ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ২)

৩৯তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥(সিজন-টু)

#পর্ব-৩৯♥

#আয়ানা_জাহান_নুসরাত♥

বাড়িতে বর্তমানে ঠিক তিন ধরণের পরিস্থিতি বিদ্যমান। একদল চিন্তায় হৈচৈ করে বাড়ি মাথায় তুলায় ব্যস্ত, আরেকদল এই হৈচৈ এড়িয়ে গিয়ে গোপনীয়তায় ব্যস্ত এবং বাকি একদল মুখ চুপসে প্রহর গণনায় ব্যস্ত। প্রথম ধাপে বরাবরই গুরুজনেরা অর্থাৎ আম্মু-আব্বুর স্থান, দ্বিতীয় পর্যায়ে ভাইয়ারা। যারা এই মুহুর্তে ঘরে ঢুকে দরজা আটকে নিজেদের মাঝে পরামর্শ করছে কিংবা খুঁজছে প্রতিকার এবং শেষোক্ত পর্যায়ে পড়েছি আমি-রাত্রি।

আজ পুরো ২ ঘন্টা যাবৎ ড্যান্স প্রাকটিস করার পর যখন নিচে নেমে রুশো ভাইয়ার লাল হয়ে যাওয়া মুখটা দেখি তখন স্বভাবগতভাবে আমিও প্রথম পর্যায়েই নাম তুলিয়েছিলাম। ভাইয়েদের কি হয়েছে জিজ্ঞেস করায় একে-অপরের দিকে মাথা কেটে গেছে টাইপ চাহনি নিক্ষেপ করে এড়িয়ে যায়। শেষে রাত্রি যখন অনুশোচনা ভরা গলায় ব্যাপারটা খোলাসা করে বলে, তখন থেকেই মুখে অদৃশ্য তালা মেরে রেখেছি আমি। বিপরীতে কি বলা উচিত তা যেনো শত ভেবেও বুঝে উঠতে পারছিনা। মাঝে মাঝে ভাইয়ার বলা "আন্ডা" শব্দটা মনে আসতেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে কোনো ফাঁকা ময়দানে গিয়ে গগনফাঁটা হাসিতে ফেটে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে তো কখনো ভাইয়ার দুঃখে দুঃখী হয়ে উল্টাতে হচ্ছে ঠোঁট। অদ্ভুত কম্বিনেশনের এক অনুভূতি জাগছে, রাত্রিকে বস্তাবন্দী করে পদ্মায় ভাসিয়ে দেওয়ার মত ভয়ংকর বাসনাও জাগছে থেকে থেকেই।

চড়ামেজাজ নিয়ে অবশেষে মৃদুস্বরে হাঁক ছাড়লাম,

------ "রাত্রি!"

------ "হু!"

মাথা নিচু রেখেই জবাব দিলো রাত্রি।

------ "ভাইয়ার কাছে যা। যেমন আন্ডা ফাটিয়েছিস তেমনি আন্ডা থেকে বাচ্চা ফুটা!"

রাত্রি গোলগাল চোখ করে তাকালো। বিস্মিত গলায় বলল,

------ "মানে কী! কি বলতে চাচ্ছিস?"

------ "মানেটা হচ্ছে, এখন ভাইয়ার কাছে গিয়ে মাফ চা। তখন তো মনে হয়না সরি বলেছিস!"

ঠোঁট উল্টে ফুস করে শ্বাস ছাড়লো রাত্রি। মৃদুস্বরে বলল,

------ "বলিনি! কিন্তু সেই ঘটনার পর তোর ভাইয়ের সামনে কোন মুখে দাঁড়াব বলতে পারিস? লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।"

------ "তা মাটির সাথে মিশে যেতে পারবি?"

মাথাটা ডানে-বামে ঘুরিয়ে 'না' বলল রাত্রি। বিনিময়ে চড়াগলায় বলে বসলাম,

------ "তাহলে বসে বসে আমার মুখ দেখছিস কেন? মাটির সাথেও মিশে যেতে পারবিনা আবার ভাইয়ার সামনেও দাঁড়াতে পারবি না! এমনটা তো হবে না চাঁদু! যা, গিয়ে সুন্দর মতো সরি বল। সেই শুরু থেকেই রুশো ভাইয়ার নাক ফাটিয়ে এসেছিস তুই। তখন নাহয় ভাইয়ার ফল্ট ছিলো, যদিও সঙ্গেই সঙ্গেই সরি বলেছিল বাট তাও তোর পাঞ্চ ভাইয়ার সুন্দর নাকটাকে টমেটো বানিয়েই ছেড়েছে বারংবার। সেই হিসেবে, এবার তো ভাইয়ার কোনো দোষই নেই, এতোই ফাটানোর শখ ছিলো তো নাকটাই আবারও ফাটাতে পারতি! আর কিছু না পেয়ে সোজা......"

রাত্রি দু'হাতে মুখ ঢেকে ফেললো লজ্জায়। পরমুহূর্তে চিন্তিত গলায় বলল,

------ "আচ্ছা ছেলেদের মুসলমানি তো ছোটতে দিতে হয় তাইনা?"

------ "হঠাৎ এই প্রশ্ন?"

বাম সাইডের ভ্রুটা উঁচু করে জিজ্ঞেস করলাম আমি। রাত্রি জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করে বলল,

------ "এই বড় বয়সে এসে ফেটেফুটে যাওয়ায় আবার মুসলমানি দিতে হয় কিনা তাই ভাবছি!"

------ "রায়ায়ায়াত্রিইইইইইই......."

আমার উচ্চস্বরে দেওয়া তীব্র চিৎকারে রাত্রি দৌড়ে ঘড় ছেড়ে পালালো। আমি দু'হাতে কপাল চেপে ধরে থম মেরে বসে রইলাম। এসব কেমন ধারা মিনিংলেস কথা বলে মেয়েটা! উফফফ আর ভাবতে পারছিনা। আমার ভীষণ দুঃখ দুঃখ ফিলিং আসছে, রাত্রির হবু বর যেই হোক না কেনো তার কপালে যে হুটহাট যেটা-সেটা ফেটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকবে তা হাড়েহাড়েই টের পাচ্ছি আমি। বেচারার প্রতি বস্তা বস্তা সমবেদনা বোধ করছি! আহা বদনা থুক্কু বেদনা!

________________________________________

রাত্রি গিয়ে ব্রেক মারল অগ্নিদের ঘরের সামনে। দুরুদুরু কেঁপে উঠা বুকটা নিয়ে দরজায় নক করলো। প্রথমবার দরজা না খোলায় আবারও নক করতে নিতেই খট করে শব্দ করে দরজাটা খুলে গেলো। নিজের থেকে প্রায় ৬ ইঞ্চি লম্বা নীবিড়কে হঠাৎ করে চোখের সামনে আবিষ্কার করে ফেলায় খানিকটা ভড়কে গেলো সে।

----- "রাত্রি, কিছু দরকার ছিলো?"

আমতা-আমতা করে বলল রাত্রি,

----- "আব...ভাইয়া, উনি কোথায়?"

----- "এখানে উনিটা কে?"

ডান সাইডের ভ্রুটা কিঞ্চিৎ উঁচু করে প্রশ্ন ছুড়লো নীবিড়। রাত্রি খানিকটা জড়তা নিয়েই বলল,

----- "রুশো ভাইয়া।"

নীবিড় ঘাড় ঘুরিয়ে এক পলক রুশোকে দেখে নিলো। পর মুহুর্তে রাত্রির পানে দৃষ্টি নিবন্ধন করে বলল,

----- "ভেতরেই আছে। কেন? কোনো দরকার?"

----- "এখন কেমন আছেন উনি?"

----- "আগের থেকে বেটার। আর কিছু?"

রাত্রি জিহ্ব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো। চোখ নামিয়ে বলল,

----- "আসলে উনার সাথে কিছু কথা ছিলো, উনাকে কী একটু ডেকে দেওয়া যাবে ভাইয়া?"

নীবিড় ঠোঁটে ঠোঁট কামড়ে ধরে রুশোকে ইশারায় জিজ্ঞেস করলো, "রাত্রি দেখা করতে চাইছে? ভেতরে আসতে বলবো?" রুশো তুমুল হারে মাথাটা ডানে-বামে নাড়াল। অর্থাৎ, পৃথিবী উল্টে গেলেও এই মুহুর্তে রাত্রির সাথে দেখা করবে না সে। নীবিড় এবার পলক ঝাপটে অগ্নির দিকে তাকালো। অগ্নি দুষ্টু হেসে ইশারায় বোঝাল, "আরে এতো জিজ্ঞেস করার কি আছে? রাত্রিকে আসতে বলো। প্যারা নাই মামা, জাস্ট চিল!" নীবিড় ভ্রুতে ভাঁজ ফেলে রাগ দেখালো। ঘাড় ঘুরিয়ে রাত্রির উদ্দেশ্যে বলল,

----- "আসলে হয়েছে কি বলো তো, রুশো একটু রেস্ট নিচ্ছে। বাট হি ইজ ফাইন। তুমি টেনশন করো না। পরে নাহয় কথা বলিও!"

রাত্রি হতাশ চোখে তাকালো। এই মুহুর্তে অনন্যার কাছে ফিরে গেলে যে জোরেশোরেই এক লাথি উপহার পাবে তা জানা কথা। তাছাড়া রুশোকে একবার সচক্ষে দেখবার আকাঙ্ক্ষাটাও প্রগাঢ় হচ্ছে। ইশশস ছেলেটা কেমন আছে কে জানে! এতো স্পিডে ছোড়া বল সোজা ওভাবে গিয়ে লাগায় যে কতটা আঘাত পাবার কথা তা অনুভব না করেও উপলব্ধি করতে পারা যায় সহজেই। হয়তো লজ্জায় বলতে চাইছে না, তবু এটা তো ঠিক আঘাত লেগেছে সজোরেই! রাত্রিকে এভাবে আনমনেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নীবিড়ের কপালে সুক্ষ্ম ভাঁজ পড়লো। চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো,

----- "কি হলো রাত্রি? দাঁড়িয়ে রইলে যে? কোনো জরুরী কিছু দরকার ছিলো?

রাত্রি চমকে উঠলো হঠাৎ করেই। অতঃপর নিজেকে স্বাভাবিক করে দৃঢ় কন্ঠে বলল,

------ "জ্বি ভাইয়া, ব্যাপারটা একটু জরুরীই। উনাকে একটু বলুন না প্লিজ।"

নীবিড় ছোট্ট করে শ্বাস ফেললো। ইশারায় অগ্নিকে ঘর ছেড়ে বের হতে বলল। অগ্নি রুশোকে মৃদুস্বরে বলল,

------ "এতো লজ্জা পাওয়ার কিছু হয়নি। ভুলে যাইস না এই মেয়ের হাতেই নাকটাকে টমেটো বানানোর রেকর্ড বানাইছস তুই। সো নো শরম নো গরম। বেস্ট অফ লাক!"

রুশো করুন গলায় অগ্নির হাত চেপে ধরে বলল,

------ "নো...নো..ব্রো! ডোন্ট ডু দিস প্লিজ।"

অগ্নি হাত ছাড়িয়ে নিয়ে রিল্যাক্স মুডে বলল,

------ "প্যারা লেনে কা নেহি, দেনে কা হ্যায়! তোর ডায়ালগ তোরেই ঝাড়লাম। মনে কিছু নিস না।"

একথা বলেই হাসতে হাসতে ঘর ছেড়ে বের হলো অগ্নি। নীবিড়ও দরজা থেকে সরে বেরিয়ে গেলো। রাত্রির উদ্দেশ্যে যেতে যেতে বলল,

------ "বেচারাকে লজ্জায় ফেলো না কিন্তু রাত্রি।"

রাত্রি ঘাড় কাঁত করে সম্মতি জানাল। গুটিগুটি পায়ে ঘরের ভেতরে ঢুকলো। রুশো গুটিসুটি মেরে কম্বল মুড়িয়ে বসে ছিলো। রাত্রিকে দেখতেই শুকনো ঢোক গিলে খানিকটা হাসার চেষ্টা করলো। মুখে বলল,

------ "ব্যাপার কী? এটম বোম্ব হঠাৎ জরুরী ভিত্তিতে এই হতভাগার সাথে দেখা করতে চাইছে যে!"

রাত্রি আঙুলে আঙুল খোঁটাতে খোঁটাতে বলল,

----- "আসলে ভাইয়া, আপনি তো জানেনই ব্যাপারটা এক্সিডেন্টালি ঘটে গেছে। আমি ইচ্ছে করে এমনটা করি নি। আপনি প্লিজ আমার ওপর রাগ করে থাকবেন না। আমি এর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত!"

রুশোর মনটা অজানা এক ভালোলাগায় খেলে গেলো। মন-মস্তিষ্ক উভয়ই রাত্রিতে মত্ত হতে শুরু করলো তার। ব্যাথায় কাবু হওয়া ছেলেটার হঠাৎ করেই মনে হলো, কই ব্যাথা তো করছে না আর! রুশো নিজ মনে প্রশান্তির হাসি হাসলো। নিজের জন্য রাত্রির চোখে এই সামান্যতম মায়াটা বিশালাকার পর্বতের মতো মনে হলো। হেসে বলল,

----- "ইটস ওকে মিস! আমি আপনার উপর রেগে নেই। আই নো এটা জাস্ট একটা এক্সিডেন্ট। আম টোটালি ফাইন! ডোন্ট ওয়ারি।"

রাত্রি স্বস্তির শ্বাস ফেললো। বুকে চেপে রাখা পাথরটা নেমে যাওয়ায় অনেকটা হাল্কা অনুভূতি হলো তার। রুশোকে এভাবে গুটিসুটি মেরে বসে থাকতে দেখে বলল,

----- "আপনার কী খুব বেশি শীত করছে?"

রুশো মাথাটা ডানে-বামে নাড়িয়ে বলল,

----- "কই নাতো? একদম শীত করছে না। বরং কপালে ঘাম জমেছে। সি!"

রাত্রি কপাল কুঁচকে দেখল। জিজ্ঞেস করলো,

----- "তাহলে এভাবে কম্বল মুড়ি দিয়ে বসে আছেন কেনো?"

মুহুর্তেই নিজের গালে নিজেরই সজোরে থাপ্পড় মারার ইচ্ছে হলো রুশোর। সে যে কম্বলটা প্রেস্টিজ রক্ষায় নিয়ে ছিলো সেকথা অন্যদের বুঝতে না দেওয়ার চেষ্টায় কিনা নিজেই ভুলে বসলো! সাচ আ সেম! রুশো আমতা-আমতা করে বলতে লাগলো,

------ "আব...আসলে হয়েছে কি এটম বোম্ব, আমার আবার শীতকালে পুরো বডিতে গরম লাগলেও পা'দুটো কখনোই গরম হয়না। মনে হয় সবসময়ই বরফ হয়ে থাকে। তাই আরকি ঢেকেঢুকে বসে আছি।"

রাত্রি ছোট্ট করে বলল,

------ "ওহ!"

তারপর কয়েক সেকেন্ড বিরতি নিয়ে আবারও বলে উঠল,

------ "আচ্ছা তাহলে আমি আসছি। নিজের খেয়াল রাখবেন প্লিজ!"

রুশো হেসে সম্মতি জানাল। রাত্রি উল্টোদিকে ফিরে ধাপ ফেলার মুহুর্তে রুশোর মনে পড়লো ফ্লোরের বেশ কিছু জায়গায় পানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো। টাইলস লাগানো ফ্লোরে এমনিতেই স্লিপারি ফিল হয়। সেখানে পানি! ওহ নো! রাত্রির পা পড়লে তো যেকোনো মুহুর্তে দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে! রুশো ভাবনার মাঝেই খেয়াল করলো রাত্রির ঠিক সামনেই ছড়িয়ে আছে কিছু পানি। ফ্লোরটা হোয়াইট টাইলসের হওয়ায় সেভাবে লক্ষ্য না করলে বোঝার জোঁ নেই। রাত্রিকে আটকাতে হবে, তাও এক্ষুনি। রুশো চট করে সব ভুলে কম্বল ছেড়ে দাঁড়াল। তৎক্ষণাৎ হাঁক ছাড়লো,

------ "হেই স্টপ স্টপ....!"

অথচ রাত্রি থমকে দাঁড়ালেও দূর্ঘটনা ঘটালো রুশোই। বেচারা লুঙ্গিতে পা বেজে ধারাম করে পড়লো রাত্রি সহ। ঘটনাটা এতো দ্রুত ঘটলো যে রাত্রি সরে দাঁড়ানোর মতো নূন্যতম সময়টাও হাতে পায়নি। রুশোর আচমকা নিজের ওপর পড়ে যাওয়ায় ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে গেছে সেও। এইটুকুর মাঝেই কিন্তু দূর্ঘটনা থেমে থাকলে পারতো। কিন্তু দূর্ঘটনার লিমিটেশন কেনো যেনো রুশোর ক্ষেত্রেই বরাবর সর্বোচ্চ মানের হয়। যার দরুন পরনের লুঙ্গিটার যে এদিকে গিঁট খুলে গিয়েছে তার অনুমানটাও করতে সক্ষম ছিলো না রুশো। রাত্রি "আউউউ...!" বলে চিৎকার ছাড়লো ব্যাথা পাওয়ার দরুন। মূলত রাত্রির ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ায় রুশোর আঘাত লাগেনি ততটা। ব্যাস পুরোনো ক্ষততে ধাক্কা লেগেছে আরেকবার। রুশো চোখ বুজে থাকা রাত্রির পানে চেয়ে মুখ ফুলিয়ে ব্যাথাটা সহ্য করে নেবার চেষ্টা চালালো। পর মুহুর্তে রাত্রিকে এতোটা কাছ থেকে দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্যের কাছে ব্যাথাটাকে বড্ড সামান্য বলেই বোধ হলো। মুগ্ধ চোখে চেয়ে রইলো রুশো। রাত্রির কপালের ভাঁজ, ঢেউ খেলানো ভ্রু, ঘন পল্লবে ঘেরা চোখ, পাতলা ঠোঁট সবেতেই ঘুরেফিরে বেড়াতে থাকল তার সুক্ষ্ম নজর। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রাত্রি বিস্ময় কাটিয়ে চোখ খোলার চেষ্টা চালালো এবং প্রায় সাথেসাথেই উচ্চস্বরে চিৎকার জুড়ে দিলো,

------ "আয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া.........!"

রুশোর হুশ এলো রাত্রির প্রকান্ড চিৎকারে। তাড়াহুড়ো করে উঠে লুঙ্গি টেনে নিজের ইজ্জৎ বাঁচানোর লক্ষে লেগে পড়লো সে। রাত্রি কষ্ট করে হলেও দু'চোখ ঢেকে উঠে দাঁড়াল।

------ "আ...আমি কিছু দেখিনি। আমি কিছু দেখিনিইইই......!"

কম্পিত গলায় কথাগুলো আওড়াতে আওড়াতেই দৌড়ে ঘর ছেড়ে পালালো রাত্রি। রুশো পারে না লজ্জায় লজ্জাবতী গাছের সাথে ফাঁস দিয়ে সুইসাইড করে। কি করবে সে কোথায় যাবে সে! রুশো দিশেহারা হয়ে কপাল চাপড়াতে লাগলো।

অগ্নি-নীবিড় ড্রয়িং রুমে বেশ আয়েশ করে ম্যাচ দেখছিল। হঠাৎ রাত্রিকে এভাবে দৌড়ে বাড়ি ছেড়ে বের হতে দেখে চট করে দাঁড়িয়ে পড়লো। অগ্নি জিজ্ঞেস করলো,

------ "একি রাত্রি! কি হয়েছে? এভাবে দৌড়ে যাচ্ছ কোথায়?"

রাত্রি মুখ ঢেকে রেখেই বলতে থাকল,

------ "আমি কিছু দেখিনি। বিশ্বাস করুন আমি কিছু দেখিনি। কিচ্ছুটি না!"

এবং মুহুর্তেই দৃষ্টিসীমার বাহিরে পৌঁছাল। একে-অপরের দিকে জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে তাকালো অগ্নি-নীবিড়। যেহেতু সঠিক উত্তর কারোরই জানা নেই সেহেতু আর এক মুহুর্ত দেরি না করে রুশোর ঘরের উদ্দেশ্যে ছুট লাগাল দু'জন। ঘরে পৌঁছেই দু'হাতে মুখ ঢেকে রেখে কম্বল জড়িয়ে থাকা রুশোকে আবিষ্কার করলো তারা। ভালো কিছু যে ঘটেনি তা পরিস্থিতি দেখেই আঁচ করতে পারলো। অগ্নি রুশোর কাছাকাছি গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

------ "রুশো! কি হয়েছে? রাত্রি এভাবে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো কেনো?"

রুশো মাথা বের করে করুন চোখে তাকালো। কাঁদোকাঁদো মুখ করে বলল,

------ "ব্রো, যেটুকু প্রেস্টিজ বাকি ছিলো আজ তার সবটা পাঞ্চার হয়ে গেলো!"

একথা বলেই আবারও মুখ ঢেকে ফেললো রুশো। নীবিড় চিন্তিত ভঙ্গিতে পাশে গিয়ে বসলো রুশোর। কাঁধে হাত রেখে নরম গলায় জিজ্ঞেস করলো,

------ "রুশো! কি হয়েছে সেটা আমাদের খুলে বলো। নাহলে বুঝবো কি করে বলো?"

রুশো ফুস করে শ্বাস ফেললো। দুঃখে ভরা গলায় বলল,

------ "তখন তো স্রেফ আন্ডা ফুটেছিলো, আর এখন আন্ডার ভান্ডাটাই ফুইট্টা গেছে ব্রোস.....!"

#চলবে______________

(পর্ব ছোট হওয়ায় ক্ষমাপ্রার্থী!)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন