গল্প: প্রেমের আলোড়ন
লেখক: সুহান জয়
পর্ব: ১৬
(Note – এটি একটি প্রণয় ও জীবনবোধের মিশ্রণ সম্বলিত গল্প। যেখানে রোম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।)
সুহানার মাইক্রো-সার্জারি শেষ হয়েছে ঘন্টা দুয়েক আগে। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে যদি জ্ঞান না ফেরে, তবে সুহানা চলে যাবে কোমায়; আর সেখান থেকে ফেরার পথটা বড্ড অন্ধকার, বড্ড অনিশ্চিত।
হাসপাতালের সেই করিডোরে ফিনা এসে দাঁড়িয়েছে কিছুক্ষণ আগে। ডেনিয়েল তাকে নিয়ে এসেছে, তবে সে নিজে ভেতরে ঢোকেনি, গাড়িতে অপেক্ষা করছে। ফিনা ডেনিয়েলের পায়ে ধরে কেঁদেছিল, শুধু এক পলক সুহানাকে চোখের দেখা দেখার জন্য। ডেনিয়েল রাজি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পাষাণ হৃদয়ে জুড়ে দিয়েছে এক নিষ্ঠুর শর্ত—সুহানাকে দেখেই তৎক্ষণাৎ চলে আসতে হবে, আর রাতটা কাটাতে হবে ডেনিয়েলের নির্জন বাড়িতে। ফিনা নিরুপায়, বন্ধুর প্রাণের চেয়ে নিজের মর্যাদা তার কাছে তুচ্ছ আজ।
বিধ্বস্ত চেহারায় আইসিইউ-র কাঁচের দেয়ালের ওপারে গিয়ে দাঁড়াল ফিনা। ওপাশে সুহানা নিথর হয়ে শুয়ে আছে, শরীরের সাথে জড়িয়ে আছে অসংখ্য নল আর তার। ফিনা একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল ওর দিকে। তার মনে পড়ল, এই মেয়েটা কি কোনোদিন এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়াতে পেরেছে? সারাদিন মারপিট, দৌড়াদৌড়ি আর লাফালাফি করেই কাটিয়েছে, কাউকে পরোয়া করে না সে। ফিনা তাকে ঠাট্টা করে বলত-“ তোর পায়ে নির্ঘাত চাকা লাগানো আছে”।
ফিনা বিড়বিড় করে বলতে লাগল, “এইভাবে কতদিন শুয়ে থাকবি তুই? তোর রেস্টুরেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার মুরোদ আমার নেই, আমি কোনো কাজ করতে পারব না। আমি না পটের বিবি খালি হুকুম করব, তাহলে এখন নিজে এইভাবে পো*দ উল্টে পড়ে আছিস কেন? বেহায়া কোথাকার, ওঠ বলছি! কে রে... ওঠ না!”
ফিনা নিজের মনেই বকবক করে চলল, তার গালি শুনলে এখনি সুহানা পা থেকে জুতো খুলে ছুড়ে মারতো, কিন্তু আজকে সুহানার নিথর শরীরে কোনো সাড়া নেই, যান্ত্রিক সংকেতগুলো ছাড়া আর কোনো প্রাণস্পন্দন নেই সেখানে। মিনিটখানেক পর ফিনা চোখ মুছল। সময় শেষ। তাকে আবার ফিরে যেতে হবে দাসীগিরিতে, সেই নরপিশাচের অন্ধকার গুহায়।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসতেই দেখল ডেনিয়েল গাড়ির সামনে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফিনাকে আসতে দেখে সে কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে বসল। ফিনাও যন্ত্রের মতো গিয়ে বসল পাশের সিটে। নিস্তব্ধ গাড়ির ভেতর কেবল দুই জোড়া নিঃশ্বাসের শব্দ। কোনো কথা ছাড়াই গাড়িটা হাসপাতালের সীমানা ছাড়িয়ে আবার অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে চলতে শুরু করল।
বিমানের ভেতরকার পরিবেশটা এখন এক ভারী নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। জাহির তার সিটে মাথা এলিয়ে পড়ে আছে। কিছুক্ষণ আগেই বমি করেছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ আর আতঙ্ক তার শরীর আর সহ্য করতে পারছে না। জাহিরের জীবনটা রাজপুত্রের মতো; কোনো অপ্রাপ্তি বা কঠিন লড়াই তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। পরিবারের বড় নাতি হওয়ার সুবাদে সে সবার চোখের মণি। পাঁচ চাচা আর বাবার আদরে বেড়ে ওঠা ছেলেটি কোনোদিন ভাবেনি জীবন তাকে এমন এক মোড়ে এনে দাঁড় করাবে, যেখানে কেবল অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছু নেই।
আফ্রিদি পাশে বসে জাহিরের এই অবস্থা অসহায়ের মতো দেখছে। আফ্রিদি জানে হারানোর যন্ত্রণা কী। সে তার মাকে হারিয়েছে, মায়ের সেই নিথর দেহ বহন করার ক্ষত এখনো তার মনে টাটকা। সে মনেপ্রাণে চাইছে না, জাহিরকে এমন কিছু ফেস করতে হোক। সে জাহিরকে জোর করে কিছুটা খাইয়েছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই জাহির সব বমি করে ফেলেছে। সেই থেকে জাহির একদম নিস্তেজ, যেন তার কথা বলার শক্তিটুকুও ফুরিয়ে গেছে।
আফ্রিদি নিজেকে খুব একা আর অসহায় বোধ করছে। সে চতুর্দিক থেকে ফেঁসে গেছে—একদিকে তুহিনা ফোন ধরছে না, তার সাথে কোনো যোগাযোগই করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে সুহানার অবস্থা প্রতি মুহূর্তে অবনতির দিকে যাচ্ছে।তার সামনে প্রাণের চঞ্চল ভাই এর এই অবস্থা। শেষে ফিনা—কে কল করেও পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিপদের সময় ফিনা কোথায় উধাও হলো, সেটা আফ্রিদির মাথায় খেলছে না।
বিমানের ইঞ্জিনের একটানা গোঁ গোঁ শব্দ জাহিরের কানে আজ যন্ত্রণার মতো বাজছে। সে চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাচ্ছে সুহানার চিরচেনা রূপ—রাগের মাথায় ভ্রু কুঁচকে তাকানো, তর্জনী দিয়ে নাকের ওপর চশমাটা ঠেলে দেওয়া। প্রতিটি স্মৃতি এখন বুকের ভেতর হাহাকার তুলছে। আর মাত্র কিছুক্ষণ, তারপরই তারা ল্যান্ড করবে। রানওয়েতে গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ওদিকে ডেনিয়েলের বাড়িতে সময় যেন থমকে গেছে। ফিনা কিছুক্ষণ আগে শাওয়ার নিয়েছে। এখন সে বিছানার ওপর নিস্পন্দ হয়ে বসে আছে, তার নিস্তেজ দৃষ্টি মেঝের সাদা টাইলসে নিবদ্ধ। আজ ডেনিয়েলের এই বাড়িটা একদম ফাঁকা।সে এখন ডেনিয়েল এর বেডরুমে আছে এটা বাড়ি কম ভিলা বেশি। ফিনা এক জীবন্ত রোবট; ডেনিয়েল যা বলছে, সে কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই মুখে কুলুপ এঁটে তাই করছে। তার এই নিথর ও নির্লিপ্ত আচরণ ডেনিয়েলকে ভেতরে ভেতরে বিরক্ত করছে।
ডেনিয়েল ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখল ফিনা আগের মতোই বসে আছে। তার পরনে একটা নীল রঙের ওয়ান-পিস, যেটা আজকেই ডেনিয়েল তাকে উপহার দিয়েছে। ভেজা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পিঠময় ছড়িয়ে আছে। ডেনিয়েল ধীরপায়ে এগিয়ে এসে ফিনার একদম গা ঘেঁষে বসল। ফিনা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না, ঠিক একটি কাঠের পুতুল।
ডেনিয়েল ফিনার ঘাড়ের কাছে মুখ নামিয়ে জোরালো এক দীর্ঘশ্বাস নিল। ফিনার শরীরের মিষ্টি সুবাসে তার ঠোঁটে এক হাসি ফুটে উঠল। সে চুলগুলো একপাশে সরিয়ে ফিনার ঘাড়ে চুমু খেল। ফিনা যন্ত্রণায় আর ঘেন্নায় নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরল, হাতের আঙুলগুলো দিয়ে বেডশিট খামচে ধরল।
ফিনার মনে একটা চিন্তা বারবার ফিরে আসছে—সুহানা যদি কোনোদিন জানতে পারে যে তার জীবনের বিনিময়ে ফিনা কী বিসর্জন দিয়েছে, তবে হয়তো সে ফিনাকে সারাজীবন ঘৃণা করবে। কিন্তু ফিনার তো কিছু করার নেই। লড়ার মতো শক্তি তার নেই, আবার সরে যাওয়ার মতো কোনো পথও খোলা নেই।
ডেনিয়েল এবার ফিনাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। কোনো দয়ামায়া ছাড়াই সে ফিনার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট বসিয়ে দিল। সময়ের সাথে সাথে সে হয়ে উঠল আরও বেপরোয়া। ফিনা আরও একবার শোষিত হলো এক অঘোষিত নিষ্ঠুর সত্যের কাছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলল সেই পৈশাচিক শোষণ।
গাড়ির চাকা পুরোপুরি থামার আগেই জাহির দরজা খুলে একরকম ঝাঁপিয়ে নামল। তার হিতাহিত জ্ঞান নেই। পেছনে আফ্রিদিকে নামার সুযোগটুকুও দিল না সে। জাহিরের দৌড় দেখে আফ্রিদি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে পড়ল এবং বডিগার্ডদের ইশারায় থামতে বলে সে জাহিরের পিছু নিল।
বিগত ২২ ঘণ্টার বিভীষিকাময় যাত্রা শেষে জাহিরের শরীরের অবস্থা শোচনীয়। পায়ে একটা সাধারণ স্লিপার, পরনে কালো ট্রাউজার আর গায়ের টি-শার্টটি জায়গায় জায়গায় কুঁচকে গেছে। কিন্তু এই বিধ্বস্ত চেহারার তোয়াক্কা না করে সে উন্মাদের মতো ছুটছে। ‘সিটি হসপিটাল’—এই একটি নামই সে জানে।
আফ্রিদি হাসপাতালে ঢুকে দেখলো জাহির নেই এখানে। সে একজন ওয়ার্ড বয়কে তার ভাষায় জিজ্ঞেস করল, “এখান থেকে একটা ছেলেকে দৌড়ে যেতে দেখেছেন?”
ওয়ার্ড বয় সাথে সাথে মাথা নাড়িয়ে ইশারায় জানাল, “হ্যাঁ, দেখেছি”।
“কোন দিকে গেল ও?”
“এই সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠেছে।“
আফ্রিদি কোনো কথা না বাড়িয়ে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠতে শুরু করল। করিডোরের নিস্তব্ধতা আর ওষুধের কড়া গন্ধ তার উৎকণ্ঠা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সে দ্রুত দোতলার করিডোর দিয়ে এগিয়ে গেল, কিন্তু জাহিরের দেখা মিলল না।
রাত এখন গভীর, দুটো পেরিয়ে গেছে। জনশূন্য হসপিটালের করিডোরে কেবল কয়েকজন ডাক্তার, নার্স আর রোগীর আনাগোনা। জাহির উন্মাদের মতো কাউকে খুঁজে ফিরছে, যন্ত্রণায় মাঝে মাঝেই নিজের চুল খামচে ধরছে সে। হন্তদন্ত হয়ে তিনতলায় ওঠার সময় হোঁচট খেল জাহির, ছিঁড়ে গেল তার স্যান্ডেলের ফিতে। ছিটকে পড়া জুতোটার দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থাতেই কানে এল অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন—হয়তো নতুন কোনো ইমার্জেন্সি রোগী এল।
করিডোরের বড় কাঁচের জানালা দিয়ে জাহির নিচে তাকাল। সেখানে ডাক্তার-নার্সদের ভিড়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হলো রক্তে ভেজা এক তরুণীকে, যার শরীরের অর্ধেকের বেশি রক্তে মাখামাখি। সাথে এসেছে একজন মেয়ে আর একজন পুরুষ। মেয়েটি ভেতরে গেলেও পুরুষ সঙ্গীটি অসহায়ভাবে সেখানেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
দূর থেকে জাহির ছেলেটির চিৎকার শুনতে না পেলেও তার হাহাকার ঠিকই অনুভব করতে পারল; কারণ জাহিরের নিজের মনের অবস্থা এখন ঠিক তেমনই। বাইরের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জাহিরের গায়ে কোনো গরম কাপড় নেই, অথচ উত্তেজনায় তার শরীর তপ্ত। চোখের সাদা অংশ একটু লালচে হয়ে উঠেছে, নাকটাও লাল হয়েগেছে । ঠোঁট দুটো শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে, কিন্তু তার পাথরের মতো নিস্প্রাণ মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই মনের ভেতর কী ভীষণ ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
আফ্রিদি খুঁজতে খুঁজতে তিনতলায় উঠে এলো। দূরে জাহিরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে দৌড়ে গিয়ে তার কাঁধে হাত রাখল। জাহির যেন সংবিৎ ফিরে পেল, ঘাড় ঘুরিয়ে আফ্রিদিকে দেখল।
“এখানে কী করছিস?”—আফ্রিদি জিজ্ঞেস করল। “ফিফথ ফ্লোরে আইসিইউ। ওখানের রিসেপশনে খোঁজ নিলেই সুহানার খোঁজ পাওয়া যাবে, চল”।
সুহানার কথা মনে পড়তেই জাহির দ্রুত আফ্রিদির গা ঘেঁষে দাঁড়াল। কোনো অবুঝ শিশুর মতো মিনতিভরা গলায় প্রশ্ন করল, “সত্যি তো?”
আফ্রিদি শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। তারপর জাহিরের হাত ধরে লিফটের দিকে নিয়ে চলল। জাহিরের তর সইতে পারছে না, সে আফ্রিদির আগে আগে হাঁটছে। লিফটে উঠে সে দ্রুত ফাইভ প্রেস করলো। লিফটের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা ফ্লোর নম্বর আর সেকেন্ডের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে জাহির।
আফ্রিদি পাশে দাঁড়িয়ে এই অচেনা জাহিরকে দেখছে। সে কিছুতেই মেলাতে পারছে না, এই ছেলেটি কবে এত গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলল! জাহিরের কারাক্টার এর সাথে যায় না এই সব সেই ছোটো বেলা থেকে চেনে সে এই ছেলে, সে তার জীবনে কোনো জিনিস নিয়ে টেনশন নেয়নি কোনো কিছুতে সিরিয়াস নয় এক্সেপশন খেলাধুলা। মেয়েমানুষ থেকে বহুদূরে থাকে সে তার মেয়ে সংগত পছন্দ নয় তার এমনকি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এমন বিষয় বেছে নিয়েছিল যেখানে মেয়েদের আনাগোনা কম ‘ম্যাথ’। তাও তার ডিপার্টমেন্ট এ মাত্র দুজন মেয়ে, তারাও অনেকটা টমবয় ধাঁচের। কলেজে কেউ ভুল করে তাকে প্রপোজ করতে এলে সে ধমক দিয়ে বলত, “লাথি মেরে তোর সরু কোমর ভেঙে দেব যেটা দুলিয়ে দুলিয়ে আমাকে দেখেছিস, চাল ফট !”
লিফটের দরজা খুলতেই জাহির হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে গেল। ঘোর বা লুপের মধ্যে থাকা মানুষের মতো সে যেন দিশেহারা। আফ্রিদি দ্রুত গিয়ে তার হাত চেপে ধরল এবং উল্টো দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল, “রিসেপশন ওই দিকে!”
জাহির সেদিকেই পা বাড়াল। আফ্রিদি রিসেপশন স্টাফকে জিজ্ঞেস করল, “এখানে সুহানা নামের কোনো পেশেন্ট এডমিট আছেন?”
স্টাফটি বিনয়ের সাথে বললেন, “একটু অপেক্ষা করুন স্যার।“ নিজের সামনের আধুনিক যন্ত্রটিতে কিছু একটা তল্লাশি চালিয়ে তিনি জানালেন, “জি, রুম নম্বর ৩৫৮”।
আফ্রিদি ধন্যবাদ জানিয়ে জাহিরকে নিয়ে এগুলো। জাহির পাগলের মতো রুম নম্বর খুঁজতে লাগল—৩৫০, ৩৫১... করতে করতে সে ৩৫৭ নম্বর রুমের সামনে গিয়ে থামল। কিন্তু এর পরেই দেয়াল, আর কোনো রুম নেই। জাহিরের মস্তিষ্ক যেন অবশ হয়ে আসছে, গলার স্বর কাঁপছে। সে আর্তনাদ করে আফ্রিদিকে বলল, “আফ্রিদি, রুম নেই! রুম গায়েব হয়ে গেছে!”
আফ্রিদি জাহিরকে আলতো করে টেনে ঠিক উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিল। আসলে পাশের করিডোর দিয়ে একটু ঘুরলেই রুমটি পাওয়া যাবে, কিন্তু জাহির এতটাই অস্থির যে সে টার্নিং ঘোরার কথা ভুলেই গেছে।
অবশেষে তারা ৩৫৮ নম্বর রুমের সামনে এসে দাঁড়াল। এতক্ষণ যে সুহানাকে পাওয়ার জন্য জাহির ছটফট করছিল, এখন সেই রুমের সামনে এসে সে থমকে গেল। তার বুক কাঁপছে, ভেতরে ঢোকার মতো সাহস কুলাচ্ছে না। জাহির তবুও টলমল পায়ে সামনে এগোল, তখন আফ্রিদির নজর পড়ল জাহিরের পায়ের দিকে। ছেলেটা খালি পায়ে হাঁটছে,
জাহির অতি সাবধানে, অত্যন্ত ধীরলয়ে রুমের বড় কাঁচের জানালার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করল।
চলবে…….
(গল্পের সমস্ত চরিত্র,কাল সবই কাল্পনিক সকলে সেই ভাবেই নেবেন, লেখার মাঝে কোনো বানান ভুল থাকলে মাফ করবেন)
#প্রেমেরআলোড়ন
#suhanjoy
Thank You
(Don’t copy without permission)
Enjoy your reading 🎀