#প্রেম_আমার♥(সিজন-টু)
#পর্ব-৫৭♥
#আয়ানা_জাহান_নুসরাত♥
ট্যানিকে কোলে নিয়ে অর্ধেক রাত বোধহয় বসেই কাটিয়ে দিল রুশো। সেকি লজ্জা তার! লজ্জায় রুশোর ফর্সা গালদুটো লাল হয়ে আছে এখনও। এটা প্রথম বার নয় যদিও তবু রাত্রির সামনে ঘটে যাওয়া এসব ইজ্জৎ হরনকারী এক্সিডেন্টগুলো বরাবরই লজ্জার চরম সীমায় গিয়ে ফেলে দেয় রুশোকে। রুশো ট্যানির গায়ে হাত বুলাতে বুলাতে ঘড়িতে চোখ ফেলল। রাত বাড়তে বাড়তে ঘন্টার কাঁটা পৌঁছেছে প্রায় ৩ টার ঘরে৷ অথচ চোখে ঘুমের নানা-নানি না হোক আন্ডাবাচ্চা পর্যন্ত ধরা দেয়নি। রুশো হতাশ হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। ট্যানি ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় চোখ বুজে থেকেই "উহহ..!" করে আবারও "ঘড়ঘড়" শব্দে ঘুমোতে লাগল।
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করার প্রায় কিছুক্ষণের মাঝেই দরজায় টোকা পড়লো। এই মধ্যরাতে ঘরে কে আসতে পারে ভেবে পেলো না রুশো। ভাইটা আবার ভূতের ভয়ে উঠে আসে নি তো? রুশো এমনটা ভেবে নিয়েই দরজা খুলতে বিছানা থেকে নামলো। অবাক করা বিষয়, অগ্নির বদলে জ্বলজ্যান্ত প্রেতাত্মা থাকলেও হয়তোবা ততটা চমকাত না রুশো যতটা না চমকাল রাত্রিকে দেখে। লজ্জায় মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
------- "তুমি এতো রাতে এখানে? ঘুমাও নি কেনো এটম বোম্ব?"
রাত্রি ঠোঁট উল্টে মুখ কালো করে বলল,
------- "সেই দু'ঘন্টা ধরে ঘুমের সাথে বন্ধুত্ব করতে চাইছি কিন্তু ব্যাটা এতোই ফাজিল, চোখে ধরাই দিচ্ছে না!"
রুশো আড়চোখে রাত্রির পানে তাকালো একপলক। তখনকার লজ্জায় কুঁকড়ে যাওয়া চেহারার সাথে বিন্দুমাত্র মিল পেলো না। এতো জলদি মেয়েটা সহজ হয়ে গেলো কিভাবে? এতো ভারী চমৎকার ব্যাপার! রুশো গলা ঝেড়ে জবাব দিলো,
------- "ঘুম তো আমারও আসছে না। তা কি করতে চাইছ এখন? আমায় এসে ডাকলে যে?"
রাত্রি চট করেই চোখমুখ উজ্জ্বল করে জিজ্ঞেস করল,
------- "ঘুম যখন কারোরই আসছে তো তখন এক কাজ করি বরং উমম....কি কাজ কি কাজ? হ্যাঁ পেয়েছি, লুডু! চলুন আমরা দু'জনে লুডু খেলি!"
------- "এতো রাতে লুডু!"
বিস্ময়ে মুখটা "হা" করে কথাটা বলল রুশো। বিনিময়ে রাত্রি ভ্রু নাচিয়ে বলল,
------- "কেনো লুডু খেলতে পারেন না বুঝি? নাকি হেরে যাওয়ার ভয় করছে? কোনটা?"
কোনো মেয়ের কাছে লুডু খেলায় হেরে যাওয়া নিশ্চয় বীরত্বের পরিচয় নয়। রুশো বুক ফুলিয়ে জোড়ালো গলায় বলল,
------- "হেরে যাওয়ার ভয় পাবো আমি? হাহ! আমি লুডু খেলায় চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছি বুঝলে। ফ্রেন্ডসার্কেলে কেউই আমায় টেক্কা দিতে পারেনা হুম!"
------- "বাব্বাহ, তাই নাকি? বেশ! তবে দেখা যাক, বিদেশ ফেরত ধলা ইন্দুর এই রাত্রিকে হারাতে পারে কি-না!"
অনেকটা ব্যাঙ্গ করেই কথাটা বলল রাত্রি। রুশো গাল ফুলিয়ে জবাব দিলো,
------- "ওকে দেন, দেখা যাক!"
কথোপকথনের পর সিদ্ধান্ত পাকাপোক্ত হলে লুডুর বোর্ড এবং গুটি নিয়ে বসে পড়ল দু'জনেই। রাত্রি ট্যানির নরম গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে বালিশের পাশে শুইয়ে রাখল তাকে। তারপর খাটের পূর্ব দিকে হেলান দিয়ে বসলো সে। মাঝখানে লুডুর বোর্ড রেখে রাত্রির মুখোমুখি বসলো রুশো। যথারীতি খেলা শুরু হলো। রুশো খেলার সময়ও গোলাপি রঙের গুটি খুঁজছিল। কিন্তু আফসোস গোলাপি রঙের কোনো গুটি নেই। যার জন্য লালরঙা গুটি নিয়েই ক্ষান্ত থাকতে হলো তাকে। রুশো আবিষ্কার করলো রাত্রি লুডু খেলায় বেশ এক্সপার্ট। তবে তাকে টেক্কা দেওয়াটা মতো নয়। খেলা শুরুর মাঝপথে পরপর রাত্রির দুটো গুটি খেয়ে ফেললো রুশো। রাত্রির সেকি রাগ! পারলে রুশোকে বোধহয় আস্ত ব্লেন্ডারে জুস বানিয়ে খেয়ে ফেলে সে। রাত্রির রাগ দেখে এবার রুশো ভয় পেলো না বরং রাত্রি রাগচটা মুখটা দেখে বেশ মজা পেল সে। ভাবল আরেকটু জ্বালানো যাক। ভাবনা মতেই কৌশলে রাত্রির মাত্র বের হওয়া গুটিটা যখন খেয়ে ফেললো ঠিক তক্ষুনি চেঁচিয়ে উঠল রাত্রি,
------- "এই এটা আপনি কি করলেন?"
হতভম্ব রুশো অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
------- "যাক বাবা, আমি আবার কি করলাম?"
------- "কি করলেন মানে? আমার দু দুটো পাকা গুটি খেলেন মানলাম তাই বলে এতক্ষণ পর একটা গুটি বের হলো সেটাও খেয়ে নিলেন?"
রাত্রিকে এভাবে ক্ষেপে যেতে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল রুশো। ভেবেছিল হয়তো রাগ করে ফোসফাস করবে, চোখ রাঙাবে কিন্তু এভাবে যে উঠেপড়ে ঝগড়া শুরু করবে তা তো ভাবেনি। রুশো থতমত খেয়ে বলে উঠলো,
------- "লুডু খেলার রুলসে কি কোথাও বলা আছে সদ্য বের হওয়া গুটি খাওয়া যাবে না?"
রাত্রি নাক ফুলিয়ে আরো উচ্চস্বরে চেঁচাল,
------- "রুলসে থাকুক বা না থাকুক, আপনি আমার গুটি খাবেন কেনো? আমি কি এখনও আপনার কোনো গুটি খেয়েছি?"
------- "সে খেতে পারলে না খাবে!"
শেষের কথাটা বিড়বিড় করে বলল রুশো। রাত্রি কিছুটা হয়তো শুনল, পুরো কথাটা না শুনেই ফের বেঁকে বসলো,
------- "এই আপনি কি বলছেন? বিড়বিড় করে কি বলছেন হ্যাঁ? আমি খেলতে পারিনা? আমি লুজার? আপনি চিটিং করছেন! আর আমি তো বরং মানবতার দেখাচ্ছিলাম!"
রুশোর এবার মাথায় হাত পড়লো। নিজের মনকে নিজেই প্রশ্ন করলো, "যাহ শালা! এসব কথা আমি কখন বললাম ভাউ?" মন বড়'ই দুঃখী দুঃখী গলায় জবাব দিলো, "ভুল মানুষের সাথে খেলতে বসছিস রে হতভাগা। নে এবার ঠ্যালা সামলা!"
রুশো কি করবে ভেবে না পেয়ে আমতা-আমতা করে বলল,
------- "আরে এটম বোম্ব, শান্ত হও। এতো রাতে ফেটে গেলে তো পুরো বাড়িসুদ্ধ সবাই জেগে যাবে। শান্ত হও প্লিজ! আমি আর গুটি কাটব না!"
রাত্রি চুপ হলো ঠিকই তবে ফোসফাস কমালো না। সেবারের মতো রুশোকে রাত্রির গুটি না কেটেই খেলা চালিয়ে যেতে হলো। কিন্তু কাটাকাটি না হলে খেলায় তো মজাটাও আসেনা। লুডু খেলায় একে-অপরকে না কাটলে সে কেমন ধারা লুডু খেলা? রুশো খেয়াল করে দেখল রাত্রিও মুডটাও বিশেষ ভালো নেই। রাগটা মিইয়ে গেলেও বোরিংনেসের বেড়াজালে ফিউজ মেরে রয়েছে সে-ও। রাত্রিকে এমন চুপচাপ দেখতে বরাবরই ভালো লাগে না রুশোর। রুশো চায়, সে হয় হাসুক নয়তো কথা বলুক তাও না পারলে প্রয়োজনে ঝগড়া করুক। কিন্তু চুপচাপ হোপফুলিয়ে থাকুক এমনটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রুশো এবার ইচ্ছে করেই নিজের মারা পড়ার সম্ভাবনা সম্পন্ন গুটিটা সরাল না। খুব করে চাইল রাত্রির পাঁচ উঠুক আর চট করে কেটে দিক সেই পাকা গুটিটা। হলোও তাই! রুশোর পাকা গুটিটা কেটে রাত্রি যতটা না খুশি হলো তার থেকেও বহুগুণ খুশির জোয়ার বইলো রুশোর মনে। ঠোঁট চেপে হাসিটা লুকিয়ে মুখটা দুঃখী দুঃখী করার চেষ্টা চালালো সে। রাত্রি আহামরি কিছু হাসিল করার ভঙ্গিমায় চওড়া হাসিতে ঠোঁট রাঙাল। টিটকারি মেরে বলল,
------- "কী? খুব তো চ্যাম্পিয়ন হবার তকমা নিয়ে ঘুরছিলেন? খেয়ে দিলাম তো গুটিটা! হাহ! কার সাথে পাঙ্গা নিতে এসেছেন দেখতে হবে না?"
রুশো অত্যন্ত ভগ্নহৃদয় নিয়ে মিনমিন করে বলল,
------- "বেশ মানলাম! তবে এখনও খেলা কিন্তু শেষ হয়নি!"
তারপর একে একে চারটে গুটিই বিনা বাঁধায় ঘরে ঢোকাল রাত্রি। রুশো ইচ্ছে করেই ভুলভাল গুটি এগিয়ে চলছিল। মেয়েটা জিতলে যেই ভুবন ভুলানো হাসি হাসবে তার প্রতিক্ষাতেই আত্মসমর্পণ করল। রাত্রি খুশিতে তালি বাজাতে বাজাতে খিলখিল করে হেসে উঠলো। তার হাসির ঝংকারে যেনো হেসে উঠলো ঘরের প্রতিটি কোণ! রুশো মুগ্ধ চোখে তার এটম বোম্বের মিষ্টি হাসি উপভোগ করছিল। আহ! এই মায়াবী হাসিটা এতোদিন কোথায় লুকিয়ে রেখেছিল মেয়েটা? শুধু রাগ দেখাতেই শিখেছে, এভাবে হঠাৎ হঠাৎ হাসলেই তো রুশো গলে যায়। রুশোর তৃষ্ণার্ত মনটা নিমিষেই ভরে যায়।
রাত্রি হাসতে হাসতে একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে বালিশে হেলান দিয়ে বসল। হাঁপাতে হাঁপাতে রুশোর উদ্দেশ্যে বলল,
------- "শুনুন, এক গ্লাস পানি পাওয়া যাবে? আমার গলাটা না শুকিয়ে আসছে!"
------- " ইয়াহ ইয়াহ শিওর! জারা সাবার কারো! ম্যায় ইউ গেয়া ওর ইউ আয়া!"
রুশো ঝড়ের গতিতে গ্লাস নিয়ে কিচেনের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। শীতকালে পানির প্রয়োজনটা বরাবরই কম লাগায় রাতে জগ ভর্তি করে ঘরে রাখা হয়নি তার। রুশো যখন গ্লাস ভর্তি পানি নিয়ে ঘরে পৌঁছল তখন দেখল রাত্রি বালিশে পিঠ ঠেকিয়েই ভিন্ন রাজ্যে ডুব দিয়েছে। সেই রাজ্য গভীর ঘুমের অতল রাজ্য। ইশশ মেয়েটা এভাবে ঘুমিয়ে গেলো! ওকে কি এখন ডাকাটা ঠিক হবে? রুশো ভেবে দেখল রাত্রিকে এখন ডাকাটা মোটেও ঠিক হবে না। এমনিতেই রাত সাড়ে তিনটা পেড়িয়ে গেছে। বহু প্রতিক্ষার পর ধরা দেওয়া ঘুমটা এতো সহজ উবে যেতে দেওয়া যায় না। রুশো গ্লাসটা বেড সাইড টেবিলে রেখে খাটে উঠল। রাত্রির ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবলো আজ নাহয় মেয়েটা এ ঘরেই থাক। সে অগ্নির ঘরে আরাম করেই থেকে যেতে পারবে। কিন্তু এরকম বেকায়দায় শুয়ে থাকলে তো ঘাড় ব্যাথা করবে। রুশো এমনভাবে বালিশটা সোজা করে রাখল যাতে রাত্রির ঘুমে বিন্দু পরিমাণেও ব্যাঘাত না ঘটে। বালিশ ঠিক করে নেবার পর রাত্রিকে সোজা করে শুইয়ে দিতে যাবার পথেই বাঁধল বিপত্তি। রাত্রি বিছানায় গা এলিয়ে দেবার বদলে রুশোর কোলে ধপ করে শুয়ে পড়লো। ঠান্ডায় জড়সড় হাত দুটো দিয়ে উষ্ণতা পাবার লক্ষ্যে জড়িয়ে ধরলো রুশোর কোমড়। রুশো হতভম্ব হয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্ট্যাচু সেজে বসে রইল। বোঝার চেষ্টা চালালো ঠিক কি হচ্ছে তার সাথে। রুশো দম আটকে রেখে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে লাগলো। রাত্রিকে আলতো হাতে যতই সরিয়ে রাখার চেষ্টা চালালো অবাধ্য রাত্রি যেনো আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো রুশোকে। যেনো কোনো মানুষ নয় আস্ত কোলবালিশ চেপে ঘুমিয়ে আছে সে। রুশো শেষমেশ উপায় না পেয়ে দুশ্চিন্তায় দাঁতগুলোকে নেইলকাটার বানিয়ে ফেলল। ছোট্ট নখগুলোকেও কামড়াতে থাকল একনাগাড়ে। ঘাম ছুটার এক পর্যায়ে অনুভব করলো তার ভালো লাগছে। ভিন্ন এক অনুভূতিতে শরীরটা শিউরে উঠছে। রুশো নখ কাঁটা ছেড়ে সামান্য ঝুঁকে রাত্রির পানে তাকালো। মেয়েটা নিঃসন্দেহে রূপবতী। অহেতুক সব মেকআপের আড়ালে নিজের প্রকৃত সৌন্দর্যটা ঢেকে রাখে সবসময়। মেকআপ করে খারাপ দেখা যায় তেমনটা নয়। মেকআপ মুখটাকে পার্ফেক্ট লুক দেয় তা জানা কথা। কিন্তু কৃত্রিমতাহীন মুখশ্রীটা মায়াবী। ত্বকে দুটো একটা ছোপ ছোপ দাগগুলো প্রমাণ করে সুন্দর হতে গেলে পার্ফেক্ট হতে হয়না। সবদিক দিয়ে পার্ফেক্ট না হলেও সুন্দর হওয়া যায়, চট করেই নজরে পড়া যায়। রুশোর মনে ঠিক কি চলছিলো বোঝা গেল না। অশান্ত মনের কাছে হেরে গিয়ে মারাত্মক এক ভুল করে ফেললো সে। রাত্রির ঠোঁটে নিজের ঠোঁটটা আলতো করে ছুঁইয়ে দিল। রাত্রি কপালে কিঞ্চিৎ ভাঁজ পড়লো। ঘুমের ঘোরে কি বুঝল কে জানে। রুশো ঠোঁট সরিয়ে নেওয়ার পূর্বে সেও ছোট্ট করে চুমু এঁকে দিলো রুশোর ঠোঁটে। রাত্রির ভালোবাসাময় চুমুটা রুশোকে স্তব্ধ বানিয়ে ফেলল। ভালোবাসার গভীর সাগরে ডুব দেওয়া থেকে বাঁচাতে পারলো না কো আর।
______________________________________
পরেরদিন খুব সকাল করেই মাঠে দুই বন্ধু কাঁধে হাত রেখে আড্ডা দিতে বসলো। অবশ্য আড্ডা নয় কোনো এক বিশেষ কথা বলতেই অগ্নি ডেকেছে নীবিড়কে। সেজন্য ভার্সিটি যাবার পূর্বে সময় বের করে অগ্নির সাথে দেখা করতে এসেছে নীবিড়। বিয়ের পর আজ প্রথম অনন্যাকে নিয়ে ভার্সিটিতে যাবে সে। মেয়েটা বলেছিল একাই যেতে পারবে কিন্তু নীবিড় জীবনে বহু রিস্ক নিলেও অনন্যার খাতিরে কখনই রিস্ক নেবার পাত্র নয়। ভার্সিটিতে গিয়ে লোকে নানান প্রশ্নে কান বাজাতে পারে, কেউ কেউ বাজে মন্তব্যও ছুড়তে পারে। এসবের থেকে অনন্যাকে প্রটেক্ট করার জন্য নীবিড়কে যে ঢাল হতেই হবে।
অগ্নি বট গাছটায় হেলান দিয়ে গাছের পাতা দেখছিল। গত ১০ মিনিট পেরিয়ে যাবার পরও সাজিয়ে রাখা কথাটা বলতে না পারায় নিজের ওপরই ক্ষুব্ধ হচ্ছিল। নীবিড় অগ্নিকে সময় দিলো তাও। অপেক্ষা করতে করতে ধৈর্যের বাঁধ যখন ভাঙতে চলল তখন ফুস করে শ্বাস ফেললো নীবিড়। কপালে সুক্ষ্ম চিন্তার ভাঁজ ফেলে হাতে থাকা সিলভার কালারের ঘড়িটার দিকে তাকালো। গম্ভীর গলায় বলল,
------- "১২ মিনিট ১৩ সেকেন্ড অলরেডি হয়ে গেছে। আর কত সময় নিবি? এমন ভাবটা নিতাছস যেনো কোনো মাইয়ারে প্রপোজ করার আগে নিজেরে রেডি করতাছস!"
------- "কোনো মাইয়ারে প্রপোজ করতে নিতেও এতোটা ভয় লাগেনা যতটা ভয় এখন লাগতেছে!"
বিড়বিড় কর থরথর করে কাঁপতে থাকা হাঁটু চেপে ধরে কথাটা বলল অগ্নি। নীবিড় অস্পষ্ট কথাটার কিছুটা শুনে বলে উঠল,
------- "ব্যাপার কী বলত? তুই মেয়েদের মতো বিড়বিড় করতাছস ক্যা? যে তোর মুখে কোনো কথা আটকানো যায় সেই তুই কি-না বিড়বিড় করে কথা বলতাছস! স্ট্রেইঞ্জ!"
অগ্নি জিহ্ব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো। গলা ঝেড়ে নিয়ে আমতা-আমতা করে বলল,
------- "আব...না না! আসলে কথাটা কিভাবে বলব বুঝতে পারতেছিনা। তুই যদি আবার নেগেটিভ রিয়াকশন দিস?"
নীবিড় এবার কঠিন চোখ করে চেয়ে অগ্নির মুখোমুখি বসলো। গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলো,
------- "তুই নেগেটিভ রিয়াকশন দেওয়ার মতো কোনো কাজ করছস?"
এই প্রথম নীবিড়কে দেখে শুকনো ঢোক গিলতে হলো অগ্নির। যাকে বেস্টফ্রেন্ডের ঊর্ধ্বে ভাইয়ের স্থানে বসিয়েছে সেই ছেলেটাকেই এখন মস্ত বড় এক ধাঁধার মতো লাগছে। নীবিড় অগ্নির দিকে আরো একটু ঝুঁকে এলো। কণ্ঠে পূর্বের তুলনায় ভয়ানক গম্ভীরতা মিশিয়ে বলল,
------- "অগ্নি, যা বলার জন্য ডাকছস স্ট্রেইটলি বলে দে।
আমি হেয়ালি করা পছন্দ করিনা। কথাটা তোর জানা আছে নিশ্চয়!"
অগ্নি বুঝল তার অন্তিম সময় ঘনিয়ে এসেছে আজ। আজ কথাটা না বলতে পারলে নিত্য ব্লেন্ডার ছাড়াই জুস বানিয়ে ফেলবে তার। অগ্নি মাথাটা ঝাঁকিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করলো। দু চোখ বন্ধ করে অবশেষে বলেই ফেলল,
------- "নিত্য-আমি একে-অপরকে ভালোবাসি। ইউ আর বউন্ড ইন আ ডিপ রিলেশনশিপ!"
#চলবে__________
[ ছোট পর্বের জন্য দুঃখিত। সামনে কলেজ খুলছে। আল্লাহ জানে কী হবে। গল্পে গ্যাপ বাড়তে পারে! ]