#বসন্তের_দিনগুলো
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)
#পর্বঃ১০
সারাদিনের ব্যস্তময় সময় পার করে সাজিদ আর মেহমেত হাসান ভিলায় এসে পদার্পণ করল ৷ কলিংবেল বাজাতেই সাহেরা খাতুন এসে দরজা খুলে দিলেন ৷ ছেলেদের ক্লান্তিময় মুখের দিকে তাকিয়ে উনি একটা অমায়িক হাসি হাসলেন ৷ সাজিদ আর মেহমেত সামান্য হেসে একসাথে মাকে সালাম দিল ৷ এটা ওদের নিত্যদিনের অভ্যাস ৷ বাসায় এসে কিংবা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মা-বাবা কে সালাম দেয় ওরা ৷ সাহেরা খাতুন সালামের জবাব দিয়ে বললেন,,,
ফ্রেশ হয়ে নাও ৷ আমি তোমাদের জন্য খাবার গরম করছি ৷
ওরা কোনোরুপ আপত্তি না করে উপরে চলে গেল ফ্রেশ হওয়ার জন্য ৷ কিছুক্ষণ পর ওরা ডায়নিং টেবিলে চলে আসল ৷ সাহেরা খাতুন ওদের খাবার পরিবেশন করলেন ৷ সাজিদ মুখে লোকমা দেওয়ার আগে বলল,,,
আম্মু তুমি খেয়েছো?
ছেলে দুটোকে না খাইয়ে আমি কি খেতে পারি?
কথাটা শোনার সাথেই মেহমেত বলল,,, আম্মু তাহলে ছেলেদের হাতে খাবার খাও ৷
কথাটা বলে মেহমেত সাহেরা খাতুন কে এক লোকমা খাবার খাইয়ে দিল ৷ সাজিদও খাইয়ে দিল ৷ খাইয়ে দেওয়ার সময় সাজিদ আশেপাশে তাকিয়ে বলল,,,
আব্বু কোথায়?
উনি বিশ্রাম নিচ্ছেন ৷ বুড়ো হয়ে গেছে তো তাই অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠেন ৷
মেহমেত হেসে উঠে বলল,, Whatever আব্বুর সামনে এ কথা বলো না ৷ আব্বু তো এখনও নিজেকে যুবক ভাবে!
সাহেরা খাতুন মুখ ভেংচি কেটে বলল,, যত বয়স হচ্ছে তত রঙ লাগছে তোমাদের আব্বুর ৷
উনার কথা শুনে দুজনেই হেসে উঠল ৷ তারপর পুনরায় খাওয়ায় মনোযোগ দিল ৷ খাওয়া শেষে উপরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে গিয়েও মেহমেত কিছু একটা মনে পড়ায় থেমে গেল ৷ সাহেরা খাতুনের কাছে গিয়ে উনার দু হাত শক্ত করে ধরে চোখে চোখ রেখে মেহমেত বলল,,,
আম্মু একটা অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল ৷
হঠাৎ ওর এমন আচরণ দেখে সাহেরা খাতুন হতভম্ভ হয়ে গেলেন ৷ সাজিদও থেমে গিয়ে ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকাল ৷ মেহমেত পুনরায় বলল,,,
Whatever আশা করছি তুমি আমাকে সঠিক উত্তর দিয়ে নিজের নেক দায়িত্ব পালন করবে ৷
সাহেরা খাতুন অবাক থাকা অবস্থাতেই বললেন,, আচ্ছা দিব ৷
মেহমেত আরো জোরে উনার হাত দুটো শক্ত করে ধরে গভীর একটা শ্বাস নিয়ে গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,
আমি তোমার নিজের সন্তান নাকি আমাকে ব্রিজের নিচে থেকে তুলে এনেছো?
সাজিদ বিরক্তিতে 'চ' কারান্ত শব্দ করল ৷ সাহেরা খাতুন আহাম্মক হয়ে মেহমেতের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললেন,,
প্রশ্নটা অত্যন্ত হাস্যকর আর গা'ধামো টাইপ তাহলে মেহমেতের মুখটা এতো সিরিয়াস কেন?
উত্তর না পেয়ে মেহমেত সাহেরা খাতুনকে ঝাঁকিয়ে বলল,,, কি হলো আম্মু উত্তর দাও ৷
সাহেরা খাতুন নিজেকে সামলে নিয়ে কাটকাট গলায় বললেন,, এতো স্টুপিড প্রশ্নের উত্তর আমি দিব না বাবা ৷
মেহমেত থতমত মুখে সাহেরা খাতুনের হাত ছেড়ে দিল ৷ তারপর অভিমানী কন্ঠে বলল,,,
ওহ বুঝতে পেরেছি ৷ আমার সন্দেহই তাহলে সত্যি ৷ Whatever যেখান থেকে আমাকে কুড়িয়ে এনেছো সেখানেই রেখে আসো আমাকে ৷ আমার কারো দয়া চাই না ৷
সাহেরা খাতুন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন ৷ এটা কেমন ছেলে! নিজেকে ধাতস্থ করে উনি মেহমেতের কাধে হাত রেখে বললেন,,,
কিসব বলছো? তুমি আমার সন্তান ৷
মেহমেত কাধ ঝাড়া দিয়ে বলল,, আমাকে ছুবে না, আমি অন্যের সন্তান ৷ আমার আসল মা-বাবার কাছে আমাকে রেখে আসো ৷
সাহেরা খাতুন মেহমেতকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আদুরে গলায় বললেন,,, কে বলেছে তোমাকে এসব? তুমি আমার সন্তান ৷ তোমাকে আমি পেটে ১০ মাস ১০ দিন রেখেছি ৷
Whatever তাহলে আমি এমন নি'র্লজ্জ হয়েছি কেন? ভাইয়ের সাথে আমার বৈশিষ্ট্য মিলে না কেন?
সাজিদ গম্ভীর গলায় বলল,, আম্মু তোমার ছেলের এসব নাটক বন্ধ করাও নয়তো ধুপধাপ ওর পিঠে ঘু'ষি মে'রে দিব!
মেহমেত অসহায় মুখে সাজিদের দিকে তাকাল ৷ সাহেরা খাতুন ধ'মকে উঠে সাজিদকে বললেন,,,
চুপ করো ৷ সবসময় ছেলেটার পিছনে লাগা ছাড়া তোমার কোনো কাজ নেই? নিশ্চয় তুমি ই ওকে বলেছো ও আমার নিজের সন্তান না,তাই না?
সাজিদ গম্ভীর মুখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,, আমার খেয়ে দেয়ে আর কাজ নেই? তোমরা থাকো এখানে আমি গেলাম ৷
সাজিদ নিজের রুমে চলে গেল ৷ সেদিকে কয়েক মূহুর্ত তাকিয়ে থেকে সাহেরা খাতুন মেহমেতকে উদ্দেশ্য করে বললেন,,,
তোমার ভাই তোমার দাদুর মতো হয়েছে ৷একদম গম্ভীর স্বভাবের আর তুমি তোমার বাবার মতো নি'র্লজ্জ হয়েছো ৷
মেহমেত জোরে হেসে উঠে বলল,, আব্বু নি'র্লজ্জ!
হ্যাঁ ৷ এখন তো বিশ্বাস হয়েছে তুমি আমার সন্তান?
মেহমেত হাস্যজ্জ্বল মুখে বলল,, অবশ্যই হয়েছে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সাজিদ বিছানায় গিয়ে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল ৷ চোখ বন্ধ করার সাথেই সিনুর মায়াবী মুখটা ওর সামনে ভেসে উঠল ৷ সাজিদ চট জলদি চোখ মেলল ৷ তারপর বিরবির করে বলল,,,
উনার মুখ কেন ভেসে উঠল? আমার সাথে এসব কি হচ্ছে?
সাজিদের ভিতর থেকে একটা সত্ত্বা বলে উঠল,,, তুই প্রেমে পড়েছিস ৷
সাজিদ হতভম্ভ হয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকল ৷তারপর নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করল, আমি কি তাহলে সত্যিই উনার প্রেমে পড়ে গেছি? কিন্তু কখন পড়লাম,কিভাবে পড়লাম?
প্রশ্নটা করার সাথেই ওর সামনে সেই দৃশ্যটা ভেসে উঠল ৷ 'সিনু কাঁপতে কাঁপতে বলতেছিল, আমার স্বামীর হক নষ্ট হয়ে গেল ৷ আমি উনাকে কি জবাব দিব?'
দৃশ্যটা মনে পড়তেই সাজিদের ঠোঁটের কোণে অস্পষ্ট হাসি ফুটে উঠল ৷ বিছানা থেকে নেমে ও বেলকনিতে চলে গেল ৷ তারপর আকাশে ভাসমান রুপালী চাঁদটার দিকে তাকিয়ে বলল,,,
তোমাকে জবাব দিতে হবে না ৷ আমি তোমার থেকে কোনো কৈফিয়ত চাব না ৷ তুমি বললাম জন্য রাগ করলে নাকি সিনু? কি করি বলো? আজ থেকে তুমি আমার ব্যক্তিগত মানুষ তাই তুমি ছাড়া আপনি বের হচ্ছে না ৷
বলে সাজিদ লাজুক হাসল ৷ আজ চাঁদের সৌন্দর্যও ফিকে লাগছে ওর কাছে ৷ আকাশে বারবার সিনুর মুখটা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে ৷ কখনো হাস্যজ্জ্বল সিনু,কখনো ভয় পাওয়া সিনু, কখনো রে'গে যাওয়া সিনু, কখনো পড়ে গিয়ে ব্যা'থাতুর মুখের সিনু ৷ সাজিদ আকাশের বিশালতার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলল ৷ ও খুব দ্রুত নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে চলেছে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সকাল সকাল রাইমা আর রাইশা শপের সামনে এসে থামল ৷ তারপর শপ খুলে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে বসে থাকল ৷ সিনু আর তানিয়া এখনও আসেনি ৷ অনেকক্ষন অপেক্ষা করার পরও যখন কেউ আসল না তখন রাইমা আর রাইশা ওদেরকে ফোন দিল ৷ কিন্তু দুজনের নাম্বার ই আনরিচএবল ৷ এবার রাইমা আর রাইশা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ল ৷
মারিয়া আর নুসরাতকে শপে রেখে ওরা সিনু আর তানিয়ার বাসার উদ্দেশ্যে চলে গেল ৷ রাইশা তানিয়ার বাসায় আর রাইমা সিনুর বাসায় গেল ৷ রাইমা কলিংবেল বাজাতেই সিনুর মা এসে দরজা খুলে দিলেন ৷ রাইমা উনাকে সালাম দিয়ে ব্যস্ত কন্ঠে বলল,,,
আন্টি সিনু কোথায়?
সিনু তো ওর রুমেই আছে ৷ ভাবলাম আজ হয়তো শপ দেরি করে খুলবে সে জন্য এতো বেলা করে ঘুমাচ্ছে ৷
না তো আন্টি ৷
উনি চিন্তিত স্বরে বললেন,, তাহলে কি হয়েছে ওর?
রাইমা উনাকে অভয় দিয়ে বলল,, টেনশন করবেন না আন্টি ৷ আমি দেখছি ৷
রাইমা লম্বা লম্বা পা ফেলে সিনুর রুমের কাছে চলে গেল ৷ দরজা অনেকবার ধা'ক্কানোর পরেও অপরপাশ থেকে কোনো সারাশব্দ না পেয়ে রাইমা প্রচন্ড ঘা'বড়ে গেল ৷ সিনুর মা মিনা জামিন এসে রাইমার হাতে একটা ডুপলিকেট চাবি দিয়ে বললেন,,,
এটা দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করো মা ৷
রাইমা কাঁপা কাঁপা হাতে চাবিটা নিয়ে দরজা খুলল ৷ মিনা জামিন আর রাইমা আলতো করে দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করল ৷ভিতরে ঢুকে উনারা যা দেখল তাতে পুরো আ'হাম্মক হয়ে গেল ৷ সিনু বেঘোরে ঘুমোচ্ছে ৷ ওর মুখ বেয়ে লালা গড়িয়ে পড়ছে ৷ চুলগুলো সব এলেমেলো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ৷ মিনা জামিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,,,
একে নিয়ে অযথাই ভয় পেলাম! কবে যে বড় হবে আল্লাহ মালুম! তোমার বান্ধবীকে তুমি সামলাও মা আমি গেলাম ৷
বলে উনি চলে গেলেন ৷ রাইমা ভ্রু কুঁচকে সিনুর দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে চিৎ'কার করে বলল,,,
উঠে পড় অলসের বাচ্চা ৷
সিনু তড়াক করে উঠে বসে মৃদু আ'র্তনাদ করে বলল,,, ভুত! আম্মু ভুত!
রাইমা সিনুর গালে সজোরে একটা থা'প্পড় দিয়ে বলল,,,
চুপ কর বে'য়াদব!
আচমকা ঘুম ভাঙার পর এমন চ'ড় খাওয়ায় সিনু পুরো আ'হাম্মক হয়ে গেল ৷ নিজেকে সামলে নিয়ে গালে হাত দিয়ে সিনু কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,,,
মা'রলি কেন? কি করেছি?
কি করেছিস! আমি কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তোর ধারনা আছে? ফোন অফ , দরজা বন্ধ , কোনো সাড়াশব্দ নেই ৷ ভাবতে পারছিস কি কি চিন্তা মাথায় এসেছিল তখন?
বলে রাইমা রা'গে গজগজ করতে লাগল ৷ সিনু ওর হাত ধরে অনুতপ্ত হয়ে বলল,,,
আফওয়ান সোনা ৷ আসলে কালকে প্রচন্ড মাথা ব্যা'থা করছিল তাই ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলাম তাই সকাল কখন হয়েছে বুঝতেই পারিনি ৷
রাইমা কিছুটা শান্ত হলো ৷ তারপর সিনুর মুখটার দিকে তাকিয়ে চোখমুখ কুঁচকে বলল,,, এটা তোর অবস্থা? মুখে লালা, চুলগুলো ভন্ড বাবার মতো খাড়া খাড়া হয়ে আছে ৷ সাজিদ ভাইয়ার মতো আমারও বলতে ইচ্ছা করছে , তোর বিয়ের সম্ভাবনা খুবই কম ৷
সিনু কপট রা:গ দেখিয়ে বলল,, কে বলেছে আমার বিয়ে হবেনা? দেখে নিস অনেক সুদর্শন একটা ছেলের সাথে আমার বিয়ে হবে ৷ আর হ্যাঁ উনি কবে থেকে তোর ভাইয়া হয়ে গেল?
রাইমা স্বাভাবিক কন্ঠে বলে উঠল,,, যেদিন থেকে তোকে বাঁচিয়েছে সেদিন থেকে উনি আমার ভাইয়া ৷ যা বাবা ফ্রেশ হয়ে নে নয়তো সুদর্শন ছেলে তো দূরের কথা রাস্তার পাগলও জুটবে না তোর কপালে!
সিনু মাথা চুলকে বলল,, এতো নিরুৎসাহিত করিস কেন শা'লা?
রাইমা কপাল কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, মাথা চুলকাচ্ছিস কেন? উকুন হয়েছে?
সিনু গম্ভীর গলায় বলল,, এতো দামী দামী শ্যাম্পু আর তেল দিয়ে চুল বড় করতেছি কি উকুনদের বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য? নো ওয়ে বেবি আমি অতোটা মহান নই ৷
রাইমা জোরে হেসে উঠে বলল,,আচ্ছা বাসা ভাড়া দিতে হবে না ৷ তুই গিয়ে দ্রুত ফ্রেশ হ শপে যেতে হবে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
রাইশা তানিয়ার বাসার ড্রয়িংরুমে বসে আছে ৷ তানিয়া সকালে ওঠার পর থেকেই ছাদে জরুরি কিছু কাজ করছে ৷ ফোনে চার্জ ছিল না বিধায় ওদের ফোন করে বলতে পারেনি যে ওর আসতে দেরি হবে ৷ রাইশা এতোক্ষন ওর সাথে ছাদেই ছিল ৷ তানিয়ার মা তুলি বেগম ওকে জোর করে ড্রয়িংরুমে বসিয়ে কিছু ফলমুল খেতে দিয়েছে ৷ রাইশা একটা আপেলের পিচ খেতে লাগল ৷
তুলি বেগম এক কাপ কফি হাতে ওর কাছে এসে বলল,,,
মা এটা তোমার তানজিদ ভাইয়াকে একটু দিয়ে আসো তো ৷ ও ওর রুমেই আছে ৷
রাইশা আমতা আমতা করে বলল,, আ-আমি উনার সামনে যাব না আন্টি ৷ উনার তো মেয়ে জাতি পছন্দ না ৷
ভয় নেই তানজিদ তোমাকে কিছু বলবে না ৷ আসলে আমিই যেতাম কিন্তু তানিয়াকে গিয়ে কাজে একটু সাহায্য করতে হবে ৷
রাইশা তৎক্ষণাৎ বলে উঠল,, আন্টি আমি তানিয়ার কাছে যাচ্ছি ৷
না মা এতো ভারী কাজ তুমি করতে পারবে না ৷ তানিয়াই করতে হিমশিম খাচ্ছে তাই ওকে সাহায্য করার জন্য আমার ই যাওয়া উচিত ৷ তুমি প্লিজ কফিটা তানজিদকে দিয়ে আসো ৷
তুলি বেগম অনুরোধের স্বরে কথাগুলো বললেন তাই রাইশা মানা করতে পারল না ৷ ইতস্তত করে ও কফির কাপটা নিয়ে তানজিদের রুমের দিকে পা বাড়াল ৷
তানজিদ সদ্য গোসল সেরে বাথরুম থেকে বেরোলো ৷ তানিয়ার সাথে ও সকাল থেকে কাজ করছিল ৷ রাইশা আসার কিছুক্ষণ আগে ও অফিসের জন্য রেডি হওয়ার জন্য রুমে এসেছিল ৷ তানজিদ একটা ট্রাউজার পড়ে খালি গায়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে লাগল ৷
দরজা খোলা থাকায় রাইশা মাথা নিচু রেখে ধীর পায়ে ভিতরে প্রবেশ করে দরজায় একটা টোকা মারল ৷ তানজিদ পিছু ঘুরে রাইশাকে দেখতেই ভ্রু কুঞ্চিত করে ফেলল ৷ রাইশা মৃদু স্বরে বলল,,,
আপনার কফি ৷
তানজিদ ক'র্কশ কন্ঠে বলল,, এই মেয়ে আমার রুমে আসার সাহস পেলে কোথায়? ছেলে দেখলেই তোমাদের হুশ হারিয়ে যায়, তাই না? শুধু সুযোগ খোঁজো কিভাবে ছেলেদের পটানো যায়, ওদের কাছাকাছি যাওয়া যায় ৷ বের হয়ে যাও স্টুপিড ৷
রাইশার প্রচন্ড মে'জাজ বি'গড়ে গেল ৷ নিজেও দ্বিগুণ ক'র্কশ কন্ঠে বলল,,, এই ছেলে চুপ ৷ আপনার সাথে ঢলাঢলি করার ইচ্ছা আমার নেই ৷ আন্টি বলেছে জন্য আপনার রুমে এসেছিলাম নয়তো আমার বয়েই গেছে আপনার মতো একটা ডা'য়না ছেলের করলার মতো কথা শোনার জন্য রুমে এসে বসে থাকার!
তারপর কফির মগটা টেবিলে স্বশব্দে রেখে জোরপূর্বক দাঁত বের করে বলল,, এই নিন আপনার মনের কালারের মতো কালো কফি আই মিন ব্লাক মিস্টার চিরকুমার ভাইয়া ৷
তানজিদ পুরো থতমত খেয়ে গেল ৷ জীবনে এতোটা হতভম্ভ কখনো হয়েছিল বলে ওর মনে পড়ছে না ৷ রাইশা গম্ভীর মুখে তানজিদের মুখের দিকে আরেকবার তাকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেও থমকে দাঁড়াল ৷ তারপর পিছু ঘুরে তানজিদকে বলল,,
মানছি আপনার বন্ধুরা খারাপ মেয়ের পাল্লায় পড়ে জীবন ধ্বং'স করে ফেলেছে কিন্তু তাই বলে সব মেয়েকে ওদের মতো ভাবলে আপনি মহাবোকা ৷ ভুলে যাবেন না তানিয়াও মেয়ে, আন্টিও মেয়ে ৷ আপনার প্রেক্ষাপটে তো তাহলে তানিয়া আর আন্টিও খারাপ হওয়া উচিত কিন্তু আপনি তো তাদেরকে অনেক ভালোবাসেন, সম্মান করেন ৷ একটা পরামর্শ দেই শুনুন, আপনার মেয়ে জাতি পছন্দ না ঠিক আছে সেটা আপনার ব্যক্তিগত চিন্তাধারা কিন্তু মেয়েদেরকে অ'পমান করার কোনো অধিকার আপনার নেই ৷ মেয়েদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টায় আপনি অজান্তেই সবাইকে অসন্মান করে ফেলছেন ৷ বিষয়টা একটু মাথায় রাখবেন মিস্টার চিরকুমার ভাইয়া ৷
কথা বলার পর হঠাৎ তানজিদের খালি গায়ের দিকে রাইশার নজর গেল ৷ ল'জ্জা পেয়ে ও দ্রুত চোখ সরিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷ তানজিদ ওর যাওয়ার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ ওর মনে এখন কি চলছে সেটা ওর মুখ দেখে আন্দাজ করা যাচ্ছে না ৷
রুম থেকে বেরোনোর পরেই রাইশার গম্ভীর মুখটা মুহূর্তেই ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেল ৷ একটু আগের সমস্ত সাহস ফুস হয়ে গেল ৷ দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে বলল,,,
হায় আল্লাহ! হায় আল্লাহ! হায় আল্লাহ! না জানি কিসব বলে আসলাম ৷ এতো সাহস কোথায় পেলি রে রাইশা? আই এম তো ভেরি অবাক!
চলবে,,,,