ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাইকো টাইম

২৩তম পর্ব

লেখক: রিয়াজ রাজ

#সাইকো_টাইম ( পর্ব-২৩)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ

-------------------------------

ঢাকনা খোলা ছাড়া বের হওয়া অসম্ভব। কিন্তু রিয়াজ তার চেষ্টা চালাতেই থাকে।

আর অন্যদিকে শহরে সাইকোর তান্ডব বাড়তেই থাকে।

যেখানে - সেখানে পাওয়া যায় মেয়েদের লাশ।কিন্তু আগের মতো মাথা এবং বডি আলাদা করে নয়। একি স্থানে কাটা মাথা,কাটা পেট,কাটা পা,কাটা হাতের অংশ পড়ে থাকে। এ যেনো এক ভয়ংকর প্রকৃতির হুংকার।

টিভিতে এমন নিউজ দেখে নাজমুল মুচকি হাসতে শুরু করে। নাজমুলের হাসির কারণ ফাহিম আর তার মায়ের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। উনাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে নাজমুল হাসতে হাসতে বলল," ফাহিম, আন্টি। রিয়াজ সঠিক পথেই আছে। দেখেন,সাইকোর মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। সে তার উদ্দেশ্য, তার প্ল্যান থেকে সরে গেছে। বুদ্ধি দিয়ে কাজ সে করতে পারছে না"। নাজমুলের কথা শুনে ফাহিম বলল," কিন্তু কিভাবে। আমরা তো দেখতেছি সে খুন করেই যাচ্ছে"। ফাহিম এইবার হাসি থামালেও মুখে একটি উত্তির্নের ভাব এনে বলল," হ্যাঁ সাইকো খুন করে যাচ্ছে।আগেও করেছে,এখনো করছে। কিন্তু ভুল পদক্ষেপ। মাথা আর দেহ আলাদা আলাদা স্থানে রাখেনি। এখন পুরো বডিই একত্রিত থাকে। তারমানে সাইকো তার মূল টার্গেট থেকে সরে এলো। সাইকো কোনো পুরুষ খুন করেনি। অথচ সুফিয়ানকে খুন করেছে। সাইকো কখনো গরম মাথায় কাজ করেনি। কিন্তু এখন করে যাচ্ছে। অর্থ কি বুঝো? রিয়াজ নিশ্চয়ই সাইকোর প্ল্যানকে ভিস্তে দিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা জিতে যাবো"। নাজমুলের কথায় ফাহিম আর তার মা এক ফোটাও হাসেনি। নাজমুল নিজেও এইবার বেজার হয়ে বলল," কি হলো। তোমাদের চেহারায় মেঘ জমেছে কেনো"। নাজমুলের প্রশ্নে ফাহিম গম্ভীর গলায় বলল," আমার ভাইয়া কোথায়। আপনি কি নিশ্চিত যে আমার ভাইয়া অদৌ সুস্থ-স্বাভাবিক আছে? আজ ৭ দিন পার হয়ে গেছে। আমার ভাইয়ের কোনো ছায়াও দেখা যাচ্ছেনা। আমার ভাইয়া কোথায় নাজমুল ভাই..?"। ফাহিমের এমন প্রশ্ন শুনে নাজমুল মাথা নিচু করে নেয়। কারণ এইটার জবাব তার কাছে নেই।

সাইকোর কেস সামলাতে সুফিয়ানের পর থানায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন নতুন ইন্সপেক্টরকে। নাম ইন্সপেক্টর অন্তর। হ্যাঁ, উনি অন্তরের দিক থেকেও অনেক নরম,দয়াশীল ও হৃদয়বান। আজ তার প্রথম ডিউটি। থানায় আসলো মাত্র। দারোগা যারা আছে, তারা ফুলের মালা নিয়ে বরণ করতে শুরু করে। এদিকে ইন্সপেক্টর অন্তর, দারোগা জাহেদ সাহেবকে বলল," ব্যাপারটা অশ্চর্যের তো? কিসের ফুল টুল। যাও আমার জন্য আকিজ জদ্দা,গোলাপি, বায়ান্ন দিয়ে একটা পান নিয়ে আসো"। অন্তর সাহেবের কথা শুনে দারোগা জাহেদ "ইয়েস স্যার" সম্মেলন জানিয়ে স্যালুট দেয়।এরপর দৌড়ে যায় দোকানে। বাকিরা হা করে তাকিয়ে আছে। অন্তর সাহেব বাকিদের উদ্দেশ্যে বলল,"ব্যাপারটা অশ্চর্যের তো? আমার দিকে ভ্যা করে কি দেখছো। যাও সবাই কাজে মন দাও। নয়তো একটার চাকরিও থাকবে না"। ইন্সপেক্টর এর কথা শুনে সবাই দৌড়াদৌড়ি করে যে যার চেয়ারে বসে পড়ে। এদিকে জাহেদ সাহেব পান নিয়ে আসলে অন্তর সাহেব পান'টা হাতে নেয়। ভালো করে সুপারি আর চুন চেক করে হা করে গালে ঢুকিয়ে দিলো। আর চোখ বন্ধ করে ছাগলের মতো পান চিবুতে শুরু করে। জাহেদ সাহেব মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে।আর দেখে যাচ্ছেন। অন্তর সাহেব কিছুক্ষণ পান চিবিয়ে বলল,

- আমার চেহারা কি নায়িকা বুবলির মতো দেখাচ্ছে?

- না স্যার। কেনো?

- ব্যাপারটা অশ্চর্যের তো? তাইলে এখানে কার চুল ছিড়তে দাঁড়িয়ে আছো?

- না মানে স্যার, আপনি তো যেতেও বললেন না।

- চুপ..! যাও কাজে মন দাও। আর শুনো।এখন বিকেল ৪ টা বাজে। বরাবর ৫ টায়, আমার জন্য একটা বিরিয়ানির প্যাকেট আনবা। সাথে সাল্লাদ যেনো মিস না হয়।

- ইয়ে মানে স্যা...

- ব্যাপারটা অশ্চর্যের তো? কখন থেকে হাবলার মত ইয়ে মানে হা মানে করতেছো।

- স্যার আমার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই। এই পান'টাও বাকি করে এনেছি। বিরিয়ানির প্যাকেট আনতে তো টাকা লাগবে। না মানে মাইন্ড না করে আপনি যদি টাকা দিতেন,আমি এনে দিতাম।

- এই ব্যাপার? পুলিশদের আবার টাকা লাগে নাকি। ৫ টায় তোমাকে নিয়ে বের হবো । রেডি থাকবা। তোমাকে আজ দেখাবো পুলিশদের পাওয়ার। কিভাবে বিনা পয়সায় বিরিয়ানি খেতে হয়। তা আজ শিখবা।

- জ্বি মানে স্যার, ওকে।

- ব্যাপারটা অশ্চর্যের তো?

- আবার কি হলো স্যার?

- তুমি এখনো দাঁড়িয়ে আছো কেন। কাজে যাচ্ছো না কেন। সেলারি কি এমনি এমনি নিবে নাকি।

- জ্বী স্যার। এক্ষুনি যাচ্ছি।

এনি হলেন এই গল্পের নতুন ইন্সপেক্টর অন্তর সাহেব। দেখলেন তো,উনার অন্তর কত নরম।কত দয়াশীল আর হৃদয়বান।

এদিকে পাতালে হাপিয়ে যাচ্ছে রিয়াজ। এক একটা নিশ্বাসের শব্দ যেনো পুরো পাতালে ছুটাছুটি করে বেড়াচ্ছে। রিয়াজ নিজের ক্ষুদা নিবারনের জন্য একটার পর একটা পচা লাশের মাংস খেয়ে যাচ্ছে। ফ্লোরেও আজ সারাদিন এক ফোটা পানি জমেনি। হয়তো বৃষ্টি আজ হয়নি। রিয়াজ পানির পিপাসায় পাগল হয়ে যাচ্ছে। পাতালে এমনিতেও প্রচুর গরম। কিছুক্ষণ পর পরই গলা শুকায়।রিয়াজ কষ্টে কোনো রকম উঠে দাঁড়ায়। বরাবরের মতো এবারো ক্ষুদা লেগেছে,কিন্তু এই পচা মাংস খাওয়ার কোনো উপায় নেই। পানি শেষ, মাংস খাওয়ার পর পানি পাবে কোথায় ভেবে রিয়াজ আরো বেশি হয়রান হয়ে যাচ্ছে। কোনোভাবে রিয়াজ হেটে হেটে আবার লাশঘর গুলায় যায়। এইবার তৃষ্ণায় ধুঁকছে রিয়াজ। পানি কাছে থাকলে হয়তো না খেয়েও মন বুঝাতে পারতো। কিন্তু পানি একেবারে নেই ভেবে রিয়াজের গলা দ্বিগুণ গতিতে শুকাচ্ছে। একটা একটা রুম চেক করার ফলে রিয়াজের নজরে আটকে যায় একটি স্কুল ব্যাগ। রিয়াজ দৌড়ে যায় সেই ব্যাগের কাছে। জানোয়ারের মত তৃষ্ণায় হিংস্রতার চাহনিতে ব্যাগের চেইন খোলে। কিন্তু হতাশ,ব্যাগে কয়েকটি বই আছে মাত্র। এরপর রিয়াজ ছোট ব্যাগগুলো চেক করে দেখে,সেখানে কিছু কলম আর পেন্সিল। এ যেনো আরো বড় ক্লান্তির অভাস।

ব্যাগের কাছে রিয়াজ পানির আশায় ছুটে গিয়েছিলো। রিয়াজের মনে গেথেঁ যায় এখানে পানি পাবে। তাই শরীরে জোর খাটিয়ে নিজের অজান্তে দৌড়ে এসে ব্যাগ খোলে। কিন্তু ফলাফল শূন্য দেখার পর,রিয়াজের গলা আরো শুকিয়ে যায়। কারণ সে তৃষ্ণা মিঠানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েও পারেনি। অবশেষে নিজের মরণের কথা ভেবে রিয়াজ দেওয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বুজে থাকে।

হ্যাঁ, আপনি হয়তো ভাবছেন দেওয়ালে হেলান দেওয়ায় কোনো গোপন দরজা খুলবে। কিন্তু এমন কিছুই নয়। হেলান দেওয়ার সাথে সাথে রিয়াজের চোখ বন্ধ হতে থাকে। ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো চারদিক। নিশ্বাসটা যেনো ঢুকতে চায় না,আবার বের হতেও চায় না। নিশ্বাসের সারিগুলো যেনো গলার চামড়ায় স্পষ্ট স্পর্শ করে যন্ত্রণা দিচ্ছে। পানি পানি পানি বলে রিয়াজ মরণকে বরণ করতে প্রস্তুত নিচ্ছে। সেই মুহুর্তে রিয়াজের মুখ থেকে বের হওয়া পানি শব্দটা রিয়াজকে কিছু মনে করিয়ে দেয়।

পানিতে পুড়েও সাইকো অনেক মেয়ের লাশ পুড়েছে। এমন অনেক পোড়া লাশ রিয়াজ পেয়েছিলো। তারমানে অস্রের রুমে কোনো পানির ব্যাবস্থা আছে। কথাটা মনে পড়তেই রিয়াজ আবার আঁতকে উঠে। বড়সড় একটা নিশ্বাস নিয়ে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। আর কোনোরকম হেলেদুলে চলে যায় অস্রের রুমে।এতোদিন রিয়াজ খেয়াল না করলেও,রুমের একেবারে কোনায় ছোট ড্রাম দেখে রিয়াজ। যেখানে কম হলেও ২০ বোতল পানি রাখা যাবে।রিয়াজের মুখে আবার হাসি। রিয়াজ এগুতেই যাবে,তখনি পা কাপার জন্য ফ্লোরে পড়ে যায়। ধীরে ধীরে রিয়াজ ফ্লোরে হামাগুড়ি দিয়ে সেই ড্রামের কাছে আসে। কিন্তু এখানে পানি নেই। আছে শুধু তৈল।

- স্যার,এইটা অন্যায় হয়ে গেছে না?

- ব্যাপারটা অশ্চর্যের তো? অন্যায় কেন হবে? আমরা পুলিশ। আমাদের পাওয়ার আছে,শক্তি আছে । যদি আমরা পাওয়ার ব্যাবহার করতে না পারি। তবে এই পাওয়ারের লাভ কি।

- কিন্তু স্যার,ওরা পেটের জন্য ব্যাবসা করে। আপনি তাদের এতো টাকার বিল না দিয়েই চলে আসলেন। এতে তো তাদের লস হয়ে গেলো।

- ব্যাপারটা অশ্চর্যের তো? লস হলে হবে? তাতে যদি আমার পেট ভরে তবে লস একটু হতেই পারে। তাছাড়া আমি তো এমনি এমনি খাইনি। আমার পাওয়ার দেখিয়ে খেয়েছি।

- স্যার,এই পাওয়ার আমাদের সৎ কাজে ব্যাবহার করা উচিৎ।

- চুপ..? একদম চুপ। সামনে তাকিয়ে গাড়ি চালাও। বেশি কথা বললে তোমার চাকরি খেয়ে নিবো।

- জ্বী স্যার।

অন্তর সাহেবের হুমকিতে জাহেদ সাহেব গাড়ি চালানোয় মন দেয়। একজনের হোটেলে ঢুকে বিরিয়ানি খেয়ে এইভাবে টাকা না দিয়ে চলে আসা। এইটা জাহেদ সাহেব মানতে রাজি নয়। মনকে বুঝতে পারছে না। কিন্তু স্যারের কথা না শুনলেও বিপদ। তাই জাহেদ সাহেব চোখের কোনায় অশ্রুসিক্ত জমিয়ে রাস্তার উপর নজর লাগায়।

কিছুক্ষণ পর হুট করে অন্তর সাহেব বলে উঠলো," এই দাঁড়াও দাঁড়াও"। অন্তর সাহেবের কথা শুনে জাহেদ সাহেব ব্রেক মেরে দেয়। অন্তর সাহেব গাড়ি থেকে নেমে একটা চায়ের দোকানে বসে চা সিগারেট অর্ডার দেয়। জাহেদ সাহেবকেও ডাকে,জাহেদ সাহেব আগ্রহ না দেখিয়ে গাড়িতেই বসে থাকে। কারণ,উনি টাকা না দিয়েই চলে আসবে।

একটা লাশের পায়ের অংশ কেটে কিছু মাংস নেয় রিয়াজ। এরপর তৈলের ড্রামে সেই মাংস চুবিয়ে মুখে গজিয়ে দেয়। পানির মতো তো তৈল খাওয়া যাবেনা। তাই মাংস ভিজিয়ে খাচ্ছে রিয়াজ।এদিকে সাইকো প্রতিদিন একটা একটা মেয়ের লাশ শহরে ফেলে দিচ্ছে।অন্তর সাহেব ওসব লাশ দেখে মন্তব্য করেন," ব্যাপারটা অশ্চর্যের তো? এতো যত্নসহকারে কে খুন করে"। এইভাবেই দিন কাটতে থাকে।

দিন যায়,

সাপ্তাহ যায়,

মাস যায়।

পাতালে রিয়াজ বন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। সাইকো তার নিসৃংশ ভাবে খুনের তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। ফাহিম,নাজমুল আর রিয়াজের মা রিয়াজের অপেক্ষায় অস্থির হয়ে আছে। শহরের খুন হওয়া মেয়েদের লাশ দেখে ইন্সপেক্টর অন্তর সাহেব নিউজে বলেন," ব্যাপারটা অশ্চর্যের তো? সাইকো কে হতে পারে?"।

সময়টা থমকে গেছে। এই সময়টা কারো নয়। এই সময়টা সাইকোর। #সাইকো_টাইম

মুখ ভর্তি দাড়ি আর ফ্যাকাসে পাগলের চেহারা নিয়ে বসে আছে রিয়াজ। এক মাস নেই কোনো গোসল। বন্দি এক পাতাল পুরিতে। খাবার হিসেবে আছে মৃত মানুষের পচা মাংস।আর বাথরুমও একি স্থানে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করে যাচ্ছিলো। চোখটা বন্ধ করে রিয়াজ একবার মায়া আর রিমার কথা কল্পনা করে। ঠিক সেই মুহুর্তে রিয়াজের চোখে ভেসে উঠে,২৩ দিন আগের ঘটনা।

তৈলের ড্রাম তুলে আনার সময় রিয়াজ ড্রামের নিচে একটা ইট দেখেছিলো। যা তাড়াহুড়োর জন্য রিয়াজ খেয়াল করেনি। ওমন যন্ত্রণার মাঝে খেয়াল করেনি। একটা বড়সড় ক্লু সে দেখে নিয়েছিলো।তখনি রিয়াজ বসা থেকে লাফিয়ে উঠে। আর দৌড় দেয় অস্রের রুমে।

চলবে.........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন