#Secret—৫
#Rosni_Karim
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
(এজেন্ট "রোজ কাট"🌹)
মাথা বাড়িয়ে দেখলাম।না,কেউ নেই।আস্তে করে রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলাম।দাদুর রিডিং রুমের এই ছোট দরজাটা থাকায় আমার ভালোই হয়েছে।আগে না হয় দাদুর সাথে যেতাম তাই বাসার কেউ কিছু বুঝতো না।কিন্তু এখন রাতের মিশনগুলোতে সবসময় এখান দিয়ে যেতে হয়।দাদুর রিডিং টেবিলের পেছনের দেয়ালে জানলার নিচে ছোট করে একটা দরজা বানানো।এতো নিখুঁত করে বানানো যে দরজাটা না খোলা পর্যন্ত কেউ বুঝতেই পারবে না।সেটি এখন আমার অতি প্রয়োজনীয় দরজা হয়ে পড়েছে।
দাদু মা'রা যাওয়ার পর থেকে এই রুমে তেমন কেউ ঢোকেনা। ঢোকে না বলতে না,আসলে আমি ঢোকার পারমিশন দেই না।সবাই জানে আমার এই রুমটা কি পরিমানের পছন্দ।তাই এই রুমে নাক গলানোর জন্য কেউ চেষ্টাও করে না।
ড্রেসগুলো চেঞ্জ করে বুকসেলফ থেকে একটা বই নিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে এলাম।উপরে যাওয়ার জন্য সিঁড়ির কাছে গিয়ে দেখি জারিফ ভাইয়া সিঁড়িতে বসে আছে।
"এতো রাতে তুমি সিঁড়িতে বসে কি করো?"
পর মুহুর্তে ভাইয়া হালকা ভড়কেছে।আমাকে দেখে বলে উঠল,
"ঘুম ধরছিল না।তাই একটু পায়চারি করছিলাম।তুই এতো রাতে কই থেকে এলি?"
আমার হাতের বইটা দেখালাম,
"দাদুর রিডিং রুমে গিয়েছিলাম।আমারও ঘুম আসছে না"
কথা বলতে নিয়েই ভাইয়ার পাশে গিয়ে বসি।
ভাইয়া এক ভারী শ্বাস ফেলল।সময় নিয়ে বলল সে,
"তুই দাদুকে অনেক মিস করিস,তাই না?"
আমার সোজা উত্তর,
"না।একদম না"
ভাইয়া ভ্রু কুচকালো,
"কেন?"
"দাদু একবার বলেছিল,তার কিছু হয়ে গেলে তাকে যেন আঁকড়ে ধরে না থাকি।তাহলে নাকি আমি জীবনে আগাতে পারবো না"
ভাইয়াকে কথাটা বলে আমি মনে মনে হেসে উঠি।দাদুর সেই কথা আমার ঠিকই মনে আছে।কিন্তু আমি তার সেই কথা মানছি না। তাকে এখনো আঁকড়ে ধরে আছি।দাদু যাওয়ার আগে আমাকে যেগুলো করতে বলেছিল আমি সেগুলোর একটাও করছি না। আমাকে স্পাই এজেন্সি থেকে বের হয়ে আসতে বলেছিল।আমি বের হইনি।আমাকে তার ব্যাপারে ভুলে যেতে বলেছিল।আমি সেটাও করিনি।পারিনি।আমার পক্ষে ওই রাতটা ভোলা অত সহজ না।
আমার ভাবনার মাঝেই ভাইয়া আমার মাথায় হাত রাখলো,
"তুই তো ভুলতে পেড়েছিস।কিন্তু আমি তো ভুলতে পারিনি"
ভাইয়ার কাঁদো গলায় আমি তার দিকে ঘুরলাম।ভাইয়া তো দাদুর সাথে তেমন থাকতো না।দাদুর প্রতি তার অতো টানও থাকার কথা না।
"তুমি?তুমি দাদুকে ভুলতে পারনি?"
ভাইয়া নাক টানলো হালকা করে,
"না রে বোকা।আমি দাদুর কথা বলছি না।আমি তোর এক্স ভাবির কথা বলছি"
আমি রাগের চোটে আমার ঠোঁট দুটো চেপে ধরলাম।তার এই দুইদিন পরপর ব্রেকাপের কথা শুনতে আমার আর ভালো লাগে না!আমি আস্তে করে ভাইয়ার হাতটা আমার মাথা থেকে নামাতে নিয়েই বললাম,
"কবে ব্রেকাপ হয়েছে?"
"পাঁচ মিনিট আগে"
"রিলেশনে গিয়েছিলা কবে?"
"গত পরশু"
সিরিয়াসলি?!!!আমি মনে মনে 'সিরিয়াসলি'টা এতো জোরে বলে উঠেছি যে বর্তমানে আমাকে জোরে-জোরে শ্বাস নিতে হচ্ছে।না মিরা!এরকম হাইপার হওয়া শব্দ এখন ভাইয়ার সামনে বলা যাবে না।তার মন এখন এমনিতেই খারাপ আছে।
নিজেকে সংযত করে ভাইয়াকে আবার জিজ্ঞেস করলাম,
"তোহ্!ব্রেকআপ হওয়ার কারণটা কি ছিল?"
ভাইয়া আবার নাক টানলো।কাঁদো গলায় বলল,
"সে আমার গ্রীন কালারের স্নিকার্সগুলো পছন্দ করে না"
না মিরা!অনেক সহ্য করেছিস!আর নিজেকে কন্ট্রোল করিস না! হাতের বইটা দিয়ে ভাইয়ার কাঁধে জোরে একটা বারি দিলাম।
অমনি ক্যাত করে উঠল ভাইয়া,
"আউ মিরা!মারলি কেন?"
"এটা কোনো কারণ হলো ব্রেকআপ করার?"
"তুই তো ভালো করেই জানিস ওগুলো আমার পছন্দের স্নিকার্স।ও কেমন করে ওগুলো অপছন্দ করতে পারে?"
"ভাইয়া তোমার ওই স্নিকার্স জুতাগুলো আমারও পছন্দ। কিন্তু সবার পছন্দ তো আর এক হয় না। তুমি একজন এডাল্ট হয়ে বাচ্চাদের মতো রিজনে ব্রেকআপ করলে তো তোমার ভাগ্যে কেউ জুটবে না"
ভাইয়া তার মুখটা কান্নার ভান করে আমাকে জড়িয়ে ধরল,
"মিরা তুই-ই তো একমাত্র আমার দুঃখের কথা বুঝিস।এখন যদি তুই-ই এমন করিস তাহলে আমার কি হবে?"
"ভাইয়া ছাড়ো আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না!"
পা দিয়ে একটা চারা দিয়ে ভাইয়াকে দূরে সরে ধরলাম,
"তোমার ওই দুই দিনের প্রেম-পিরিতির কথা নিয়ে আমার কাছে আসবে না।যেদিন সিরিয়াসলি কোনো প্রেম করবা ঐদিন আসিও। আমি সারাদিন বসে তোমার কথা শুনবো।এখন রুমে যাও।কেউ এখানে তোমাকে কাঁদতে দেখলে ভয়ের চোটে হার্ট অ্যাটাক করবে"
আর ভাইয়ার কান্নার তোয়াক্কা না করে আমি আমার রুমে চলে এলাম।ফোনে দেখলাম ৪:৩২ বাজে।আটটার দিকে কলেজ আছে। এখন আর ঘুমও হবে না।শরীরটা ভালো লাগছে না।গোসল করে নেই, ফ্রেশ লাগবে।
গোসল করে বের হয়ে রিডিং রুম থেকে আনা বইটার দিকে নজর গেল। বইটা হাতে নিয়ে বিছানায় হেলান দিলাম। বইয়ের কাভারের এক কোনায় লিখা,
'Secret'
নামটা দেখে একটু হাসি পেল।সিক্রেট?এই জীবনে আর কি সিক্রেট আছে?নিজের জীবনটাই তো পুরাটা সিক্রেট করে রেখেছি।যেখানে একজন সাধারণ টিনেজার হওয়ার কথা,সেখানে সবার চোখের আড়ালে একজন গভার্মেন্ট স্পাই এজেন্ট হয়ে জব করছি।সিক্রেটলি দাদুর মাডারের বদলা নিতে চাচ্ছি।আর কি সিক্রেট বাকি আছে?দাদুর জীবন?শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত দাদু কি আমার কাছে কোনোকিছুর ব্যাপারে সিক্রেট রেখেছিল।হতে পারে।আবার না-ও হতে পারে।ঠিক জানা নেই আমার।তবে চেষ্টা করব নিজের সব উত্তর নিজেই বের করার।
হাতের বইটা উল্টেপাল্টে দেখতে নিয়েই খুলে পড়তে লাগলাম।দেখি,কি সিক্রেট আছে এই বইয়ে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
দরজায় কে যেন নক করছে।ঘড়িতে দেখলাম ৭টা বাজে।কখন যে ৭টা বেজে গিয়েছে বলতেই পারিনা।হাতের বইটা বন্ধ করে গিয়ে দরজা খুললাম।লিলি বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।
" বাব্বাহ,আজকে আবার একবার নক করতেই খুলে দিলে?"
" জেগেই ছিলাম।রাতে ঘুম হয়নি তো"
" কেন?কাল তো দেখে গেলাম ঘুমাচ্ছিলে"
আমি মাথা চুলকাতে লাগলাম,
"পরে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে।কাল সারাদিন শুয়ে বসে ছিলাম তো"
"আচ্ছা যাই হোক।এখন রেডি হও"
আমি ড্রেস পরে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসলাম।লিলি আমার মাথায় বেনি করতে লাগলো।এই বাসায় শুধু আমারই পার্সোনাল মেইড আছে।সবাই মনে করে আমি কোনো কাজ করতে পারি না। আসলে না,বাসার সবাই মনে করে আমার কোনো কাজ করার দরকারই নেই।চার বছর আগে মরিয়ম আপু যখন বিয়ে করে চলে গেল তখন থেকেই লিলি আমার সাথে।আমিও বাসার সবাইকে বোঝাই আমি কিছু করতে পারি না।দাদু যদি আমাকে ট্রেইন না করাতো তাহলে মনে হয় আমি তেমনই হতাম।
রেডি হয়ে নিচে খেতে চলে আসি।বাবা আর আম্মু নাস্তা করছে। আমি গিয়ে বাবার পাশে বসলাম।
বাবা জুসের গ্লাসটা হাত থেকে রেখে আমার পাশে ঘুরলো,
"মিরা,কলেজ কয়টায় শেষ?"
"দুই টায়"
"আজ বিকেলে কোনো প্লান আছে?"
আমি আড় চোখে বাবার দিকে দেখলাম,
" না।কেন?"
"কিছু না।এমনি জিজ্ঞেস করলাম"
বাবা এমনি জিজ্ঞেস করেনি।আজ অভিকে বাসায় আসতে বলেছে।তাই জিজ্ঞেস করল।আমি খাবার শেষ করে উঠে এলাম।
গাড়িতে উঠে দরজা লাগিয়ে বামে ঘুরতেই দেখলাম জারিফ ভাইয়া বসে আছে।
ভড়কালাম আমি,
"তুমি আমার গাড়িতে কেন?"
ভাইয়া তার সামনে চুলগুলো ব্যাক ব্রাশ করতে নিয়েই বলল,
"ভাবলাম তোকে কলেজে একটু ড্রপ করে দিয়ে আসি"
"তোমার ভার্সিটি নেই?"
"তোকে কলেজে ড্রপ করে দিয়ে আমি ভার্সিটি যাব"
"আমাকে কলেজে ড্রপ করার এটা আবার কোন নতুন ঢং বের হলো তোমার?"
"আহ মিরা!এটাকে বড় ভাইয়ের ভালোবাসা বলে"
আমার টনক নড়ল,
"ওয়েট।ভাইয়া তুমি আমার কলেজে কোনো মেয়ে পটানোর চেষ্টা করবে না কিন্তু,বলে দিচ্ছি!"
"উফ মিরা!তুই আমাকে এতটাও ক্যারে'ক্টার'লেস ভাবিস না তো!তোর কলেজের পাশে আমার এক ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করব।তাই ভাবলাম তোর সাথে একটু যাওয়া যাক"
"ঠিক আছে।কিন্তু কলেজ থেকে দূরে গিয়ে গাড়ি থেকে নামবে। আমি চাইনা আমার কলেজের কেউ যেন তোমাকে দেখে"
"কেন?"
"কেউ যদি জানতে পারে দ্য ফেমাস সিঙ্গার জারিফ খন্দকার আমার ভাই হয় তাহলে আমার কলেজেই আসা বন্ধ হয়ে যাবে"
একজন পার্টটাইম সিঙ্গারের বোন হয়ে ভালোই বিপদে আছি আমি।জারিফ ভাইয়ার এই শখ আমার কাছে মাঝেমধ্যে বিপদ ডেকে আনে।টেলিভিশনের পর্দার এক ব্যক্তি আমার ভাই হয় সেটা ক্লাসের মেয়েদের কিছুতেই জানতে দেওয়া যাবে না।এমনকি ছেলেদেরকেও না।আমার ভাইটাই কন্ঠটাই যে এতো সুন্দর যে ছেলেরাও তার ফ্যান।
ভাইয়া বেশ ভাব নিয়ে বলে উঠল,
"তোর এই সেলিব্রিটি ভাই এর জন্য কলেজে তোর আরও মান-সম্মান বাড়বে।দেখিস কত মেয়ে তোর পিছন পিছন ঘুরে"
"আমার মেয়েদের প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই যে মেয়েরা পিছনে ঘুরলে আমার ভালো লাগবে "
"তোর কথা কে বলছে?ওরা তো আমার জন্য ঘুরবে "
"ভাইয়া তোমার না আজ সকালেই ব্রেকআপ হলো।এতো খুশি কেন তুমি?অন্তত দুই-তিন দিন অন্তত একটু শোকে থাকো"
"শোকে থাকা আমার কাজ না।যারা আমাকে ধোঁকা দিয়েছে তারা শোকে থাকুক"
"ব্রেকআপটা মনে হয় তুমিই করেছিলা"
ভাইয়া বেশ থতমত করতে লাগলো,
"ওসব বাদ দে!মাইন্ড ঠিক করার জন্যই আমার ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি"
ভাইয়ার কর্মকান্ডে প্রতিবারের মতো এবারো ভারী শ্বাস ফেললাম আমি।জারিফ ভাইয়া কখনোই ঠিক হবে না।
ভাইয়াকে বিদায় দিয়ে আমি কলেজে ঢুকে যাই।কলেজের কারো সাথে আমি তেমন মিশি না।সবার সাথে পরিচয় আছে।কিন্তু একটু দূরে থাকার চেষ্টা করি। একজন স্পাই হয়ে বেশি মানুষের সাথে মেশাটা আমি বিপদের মনে করি।আর এখনকার জেন-যি জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পরিমাণে একটিভ থাকে,তাই তাদের সাথে দূরে থাকাটাই ভালো।
ক্লাসে গিয়ে শেষের এক বেঞ্চে বসে সকালের গল্পের বইটা আবারো পড়তে শুরু করি।আর কয়েক পৃষ্ঠা হলেই গল্পটা শেষ হয়ে যাবে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
মাথা নিচু করে ক্লাসে স্যারের কথা শুনছি আর টেবিলের উপরে রাখা একাডেমিক বইটার পাশে দেখছি।পাশের বেঞ্চ থেকে তন্ময় ডাক দিল।শুনেও না শোনার ভান করে বইয়ের দিকে দেখে আছি।তন্ময় আবার ডাক দিল।ওর কথায় কান দিয়ে আমার লাভ নেই।ও কি বলবে আমার ভালো করেই জানা আছে।
সব ছেলেরা এক রকম হয় না এটা আমি জানি।কিন্তু কিছু-কিছু ছেলে আসলেই একরকম হয়।যেমন আমার পাশের ব্রেঞ্চে বসে থাকা তন্ময় আর ওই ছ্যাঁচড়া লুসিফারটা।এরা দুজন যে আমার মাঝে কি দেখে?তন্ময় পুরো কলেজের ক্রাশ। সব মেয়ে তার প্রতি লাল টপকায়।আর তন্ময় সেই লাল টপকানোর সুযোগও নেয়।কত মেয়ের সাথে নোষ্টি-ফষ্টি করেছে তা আমি ভালো করে জানি।আর সেই ছেলে ফার্স্ট ইয়ারের মাঝামাঝি থেকে আমার পেছনে পড়েছে।
অবশেষে তন্ময়ের নয় নম্বর ডাকে আমি তার দিকে দেখি।সে তার এক হাতে গালের ভারটা দিয়ে আমার পাশে দেখছে।ঘাড় নিচু রেখেই তার দিকে মাথা ঘুরয়েছি আমি।চোখ দিয়ে ইশারা করে বুঝালাম কেন ডাকছে।আমার চোখ দুটো নাড়ানো দেখে সে একটা ভন্ড স্বস্থি নিঃশ্বাস ছাড়লো।এরই মাঝে স্যার ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়।
আমি তন্ময়ের উদ্দেশ্যে গম্ভীর কণ্ঠে বললাম,
"কি লাগবে?"
তন্ময়ের কোমল কন্ঠ,
"তোকে লাগবে। দিতে পারবি?"
আমি একটা অনুভূতিহীন নিঃশ্বাস ছাড়লাম।অতঃপর আগের কন্ঠেই বলে উঠলাম,
"গো টু হেল"
তন্ময় উঠে এসে আমার টেবিলের পাশে দাড়ালো,
"মিরা তুই একবার আমার সাথে রিলেশনে যা।আই সোয়ার,তোকে ডিসাপয়েন্ট করবো না"
আমি তাকে কোনো উত্তর দিলাম না।
তন্ময় আমার সামনে এসে টেবিলে আলতো করে একটা বারি মারল,
"মিরা প্লিজ"
আমি বই থেকে মাথা তুললাম না,
"এগেইন।গো টু হেল"
"তোকে না পেয়ে তো হেলেই আছি আমি"
আমি বিরক্তির ভাব মুখে নিয়ে তার দিকে দেখলাম।এই ছেলে কি জানে,যে তার ব্যাপারে আমার কাছে যতগুলো ইনফরমেশন আছে সেগুলো দিয়ে পুরো তিন ঘন্টার একটা লেকচার হবে?সে কেন বুঝেনা আমার সামনে এতো ইনোসেন্ট সেজে কোনো লাভ নেই?
আমার মুখের ভাব দেখে তন্ময় মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,
"কিছু তো বল!"
আমি লাস্ট ব্রেঞ্চ থেকে সামনের হোয়াইটবোর্ডে দিকে দেখলাম,
"স্যার এসেছে"
তনময় স্যারের পাশে দেখে আবার গিয়ে তার ব্রেঞ্চে বসলো।বিড়বিড় করে আওড়ালো সে,
"তোকে বলি একটা বলতে আর তুই বলিস আরেকটা"
আমার পাশে বসা নিতু আমার দিকে একটু হেলে এলো।কানের কাছে বলল সে,
" তুই তন্ময়ের কথা কানে নিস না কেন?"
আমি নিতুর দিকে ঘুরলাম,
"ও কোন ক্যারেক্টারের তুই জানিস?"
"তবুও।ভালো স্টুডেন্ট।ছেলেও দেখতে সুন্দর।আর তোকে ছেলেটা কত সুন্দর করে বলে"
আমার এরকম ইনোসেন্ট মেয়েদের দেখলে মায়া হয়।মেয়েরা যে এমন টক্সিক ছেলেগুলোর পেছনেই কেন লাড্ডু হয়?
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
কলেজ থেকে বাসায় এসে দেখলাম সবাই ড্রয়িং রুমে বসে টিভিতে কিছু ফ্যামিলি ফোটো দেখছে।আমিও তাদের সাথে যোগ হলাম।
জয়া আপু বলল,
"দাদু কোম্পানির কোনো ইভেন্টেই কেন জানি থাকতো না"
রুহান আঙ্কেল তার জবাব দেয়,
"তোমার দাদু এ্যান্টি সোশ্যাল পারসোনালিটির লোক ছিল। কোম্পানির তেমন কোনো মানুষের সাথে দেখা করত না।অনেকে তো তাকে চিনতও না"
দাদু একজন এন্টি সোশ্যাল ছিল নাকি ছিল না,সেটা বর্তমানে শুধু আমি জানি।দাদু ২০ বছরের ছিল যখন সে স্পাই এজেন্সিতে জব করা শুরু করে।দাদুর বাবা দাদু ও তার বড় ভাইয়ের নামে কোম্পানি ভাগ করে দেয়।কিন্তু দাদু কখনোই সোশ্যাল মিডিয়ার সামনে আসেনি।সে তার বড় ভাইয়ের ছেলেকে দিয়ে সেই কোম্পানি চালায়।মানে সে তার কোম্পানির মেইন ওনার ছিল কিন্তু বাইরের মানুষের সাথে সি.ই.ও. পদে পরিচয় করাতো তার বড় ভাইয়ের ছেলেকে।সবাই জানত ইয়াবান্দ খন্দকার সেই কোম্পানির ওনার কিন্তু দাদু কখনো সামনে আসেনি।রুহান আঙ্কেল ও বাবা যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করার পর দাদু তাদের নামে কোম্পানি দিয়ে দেয়।বাবার নাকি আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজের কোম্পানি চালু করবে।দাদু বাবাকে এই ব্যাপারে উৎসাহ দেয়।দাদু আমাকে বলতো সে বাবার উপর অনেক গর্ববোধ করে। নিজের যোগ্যতায় কিছু তৈরি করলেই ফল ভালো আসে।বাবা এখন নিজের কোম্পানির ওনার।রুহান আঙ্কেল এর কোম্পানির সবকিছু এখন জয়া আপুই দেখছে।আপু যে কে.ডি. কোম্পানির নেক্সট সি.ই.ও. হবে সেটাতে কোনো সন্দেহ নেই।সিরিয়াল অনুযায়ী বাবার কোম্পানির নেক্সট সি.ই.ও. মরিয়ম আপুর হওয়ার কথা।কিন্তু তার মানসিক সমস্যাটা নিয়ে বাবা অনেক চিন্তিত।তাই বাবা নাকি আমাকে তার কোম্পানির নেক্সট সি.ই.ও. বানাবে। কিন্তু আমার তাতে কোনো ইচ্ছা নেই।আমি দাদুকে দেখেছি।এগুলো জিনিসে একবার ঢুকলে সহজে বের হওয়া যায় না।নিজের লাইফকে আমি নিজের মতো করে ইনজয় করতে চাই।
দাদু একদমই এন্টিসোশাল পার্সন ছিল না।সে ভালো করেই জানতো সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকলে তার স্পাই ক্যারিয়ারের অনেক সমস্যা হতো। সে আর লুকায়িত অবস্থায় থাকতে পারতো না। দাদু যদি ডিরেক্টলি তার কোম্পানি চালাতো বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি ধারের কাছে আসতে পারতো না সেটা আমার বিশ্বাস। যে লোক আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবার কাঁপুনি উঠাতে পারতো তার কাছে এসব কিছুই ছিল না।
জারিফ ভাইয়ার কথায় আমার ঘোর কাটলো,
"মিরা তো একদম দাদুর মতো হয়েছে"
আমি ভাইয়ার পাশে দেখে মৃদু হাসি দিলাম,
"এ্যান্ড আই ফিল প্রাউড আবাউট দ্যাট।আমি রুমে গেলাম তোমরা দেখো"
বাবা আমাকে বলল,
"আজকে বিকালে একটু ভালো কাপড় পরিও।ওই তোমার গেঞ্জি-ট্রাউজার পরে থাকিও না"
"কেন?কেউ আসবে নাকি?"
বাবা আমার দিকে ঘুরলো,
"অভি আসবে"
"বাবা তুমি এখনো সেই অভিকে নিয়ে পড়ে আছো?আমি বলেছি না ওকে আমার ভালো লাগেনা"
"অভিকে আমি কিছু প্রজেক্টের কাজের জন্য ডেকেছি।তোমাকে বলছি কারণ ওর সামনে অভদ্র এর মতো থাকিও না।পরিপাটি হয়ে থাকিও"
"তো কি অনলাইনে একটা লেহাঙ্গা অর্ডার দিব?"
বাবার কন্ঠ দীর্ঘ হলো,
"মিরাআআ"
আমি আর কিছু বললাম না।আমার রুমে চলে এলাম। রুম থেকে আমি বেরই হবো না আর ওই অভির সাথে দেখা করা তো দূরের কথা।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
বিছানার মাঝখানে বসে ল্যাপটপে কাজ করছি।গত রাতের মিশনের ইনফরমেশনগুলো এজেন্ট ব্লুর কাছে তাড়াতাড়ি পাঠাতে হবে।না হলে আবার যখন-তখন কল দিয়ে আমার মাথাটা চাবাবে সে।
এমন সময় লিলি এসে রুমে ঢুকলো।তাকে বেশ হাসি-খুশিই দেখাচ্ছে,
"মিরা,তোমাকে রুবায়েদ আঙ্কেল নিচে যেতে বলল"
আমি ল্যাপটপ থেকে মাথা উঠিয়ে লিলির পাশে দেখলাম।ভ্রু কুচকে বললাম,
"কেন?"
লিলি মুখের হাসি বড় হলো বেশ,
"জানিনা।কিন্তু নিচে অভিকে দেখলাম"
আমি আবার ল্যাপটপের দিকে নজর দেই,
"বির'ক্তিকর"
লিলি আমার পাশে এসে বসল,
"ওহো মিরা,ছেলেটা তো দেখলাম ভালোই আছে।লম্বা, চওড়া, ফর্সা, চাপ দাড়ি,উফ!"
লিলি তার দুই হাত দিয়ে নিজের গাল দুটো চেপে ধরল।
আমি লিলির দিকে ঘুরলাম না।কি-বোর্ডেই হাত চালাতে ব্যস্ত,
"এতো পছন্দ হয়েছে তো তুমি গিয়ে প্রেম করো না ওর সাথে।আমার তাহলে সুবিধাই হয়"
"আমি তোমার জন্য বলছি মিরা।সে তোমার জন্য একদম পারফেক্ট"
"তার আমাকে পাওয়ার যোগ্যতা নেই লিলি।এখন ভাগো এখান থেকে"
লিলি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো,
" তুমি এখন আমার সাথে নিচে যাচ্ছো মানে যাচ্ছো"
"না লিলি।আমি যাব না"
লিলি আমার আগে কোনো কথা শুনে ছিল যে এখন শুনবে?সে আমাকে টেনে রুমের বাইরে নিয়ে এলো।
হকচকিয়ে গেলাম আমি,
"লিলি ড্রেসটা তো চেঞ্জ করি!"
"কোনো দরকার নেই।এই গেঞ্জি আর ট্রাউজারেই তোমাকে অনেক হট দেখাচ্ছে।তুমি এখন ড্রেস চেঞ্জ করতে ধরলেই আমি জানি একটা ফালতু ড্রেস তুমি পড়বা।তো কোনো দরকার নেই!"
"আচ্ছা ছাড়ো এখন!আমি নিজেই চলে যাব নিচে"
লিলির কাছ থেকে হাতটা ছেড়ে নিয়ে আমি সিঁড়িতে হাঁটতে লাগলাম।পড়নে আমার একটা ছোট ঢোলাঢালা পার্পেল রঙা গেঞ্জি আর কালো টাউজার।উফ!মাথার চুলটাও বাধতে পারলাম না।
নিচে ড্রয়িং রুমে এসে দেখি বাবা আর অভি কথা বলছে।আমি যেই ছেলের পার্সোনাল লাইফ সম্পর্কে জানার জন্য গত তিন বছর থেকে ঘুম হারাম করে দিয়েছি তার সবকিছু নাকি এখন আমার চোখের সামনেই।
আমি গিয়ে দাঁড়াতেই বাবা কথা বন্ধ করে আমার পাশে চোখ বড়-বড় করে দেখতে লাগলো।আমি জানি বাবা কেন অমন করে দেখছে।আমাকে দুপুরেই বলেছিল ট্রাউজার-গেঞ্জি বাদ দিয়ে ভালো কিছু পড়তে।
আমি বাবার চোখের সাথে চোখ মেলালাম না।অভি আমার পাশে দেখে একটা কাশি দিয়ে মাথা নিচু করে তার শুভ্রা রঙা শার্টের হাতার বোতামটা নাড়তে লাগলো।এত ঢং করার কি আছে?আমি জানি অভির মাথায় এখন কি চলছে।নিশ্চয়ই কিছু উল্টাপাল্টা চিন্তা করছে সে।লুচ্চা একটা!!
বাবা হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে বাধ্য হলো স্বাভাবিক হতে,
"মিরা,অভিকে সালাম দাও"
সালাম?মন তো চাচ্ছে সামনে রাখা কাচের টেবিলে তার মাথাটা দুই-তিনবার আছাড় দেই!তারপরেও আমি শান্তি পাব না।
মনের ইচ্ছা মনের মধ্যে রেখেই মুখে একটা নকল হাসি নিয়ে অভিকে সালাম দিলাম।অভি তার মাথা না উঠেই আমার সালাম নিল।আমি গিয়ে বাবার পাশে বসলাম।
বাবা আবার অভির সাথে কথা বলতে লাগলো,
"আমিতো এই প্রজেক্ট এর জন্য তোমার আব্বুকেই প্রথমে আসতে বলেছিলাম।কিন্তু তোমার আব্বু বলল দুই-তিন বছর পর নাকি তোমাকে কোম্পানির সি.ই.ও. বানাবে।তাই নতুন প্রজেক্টগুলো যেন তোমার সাথেই ডিসকাস করি"
আমি বাবার কথা শুনে বুঝলাম আমাকে ফাঁসানোর প্ল্যানে শুধু বাবা না তয়ন আঙ্কেলও আছে।
অভি তার মাথা তুলে বাবার পাশে দেখলো,
"হ্যাঁ আঙ্কেল।আব্বু আমাকে বলল কোম্পানিতে জয়েন করার আগে থেকেই কাজগুলো একটু হ্যান্ডেল করি।তাহলে আমার জন্য একটু সুবিধা হবে"
"তো,তোমাকে আমার কোম্পানির নেক্সট সি.ই.ও. এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলে মনে হয় ভালো হয়"
কথাটা বলতে নিয়েই বাবা আমার দিকে ঘুরলো,
"মিরা ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে বের হযলেই তাকে আমি আমার কোম্পানির সি.ই.ও. বানাবো"
অভি আমার দিকে ঘুরলো,
"আশা করছি ফিউচারে একসাথে কাজ করে ভালো লাগবে"
খাক ভালো লাগবে!!সে আর আমি কখনোই একসাথে থাকতে পারিনা!আমি পৃথিবীতে থাকলে তুমি জাহা'ন্নামে থাকবে এজেন্ট লুসিফার!
আমি মৃদু হেসে পর মুহুর্তেই আগের মতো গম্ভীর করে নিলাম সেই মুখোশ্রি।
বাবা আবার বলা শুরু করল,
"প্রজেক্ট এর কাজ কবে থেকে শুরু করবা?"
অভি বাবার প্রশ্নের উত্তর দিল,
"আঙ্কেল দুই মাস পর আমার ভার্সিটি থেকে একটা বড় বন্ধ আছে। তখন করলে মনে হয় সুবিধা হয়"
"ঠিক আছে।তোমার কথাটাই রাখি।আমি বেশি তাড়া দিব না।তো কত দিনের বন্ধ তোমার?"
"আঙ্কেল ১৫ দিনের সময় পাবো আমি আপনার সাথে কাজ করার"
বাবা হেসে উঠল।যেটা আমার একদম ভালো লাগলো না।
বাবা বলল,
"ভালো,খুব ভালো।এই ১৫ দিনে তোমার কি-কি প্রয়োজন সব আগেই গুছিয়ে রাখো"
অভি ভ্রু কুচকে শুধালো,
"মানে আঙ্কেল?"
আবার হেসে উঠল বাবা,
"মানেটা আবার কি?ওই ১৫ দিন এখানে থাকছো না?"
আমি বাবার কথায় চমকে উঠলাম।অভির পাশে দেখলাম। আমার চেহারায় যেই রিয়াকশন অভির চেহারায়ও সেই রিয়াকশন।বুঝতে পেরেছি।বাবা আর তয়ন আঙ্কেল প্ল্যানটা পাকাপুক্তভাবেই করেছে।আর অভিও হয়তো সেই ব্যাপারে তেমন জানে না।
অভি মুখ খুলল,
" আঙ্কেল মা-মানে?আমি এখানে থাকবো?"
বাবা আবারো মৃদু হাসলো।এতো হাসছে কেন বাবা?এই ছেলেটা আমাদের বাসায় থাকাতে এতো খুশির ক আছে?
হাসা শেষ হলে বলে উঠল বাবা,
"তোমার আব্বু মনে হয় তোমাকে বলেনি।আমরা যে প্রজেক্টের উপর কাজ করবো সেটা যদি শেষ করতে হয় তাহলে দিনের অর্ধেক সময়ই চলে যাবে।তুমি প্রত্যেকদিন দৌড়াদৌড়ি করবা জিনিসটা তোমার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে না।আর তুমি এখানে থাকলে প্রজেক্টটা নিয়ে কাজ করতে আমারও সুবিধা হবে তোমারও সুবিধা হবে"
অভি হালকা হাত নাড়িয়ে বলল,
"আঙ্কেল আমার সমস্যা নেই।আমি বাসা থেকেই কাজ করতে পারব"
"না অভি,আমি তোমার আব্বুর কাছ থেকে সম্মতি নিয়েছি"
এবার আমি কথার মাঝখানে মাথা ঢুকালাম,
"বাবা উনি থাকতে চাচ্ছে না তো তুমি জোর করছো কেন?"
বাবা তার চোখগুলো দিয়ে আমার পাশে এমন করে দেখল তাতে বুঝলাম যে কথার মাঝে আমার মাথা ঢুকানো ঠিক হয়নি।
বাবা অভির দিকে ঘুরলো,
"তো অভি!আমরা প্রজেক্টের কাজ শুরু করছি এবং তুমি আমাদের বাসায় থাকছো,দ্যাটস ফাইনাল!আই থিংক"
অভি জোরে একটা নিশ্বাস ছেড়ে মুখে হাসি নিয়ে বলল,
"আচ্ছা আঙ্কেল ঠিকাছে"
এতে মুখে হাসি নিয়ে কথা বলার কি আছে?এ কি সুযোগের সৎ ব্যবহার করবে নাকি?এখন তো মনে হচ্ছে এই ছেলেটাও এসব প্ল্যানের সাথে জড়িত।
আমি উঠে দাঁড়ালাম,
"বাবা আমার তো এখানে কোনো কাজ নেই। আমি যাই?"
"হ্যাঁ মিরা তুমি যেতে পারো"
আমি ড্রইং রুম থেকে বের হয়ে এলাম।কোনো কাজ ছিল না তো আমাকে ডেকেছিল কেন?ছেলের মুখ দেখার জন্য ডেকেছিল?!আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।যেই ছেলেকে আমি সহ্য করতে পারিনা সেই ছেলে নাকি পনেরোটা দিন,দিন-রাত আমার বাসায় ঘুর ঘুর করবে।আমি দ্বিতীয় দিনই আমার গলায় দড়ি দেয়ার জন্য দৌড়াবো।
রুমে এসে বিছানায় উভুর হয়ে শুয়ে কান্নার আওয়াজ বের করে হাত পা ছড়াছড়ি করতে লাগলাম।
লিলি রুমেই ছিল।আমার কান্ড দেখে সে ফিক করে হেসে উঠে বলল,
"কি?আঙ্কেল একদম বিয়ের কথা ঠিক করে দিয়েছে নাকি?"
আমি মাথা তুলে লিলির পাশে দেখলাম,
"লিলি আমার মেজাজ এমনিতে খারাপ আছে!তুমি আরো মাথা খেও না তো!"
"তো কি হয়েছে?এমন ভ্যাভ্যা করে কাঁদছো কেন?"
আমি আবার বিছানায় মাথা গুজে দিলাম,
"সেই ডিস'কাস্টিং ছেলেটা নাকি বাবার অফিসের কাজের জন্য আমাদের বাসায় প-নে-রো-টা দিন থাকবে!"
"ভালোই তো হলো।ওর সাথে ভালোভাবে পরিচিত হতে পারবা"
আবার লিলির দিকে ঘুরে চেচিয়ে উঠলাম আমি,
"লিলি তুমি আমার বন্ধু না শ'ত্রু!?"
লিলির হেলাফেলা কথা,
"আমি যদি তোমার শ'ত্রু হতাম তাহলে তোমাকে কিছুই বলতাম না। আমিই অভিকে পটিয়ে নিতাম"
আমি আবার বিছানায় মুখ গুঁজে গঙ্গাতে শুরু করি।
"হয়েছে আর ঢং করা লাগবে না"
নিজের শেষ বার্তা দিয়ে লিলি রুমের বাইরে চলে গেল।
কান্না করে লাভ নেই মিরা।এই ১৫ টা দিন তোকে সহ্য করতেই হবে।এমনকি এই ১৫ দিনের সৎ ব্যবহার করতে হবে তোকে।অভির ভিতর থেকে সব তথ্য বের করে নিতে হবে।কিন্তু ভেবেই অতি'ষ্ঠকর লাগছে যে ওর মুখটা দেখতে হবে প্রত্যেকটা দিন।
#চলবে