#প্রেম_আমার♥(সিজন-টু)
#পর্ব-৩১♥
#আয়ানা_জাহান_নুসরাত♥
একটা সময় ছিলো, যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ংকর সব চিন্তা ভাবনায় বিভোর থাকতাম আমি। বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবো নাকি ডক্টর এই প্রশ্নের জবাবটা ঠিক মতো দিতে পারতাম না কাউকেই। মূলত নিজের পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে নিজেই ছিলাম জ্ঞানশূণ্য। অদ্ভুত এক কারণে আমার এই কনফিউজিং টাইপ সিচুয়েশনগুলো বড়'রা বেশ মজার ছলে গ্রহণ করতো। ইচ্ছাকৃত ভাবে পৃথিবীর এতোসব চাকুরী কিংবা ব্যাবসার কথা ছেড়ে "ডক্টর" "ইঞ্জিনিয়ার", এই দুটো প্রফেশনকেই অপশনে রাখতো। আমি গোলগাল চোখ করে হাত উঠাতাম। ডক্টর হয়ে আমার পোষা বিলাইগুলোর চিকিৎসা করবো বলতাম। আমার এমন উত্তরে হেসে ঘর কাঁপিয়ে ফেলত সবাই। তাদের সেই হাসির মানেটা ঠিক বুঝে উঠা দায় হয়ে পড়ত। ভাবতাম নেহাতই জঘন্য এক উত্তর দিয়ে ফেলেছি আমি। যার দরুন তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত বদলে বলতাম ইঞ্জিনিয়ার হবো এবং আমার বাচ্চা বাচ্চা বিড়ালগুলোর থাকার জন্য ইয়া বড় একটা দালাব বানাবো। তাতেও হাসি থামত না কারো! বরং পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ হারে কেঁপে উঠত ঘর। আমি অবাক চোখে চেয়ে থাকতাম। আশা ছেড়ে শেষমেশ মুখে তালা মেরেই চুপ হয়ে যেতাম।
আজ আমার চিন্তিত ভাব-ভঙ্গি সবকিছু প্রায় বিলীন। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই আমার। বর্তমানে যা আছি, যা করছি ফলস্বরূপ ভবিষ্যতে আমার জন্য যাই বরাদ্দ থাকুক না কেনো, আমি তাতেই সন্তুষ্ট। আমার আশেপাশের আত্নীয়-স্বজনেরাও বদলেছে। আগের সেই গা ছাড়া ভাবটা আর তাদের মাঝে নেই। চোখেমুখে গাম্ভীর্য ভাব বেড়েছে। সারাদিন টই টই করে হেসেখেলে বেড়ানো স্বভাবগুলো আস্তে আস্তে প্রশমিত হচ্ছে। অগ্নি ভাইয়া ব্যস্ত থাকছে নিজের ক্যারিয়ার, পড়াশুনায় মন দেওয়ায়। রুশো ভাইয়ার কাঁধে অনেকটা জোর করেই কোম্পানির দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন খালু। রাত্রি যদিও আগের মতোই তবু কেমন যেনো রসকষহীন হয়ে পড়ছে। সারাদিন চোখমুখে একরাশ রাগ, ভ্রু'তে দৃঢ় ভাঁজটাও বিলীন হতে চলেছে নীবিড় ভাইয়ার। মানুষটা হঠাৎ করেই কেমন যেনো অনুভুতিশূণ্য হয়ে পড়েছেন। আজ নিয়ে দু-তিনবার নিজ থেকেই উদ্ভট সব কর্মকান্ডে বিরক্ত করবার চেষ্টা করেছি উনাকে। কিন্তু ফলাফল বরাবরের মতোই বিগ জিরো৷ বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই এড়িয়ে গেছেন সব। ঠোঁটে সৌজন্যের হাসি ফুটিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছেন। কথা বলার পরিমাণটা আগের তুলনায় কমিয়ে দিয়েছেন খুব।
রাত্রি খাতার সাদা পাতায় আঁকিবুঁকি করছিলো। গাছ, পাতা, ফুল, ঘর-বাড়ি এসবই ছিলো তার বিষয়বস্তু। আমি ছিলাম নিষ্প্রাণ স্বভাবের। চিপসের প্যাকেট থেকে একটা একটা করে চিপস মুখে পুরছিলাম৷ যে যার মতো নাচ-গানে মত্ত হলেও আমার মাঝে রাজত্ব করছিলো বোরিংনেস! সেদিক পানে সতর্ক চোখে তাকিয়েই এগিয়ে এলেন নিহান ভাই। গদগদ কন্ঠে বলে উঠলেন,
------- "এক্সকিউজ মি লেডিস, আমি কী এখানে বসতে পারি?"
ফুলিয়ে রাখা মুখ নিয়েই মাথা নাড়ালাম আমি। নিহান ভাই পাশের চেয়ার টেনে বসলেন। সামান্য ঝুঁকে এসে প্রশ্ন ছুড়লেন,
------- "তোমাদের এক্সাক্টলি হয়েছেটা কী বলো তো? সামনে প্রোগ্রাম। পার্টিসিপেট করবে তো নাকি?"
রাত্রি চট করে ড্রয়িং বুক ছেড়ে চোখ তুলে তাকালো। ভার গলায় বলল,
------- "প্রোগ্রামে পার্টিসিপেট করতে ট্যালেন্ট লাগে ভাই, আমার তো সেসব নেই। গান-নাচ এসব আমার দ্বারা সম্ভব নয়। আপনি বরং অনন্যাকে বলুন, ও পার্টিসিপেট করলেও করতে পারে!"
একথা বলেই ফের পেন্সিল হাতে মনোযোগী হলো রাত্রি। নিহান ভাই ছোট্ট করে শ্বাস ফেললেন। সামান্য নড়েচড়ে বসে আমার উদ্দেশ্যে বললেন,
------- "অনন্যা তুমি এটলিস্ট.....!"
নিহান ভাইয়াকে পুরো কথাটা বলবার সুযোগ না দিয়েই বলে বসলাম,
------- "সরি ভাইয়া, আমায় প্লিজ এসব নিয়ে রিকুয়েষ্ট করবেন না। ইচ্ছে নেই বিন্দুমাত্র!"
------- "ইচ্ছে থাকবে কীভাবে? ট্যালেন্ট থাকলে তবেই না পার্টিসিপেট করবার ইচ্ছে জাগবে! শি ডোন্ট হ্যাভ এনি ট্যালেন্ট নিহান। লেট ইট গো, অন্যের কাজ বিগড়ে দেওয়া ছাড়া আর প্রতিভা নেই তার।"
পেছন থেকে আকস্মিক এমন অপমান ছুড়ে দেওয়া কথায় অবাক চোখে তাকালাম তিনজনই৷ নীবিড় ভাইয়ার স্থির চোখের চাহনি। দু'হাত ভাঁজ করে বেশ আয়েশ করেই দাঁড়িয়ে আছেন উনি। নিতান্তই সাধারণ কোনো বাক্য উচ্চারণ করেছেন টাইপ ভাব-ভঙ্গি উনার। নিহান ভাই আর রাত্রির কপালে ভাঁজ পড়লেও ডান হাতটা মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো আমার। নীবিড় ভাইয়া এগিয়ে এলেন দুই'ধাপ। নিহান ভাইয়ার কাঁধে হাত রেখে ফের বললেন,
------ "ইউ আর ওয়েস্টিং ইউর টাইম নিহান। কাম, রিহার্সাল করাতে হবে জুনিয়রদের।"
নিহান ভাই চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ালেন। উঁচু গলায় না বললেও খানিকটা প্রতিবাদী সুরেই বলে উঠলেন,
------- "আমার মনে হয় তুমি একটু ভুল বলে ফেলেছ নীবিড়। প্রত্যেকটা মানুষেরই কোনো না কোনো সুপ্ত প্রতিভা থাকে। হয়তো গান-নাচ, কবিতা আবৃত্তিতে ততোটা ভালো নয়, তবে এর বাহিরেও আরো অনেক সাইট আছে। একেবারেই কেউ ইউজলেস হয়না। ইউ হ্যাভ টু মিন ইট!"
নীবিড় ভাইয়া ছোট্ট করে শ্বাস ফেললেন। ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে জায়গা ত্যাগ করতে পা বাড়াতেই পেছন থেকে কঠিন গলায় বলে বসলাম আমি,
------- "নিহান ভাই, আপনি বরং গানের বদলে আমার নামটা নাচের লিস্টে তুলুন। কিছু মানুষের জানা দরকার প্রতিভা শুধু তাদেরই নয়, আমাদের মতো সাধারণ মানুষদেরও থাকে।"
একথা বলেই হাত ধরে টেনে দাঁড় করালাম রাত্রিকে। বিনিময়ে কোনো কথা বলবার সুযোগ না দিয়েই এগিয়ে চললাম। ভেতরটা পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও মুখে প্রকাশ করলাম না। ক্ষোভ জমছে, ভয়ানক সব অনুভূতির অস্তিত্ব ঠাওর করছি আমাতে। মানুষটার গম্ভীর মুখ, অবাক চোখের চাহনি কোনোটাই দেখবার ইচ্ছে নেই বর্তমানে। তিক্ত সব অনুভূতিতে পিষ্ট হচ্ছে মন। চোখদুটো ছলছল করছে, দু'কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে বোধহয়! নিজের ওপরই রাগ লাগছে এখন। কেনো যে মানুষটার পাশের সিট'টায় বসতে গেলাম, কেনই বা রাজশাহী ভার্সিটিতে এডমিশন টেস্ট দিলাম! হতো না এডমিশন, ফিরতে হতো না এই ঠিকানায়। এই শক্ত মনের দুর্বোধ্য মানুষটার সাথেও পরিচয় হতো না। জীবনটা সুন্দর হতো। ভীষণ সুন্দর হতো আজ!
নিহান-নীবিড় দু'জনই একদৃষ্টিতে চেয়েছিলো অনন্যা দৃষ্টিগোচর হবার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত। নিহান দীর্ঘশ্বাস ফেললো। অনন্যা যে অপমানে ভীষণ কষ্ট পেয়েছে ব্যাপারটা পুরোপুরি বুঝে আসতেই বুকটা ভার হয়ে এলো তার। অথচ নীবিড় ভাবলেশহীন। এমনটা হবারই ছিলো তা যেনো জানা কথা তার। নীবিড় ঠোঁটে বাম কোণে মৃদু হাসি ফোটাল। শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে নিহানের উদ্দেশ্যে বলল,
------- "অপ্রয়োজনীয় দিকগুলোতে আনাগোনা বাড়ছে তোমার। লক্ষণ ভালো নয়, কাজের কাজ করো। স্টুডেন্টস ডাকছে তোমায়। চলো!"
নিহান সুক্ষ্ম চোখে তাকালো নীবিড়ের পানে। এতোদিন যাবৎ পরিচয় তাদের। তবু নীবিড়ের মুখের এই ভিন্নরকম ভাবখানা ধরতে ব্যর্থ হলো সে। নিহানের হঠাৎ করেই মনে হলো "এই নীবিড়কে চেনে না সে, নীবিড় বদলে যাচ্ছে। নিঃশব্দে, সবার দৃষ্টির অগোচরে অদ্ভুত রকমভাবে বদলে যাচ্ছে সে!"
_________________________________________
মাথার ওপর ভোঁ ভোঁ করে ফ্যান ঘুরছে। এই শীতের মৌসুমেও তার তিনটে পাখা গণনা করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। অগ্নির কপালে বিন্দুবিন্দু ঘাম জমেছে। রুশো আতংকে কুটকুট শব্দে নখ কাটছে নিজের। দু'জনের হাতেই দু'দুটো মোবাইল। তুমুল হারে কী-বোর্ড টাইপিং-এ কাজে লাগাচ্ছে নিজেদের আঙুল। রুশো বিরস মুখ করে থামলো ক্ষণিকের জন্য। জিহ্ব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিয়ে বলল,
------ "এটা মেয়ে নাকি রোবট ব্রো? ও মাই গড, আমার আঙুল তো ইন্না-লিল্লাহ হয়ে গেলো!"
অগ্নি চোখ গরম করে তাকালো। কড়া গলায় বলল,
------ "উল্টোপাল্টা কথা বাদ দিয়ে যা শিখিয়ে দিচ্ছি তা ঠিকঠাক টাইপ করে সেন্ড কর। মেয়ে যেনো সন্দেহ করবার বিন্দুমাত্র অবকাশও না পায়।"
রুশো গাল ফুলিয়ে টাইপ করলো,
------ "আমি তোমায় ছবিতে দেখেছি। ইউ আর সাচ আ প্রিটি লেডি নিত্য!"
ওপাশ থেকে প্রায় সাথেসাথেই উত্তর এলো,
------- "আপনি সত্যি বলছেন A.J? আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছেনা, ও মাই গড! আমি তো রীতিমতো পাগল হয়ে যাচ্ছি!"
রুশো ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
------- "ব্রো, আমার নাকে না কেমন যেনো সন্দেহ সন্দেহ গন্ধ এসে ঠেকছে। ভাবিও এরকম ন্যাকা মার্কা কথাবার্তা বলতে পারে, ব্যাপারটা ঠিক হজম হচ্ছেনা।"
অগ্নি সরু চোখে তাকালো। ফোনটা একপ্রকার ছিনিয়ে নিয়ে লিখল,
------- "অগ্নি আমায় বলেছে তুমি নাকি আমার সাথে দেখা করতে চাও। আমি তো পরের উইকে রাজশাহী যাচ্ছি। এন্ড আই ওয়ান্না মিট ইউ টু!"
এবারের মেসেজের উত্তর আসতে পূর্বের তুলনায় সময় লাগলো ভীষণ। তবে অগ্নির ফোনে টুং করে শব্দ হলো ঠিকই। নিত্য রিপ্লাইয়ে লিখেছে,
------- "মি. অগ্নি, A.J আমার সাথে দেখা করতে রাজি হয়েছেন। আমার কী দেখা করাটা ঠিক হবে?"
অগ্নি রুশো একে-অপরের দিকে অবাক চোখে তাকালো। এতোক্ষণ যাবৎ খুশিতে গদগদ হয়ে A.J ওরফে রুশোর নম্বরে মেসেজ করা মেয়েটা অগ্নির কাছে দেখা করা নিয়ে সাজেশন চাইছে ব্যাপারটা কেমন যেনো অদ্ভুত রকমের লাগলো দু'জনের কাছেই। রুশো ভ্রু নাচাল। ছোট্ট করে বলল,
------- "ভাবির মধ্যে কী দুটো আত্মা আছে ব্রো? আমার না কেমন যেনো ভয় ভয় করছে এবার!"
অগ্নি চিন্তিত ভঙ্গিতে রিপ্লাই দিলো,
------- "ওয়াও, দ্যটস গ্রেট মিস নিত্য! ভাই এর আগে কোনো ফ্যান ফলোয়ারের সাথে দেখা করেনি। যদিও নিজের পরিচয় গোপন রেখেই এতদূর পৌঁছেছে তবু সেই অপরিচিত মুখটা দেখতেই কিন্তু উৎসাহ ছিলো হাজার হাজার মেয়ের। এতোগুলা মানুষের মাঝে এই আপনি প্রথম, যার সাথে নিজে থেকেই দেখা করতে চেয়েছে ভাই। আপনি এতো ভাববেন না। নিশ্চিন্তে দেখা করুন, হি ইজ রিয়েলি এন ইম্প্রেসিভ পার্সোন!"
অগ্নি ফোন ফেলে বালিশে গা এলিয়ে দিলো। কেমন যেনো অন্যরকম ফিলিংস হচ্ছে তার। তবে কী নিত্যকে ও যেমনটা ভেবেছিল মেয়েটা ঠিক সেরকমই? অন্যরকম? কিন্তু তাই যদি হয় তবে A.J ভেবে রুশোর সাথে এমন গায়েপড়া টাইপ কথাবার্তার আনাগোনা কেনো করল সে? এমন কনফিউজিং টাইপ ক্যারেক্টর কেনো ক্যারি করছে মেয়েটা? অগ্নি কপালে হাত রেখে চোখ দুটো বুজে নিলো। রুশো লাফিয়ে উঠলো মেসেজ টিউন বেজে ওঠায়। ফোন হাতে উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বলল,
------- "ব্রো ব্রো, রিপ্লাই দিয়েছে ভাবি।"
দু'চোখ বুজে রেখেই অগ্নি বলল,
------- "কী লিখেছে পড়!"
------- "আই এম সো সো সরি ফর বিং লেইট! আমি একচুয়ালি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আপনি আমার সাথে দেখা করতে রাজি হয়েছেন। ওহ মাই গড! বিলিভ মি, ইট ওয়াজ মাই ড্রিম! আমি এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারছিনা নিজের চোখকে। আমি উইল ডেফিনেটলি মিট ইউ A.J."
পুরো মেসেজটা পড়া শেষ হলে লম্বা একটা দম নিলো রুশো। হতাশ ভঙ্গিতে ফোনটা পাশে রেখে প্রশ্ন ছুড়লো,
------- "ব্রো, তুমি এক্সাক্টলি কী করতে চাইছ আমায় একটু ক্লিয়ার করে বলবা প্লিজ? গত এক সপ্তাহ ধরে হয় আমায় দিয়ে নয়তো নিজেই A.J সেজে কথা বলছ ভাবির সাথে। হ্যাঁ এটা ঠিক আমরা জানি A.J অন্য কেউ নয়, তুমিই A.J! বাট ভাবি থুক্কু ডক্টর আপু তো জানে না। আর তুমি যদি আপুকে টেস্ট করার জন্যই এমনটা করে থাকো দেন দেখা করতে চাইছ কীসের ভিত্তিতে? ভাবি তো জানে তুমি অগ্নি, A.J নও!"
অগ্নি বালিশ ছেড়ে সোজা হয়ে উঠে বসলো। রুশোর চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলল,
------- "জানবি জানবি, সব জানবি। আগে আমায় তো ক্লিয়ার হতে দে। হাতে আরো বেশ কিছুদিন আছে। এর মধ্যে ব্যাপারটা খোলাসা করে জানতে হবে আমায়। আমার বিশ্বাস আমি কোনো ভুল মানুষকে মন দিয়ে বসিনি। হোপ, শি ইজ ডেফিনেটলি ডিফারেন্ট ফ্রম আদার্স!
রুশো গোলগাল চোখ করে তাকালো। অবাক হয়ে মুখটা গোলগাপ্পার মতো বানিয়ে বলল,
------- "ও মাই গড! কী শুনালে ব্রো? দ্যট মিনস, ইউ ফল ইন লাভ উইথ হার! আমি কী তবে পার্মানেন্টলি ডক্টর নিত্যকে ভাবি ডাকতে পারবো?"
অগ্নি উত্তর দিলোনা। লাজুক হেসে পিঠে কিল বসিয়ে দিলো রুশোর।
#চলবে______________
(বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান সন্নিকটে! ব্যস্ততা কেমন হবে তা আন্দাজ করতে পারছেন নিশ্চয়। আমার প্রতিদিন বলতে খারাপ লাগে ব্যস্ততার কারণগুলো। আপনারা গল্পের জন্য এতোটা অপেক্ষা করে থাকেন অথচ আমি একদিন পর পরও ঠিকমতো লিখতে পারছিনা। আমি সত্যিই আন্তরিক ভাবে দুঃখিত! পর্ব ছোট হয়েছে অনেক। লেখার মতো সময় এবং পরিবেশ দুটোরই সংকট। কিচ্ছু করার নেই আমার।💔)