ফন্ট সাইজ:
থিম:
Secret

৭ম পর্ব

লেখক: Rosni Karim

#Secret—৭

#Rosni_Karim

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

(এজেন্ট "রোজ কাট"🌹)

গোসল করে বের হয়ে বিছানায় বসে মাথা মুসছি।দাদুর কারণেই চুলগুলো এতো লম্বা রেখেছি।দাদু আমাকে এই চুলগুলো কাটতেই দিত না। বলতো আমাকে নাকি অনেক মানায়।আরো বলতো এগুলো কাটলে নাকি আমি আরো নির্দয় হয়ে যাব।হালকা একটু হেসে উঠলাম।নির্দয় হওয়ার আর বাকি কি আছে?

এমন সময় পাশে রাখা বইটা ভাইব্রেট করে উঠলো।বইটা হাতে নিয়ে খুললাম। বইয়ের ভেতরের বক্সটা থেকে বাটন ফোনটা বের করলাম।আমার রুমে এমন অনেক বই আছে যেগুলো পড়ার উপযোগী নয়, কিন্তু তবুও আমার অনেক প্রয়োজনীয়।

ফোনটা অন করে দেখলাম একটা আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে।মেসেজটা সম্পূর্ণ কোড ওয়ার্ড দিয়ে লিখা।কোড ওয়ার্ডের ধরন দেখেই বুঝলাম এজেন্ট ব্লুর মেসেজ এটা।

মেসেজটাতে লিখা আছে,

'এ-রাঙ্কের মিশনের মিটিং আছে।কাল অফিসে আসিও।টাইম সকাল ১১ টা'।

অনেক দিন হলো কোনো মিশনে যাইনি।শেষের মিশনটা ডি-র‍্যাংকের ছিল।যেটাতে অভির সাথে টিমআপ করেছিলাম।

ভারী নিঃশ্বাস ছাড়লাম।প্রথম দিকে ওকে যখনই দেখতাম আমি মানসিকভাবে বিশৃংখল হয়ে পড়তাম।সহ্য পেত না,এখনো পায় না। যে আমার দাদুকে মেরেছে,সে সুস্থ-সবল শরীরে চলাচল করছে।

দাদু আমাকে একবার একটা কথা বলেছিল,

'স্পাই হওয়ার প্রথম রুল,নিজের অনুভুতিকে দমিয়ে রাখো'

সেই চিন্তা মাথায় রেখেই এতোদিন অভির সাথে মিশনগুলোতে কাজ করতে পাড়ছি।ওর সামনে স্বাভাবিক থাকতে পাড়ছি।ওর সামনে মাঝেমধ্যে মনে হয় মুখে হাসিটাও আনতে পাড়বো।এতোটাই পাথর হয়ে গিয়েছি আমি।কিন্তু ওর সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলাটা আমার পক্ষে সম্ভব না।পারি না আমি।দরকারও নেই আমার।

ফোনটা বইয়ের ভেতরে রেখে নিচে এলাম।

ডাইনিংয়ে সবাই বসে আছে।বাসায় মনে হয় এই একটা সময়ই সবাই একসাথে হয়,খাওয়ার সময়টা।তিন বেলা খাওয়ার সময়টাতেই সবার দেখা মেলে।

আমি গিয়ে বাবার ঠিক সামনে টেবিলের ওপর পাশে বসলাম।

বাবা গলা পরিষ্কার করল,

"মিরা"

মাথা না তুলেই বললাম,

"জি"

"কয়েকদিন পর অভি বাসায় আসছে। মুখটা একটু হাসি-খুশি রাখিও সব সময়"

এবার মাথা তুললাম আমি।বেশ বিরক্ত নিয়ে বললাম,

"বাবা তোমার এই কথাগুলো এই কয়দিনে আমার মুখোস্থ হয়ে গিয়েছে।সেদিন অভি যাওয়ার পর থেকে তুমি শুরু করেছ"

বাবা মাথা তুলে আমার পাশে গম্ভীর চোখে দেখতে লাগলো।

আমি আবার বললাম,

"তাকে কি তুমি আসলেই তোমার প্রজেক্টের কাজের জন্য বাসায় রাখছো,নাকি অন্য কিছুর জন্য?"

বাবা বাচ্চাদের মতো একটা শব্দহীন হাসি দিলো,

"পরিচিত হতে সমস্যা কোথায়?"

বাবার কথায় বুঝলাম প্রজেক্ট শুধু একটা বাহানা।

"বাবা আমার কোনো ইচ্ছা নেই"

বাবা মুখটা গম্ভীর করল,

"কি একটু খুশি হবে যে আমি তার জন্য পার্সোনালি একটা বয়ফ্রেন্ড বানিয়ে দিয়েছি এবং প্রেম করার সুযোগও দিচ্ছি,কিন্তু না।ম্যাডাম সেই সুবিধার সৎ ব্যবহারটাও করবে না"

আমি একটু অবাক হওয়ার দৃষ্টিতে বাবার দিকে দেখলাম,

"যুগ-জামানা যে এতো উন্নত হয়েছে আমার জানা ছিল না"

বাবা আবার গম্ভীর মুখ নিয়ে আমার পাশে দেখল।

আমি খাবার প্লেটে নজর দিয়ে বললাম,

"ওগুলো করে বেকার জীবনের মূল্যবান সময়গুলো ন'ষ্ট করার দরকার নেই"

জারিফ ভাইয়া গলা উচিয়ে বলল,

"সময় ন'ষ্ট না মিরা,মজাই লাগে!"

আমি মাথা হালকা উঠিয়ে আড় চোখে ভাইয়ার দিকে দেখলাম।সে তার ঠোঁটের উপর হাত দিয়ে আছে।তার কথাটা যে ভুল জায়গায় বলেছে সে বুঝতে পেড়েছে।

জয়া আপু কথা ঘুরিয়ে নিলো,

"কেন মিরা?আমি রিলেশনে নেই?আমি তো আব্বুর অফিসও সামলাচ্ছি এবং ওপাশেও ঠিক আছে"

জয়া আপু প্রেম করে সেটা বাসার সবাই জানে।প্রথমে যখন সে তার বয়ফ্রেন্ডকে মানে ইথিন ভাইয়ার ব্যাপারে বলেছিল কেউ মানে নি।কিন্তু ভাইয়ার সাথে দেখা করার পর মানতে বাধ্য হয়।ভাইয়াকে মানা করার জন্য কোনো কারণই ছিল না।সে একজন ডাক্তার।বর্তমানে আমেরিকায় আছে।জয়া আপু ও ইথিন ভাইয়ার কথা চিন্তা করলে আমার আসলেই মনে হয় তাদের বিয়ে হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা আছে।

জয়া আপুর প্রতি উত্তরে আমি বললাম,

"তোমরা দুজনই স্টাবলিস্ট আপু"

পর মুহুর্তেই মুখে একটা বিরক্তির ভাব নিয়ে বললাম,

"আর তোমাদের লং ডিস্টেন্স রিলেশন আর অভির ব্যাপার সম্পূর্ণ আলাদা"

বাবা জোরে একটা নিঃশাস ছাড়ল,

"আমি বুঝেছি।তোমাকে বুঝিয়ে কোনো লাভ নেই।কিন্তু অন্ততো ওর সাথে একটু ভালো ব্যবহার করিও"

অভির সাথে ভালো ব্যবহার?এটাই তো আমার দ্বারা হয় না।তবুও বাবাকে মি'থ্যা বললাম,

"ঠিকাছে"

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

হুডির টুপিটা মাথায় চড়িয়ে বাসা থেকে বের হয়ে এলাম। আশা করছি বাসার কেউ দেখেনি।দেখা?তারা তো খেয়ালই করে না। তাদের পার্সোনাল লাইফ থেকে বের হলে না তারা খেয়াল করবে আমি কখন কি করছি কি না করছি।এক দুপুরের কথা কি।আমি যদি কক্সবাজার গিয়ে দুই দিনের ট্যুর দিয়ে আসি লিলি বলা না পর্যন্ত কেউ বুঝতেই পারবে না।

বাসায় থাকার বেশিরভাগই সময় আমি রুমের ভেতরেই থাকি। ব্যাপারটা এরকম না যে আমি বের হই না।আমি বের হই।কিন্তু রুমে থাকার সময়টা বেশি।লিলি ছাড়া আমার রুমে তেমন কেউ আসে না।মিশনগুলোতে যাওয়ার সময় ওকে শুধু এটাই বলি

'আমার ভালো লাগছে না। একটু বাহিরে থেকে ঘুরে আসি'

যেহেতু তেমন কোনো বন্ধুও নেই আমার, আর আমি তেমন কারো সাথে কথাও বলি না তাই মনে হয় লিলি মনে করে আমি বাইরের তাজা হওয়া খাওয়ার জন্য যাই।তাকে প্রমাণ দেওয়ার জন্য কিছু করতে হয় না।মাঝেমধ্যে তার পছন্দের ব্লুবেরি চিজ কেকটা নিয়ে আসি।

এক দিক দিয়ে খেয়াল করলে দেখা যায় লিলি আমাকে এজেন্সির মিশনগুলো করার জন্য ছোটখাট একটু সাহায্যই করে।আর আমার ডেইলি এরকম ব্যবহারে লিলিও অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে।মেয়েটা খুবই সহজ-সরল।কিন্তু তারপরেও আমি যথেষ্ট সচেতন থাকি।

মিশনগুলোতে আসার সময় ওকে কথাটা বলে আমার খুব হাসি পায়।কারণ সে যদি জানতে পারত আমি বাইরে হাঁটতে যাচ্ছি না, বরং কারো হাঁটতে থাকা পা কা'টতে যাচ্ছি তাহলে সে নিজের চেকআপ করার জন্য নিশ্চয়ই কোনো সাইক্যাট্রিক্সের কাছে যেত।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

এজেন্সির অফিসে আসার সোজা রাস্তাটা আমার জানা থাকলেও সেটা দিয়ে আমি কখনো আসতে পারি না।সব সময় ঘোরানো-প্যাচানো রাস্তায় আসতে হয়। কেউ যদি কোনোদিন আমাকে ফলো করেও থাকে তাহলে সে মাঝ রাস্তায় এসেই রাস্তা ভুলিয়ে যাবে।

ফাঁকা রাস্তায় মাথা নিচু করে রাস্তা পার হলাম।একটা পুরাতন বিল্ডিং এর বড় কাঠের দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকি।বিল্ডিংটা তেমন পুরানো নয়।কিন্তু বাহির থেকে দেখলে মনে হবে অনেক পুরানো। বাইরের মানুষের কাছে এটি একটি পুরাতন নিউজ চ্যানেলের অফিস বিল্ডিং।কিন্তু একটা মজার বিষয় হলো যে এখানকার কর্মীদের কারণেই নতুন নিউজ চ্যানেলগুলোতে তাজা তাজা খবর আসে।

মাথা নিচু করে সোজা তিন তলায় উঠে গেলাম।সোজা মিটিং রুমে যাওয়া ছাড়া আমার এখানে আর কোনো কাজ নেই। মিটিং রুমে ঢুকে হুডির টুপিটা নামিয়ে দেই।সেখানে আগে থেকেই তিনজন আছে।দুটো ছেলে আর একটা মেয়ে।

মেয়েটা আয়না সামনে নিয়ে তার ঠোঁটে লিপস্টিক লেপ্টাচ্ছে।আর ছেলে দুটো,মানে এজেন্ট ব্লু আর এজেন্ট হ্যারি ফোন চালাচ্ছে। আমি গিয়ে গোল টেবিলটার কাছের একটা চেয়ার টেনে বসলাম।মেয়েটির দিকে ঘুরে বললাম,

"কি ব্যাপার এজেন্ট টক্সিক,টার্গেটকে কি এবার কিস দিয়ে মা'রার চেষ্টা করবে নাকি?"

এজেন্ট টক্সিক আমার দিকে ঘুরলো,

"না রোজ কাট।লুসিফার আসছে তো,তাই একটু নিজেকে পরিপাটি করছিলাম"

এজেন্ট টক্সিকের কথা শুনে আমার মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ল যেন,

"লুসিফার আসছে মানে!!"

চেচিয়ে উঠে আমি এজেন্ট ব্লুর দিকে ঘুরলাম।

তার মুখটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে আমার চোখগুলো দেখে কতটা ভয়ে আছে।এজেন্ট ব্লু ভালো করে জানে আমি অভিকে তেমন পছন্দ করি না।

সে আমতা-আমতা করে বলল,

"আ-আমিও জানতাম না লুসিফার আমাদের টিমে আছে"

এজেন্ট হ্যারি ফোন থেকে মাথা তুলল না,

"তুমিই তো ওকে ডাকলা।সে নাকি এই এলাকার ভালো হ্যাকার"

এজেন্ট হ্যারি ও এজেন্ট ব্লু একটু নড়ে উঠলো।বুঝতে পারলাম যে এজেন্ট ব্লু টেবিলের নিচে পা দিয়ে এজেন্ট হ্যারির পায়ে একটা পারা মে'রেছে।

এজেন্ট হ্যারি মাথা তুলে আগে এজেন্ট ব্লুর পাশে দেখল তারপরে আমার পাশে দেখল।ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল সে,

"না না!আমরা কেউ আসতে বলিনি।ওই লুসিফারটা নিজেই আসার জন্য দৌড়াচ্ছিল।এ-র‍্যাংকের মিশনের কথা শুনলে তার আবার মাথা ঠিক থাকে?ও তো শুধু ব'ন্দুক খালি করার ধান্দায় থাকে"

আমি আর কিছু বললাম না।তাদের পাশ থেকে মাথা ঘুরিয়ে নিলাম।

"হ্যাঁ হ্যাঁ,ওই পাশে গিয়ে বাম পাশে যাবেন।আর আমি একটা নাম্বার সেন্ড করছি ওখানে কল করুন। আমাকে আর কল দিয়েন না"

বুঝতে পারলাম অভি রুমে ঢুকেছে।

এজেন্ট ব্লু অভির উদ্দেশ্যে বললো,

"কোনো বুড়ো দাদিকে রাস্তা দেখিয়ে দিলে,নাকি সুগার দাদিকে রাস্তা দেখিয়ে দিলে?"

অভি এসে আমার পাশের চেয়ারটায় বসলো,

"সুগার মমি ভাগ্যে জুটলো না,আবার সুগার দাদি জোটাতে এসেছে।পিজা অর্ডার করেছিলাম আমি!তুমি আবার আমার শান্তি দেখতে পাও!?হুট করে এরকম মিশনে ডাকার কি দরকারটাই ছিল?এরকম দিনের আলোতে সবসময় আসা যায়?"

এজেন্ট ব্লু ঢোক গিলে আমার দিকে দেখল।অভি ফাস করে দিয়েছে যে এজ্রন্ট ব্লু-ই তাকে ডেকেছে।এবং একদম জোরাজোরি করে নিয়ে এসেছে।

এজেন্ট ব্লুর ভয়ার্থ চোখ জোড়া দেখে একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে তাকে ইশারা করে বুঝালাম

'অভি থাকলে কোনো সমস্যা হবে না আমার'

স্বস্থির শ্বাস ফেলে এজেন্ট ব্লু অভির দিকে ঘুরলো,

"আরে লাস্ট মোমেন্টে জানতে পারলাম।কয়েকটার মাথায় নাকি গু'লিও ঢুকাতে হবে।ওটাতে তো তুমি আর রোজ কাট বেশি পারদর্শী।তাই তোমাকে ডাকাটাও ভালো মনে করলাম"

আমি এদিকে চেয়ারটা নিয়ে এজেন্ট টক্সিকের কাছে অনেকটা সরে এসেছি।ওই নর্দ'মার কী'ট অভির সাথে বসার আমার কোনো ইচ্ছা নেই।

অভি মুখে হাসি নিয়ে আমি আগে যেখানে বসেছিলাম ওপাশে ঘুরলো।আমাকে না দেখতে পেয়ে একটু ভড়কে উঠল সে।আমার দিকে ঘুরে বললো,

"রোজ তুমি ওপাশে গেলে কেন!?"

তার উত্তরে আমি বললাম,

"তোমার গা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে"

রুমের বাকি ৩ সদস্য মুখ টিপে হেসে উঠলো।

অভি প্রতিবাদের সুরে বলল,

"সম্ভবই না!তুমি এখানে আছো ওটা জেনেই আমি আজকেই নতুন পারফিউমের বোতলটা খুলে গায়ে স্প্রে করে এলাম"

"সরি টু সে, বাট তোমার ওই বা'লের পারফিউম কোনো কাজে দিবে না"

অভি তার সামনের ভ্রু অব্দি চুলগুলো ব্যাক ব্রাশ করে মুখে হাসি আনল,

"বুঝতে পেরেছি।তোমাকে আমার নিজস্ব সুগন্ধ দিয়েই পটাতে হবে"

"মাই ফুট!এখানে মিশনে যাওয়ার জন্য এসেছো না আমাকে পটানোর জন্য?!"

"মিশনে তো ডেইলিই যাওয়া যায়,তোমার এই মুখখানা তো আর প্রত্যেকদিন দেখা যায় না"

আমি মুখে হাসি নিয়ে চাপা কর্কশ গলায় বললাম,

"টেনশন নিও না।তোমার জীবনের শেষ মুহূর্তে তুমি আমাকেই দেখবা"

"ওটা যদি শেষের সাত সেকেন্ড হয় তাহলে তো আমার কোনো আপত্তি নেই"

অভির শেষের সাত সেকেন্ডের কথাটা আমি বুঝতে পারলাম।মানুষের মৃত্যুর পর নাকি সাত সেকেন্ড তার মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।আমার কোনো আপত্তি নেই অভির ওই সাত সেকেন্ডের স্মৃতি হবার।আমি চাই সে যেন তার ওই সাত সেকেন্ডেও ভ'য়াবহতা অনুভব করে।

এজেন্ট টক্সিক গলা পরিষ্কার করল,

"লুসিফার তুমি টেনশন নিও না।আমি তোমার পারফিউমের স্মেল এখান থেকে পাচ্ছি।এন্ড ইটস সো গুড "

এজেন্ট টক্সিক 'সো গুড' এই শব্দ দুটাতে একটু বেশিই টান দিয়ে বলল।ন্যাকা!

অভির মুখটা সাথে সাথে অন্ধকার হয়ে গেল,

"তোমাকে কেউ জিজ্ঞেস করেছে?ছেলেদের গায়ের পারফিউমের স্মেল নেওয়া বাদ দিয়ে মিশনে মনোযোগ দাও"

অভি এজেন্ট হ্যারির দিকে ঘুরলো,

"বসে বসে মজা না নিয়ে ডিটেলস বলা শুরু করো!"

এজেন্ট হ্যারি একটা হাসি দিয়ে সামনে গিয়ে হোয়াইট বোর্ডটার কাছে দাঁড়ালো।সেখানে আগে থেকেই মিশনের সব বিস্তারিতভাবে দেওয়া আছে।

এজেন্ট হ্যারি বলা শুরু করলো,

"দুই সপ্তাহ আগে ঢাকার বাইরে এক জায়গায় বো'ম ব্লা'স্ট হয়েছে। ছোটখাটো জায়গা দেখে আশেপাশের তেমন ক্ষ'তি হয়নি।প্রথমে মনে করা হয়েছিল ট্রান্স'ফরমা বা'স্ট হওয়ার কারণে হয়েছিল।কিন্তু তার দুইদিন পর একই দিনে দেশের দুই জায়গায় আবার বো'ম ব্লা'স্ট হয়।আমাদের এই এরিয়ায় এখনো কোনো বো'ম ব্লা'স্ট হয়নি। তো এখানে হওয়ার চান্স আছে।সেটা হওয়ার আগেই আমাদেরকে খোঁজখবর নিয়ে বের করতে হবে কে এগুলো করছে।মিশন কমপ্লিট করার জন্য আমাদের কাছে আনলিমিটেড সময় আছে।কিন্তু সেই আনলিমিটেড টাও লিমিটেড।কারন আমরা এখনো কিছু জানি না কে কখন কোথায় বো'ম ব্লা'স্ট করবে"

এজেন্ট হ্যার শ্বাস নিয়ে আবার বলল,

"আপাতত এতটুকুই।আমরা এই পাঁচজন ইন্ডিভিজুয়ালিও কাজ করব আবার মাঝেমধ্যে টিমআপ করেও কাজ করব।যে যতটুকু পারো ইনফরমেশন কালেক্ট করবা।এনি কোয়েশ্চেন?"

"নো স্যার!!"

আমরা বাকি চারজন সজোরে বলে উঠলাম।

এজেন্ট হ্যারি বলল,"দ্য মিটিং ইজ ওভার।আপনার এখন যেতে পারেন "

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

বিল্ডিং থেকে বের হয়ে প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে মাথা নিচু করে হাঁটছি।বুঝতে পারলাম আমার পেছনে আরো কেউ হাঁটছে।

আসলেই অভি আজকে নতুন পারফিউম ইউজ করেছে।তার ডেইলি পারফিউমের থেকে এই সেন্টটা আলাদা।

আমি পেছনে ঘুরলাম,

"তোমার ম'রার খুব শখ হয়েছে,তাই না?প্রতিবার মিটিংয়ের পরে এরকম আমার পিছনে-পিছনে কেন হাঁটো!!"

অভি প্রশ্ন সূচক মুখ নিয়ে বলল,

"আমার যে পাশে যাওয়ার দরকার তুমিও ওই পাশে যাও।তো এটাতো আমি কি করব! "

আমি অভির দিকে একটু এগিয়ে এলাম,

"তোমাকে একটা এডভাইস দিব,নিবা?"

অভি মুখে মৃদু হাসি ফুটালো,

"কি এডভাইস শুনি একটু "

"আমার বাসায় যে ১৫ দিন থাকার প্ল্যান করছো ওটা ক্যান্সেল করো"

অভি মুখটা অন্ধকার করলো,

"জানতাম আমি!তুমি চাও আমার কোম্পানির যেন লস হয়,তাই না?তোমার বাবার কোম্পানি জয়েন করার আগে থেকেই বসগিরি খাটা শুরু করে দিয়েছো?"

"আমি আমার বাবার কোম্পানির ব্যাপারে বলছি না।আমার বাসায় থাকলে তোমার জীবন অনেক রি'স্কি হয়ে যাবে সেটার কথা বলছি"

অভি মুখে আবার মৃদু হাসি ফুটালো।পকেটে হাত ঢুকিয়ে বলল সে,

"ওটা তো আমি সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম।তুমি ওরকম ড্রেসাপে বাসায় ঘোরাফেরা করলে আমি আবার জীবিত থাকব কেমন করে।কি লাগছিল তোমায় ঐদিন,জানো!আমার ভেবেই ভালো লাগছে। বিয়ের পরে প্রত্যেকদিন আমি তোমাকে ওরকম দেখব"

এই ছেলেটা যে আমাকে এতো ব'দনজর দিয়ে দেখে আমার জানা ছিল না।কিন্তু আমি তাকে বাকি মেয়েদের সামনে কখনো এরকম করতে দেখিনি।আমার রা'গ মাথায় উঠছে।এই ক্যারে'ক্টারলেস ছেলেটা আমাকে বিয়েও করতে চায়!

"এতো কনফিডেন্স তোমার কই থেকে আসে!?এমন করে বলছো মনে হচ্ছে আমাদের বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে!"

ভড়কালো অভি,

"ওমা!কেন তুমি জানো না?"

"কি জানব!?"

"আমি অবশ্য রুবায়েদ আঙ্কেলকে দোষ দিব না।তোমাকে এখনই বললে এই যে আমি এখনই দেখছি তোমার রিয়েকশন কেমন হবে"

আমি কর্কশ চাপা গলায় বললাম,

"আমাকে কি তোমার গোলাপ ফুলের নরম পাপড়ি মনে হয়!?আমার জীবনের ডিসিশন আমি ছাড়া কেউ নিতে পারবে না!"

অভি তার মাথাটা আমার দিকে একটু ঝুকে আনলো।কোমল কন্ঠে বলল সে,

"আমি জানি তো,আমার রোজ গোলাপ ফুলের উপরের নরম পাপড়ির মতো না।নিচের কাটার মতো"

অভি কোমল দৃষ্টিতে আমার চোখগুলোর পাশে দেখে আছে। আমার চোখগুলোও তার পাশে দেখে আছে।কিন্তু সেগুলো চা'কুর থেকেও ধা'রালো।

অভি কিছুক্ষণ আমার দিকে দেখে থেকে বলে উঠল,

"ঠিক আছে।তুমি যখন এতোই রিকোয়েস্ট করছো তাহলে থাকলাম না তোমার বাসায়।হবু বউয়ের প্রথম আবদারটা তো রাখতেই পারি আমি"

আমি আর কিছু বললাম না।উল্টো পাশে ঘুরে জোড় পায়ে হাঁটা শুরু করলাম।আমার হাতগুলো আর কন্ট্রোলে থাকছিল না।কোমরের পেছনে গুজা চা'কুটা বের করে তার চোখ দুটো ফুটা করে দিতে ইচ্ছা করছিল।কিন্তু না।তাকে এত সহজে আমি মা'রব না।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

কলেজ থেকে বাসায় এসে সোজা আমার রুমের দিকে যাচ্ছি।মাথা তুলতেই চমকে উঠলাম।অভি বারান্দার রেলিংয়ে হেলান দিয়ে মুখে শয়তানি হাসি নিয়ে আমার পাশে দেখছে।

তাকে দেখতেই মনে হলো আমার শরীরে কেউ সাপের বি'ষ ছেড়ে দিল।অস'হ্যকর একটা চেহারা তার!

ট্রাউজারের পকেটে দুই হাত গুজে আমার সামনে এসে দাড়াল সে,

"সরি। আমার হবু বউয়ের প্রথম আবদারটাই আমি রাখতে পারলাম না।বলো।কি শাস্তি দিবে আমাকে?"

মাড়ির দাঁতগুলো আমি চেপে ধরে কর্কশ কন্ঠে বলে উঠলাম আমি,

"তোমার বুকে গু'লি করে সেই গু'লি করা জায়গাটা জং ধরা ধা'রবিহীন চা'কু দিয়ে খো'দাই করে তুলে ফেললেও আমি শান্তি পাব না"

অভির মুখের হাসিটা এখনো নামেনি,

"হার্টটা বের করার জন্য এতো পরিশ্রম কেন করবা রোজ?বললে তো আমি নিজেই বের করে দেই"

"তোমার ওই পরি'ত্যক্ত নর্দ'মার হার্ট তোমার কাছেই রাখো"

আমি জোর পায়ে এসে রুমের দরজাটা লাগিয়ে দেই।

আমি জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলাম।অভির মুখের হাসিটা আমাকে জ্বালিয়ে মা'রছে!মনে হচ্ছে তার ওই হাসিটা আমাকে বলছে,

'তুমি কিছুই করতে পারছো না এজেন্ট রোজ কাট। আর পারবেও না'

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন