ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের আলোড়ন

৪র্থ পর্ব

লেখক: এমডি সুহান জয়

গল্প: প্রেমের আলোড়ন

লেখক:এমডি সুহান জয়

পেজ: Midnight Tales by Joy

পর্ব: ৪

[বিশেষ দ্রষ্টব্য-“এই গল্পটি মূলত গভীর প্রণয় ও সূক্ষ্ম জীবনবোধের এক অনন্য সংমিশ্রণ। এখানে যেমন ফুটে উঠেছে হৃদয়ের তীব্র রোমান্টিক অনুভূতি, তেমনি সমান্তরালভাবে উঠে এসেছে কঠোর সামাজিক বাস্তবতা এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও নিরন্তর সংগ্রামের চিত্র। আশা করি, অনুভূতির এই বিচিত্র রঙ আপনাদের স্পর্শ করে যাবে।“]

সুহানা একনাগাড়ে কল করে যাচ্ছে তুহিনাকে, বিরক্ত লাগছে তার!

শেষমেশ ফোনটা দুম করে বিছানায় ফেলে দিল সুহানা। বেজায় বিরক্ত সে। তুহিনা কিছুতেই ফোন তুলছিল না!

কিছুক্ষণ পরই অবশ্য তুহিনা কল ব্যাক করল।

—“হ্যালো।”

—“কোথায় থাকো তুমি? এতবার ফোন করছি, ধরছ না কেন?” —সুহানার কণ্ঠে স্পষ্ট বিরক্তির আভাস পেল তুহিনা।

তুহিনা নিচু কণ্ঠে বলল, —“আমি ভেবেছি ‘লাল গরু’ ফোন করেছে।”

এমন অদ্ভুত উত্তর শুনে সুহানার ভুরু কুঁচকে গেল। তার সন্দেহ হলো— দুঃখে-শোকে আবার নেশা-টেসা করেনি তো?

—“লাল গরু?”

—“আরে, আফ্রিদি!”

সুহানা হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারল না। এ কেমন নাম? মানুষ ভালোবাসলে কি সত্যি এমন ছিটেল ধরনের হয়ে যায়? নিজের আলতু-ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে সে বলল,

—“এখনও রাগ করে আছ?”

—“না।”

—“কথা বলেছ?”

—“না।”

—“কেন?”

—“এমনি।”

—“এমনি কেন?”

—“অন্য কথা বলবি, নাকি রাখব? আমার মাথা গরম করিস না। ও একটা ইউজলেস!”

—“অমন বলো না। দেশের জন্য কিন্তু অনেক ইউজফুল।”

—“আমি রাখলাম।”

—“না, না, শোনো! কাল বিকেলে ফাঁকা আছ তুমি?”

—“কেন?”

—“আমি ফাঁকা আছি, কাল আমার কোনো কাজ নেই। এমনিতেই স্যাটারডে, কোথাও ঘুরতে গেলে হয় না?”

তুহিনা ভাবল একটু। সুহানা কোনো কিছু আবদার করে না তার কাছে কোনোদিন, তার মুডটাও ভালো নয়, তাই যাওয়া যায়— মন ভালো হবে।

—“চল তবে। কোথায় যাবি বল?”

—“ইংলিশ গার্ডেনে যাবে?”

—“লোকের প্রেম দেখতে যাবি ওখানে?”

—“হ্যাঁ, তো কী হয়েছে? করতে পারিনি, দেখতে কিসের মানা?”

দুজনেই হেসে ফেলল।

—“চল।

—“ওকে।”

এরপর টুকটাক কথা বলে সুহানা ফোন কেটে দিল। এদিকে ফিনা বসে বসে জাহিরের দেওয়া চকলেট খাচ্ছে।

ফিনা সুহানার দিকে একটা বাইট এগিয়ে দিয়ে বলল, —“একটা খা।”

সুহানা ফোন খোঁচাতে খোঁচাতে বলল, —“না, তুই খা।”

ফিনা চিবোতে চিবোতে বলল, —“একটা খা প্লিজ। নাহলে MJ কষ্ট পাবে।”

—“তাই? খাবো বলছিস?”

ফিনা মাথা দোলাল, —“হুম।”

—“তবে দে, সবগুলো আমায় দিয়েছে, তুই খাচ্ছিস কেন? আমায় দে সবগুলো!” বলেই হাত বাড়াল সুহানা।

ফিনা দ্রুত সরিয়ে নিল, —“না, না, থাক, আমি খাই। তোকে খেতে হবে না।”

ফিনা আর কিছু বলল না— যদি সত্যি সত্যি সুহানা নিয়ে নেয়! ওর ইচ্ছে হলে খাবে, না হলে না খাবে, তাতে তার কী? সে নিজের ফায়দা আগে দেখবে, আর এত টেস্টি চকলেট সে কোনোভাবেই ছাড়বে না।

এদিকে জাহির বাড়ি ফিরেছে প্রায় এক ঘণ্টা হলো। আফ্রিদিকে সে সব ঘটনা জানিয়েছে। আফ্রিদি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আজকেই সাবেরা বেগম আর জাহাঙ্গীর সাহেবকে জানাবে— সে আইডিয়া অবশ্য জাহির দিয়েছে।

এখন দুজন দাঁড়িয়ে আছে তাদের কক্ষের সামনে। একে অপরকে ঠেলছে— কে আগে ভেতরে যাবে!

আফ্রিদি জাহিরকে এগিয়ে দিয়ে বলল, —“তুই যা আগে!”

জাহির খিটমিট করে বলে উঠল, —“কেন? আমি বিয়ে করব?”

আফ্রিদি জাহিরের দিকে আঙুল তুলে নিজের নাটক শুরু করল, —“আমার জন্য এইটুকুও পারবি না তুই? ছি ছি!”

জাহির এবার আস্তে করে বলল, —“মা একা হলে ব্যাপার আলাদা ছিল। তুই তো জানিস, আমার বাপকে দেখলে আমার হাঁটু কাঁপে!”

আফ্রিদি দাঁতে পিষে বলল, —“বা*ল কাঁপে তোমার! শালা নাটক মারাস তুই—”

জাহির তেড়ে এলো আফ্রিদির দিকে, শুরু হলো ঠেলাঠেলি। দুইজনের ঝগড়ার মাঝেই সাবেরা দরজা খুলে বাইরে এলেন। মূলত তাদের আওয়াজ শুনেই তিনি এসেছেন। মাকে দেখে জাহির থেমে গেল, তাকে থামতে দেখে আফ্রিদিও চুপ হয়ে গেল।

সাবেরা চোখ রাঙালেন ছেলেকে, —“কী ব্যাপার? দুইজন ঝগড়া করছিস কেন?”

জাহির মায়ের কাছে এগিয়ে গেল, —“মা, তোমার পিয়্যারে ভাইপো তোমাদের কিছু জানাতে চায়।”

আফ্রিদি চুপ করে আছে। জাহির তাকে চোখের ইশারা করছে। দুইজনের মতিগতি দেখে সাবেরা তাদের ভেতরে ডাকলেন।

—“বাইরে না দাঁড়িয়ে ভেতরে আয়, তোর ফুফাও আছে...”

বাবার নাম শুনেই জাহিরের গলা শুকিয়ে গেল। আবার ভাবল, সে কেন ভয় পাচ্ছে? সে তো কিছু করেনি, যে প্রেম করেছে সে বুঝুক, এখানে তার কোনো দোষ নেই, সে নির্দোষ।

আফ্রিদি উল্টো ঘুরে দৌড় দেবে, তার আগেই জাহির তাকে ধরে টেনে নিয়ে গেল ভেতরে। জাহাঙ্গীর সাহেব বসে নিউজ দেখছিলেন। দুজনকে ভেতরে আসতে দেখে তিনি সাবেরাকে প্রশ্ন করলেন—“কী গিন্নি? দুই বাঁদর একসাথে এখানে?”

—“আফ্রিদি কী জানি বলবে আমাকে আর তোমাকে, তাই।”

—“ওহ্। তা বল কী বলবি।”

আফ্রিদি আমতা আমতা করতে লাগল, —“আসলে... না, না, তেমন দরকারি কিছু না।”

জাহির আফ্রিদির মতিগতি বুঝতে পেরে চট করে বলে দিল, —“আফ্রিদি বিয়ে করতে চায় আব্বা, ও একজনকে ভালোবাসে।”

তিনজন একসাথে ধাক্কা খেল! নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না জাহাঙ্গীর সাহেব আর সাবেরা জাহান। একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছেন তারা— যা শুনলেন তা কি সত্যি!

আফ্রিদির গা-হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে। এই বুঝি সে উল্টে পড়বে মেঝেতে!

জাহাঙ্গীর সাহেব ভালো করে আফ্রিদির চেহারা লক্ষ্য করলেন, তারপর ডাক দিলেন, —“এই দিকে আসো।”

‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে আসতেই আফ্রিদি সত্যি সত্যি ধুম করে উল্টে গেল মেঝেতে! ভয়ে বেচারা জ্ঞান হারিয়েছে।

জাহির একভাবে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। সে বুঝল না, কী হলো হঠাৎ করে! জাহাঙ্গীর সাহেব বেড থেকে দ্রুত নেমে এলেন। সাবেরা পাশেই ছিলেন, তিনি জাহিরকে ডাকছেন, —“এই জাহির... কী হলো ওর? দ্রুত ওকে বেডে শুইয়ে দে... এই জাহির!”

সাবেরার ডাকে জাহিরের ধ্যান ভাঙল, —“হ্যাঁ, হ্যাঁ!”

জাহির পাঁজা-কোলা করে আফ্রিদিকে আস্তে করে বেডে শুইয়ে দিল। জাহাঙ্গীর সাহেব ডাক্তারকে কল করে আসতে বললেন।

—“কী হয়েছে ছেলেটার? এমন করছে কেন ও?” সাবেরা জিজ্ঞাসা করলেন।

—“মা..., মেয়েটি আমাদের ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, হিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে স্টাডি করছে, আমাদের চেনা ফ্রেন্ড সার্কেলের একজন। অনেক দিন ধরেই চলছে, এখন ওর বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে, তাই জন্য আফ্রিদি...” —জাহির আস্তে আস্তে সব কথা খুলে বলল।

জাহাঙ্গীর সাহেব সব কথা শুনলেন, মেয়েটির ফটো দেখলেন। কিছুক্ষণ ভাবলেন কিছু একটা। জাহির সাবেরার দিকে করুণ চোখে চাইল, সাবেরা চোখে ভরসা দিলেন— কিছু হবে না, সে আছে তো!

তিনি আফ্রিদির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। ছোটো থেকে নিজের ছেলের মতো বড় করেছেন, ভাইয়ের ছেলে বলে কোনোদিন দুজনের মধ্যে তফাত করেননি। সাবেরা বেগম জাহাঙ্গীর সাহেবের উদ্দেশ্যে বললেন, —“কী হলো? কী ভাবছ এত?”

জাহাঙ্গীর সাহেব জাহিরকে প্রশ্ন করলেন, —“তোমাদের ফ্লাইট কবে?”

—“এখনও সতেরো দিন বাকি।”

—“আচ্ছা। কালকে তোমরা কথা বলো মেয়েটির সাথে। সে রাজি হলে তবে আমি কথা বলব তার ফ্যামিলির সাথে। জ্ঞান ফেরার পরে ওই গাধাটাকেও জানিয়ে দিও। বিয়ের কথা বলতে গিয়েই এই অবস্থা, না জানি করার পরে কী করে! সত্যি, সুন্দরী মেয়েরা এমন গাধাদের প্রেমেই পড়ে।”

জাহির আর কিছু বলল না, একটা বড় পয়েন্ট পেল আফ্রিদিকে পচানোর। কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার এসে আফ্রিদির চেকআপ করে গেলেন, পুরো বাড়িতে কথা ছড়িয়ে গেল। রুহানি সেই থেকেই আফ্রিদিকে পচানি দিচ্ছে, আফ্রিদি চুপ করে আছে— লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে তার।

_______

পরের দিন বিকেলে জাহির আর আফ্রিদি দাঁড়িয়ে আছে ইংলিশ গার্ডেনের সামনে। দুইজনই ব্ল্যাক হুডি পরেছে। এই নিয়ে গাড়িতে একচোট তর্কও চলেছে তাদের। জাহির ব্ল্যাক হুডির সাথে ব্ল্যাক জিন্স আর হোয়াইট স্নিকার্স পরেছে। আফ্রিদি পরেছে ব্যাগি প্যান্ট। দুইজনই মুখে মাস্ক দিয়ে রেখেছে।

জাহির একবার হাতঘড়ি দেখল— ৪:৫৬ বাজে। আশেপাশে লোকজনের ভিড় বাড়ছে, আস্তে করে হুডির টুপি পরে নিল— পাছে কেউ দেখে ফেললে সব ওলট-পালট হয়ে যাবে। বড় চুলগুলো চোখের ওপরে পড়েছে, বাদামি বর্ণের চোখগুলো আকর্ষণীয় লাগে, মুখের গঠনের সাথে বেশ মানানসই। মেয়েরা ঘুরেফিরে তাকেই দেখছে, কিন্তু তার চোখ অন্য কিছুর অপেক্ষায় আছে। কেন? তার উত্তর তো সে নিজেই জানে না। কাল থেকে একজনের কথা বারবার মনে পড়ছে তার, কোনোদিন নারীঘটিত কোনো জিনিসে ইন্টারেস্ট ছিল না তার, তবে আজকাল কিছু একটা পরিবর্তন হয়েছে।

জাহির কাল থেকে ওই বিষয় নিয়ে আফ্রিদিকে পচাচ্ছে, —“বিয়ের কথা বলতে গিয়ে বেহুশ হয়ে গেলি শালা? তবে বাসর রাতে কী হবে? বউকে অপেক্ষায় রেখে উমা...”

আফ্রিদির মনে এখন একটা প্রশ্ন: গণ্ডগোল পাকাল জাহির, মার খেল এমিলিয়া, থাপড়াল সুহানা, আর সব দোষ পড়ল তার ঘাড়ে! রাগ করল তার ‘তোতাপাখি’, এখানে তার দোষ কী?

আফ্রিদি করুণ স্বরে বলল, —“এখানে দোষটা কোথায় আমার, ভাই?”

জাহির দাঁত কেলিয়ে একটি গা-জ্বালানো হাসি দিয়ে বলল, —“তুই আমার ভাই আমার জিগার কে বান্ধব— এটাই তো দোষ।”

কথা শেষ করার আগেই ধুম করে একটা কিল বসিয়ে দিল আফ্রিদি জাহিরের পেটে। তীব্র ব্যথায় হাত দিয়ে পেট চেপে ধরে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল জাহির, —“ইউ...”

কারও আগমনে সে চুপ হয়ে গেল। মাথা তুলে দেখল— সুহানা আর তুহিনা।

সুহানা সাদা রঙের একটি টপ পরেছে, ওপরে একটি গোলাপি ও সাদা চেকের ওভারশার্ট। শার্টটি কাঁধের ওপর দিয়ে আলগা করে বোতাম খোলা। নিচে পরেছে ক্লাসিক, মিড-ওয়াশড ডেনিমের জিন্স, যা তার শারীরিক গঠনকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করছে। পায়ে হোয়াইট স্নিকার্স। চুলগুলোকে আলগাভাবে মেসি বান করা, যার জন্য কিছু চুল কপাল ও কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। চোখে সেই কালো চশমা, যার আড়ালে দুটো কোঁচকানো ভুরু সহিত চোখ তার দিকেই নিক্ষেপ করা আছে।

জাহির উঠে দাঁড়াল, ঝেড়ে নিল পরনের পোশাকখানা। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সুহানাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত স্ক্যান করল। গভীর ঘোর লাগা নজরে সে সুহানার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে দৃষ্টি আটকে রাখল।

—“৩৪-২৬-৩৪, পারফেক্ট ফিগার।” —বিড়বিড় করে বলল সে। কেউ শুনল না সেটা, দেখল না তার বেহায়া নজর কোথায় গিয়ে থেমেছে।

সুহানাকে দেখার শেষে সে একটি সুন্দর হাসি দিল, যা মাস্কের জন্য সুহানা বুঝল না।

অন্যদিকে আফ্রিদিকে দেখা মাত্রই তুহিনা উল্টো ঘুরে চলে যাচ্ছিল, সুহানা হাত ধরে তাকে থামাল।

—“তুই সব প্ল্যানিং করে আমাকে এখানে এনেছিস, তাই না?” —তুহিনা ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল।

—“শোনো তো! এখানে ওনার তো কোনো দোষ নেই, তাই না? তবে তুমি এমন করছ কেন?”

—“ওর দোষ নেই— এটা তুই বলছিস?”

—“সত্যি নেই! ছিল না তো। দূর থেকে দেখছিল, আমার কাছে আসার আগেই তাকে থামিয়ে দিয়েছে। আর আমাকে তো চেনে না, তাই না! আর ওখানে পরিস্থিতি অন্য ছিল, ছেলে-মেয়ে বিষয় নয়, ঘটনা অন্যরকম ছিল। তোমাকে আমি কীভাবে বোঝাই বলো তো? ওই মেয়েটি সব করেছিল, এতে ওদের কোনো হাত নেই, ওরা কিছু করেনি, যা করেছে পরিস্থিতির চাপে পড়ে।”

আফ্রিদি এমন মিথ্যে শুনে নিজেই হাঁ হয়ে গেছে। তবে মনে মনে সুহানাকে ধন্যবাদ দিল। সব মিথ্যে শোনার পরে তুহিনা কিছুটা শান্ত হলো।

সে একটি সাদা রঙের মিড-লেংথ ফ্রক পরেছে। কাঁধ পর্যন্ত কাটিং চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া। চোখে বড় করে আইলাইনার দিয়েছে, ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক। দারুণ সুন্দর দেখাচ্ছে তাকে।

আফ্রিদি একটু এগিয়ে এলো তুহিনার দিকে। কানে কানে ফিসফিস করে বলল, —“ভীষণ সুন্দর লাগছে, তোতাপাখি।”

তুহিনা রেগে থাকলেও একটু লজ্জা পেল, তবে তা বুঝতে দিল না। আফ্রিদি তুহিনার কোমরে হাত দিয়ে নিজের কাছে টেনে আনল, কানের কাছে ঝুঁকে বলল, —“এমন লজ্জা পায় না জান, বিয়ের আগে তুলে নিয়ে বাসর সেরে ফেলব।”

তুহিনা মাথা নামিয়ে নিল। এর উত্তরে কী বলবে? রাগ গলে যাচ্ছে তার, আবার আগের মতো হয়ে যাচ্ছে সে, গালগুলো লাল হয়ে গেছে তার।

সুহানা একটু সরে গেল ওদের থেকে। আফ্রিদি সুহানার দিকে তাকাল, দুজনের চোখাচোখি হতেই সুহানা চোখ টিপ দিল।

আফ্রিদি হেসে ফেলল, তবে তুহিনার আড়ালে। আগে আফ্রিদি আর তুহিনা, আর পেছনে জাহির আর সুহানা হাঁটছে। জাহির না চাইতেও বারবার সুহানাকে স্ক্যান করছে। কয়েকটি ছেলে সুহানাকে দেখছিল একটু আগে। তার খুব রাগ হচ্ছিল, তবে কিছু বলতে পারেনি— একটা ঝলক তাকিয়েছে তাদের দিকে, ব্যাস! সবাই সরে গেছে ওখান থেকে, তবে সুহানার আড়ালে— পাছে সুহানা আবার কী ভাবে তার বিষয়ে!

লেকের সামনে দুটো বেঞ্চে বসেছে তারা। ইংলিশ গার্ডেনে দেখার মতো জিনিস বলতে এই লেকটা। ছোটো সবুজ ঘাস আর বড় বড় ব্লসম গাছে ঘেরা এই লেকে মানুষ বিশেষ করে প্রেম করতেই আসে, আবার কয়েকটা এমনিও আসে কাপলদের টিজ করতে।

আফ্রিদি এখনও তুহিনাকে মানাচ্ছে। জাহির আর সুহানা বিরক্ত হয়ে ওদের দিকে চেয়ে আছে। সুহানার এবার মনে হচ্ছে, দিদি একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছে, এত লুতুপুতুর কী আছে— বুঝল না সে।

জাহির কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সুহানাকে উদ্দেশ্য করে বলল, —“এই মিস ছআনা, তুমি এত বোরিং কেন?”

সুহানা পাশ ফিরে তাকাল জাহিরের দিকে, —“এই মিস্টার Otter, আপনার আমাকে কোন দিক থেকে বোরিং মনে হলো?”

জাহির বোধহয় মজা পেল, সুহানাকে আর একটু ক্ষেপানোর জন্য বলল, —“ওই যে পাশে একটা হ্যান্ডসাম ছেলে বসে আছে, সেই দিকে তোমার খেয়াল নেই।”

—“কোথায়? কোথায়? আমাকে দেখান সে কি! কোথায় সে?”

জাহির নিজের দিকে আঙুল নির্দেশ করে দেখাল, —“এই যে!”

—“ধুর! ঘোড়ার ডিমের মতো দেখতে, আবার হ্যান্ডসাম! ছ্যা!”

জাহির অবাক না হয়ে পারল না, —“কী বলে এই মেয়ে? আমার মতো ছেলেকে? ছি ছি!”

—“এই বেয়াইন! সম্মান দিয়ে কথা বলো। বয়সে আমি তোমার বড়ো।”

—“তবে ছোটদেরকেও সম্মান দিন, বুড়ো বেয়াইন সাহেব।”

—“তাই!”

চলবে......

{“এই গল্পের সমস্ত চরিত্র, ঘটনা এবং কাল সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তব কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার সাথে এর কোনো মিল থাকলে তা নিতান্তই কাকতালীয় বলে গণ্য হবে। গল্পের প্রয়োজনে সৃষ্ট কোনো পরিস্থিতিকে বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে না নেওয়ার অনুরোধ রইল। এছাড়া, অনিচ্ছাকৃত কোনো বানান ভুলের জন্য অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আশা করি, আপনারা গল্পের মূল ভাবাবেগটুকুই গ্রহণ করবেন”}

)

Enjoy your reading 🎀

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন