মোটেও এত বছরের বন্ধুত্ব শেষ করতে পারবে না। এটা হবে না তার দ্বারা। জায়ান তাদের কখনোই মেনে নেবে না। ছেলেটা পারিবারিক দিক থেকে দূরে আয়াজ এর সাথে। তাদের গভীর বন্ধুত্ব মোটেও পারিবারিক কারণে শেষ হোক তাহ সে চায় না। ইভেন কোনো বন্ধুই এরকম চাইবে না।।

---------------

রাত তখন কয়টা হবে! জানা নেই তবে গভীর রাত। কুটিল অন্ধকার নেমেছে চারি পাশে। ধরণী তখন ঘুমে নিমজ্জিত। কুকুরেরা কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে। তাদের ঘুম ভাঙ্গলো বাইকের কটু শব্দে।

দুইটি কালো স্পোর্টস বাইক। হাইওয়ের বুকের উপর থেকে হাওয়ার বেগে ছুটে চলছে দুই'টো বাইক। তাতে বসা দুই যুবকের পরনে ব্ল্যাক জিন্স, কমবাত বুট,কালো লেদার জ্যাকেট,মাথায় হেলমেট। সব মিলিয়ে দুই জনকে কোনো রহস্যময় পুরুষ লাগছে,,,যাদের নাম নেই,নিই ঠিকানা।

সোডিয়াম লাইটের আলোয় দুই পুরুষ কেই লাগছে অসাধারণ, ধারালো ব্যক্তিত্বের।।

.

জায়গা লোকালয়ের বাহিরে। যেখানে সব দিকটায় লম্বা লম্বা গেছে ঘেরা।। আশে পাশেই মানুষজনের চলাচল কম বললেই চলে। রাস্তা শেষ কিছুটা আগে পর্যন্ত। সেখানে আছে একটা বাড়ি। পোড়া বাংলো টাইপের।। সামনে জ্বলছে মৃদু হলদে আলো।। দুই পুরুষ একই সাথে মাথা থেকে হেলমেট খুলতে খুলতে প্রবেশ করলো সেই বাড়িতে।।

বেশ কিছু ছেলেপেলে আছে ভিতরে।। তারা জায়ান আর আয়াজ কে দেখেই সটাং সটাং উঠে দাড়ালো।। কেউ কেউ ভাই ভাই বলে পিছে পিছে এগিয়ে গেলো।। একটা মিরমিরে আলোকিত কক্ষের মধ্যে প্রবেশ করতেই দেখলো দূরে দেওয়ালের কোণে চিয়ারে বাঁধা অবস্থায় রাকিব পড়ে রয়েছে ম*রা হয়ে।। জায়ান হাতের গ্লাভ খুলতে খুলতে এক ছেলেটা ইশারা করে বললো,,,

"পানি আন এক গ্লাস"

ছেলেটা ছুটে চলে গেলো। কিছু মুহূর্ত যেতেই ছেলেটা পানি ভর্তি গ্লাস নিয়ে হাজির।। জায়ান গ্লাস নিয়ে এগিয়ে গেলো রাকিবের দিকে। এক ঝটকায় ছুঁড়ে ফেললো পানি ওর মুখের উপর। রাকিব তরতর করে লাফিয়ে উঠলো। সামনে জায়ান কে দেখা মাত্রই বিশ্রী দুই চারটা গালি দিয়ে বলল,,,

"কিরে জানো*য়ার আমায় তড়পে তড়পে মারতে এসেছিস! শা*লা... সারা দুনিয়ার কাছে দুই জন এমন ভালো সেজে থাকিস যেনো ভাজা মাছ উল্টে খেতে পারিস না,,,এই দিকে মানুষ তড়পে মারিস,,,হাতে হিসাব আছে কয়জন কে দুনিয়া ছাড়া করেছিস!"

জায়ান একটা চেয়ার নিয়ে ওর মুখো মুখি বসলো। রাকিবের বাঁধা হাত খুলতে খুলতে হাই তুলে কৌতুক হেসে বলল,,,

"তোদের মত নর্দমার কীট দের মেরে আবার হিসাব রাখার মত সময় কিংবা ইন্টারেস আপাতত আমাদের নেই।। তোর এই ফালতু বকবকানি শোনার জন্য আসিনি আমরা,,,লিডার এর নাম বলে খালাস হয়ে যা,,,"

হাত খোলা পেয়ে রাকিব ঝটকা দিয়ে উঠে দাঁড়াতে চাইলো কিন্তু দুই দিন খাবার না দেওয়ায় শরীরে বল খুজে পেলো না।। তাও নিজের তেজে গড়গড়িয়ে বললো,,,,

"অ্যাঁই শু*** বা*চ্চা মেরে ফেললেও নাম বলবো না। যা ইচ্ছে করে নে,,,শুনেছি আমার দুই ছেলে নাকি এক বাচ্চা মেয়ের স্বাদ নিয়েছে! বাহ্,,,এটাই তো পুরুষত্ব,,,,"

আয়াজ দুর থেকেই রাগের মাথায় নিজের পায়ের বুট ছুঁড়ে মারে রাকিবের দিকে। গালাগালি তার ঠিক পছন্দ না,,,কেউ তাকে গালাগালি দেবে এটা ঠিক সে নিতে পারে না। তারউপর আমিনার কথা শুনে বুক জ্বলে উঠলো,,,এই রকম মানুষদের কি আদেও পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার আছে!! জায়ান চুপ করে রইলো। সে আয়াজ কে চেনে।।

"যা ইচ্ছা তো তোকে করবোই,,,এত গুলো মেয়ের জীবন নষ্ট করে ভাবছিস পার পেয়ে যাবি।। ভাগ্যিস লাস্টে উনিস খানা মেয়েদের বাঁচাতে পেরেছি।। তোকে তো আমি,,,, আর রইলো ওই মেয়েটার কথা তাহলে বলব তোর ছেলেপেলে দুইটো নিজের যোগ্য শাস্তি পেয়েছে,,,তোকে মেরে ফেলব আমি,,,তোরা হলি বোঝা পৃথিবীর,,,,"

বলেই আয়াজ তেড়ে আসতে নিলে জায়ান ইশারায় থামতে বলে। নিজে দাঁত কিড়মিড় করে বলে,,,

"আমরা জানি এই সমস্ত কাজ তোরা একা করিসনি,,,মেয়ে পাচার দুই তিনজন দ্বারা অসম্ভব,তদের মাথা আছে একজন তার নাম বল তাহলে ছেড়ে দেবো,,, ভিসা পাসপোর্ট করে বিদেশ পাঠিয়ে দেবো তোদের।"

রাকিব হো হো করে হেসে উঠলো। বলল,,,,"আমায় লোভ দেখাস! তুই জানিস শা*লা আমার ক্ষমতা কি! আমার এই কালো ধান্দায় শুধু আমি একা নই,,, আমার বাবা,বোন,আমি সবাই জড়িত।। আমার বাপ কে মেরে ফেলেছিস,এবার আমাকে ফেলবি কিন্তু আমার বোনকে তুই চিনিস না,,,আমাদের বদলা সে নেবে।

আর কি বললি মেয়েদের বাচিয়েছিস!!,,, আরে শা*লা তোদের কপাল ভালো জাহাজ ছাড়তে লেট হইছিলো নাহলে তদের হিরো হওয়া ফুস হয়ে যেতো। আর এইবার তো তোদের বোন দের উপরেও নজর ছিলো,,, ওদের দাম বেশি পাওয়া যেতো।। শা*লী দুই জন থলথলে শরীর নিয়ে ঘুরে বেড়ায়,,,দেখলে মনে হয়,,,,"

আর বলতে পারলো না রাকিব। জায়ান নিজের হাতের শক্ত পোক্ত হেলমেট দিয়ে রাকিবের কান পট্টি বরাবর আঘাত করতেই চিয়ার সহ নিচে পড়ে গেলো ও। কানের অন্দর থেকে রক্ত বেয়ে পড়ছে। জায়ান উন্মাদ প্রায়। একপ্রকার ক্ষেপা ষাঁড়ের মতন ঝাপিয়ে পড়লো রাকিবের উপর। রক্ত লাল চোখে একের পর এক ঘুষি মারতে মারতে বললো,,,

"হা*মির বাচ্চা,,,এই মুখে আমাদের বোন দের নিয়ে কথা বলিস! তোকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলবো,,তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলবো,,,"

কথাটি শেষ হতে না হতেই আয়াজ রামবো ছুরি দুর থেকেই ফ্লোরে স্লাইড করে ছুঁড়ে দিলো জায়ান এর দিকে। জায়ান ফোঁস ফোঁস নিশ্বাস ছেড়ে চাকু টা তুলে হাতে নিয়েই রাকিবের গাল চিরে ওর জিভ এক হাতে টেনে অন্য হাতের ছুরির সাহায্যে তাহ কেটে ফেললো এক ঝটকায়। সঙ্গে সঙ্গে রুহ আটকে ওঠার মত গগন বিদারী হাহাকার করে উঠলো রাকিব। তার মুখ থেকে গোলগোলিয়ে রক্ত ঝরতে লাগলো। মুহূর্ত যেতেই জায়ান আরো একটা কাজ করে বসলো,,,নিজেকে পুরুষ বলে দাবি করার মেন অস্ত্র টাই শরীর থেকে আলাদা করে ফেললো। এইবার চিৎকার করতে পারল না রাকিব। তার প্যান্ট সহ ফ্লোর রক্তে ভিজে গেলো ।ফ্লোরে পড়ে তড়পাতে লাগলো ছেলেটা। জায়ান নিজের হাতে ধরে থাকা জিভ দূরে ছুড়ে ফেললো। তাদের এই নিঃসংশতা দেখে আসে পাশের ছেলেপেলে ঘেমে একাকার।। আয়াজ দূরে বসে আরামসে দেখছে সব।

"জানোয়ার টার কপালে লেখ,,, আমি নর্দমার কিট... কোনো জন বহুল রোডে ফেলে আয়,,,দেখুক সবাই,,,, জানুক তারা যে, নারী অসন্মানকারী দের শেষ পরিণতি কি হয়।

নারীরা কোনো খেলনা না,,,তারা মাথার মুকুট,ঘরের রানি,হৃদয়ের শান্তি,চোখের শীতলতা।। নারী সূর্যের মত,তার দিকে নোংরা হাত বাড়ালে তাহ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।। আবার কোমল ছোঁয়া পেয়ে বুকে মিশে যায়।। "

-----------------

নতুন দিনের আগমন ঘটেছে। রাত্রি শেষে নেমে এসেছে দিনের ঝলমলে আলোক উৎসব।। রুমি আজ ফজরের নামাজ শেষ করেই বারান্দায় দাঁড়ালো। শুভে সাদিক দেখতে তার আগাগোড়া ভালো লাগে।। সকালের স্নিগ্ধ বাতাস মন ছুঁয়ে যায়।। ধীরে ধীরে আলো ফুটতে শুরু করে।

আজ শুক্রবারের।। ফজরের পর সুরা ইয়াসিন পড়ে দাদুর নামে দোয়া করেছে।। অনেক দিন দাদুর কবরে যাওয়া হয়নি,,,আজ গেলে মন্দ হবে না।

যে ভাবে সেই কাজ,,,মর্নিং ওয়াক ও হয়ে যাবে। আসু কে ডাকলে হয়,,,কিন্তু মেয়েটা ফজর শেষেই কুম্ভকর্ণের মত ঘুমায়।। বাড়ির পুরুষেরা নামাজ শেষ বাড়ি ফিরে এসেছে।। রুমি মাথায় ওড়না টেনে বাড়ির বাহিরে আসে। কবরস্থান বেশি দূরে নয়। পাঁচ থেকে তিন মিনিটের দুরত্ব।।

চারি পাশে পাঁচিলে ঘেরা,,,দুই দিকে বড় বড় গেট। সামনে ফুল গেছে ঘেরা। পাঁচিলের ডিজাইন করা খোপখপ থেকে দূরে সেই কাঙ্ক্ষিত কবর দেখা যাচ্ছে। রুমি ফাতিহা পাঠ করে,,, দোয়া চায় দাদুর জন্য।। কিছুক্ষন দাড়িয়ে চলে আসতে নিলেই দেখে কবরস্থানের গেট থেকে বেরিয়ে আসছে জায়ান। শুভ্র পাঞ্জাবি পাজামা,মাথায় টুপি খুলে ফেলছে। তার দাদুর মাটিও এখানেই দেওয়া।। জায়ান রুমি কে দেখে ভ্রু কুঞ্চিত করে। মেয়েটা কে এই ভাবে দেখবে ভাবেনি হয়তো।। রুমিও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়।। স্থান ত্যাগ করতে নিলেই জায়ান এর ডাকে পা থামে তাও ঘুরে তাকায় না।।

জায়ান রুমির সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলে,,,"এত সকালে এখানে কি!?"

রুমি রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে বলে,,,"দাদুর কবর জিয়ারত করতে এসেছিলাম,,,"

"বুঝলাম,,,কিন্তু এত সকাল সকাল এরকম একা একা ঘোরা ফেরা করা ঠিক না।"

রুমি সরু চোখে তাকিয়ে বলে,,,"এলাকা, পাড়ার মাঝেও নিজের মত চলাচল করতে পারবো না! এটা কেমন কথা!"

"অবশ্যই চলা ফেরা করতে পারবে,,,কিন্তু এই ভাবে একা এত সকালে আসা ঠিক না।"

রুমি ভ্রু নাচিয়ে বলল,,,"আমার ভালো চাইছেন?"

জায়ান ঘন কন্ঠে বলল,,,"খারাপও কখনও চাইনি।"

রুমি এইবার তাচ্ছিল্য হাসলো। জায়ান এর দিকে পূর্ণ দৃষ্টি মেলে আবেগ জড়িয়ে কন্ঠে সুধায়,,,

"আপনি খারাপ চান না,,,আপনি খারাপ করেন।।"

জায়ান সামান্য ঝুঁকে এলো। পুরুষালি দৃঢ় আওয়াজে বললো,,," কি খারাপ করেছি?"

রুমি ও নিজেকে দৃঢ় ব্যক্তিত্বের করে তুলল। ঠিক একই ভঙ্গিমায় জায়ান এর দিকে চেয়ে বলল,,,

"আপনার ইট সিমেন্ট এর তৈরি হৃদয় জায়ান, যেখানে কারোর কষ্ট টোকা দেয় না। আপনার করা খারাপ,,,আপনি যতক্ষন না নিজে উপলব্ধি করতে পারবেন, ততদিন যা ইচ্ছে করে যান কিন্তু মনে রাখবেন একদিন সময় ঘুরবে। সেদিন আপনার জায়গায় আমি আর আমার জায়গায় আপনি দাড়িয়ে থাকবেন।"

জায়ান চুপ করে তাকিয়ে রইলো। রুমি আর দাড়ালো না। ধির কদমে জায়গায় প্রস্থান করে। কেউ দেখে নিলে আবার সমস্যা। চারি পাশে গাছ গাছালি দুষ্টু ঝাপটা হাওয়ায় শো শো শব্দ হলো। পাখিরা বাসা ছাড়লো। জায়ান নির্নিমেষ চেয়ে রইলো মেয়েটার যাওয়ার পথে।।

"থাকলাম আমি তোমায় কষ্ট দিয়ে। কষ্ট বুক পোড়ায়,,,সেই আগুনে প্রেম জ্বলে ছাই হয়ে যায়। আমার প্রতি তোমার প্রেমও ছাই হয়ে উড়ে যাক।"

কেউ কি শুনলো জায়ান এর এই মনের কথা। নাহ কেউ শুনলো না,,,জানল না,,,বুঝলো না।।

ক্রমশ

---------------

#জটিল_প্রেম গল্পের লিংক

(সবাই মতামত জানাবেন। বর্তমান গল্প ইনজয় করুন। রাফাজ আর জারিন এর বিষয় ধীরে ধীরে আসবে। আপনাদের মন্তব্য লাইক আমায় অনুপ্রেরণা দেয়।।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন