ফন্ট সাইজ:
থিম:
Secret

১০ম পর্ব

লেখক: Rosni Karim

#Secret—১০

#Rosni_Karim

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

(এজেন্ট "লুসিফার"🗡️)

বর্তমানে আমার সিচুয়েশনটা এমন,একটা ট্রাউজার গায়ে দিয়ে ঘাড়ের মধ্যে তোয়ালে নিয়ে বিছানায় রাখা পাঁচটা শার্টের দিকে আমি দেখে যাচ্ছি।

ছেলেরাও যে এমন সিচুয়েশন ফেস করে সেটা আমি আজকে বুঝলাম।মিরার সাথে ফার্স্ট টাইম ডেটে যাচ্ছি।ভালো কিছু তো অবশ্যই পড়ে যেতে হবে। ইচ্ছে ছিল মিরার সাথে ম্যাচিং করার।কিন্তু ম্যাডামকে যদি আমি এখন বলি ম্যাচিং করব, তাহলে হতে পারে সে এই বাইরে যাওয়াটাও ক্যানসেল করে দিবে।

কোনো উপায় না দেখে কফি কালারের একটা লং স্লিভ পোলো শার্ট আর একটা পিচ ব্ল্যাক ডার্ট চকলেট কালারের ওল্ড মানি প্যান্ট পড়ে নেই।ব্ল্যাক লেদারের ওয়াচটা পড়তে পড়তে রুম থেকে বের হলাম।মিরা নিশ্চয়ই এখনো সাজুগুজু করছে।

কিন্তু দরজা খুলে দেখলাম মিরা আগে থেকেই বারান্দার রেলিং-এ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার ড্রেসাপ দেখে আমার গায়ে বিদ্যুৎ পড়লো।

স্কিনি ব্লাক টপের উপরে একটা কফি কালারের শর্ট ডেনিম আর নিচে ব্ল্যাক জিন্স।আমার ইচ্ছা পুরা মাটি করে দিল এই মেয়েটা!

তেড়ে গিয়ে তার সামনে দাঁড়ালাম,

"রোজ তুমি এই গেটাপে কেন?"

মিরা আমার দিকে ঘুরলো।প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে বলল,

"কেন?সমস্যা কি এটাতে?"

"মানুষ ডেটে এগুলা পড়ে যায়?চুরিদার ধরণের অন্তত কিছু পড়তে!"

"তুমি তো দেখছি আমার থেকেও ভালো মেয়েদের ড্রেস সম্পর্কে জানো"

"দেখো টপিক চেঞ্জ করিও ন!তুমি চেঞ্জ করে আসো এটা"

মিরা মুখটা অন্ধকার করে চাপা গলায় বলল,

"প্রথমত,আমি যেটাতে কমফোর্টেবল আমি ওটাই পড়বো।তোমার কথায় আমি চলবো না।দ্বিতীয়ত,আমরা ডেটে যাচ্ছি না এজেন্ট লুসিফার।আমরা মিশনে যাচ্ছি"

এই মেয়েটার মন বলে আসলেই কিছু নেই।

মিরা গলার চাপা কন্ঠটা সরিয়ে ঠোঁটের কোনায় হাসি নিয়ে বলল,

"তুমি তো দেখছি ভালোই সাজগোজ করেছ।মিশনে তুমি আবার কবে থেকে এরকম ড্রেসআপ পড়া শুরু করলা?"

মিশন ছাড়া এই মেয়েটার মাথায় কিছুই ঘোরে না।কোনো সমস্যা নেই অভি।কাম ডাউন।ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।প্রথমদিকে হতেই পারে এমন।আমি মিরার প্রশ্নের উত্তর দিয়েই সিড়ির দিকে এগুলাম,

"চলো লেট হয়ে যাচ্ছে"

আমরা বাসা থেকে বের হবো এই সময় রুহান আঙ্কেল বাসায় এসে ঢুকলেন,

"আরে! তোমরা দুজন ঘুরতে যাচ্ছো নাকি!?"

মিরা বলল,

"হ্যাঁ আঙ্কেল।বাইরের একটু বাতাস খেতে যাচ্ছি"

এই মেয়েটা বাইরের বাতাস খাওয়াবে না বি'ষ খাওয়াবে আল্লাহ মাবুদই জানে।

রুহান আঙ্কেল বললেন,

"যাও যাও, বিয়ের আগে একটু কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করো"

আমি মিরার দিকে ঘুরিনি। কিন্তু আমি জানি মিরার মুখের এক্সপ্রেশনটা এখন কেমন হবে।বাংলার পাঁচ করে রেখেছে এখন মুখের এক্সপ্রেশনটা সে।একটু ঘুরে আশ্বস্ত হয়ে নেই।আমি মিরার দিকে ঘুরলাম।ইয়েস,আই এম আ্যাবসল্যুটলি রাইট!মিরার মুখটা বাংলার পাঁচের মতোই হয়ে আছে।বিয়ের কথা শুনলেই এই মেয়েটার মুখটা এমন হয়ে যায়।

রুহান আঙ্কেল আর কিছু না বলে হাসতে হাসতে বাসার ভেতরে চলে গেলেন।মিরা গড গড করে বাসা থেকে বের হয়ে গেল।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

গাড়ি চলছে।কিন্তু মাঝে মাঝে হর্নের শব্দটা ছাড়া গাড়ির ভেতরে আর কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না।এই মেয়েটা এতো চুপ হয়ে বসে থাকতে পারেই বা কেমনে?ট্রাফিকের লাল লাইট দেখে গাড়ি থামালাম। ডান পাশে চোখ পড়তেই দেখলাম একটা বাচ্চা এক ডালি গোলাপ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইস, ফুলগুলো দেখতে একদম আমার রোজের মতো সুন্দর।

আমি মিরার দিকে ঘুরলাম,

"রোজ তুমি কোন ফুল পছন্দ করো?"

মিরা বুকে হাত দুটো বেধে জানালার পাশে দেখে আছে।সে আমার দিকে মাথাটাও ঘুরালো না,

"আমি ফুল পছন্দ করি না"

"অসম্ভব।এমন কোনো মেয়ে নেই যে ফুল পছন্দ করে না"

সে তার মাথাটা আমার দিকে ঘুরালো,

"আমি আছি"

একটা মেয়ে কি পরিমাণে পাথর হলে ফুল পছন্দ করে না সেটা বুঝতে পারছি আমি।তুমি টেনশন নিও না রোজ।আমি তোমাকে ফুল পছন্দ করা শিখাবো।আমি তার পাশ থেকে ঘুরে গোলাপ ফুল ধরে রাখা বাচ্চাটাকে ডাক দেই।

ফুল তো নিয়েছি। এখন মিরাকে দিব কেমন করে?

মিরা আবারও তার মাথাটা জানালার পাশে করেছিল।এটাই সুযোগ।আস্তে করে গোলাপটা তার চুলের বেনির গোড়ায় ঢুকে দিলাম।টেরও পায়নি সে।এজেন্ট লুসিফার এর হাত তো আর এমনিতেই এতো নিখুঁত না!

তাকে দেখে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস আপনাআপনি ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো।কি সুন্দর লাগছে।লম্বা কালো বেনিটার মাঝখানে একটা লাল টকটকে গোলাপ ফুল।একদম টাইম ওয়েস্ট করলাম না। ফোনটা বের করে সাথে সাথে একটা ছবি তুলে নিলাম।আমার ফোনে আমার রোজের প্রথম ছবি!

"এমন ফোনের পাশে দেখে দাঁত না কেলিয়ে গাড়িটা চালাবা?ট্রাফিক গ্রীন সিগন্যাল কখন দিয়ে দিয়েছে"

মাথা উঠিয়ে মিরার পাশে দেখে সামনে দেখলাম।আশেপাশে কোনো গাড়ি নেই। ট্রাফিক সিগনাল কখন গ্রিন হয়ে গিয়েছে?তাড়াতাড়ি গাড়িটা স্টার্ট দিলাম।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

মিরা যেই দুটো জায়গার ইনফরমেশন বের করেছিল তার মধ্যে একটা জায়গার একটু দূরে গিয়ে আমি আমার গাড়িটা থামালাম।এখান থেকে এখন হেঁটে যেতে হবে।গাড়ি নিয়ে বেশি কাছে যাওয়া যাবে না।

জায়গাটা কিছুটা শহরের বাইরে।একটা পরিত্যাক্ত পেট্রোল পাম্প।পেট্রোল পাম্পটার পাশে একটা বড় পরিত্যক্ত বেসমেন্টও আছে।আমরা সেখানে ঢুকে খোঁজাখুঁজি করতে লাগলাম।কেউ নেই।পুরো জায়গা ফাঁকা।কিন্তু ভেতরের পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে যে এখানে এক-দুই দিন আগে নিশ্চয়ই কোনো কাজের জন্য কিছু লোক ছিল। আশেপাশে অনেক ড্রাম,ঘাস, ছোবড়া,তার,প্লাস্টিক আরো অনেক কিছু।জিনিসগুলা নিখুঁতভাবে দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে,হ্যাঁ, এখানে বো'ম বানানোর সম্ভাবনা আছে।কিন্তু হুট করে জায়গাটা ফাঁকা হওয়ার জিনিসটা বোঝা যাচ্ছে না।

"আমি না এক সপ্তাহ আগে ইনফরমেশন নিয়ে দেখলাম এখানে লোকজন ছিল"

মিরার কথায় আমি তার দিকে ঘুরলাম,

"হতে পারে টের পেয়ে গিয়েছে।তাই ভেগেছে"

"টের পাওয়ার তো কথা না"

"আচ্ছা তুমি যে আর একটা জায়গার কথা বললে ওখানে গিয়ে একবার চেক করে দেখি"

আমরা আর সেখানে বেশিক্ষণ দাঁড়ালাম না।আবার গাড়ি নিয়ে মিরার খোঁজ পাওয়া দ্বিতীয় জায়গাটাতে চলে গেলাম।

এই জায়গাটা শহরের মধ্যে। কিন্তু একটু ভেতর দিকে।কয়েকটা বড় ছোট গলি পার হয়ে জায়গাটাতে যেতে হয়।একটা পুরাতন পরিত্যক্ত বাড়ি।মাঝে মাঝে ভেবে অনেক হাসি পায়।এদেরকে পরিত্যক্ত জায়গা ছাড়া কেউ গ্রহণ করে না।

আশ্চর্যের কথা হলো এই জায়গাটাও ফাঁকা।ব্যাপারটা ঠিক মাথায় ঢুকছেনা।

"রোজ। তুমি কি ঠিকমত ইনফরমেশন নিয়েছো?.."

কথাটা বলে মিরার দিকে ঘুরতেই আমি আতকে উঠি।রাগে মিরার চোখমুখ সব লাল হয়ে গিয়েছে।স্বাভাবিক।এতো কষ্ট করে সে দুটো জায়গার ইনফরমেশন কালেক্ট করেছে অথচ সেখানে কোনো মানুষ এখন নেই।

কোনো কিছু না পেয়ে আমরা বাইরে বের হয়ে এলাম।বাড়িটার সামনের গেট দিয়ে বের হতেই একটা লোক চোখে পড়ল।ভাবলাম লোকটাকে একবার জিজ্ঞেস করা যাক।

"এই যে চাচা, শুনছেন?"

লোকটা আমার দিকে ঘুরল,

"জ্বি "

"দুই তিন দিন আগে কি এই বাড়িতে কোনো লোক ছিল?"

"এ বাড়িতে আগুন ধরার পরে বাড়ির লোক যে কবে চলে গেছে"

"না না চাচা, আমি ওটা বলছি না। দুই তিন দিন আগে বাইরের কোনো লোককে কি আপনি এখানে দেখেছিলেন? "

"হ দেখছি তো"

"কেমন দেখতে ছিল?"

"এই যে দুইজন আমার সামনে দাঁড়ায় আছেন"

মুখটা আমার ঝাত করে অন্ধকার হয়ে গেল।শা'লা বুইড়া ব্যাটা পাগল নাকি?আমি কি জিজ্ঞেস করছি আর কি বলে!নিজেকে একটু শান্ত করলাম।

"চাচা আমরা না। আমরা বাদে দুই-তিন দিন আগে কাউকে এখানে দেখেছিলেন?"

লোকটা ২ মিনিট ধরে মাথা চুলকে কি যেন চিন্তা করল।মিরা ওদিকে পেছনে রাগে ফোঁসফোঁস করছে।কখন যে এসে লোকটার মুখে সে একটা ঘুষি মারে আমি টেনশনে আছি।

"হ হ মনে পড়ছে!"

"কি চাচা তাড়াতাড়ি বলেন!"

মিরার কাছ থেকে লোকটাকে বাচার আমি আপ্রাণ চেষ্টায় আছি।

"একটা দুইটা না।অনেকগুলা লোক আছিলো।অনেক কিছু মালপত্র নিয়ে আসে ছয় দিন হলো ঢুকছে।কাইলকে চলে গেছে"

বুঝলাম হ্যাঁ,এখানে আসলেই কিছু গোলমিল চলছিল।কিন্তু কোনো খবর পেয়ে তারা পালিয়ে গিয়েছে।কিন্তু কি পুলিশের ভয়ে না কিসে সেটা মাথায় ঢুকছেনা।

"আচ্ছা চাচা আপনি যান এখন"

মিরা আর আমি গাড়িতে এসে বসলাম।গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলাম।তারা দুদিন আগে এখান থেকে চলে গিয়েছে কেন?আমরা ছাড়া এই মিশনটা কেউ হ্যান্ডেল করছে না। পুলিশের এখানে মাথা ঢোকার কোনো কথা নেই।তাহলে কি তারা ইচ্ছা করেই বারবার জায়গা বদল করছে যেন আমরা তাদেরকে ধরতে না পারি?

আমি মিরার দিকে ঘুরলাম,

"রোজ..."

মিরা তার ঠোঁটের উপরে ডান হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলটা দিয়ে গভীরভাবে কি যেন চিন্তা করছে।জানি আমি মিশনের ব্যাপারেই সে চিন্তা করছে।কিন্তু কি মায়াবতী লাগছে তাকে!

স্টেয়ারিংটার উপরে ডান হাতের কনোই এর ভর দিয়ে সেটাতে গাল লাগিয়ে তার পাশে দেখতে লাগলাম,

"রোজ। তোমার ইনফরমেশন খোঁজা তো শেষ হয়েছে। চলো না এখন একটা ক্যাফেতে যাই"

মিরা আমার দিকে ঘুরলো না,

"সোজা বাসা চলো"

এই মেয়েটা মন খারাপ করার কথা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেনা।

"এখন আর তোমার কথা খাটবে না। তুমি আমার গাড়িতে বসে আছো। আমি এখন তোমাকে যেখানে নিয়ে যাব তুমি সেখানেই যাবা"

মিরা আমার দিকে ঘুরলো,

"বেশি কথা বললে পিস্ত'লের গু'লি মাথার এপাশ দিয়ে ঢুকিয়ে ওপার দিয়ে বের করে দিব।তুমি এখন সোজা বাসা যাচ্ছো"

আমি মিরার কথায় কান দিলাম না।সামনের ভ্রুর কাছের চুলগুলো ব্যাক ব্রাশ করে ঘাড়ের পেছনে ছোট চুল গুলোর উপরে হাত দিয়ে হেলান দিয়ে আরেকটা হাত দিয়ে স্টেয়ারিং ঘুরালাম।

"অভি আমরা এখন বাসায় যাচ্ছি!"

দিবোনা আমি তার প্রশ্নের উত্তর।তার অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর আমার কাছ থেকে না পেয়ে সে হাঁপিয়ে চুপ হয়ে গেল।

ক্যাফেতে ঢুকে সে দ্রুত পায়ে হেঁটে একটা টু সিটের টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়।আমি ধীর পায়ে গিয়ে তার সামনে বসলাম।

টেবিলের উপর একটু ভর দিয়ে মিরা আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল,

"অনলি টেন মিনিটস।এর থেকে এক সেকেন্ডও বেশি না"

আমি ওয়েটারকে ডাক দিয়ে দুটো ক্যাপাচিনো অর্ডার দিলাম।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

আমার অর্ধেক ক্যাপাচিনো শেষ। তারপরেও এই মেয়ে শুধু ক্যাপাচিনোই মুখে ঢুকাচ্ছে আর কিছুই বলছে না।

এতো চুপচাপ বসে থেকে আমার মাথা বিরবির করছে,

"রোজ তুমি কি আমার সাথে একটা কথাও বলবা না?"

অন্য দিকে মাথা ঘুরানো অবস্থায়ই মিরা চাপা গলায় বলল,

"সরি টু সে মিস্টার আমরিদ অভি। বাট আপনার সাথে কথা বলার আমার কোনো ইচ্ছে নেই"

"এটা কোনো কথা হলো!তুমি কেন জানি একদম উঠে পড়ে লেগেছে!তোমার সমস্যাটা কি বলতো!"

মিরা আমার দিকে ঘুরে ঠোঁটের কোনা বাকিয়ে একটু হেসে উঠলো।অতঃপর হালকা ঝুকে এসে হিসহিসিয়ে বলল,

"ইট'স আ সিক্রেট।যেই সিক্রেটটা তুমি কখনোই বুঝবে না"

সিক্রেট?আমাকে ঘৃণা করার জন্য আবার কিসের সিক্রেট বানিয়ে রেখেছে এই মেয়েটা?আবার আমি নাকি সেটা বুঝবোও না।একবার বলে তো দেখুক।কিন্তু সেটা তো আবার ম্যাডাম বলবেন না আমাকে।এই মেয়েকে বোঝা আসলেই অনেক কঠিন।

দিনশেষে ওই,মিরা কোনো কথাই বলল না আমার সাথে।ওয়েটারের সাথে তো কি সুন্দর করে কথা বলছিল।আমার সাথে কথা বললে কি হয়!?এক দিক দিয়ে ভালোই আছে।বেশি মাথা খায় না।

ক্যাফে থেকে বের হয়ে গাড়িতে বসেছি।কিন্তু হাতটা অনেক নিসপিস করছে।ওই শালা ওয়েটারের মুখে একটা ঘুষি মারা বাধ্যতামূলক ছিল।যেখানে আমার রোজ আমার সাথে কথা বলে না সেখানে ওর সাথে কেন কথা বলবে!?

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

বাসার ভেতর ঢুকতেই জয়া আপু ড্রয়িং রুম থেকে বলে উঠলো,

"আরে মিরা, তোমার মাথায় গোলাপ ফুল দেখছি কেন জানি"

জয়া আপুর কথা শুনে মিরা একদম থমকে দাড় হয়ে গেল।এই সেরেছে।কি যে করে এখন?

মিরা হাত দিয়ে আলতো করে তার মাথার গোলাপ ফুলটা ধরল,

"ওই রাস্তায় দেখেছিলাম তো ওই জন্য নিয়েছি"

"তুমি নিয়েছো না অভি দিয়েছে?"

আমি তাদের কথার মাঝখানে ঢুকলাম।মুখে একটা লাজুক হাসি নিয়ে বললাম,

"আমি দিয়েছি আপু"

কথাটা বলে মাথাটা উঠাতেই মিরার অ'গ্নিগিরির মতো জ্ব'লন্ত চোখগুলোর দেখা মিলল আমার।আমাকে কোনো কিছু না বলে সে জোর পায় তার রুমের দিকে হাটা দিল।

জানি আমি,ফুলটার সে এখন বারো অবস্থা করবে।জোরে একটা নিশ্বাস ছাড়লাম।যাইহোক, মিরার সাথে প্রথম ডেটে তো গিয়েছি।আপাতত এটাই আমার সার্থকতা।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন