#crown_of_shadows
#part_3
#sadiya_afrin
{কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ}
উপন্যাস: Crown of Shadows
Part 3
দুপুরের আকাশটা ধীরে ধীরে মেঘে ঢেকে যাচ্ছে।
Mirza Villa-র ভেতরে যেন অদৃশ্য একটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কর্মচারীরা একের পর এক খাবার সাজাচ্ছে, যমজরা বারবার gate পর্যন্ত দৌড়ে যাচ্ছে, আর আয়ান প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর মোবাইল চেক করছে।
নাইরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। তার সামনে বিস্তৃত বাগান, দূরে গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা security guard-রা, আর তার মাথার ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে একটা নাম—
আরিশ ইহান মির্জা।
সে বিরক্ত হয়ে নিজের চুলে হাত চালাল।
— “Seriously, Naira? এত ভাবার কী আছে?”
ঠিক তখনই নিচ থেকে আয়ানের চিৎকার ভেসে এল—
— “আপু! গাড়ি ঢুকছে!”
নাইরার বুকের ভেতরটা অকারণে কেঁপে উঠল।
সে দ্রুত নিচে নামল।
ড্রয়িংরুমের সামনে সবাই জড়ো হয়েছে। শাহরিয়ার মির্জা উঠে দাঁড়িয়েছেন, ফারহান মির্জার চোখে স্পষ্ট আনন্দ, আর জায়ান ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
গেট খুলে কালো SUV-টা ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল।
গাড়ি থামতেই কয়েক সেকেন্ড যেন পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
ড্রাইভার দরজা খুলল।
প্রথমে দেখা গেল কালো formal shoes।
তারপর ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামল একজন লম্বা, সুগঠিত যুবক।
কালো শার্ট, charcoal grey blazer, হাতে ঘড়ি, চোখে ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
নাইরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল।
এটাই ইহান?
ছোটবেলার সেই রাগী ছেলেটার সঙ্গে এই মানুষটার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।
ইহান প্রথমে বাবার দিকে এগিয়ে গেল।
— “Assalamu Alaikum, Baba.”
ফারহান মির্জা ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন।
— “ওয়ালাইকুম আসসালাম। Finally home.”
তারপর সে একে একে সবার সঙ্গে দেখা করল।
আয়ান গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল—
— “ইহান ভাইয়া! Australia আপনাকে এত serious বানিয়ে ফেলেছে নাকি?”
ইহান হালকা হাসল।
— “তুই এখনও আগের মতোই বকবক করিস।”
জায়ান এগিয়ে এসে তার কাঁধে চাপড় দিল।
— “Welcome back, barrister saab.”
— “CEO সাহেব এখনও মানুষকে bossing করা বন্ধ করিসনি বুঝি?”
— “Impossible.”
সবাই হেসে উঠল।
নাইরা একটু পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল।
ইহানের দৃষ্টি হঠাৎ তার ওপর এসে থামল।
দুজনের চোখ এক মুহূর্তে আটকে গেল।
সময় যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য ধীর হয়ে গেল।
ইহানের চোখে স্পষ্ট বিস্ময়।
সে ধীরে ধীরে বলল—
— “নাইরা?”
নাইরাও তাকিয়ে রইল।
তার ঠোঁট থেকে আস্তে বের হলো—
— “ইহান ভাইয়া…”
জায়ান পাশে দাঁড়িয়ে মুখ চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে।
আয়ান ফিসফিস করে বলল—
— “Finally, the legends meet.”
নাইরা সেটা শুনে আয়ানকে চোখ রাঙাল।
ইহান কয়েক সেকেন্ড তাকে দেখেই রইল।
তার মনে পড়ছে ছোট্ট একটা মেয়েকে—দুটি বেণী করা, সারাক্ষণ ঝগড়া করা, আর সবসময় তাকে “রাগী ভাইয়া” বলা সেই বাচ্চাটাকে।
কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা সম্পূর্ণ আলাদা।
আত্মবিশ্বাসী।
শান্ত।
অদ্ভুত সুন্দর।
ইহান নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল—
— “চিনতে একটু সময় লাগল।”
নাইরা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল—
— “আমারও।”
— “ভালোই হয়েছে। অন্তত এখন আর আমাকে দেখে কাঁদিস না।”
নাইরা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করল—
— “আমি কখন কেঁদেছিলাম?”
জায়ান হেসে বলল—
— “ওহ, শুরু হয়ে গেছে।”
শাহরিয়ার মির্জা মাথা নেড়ে মৃদু হাসলেন।
— “তোদের ঝগড়া শুনতে শুনতেই মনে হচ্ছে বাড়িটা সত্যিই আগের মতো হয়ে গেছে।”
আফরোজা মির্জা বললেন—
— “আচ্ছা, সবাই দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি? আগে ভেতরে আসো।”
সবাই ড্রয়িংরুমে ঢুকে গেল।
নাইরা হাঁটতে হাঁটতে টের পেল, ইহান তার পাশ দিয়েই হাঁটছে।
কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।
তারপর ইহান নিচু গলায় বলল—
— “London কেমন ছিল?”
নাইরা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।
— “ভালো।”
— “বাংলাদেশে ফিরতে ইচ্ছা করত?”
নাইরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
— “মাঝে মাঝে… খুব করত।”
ইহান আর কিছু বলল না।
কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে খুব হালকা একটা হাসি ফুটে উঠল।
আর নাইরা অদ্ভুতভাবে বুঝতে পারল—
চৌদ্দ বছরের দূরত্ব হয়তো এত সহজে মুছে যায় না… কিন্তু তাদের গল্পটা আবার শুরু হয়ে গেছে।
চলবে...