#প্রেম_আমার♥(সিজন-টু)
#পর্ব-২৮♥
#আয়ানা_জাহান_নুসরাত♥
----- "ভূ..ভূ...ভূত! আম্মু গো ভূত....! ভূত ধরছে আমারে!"
এমন এক তীব্র চিৎকার ছেড়ে লাফিয়ে উঠলো অগ্নি ভাই। নীবিড় ভাইয়া হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন স্রেফ। ততক্ষণে প্লাটফর্মে ধুমধাম শব্দে নিজের কোমড় ভাঙা সাড়া তার। অগ্নি ভাইয়ার গুঙিয়ে উঠা মাত্রই গোলগাল চোখদুটো ক্রমশই আগ্রহী হয়ে উঠলো আমাদের। নীবিড় ভাইয়ার কাঁধ থেকে লাফিয়ে পড়ে কোমড়ের তেরোটা বাজাবার পরও সেদিকে বিশেষ খেয়াল নেই তার। মূলত ভূত-পেত্নী সম্পর্কিত উদ্ভট সব চিন্তাধারাই মস্তিষ্কে বর্তমান। রুশো ভাইয়া-আমি, একে-অপরের দিকে হতভম্ব হয়ে তাকালাম। নীবিড় ভাইয়ার চোখে ভয়ানক অসহায়ত্বের ছাপ। প্লাটফর্মে অবস্থানরত মানুষগুলোর ওপর চরম বিষাদগ্রস্ত মনোভাব ফুটে উঠছে উনার। এই মুহুর্তে অগ্নি ভাইয়ার পশ্চাতে উদাম মার্কা এক লাথি বসিয়ে দেওয়ার তীব্র বাসনা ফুটে উঠলেও রয়েসয়ে তাকে হেঁচকা টান মেরে দাঁড় করালেন উনি। অগ্নি ভাইয়া এখনও চোখদুটো বুজে ভুলভাল বকে চলেছে। জরিনা খালার চোখমুখ তাতে আঁকাবাঁকা হতে হতে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে আজ।
------ "ভূত আমার ভাউ, পেত্নী আমার ছাউ, ধুর বাল! কই থেকে কই নিয়া যাচ্ছি মাউ!"
নীবিড় ভাইয়া নিজের ডানহাতটা মুষ্টিবদ্ধ করে জোরেশোরেই পিঠে কিল বসিয়ে দিলো ভাইয়ার। বিনিময়ে বেচারার তীব্র চিৎকারে দু আঙুল কানে ঢুকিয়ে দিলাম আমি।
------- "আবে শালা, চোখ খোল! কোনো দুনিয়ায় আছোস দেখ!"
অগ্নি ভাইয়া চমকালো খানিক। চোখদুটো বুজে রেখেই হাত দিয়ে নীবিড় ভাইয়ার চোখেমুখে হাত বুলিয়ে বোঝার চেষ্টা চালালো আদৌ কোনো ভূত-পেত্নী টাইপ গড়ন অনুভব করতে পারে কি না। এই কান্ড দেখে রুশো ভাইয়া ফিক করে হেসে ফেললো। চাপা গলায় বলল,
------ "অগ্নি ব্রোর সাথে এবারের প্রাঙ্কটা জমে যাবে রে ছুটকি!"
আড়চোখে তাকালাম আমি। নিচু স্বরে বললাম,
------ "প্রাঙ্ক ট্রাঙ্ক ছাড়ো, আপাতত ভাইয়ুকে বাস্তবে আনার ব্যবস্থা করো!"
------ "তার জন্য নীবিড় ব্রোই এনাফ ছুটকি! আমাকে কিছু করতে লাগবে না। জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ!"
ভাইয়ার কথাটা পুরোপুরি শেষ হবার মুহুর্তেই অগ্নি ভাইয়ার আঙুলে জোরেশোরে এক কামড় বসালো নীবিড় ভাইয়া। ব্যাথায় কুঁকড়ে ছিঁটকে সরে দাঁড়ালো অগ্নি ভাই। চোখে খুলে ব্যাথা সহ্য করবার তাগিদে কামড়ে দেওয়া আঙুলটা ঠোঁটের সাথে চেপে ধরেলো তৎক্ষণাৎ। কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,
------ "দিন দিন রাক্ষস হয়ে যাইতাছস তুই! ব্যাটা, কোন আক্কেলে কামড় মারলি? উফফফ! রক্ত বের করে দিছে মনে হয়! ওগুলো তোর দাঁত নাকি কোদাল?"
------ "বুলডোজার! আপাতত এসব ফাউল কথাবার্তা ছাড়, কিসব ভূত-পেত্নী নিয়ে পড়ে আছোস?" বাসায় যাবি না?"
অগ্নি ভাইয়া পিটপিট করে স্টেশন জুড়ে চোখ বুলালো। আচমকাই চমকে উঠে বলল,
------ "হায় হায়, ট্রেন থেকে নামলাম কীভাবে আমি? আমরা না কুষ্টিয়ায় ছিলাম?"
নীবিড় ভাইয়া দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে রাগটা দমিয়ে নেবার চেষ্টা চালালেন। দু'হাতের মুঠো শক্ত করে ধরে আমাদের উদ্দেশ্যে বললেন,
------ "রুশো, তোমরা সবাই চোখ বন্ধ করো তো!"
------ "হোয়াই ব্রো?"
একরাশ বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন ছুড়লো রুশো ভাইয়া।
নীবিড় ভাইয়া বেশ স্বাভাবিক গলাতেই জবাব দিলেন,
------ "ভয়ানক কিছু হতে চলেছে, তোমরা সবাই ছোট। সো ক্লোস ইউর আইস ডিয়ার!"
রুশো ভাইয়া ঠোঁট উল্টে মাথা নাড়াল। একে-একে প্রত্যেকেই চোখ বন্ধ করলেও কান খাঁড়া রাখলাম অবশ্য। তবে যা আবিষ্কার করলাম তাতে জরিনা খালার কিউরিওসিটিই অধিকাংশ বোঝা গেল। উশখুশ করতে করতে অবশেষে আমায় প্রশ্ন করেই বসলো,
------ "হেই লিসেন, অগ্নির সাথে নীবিড় কি এমন করবে বলো তো, যে আমাদের চোখ বন্ধ করতে বলল?
চোখ বুজে রেখেই মৃদু গলায় বললাম,
------ " তা জানলে কী এভাবে কান খাঁড়া করে থাকতাম? বাই দ্য চিপাগলি, ভাইয়া তোমার থেকে বড় খালাম্মা। কল হিম ব্রাদার ওকে?"
দৃষ্টিগোচর না হলেও জরিনা খালার মারাত্মক সেই ঠোঁট বাঁকানি অনুভব করা হলো। এমন কঠিন কথা চুপচাপ হজম করা মোটেও তার কর্ম নয়। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। ঢিশুম-ঢুশুম টাইপ আওয়াজ দু'তিনবার কানে এলো পাছে। চোখ মেলে আগ্রহী দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই অগ্নি ভাইয়ার চওড়া হাসি নজরে পড়লো। হাসিটা যে মনের সুখে দেওয়া হাসি নয় এও বোঝা হলো ভালো মতোই। মূলত কোনো বিশেষ কিছু লুকবার তাগিদেই ঠোঁটে জোরপূর্বক হাসি ফুটিয়ে তুলেছে সে। নীবিড় ভাইয়া অবশ্য বেশ স্বাভাবিকতা বজায় রেখেই দাঁড়িয়ে রইলেন। মাঝ থেকে অগ্নি ভাইয়া ব্যাগ হাতে উঠাতে উঠাতে বলল,
------ "আব...তোমাদের মুখ এমন শুকনো শুকনো লাগছে কেনো? বাড়ি যাবেনা? চলো চলো! অনেক রাত হয়ে গেলো তো!"
একে-অপরের দিকে আহত চোখে তাকালাম আমরা। রাত্রি খানিকটা চেপে এলো আমার পানে। মিনমিন করে বলল,
------ "যাই হোক ভালো কিছু হয়নি একথা নিশ্চিত। কিন্তু আমার চিন্তা তো অন্যকিছু রে!"
ভ্রু নাচিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করলাম। "কী?"
রাত্রি জিহ্ব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো। খানিক দোমনা ভাব নিয়ে নখ খোঁটাতে খোঁটাতে বলল,
------- "এই মাঝরাতে একা একটা মেয়ে মেসে ফিরবো! বুঝতে পারতেছিস তো, রিস্ক কেমন?"
মুহুর্তেই চোখ গরম করে তাকালাম আমি। ধমকে উঠে বললাম,
------ "এক লাথ মেরে রেললাইনের ওপর ফেলবো! বান্দরী কোথাকার! একা যাবি মানে কী? আমরা আছি কীসের জন্য?"
রাত্রি ঠোঁট উল্টে কিছু একটা বলবে তার আগেই উচ্ছ্বাসিত হয়ে বলে উঠলো রুশো ভাইয়া,
------ "ছুটকি, আমি তোদের সাথে যাবো না রে এখন, মাম্মি বলেছে ডিরেক্ট বাসায় যেতে। আর ওর মেসও তো আমাদের বাসায় যাওয়ার রাস্তাতেই পড়ে। আমি নাহয় ওকে নিয়ে যাই?"
রাত্রিকে কিছু বলবার সুযোগ না দিয়ে চটজলদি বলে বসলাম,
------ "ওয়াও রুশো ভাইয়া, গ্রেট আইড়িয়া! তুমি তাহলে রাত্রিকে নিয়ে যাও। আমি অগ্নি ভাই, চলে যাচ্ছি। আর নীবিড় ভাইয়া'র তো আবার ড্রাইভার এসেছেন কার নিয়ে। উনি তোমার লেগপিস....আই মিন জারাকে নিয়ে যাবেন।"
লম্বা করে মিষ্টি হেসে পলক ফেললো রুশো ভাইয়া। রাত্রি সবার আড়ালে খোঁচা মারলো কোমড়ে। মনোযোগ নিজের দিকে ফিরিয়ে বলল,
------ "ওই, এটা তুই কী করলি? ওই বাদরটাকে কেন বললি আমায় নিয়ে যেতে?"
------ "কারণ তুই তো মানুষ নস। বাদরের ফিমেল ফর্ম বান্দরী। সো বাদরই বান্দরীকে এগিয়ে দেবে, স্বাভাবিক নয় কী?"
গাল ফুলিয়ে লাভা ছড়ানো চোখ দুটো সরিয়ে নিলো রাত্রি। শুধুমাত্র নিজের জন্য তিন তিনটে মানুষের হয়রানি হোক তা কোনোকালেই চায় না বিধায় নিঃশব্দে রাজি হলো। নীবিড় ভাইয়া ব্যাগ থেকে মাস্ক বের করে মুখ ঢেকে নিলেন। প্রফেসরদের কাছে গিয়ে কিছু একটা নিয়ে আলোচনা শেষে জারার উদ্দেশ্যে বললেন,
------ "জারা, ড্রাইভার এসেছে। তোমায় ম্যানশন অবধি পৌঁছে দেবে। চলো!"
------ "হোয়াট! তুমি যাবে না আমার সাথে?"
নীবিড় ভাইয়া ছোট্ট করে শ্বাস ফেললেন। গম্ভীর গলায় বললেন,
------ "তুমি যাও। আমার একটা কাজ আছে। কোরিওগ্রাফার এর সাথে ছোট একটা মিটিং ছিলো ১২ টায়। সেটাই এটেন্ড করতে হবে।"
কপালে দৃঢ় চিন্তার ভাঁজ ফুটে উঠলো আমার। মানুষটা মাত্রই এতো লং জার্নি করে ফিরলেন। বাসায় গিয়ে দু'দন্ড বিশ্রাম না নিয়েই মিটিং এটেন্ড করবেন? উনি কী মানুষ নাকি রোবট! শরীরের অবসাদ বলে আদৌ কোনো কথা এই কী এই মানুষটার মাঝে আছে? তাছাড়া ট্রেনেও তো ঘুমোন নি! আমরা সকলেই খুব বেশি সময়ের জন্য না হলেও ঘুমিয়েছি। কিন্তু উনি? উনি তো একটা মুহুর্তের জন্যও দু'চোখের পাতা এক করেন নি। এটা একটা জীবন! হে আল্লাহ রক্ষা করো!
------ "কী রে? দাঁড়িয়ে রইলি কেনো ছুটকি? চল, সবাই তো স্টেশন ছেড়ে বের হয়ে গেলো প্রায়।"
রুশো ভাইয়ার ডাকে ভ্রম কাটলো আমার। চমকে উঠে তাকাতেই নজরে পড়লো বাকিদের ধাপ ফেলে এগিয়ে যাওয়া। রুশো ভাইয়া ফের তাড়া মারল।
------ "আব...এইতো যাচ্ছি, চলো!"
বলেই চটজলদি পা চালিয়ে এগিয়ে চললাম আমি। পা দুটো কেমন যেনো টলমল করছে। খিদের জ্বালায় পেটের নাড়িভুঁড়ি গলতে শুরু করেছে৷ দ্রুত বাসায় ফিরতে হবে। মায়ের হাতের গরম গরম ভাত পেটে পুরতে তুলবার ভয়াবহ প্রয়োজনীয়তা!
_____________________________________
নিস্তব্ধতায় মোড়ানো সড়কের বুক চিরে রিক্সা ছুটছে নিজ গন্তব্যে। হুড খোলা রিক্সার দুই ধারে গুটিশুটি মেরে বসে আছে দুটো প্রাণ। রাত্রি অস্বস্তিতে কুঁকড়ে রয়েছে। এই প্রথম কাজিন ব্যতীত ভিন্ন কোনো পুরুষের পাশাপাশি বসে পথ চলতে হচ্ছে তার। মাঝে মাঝে রিক্সাটার কারিগরের ওপরও ভীষণ রাগ লাগছে, এতোটুকু স্পেস রেখে কেউ সিট বানায় নাকি? দুটো মানুষের তো একটু পরপরই গায়ে গা লেগে যাচ্ছে! উফফফ কী অস্বস্তি!
রুশো ভেতরে ভেতরে হাসছে। কেনো যেনো রাত্রির অস্বস্তিটা বুঝতে পেরে ভালো লাগছে তার। মেয়েটা কী তবে লজ্জা পাচ্ছে? কথায় কথায় ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেওয়া মেয়েটাও বুঝি লজ্জায় মিইয়ে যেতে পারে! রুশোর কাছে ব্যাপারটা মিরাকলের মতো ঠেকতে লাগলো। রাত্রির শুকনো মুখটার মাঝেও হাজার খানেক মায়া'র সন্ধান পাচ্ছে সে। স্টেশন থেকে নেমে চোখেমুখে পানির ছিঁটে দেওয়ায় মেকআপটা ধুয়ে পড়েছে তার। সাজসজ্জাহীন মেয়েটার শুভ্র মুখটা চাঁদের আলোয় কী ভীষণ মিষ্টি লাগছে! অযথাই যে কেনো মেকআপের আড়ালে নিজের আসল সৌন্দর্যটা ঢেকে রাখে, কে জানে! এমনি এমনি কী আর মুখ বাঁকিয়ে রুশো ডাকে, "ময়দা সুন্দরী?"
রাত্রি গাল ফুলিয়ে ফুটপাতে অবস্থানরত মানুষগুলোর ওপর ফাঁকা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চেয়ে আছে। কোনো এক বিশেষ কারণে মুখটা ভার হয়ে আছে তার। আজ বাবা-মার কথা খুব করে মনে পড়ছে। এইযে সকলে এতো লম্বা একটা সফর শেষে নিজেদের বাড়ি ফিরছে, নিশ্চয় বাবা-মা'য়েরা বুকে টেনে আদরে আদরে ভরিয়ে তুলবে তাদের। মা নিজের হাতে রান্না করে নিজ হাতেই খাইয়ে দেবে সাথে! অথচ রাত্রির ফিরছে সেই পুরোনো দমবন্ধকর মেসটায়। নিজের ছোট্ট ঘরটায় ফিরেই দেখতে হবে অগোছালো বিছানা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা বই-খাতা, জামা-কাপড়। রওনা দেবার সময় ঘরটা ঠিকঠাক ঘুছিয়ে রাখার সময় হাতে মেলেনি তার। যার দরুন ফিরেই ঘরটা গুছাতে হবে৷ এতো রাতে গরম খাবার তো কপালে জুটবেই না বরং খাবার জুটার সম্ভাবনাটাও সংকীর্ণ ভীষণ। রাত্রি আনমনেই গালে হাত দিয়ে কথাগুলো ভাবছিলো। নিঃশব্দে ধেয়ে চলা রাস্তার ধারে ফুচকার স্টলে হঠাৎ করেই চোখ আটকে গেলো তার। মনটা ফুচকার জন্য হুহু করে উঠলো! সাথে খিদে জমা পেট'টা মোচড় দিয়ে উঠলো তৎক্ষণাৎ। ফুচকার দোকানটা ক্রোস করবার মুহুর্তে একরাশ অসহায়ত্ব ভরা চোখে তাকালো সে। প্রায় সাথেসাথেই থমকে দাঁড়ালো রিক্সা। রাত্রি ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যেতে নিতেই হাত টেনে আটকে ফেললো রুশো। চিন্তিত চোখে চেয়ে দুষ্টু হেসে বলল,
------ "আরে আরে সাবধানে, এক্ষুনি তো পড়ে যাচ্ছিলে। পড়ে গেলেই তো ফেটে যেতে! ফাঁকা রাস্তায় আস্ত একটা এটম বোম্ব ব্লাস্ট হয়ে গেলে বেচারা আমার-আর রিক্সাওয়ালা মামার কী হতো ভাবতে পারছ?"
রাত্রি সরু চোখে তাকাল। হাত ছাড়িয়ে নিয়ে জোড়ালো কোনো বাক্য উচ্চারণ করতে যাবে তার পূর্বেই রিক্সা থেকে নেমে পড়লো রুশো। রিক্সাওয়ালা মামাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
------ "মামা, তুমি একটু বসো। ফুচকা খাও তো?"
আধভাঙ্গা দাঁতগুলো চাঁদের আলোয় চিকচিক করে উঠলো সলিমুল্লাহর। বোকা চোখে চেয়ে মামা প্রশ্ন ছুড়লো,
------ "বাবা, কী বলেন আমি তো কিছুই বুঝতাছিনা! আমারে বসবার বলতাছেন, আবার ফুচকা খাই কিনা জিগাইতেছেন! আমার কী আর ফুচকা খাওনের সেই বয়স আছে বাবা?"
রুশো স্মিথ হাসলো। নরম গলায় বলল,
------ "মাঝে মাঝে বুড়ো বয়সেও বাচ্চামিতে মত্ত হতে হয় মামা। আর আপনি তো এখনও বুড়ো হন নাই। কি সুন্দর আধপাকা চুল! আপনি বসুন। ফুচকা খেতে কোনো বয়স লাগে না!"
একথা বলেই স্টলের উদ্দেশ্যে হাটা ধরলো রুশো। রাত্রি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। রুশোকে পা চালিয়ে এগোতে দেখে পিছু ডাকলো। বলল,
------ "আপনি এই মাঝ রাত্তিরে ফুচকা খাবেন? অনন্যা যে সেদিন বলল তার কোনো ভাই'ই ফুচকা পছন্দ করে না।"
রুশো পুরো শরীরটা না ঘুরিয়ে ঘাড় ঘোরালো স্রেফ। মৃদু হেসে বলল,
------ "পছন্দ করতাম না, বাট এখন থেকে করি। ইউ নো না, সময়ে সময়ে মানুষের রুচি চেঞ্জ হয়? ঠিক তেমনি হয়েছে আমারও!"
রাত্রি কপালে সুক্ষ্ম চিন্তার ভাঁজ ফেলে সন্দিহান চোখে তাকালো। সেদিকে বিশেষ পাত্তা না দিয়ে রুশো প্রশ্ন ছুড়লো,
------ "ঝাল কী বেশি দিইয়ে নিবো নাকি কম? তুমি যে এটম বোম্ব! নির্ঘাত ঝাল খেয়ে খেয়েই মুখটাকে ঝালাই করে ফেলেছ!"
__________________________________
"রাত নির্ঘুম, বসে আছ তুমি
দক্ষিণের জানালা খুলে।
যতো নির্বাক অভিমান মনে,
আজ সবটুকু নিলাম তুলে!"
প্রতিদিনকার রুটিন মাফিক আজও কানে হেডফোন গুঁজে রকিং চেয়ারে বসে গান শুনছিলো নিত্য। তবে আজ এই গানটা হঠাৎ করেই প্লে হয়ে যাওয়ায় খানিকটা চমকেছিল সে। গানটার যেনো আজকের বাস্তবের সাথে মিলে রেখেই গাওয়া। গানের কথামতো নিত্যর ঘরের দক্ষিণের জানালাটাও খোলা ছিলো। চাঁদের ম্লান আলো এসে ঘরে পড়ছিলো। সাথে নিত্যর বুকে চাপা ছিলো ভারী অভিমান। নিত্য জানে না সেই অভিমানের অর্থ! অগ্নি তো কোনো আত্মীয়তার সম্পর্কের মাঝে পড়েনা তার। তবুও তার জায়গাটা বড্ড বিশেষ ঠেকে নিত্যর!
একজন মানুষের ব্যস্ততা থাকতে পারে। নিজের পার্সোনাল জীবন থাকতে পারে। সবটা জেনে-বুঝেও নিত্যর মনে অভিমানেরা বাসা বেঁধেছিলো। এতো আশা নিয়ে কল করার পর অবহেলিত হয়ে অবুঝ মনটা ভীষণ ভাবে মিইয়ে পড়েছিল তার।
নিত্য গানের সাথে বহু মিল পেলেও শেষের লাইনটা মিল পেলো না। খুঁজে পেলো না অভিমানটুকু তুলে নেওয়ার মতো বিশেষ কোনো কারণ। নিত্য অস্থির ভঙ্গিতে নড়েচড়ে বসলো। ফোনে হঠাৎ করেই মেসেজ টিউন বেজে উঠলো তার। নিত্য চমকে উঠে ফোনটা হাতে তুললো। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো "CTH Angni send you a message!" নিত্য সব অভিমান ভুলে তাড়াহুড়ো করে ফোন আনলক করলো। তিন'লাইনের একটি মেসেজ পাঠিয়েছে অগ্নি। তাতে গভীর মায়াভরা দৃষ্টি ফেললো সে।
"খুব জানতে ইচ্ছে করে,
হাসিমুখে থাকা মেয়েটা অভিমানে মুখ ফুলালে,
দেখতে ঠিক কেমন লাগে!"
#চলবে______________
(লিখতে বসলেই দুনিয়ার যতো ঝামেলা এসে শুরু হয়। আরো লিখতে চেয়েছিলাম। মাথার ব্যাথা উঠে গেছে। দুঃখিত!)