#বসন্তের_দিনগুলো
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান. (সিনু)
#পর্বঃ৭
একদিকে যেমন সিনুদের শপের কাজ চলছে অন্যদিকে সাজিদ আর মেহমেতের শপেরও কাজ চলছে ৷ ওরা বেশ পরিশ্রম করেছে বিগত দিনগুলো ৷ মূলত ওরা কফি আর টি শপ খোলার পরিকল্পনা করেছে ৷ কফি শপের দায়িত্ব সাজিদের উপর আর টি শপের দায়িত্ব মেহমেতের উপর ৷
সকাল থেকে খাটা-খাটুনি করার কারনে মেহমেত পুরো দিশেহারা হয়ে পড়েছে ৷ ধপ করে মেঝেতে চিৎপাটাং হয়ে শুয়ে ও হতাশার স্বরে বলল,,,
আমার মতো ছোট একটা বাচ্চাকে দিয়ে এতো কাজ করিয়ে নিচ্ছিস? তোর কি প্রাণের ভয় হয় না? আমার প্রতি এতো অবিচার আল্লাহ সহ্য করবে না! Whatever ভালোয় ভালোয় আমার উপর থেকে সমস্ত কাজের দায়িত্ব তুলে নে ৷
সাজিদ চেয়ার টেবিল ভালোমতো সেট করে দিয়ে ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,,
২৫ বছরের একটা রাম ছাগল, তোকে কোন দিক থেকে বাচ্চা লাগে?তোর এই অলসতার কারনে দিনদিন ব্রয়লার মুরগির মতো থলথলে হয়ে যাচ্ছিস ৷ এখনও সময় আছে এক্সারসাইজ করা শুরু কর নয়তো কোনো মেয়ে জুটবে না তোর কপালে ৷
মেহমেত তড়াক করে শোয়া থেকে উঠে সাজিদের সামনে গিয়ে বলল,,, তোর পাথরের মতো শক্ত বডির থেকে আমার এই নরম তুলতুলে বডি বহুগুণে ভালো ৷ Whatever আমি একজন স্বাস্থ্যবান ছেলে , না বেশি মোটকু না বেশি চিকনা ৷
সাজিদ ওর কথার জবাব না দিয়ে নিজের কাজ করতে লাগল ৷ উত্তর না পেয়ে মেহমেত ক্ষেপে গেল ৷ সাজিদকে গিয়ে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলল,,,
উত্তর দে ৷ উত্তর দে বলছি ৷
সাজিদ বিরক্ত হয়ে ওর মাথায় একটা চ'ড় মেরে বলল,,, নিজেও কাজ করছিস না আর আমাকেও করতে দিচ্ছিস না! যা ভাগ এখান থেকে ৷
মেহমেত মিছামিছি মুখটা অসহায় করে ফেলল ৷ তা দেখে সাজিদ বিরবির করে বলল,,, আবারও এর নাটক শুরু হবে!
তুই আমাকে মারলি? নিজের ছোট ভাইকে মারলি? নিজের মায়ের পেটের ছোট ভাইকে মারলি? আমাদের বোনের ছোট ভাইয়াকে মারলি? আব্বু-আম্মুর দ্বিতীয় সন্তানকে মারলি? নানির বড় মেয়ের মেজো সন্তানকে মারলি? দাদির সবচেয়ে পছন্দের নাতিকে মারলি?
সাজিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,, মাফ কর ভাই তবুও আমার কানের পোকাটাকে নি'র্মমভাবে হ'ত্যা করিস না প্লিজ!
হঠাৎ বাইরে নজর যেতেই সাজিদ শান্ত হয়ে গেল ৷ সিনু হাস্যজ্জ্বল মুখে স্কুটি চালিয়ে শপের সামনে এসে থামল ৷ সাজিদ মনে মনে বলল,,,
নিশানের হয়ে উনার থেকে একবার মাফ চাওয়া উচিত আমার ৷
যে ভাবনা সে কাজ ৷ সাজিদ শপ থেকে সিনুর সাথে কথা বলার উদ্দেশ্যে পা বাড়াল ৷ মেহমেত পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলল,,,
অকৃতজ্ঞ ২ বছরের বড় ভাই কৈফিয়ত দিয়ে যা তোর এই নৃ'শংস কাজের!
ওর কথা পাত্তা না দিয়ে সাজিদ সিনুর দিকে যেতে লাগল ৷ সিনু স্কুটিটা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে ভিতরে প্রবেশ করতে যাবে এমন সময় নাভিন হাস্যজ্জ্বল মুখে শপ থেকে বেরিয়ে ওর মুখোমুখি হলো ৷ ওকে দেখতেই সিনু অবাক হয়ে বলল,,,
নাভিন ভাইয়া আপনি!
নাভিন মুচকি হেসে বলল,,, তোমার সাথে দেখা করতে আসলাম ৷
সিনু শপের বারান্দায় রাখা চেয়ারে নাভিনকে বসতে বলে ওর পাশের চেয়ারে নিজেও বসে পড়ল ৷ এসব দৃশ্য দেখে সাজিদের কদম থেমে গেল ৷ সুক্ষ্ম নজরে কিছুক্ষণ ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে ও নিজের শপে চলে গেল ৷ নাভিন স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,,,
ভালো আছো সিনু?
জ্বি ভাইয়া ৷
মিথ্যা বলতে হবে না ৷ নিজের অনুভূতি কোনো দ্বিধা ব্যতীত আমার কাছে প্রকাশ করতে পারো ৷ আন্টি আমাকে ফোন দিয়ে সবকিছু বলেছে ৷ নিশান নামের একটা ছেলে তোমার সাথে অ'সভ্যতামি করেছিল, এমনকি তুমি পুকুরে পড়ে গিয়েছিলে যার দরুণ জ্বরের কবলেও পড়তে হয়েছিল ৷ এখন বলো কেমন আছো তুমি?
সিনু সামান্য হেসে বলল,,, সত্যি বলতে আমি আধাঘন্টা আগেও ভালো ছিলাম না কিন্তু এখন অনেক ভালো আছি ৷
কি এমন হয়েছে এই আধাঘন্টায়?
ওই ছেলে ওর কর্মের শাস্তি পেয়েছে ৷ আমার কাছে এসে মাফও চেয়েছে ৷ দেখে মনে হলো এখন একটু শুধরে গেছে ৷
যাক শুনে অনেক শান্তি পেলাম ৷ বাই দা ওয়ে কিছু কথা সবসময় মাথায় রাখবে ৷ তোমার সাথে যত অন্যায় ই হোক না কেন তোমার মনোবল যেন কোনোভাবে ভাঙতে না পারে ৷ কেউ যেন তোমার মুখের হাসি কেড়ে নিতে সক্ষম না হয় ৷ এই পৃথিবীতে অনেক মানুষ রয়েছে যারা সবসময় অন্যের ক্ষতি করার, অন্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে নিঃশ্বেষ করার পায়তারা করে ৷ কিন্তু আমাদের এসব মানুষের ফাঁদে পা দিলে চলবে না কারন এতে করে তারা জিতে যাবে ৷ বুঝতে পেরেছো?
সিনু ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে মাথা ঝাকাল ৷ নাভিনও মুচকি হেসে পুনরায় বলল,,,
ভবিষ্যতে অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেও কোনোভাবেই নিজের আসল সত্ত্বাকে হারিয়ে যেতে দিবে না সিনু ৷ কেউ যেন তোমার ফায়দা তুলতে না পারে ৷
সিনু হাসিহাসি মুখে ওর দিকে তাকিয়ে হ্যাঁ বলল ৷ নাভিনও ওর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল ৷ শপের ভিতর থেকে ওদের সমস্ত কথা শুনে রাইমার অনেক ভালো লাগল কিন্তু একটা কথা ভাবলে ওর মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে ৷ রাইমা বিরবির করে বলল,,,,
আমার সামনে ইংল্যান্ডের ভুল করে ফেলে যাওয়া গম্ভীর মুখের বংশধরের মতো আচরণ করল ৷অন্যদিকে সিনুর সাথে হাস্যজ্জ্বল মুখের বাংলা ভাষাভাষি প্রকৃত দেশপ্রেমিকের ন্যায় আচরণ করল ৷ এ কেমন পারসিয়ালিটি!
রাইমার মতো আরো একজন ওদের দুজনের দিকে নজর রাখতেছিল ৷ সাজিদ গম্ভীর মুখে ওদের দিকে তাকিয়ে শব্দ করে কাজ করতেছে ৷ হঠাৎ মেহমেত ওর কানের কাছে মুখ এনে ডিটেক্টিভদের মতো করে বলল,,,
মনে হচ্ছে এই পিচ্চু মেয়ের হবু স্বামী-টামী ওটা ৷ Whatever ভালোই মানিয়েছে দুজনকে ৷ আমার খুব পছন্দ হয়েছে ৷
সাজিদ অগ্নিদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে রা'গত স্বরে বলল,,, শাট আপ মেহমেত ৷
মেহমেত কপাল কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, তুই কেন রে'গে যাচ্ছিস? Whatever ঝগড়ুটে হলেও মেয়েটা যথেষ্ট সুন্দরী আর বিয়ের বয়সও হয়েছে ৷ তো ফিঅনছে থাকা অস্বাভাবিক কিছু না ৷
সাজিদ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,, খবরদার আর একটাও কথা বলবি না ৷ অন্যের বিষয়ে নাক গলাতে কে বলেছে তোকে? যা গিয়ে কাজ কর , কালকে শপের ওপেনিং ৷ দয়া করে কাজ করে আমাকে একটু উদ্ধার কর ভাই ৷
মেহমেত কোনো আপত্তি না করে কাজ করতে চলে গেল ৷ ও চলে গেলে সাজিদ পুনরায় সামনে তাকাল ৷ নাভিন কিছু একটা মনে পড়ায় বলল,,,
ওহ হ্যাঁ একটা ছেলে নাকি তোমাকে বাঁচিয়েছিল? কে সে?
সিনু সামনের দিকে ইশারা করে বলল,,, উনি ৷
নাভিন সাজিদের দিকে তাকাল ৷ তারপর সিনুকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
চলো একটু দেখা করে আসি ৷
সিনু অবাক হয়ে বলল,, দেখা কেন করবেন?
গেলেই দেখতে পাবে ৷
সিনু আর নাভিন সাজিদের দিকে যেতে লাগল ৷ সাজিদ অবাক হয়ে বিরবির করে বলল,,,
এরা আমার দিকে এগিয়ে আসছে কেন?
নাভিন সাজিদের সামনে গিয়ে হাস্যজ্জ্বল মুখে বলল,,, আপনি সিনুকে বাঁচিয়েছিলেন?
সাজিদ গম্ভীর মুখে ওর দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে বলল,,, জ্বি ৷
নাভিন ওর হাত ধরে বলল,,, ওকে বাঁচানোর জন্য আপনার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকব ৷ আপনি আমাদের অনেক বড় উপকার করেছেন ৷
সাজিদ এক পলক সিনুর দিকে তাকাল তারপর পুনরায় নাভিনের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
মানুষ মানুষের জন্যই ৷ মানুষের বিপদে তো মানুষ ই পাশে দাঁড়াবে ৷ এখানে ধন্যবাদ বলার কিছু নেই ৷
তবুও ধন্যবাদ না বলে পারছি না ভাই ৷ আপনার প্রতি আমি ৠণী হয়ে থাকব ৷ কোনো প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন ৷ আপনার প্রয়োজন মেটানোর আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ৷
সাজিদ গম্ভীর মুখেই বলল,,, ইটস ওকে ৷
নাভিন আর সিনু চলে গেল ৷ সাজিদ ওদের প্রস্থানের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,,,
প্রয়োজন না তবে একটা দাবি ছিল ৷ দয়া করে সিনুর থেকে দূরে থাকবেন ৷
নিজের বলা কথাটার অর্থ খেয়াল হতেই সাজিদ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে অস্ফুট স্বরে বলল,,, এসব কি বলছি আমি? কি হচ্ছে আমার সাথে?
মেহমেত আবারও ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে ডিটেক্টিভদের মতো করে বলল,,, সেটাই তো কি হয়েছে তোর? এতো উইয়ার্ড ব্যবহার করছিস কেন? Whatever তুই আবার ওই পুচকি মেয়ের প্রেমে -ট্রেমে পড়িস নি তো?
সাজিদ থতমত খেয়ে গেল কিন্তু মেহমেতকে সেটা বুঝতে না দিয়ে জোর গলায় বলল,, একদম বাজে কথা বলবি না ৷ আমি কখনোই ওই মেয়ের প্রেমে পড়ব না ৷ আমাকে দেখে কি তোর মনে হয় আমি প্রেম করা বা প্রেমে পড়ার মতো ছেলে? প্রেম করা হারাম , আমি সরাসরি বিয়ে করব ৷
মেহমেত জ্ঞানীর ন্যায় বলল,, অবশ্যই মনে হয় না ৷ Whatever তবুও আমার খুব সন্দেহ হচ্ছে ৷ প্রেমে পড়তে চাইলে সিঙ্গেল মেয়ের প্রেমে পড়, এই মেয়েকে আমার সিঙ্গেল মনে হচ্ছে না ৷ আর সবচেয়ে বড় কথা এই ঝগড়ি মেয়েকে নিজের ভাবী হিসেবে আমার পছন্দ হয়নি ৷
সাজিদ বুকে দুহাত গুজে গম্ভীর গলায় বলল,, মার কি গালে খাবি না পিঠে না পা'ছায়? বল বল দ্রুত বল ৷
মেহমেত ভয় পেয়ে গেল ৷ আমতা আমতা করে বলল,,, মার খাওয়ার আপাতত মুড নেই ৷ Whatever মুড এসে গেলে বলব তোকে ৷
বলেই মেহমেত একটা ভো দৌড় দিয়ে সাজিদের সামনে থেকে পালিয়ে গেল ৷ সাজিদ ওর প্রস্থানের দিক থেকে চোখ সরিয়ে সামনে তাকাল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
নাভিন চলে গেছে কিছুক্ষণ আগে ৷ সিনু আর রাইমা সব কাজ গুছিয়ে চেয়ারে বসে আছে ৷ এমন সময় তানিয়া আর রাইশা ক্লান্ত পায়ে এসে ওদের পাশে ধপ করে বসে পড়ল ৷ ওদের দিকে তাকিয়ে রাইমা ভ্রু কুঁচকে বলল,,,
এমন হাড্ডিসার কঙ্কালের মতো অবস্থা হয়েছে কেন তোদের?
তানিয়া ক্লান্ত স্বরে জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে বলল,,, আর বলিস না ৷ ওই খা'টাশ দোকানদার আমাদের বসিয়ে রেখে রেখে পা'ছা পুরো গরম করে দিয়েছে ৷ তার উপর ওই লু'চ্চা বুইড়া আমাদের দিকে বারবার আড়চোখে তাকিয়ে মুচুর মুচুর করে হাসতেছিল ৷ বা'লের দোকানে গিয়েছিলাম আজ! এর হিসাব তো আমি হাশরের ময়দানে নিয়েই ছাড়ব ৷
সিনু আর রাইশা জোরে হেসে উঠল ৷ সিনুকে হাসতে দেখে তানিয়া আর রাইশা অবাক হয়ে গেল ৷ রাইশা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,,,
তুই আবার নরমাল হয়েছিস সোনা?
সিনু হাসি থামিয়ে বলল,, হু ৷ তারপর ও ওদেরকে তখনকার সব ঘটনা খুলে বলল ৷ সব শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়ল ৷ তানিয়া হাসতে হাসতে বলল,,,
আল্লাহর সবচেয়ে মহান সৃষ্টি নারী জাতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বিশিষ্ট সম্মানিতা সিনু আপু! বাবারে এর চেয়ে ছোট তো পরীক্ষার খাতায় আমার প্যারাগ্রাফ হয়!
ওই ঘটনার পর এই প্রথম ওরা চারজন মন খুলে হাসল ৷ কিছুক্ষণ হাসার পর ওরা টায়ার্ড হয়ে চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বসে থাকল ৷ হঠাৎ নাভিনের ইংরেজিতে কথা বলার বিষয়টা মনে পড়তেই রাইমার মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল ৷ সেটা লক্ষ্য করে তানিয়া কপাল কুঁচকে বলল,,,
মুখটা বিড়ালের পা'ছার মতো করে রেখেছিস কেন?
সিনু চোখ মেলে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, তোর কি পা'ছা ছাড়া মাথায় আর কিছু আসে না? প্রথমে মুরগির পা'ছা, তারপর নিজেদের পা'ছা গরম হওয়ার কাহিনী , এখন আবার বিড়ালের পা'ছা নিয়ে পড়েছিস?
টপিক ঘোরানোর চেষ্টা করিস না সিনু ৷ রাইমাকে উত্তর দিতে দে ৷
রাইমা গম্ভীর গলার সিনুর উদ্দেশ্যে বলল,,, তোর ওই নাভিন ভাইয়া আমার সাথে ফটর ফটর করে ইংরেজিতে কথা বলল আর তোর সাথে বাংলায় ৷ এটা কেন করল সিনু?
সিনু হেসে উঠে বলল,,সেটা তো নাভিন ভাইয়াই ভালো বলতে পারবে ৷ সমস্যা নেই পরের বার আসলে আমি তোর প্রতি এই অবিচারের কৈফিয়ত চাব ৷ ভাইয়ার এই ব্যবহারের জন্য আমি তীব্র নি'ন্দা জানাচ্ছি ৷
রাইমা কপাল কুঁচকে বলল,,, তুই কি আমাকে ব্যঙ্গ করে এসব বললি সিনু?
সিনু ব্যস্ত হয়ে বলল,,, উহু একদম না ৷
রাইশা রাইমার পিঠে হাত রেখে বলল,, এটা কোনো সমস্যা হলো? বরং এতে করে তোর ই তো লাভ হয়েছে ৷ নাভিন ভাইয়ার বদৌলতে এখন তোর ইংরেজি আরো ভালোভাবে রপ্ত হয়ে যাবে ৷
রাইমা কটমট দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে বলল,,, তোরা সবাই মিলে আমার সাথে মজা নিচ্ছিস?
ওরা একযোগে বলে উঠল,, অবশ্যই না ৷
রাইমা বিরক্ত মুখে ওদের থেকে চোখ সরিয়ে নিল ৷ কিছুক্ষণ নিরব থাকার পর রাইমা তানিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
বাই দা ওয়ে তানজিদ ভাইয়ার এখন কি অবস্থা তানি?
সিনু আর রাইশাও আগ্রহ নিয়ে তানিয়ার দিকে তাকাল ৷ তানিয়া হাই তুলে বলল,,,
কেমন আর অবস্থা হবে? ও আছে ওর চাকরি নিয়ে ৷
সিনু বলল,,, ভাইয়া তো ইঞ্জিনিয়ার তাই না?
হ্যাঁ ৷
রাইমা বলল,, তা ভাইয়ার বিয়ে কবে হবে?
তানিয়া হতাশ কন্ঠে বলল,, ওর আর বিয়ে? ভাইয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিরকুমার থাকার ৷
রাইশা অবাক কন্ঠে বলল,, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন?
ওর মেয়ে জাতির প্রতি কোনো বিশ্বাস নেই ৷ মেয়ে জাতির সঙ্গ ওর পছন্দ না৷আসলে ওর কাছের বন্ধুরা খারাপ মেয়ের পাল্লায় পড়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিল ৷এসব দেখে মেয়ে জাতির প্রতি ভাইয়ার একটা নেগেটিভ চিন্তা-ভাবনা চলে এসেছে ৷
রাইশা ভ্রু কুঁচকে বলল,,, কয়েকজনের জন্য পুরো জাতিকে দায়ী করবে? তুই আর আন্টিও তো মেয়ে তোদেরও কি খারাপ মনে করে ভাইয়া?
তেমনটা না ৷ আমি আর আম্মু ব্যতীত অন্য মেয়েদের প্রতি ওর বি'তৃষ্ণা ৷ বিয়ের প্রতি ওর বিশ্বাস নেই ৷ ভাইয়া মনে করে বিয়ে করলেই মেয়েটা ওকে ধোকা দিয়ে চলে যাবে ৷ কারন আশেপাশে এমন বহু ঘটনা ভাইয়া প্রত্যক্ষ করেছে ৷
সিনু কিছু একটা ভেবে বলল,, আন্টি আর আঙ্কেল তো ভাইয়ার চোখের সামনেই আছে ৷ তাদের প্রতি কি উনার নজর যায় না? উনারা তো দিব্যি হাসিখুশি ভাবে সংসার করছেন ৷
তানিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,, এখানেও একটা সমস্যা আছে ৷ ও আব্বু আম্মুকে শুধু আব্বু আম্মু হিসেবেই দেখে ৷ আব্বু যে ছেলে আর আম্মু যে মেয়ে সেটা ওর মাথায় আসে না কখনো ৷
রাইশা বলল,, খুব অদ্ভুত তোর ভাইয়া ৷ এই জন্যেই ভাইয়ার সাথে এখনও আমাদের কখনো দেখা হয়নি ৷
হ্যাঁ ওটাও একটা কারন ৷ তবে পড়াশোনার ব্যা'ঘাত যেন না ঘটে সেজন্য ভাইয়া হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছে তাই তোদের সাথে কোনোদিন দেখা হয়নি ৷
রাইমা আফসোসের সুরে বলল,, তোর আর কু'টনি ননদিনী হওয়া হলো না রে তানি!
তানিয়া আত্মবিশ্বাসের স্বরে বলল,, হবে না মানে , অবশ্যই হবে ৷ ভাবীর সাথে যেদিন ওর দেখা হবে সেদিন এই চিরকুমার থাকার মতো ফা'লতু ওয়াদা ও পুরোপুরি ভুলে যাবে ৷
চলবে,,,