ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের আলোড়ন

১৩তম পর্ব

লেখক: এমডি সুহান জয়

গল্প: প্রেমের আলোড়ন

লেখক: সুহানা জয়

পর্ব:১৩

(Note – এটি একটি প্রণয় ও জীবনবোধের মিশ্রণ সম্বলিত গল্প। যেখানে রোম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।)

মাঝে কেটেছে অনেক দিন, সেই দিনের পর আর দেখা বা কথা হয়নি সুহানার সাথে জাহির আফ্রিদির। সুহানার দিনলিপি আমূল বদলে গেছে। হোস্টেলের পাট চুকিয়ে সে আর ফিনা এখন রেস্টুরেন্টের ওপরের একটা ছোট্ট ছিমছাম ঘরটিতে থাকে। সামনেই ফাইনাল পরীক্ষা, তাই গত ১৫ দিন সুহানা এক প্রকার ‘ডিজিটাল ডিটক্স’-এ আছে। বাইরের জগতের সাথে তার সংযোগ বলতে কেবল তার বইয়ের স্তূপ।

আজ রাতের ম্যাচটি লিগের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচ। আগের দুটো ম্যাচে জাহির আর আফ্রিদির পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে স্ট্রাইকার হিসেবে জাহির এখন টক অফ কান্ট্রি দেশের অন্যতম Youngest Player হিসেবে তার ক্ষিপ্রতা আর গোল করার শৈলী তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছে। ইয়াং জেনারেশন এখন তাকে নিজেদের আইডল মানছে, আর সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েদের ‘ক্রাশ লিস্টে’ তার নাম এখন এক নম্বরে। জাহির যেন এক উড়ন্ত ঈগল, যাকে ছোঁয়া এখন অনেকের কাছেই স্বপ্ন। সুহানা খবরে চোখ না রাখলেও ফিনা নামক নেটওয়ার্ক থেকে সব ইনফরমেশন পেয়ে যায়।

রাত তখন এগারোটা ছুঁইছুঁই। চারপাশ নিস্তব্ধ। টেবিল ল্যাম্পের মৃদু আলোয় সুহানা যখন জটিল এক সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত, তখনই নিস্তব্ধতা ভেঙে বেজে উঠল তার ফোন। অচেনা নম্বর দেখে দুবার কেটে দিলেও তৃতীয়বার কল আসতেই রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো এক আর্তনাদ— চেনা কণ্ঠস্বর!

“ফিনা!”— সুহানার মুখ দিয়ে শুধু এই একটি শব্দই বের হলো। পরক্ষণেই ওপাশ থেকে লাইনটা কেটে গেল। বারবার চেষ্টা করেও নম্বরটি আর পাওয়া গেল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠল একটি মেসেজে। সেখানে শুধু একটি ঠিকানা লেখা আর নিচে দেওয়া এক চরম হুঁশিয়ারি: “ এসে নিয়ে যা।”

সুহানার মস্তিষ্ক দ্রুত কাজ করতে শুরু করল। সে কিছুটা অনুমান করতে পারল তবে এখন পেরে কি লাভ আগে থেকে তার এলার্ট থাকা উচিত ছিল, এই ঠিকানাটা শহরের শেষ প্রান্তে একটা ছোট ঢিবিমতো আছে দেখে ছোটোখাটো একটা পাহাড় মনে হবে, সেখানে সবসময় কিছু না কিছুই ঘটতেই থাকে তাই সেখানে যাওয়া নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, এখন সেটি‘ডেঞ্জার যোন ’ হিসেবে পরিচিত । যেখানে রাতের আঁধারে কেউ যাওয়ার সাহস করে না। ফিনা কিছুক্ষণ আগেই নিচে গিয়েছিল কফি আনতে, কিন্তু এত অল্প সময়ে সে সেখানে পৌঁছাল কী করে? বাইরে বেরিয়েছিল কেনো ?

চিন্তা করার মতো পর্যাপ্ত সময় হাতে নেই। সুহানা দ্রুত তার ড্রয়ার থেকে নিজের লকেট টা বার করে গলায়ে ঝুলিয়ে নিলো। ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে সব জায়গা একবার খুঁজে দেখলো ফিনা নেই। আর দেরি করলো না বাকি ষ্টাফ দের কড়া গলায় নির্দেশ দিল, “আমি না আসা পর্যন্ত রেস্টুরেন্টের মেইন গেট আর কলাপসিবল ডোর সব ভেতর থেকে লক করে দাও। কেউ ডাকলে দরজা খুলবে না।”

কেউ কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সুহানা তার স্কুটির চাবি ঘুরিয়ে স্টার্ট দিল। রাতের নির্জন রাস্তা চিরে স্কুটি ছুটে চলল সেই অন্ধকার পাহাড়ের দিকে। কনকনে ঠান্ডা হাওয়া তার চোখেমুখে এসে বিঁধছে, কিন্তু সুহানার সমস্ত মনোযোগ এখন সামনের দিকে।

শহরের আলোগুলো পেছনে ফেলে সুহানা যখন নির্জন পথ ধরল, কুয়াশার চাদর তখন আরও ঘন হয়েছে। গায়ে একটি সাদা ক্রপ টপ আর কালো প্যান্ট, পায়ে অতি সাধারণ স্লিপারস ঘরে হিটার ছিল বিধায় ঠান্ডা অনুভব হয়নি এখন বুঝতে পারছে সোয়েটার না পরার ফল। দ্রুত চালানোর কারণে হিমেল হাওয়া চশমার কাচে বারবার বাষ্প জমিয়ে দিচ্ছে, সুহানা এক হাত দিয়ে তা বার বার মুছে যাচ্ছে আর পথ দেখছে। হাইওয়ে থেকে বা দিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে এটা আউটসাইড, চারপাশটা কবরের মতো নিস্তব্ধ। দূরে একটি ল্যাম্পপোস্ট টিমটিম করে জ্বলছে, যা অন্ধকারের গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো পশুপাখির ডাক নেই, কেবল নিজের হৃদপিণ্ডের ধড়ফড়ানি শুনতে পাচ্ছে সুহানা।

কিছুদূর যেতেই তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠল; কিছু খারাপ ঘটবে—তার মন বারবার এই সতর্কবার্তা দিচ্ছে। আচমকা একটি গাড়ি তার পিছে চলে এল। হেডলাইট অফ করে রাখা, তবে ইঞ্জিনের গোঁ গোঁ শব্দ শোনা যাচ্ছে। লুকিং গ্লাসে সুহানা দেখল গাড়িগুলো খুব জোরে তার দিকেই আসছে। সুহানা সুযোগ বুঝে গতি বাড়িয়ে দিল এবং রাস্তার সাইডে চেপে গেল। কিন্তু তার মন এখন অন্য কিছু বলছে; তার মতে এটা একটা ট্র্যাপ ছিল, যেটাতে সে ভীষণ সহজে ধরা দিয়েছে।

আচমকা সেই অচেনা নম্বর থেকে আবার কল এল। ফোন টা রিসিভ করলো কোনো মতে সুহানা স্পিকারে দিলো, ওপাশ থেকে শুধু একটি কর্কশ নির্দেশ ভেসে এল— “কি রে নর্দমার কিট? খুব লাফালাফি তোর, তাই না? জা*নো*য়া*রের বা*চ্চা, এবার দেখ তোর কি হালত করি। জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ!”

সুহানা কিছু ভাবার সময় পেল না, দেরি হয়ে গেছে অলরেডি। অন্ধকারের বুক চিরে সামনে থেকে আসা গাড়িটা কালান্তক এক দানবের মতো ধেয়ে এল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচণ্ড এক ধাক্কায় সুহানার পৃথিবীটা ওলটপালট হয়ে গেল। শরীরটা বাতাসের পুতুলের মতো ছিটকে গিয়ে পড়ল অনেকটা দূরে। তার প্রিয় স্কুটিটা একপাশে দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার ধারের একটা বড় গাছের ওপর আছড়ে পড়ল—ধাতব যন্ত্রণার এক বিকট শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো নির্জন পাহাড়ে।

সুহানা ছিটকে পড়ল পাকা রাস্তার পাশের ঘাসে ভরা নিচু জমিতে। ‘ধুপ’ করে একটা ভারী শব্দ হলো, আর পরক্ষণেই সব নিস্তব্ধ। সেই শান্ত ঘাসের সবুজ রং চোখের পলকে সুহানার তপ্ত রক্তে লাল বর্ণ ধারণ করল। শরীরের প্রতিটি হাড় যেন একযোগে বিদ্রোহ করে উঠল। সুহানা এক মুহূর্তের জন্য তীব্র, অসহ্য এক যন্ত্রণার ঢেউ অনুভব করল; মনে হলো কলিজাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেই যন্ত্রণার কথা চিৎকার করে জানানোর মতো জোরটুকুও তার গলায় অবশিষ্ট নেই।

কুয়াশা আর অন্ধকারের মাঝে সুহানা আধবোজা চোখে দেখল, তাকে আঘাত করা গাড়ি দুটো থেমেছে। হেডলাইটের তীব্র আলো এখন স্থির, যা কুয়াশার বুক চিরে সুহানার নিথর দেহের ওপর এসে পড়ছে। গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার শব্দ হলো। এরপর চারপাশটা আবার সেই কবরের মতো নিস্তব্ধতায় ডুবে গেল।

সুহানার ঝাপসা হয়ে আসা দৃষ্টির সামনে এখন কেবল রক্তমাখা ঘাস আর আকাশের অন্ধকার। কানে খুব অস্পষ্টভাবে ভারী বুটের শব্দ ভেসে আসছে, কয়েকজন গাড়ি থেকে নেমে তার দিকেই এগিয়ে আসছে। সুহানা হাতটা একটু নাড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু শরীর তার অবাধ্য।

কিছুক্ষন আগে:- টানা পড়াশোনায় ফিনার মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। এক কাপ কড়া কফি খেলে হয়তো শরীরটা চাঙ্গা হবে ভেবে সে নিচে গেল। নিচে তখন রেস্টুরেন্টে কাজ করা আরও চারজন মেয়ে আড্ডা দিচ্ছিল, যারা রাতেই এখানে থাকে। ফিনা নিচে যেতেই তাদের সঙ্গে হালকা গল্পের আসর জমে উঠল। চুলায় কফি বসিয়ে দিয়ে সে যখন কফি হওয়ার অপেক্ষা করছিল, ঠিক তখনই তার ফোনে একটা কল এল।

অচেনা নম্বর থেকে ওপাশ থেকে কেবল একটি বাক্য ভেসে এল— “তোমার বান্ধবীকে (সুহানা) কয়েকজন তুলে নিয়ে যাচ্ছে!”

ব্যাস, এই একটা বাক্যই ফিনার জন্য যথেষ্ট ছিল। কফির কথা ভুলে সে পাগলের মতো রেস্টুরেন্টের বাইরে ছুটে এল। কিন্তু রাস্তায় এসে দেখল চারপাশটা ভুতুড়ে নির্জন। সামনের ওয়েডিং হলটা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। আশেপাশে কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কারণে সবাই শাটার নামিয়ে ভেতরে সেঁধিয়ে আছে, বাইরে কেউ নেই।

আশেপাশে সুহানাকে খুঁজে না পেয়ে ফিনার টেনশনে মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিল। সে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে সামনের অন্ধকার রাস্তাটার দিকে দৌড়াতে শুরু করল। ঠিক তখনই আড়াল থেকে ডেনিয়েল বেরিয়ে এল এবং হ্যাঁচকা টানে ফিনাকে একটা গাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে নিল। ডেনিয়েল তার বন্ধুকে ইশারা করতেই গাড়িটা তীব্র গতিতে স্টার্ট দিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে বেরিয়ে গেল।

গাড়ির ভেতর ডেনিয়েলকে দেখেই ফিনার কলিজার পানি শুকিয়ে গেল। সে চিৎকার করার চেষ্টা করল, কিন্তু তার আগেই ডেনিয়েল তার শক্ত হাতে ফিনার মুখ চেপে ধরল।

ডেনিয়েল ফিনার কানের কাছে মুখ এনে বিষাক্ত স্বরে ফিসফিস করে বলল— “তোমায় কিছু করব না ডিয়ার, তুমি শুধু আমাদের সাথে চল। তোমার ওই ‘বেস্টিকে’ জাস্ট একটু টেস্ট করব আর কিছু না। ও খুব বেশি ওপরে উঠে গেছে তো তাই, ওকে একটু মাটিতে নামানো দরকার। টেনশন নিও না, জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ।”

ফিনা কোনো কথা বলতে পারল না, শুধু চোখের জলে তার বুক ভেসে যাচ্ছিল। সে বুঝতে পারল, সে বড্ড বড় ভুল করে ফেলেছে। প্রবাদ আছে না— ‘চিলে কান নিয়েছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়ানো, নিজের কানে হাত দিয়ে না দেখা’—ফিনার অবস্থাও আজ ঠিক তাই হয়েছে।

ফিনা গাড়ির ভেতর ডেনিয়েল এর বহু বন্ধনে আবদ্ধ ছিল। ডেনিয়েল আর রেবেকার এই পৈশাচিক পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপ তার চোখের সামনেই সফল হচ্ছিল। ডেনিয়েল যখন ফিনার ফোন ব্যবহার করে সুহানাকে কল দিয়ে সেই নির্জন পাহাড়ের রাস্তায় ডেকে আনল, ফিনা তখন কেবল মনে মনে প্রার্থনা করছিল যেন সুহানা না আসে। কিন্তু সুহানা এল এই চালাকি তার চতুর মস্তিস্ক ধরতে পারলো না —নিজের প্রাণের বান্ধবীর বিপদের কথা শুনে নিজের জীবনের পরোয়া না করেই ছুটে এল এক বার ঠান্ডা মস্তিষ্কে ভাবলেই হয়তো বুঝতে পারত।

ফিনা দেখল, তাদের গাড়িটা যখন সুহানার পেছনে ছিল তখন অন্য একটি গাড়ি তীব্র আলো জ্বেলে দানবের মতো ধেয়ে এল। সুহানা মাঝরাস্তায় একা, অসহায় আর দুই দিকে যমদূতের মতো দুটো গাড়ি।

মুহূর্তের মধ্যে সেই সামনের গাড়িটি প্রচণ্ড বেগে সুহানার স্কুটিকে ধাক্কা মারল। সেই বিকট শব্দ আর সুহানার ছিটকে যাওয়ার দৃশ্যটি ফিনার হৃদপিণ্ড যেন থামিয়ে দিল। সে আর্তচিৎকার করে উঠল, কিন্তু তার মুখ চাপা দেওয়া ছিল বলে সেই চিৎকার গাড়ির কাঁচ ভেদ করে বাইরে যেতে পারল না। সুহানার শরীরটা যখন রক্তাত্ব অবস্থায় ঘাসের ওপর গিয়ে পড়ল, ফিনা আর সহ্য করতে পারল না। চোখের সামনে প্রিয় বন্ধুর এই অবস্থা দেখে বুকফাটা যন্ত্রণায় তার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে এল; সেই মুহূর্তের মধ্যে সে গাড়ির ভেতরেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।

বর্তমানে: সুহানা নিথর হয়ে রক্তমাখা ঘাসের ওপর পড়ে আছে। রেবেকা তার দামি জুতো দিয়ে সুহানার নিস্তেজ শরীরটাকে ধাক্কা দিচ্ছে, কোনো সাড়াশব্দ নেই ।

ডেনিয়েল হাঁটু গেড়ে বসল সুহানার মাথার কাছে। নাকের কাছে হাত দিয়ে দেখল খুব ধিমে আর ক্ষীণভাবে শ্বাস পড়ছে। ডেনিয়েল চিৎকার করে তার বন্ধু রিফ্টকে বলল, "রিফ্ট! গাড়ি থেকে ফিনাকে নামা। আমাদের দ্রুত বেরোতে হবে। এ যদি মরে যায় তবে বড় ঝামেলা হয়ে যাবে। ড্যাড যেন কোনোভাবেই এসব জানতে না পারে!"

ডেনিয়েলের কথায় রেবেকা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল। হিসহিসিয়ে বলল, "বাঁচিয়ে রাখলে ও আবার আমার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। ওকে শেষ করে দাও ডেন! কই মাছের জান ওর, এত সহজে মরবে না হারা*মির বাচ্চা !"

রিফ্ট রেবেকার কথায় কান না দিয়ে ফিনাকে আনতে গাড়ির দিকে গেল। কিন্তু গিয়ে দেখল ফিনা অলরেডি গাড়ি থেকে নেমে পড়েছে। আধো-অচেতন অবস্থায় টলতে টলতে সে এদিকেই এগিয়ে আসছে। রিফ্ট কোনো কথা না বলে ফিনার হাত শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে এলো ডেনিয়েলের কাছে ।

সুহানার সেই রক্তাক্ত দেহটা দেখে ফিনার বুকটা ছাৎ করে উঠল। সে সমস্ত শক্তি দিয়ে রিফ্টের হাত ছাড়িয়ে পড়ল সুহানার পাশে ধুপ করে বসে পড়ল।

"সুহানা! এই ওঠ... ওঠ না রে! অনেক ব্যথা করছে তোর, তাই না? আমার জন্য হয়েছে সব... সব আমার জন্য!" ফিনার আর্তচিৎকারে বাতাস ভারি হয়ে উঠল, কিন্তু সুহানার কোনো সাড়া নেই।

ডেনিয়েল বিরক্তি নিয়ে রেবেকাকে বলল, "ও মরে গেলে অনেক প্রবলেম হবে । এমনিও তুই বলেছিলি ও যেন এক্সাম দিতে না পারে, আমি সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমার কাজ শেষ। এবার তুই যা, এই ঝামেলা মিটিয়ে আমি আসছি।

রিফ্ট কে উদ্যেশ্য করে বলল –“ রিফ্ট, ওকে নিয়ে যা। আমার গাড়ি নিয়ে যা, আর এই গাড়িটা পুরোনো গ্যারেজে রেখে দেবো আমি । পরে দেখা যাবে।"

রেবেকা আর কিছু বলল না, কিন্তু যাওয়ার আগে চরম আক্রোশে সুহানার নিথর শরীরে জোরে একটা লাথি মারল। সুহানা অচেতন; তাই আঘাতের ব্যথা অনুভব করতে পারল না । কিন্তু ফিনা যেন সেই লাথির যন্ত্রণা নিজের বুকে অনুভব করল। সে ডুকরে কেঁদে উঠে বলল, "আর মারিস না ওকে! তোরা তো মেরেই ফেলেছিস ওকে, আর কী চাস? এবার অন্তত ছেড়ে দে!"

রেবেকা তৃপ্তির এক পৈশাচিক হাসি দিয়ে চলে গেল। আজ থেকে তার আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, কোনো টেনশন নেই। সে রিফ্টের সাথে গাড়িতে উঠে রওনা দিল এক নিশ্চিন্ত ঘুমের আশায়। রেবেকাদের গাড়িটা কুয়াশার আড়ালে ঢাকা পড়তেই ডেনিয়েল ঘাড় ফিরিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা সুহানার দিকে তাকাল। তারপর তার চোখ গেল ফিনার ওপর।

ফিনা পাগলের মতো নিজের গলার কালো স্কার্ফটা ছিঁড়ে কয়েক টুকরো করে ফেলেছে। সে অতি সাবধানে সুহানার ফেটে যাওয়া কপালে কাপড়টা পেঁচিয়ে দিল—রক্ত বন্ধ করার সাময়িক চেষ্টা। সুহানার হাত-পা ছিলে গেছে অনেক জায়গায় ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে। মুখের ডান পাশটা রক্তে ঢেকে গেছে, নাক-মুখ দিয়ে এখন ও তাজা রক্ত চুইয়ে পড়ছে, আগের রক্তগুলো জমাট বেঁধে কালচে হয়ে গেছে।

এখানে কোনো জনমানুষ নেই, কোনো গাড়ি নেই। এই নির্জন এলাকা সুহানাকে বাঁচানোর আর কোনো পথ না দেখে ফিনা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ডেনিয়েলের পা জড়িয়ে ধরল। ডেনিয়েল চমকে উঠল। ফিনা আর্তনাদ করে বলতে লাগল—

“প্লিজ দয়া করুন! আপনাদের উদ্দেশ্য তো সফল হয়েছে, ও তো আর এক্সাম দিতে পারবে না। ওকে একটু হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করুন! আপনি যা বলবেন আমি তাই করব। আপনি... আপনি আমাকে গার্লফ্রেন্ড বানাতে চেয়েছিলেন না? আমি রাজি! আমি আপনার সব কথা শুনব, শুধু ওকে বাঁচান! প্লিজ ওকে হাসপাতালে নিয়ে চলুন!”

ডেনিয়েল কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে ফিনার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ঝটকা দিয়ে নিজের পা সরিয়ে নিল। তার ঠোঁটে এক নোংরা, কুৎসিত হাসি ফুটে উঠল। সে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল, “যা বলব তাই করবে তো ডার্লিং?”

ফিনা দ্রুত মাথা নাড়ল— “হ্যাঁ, হ্যাঁ! যা বলবেন তা-ই! প্লীজ প্লীজ”

“ওকে। নিয়ে আছো ওকে গাড়িতে,” ডেনিয়েল নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে গাড়ির দিকে হাঁটা দিল।

ফিনা অতি কষ্টে, নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে সুহানার নিথর দেহটাকে টেনে তুলল। প্রতিটি কদমে ফিনার বুক কেঁপে উঠছিল, কিন্তু বন্ধুর প্রাণের মায়া তাকে আজ অতিমানবীয় শক্তি দিচ্ছে। ডেনিয়েল গাড়ির দরজা খুলে দিলে ফিনা সুহানাকে নিয়ে পেছনের সিটে উঠল। সুহানার মাথাটা নিজের কোলে রেখে সে ডুকরে কেঁদে উঠল, “এই সুহানা! চোখ খোল প্লিজ! তাকাস না কেন আমার দিকে? এই তো আমরা হাসপাতালে যাচ্ছি তোর কিছু হবে না!”

চলবে…….

(গল্পের সমস্ত চরিত্র,কাল সবই কাল্পনিক সকলে সেই ভাবেই নেবেন, লেখার মাঝে কোনো বানান ভুল থাকলে মাফ করবেন)

#প্রেমের_আলোড়ন

#midnight_tales_by_joy

#suhan_joy

Thank you

(Don’t copy without permission)

Enjoy your reading❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন