ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের দিনগুলি

২৯তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান

#বসন্তের_দিনগুলো

#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)

#পর্বঃ২৯

আগন্তুক মেয়েটার কথায় চারজনের ই ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ সিনু গম্ভীর গলায় বলল,,, কি বলতে চাচ্ছেন?

মেয়েটা একটা চেয়ার টেনে পায়ের উপর পা তুলে বসল ৷ তারপর মুখের বাকা হাসি অব্যাহত রেখে বলল,,,

এখন না বোঝার নাটক হচ্ছে? সাজিদকে নিজের মায়াজালে ফাঁসানোর যে নোং'রা খেলায় মেতেছিস সেটা থামিয়ে দে ৷ নয়তো তোর পরিণতি খুব ভ'য়াবহ হতে চলেছে!

সিনুর মে'জাজটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল ৷ কিন্তু নিজের রা'গ সামলে ও ভদ্রভাবে বলল,,, না জেনে কিছু বলবেন না প্লিজ ৷ উনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই ৷ পাশাপাশি শপ হওয়ায় যতটুকু সম্পর্ক থাকা দরকার ব্যস ততটুকুই আছে ৷

আচ্ছা! চো'রের মায়ের আবার বড় গলা! শোন সাজিদের থেকে দূরে থাকবি! সাজিদ আমার এটা মাথায় রেখে চলবি ৷

উনি আপনার না কার সেটা আমার দেখার বিষয় না ৷ কিন্তু আমার নামে এমন মিথ্যা অ'পবাদ দিলে আমিও আপনাকে ছেড়ে কথা বলব না ৷

আলিসা হেসে উঠে বলল,,, তুই কি আর করবি আমার? তোর কোনো ক্ষমতা আছে?

রাইমা বুকে দুহাত গুজে বলল,,,ক্ষমতা আছে কিনা জানি না কিন্তু ক্যারাটে আমার ভালোই রপ্ত আছে ৷ বললে আপনার উপর ট্রাই করে দেখাতে পারি ৷

তানিয়া হাত রগরাতে রগরাতে বলল,,, আর আমার না থা'প্পড় মা'রতে খুব ভালো লাগে ৷ বাই দা ওয়ে আমার থা'প্পড় গুলো নাকি ছেলেদের মতো মানে বলতে চাচ্ছি গাল লাল করার মতো থা'প্পড়!

রাইশা ওদের কথার পিঠে বলে উঠল,, আমার অবশ্য গায়ে ওতো শক্তি নেই তবে এক টানে মাথার চুল ছিঁ'ড়তে পারার সামর্থ্য টুকু অন্তত আমার আছে ৷ তা আপনার চুলগুলো তো দেখছি বেশ সুন্দর ৷

আলিসা খানিকটা ঘা'বড়ে গেল কিন্তু বাইরে সেটা প্রকাশ করল না ৷ মুখভঙ্গি অপরিবর্তিত রেখে ও বলতে লাগল,,,

আমার কথাগুলো....

কন্ঠটা আগের কন্ঠের মতো লাগল না ৷ মানুষ প্রচন্ড ভ'য় পেয়ে গেলে যেমন ক্ষীণ কন্ঠ বের হয় তেমন কন্ঠ আলিসার ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো ৷ তা শুনে ওরা মুখে হাত চেপে হাসল ৷ আলিসা গলা খাকারি দিয়ে কন্ঠটা স্বাভাবিক করে বলল,,,

আমার কথাগুলো মাথায় রাখলে তোমার জন্য ভালো হবে মেয়ে ৷

সিনু বিরবির করে বলল,,, এক হুমকিতেই সোজা তুই থেকে তুমি? বাহ!

আলিসা বসা থেকে উঠতে ধরে হঠাৎ অপ্রত্যাশিত ভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস ত্যাগ করে ফেলল ৷ যার দরুন একটা হালকা পাতলা শব্দ শপের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল ৷ সিনুরা বি'স্ফোরিত নয়নে আলিসার দিকে তাকাল ৷

আলিসা যে মা'রাত্মক ল'জ্জা পেয়েছে তা ওর থতমত মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ৷ সিনুরা একে অপরের দিকে আ'হাম্মক হয়ে কিছুক্ষণ তাকাল ৷ ওদের প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে কিন্তু মেয়েটা ল'জ্জায় পড়ে যাবে ভেবে কান চুলকানোর ভান করে আস্তে আস্তে হাসতে লাগল ৷

আলিসা লম্বা লম্বা পা ফেলে শপের বাইরে চলে গেল ৷ শপের দরজা পেরিয়ে যাওয়ার সময় সজোরে ধা'ক্কাও খেয়েছে সেখানে কিন্তু তবুও এক মুহূর্ত না থেমে ও গটগট পায়ে চলে গেল ৷ ও চলে যেতেই এবার ওরা গলা ফাটিয়ে হাসতে লাগল ৷ তানিয়া হাসতে হাসতে বলল,,,

শা'লা এসেছিল হুমকি-টুমকি দিতে কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাস হঠাৎ করে সারপ্রাইজ দিয়ে ওর পুরো পেস্ট্রিজ পান্চার করে দিল!

রাইশা রাইমাকে জরিয়ে ধরে হাসতে হাসতে বলল,, আহারে প্রাকৃতিক গ্যাস বের হওয়ার আর সময় পেল না ৷ একটা সিরিয়াস মোমেন্ট ক্রিয়েট হয়েছিল, ভেবেছিলাম একটু ফাইটিং-টাইটিং হবে তা না প্রাকৃতিক গ্যাস বাবাজি এসে পুরো মুডটার ই বারোটা বাজিয়ে দিয়ে গেল!

ওদের চারজনের হাসি থামছে না ৷ হাসতে হাসতে ওদের চোখে পানি চলে এসেছে ৷ তানিয়া চোখের পানিটুকু পানি মুছে বলল,,

আচ্ছা এর জন্যেও কি পরকালে গিয়ে আমার হিসাব নেওয়া ঠিক হবে? নাকি হাসার কারনে আমাদের গিয়ে হিসাব দিতে হবে?

রাইমা ওর পিঠে একটা চ'ড় মে'রে বলল,, হিসাবের কথা বাদ ৷ আগে একটু মন ভরে হাসতে দে আমাদের ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

আলিসা নিজের হাত অস্থিরভাবে কচলাতে কচলাতে বিরবির করে বলল,,, আহ আমার মান-সম্মান শেষ! এখন আমি সাজিদকে ওই মেয়ের থেকে আলাদা করব কিভাবে? বে'য়াদপ পা'দ আর সময় পেলি না বের হওয়ার?

আলিসা সাজিদ আর মেহমেতের বাবার কোম্পানি তে জব করে ৷ সাজিদ বাবার সাথে টুকটাক কোম্পানিতে যেত ৷ ওকে প্রথম দেখাতেই আলিসার পছন্দ হয়ে গিয়েছিল ৷ এমনকি সাজিদকে প্রপোজও করেছিল কিন্তু ও সেটা সম্মানের সহিত নাকচ করে দিয়েছিল ৷ সে যায় হোক গতকাল সাজিদ আর মেহমেত ওর বাবার অফিসে গিয়েছিল ৷ তখন মেহমেত নিজের স্বভাববশত সিনুর কথা বলে সাজিদকে ক্ষ্যা'পাচ্ছিল ৷

সেই সময় আলিসা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ওদের কথোপকথন শুনেছিল ৷ ও প্রত্যাখিত হওয়ার পরও এখনও সাজিদকে পছন্দ করে তাই সিনুর সাথে ওর সম্পর্ক ন'ষ্ট করার জন্য এসেছিল কিন্তু এসে নিজেই ল'জ্জায় পড়ে গেল!

আলিসাকে সিনুদের শপ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে মেহমেত দ্রুত সাজিদের কাছে চলে গেল ৷ তারপর ব্যস্ত কন্ঠে বলে উঠল,,,,

Whatever ভাই একটা গ'ন্ডগোল হয়েছে মনে হয় ৷ ওই মেয়েটা এক্ষুণি আমার না মেনে নেওয়া ভাবীর শপ থেকে বেরিয়ে গেল ৷

সাজিদ ভ্রু কুঁচকে বলল,,, কোন মেয়ে?

আরে ওই মেয়েটা যে আব্বুর কোম্পানিতে জব করে ৷ Whatever যে মেয়েটা তোর সাথে ফ'ষ্টিন'ষ্টি করতে চেয়েছিল সেই মেয়েটা ৷

সাজিদের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল ৷ ও তৎক্ষণাৎ সামনে তাকাল কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না কারন ওখানে পর্দা টাঙানো ৷ ওইদিনের পর থেকে সিনু সবসময় ওখানে পর্দা টাঙিয়ে রাখে ৷ সাজিদের ভীষণ অস্থির লাগতে শুরু করল ৷ ও দোনা মোনা করে শপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই মেহমেত বলল,,,

Whatever ওই ফ'ষ্টিন'ষ্টি করা আপার কাছে যাচ্ছিস নাকি?

সাজিদ না ঘুরেই বলল,,,না তোর না মেনে নেওয়া ভাবীর কাছে যাচ্ছি ৷

বলে সাজিদ সিনুদের শপের দিকে চলে গেল ৷ ওরা গলা ফাটিয়ে হাসানো থামালেও এখনও কিছুক্ষণ পর পর হাসতেছে ৷ সাজিদ শপের দরজায় টোকা দিয়ে গলা খাকারি দিল ৷ সবাই হাসি থামিয়ে চকিতে ওর দিকে তাকাল ৷ সিনু সাজিদকে এক পলক দেখে চোখ নামিয়ে নিল ৷ সাজিদ ওর দিকে চোখ নিবদ্ধ রেখে বলল,,,

একটু আগে যে মেয়েটা তোমাদের শপ থেকে বেরিয়ে গেল সে তোমাদের উল্টাপাল্টা কিছু বলেনি তো?

রাইশা সামান্য হেসে বলল,,, কিছু তো বলতে এসেছিল তবে নিজের সম্মান নিয়ে শেষে ধাক্কা-ঢুক্কা খেতে খেতে পালিয়ে গেছে ৷

সাজিদ ভ্রু কুঁচকে বলল,,, মানে? কি বলেছিল ও? তোমাদের অ'পমান করেনি তো?

রাইমা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে লাগল,,, সিনুর সাথে সামান্য বে'য়াদবী করার চেষ্টা করেছিল আর আপনার থেকে দূ.....

সিনু ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল,, তেমন কিছু না ৷ আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন ৷ যা হওয়ার হয়ে গেছে ৷

সিনু মাথা নিচু রেখেই কথাটা বলল ৷ সাজিদ বি'চলিত চোখে কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ তারপর সেখান থেকে চলে গেল ৷ ও চলে যেতেই তানিয়া বলল,,,

বুঝলি সিনু ওই মেয়েটাকে হারানোর জন্য হলেও তোর সাজিদ ভাইয়াকে বিয়ে করা উচিত ৷ আমরা দাঁড়িয়ে থেকে তোদের বিয়ে দিব ৷

সিনু শান্ত চোখে ওদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল কিন্তু কোনো প্রতি উত্তর করল না ৷

সাজিদ ভীষণ বি'চলিত হয়ে পড়েছে ৷ বিরবির করে বলতে লাগল,,, ওই মেয়ে সিনুকে আমার নামে কোনো মিথ্যা কথা বলেনি তো? এমনিতেই সিনুর মন জয় করতে পারছি না তার উপর এই মেয়ে এসে বাড়তি ঝা'মেলা বাড়িয়ে দিচ্ছে! উফফ অ'সহ্যকর!

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

তানজিদ অফিস শেষে সোজা তানিয়ার শপের সামনে গিয়ে বাইক থামাল ৷তারপর বাইকের ফ্রন্ট মিররে তাকিয়ে নিজের চুলগুলো ভালোভাবে সেট করে মুখে খানিকটা স্নিগ্ধ হাসি ফুটিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল ৷ রাইশা তখন সব বুকেটগুলো গুছিয়ে রাখছিল ৷ তানজিদ ধীর পায়ে ওর দিকে এগিয়ে গেল ৷ হঠাৎ তানজিদের দিকে চোখ পড়তেই রাইশার হাত থেমে গেল ৷ ল'জ্জারা এসে সারা শরীরে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করল ৷

তানজিদ ওর থেকে দু হাত দুরত্বে এসে থামল তারপর শান্ত স্বরে বলল,,, শপ এখন বন্ধ করবে না?

রাইশা ক্ষীণ কন্ঠে বলল,, হু ৷

তানজিদ এক প্যাকেট চকলেট আর আইসক্রিম ওর সামনে ধরে বলল,, নাও ৷ চারজন মিলে এগুলো খেও ৷

রাইশা ক'ম্পিত হাতে প্যাকেট টা নিয়ে নিল ৷ ওর ক'ম্পমান হাতের দিকে তাকিয়ে তানজিদ নিঃশব্দ হাসল ৷ তানিয়া রা ওদিকে এগিয়ে আসল ৷ ওদের আসতে দেখে রাইশার ল'জ্জা কিছুটা কমল ৷ সেদিনের পর থেকে অনেক চেষ্টা করেও রাইশা তানজিদের সাথে এখনও নিজেকে ফ্রি করতে সক্ষম হয়নি ৷

শপ বন্ধ করে ওরা সবাই একসাথে বাসার উদ্দেশ্যে চলে গেল ৷ রাইমা আর সিনু ওদের বাসায় চলে গেছে ৷ রাইশাদের বাসার সামনে আসতেই তানজিদ বাইক থামিয়ে তানিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,

তুই যাহ ৷ আমি আসতেছি ৷

তানিয়া রাইশার দিকে তাকিয়ে দু'ষ্টু মার্কা একটা হাসি দিয়ে নিজের স্কুটি নিয়ে চলে গেল ৷ তানজিদ আর রাইশা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ৷ নিরবতা ভেঙে তানজিদ বলল,,,

ভিতরে যাও এখন ৷

রাইশা মাথা কাত করে ভিতরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে ধরতেই তানজিদ ওকে পিছু ডাকল ৷ রাইশা পা থামিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তানজিদের দিকে তাকাল ৷ তানজিদ ওর দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে , কোনো কথা বলছে না ৷ রাইশা মৃদু স্বরে বলল,,,

কি জন্য ডেকেছিলেন?

আরেকটু দাঁড়াও, তোমাকে আরো কিছু সময় দেখি ৷

রাইশার হৃ'দস্পন্দন বেড়ে গেল ৷ ও নিজের বোরকা খামছে ধরে মাথা নিচু করল ৷ এভাবে কিছু সময় থাকার পর তানজিদ শান্ত গলায় বলল,,,

এখন যাও ৷

রাইশা দ্রুত ভিতরে চলে গেল ৷ তানজিদ বিয়ের আগে ওদের বাড়িতে আর যাবে না বলেছে জন্য রাইশাও ওকে ভিতরে ডাকেনি ৷ ওর যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ হাস্যজ্জ্বল মুখে তাকিয়ে থেকে তানজিদ বাইক নিয়ে চলে গেল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

ইতোমধ্যেই বেশ কিছুদিন কেটে গেছে ৷ সিনু ওর পছন্দের সেই জায়গাটাতে গিয়ে স্কুটি থামাল যার আশেপাশে শুধু গাছ আর গাছ, সাথে রঙ বেরঙের ফুলের ছড়াছড়ি ৷ সিনু মুগ্ধ হয়ে সেগুলো দেখছে ৷ হঠাৎ একটা গাড়ি এসে ওর স্কুটিতে ধা'ক্কা মা'রল, যার ফলে স্কুটি সহ ও রাস্তায় পড়ে গেল ৷ ওর হাত পা ছিঁলে গেছে,ছিঁলে যাওয়ার পাশাপাশি একটা পা মচকেও গেছে যার দরুন সিনু ব্যা'থায় কা'তরাতে লাগল ৷ আলিসা গাড়ি থেকে নেমে ওর দিকে এগিয়ে এলো ৷ তারপর ওর সামনে ঝুকে আফসোসের সুর তুলে বলল,,,,

আহারে খুব বেশি ব্যা'থা পেয়েছিস? আসলে সেদিন ওভাবে অ'পমানিত হওয়ার পর আমি নিজেই নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে তোকে এর যোগ্য শা'স্তি দিয়েই ছাড়ব আর আজ সেটা পূরণ হয়ে গেল ৷

সিনু ব্যা'থাতুর মুখে কঠিন দৃষ্টিতে আলিসার দিকে তাকাল ৷ আলিসা বাকা হেসে বলল,,,

সেদিন বান্ধবীদের পেয়ে খুব সাহস বেড়েছিল তোর! আজ দেখি কি করিস তুই ৷

বলেই ও সিনুর হিজাব খুব জোরে টেনে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,, খুব ব্যা'থা লাগছে তাই না? আমারও খুব ব্যা'থা লেগেছিল যখন তুই আমার সাজিদকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলি ৷

সিনু আ'হত হাত দিয়ে আলিসার থেকে নিজের হিজাব সরানোর চেষ্টা করতে লাগল কিন্তু ওর সাথে পেরে উঠল না হাতে ক্ষ'ত থাকায় ৷ আলিসা পুনরায় বলতে লাগল,,,

শুনে রাখ সাজিদ আমার , ওর ছায়াও মারাবি না তুই ৷ আমাকে তুই চিনিস না আমি কি কি করতে পারি! অবশ্য জানার কথাও না কারন তোর মতো জা'রস সন্তানের যোগ্যতা নেই আমার পরিচয় জানার!

এবার সিনু প্রচন্ড ক্ষে'পে গেল ৷ শরীরে আচমকা শক্তি চলে আসল ৷ ও এক ঝাটকা দিয়ে আলিসার থেকে নিজের হিজাব ছাড়িয়ে নিল ৷ তারপর উঠে দাঁড়িয়ে আলিসার দু গালে পরপর দুটো ক'ষে থা'প্পড় বসিয়ে দিল ৷ তারপর ও ক'র্কশ কন্ঠে বলল,,,,

আমার আব্বু আম্মুকে এখানে না টানলে এই চ'ড় দুটো খেতি না! আমার বান্ধবীরা আমার সাথে থাকলে আমার সাহস আর শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায় তার মানে এই না যে আমি একলা থাকলে কাউকে পরাস্ত করতে পারব না! তোর জন্য আমি একাই যথেষ্ট ৷

সিনু একটু থেমে আলিসার চুল টেনে ধরে বলল,, আর শুনে রাখ তোর সাজিদের প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই ৷ সাজিদকে তোকে দান করে দিলাম ৷ আমার লাগবে না ওই ছেলেকে ৷ যা ইচ্ছা কর ওই ছেলের সাথে আমার কোনো যায় আসে না ৷

কথাটা বলা শেষ করে সিনু ওকে ধা'ক্কা মা'রল তারপর ধীর পায়ে হেঁটে নিজের স্কুটি টা তুলে শপের দিকে চলে গেল ৷ আলিসা অ'গ্নিদৃষ্টিতে সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজের গাড়ি নিয়ে চলে গেল ৷

সিনু স্কুটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে নিজের শপের দিকে না গিয়ে সাজিদের শপের দিকে খোড়াতে খোড়াতে চলে গেল ৷ সাজিদের সম্মুখে গিয়ে ও গম্ভীর গলায় বলল,,,

আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে ৷ বাইরে আসুন ৷

সাজিদ কিছু হিসাব করছিল সিনুর কন্ঠ শুনে ও চমকে সামনে তাকাল ৷ সিনুকে দেখতেই ওর মনটা ফুরফুরে হয়ে গেল কিন্তু সিনুকে এমন গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওর ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ সিনু পুনরায় বলল,,,

দয়া করে একটু বাইরে আসুন ৷

ওরা শপের পাশের ফাঁকা জায়গা টায় চলে আসল ৷ সাজিদ এতোক্ষণে ওর হাত আর পায়ের ক্ষ'তের দিকে তাকাল ৷ এসব দেখে ও চিন্তিত স্বরে ব্যস্ত হয়ে বলল,,,

এসব কিভাবে হয়েছে সিনু? কোনো এ্যা'ক্সিডেন্ট হয়েছিল? চলো তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই ৷

সিনু হাত উচিয়ে বলল,, আমি ঠিক আছি ৷ আপনাকে এতো ভাবতে হবে না ৷ শুনুন যা বলার জন্য ডাকলাম , আপনার প্রেমিকাকে বলবেন আমাকে যেন দ্বিতীয়বার আর বি'রক্ত না করে ৷ নইলে খুব খারাপ হয়ে যাবে ৷ আর হ্যাঁ ওই মেয়েকে বলে দিবেন আপনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই আর না ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা আছে ৷ এটাও বলে দিবেন যে আমি ম'রে গেলেও আপনাকে কোনোদিন বিয়ে করব না ৷ করব না মানে করবই না ৷

বলেই সিনু খোড়াতে খোড়াতে নিজের শপের দিকে চলে গেল ৷ সাজিদ অসহায় ভাবে ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল,,,

এটা কি বললে সিনুপাখি? আমার কোনো প্রেমিকা নেই ৷

প্রেমিকা কথাটা বলতেই সাজিদের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল ৷ মুখটা রা'গে র'ক্তিম হয়ে গেল ৷ ও নিজের বাইক নিয়ে সোজা অফিসের দিকে চলে গেল ৷ অফিসে পৌঁছেই ও রিসেপশনে গিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল,,,

আব্বু কোথায়?

রাহাত সাজিদের মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক কন্ঠে বলল,,সাজিদ স্যার আপনি হঠাৎ?

আব্বু কোথায়?

রাহাত সাজিদের মে'জাজ দেখে ভ'ড়কে গেল তাই চট জলদি জবাব দিল,, স্যার তো মিটিংয়ে আছেন ৷

আলিসা কোথায়?

নিজের ডেস্কে আছেন উনি ৷

কথাটা শুনেই সাজিদ লম্বা লম্বা পা ফেলে আলিসার কাছে চলে গেল ৷ ওর ডেস্কের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই আলিসা দাঁত কেলিয়ে সাজিদকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই সাজিদ স্বশব্দে ওর গালে একটা থা'প্পড় মা'রল ৷ তারপর গ'র্জন করে বলতে লাগল,,,

মেয়ে জন্য শুধুমাত্র একটা থা'প্পড় মা'রলাম নয়তো এতোক্ষণে হাত পা ভেঙে গু'ড়িয়ে দিতাম তোমার! ইউ আর ফায়ার্ড ৷ গেট আউট ৷

সাজিদের গ'র্জন আর থা'প্পড়ের শব্দ শুনে অফিসের সবাই হতভম্ভ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল ৷ আলিসার গালে সাজিদের হাতের পাঁচ আঙুলের ছাপ রগরগা হয়ে ফুটে উঠেছে ৷ আলিসা ল'জ্জা আর ভ'য়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল ৷ নিজেকে সামলে ও আমতা আমতা করে বলতে লাগল,,,

আমি...

ওকে কথা সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে সাজিদ দ্বিগুণ জোরে গ'র্জন করে বলল,,, কথা কানে যায় না? আই সেইড গেট আউট স্টুপিড ৷ ইউ আর ফায়ার্ড!

আলিসা কেঁপে উঠল, চট জলদি নিজের জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে ও অফিস থেকে বেরিয়ে গেল ৷ সাজিদ কোমড়ে হাত রেখে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজের রা'গ কমানোর চেষ্টা করতে লাগল ৷ তারপর নিজেও অফিস থেকে বেরিয়ে গেল ৷ সকল কর্মচারীরা এখনও আ'হাম্মক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন