#বসন্তের_দিনগুলো
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)
#পর্বঃ২৪
রাত ১০ টা পার হয়ে গেছে ৷ সিনুরা এখন যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতেছে ৷ স্কুটি রাখার নির্দিষ্ট জায়গাটায় গিয়ে ওরা পৌঁছাল তখন সাজিদের সাথে ওদের দেখা হলো ৷ সাজিদ সামান্য হেসে ওদের সালাম দিয়ে সৌজন্যমুলক কথা বলল ৷ তারপর ও চলে গেল ৷ সাজিদ চলে যেতেই তানিয়া দাঁত কপাটি বের করে ব্যঙ্গ করে সিনুকে বলল,,,,
সোনা মনে হচ্ছে দুলাভাই পেয়ে গেছি ৷ সাজিদ ভাইয়া তোর জন্য পার্ফেক্ট ৷
সিনু বিরক্তিতে 'চ' কারান্ত উচ্চারণ করে বলল,,, আবার শুরু করলি এসব আজগুবি কথা? কোন দিক দিয়ে উনার সাথে আমাকে পার্ফেক্ট লাগে? আর হঠাৎ এমন কথা বলছিস কেন?
তানিয়া কিছু বলার আগেই রাইশা বলে উঠল,,, এসব বলার কারন তো অবশ্যই আছে ৷ সাজিদ ভাইয়া আমাদের সাথে কথা বলার সময় আড়চোখে বারবার তোর দিকে তাকাচ্ছিল ৷ একটা ছোট বাচ্চা দেখলেও বুঝতে পারতো যে সাজিদ ভাইয়া তোকে পছন্দ করে ৷
তুই বাচ্চা না রাইশা ৷ তোর উচিত হচ্ছে না বাচ্চাদের মতো এমন অবান্তর চিন্তা-ভাবনা করা ৷ অন্ধকারে হয়তো ভুল দেখেছিস ৷ উনার সাথে আমি নিজেকে ভাবতেই পারি না ৷ অসম্ভব ৷
রাইমা পর্যবেক্ষণী নজরে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, তাহলে কি নাভিন ভাইয়াকে ভাবতে পারিস?
সিনু হঠাৎ স্ত'ব্ধ হয়ে গেল ৷ ওর মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না ৷ ও চুপচাপ ওদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ তানিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল,,,
নিরবতা কিন্তু সম্মতির লক্ষণ সিনু!
সাজিদ চলে যেতে ধরেও তানিয়ার কথা শুনে থেমে গিয়েছিল ৷ ওদের এই কথোপকথন শুনে রা'গে সাজিদের শিরা উপশিরা দাউ দাউ করে জ্ব'লতে শুরু করল ৷ হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ও লম্বা লম্বা পা ফেলে শপের দিকে চলে গেল ৷ গিয়ে গম্ভীর মুখে একটা চেয়ারে বসে পড়ল কপালে হাত ঠেকিয়ে ৷ এমন সময় মেহমেত ওর সামনে ৩২ পাটি দাঁত বের করা হাসি নিয়ে হাজির হলো ৷ তারপর ভ্রু নাচিয়ে বলল,,,
কিরে সাজ্জু বেইবি আজ দেখলাম তোর সতীন এসেছিল ৷ Whatever সতীনের সাথে একটু আড্ডা মারতে পারিস নি?
সাজিদ র'ক্তচক্ষু তুলে মেহমেতের দিকে তাকিয়ে পাশে থাকা একটা চেয়ার লা'ত্থি মে'রে ফেলে দিল ৷ ওর এমন আচরণে মেহমেত সহ স্টাফরা হতভম্ভ হয়ে গেল ৷ কয়েক মূহুর্ত কপালে হাত চেপে নিজের রা'গ সংবরণ করে সাজিদ অত্যন্ত গম্ভীর কন্ঠে বলল,,,
মেহমেত বাঁচতে চাইলে আমার সামনে থেকে দূর হ ৷ তুই এক্ষুণি বাসায় চলে যাহ ৷ নয়তো তোর সাথে কি করব সেটা আমি নিজেও জানি না!
মেহমেত কিছুক্ষণ আহাম্মক হয়ে সাজিদের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷তারপর ধীর পায়ে শপের বাইরে চলে গেল ৷ সব স্টাফ এখনও সাজিদের দিকে হতভম্ভ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ ওদের দিকে তাকিয়ে সাজিদ ক'র্কশ স্বরে বলল,,,
আজকের ডিউটি শেষ ৷ তোমরা বাসায় চলে যাও ৷
ওরা বেশ বুঝতে পারল ওদের বস আজ দারুণ ক্ষে'পেছে ৷ তাই তৎক্ষণাৎ পোশাক পাল্টে ওরা বাসায় চলে গেল ৷ সাজিদ এখনও থম মে*রে কপালে হাত ঠেকিয়ে চেয়ারে বসে আছে ৷ কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পর ও উ'ত্তেজিত গলায় বলতে লাগল,,,
নাভিন নাভিন নাভিন ৷ আহহহহহহ তোকে আমি ছাড়ব না নাভিন! সিনু আর আমার মাঝে আসলে তোকে আমি খু'ন করে ফেলব!
কয়েক মূহুর্ত জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে সাজিদ নিজেকে সামলালো ৷ তারপর বলতে লাগল,,,,
সিনুপাখি ইউ আর অনলি মাইন ৷ তোমাকে শেষে আমাকেই বিয়ে করতে হবে ৷ তাই বলছি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে আনো ৷ নাভিনের থেকে দুরত্ব বজায় রাখো ৷ তুমি যদি বেশি বাধা দাও তাহলে দরকার পড়লে তোমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করব ৷ এই শেখ সাজিদ হাসানকে তুমি এখনও চিনতে পারো নি!
সাজিদ আরো কিছুক্ষণ শপে থেকে নিজের রা'গ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করল ৷ রা'গ তো কমছেই না বরং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ৷ সাজিদ নিজের চুল মুষ্টিবদ্ধ করে বসে থাকল ৷ রাত ১ টার দিকে ও এলোমেলো পায়ে হেঁটে শপ থেকে বেরিয়ে গেল ৷ তারপর বাইক চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
মেহমেত টি-শার্ট আর ট্রাউজার পড়ে বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছে ৷ সাজিদের হঠাৎ এতো টা রে'গে যাওয়ার কারন খুঁজতে ব্যস্ত ও ৷ থুতনিতে দুহাত ঠেকিয়ে বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে ও বলতে লাগল,,,
আমার না মেনে নেওয়া ভাবী আর ওই নাভিন ছেলেটার মাঝে কিছু কি আছে? Whatever ভাই মনে হয় কিছু শুনেছে এই বিষয়ে তাই এতোটা ফায়ার মুডে আছে ৷ তোর মন খারাপ জন্যে বেঁচে গেলি রে সাজ্জু বেইবি বেঁচে গেলি ৷ Whatever নয়তো আজকে তোর করা আচরণের জন্য আমি এমন অভিমান করতাম যে বউ না এনে দেওয়া পর্যন্ত সেই অভিমান ভাঙতাম না!
বউয়ের কথা বলতেই ওর চোখের সামনে তানিয়ার মুখটা ভেসে উঠল ৷ ও ধড়পড় করে বিছানায় উঠে বসল ৷ তারপর চিন্তিত স্বরে বলতে লাগল,,,
এই রে আমি শেষ ৷ মিস ত্যানাত্যানার মনে হয় প্রেমে পড়ে গেলাম ৷ Whatever দারুন ঝামেলায় পড়া গেল তো! প্রথমত ওই শা'কচু'ন্নি মহিলা আমার বউ হবে, দ্বিতীয়ত ওই পোড়া কপালের ছেলেটা আমি হবো এবং তৃতীয় ও সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট কথা হচ্ছে মিস ত্যানাত্যানা কে আমি পটাবো কিভাবে?
শেষের কথাটা মেহমেত কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল ৷ গালে হাত দিয়ে ও দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগল ৷ এমন সময় সিড়ি বেয়ে কারো ধুপধাপ পায়ের শব্দ কানে আসতেই ও চট জলদি বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলল ৷ সাজিদ গম্ভীর মুখে ওকে পাশ কাটিয়ে নিজের রুমে চলে গেল ৷ মেহমেত কিছু বলার সুযোগ ই পেল না ৷ নিজের রুমে যেতে ধরেও মেহমেত পাশের রুমে চলে গেল ৷
সাজিদ দরজা বন্ধ করে সবেমাত্র বিছানায় শুয়েছে তখন ই দরজায় কড়াঘাত শোনা গেল ৷ মেহমেত নাটকীয়ভাবে বলতে লাগল,,,
সাজ্জু বেইবি তুমি খেয়েছো? Whatever তুমি না খেলে কিন্তু আমিও কাল সকালে আর ভাত খাব না!
সাজিদ লম্বা লম্বা পা ফেলে দরজা খুলে মেহমেতের গলা চেপে ধরে বলল,,, কি সমস্যা তোর বে'য়াদব! তোকে বলিনি আমার সামনে আসবি না?
মেহমেত সাজিদের থেকে নিজের গলা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে ক্ষীণ কন্ঠে বলতে লাগল,,,ছেড়ে দে ভাই ৷ আমার কোনো দোষ নেই ৷ Whatever শ'য়তান আমাকে কু বুদ্ধি দিয়েছিল , বলেছিল যে 'যা ওকে গিয়ে জ্বা'লিয়ে আয় দারুন মজা পাবি!'
সাজিদ গম্ভীর মুখে কয়েক পলক মেহমেতের ব্যা'থাতুর মুখের দিকে তাকিয়ে ওকে ছেড়ে দিল ৷ ও ছেড়ে দিতেই মেহমেত গলা ধরে কাশতে শুরু করল ৷ কাশতে কাশতে বলল,,,
তুই এতো পা'ষাণ হয়ে গেলি কবে থেকে? Whatever নিজের এমন কিউট ছোট ভাইয়ের কেউ গলা টিপে ধরে?
সাজিদ বুকে দু হাত গুজে বলল,,, ভাগবি এখান থেকে না আবার টিপে ধরব?
মেহমেত বড় বড় চোখ করে সাজিদের দিকে তাকাল ৷ সাজিদকে বিশ্বাস নেই তাই ও দৌঁড়ে নিজের রুমে চলে গেল ৷ সাজিদ দরজা বন্ধ করে বেলকনিতে চলে গেল ৷ ওর চোখে একটুও ঘুম নেই ৷ সারাটা রাত ও ছটফট করতে করতে বেলকনিতে পায়চারি করেছে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
এরই মধ্যে বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে ৷ আগের মতোই সবকিছু চলছে যদিও সাজিদ আগের থেকে এখন আরেকটু বেশি রা'গী হয়ে গেছে ৷ সবাই বেশ সাবধানতার সাথে কাজ করে ৷ মেহমেত ভীষণ চিন্তিত সাজিদকে নিয়ে ৷ কারন আগের মতো ও আর কাজে ফাঁকিবাজি করতে পারছে না ৷
আজ হঠাৎ করে রিয়াদ সিনুদের শপে চলে আসল ৷ ওর দিকে তাকাতেই রাইমা আঁ'তকে উঠল ৷ সদ্য ১৬ বছরে পা রাখা ছেলেটার মুখে অনেক ক্ষ'তের দাগ ৷ রাইমা দৌঁড়ে ভাইয়ের কাছে এসে ওর মুখে হাত দিয়ে চিন্তিত গলায় বলল,,,
এতোটা আ'ঘাত পেলি কিভাবে? কে মে'রেছে তোকে?
রাইমার চিৎ'কারে পাশের শপ থেকে সিনু, রাইশা আর তানিয়া ছুটে আসল ৷ রিয়াদকে দেখে ওদেরও মুখটা চিন্তায় ছেঁয়ে গেল ৷ কিন্তু রিয়াদ ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে একটা চেয়ারে গিয়ে বসল ৷ তারপর পায়ের উপর পা তুলে চেয়ারে হেলান দিয়ে ঠোঁটের কোণের র'ক্তুটুকু মুছতে মুছতে বলল,,,,
কয়েকটা ছেলে আমাকে টিচ করতেছিল ৷ প্রথমে সেটা আমি পাত্তা দিইনি ৷ কিন্তু যখন আমার গায়ে ই'টের টুকরা ছুড়ে মে*রেছে তখন আর স্থির থাকিনি ৷ গিয়ে ওদের প্রত্যেকটার ই চাপা ফাটিয়ে দিয়েছি! শা'লা সাহস কতো আমার সাথে ছ্যাবলামো করতে আসে! ইচ্ছা তো হচ্ছিল আরো দু ঘা বসিয়ে দেই , মানবতার খাতিরে ছেঁড়ে দিয়েছি ৷
রাইমা ক্ষু'ব্ধ চাহনিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, শুধু তো তুই ফাটাস নি তোকেও ফাটিয়েছে ওরা!
রিয়াদ সোজা হয়ে বসে বলল,, আপু শোনো প্রতিটি ক্রিয়ার ই একটা সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া রয়েছে ৷ সেই প্রতিক্রিয়া হিসেবে কয়েক টা চাটি খেয়ে এসেছি ৷ এটা কোনো ব্যাপার না ৷ কারন ওরা বেশি মা'র খেয়েছে ৷
রাইমা ত্রস্ত পায়ে ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর মাথায় চাটি মা**রতে মা**রতে বলল,,, এই নে আমি সেই অভাবটুকু পূরণ করে দিচ্ছি ৷
রিয়াদ মৃদু আ'র্তনাদ করতে করতে বলল,, আহহ আপু ছাড়ো ব্যা'থা পাচ্ছি ৷ ভুলে যেও না আমি মাত্র মা'র খেয়ে আসলাম ৷
সিনু আর তানিয়া এসে রাইমাকে আটকালো ৷ সিনু ধ'মকে উঠে বলল,, রাইমা কি করছিস? ও আ'হত হয়ে এসেছে আর তুই কিনা ওকে মা'রছিস?
রাইমা কটমট দৃষ্টিতে রিয়াদের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেই বলল,, তো কি করব আমি? কতবার বলেছি খারাপ ছেলেদের সাথে না মিশতে, ওদেরকে সবসময় এড়িয়ে চলতে ৷ তবুও ও ঢ্যাং ঢ্যাং করে ওদের সাথে মিশতে যায় আর মা'রামা'রি করা শুরু করে ৷
রিয়াদ ঘোর বিরোধিতা করে বলল,, আমি মিশি না আপু ৷ তোমার কথা মতো ওদের থেকে আমি দুরত্ব বজায় রেখে চলি ৷ কিন্তু ওরাই আমাকে আগ বাড়িয়ে জ্বা'লাতন করতে এসেছিল ৷ অনেকক্ষন নিজেকে সংযত রেখেছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর স'হ্য করতে পারিনি তাই মে*রে দিয়েছি ব'লদগুলোকে!
রাইমা এখনও রা'গী দৃষ্টিতে রিয়াদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ তানিয়া ওকে ধরে অন্য একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল ৷ রাইশা দ্রুত ফাস্ট এইড বক্স টা নিয়ে এসে রিয়াদের সামনে হাটু মুড়ে বসে পড়ল ৷ তারপর ওর আহত ক্ষ'তগুলোতে লেগে থাকা র'ক্তগুলো টিস্যু দিয়ে আলতো করে মুছে দিতে লাগল ৷
তানজিদের বাইক এসে শপের সামনে দাঁড়াল ৷ ও দুটো টিফিন বক্স নিয়ে শপের ভিতরে প্রবেশ করল ৷ প্রবেশ করে সামনে রিয়াদকে দেখতেই ওর ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ দাঁতে দাঁত চেপে বিরবির করে বলল,,,
এই ঢোরা সা'প আবার এসেছে রাইশার সাথে খাতির জমাতে?
তানজিদের দিকে চোখ পড়তেই তানিয়া বলল,, ভাইয়া তুমি?
এক এক করে সবাই পিছনে তাকাল ৷ তানজিদ গম্ভীর গলায় বলল,, আম্মু পিঠা পাঠিয়েছে তোদের জন্য ৷
তানজিদ টিফিন বক্স দুটো টেবিলে রাখল ৷ তারপর আড়চোখে রাইশা আর রিয়াদের দিকে তাকাল ৷ রাইশার রিয়াদকে যত্ন করা দেখে তানজিদের মাথা গ'রম হয়ে গেল ৷ মুহুর্তেই মুখটা রা'গে র'ক্তিম হয়ে গেল ৷ বড় একটা শ্বাস ফেলে ও নিজের রা'গ সামান্য সংবরণ করল ৷ তারপর সৌজন্যতার খাতিরে জিজ্ঞেস করল,,,,
ওর কি হয়েছে?
রাইমা তৎক্ষণাৎ বলে উঠল,,, এই আ'হাম্মক নিজের সামর্থ্য আর বুকের পাটা মানুষকে দেখানোর জন্য মা'রপিট করেছে! বে'য়াদব কোথাকার!
রিয়াদ অসহায় কন্ঠে বলল,, আপু আমার কোনো দোষ নেই ৷
তানজিদ অবাক হয়ে গেল ৷ অস্ফুট স্বরে বলল, আপু!
রাইমা বলল,, হ্যাঁ এই মাথামোটা টা আমার ছোট ভাই ৷
তানজিদ আশ্চর্য হয়ে বলল,, কি! আমি তো ভেবেছিলাম ২২-২৩ বছরের কোনো যুবক ৷
রিয়াদ দাঁত বের করে হেসে বলল,,, সবাই এমনটা বলে ৷ আমি বেশ ইনজয় করি বিষয়টা ৷
রাইশা কপট রা'গ দেখিয়ে বলল,, হেসো না ৷ আমাকে মলম লাগাতে দাও ভাই ৷
রাইমা টিটকারি মে'রে বলল,, ওই বে'য়াদবকে এতো আদিখ্যেতা দেখানোর প্রয়োজন নেই ৷ হাত-পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হলে তবে খুশি হতাম!
রাইশা রা'গত স্বরে বলল,,, একদম বাজে কথা বলবি না ৷ তোর ভাই আছে তো তাই মর্ম বুঝিস না ৷ আমার মতো একমাত্র সন্তান হলে বুঝতে পারতি ৷ যা তোকে আর ভাবতে হবে না রিয়াদ আজ থেকে আমার ভাই ৷
তানজিদ হতভম্ভ হয়ে একটা চেয়ারে বসে আছে ৷ নিজের নি'র্বুদ্ধিতায় ও প্রচন্ড ল'জ্জা পেয়ে গেল ৷ একটা বাচ্চা ছেলেকে কিনা ও হিং'সা করতেছিল? ছি'হ কি লজ্জার কথা! তার উপর সেদিন কি নি'র্যাতন টাই না করল ছেলেটাকে! ছ্যাহ ছ্যাহ ছ্যাহ!
রাইশা রিয়াদের ক্ষ'তে মলম লাগাতেই ও সামান্য আ'র্তনাদ করে উঠল ৷ তা দেখে রাইশা ওর ক্ষতে ফু দিতে লাগল ৷ হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাইমা কেঁদে ফেলল ৷ সবাই হতভম্ভ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল ৷ রাইমা কাঁদতে কাঁদতে বলল,,,
মা*রামা*রি করতে কে বলেছিল? এখন য'ন্ত্রণাটা কে পাচ্ছে? নিজের একটু তো খেয়াল রাখতে শেখ ৷
রিয়াদ বসা থেকে উঠে রাইমার দিকে এগিয়ে গেল ৷ তারপর ওর হাত ধরে নরম কন্ঠে বলল,,, কান্না করো না আপু ৷ প্রমিস করছি আর কখনো মা'রামা'রি করব না ৷
রাইমা উঠে রাইশার থেকে ফাস্ট এইড বক্স টা নিয়ে নিজের হাতে রিয়াদের ক্ষ'তে মলম লাগিয়ে দিতে লাগল ৷ করুন কন্ঠে বলতে লাগল,,,
ইশ কতোটা নি'র্দয়ভাবে মে*রেছে!
রাইমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে ৷ রিয়াদ পাংশুটে মুখে বোনের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ রাইশা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বলল,,,
কাঁদিস না সোনা আমরা গিয়ে দ্বিতীয় দফায় ওই ছেলেগুলোকে গাছের সাথে বেঁধে বেধম পি'টানি পি'টাবো!
তানজিদ দু'ষ্টু হেসে বিরবির করে বলল,, সোনা! আমাকে কবে এভাবে ডাকবে?
তানিয়া রাইশার কথার পিঠে বলে উঠল,,, আর হ্যাঁ রিয়াদের হয়ে পরকালে গিয়ে আমি ওই ছেলেগুলোর থেকে হিসাব নিব হুহহ!
তানজিদ বি'দ্রুপ করে বলল,, অন্যের বোনের ভাইয়ের প্রতি কি ভালোবাসা আর আমার বোনকে দেখো! অন্যের হিসাব নিতে নিতেই জীবন পার করে ফেলল! অকৃতজ্ঞ ছোট বোন! তোর স্বামী তোকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবে দেখে নিস!
ওর কথা শুনে সবাই হাসতে শুরু করল ৷ তানিয়া ক্ষু'ব্ধ চাহনিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, আর তুমি বউ ই পাবে না!
রাইশা হাসি থামিয়ে বলল,, তুই বললেও পাবে না , না বললেও পাবে না কারন উনি চিরকুমার থাকার প্রতিজ্ঞা নিয়েছেন ৷ ঠিক বলেছি না চিরকুমার ভাইয়া?
তানজিদ শান্ত দৃষ্টিতে রাইশার আগ্রহ ভরা মুখটার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,, সময় হলেই দেখতে পাবে ৷
চলবে,,,,,,,